সম্পদ বাড়াতে যে ৫টি বিষয় মাথায় রাখা দরকার

সম্পদ বাড়ানোর ইচ্ছা সবারই থাকে। কিন্তু নিজেদের কিছু ভুলের কারণে ইচ্ছা থাকা সত্বেও সম্পদ বৃদ্ধি করা বা ধনী হওয়া সম্ভব হয় না। 

এখানে আমরা আর্থিক ব্যবস্থাপনার এমন ৫টি পরামর্শের কথা উল্লেখ করছি। এই পরামর্শগুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার সম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারবেন, যা আপনার সম্পদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

১. আয় বুঝে ব্যয় করুন

প্রতি মাসে আপনি কত খরচ করছেন, তার কোনো হিসাব আপনি রাখেন? যদি আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়, তাহলে এটি একটি রেড ফ্ল্যাগ। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করা একটা কমন সমস্যা। প্রায় সবার মধ্যেই এই প্রবণতা কাজ করে। বিশেষ তরে তরুণরা এক্ষেত্রে বেশি ভুক্তভোগী। 

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ইউনিভেস্ট ওয়েলথ ডিভিশনের উপদেষ্টা এমিলি স্যাফোর্ড বলেন, ‘তরুণদের মধ্যে ব্যয়ের প্রবণতা বেশি থাকে। তারা নিজেদের এপিয়ারেন্সের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। তারা ডিজাইনার আইটেমের পেছনেও অনেক অর্থ ব্যয় করে। এসবের মাধ্যমে অনেক সময় তারা নিজেদের জন্য আর্থিক সংকট তৈরি করে।’

‘তরুণদের ক্রেডিট কার্ডের ঋণ খুব দ্রুত বাড়তে পারে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বড় অসুবিধা তৈরি করে।’

এসব ছোট ছোট খরচের কারণে বড় বড় লক্ষ্যগুলো অপূর্ণ থেকে যায়। অনেক সময় রিটায়ারমেন্টের জন্যও কোনো অর্থ সঞ্চিত থাকে না।

মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। নিজেকে আগে বোঝাতে হবে যে অপ্রয়োজনীয় খরচ করা যাবে না। প্রথমে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। আর্থিকভাবে আপনি কী অর্জন করতে চান, সেটি নির্ধারণ করুন। এবার সে লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করুন। ধীরে ধীরে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ শুরু করুন।

২. সঞ্চয়ের পাশাপাশি আয়ের দিকেও মনোযোগ দিন

শুধু সঞ্চয় বাড়ানোর দিকে সব মনোযোগ না দিয়ে নিজের আয় বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দেওয়া উচিত। সম্পদ বৃদ্ধির জন্য সঞ্চয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সঞ্চয়ের দিকে এত বেশি মনোযোগ দেওয়া উচতি নয়, যার ফলে আয়ে ঘাটতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। আপনার যদি আয় বাড়ে, তাহলে সঞ্চয়ও বাড়বে। তাই আয় কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই উপায় বের করতে হবে।

আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, অপ্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ করাটা খুব ভালো একটি উপায়। তবে আপনার যদি আরও অর্থ আয়ের সুযোগ থাকে, তাহলে এর সুফল অনেক বেশি।  

৩. সঠিক মানুষের পরামর্শ নিন

শুরুতেই আপনার হয়তো একজন প্রফেশনাল আর্থিক পরিকল্পনারী নিয়োগের প্রয়োজন নেই। কিন্তু সম্পদ নিয়ে ভালো পরামর্শ দেন অথবা এ বিষয়ে দক্ষ কারও পরামর্শ নিতে পারেন। এর ফলে আপনি বাজে উপদেশ বা ভুল সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। 

আপনার যদি নিজের কাছে মনে হয় আপনি ঠিকমতো পরিকল্পনা করতে পারছেন না এবং এখানে অনেক অর্থ-সম্পদ জড়িত, তাহলে একজন আর্থিক পরিকল্পনাকারীর সাহায্য নিন। একজন ভালো আর্থিক পরামর্শদাতা আপনার সম্পদকে সঠিকপথে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের উপদেশ দিতে পারবেন, যা আপনার জন্য দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে। 

তবে আর্থিক পরামর্শদাতা নির্বাচনের আগে তার ও তার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নিন। তার চার্জ সম্পর্কে আগেই ভালোভাবে জেনে নিন এবং আপনার লক্ষ্য সম্পর্কে তাকে পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে বলুন। এতে করে পরামর্শদাতার জন্য পরিকল্পনা তৈরির কাজটি সহজ হবে। 

যদি দুর্ভাগ্যবশত ভুল কোনো পরামর্শদাতার খপ্পরে পড়েন, তাহলে হতাশ না হয়ে আরও ভালোভাবে যাচাই বাছাই সাপেক্ষে আরেকজনের পরামর্শ নিন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ আর্থিক পরামর্শদাতা আপনার সম্পদ সম্পর্কে যেভাবে পরামর্শ দিবেন, তা হয়তো আপনার মাথায় আসবে না। 

৪. খরচের হিসাব রাখুন

প্রযুক্তি ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনার অনেক কাজ কমিয়েছে সত্যি, তবে এতে করে আপনার সম্পদের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারানোকেও সহজ করেছে।

যেমন- আগে যখন মানুষ চেকবুক ব্যবহার করতো, তখন প্রতিটি লেনদেনের জন্য একটি ফিজিক্যাল লেজার মেনটেইন করতে হতো। কিন্তু এখন ডিজিটাল লেনদেনে এটির প্রয়োজন নেই। আপনার সব লেনদনের স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল লেজার তৈরি হয়ে যাচ্ছে। মানুষ এমনকি তাদের ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংকের খরচের বিস্তারিত স্টেটমেন্টও দেখছে না। ফলে তারা অনেক সময় বুঝতেও পারছে না যে তারা অতিরিক্ত খরচ করে ফেলছেন!

কোন কোন খাতে খরচ করছেন, তার হিসাব রাখুন। ক্রেডিট কার্ডের বিল বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট ভালোভাবে চেক করুন। অপ্রযোজনীয় খরচ কমান। আর্থিক জীবনকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসুন।

৫. সিদ্ধান্ত নিতে গড়িমসি করবেন না

আপনার আর্থিক যাত্রার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিজে নিজে তৈরি হবে না। আপনি হয়তো বলতে পারেন, থাক, এই বাজেটটি কালকে তৈরি করব। অথবা মনে করতে পারেন, থাক, যখন আরও বেশি টাকা আয় করব, তখন রিটায়ারমেন্টের জন্য সঞ্চয় করব। কিন্তু এসব কাজে আপনি যতই দেরি করবেন, পরিস্থিতি ততই খারাপ হবে। 

মানুষের যখন কাজের চাপ থাকে, তখন তারা বুঝতে পারে না কী করা উচিত। ফলে তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে। যার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। 

অনেকে আবার সব পরিস্থিতিতেই ভাবে, ভবিষ্যতে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখনই সঠিক উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে সব ঠিক হয়ে যাবে, এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। সব সিদ্ধান্তই আপনার আগামীকালকেই নিতে হবে না। ছোট ছোট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শুরু করুন। এরপর পরিস্থিতি অনুসারে ব্যবস্থা নিন। ৩০ বছরের একজন মানুষের জন্য পরবর্তী ৭০ বছরের পরিকল্পনা করা কঠিন। তাই ৫ বছরের পরিকল্পনা দিয়ে শুরু করতে পারেন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *