নিত্যপণ্য আমদানির জন্য ডলারের কোটা রাখা প্রয়োজন

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বাজেটে এ বিষয়ে বিশেষ দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। সে জন্য সরকারের মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতিকে মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক–কর কমিয়ে আনতে হবে। তাহলে বাজারে জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে।

অন্যদিকে আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে না বলে অনেক অভিযোগ আসছে। সে জন্য নিত্যপণ্য আমদানির জন্য ডলারের কোটা রাখা প্রয়োজন। এ ছাড়া কী পরিমাণ পণ্য আমদানি হচ্ছে এবং কতটা বাজারে সরবরাহ হচ্ছে ও কী দামে তা বিক্রি হচ্ছে—এসব তদারকির জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি পর্যবেক্ষণকারী দল গঠন করা প্রয়োজন।

আমাদের কর-জিডিপির অনুপাত অনেক কম, তাই করজাল ও রাজস্ব বাড়ানো আবশ্যক। কিন্তু সে প্রক্রিয়া যেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে অসুবিধায় না ফেলে, তা দেখতে হবে। শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কর আদায়ের প্রবণতা থেকে বের হয়ে সারা দেশে করজাল সম্প্রসারণ করতে হবে। এ ছাড়া বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ থেকে বৃদ্ধি করে পাঁচ লাখ টাকা করার প্রস্তাব আমরা দিয়েছি।

সরকার ব্যবসায়ীদের কর–সুবিধা দিয়েছে, কিন্তু করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পরিপালন করা কঠিন যেমন নগদ লেনদেনের যে সীমা আছে, তা মেনে চলা খুবই কঠিন। ১ হাজার কোটি টাকার কোম্পানির নগদ লেনদেনের সীমা আর ১০০ কোটি টাকার কোম্পানির নগদ লেনদেনের সীমা এক হওয়া ঠিক নয়, বরং এই সীমা বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে করপোরেট কর তুলনামূলক বেশি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ধারণা, করপোরেট করহার বেশি হলে রাজস্ব আদায় বেশি হবে। কিন্তু এটি সত্য নয়। সেটি হলে এত বছর ধরে কর-জিডিপি অনুপাত এত কম থাকত না। আমি মনে করি, করপোরেট কর কমিয়ে আনা হলে ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের ব্যবসায়ী কর দেওয়ার জন্য আরও উৎসাহিত হবেন। পাশাপাশি এতে কর দেওয়ার পর যে আয় থাকবে (ডিসপোজেবল ইনকাম), তা আবার ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হবে।

নিয়ম অনুসারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অগ্রিম আয়কর কেটে রাখা হয়। আইনে বলা হয়েছে, বছর শেষে যদি আয়কর শূন্যও হয়, তারপরও কেটে রাখা অগ্রিম আয়কর পরবর্তীকালে ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য করা হবে। এটা তো করের মূলনীতির পরিপন্থী। আয় হলেও তো কর দিতে হয়; যে আয় কখনো হয়নি, তার ওপরে কেন কর দিতে হবে? বছর শেষে সমন্বয় করে যে আয় থাকবে, তার ওপর কর হওয়া উচিত। তাই আমরা এ পদ্ধতি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছি। বাজেটেও এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা আশা করছি।

এ ছাড়া কর-ভ্যাট দিতে গিয়ে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য কর প্রদান ব্যবস্থার দ্রুত অটোমেশন করা প্রয়োজন।

মো. সামীর সাত্তার
সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)

(লেখাটি দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকাটির সৌজন্যে এখানে প্রকাশিত হলো।)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *