বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চান অর্থমন্ত্রী

বৈধপথে রেমিটান্স প্রবাহ বাড়াতে অর্থনীতিবিদসহ এ খাতের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ইতিবাচক যেকোনো সংস্কার প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করবে এবং সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নও করবে।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট (পিএফএম) সামিট-২০২৩ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটবে। এছাড়া অন্যান্য সমস্যারও সমাধান হবে।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে যৌথভাবে এ সামিটের আয়োজন করে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস। অনুষ্ঠানে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুপারিশ উঠে আসে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে এ খাতের সংস্কার করতে হবে। বিশেষ করে মুদ্রা ও আর্থিক উভয়নীতির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের রেমিট্যান্সের প্রতিটি ঘটনা পর্যালোচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে নতুন আইডিয়া সৃষ্টি করতে হবে, যেটি বাস্তবায়ন করলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আরও বৃদ্ধি পায়।

মুস্তফা কামাল আরও বলেন, সম্প্রতি রেমিট্যান্স লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। যদিও এক কোটি প্রবাসী বিদেশে অবস্থান করছে। প্রতিবছর উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক লোক বিদেশে যাচ্ছে। কিন্তু যে সংখ্যক লোক বিদেশ যাচ্ছে সে অনুপাতে রেমিট্যান্স আসছে না।

তিনি বলেন, “অর্থনীতিবিদ, বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আমরা চমৎকার কিছু উদ্ভাবনী পরামর্শ চাই। সরকার ইতিবাচক পরামর্শ গ্রহণ করবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে মূল্যস্ফীতি বেশি। তবে তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ছিল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।”

গত আগষ্ট মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। যা তার আগের মাস জুলাইয়ের তুলনায় ২১.৪৮% কম। জুলাইয়ে প্রবাসি বাংলাদেশিরা বৈধপথে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দেশ থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে কর্মী যাওয়া বেড়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের প্রধান কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক বলেন, সুশাসন ও স্বচ্ছতার জন্য সরকারি পাবলিক ফাইনান্স ম্যানেজমেন্ট এর সংস্কার দরকার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ গত এক দশকে অর্থনীতিতে অনেক উন্নতি করেছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতি টেকসই দেখতে চায়। বাংলাদেশ সরকারকে বয়স্ক নাগরিকের সুরক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দারিদ্র্যোর হার আরও কমাতে হবে। অর্থপাচার ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রথম পর্বে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, পিএফএম সংস্কারের জন্য সরকারি চাকরিজীবীদেরও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন করতে হবে। একটি নির্দিষ্ট এরিয়াতে চাকরিজীবীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিত কর্মকার বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এই সংস্কার দরকার। এখন প্রকল্পের ডিপিপির ক্ষেত্রে ডিজিটালাইশেন করা হয়েছে।

সাবেক কনট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকারের অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *