যে ৩ কারণে প্রিয় কার্ড দিয়ে পেমেন্ট ফেইলড বা ডিক্লাইনড হয়

পেমেন্ট বাতিল হওয়ার কারণগুলো দেখে নিন

প্রিয় কার্ড দিয়ে এখন খুব সহজেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করে পেমেন্ট দেওয়া যাচ্ছে। তবে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, প্রিয় কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতে গিয়ে পেমেন্ট ফেইলড বা ডিক্লাইনড হচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনটি কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে পেমেন্ট ফেইলড বা ডিক্লাইনড হতে পারে। কারণ তিনটি হলো-

১. এভিএস

২. ইনসাফিশিয়েন্ট ফান্ড

৩. বন্ধ বা ইনঅ্যাকটিভ কার্ড কিংবা বাতিল বা মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড

অ্যাড্রেস ভেরিফিকেশন সিস্টেম বা এভিএস

অ্যাড্রেস ভেরিফিকেশন সার্ভিস বা এভিএস হচ্ছে ঠিকানা যাচাইকরণ পরিষেবা। এটি মূলত সিকিউরিটি চেকিং প্রসেস, যা ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড দিয়ে ই-কমার্স ট্রানজেকশনের সময় করা হয়। অনলাইনে জালিয়াতি রোধ করতেই এই পরিষেবা ব্যবহার করে থাকে ব্যাংক ও কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান। আপনি যখন অনলাইনে কোনো কিছু কিনতে যাবেন, তখন আপনাকে একটি বিলিং অ্যাড্রেস দিতে হয়। এই বিলিং অ্যাড্রেসটি আপনার কার্ড নেওয়ার সময়কার বিলিং অ্যাড্রেসের সঙ্গে মিলছে কি না, সেটি পরীক্ষা করা হয় এভিএসের মাধ্যমে।
ট্রানজেকশনের সময় আপনার দেওয়া বিলিং অ্যাড্রেসের সঙ্গে কার্ডের বিলিং অ্যাড্রেসের গড়মিল হলে ট্রানজেকশন ফেইল হবে। স্পেসিফিক্যালি দুই ধাপে AVS চেক করা হয়। ১.স্ট্রিট অ্যাড্রেস বা ঠিকানা ২. পোস্টাল কোড নাম্বার বা জিপ কোড নম্বর।

প্রত্যেক প্রিয়পে ইউজারের প্রোফাইলে আমরা একটি ভার্চুয়াল বিলিং অ্যাড্রেস যুক্ত করে দিয়েছি। আপনার অ্যাকাউন্টের ‘ভিউ প্রোফাইল’ ট্যাবে এই ভার্চুয়াল বিলিং অ্যাড্রেসটি দেখতে পাবেন। প্রিয় কার্ড দিয়ে যখন কোথাও পেমেন্ট করবেন, তখন সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট সাইটের বিলিং অ্যাড্রেসও  হুবহু এই ভার্চুয়ালি বিলিং অ্যাড্রেসের সঙ্গে মিলতে হবে। আপনার প্রিয়পে প্রোফাইলের ভার্চুয়াল বিলিং অ্যাড্রেসের অ্যাড্রেস লাইন ১, স্টেট, সিটি, জিপকোড ঠিক যেভাবে আছে, মার্চেন্ট সাইটেও ঠিক সেভাবে ব্যবহার করুন। প্রিয় পে যেহেতু একটি আমেরিকান ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা, তাই মার্চেন্ট সাইটের কান্ট্রি/রিজিয়ন যুক্তরাষ্ট্র ও কারেন্সি ইউএস ডলার এবং টাইম জোন পরিবর্তন করতে হবে। এটি না করলে আপনার পেমেন্ট ফেইলড বা ডিক্লাইনড হতে পারে।

অপর্যাপ্ত ব্যালান্স বা ইনসাফিশিয়েন্ট ফান্ড

আমাদের একটু বোঝা দরকার একটি কার্ড কীভাবে কাজ করে। যেকোনো কার্ড মূলত দুইভাবে ব্যবহার করা যায়। ফিজিক্যাল স্টোরে এবং অনলাইনে বা ভার্চুয়ালি। আপনি যখন দোকানে ফিজিক্যাল কার্ড ব্যবহার করেন, তখন আপনি স্বশরীরে সেখানে উপস্থিত থাকেন এবং নিজেই লেনদেন করেন। এক্ষেত্রে সন্দেহের আশঙ্কা তুলনামূলক কম থাকে। তাই ফিজিক্যাল কার্ডে লেনদেন করা অনেকটাই সহজ এবং এখানে বাড়তি কোনো তথ্যের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু আপনি যখন অনলাইনে বা ভার্চুয়ালি লেনদেন করেন, তখন সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট আপনাকে দেখতে পায় না। তাই আপনার আইডেনটিফিকেশনের জন্য কিছু তথ্য দিতে হয়। এভিএস-ও এই কারণেই দিতে হয়।

অ্যামাজন, ফেসবুক, গুগল, নেটফ্লিক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে পেমেন্ট করার সময় সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টই পেমেন্টটা প্রসেস করে। এবার ধরুন, আপনি এমন একটা কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতে গেলেন, যেটিতে পর্যাপ্ত ব্যালান্স নেই। তখন সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট এই কার্ডটিকে ফ্রড বা ভুয়া কার্ড হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। এমনকি একাধিকবার এমন চেষ্টা করলে মার্চেন্ট কার্ডটিকে ব্লক করে দিতে পারে। কোনো মার্চেন্ট যখন একবার কোনো কার্ডকে ফ্রড বা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন পরবর্তীতে সেই মার্চেন্ট ওই কার্ডটি আর গ্রহণ না-ও করতে পারে। এতে ভবিষ্যতেও স্বাভাবিক লেনদেন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মনে রাখতে হবে, অনলাইনে যেকোনো লেনদেন আপনার ডিজিটাল ইমেজ তৈরি করে। আপনার ডিজিটাল ইমেজ যদি ক্ষুন্ন হয়, তাহলে স্বাভাবিক লেনেদেনের ক্ষেত্রেও আপনাকে নানামুখি বাধা মোকাবেলা করতে হতে পারে। কার্ডে পর্যাপ্ত ব্যালান্স না থাকা সত্বেও পেমেন্ট করতে যাওয়াটাও আপনার ডিজিটাল ইমেজের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর। তাই কোনো কার্ড দিয়ে লেনদেন করার সময় সেই কার্ডে পর্যাপ্ত ব্যালান্স আছে কিনা, ভালোভাবে যাচাই করে নিন।

ইনঅ্যাকটিভ বা বাতিল কার্ড

তৃতীয় কারণটি হচ্ছে লেনদেনে ইনঅ্যাকটিভ কার্ড বা বাতিল হওয়া কার্ড ব্যবহার করা। আপনার কার্ডটি অ্যাকটিভ বা সচল আছে কি না, দেখে নিন। কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যবহারকারী নিজেও ইচ্ছা করলে নির্দিষ্ট কার্ড ইনঅ্যাকটিভ করতে পারেন। কোনো ইনঅ্যাকটিভ কার্ড দিয়ে লেনদেনের চেষ্টা করলে পরবর্তীতে কার্ডটি অ্যাকটিভ করলেও লেনদেনে সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি আপনার সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *