পেপ্যাল তাদের ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট ইউনিট জুম বিক্রি করে দেওয়ার কথা ভাবছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ইনফরমেশন-এর খবরে বলা হয়, ডিজিটাল পেমেন্ট কোম্পানিটি ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জুমের বিক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে’ কাজ করছে এবং এতে সহায়তার জন্য মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসকে নিয়োগ দিয়েছে।
গত সপ্তাহে পেপ্যাল তাদের ত্রৈমাসিক আয়ের কথা জানিয়েছে যেখানে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানটি তার পিয়ার-টু-পিয়ার (পি২পি) মোট পেমেন্ট ভলিউম (টিপিভি) – যার মধ্যে পেপ্যাল, ভেনমো এবং জুম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে – ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে এবং এই পরিমাণ মোট পেমেন্ট ভলিউমের ২৬ শতাংশ। ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট ভলিউম মোট পেমেন্ট ভলিউমের ১৩ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ১৪ শতাংশ।
জুম বিক্রির ব্যাপারে পেপ্যাল অবশ্য আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
পেপ্যালের প্রধান নির্বাহী ড্যান শ্যুলম্যান বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক কনফারেন্স কলে বলেছেন, পেপ্যালের ব্র্যান্ডেড চেকআউটে মোট পেমেন্ট ভলিউম ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবৃদ্ধিকে ‘উল্লেখযোগ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডেড চেকআউট বলতে বোঝায়, পেমেন্ট বা চেকআউট পেজে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোগো থাকা বা তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই সরসারি পেমেন্ট নেওয়া।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এমন প্রবৃদ্ধি সত্বেও ভবিষ্যতে কী হবে, সেটি বলা মুশকিল। ম্যাক্রোইকোনমিক এবং ভূরাজনৈতিক জটিলটার এই সময়ে কোনো কিছুর ভবিষ্যদ্বানি করা সত্যিই দুরূহ কাজ।’
এই বছরের শুরুর দিকে জুম ভিসার সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছিল যাতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভিসা কার্ডের ব্যবহারকারীরা বিশ্বের ২৫টি দেশে যোগ্য ভিসা ডেবিট কার্ডে অর্থ পাঠাতে পারেন।
এক গবেষণায় দেখা গেয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শতাংশ গ্রাহক বছরে ৭৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠায়। এই গ্রাহকরা রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য আরও সহজ, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও উপযোগী মাধ্যম খুঁজছে।
মানুষ কীভাবে বিদেশে অর্থ লেনদেন করে, সে সম্পর্কে স্টেলার ডেভেলপমেন্ট এবং পিওয়াইএমএনটস এর দীর্ঘ গবেষণায় দেখা গেছে ক্রস-বর্ডার রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে নতুন অনেক কিছু করার অফুরন্ত সম্ভাবনা আছে। মানুষকে সহজে, নিরাপদে ও সাশ্রয়ীভাবে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা দেওয়ার জন্য অনেক কাজ বাকী আছে।




