বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে, কিন্তু মজুরি কম: পেওনিয়ারের প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পেওনিয়ারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা ও কাজের পরিমাণ বাড়লেও অন্য দেশের তুলনায় তারা তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।

গত ২১ মে প্রকাশিত পেওনিয়ারের ‘২০২৩ ফ্রিল্যান্সার ইনসাইটস রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রাফিক ডিজাইন, মার্কেটিং, প্রোগ্রামিং এবং ওয়েব ডিজাইনের মতো কাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের দখল বেশি। তারা এ কাজে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের কাজের চাহিদা বাড়ছে এবং এ চাহিদা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের বয়স কম। পেওনিয়ারের জরিপে যেসব বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার অংশ নিয়েছেন, তাদের ৮৫ শতাংশের বয়স ৩৫-এর নিচে। তবে পেওনিয়ার বলছে, তরুণ ফ্রিল্যান্সার বেশি থাকলেও ঘণ্টাপ্রতি মজুররির দিক থেকে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা এখনও অনেক পিছিয়ে আছে।

জাপানের অর্থনীতিবিষয়ক সংবাদপত্র নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা ঘণ্টাপ্রতি গড়ে ১০ ডলারের কম আয় করতেন। কিন্তু পেওনিয়ারের জরিপ বলছে, এখন তা ১৮ ডলার। এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে তা ২০ ডলার। আর অন্যান্য অঞ্চলে তা ২৬ ডলার।

বাংলাদেশের একজন ফ্রিল্যান্সার জাকির হোসেন কম পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে দৈনিক প্রথম আলোকে বলেছেন, যেহেতু দেশে কম বয়সি ফ্রিল্যান্সার বেশি, তাই শুরুতে তাদের বেশি মজুরিতে কেউ কাজ দিতে চায় না।

পেওনিয়ারের জরিপ অনুসারে, বাংলাদেশের ৯৩ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার কোনো একটি প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট হারে বা ঘণ্টাভিত্তিক মজুরিতে করে থাকেন। যাদের স্নাতক ডিগ্রি আছে, তারা অন্যদের চেয়ে ঘণ্টাপ্রতি বেশি আয় করেন। স্নাতক ডিগ্রি আছে, এমন ফ্রিল্যান্সাররা ঘন্টায় গড়ে ২০ ডলার আয় করেন। যারা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়েছেন তাদের আয় ঘণ্টাপ্রতি ১৬ ডলার, আর যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আরও কম, তাদের আয় ঘণ্টাপ্রতি মাত্র ২ ডলার। তবে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের কাজের ফরমায়েশ নেওয়ার পরিমাণ ও কর্মদাতা (ক্লায়েন্ট) বেড়েছে এবং চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘণ্টাপ্রতি মজুরিও বাড়িয়ে দিয়েছেন ফ্রিল্যান্সাররা, বলা হয়েছে পেওনিয়ারের প্রতিবেদনে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা তাদের মজুরি বাড়িয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পেওনিয়ারের জরিপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের ৮৩ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার বলেছেন, ফ্রিল্যান্সিং বা নিজস্ব ব্যবসাই এখন তাদের পেশা। এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে যা ৭১ শতাংশ। আর অন্যান্য অঞ্চলে তা ৬৭ শতাংশ। ফলে বোঝাই যাচ্ছে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ খোঁজার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়ে অনলাইন মার্কেটপ্লেসের ওপরই বেশি নির্ভরশীল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *