ডলার বিক্রিতে সর্বোচ্চ দর মানছে না অনেক ব্যাংক

আমদানি ও আন্তঃব্যাংকে সর্বোচ্চ ১০৯ টাকায় ডলার বিক্রির সিদ্ধান্ত মানছে না অনেক ব্যাংক। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে ৩ জুলাই সোমবার আবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের সংগঠন বাফেদার প্যাডে এ চিঠি দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এবিবি ও বাফেদার গত ২৬ জুনের যৌথ সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ব্যাংকগুলো রপ্তানিকারকদের থেকে সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং প্রবাসী রেমিটারদের থেকে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার কিনবে। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ এক টাকা যোগ করে আমদানিকারক ও আন্তঃব্যাংকে ডলার বিক্রি করতে পারবে। তবে কোনো অবস্থায় বিক্রির দর ১০৯ টাকার বেশি হবে না। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিছু ব্যাংক আমদানিতে ১০৯ টাকার বেশি দরে ডলার বিক্রি করছে। ডলারের একই দর কার্যকরের ক্ষেত্রে যা প্রতিবন্ধক। এখন থেকে সব ব্যাংকে এ সিদ্ধান্ত মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।

বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফজাল করিম বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রপ্তানিকারক ও রেমিটারদের থেকে ভিন্ন ভিন্ন দরে ডলার কিনলেও বিক্রির দর ১০৯ টাকার বেশি হবে না। এখন কোনো ব্যাংক যদি শুধু প্রবাসী আয় কেনে, তাতে তার গড় খরচই পড়বে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা। এ ক্ষেত্রে ওই ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা যোগ করতে পারবে।’

ব্যাংকগুলো গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে রপ্তানি বিল নগদায়ন ও রেমিট্যান্সের বিপরীতে ডলারের একটি সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে আসছে। সোমবার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করেছে। এত দিন বাজারে দর যা-ই হোক, নির্ধারিত দরের ওপরে যেত না। এখন থেকে আন্তঃব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ দরের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি করবে। আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্তের আলোকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এতে সরকারের আমদানি ব্যয় বাড়বে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বিক্রি করা হয় ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এভাবে ডলার বিক্রির ফলে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলার বিলিয়নের ওপরে ওঠা রিজার্ভ এখন ৩১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। মে-জুন সময়ের এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ১১০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে। এতে রিজার্ভ আরও কমবে। এ রকম অবস্থায় ডলারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি ঠেকানোর চেষ্টা করছে সব পক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *