পরিবার ও বন্ধুদেরকে টাকা ধার দেওয়ার আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে

আর্থিকভাবে বিপদে থাকা বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের সাহায্যে এগিয়ে আসাটা হয়তো মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করলে খুবই ভালো, কিন্তু কেউই ধারকে কেন্দ্র করে বাজে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে চাইবেন না।

২০২২ সালে ক্রেডিটকার্ডস.কম-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ৪২ শতাংশ অংশগ্রহণকারীরাই বলেছেন পরিবার ও বন্ধুদেরকে অর্থ ধার দিতে গিয়ে তারা ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তাই কেউ যদি আপনার কাছে অর্থ ধার চাইতে আসে, তাহলে কিছু জরুরী বিষয় মাথায় রাখা উচিত।

 পরিবার ও বন্ধুদেরকে কি টাকা ধার দেওয়া উচিত?

মাঝে মাঝে বিরুপ পরিস্থিতিতে পড়ে বন্ধুরা আপনার কাছে টাকা ধার চাইতে পারে। কাউকে ধার দেওয়ার আগে নিজের আর্থিক অবস্থা আগে বিবেচনা করতে হবে। ধার দিতে গিয়ে আপনাকেই আবার ধার নিতে হয়, তাহলে বিষয়টি সুখকর হবে না। আবার আপনার কাছে যদি পর্যাপ্ত অর্থ থাকে, তাহলে ধার দিতে পারেন।

ধার দেওয়ার আগে সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু, তা খতিয়ে দেখা উচিত। যদি ধারকারী ব্যক্তি দায়িত্ববান হন এবং অতীত রেকর্ড ভালো থাকে, তাহলে তাকে ধার দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আর্থিকভাবে দায়িত্বহীন কাউকে ধার দিলে সে অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ঝুঁকি থাকে।

বিশ্বস্ত কাউকে ধার দিন

ধারের অর্থ ফেরত পাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বস্ত কাউকে ধার দিন। এতে আপনি নিজেকে সম্ভাব্য বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন। যেহেতু পরিবার ও বন্ধুদের ব্যাপারে কথা হচ্ছে, তাই এক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। দেখা গেলো পরিবারের কেউ আপনার কাছ থেকে ধার নিলো, কিন্তু সেটি সময়মতো পরিশোধ করলো না, তখন ব্যাপারটি খুব অস্বস্তিকর ও বিব্রতক হতে পারে। পারিবারিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

কাউকে যদি ধার দিতে মন থেকে সায় না আসে, তাহলে তাকে সরাসরি বলে দিন যে এই মুহূর্তে আপনার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। হয়তো তিনি কিছুটা মনক্ষুন্ন হতে পারেন, কিন্তু তারপরও ভবিষ্যতে আরও কারাপ পরিস্থিতি এড়াতে এটি সহায়তা করবে।

আপনার সামর্থ অনুসারে ধার দিন

আপনি আপনার সামর্থ অনুসারে ধার দিন। কেউ আপনার কাছে বড় অংকের ধার চাইতেই পারে। কিন্তু তাকে ধার দিতে গিয়ে নিজে বিপদে পড়ার কোনো কারণ নেই। কাউকে কত পরিমাণ ধার দিতে পারবেন, সেটা বোঝার একটি অন্যতম উপায় হচ্ছে টাকাটাকে উপহার হিসেবে বিবেচনা করা। অর্থাৎ, কী পরিমাণ অর্থ কাউকে উপহার হিসেবে দিলেও আপনি আর্থিকভাবে চাপের মুখে পড়বেন না।

এর মানে এটা নয় যে আপনি ধরেই নেবেন টাকাটা আর ফেরত পাবেন না। বরং এর মাধ্যমে আপনি কত অর্থ ধার দিতে পারবেন, তার সীমানা নির্ধারণ করাটা সহজ হয়। ফলে আপনিও আর্থিকভাবে নিরাপদে থাকবেন।

ধারের পরিমাণ লিখে রাখুন

কাউকে ধার দিলে তার পরিমাণ কোথও লিখে রাখুন। এতে পরবর্তীতে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যাবে। আরও বালো হয় যদি উভয়পক্ষের কাছে কোনো লিখিত প্রমাণ থাকে। ধারকারীর নাম, কবে ধার দিয়েছেন তার তারিখ, ধারের পরিমাণ, পরিশোধের তারিখ ইত্যাদি লিখে রাখতে পারেন। বড় ঋণের ক্ষেত্রে কোনো স্বাক্ষী রাখতে পারেন। 

চাপ বা আবেগাক্রান্ত হয়ে ধার দেবেন না

কোনো চাপ বা আবেগের কাছে নতি স্বীকার করে কাউকে ধার দেবেন না।  আপনি যদি এমন কাউকে ধার দিতে চান, কিন্তু তা আপনার জন্য আর্থিকভাবে যুতসই নয়, তাহলে অন্য কীভাবে তাকে সহায়তা করা যায়, সেটি ভাবুন। যেমন- কার কাছে চাইলে ধার পাওয়া যেতে পারে, কিংবা এই অবস্থা থেকে উত্তরণে কী করা যেতে পারে, ইত্যাদি পরামর্শ দিতে পারেন। 

যে কারণে পরিবার ও বন্ধুদের ধার দেওয়া ঝুঁকির

টাকা ধার দিলে পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে, বিশেষ করে যখন ধারকৃত টাকা সঠিক সময়ে পরিশোধ না করা হয়। এই মানসিক ক্ষতি অনেক সময় আর্থিক ক্ষতির চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। তাই পরিবার ও টাকাকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। কিন্তু তারপরও যদি আপনি কাউকে ধার দিতেই চান, তাহলে সচেতনার সঙ্গে ধার দিন। এই টাকা আর ফেরত পাবেন না, এমন সম্ভাবনার কথাও মাথায় রাখুন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *