আর্থিক উন্নতির ৭ সূত্র

ভালো আয় সত্বেও আর্থিক উন্নতি হচ্ছে না, এই সমস্যা অনেকেই মোকাবেলা করছেন। বেশ কিছু কারণে এই সমস্যায় পড়তে হয়। নিজের অসাবধানতা বা জ্ঞানের অভাবেও অনেকে ভুক্তভোগী হন। নিচের উপায়গুলো আপনার আর্থিক উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। 

 ১. খরচের হিসাব রাখুন

প্রতি মাসে আপনি কোন খাতে কত খরচ করছেন, সে সম্পর্কে যদি পরিষ্কার ধারণা না থাকে, তাহলে আপনার খরচের অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ভালো আর্থিক ম্যানেজমেন্টের  শুরুই হয় খরচ সম্পর্কে সচেতনতার মাধ্যমে। আপনি আপনার পছন্দমতো কোনো জায়গায় খরচগুলো লিখে রাখতে পারেন, যাতে যেকোনো সময় চাইলেই কোথায় খরচ বেশি হচ্ছে, কোথায় অপ্রয়োজনীয় খরচ হচ্ছে ইত্যাদি ব্যাপারগুলো বিশ্লেষণ করতে পারেন। খরচ সম্পর্কে যখন পরিষ্কার ধারণা পাবেন, তখনই আপনি নিজের উন্নতির ক্ষেত্রগুলো সহজে চিহ্নিত করতে পারবেন। খরচের হিসাব রাখার জন্য ‘মানি ট্র্যাক’ এর মতো অনেকগুলো মোবাইল অ্যাপ পাওয়া যায়। আপনার পছন্দমতো কোনো অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। 

২. বাস্তবসম্মত মাসিক বাজেট তৈরি করুন

সারা মাসে কোন কোন খাতে আপনাকে খরচ করতে হয়, সেগুলো মাথায় রেখে একটি মাসিক বাজেট তৈরি করুন। বাজেট যাতে বাস্তবসম্মত হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ বাঁচানোর জন্য অনেক খরচ বাঁচানোরও দরকার নেই, আবার খরচের হাত দেদারসে খুলে দেওয়ারও দরকার নেই। আপনার জীবনযাপন ও খরচের খাত অনুসারে বাজেট তৈরি করুন। বাজেট তৈরির সময় কোন কোন খাতে উন্নতি করতে পারেন, সেগুলো মাথায় রাখতে পারেন। যেমন- আপনার যদি বাইরে খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে বাসায় রান্নার পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারেন। সারা মাস বাজেটের মধ্যে থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। এটি হচ্ছে আর্থিক উন্নতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। 

 ৩. অর্থ সঞ্চয় করুন

জীবন সবসময় রুটিন মেনে চলে না, বিপদ বা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিও বলে কয়ে আসে না। তাই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির জন্য সবসময় একটি জরুরী ফান্ড তৈরি করুন এবং নিয়মিত সেখানে অর্থ জমা করুন। অর্থের পরিমান ছোট হোক বা বড়, নিয়মিত অর্থ সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন। সঞ্চিত অর্থ থাকলে জরুরী বিপদের মুহূর্ত যেমন ভালোভাবে পার হওয়া যায়, আবার চাকরি চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতেও টিকে থাকা যায়। 

৪. যথাসময়ে সব বিল পরিশোধ করুন

যথাসময়ে সব বিল পরিশোধ করার অনেক সুবিধা আছে। একেতো মাথা থেকে বাড়তি চিন্তা কমে যায়, আবার বিলম্ব মাশুলও এড়ানো যায়। অনেকে আছেন যারা হাতে অর্থ থাকার পরও সময়মতো বিল পরিশোধ করেন না। ক্রেডিট কার্ডের বিলসহ বিভিন্ন বিল সময়মতো পরিশোধ করলে ভালো ক্রেডিট স্কোরও তৈরি হয়, যা থেকে বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। 

৫. আবর্তক (রেকারিং) বিল থেকে বাঁচুন

আমরা অনেক সময় অনেক সেবা সাবসক্রাইব করি, কিন্তু পরে ভুলে যাই বা সেই সেবাটির আর প্রয়োজন হয় না। এসব ক্ষেত্রে প্রতি মাসে কিন্তু ঠিকই সাবসক্রিপশন ফি দিতে হয়। স্ট্রিমিং সার্ভিস, মোবাইল অ্যাপসসহ বিভিন্ন সেবায় আপনার সাবসক্রিপশনগুলো পুনরায় যাচাই করুন এবং অপ্রয়োজনীয়গুলো বাদ দিন। 

 ৬. বড় কেনাকাটা নগদে কেনার চেষ্টা করুন

কখনো কখনো ঋণ নিয়ে বিভিন্ন কিছু কেনা যেতে পারে। ঋণ নেওয়া সবসময় খারাপ না। যেমন- আপনি গাড়ি বা বাড়ি ঋণ নিয়ে করতে পারেন। তবে সবসময় ঋণ নিয়ে বড় কেনাকাটা না করাই ভালো। সুযোগ থাকলে নগদে কিনুন। এতে ৬ মাস বা ১ বছর ধরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা লাগবে না। ঋনের কিস্তি যত বেশি, সুদও তত বেশি। তাই সুযোগ থাকলে বড় কেনাকাটাগুলো টাকা জমিয়ে নগদে কিনুন। 

৭. কৌশলে বিনিয়োগ করুন

ভালো বিনিয়োগ যেমন আপনাকে বাড়তি অর্থ যেগান দিতে পারে, আবার খারাপ বিনিয়োগ আপনার কষ্টার্জিত অর্থ নষ্টও করতে পারে। কোথাও বিনিয়োগ করার আগে খাতটি সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জেনে নিন। কখনো হুজুগে বিনিয়োগ করবেন না বা অল্প সময়ে বেশি লাভ দিবে, এমন ফাঁদে পা দিবেন না। কারণ এসবে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। আবার কোথাও বিনিয়োগ করার পরই সবকিছু ভুলে যাবেন না। যেখানে বিনিয়োগ করেছেন, সে সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখুন, সময় ও পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। নিজের বিনিয়োগের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখুন।  

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *