Woman

Lutfar_Rahman_rono's picture

নারী উন্নয়ন : শিক্ষা ও সীমাবদ্ধতা

নারীমুক্তির প্রধান একটি শর্ত হলো শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া আত্মসচেতনতা সৃষ্টি হয় না, দারিদ্র্যমুক্তিও ঘটে না। কিন্তু বলা উচিত, শিক্ষা দারিদ্র্যমুক্তির পথ নয়- দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি। যেকোনো অর্থে- লড়াই করাই মানুষের জীবন। আমাদের নারীদের সে শক্তি অর্জনের সুযোগ করে দিতে হবে। আত্মোপলব্ধির পথ করে দিতে হবে। আত্মসচেতনতা সৃষ্টি না হলে তার সম্মুখের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করতে পারবে না। কার বিরুদ্ধে লড়াই, কোন কারাপ্রাচীর তাকে বন্দি করে রেখেছে- এসব জানা লড়াই করার জন্য জরুরি।

পরিতাপের বিষয়, শিক্ষার প্রসার আমাদের দেশে সেই কাঙ্ক্ষিত স্তরে এখনো পৌঁছেনি, যাতে দরিদ্র নারীরা, এমনকি দরিদ্র পরিবারের ছেলে-পুরুষরাও শিক্ষার্জনে সক্ষম হবে। সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে, তবে তা কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক বা অজস্র বিধিব্যবস্থা পেরিয়ে 'সবার জন্য শিক্ষা' কার্যক্রমের যে 'সুফল' প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে, তা অবশেষে খুব ফলপ্রসূ হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির হার বেড়েছে, গণনা সূত্রে দেখা যায়। কিন্তু ঝরে পড়ার হারও সে অনুপাতে কমেনি বলে যোগ-বিয়োগে সমান হয়ে যায়। বিশেষ করে মেয়েদের বেলায়। আর সরকারি সহায়তা বস্তুত বোর্ডের বইগুলো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বই বছরে একবার কিনতে হতো। সেটা দেওয়া হয় বিনা পয়সায়। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর পেছনে ১২ মাস যে অবিরল খরচ করতে হয়, তার চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েন দরিদ্র অভিভাবকরা। পরিণামে ঝরেপড়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। সরকারি বই বিতরণের উৎসব আমরা মিডিয়ায় যেমন দেখতে পাই, তা একান্তই তাৎক্ষণিক। তারপর শুরু হয় নোট বা গাইড বই, নতুন ড্রেস, এক ডজন খাতা-কলম, কোচিং, স্যান্ডেল-জুতা, টিফিন, পেনসিল, রং পেনসিল, পরীক্ষার ফি, মাসিক স্কুলের বেতন- আরো কত কী! বছরজুড়ে চাহিদার অন্ত নেই।

mikhan007's picture

আবারো ইউল্যাব ছাত্রদের দ্বারা যৌন নিপীড়নঃ প্রতিবাদকারীকে মারধর ।

জানা ঘটনা-০৩ ।
ইউল্যাব (ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস) এর একদল ছাত্র ১০মে ২০১২ তারিখ রাতে ইউল্যাব-এর পাশে ধানমন্ডী ৫/এ রোডে একজন মহিলাকে যৌন নিপীড়ন করেছ । পাশেই পুলিশের চেকপোষ্ট । তারা এগিয়ে আসেনি । হয়তো তারা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিল । দেখতে পায়নি । তবে আশেপাশের দোকানদার ও ছাত্র শিক্ষকদের গাড়ি চালকগণ দেখেছে । কিন্তু তারা কোন প্রতিবাদ করেনি । একজন সদাশয় ব্যক্তি এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করেছিলেন । আর সঙ্গে সঙ্গে ঐ ছাত্ররা তাকে ইউল্যাবের দিকে টেনে নিয়ে বেদম মার দিয়েছে । পরবর্তিতে বিভিন্নজনের জিজ্ঞাসাবাদে প্রত্যক্ষদর্শী আশেপাশের দোকানদার ও উপস্থিত গাড়ি চালকগণ বয়ান দিয়েছে যে, রাস্তাঘাটে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে, তিনি কেন প্রতিবাদ করতে গেলেন? এতে বুঝা যায় যে, তারাও যৌন নিপীড়নকারী । অপরাধী ছাত্রদের সাথে তারাও অপরাধী এবং তাদেরও বিচার হওয়া উচিৎ । ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ খবরের কাগজকে জানিয়েছে যে, অভিযুক্ত ছাত্ররা ইউল্যাবের ছাত্র কিনা সে বিষয়ে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি । তাদের এ বক্তব্য ঠিক নয় । প্রত্যক্ষদর্শী আশেপাশের দোকানদার ও উপস্থিত গাড়ি চালকগণকে পেদানী দিলেই অভিযুক্ত ছাত্রদের সহজেই সনাক্ত করা সম্ভব ।

Rita Roy Mithu's picture

পৃথিবীর সকল 'মা' কে মাদার'স ডে'র শুভেচ্ছা!!

১৩ই মে, রবিবার বিশ্বের অধিকাংশ দেশে মহা ধুমধাম করে ‘মা’ দিবস বা ‘মাদার’স ডে উদযাপিত হচ্ছ্বে। সাধারণতঃ মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারটিতে ‘মাদার’স ডে পালিত হয়ে থাকে। যদিও কিছু কিছু দেশে তাদের রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন দিনেও মাদার’স ডে পালিত হয়ে ্থাকে। তবে মহাপরাক্রমশালী আমেরিকাতে যেহেতু মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মাদার’স ডে পালিত হয়, তাই এর সাথে তাল রেখে অধিকাংশ দেখেই একই দিনে মাদার’স ডে উদযাপিত হয়।

মাদার’স ডে কখন শুরু হয়েছিল, কোথা থেকেই বা শুরু হয়েছিল তা নিয়ে নানা ধরনের গল্প প্রচলিত আছে। যেমন প্রাচীনকাল থেকেই কোন কোন দেশে ধর্মীয়ভাবেই একটি নির্দিষ্ট দিনে মা’কে শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জানানোর রীতি ছিল। মাতৃত্ব, সন্তানের সাথে নাড়ীর বন্ধন, মমতা- স্নেহ-ভালোবাসার ক্ষমতা মা’কে দেবীর আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। প্রাচীনকালে মা’কে নিয়ে গ্রীক উৎসব ‘সাইবেল’ (Cybele,) , রোমান উৎসব ‘হিলারিয়া’, ব্রিটিশ উৎসব ‘মাদারিং সানডে’ ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের সাথে উদযাপিত হতো। ধারনা করা হয়, বর্তমান সময়ে ‘মাদার’স ডে দিবসটি প্রাচীনকালের ‘মা’ উৎসবের আধুনিক সংস্করন।

Rita Roy Mithu's picture

মাদার’স ডে শুধুই মায়েদের জন্য, কিন্তু ওরা মা নয়!!

আগে প্রচলন ছিলনা, কিনতু বেশ কিছু বছর ধরেই বাংলাদেশে ‘মাদার’স ডে মহা ধুমধামের সাথে পালিত হয়ে থাকে। কোন একটি কোম্পানী থেকে ‘রত্নগর্ভা’ পদক প্রদান করা হয়ে থাকে দেশে প্রতিষ্ঠিত বা পরিচিত ব্যক্তিদের মায়েদেরকে। ভালো খুবই ভালো, এমন উদ্যোগকে নিজে একজন মা হিসেবে একটা সালাম দিতেই হয়। তবে রত্নগর্ভা শব্দটি নিয়ে মনে একটু খটকা থেকেই যায়। ‘গর্ভে’ থাকতে সব শিশুই একই রকমভাবেই বাড়ে। সব মেয়ের গর্ভের অভ্যন্তর একই কাঠামোতে সাজানো। সেখানে কারোর গর্ভেই আলাদা করে রত্ন তৈরীর মেশিন থাকেনা। বাচ্চা ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে শুরু হতে পারে রত্ন বানানোর প্রক্রিয়া, তার আগেতো নয়। তবে হ্যাঁ, যে মা যত বেশী সচেতন, যে মা য

দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাঁদের আবার দুঃখ কিসের-১

কল্পনা নয় সত্য!!!

এক
সত্তরের কাছাকাছি একজন বৃদ্ধা আয়েশা বেগম। ভিটে বাড়ি ছাড়া নিজের বলতে কিছুই নেই। সন্তান লাভের আগেই স্বামী গত হয়েছেন সেই যৌবনে। কিন্তু স্বামীর ভালবাসার কাছে নিজের সমস্ত ইচ্ছাগুলোকে হার মানিয়ে সারাটা জীবন পারি দিয়েছেন একা। আজ জীবনের শেষ সময়টা যেন আর কাটতেই চায় না। মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুনতে থাকেন। পাড়া প্রতিবেশী আর আত্মীয়স্বজন মিলে যা দান করেন তাই দিয়ে কোন রকমে চলে যায় তাঁর একাকীত্বের জীবনগুলো। কিন্তু সময় যেন আর কাটতেই চায় না। কখন আজরাইল (আঃ) এসে তাঁর জীবনটা কবজ করবেন শুধু সেই প্রতীক্ষায় দিন ক্ষণ রাত্রি গুনে চলেছেন তিনি। কোন দিন অনাহারে অথবা অর্ধাহারে দিন কাটে তাঁর। ভীষণ অসুস্থ হলে পাড়া প্রতিবেশীরা টের পান পাঁচ ছয়দিন পর। কখনও হুযুরের পানি পড়া অথবা গ্রামের কবিরাজের ঔষধে চলে তাঁর মুমূর্ষু অসহ্য সময়গুলো। মৃত্যু পথযাত্রিকে একটু সেবা দেয়ার মত পাশে কেও নেই। কয়েক মাস অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরানোর পর কোন রকমে সোজা হয়ে বসেন আয়েশা বেগম। কি নির্মম সত্যকে মাথা পেতে নিয়েছেন তিনি। আর মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে আসা আয়েশা বেগম একটা দীর্ঘশ্বাসে বিনয়ের সাথে বিধাতাকে আরও একবার ধন্যবাদ জানান আরোগ্য প্রাপ্তিতে।

চোখের বালি's picture

কে নিয়েছে আমার অধিকার

নারী দিবস থেকে ফিরে এসে আমার বান্ধবীর স্বামী আমাকে ফোন করে বললেন,সভায় আসলে না কেন? উত্তর দেওয়ার আগেই আবার বলে উঠলেন ‘আমি তো আমার বউ কে এত অধিকার দেই তারপর কেন এত কথা?আমি বললাম এই যে ‘দেই’ কথাতে আমার কস্ট হয়, অহং এ বাধে। তাই তো যাই না।আপনি অধিকার দিচ্ছেন এ ভাবনা আসার মুল কে বন্ধ করতে হবে।পুরুষ কে যদি অধিকারের জন্য দিবস করতে না হয় তবে মেয়েদের করার কথা ছিল কী?বললেন আমার ও সেই কথা। আমি আমার বউকে ভালবাসি কিন্তু এসব সভায় গিয়ে তো ওর দিকে তাকাতেও লজ্জা লাগে।এ কেমন সাথে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা? আমরা কি করে অধিকার নিলাম? বললাম না কেউ নেয় নি। এটা যুগ যুগ ধরে নারীর নিজ়স্ব দুর্বলতার শিকার আজ সে নিজে।

বিয়ে মানে যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রবেশ করার উদ্দেস্য নয় বা অত্যাচার করার জন্য বিয়ে করা নয়। তবু কেন তাই হয়ে যায়? অনেক অনেক কারনের ভিতর আর্থিক সমস্যা, শিক্ষাগত বৈষম্য, এবং মানসিক মিলের অভাব বোধকরি অন্যতম কারন।কয়েক দিনে আগে ‘বিশ্ব নারী দিবস’পালন হল।আমার এবার যেতে ইচ্ছে করল না।এই ‘দিবস পালন’ করতে যাওয়ার অর্থ সভার সংক্ষা বারবার জন্য বা বন্ধুদের মন রক্ষা করার জ়ন্য যাওয়া কেবল। সবার বক্তব্যে কেমন যেন ’দয়া ভিক্ষার’গন্ধ।

নারী দিবস এর মুল কথা ‘নারী মুক্তি – নারীর অধিকার’।আমাদের এই মুক্তি কাদের কাছে থেকে?কাদের অধীন থেকে? মনিব কে?জন্ম থেকেই এই পরাধিনতা?মায়ের গর্ভ থেকে ? নাকি এক পরাধিনার ভিতর থেকে যখন বের করে আনল সেই মুহুর্তে পরাধিনার সিকল পরিয়ে দেওয়া হল? অর্ধেক অধিকার নিয়ে কি তবে জন্ম?

Rita Roy Mithu's picture

আমেরিকান কনের বাংলাদেশী ‘বর’ পছন্দ!!!

আমার সহকর্মী ওরা। রেজিনা, চ্যাসিটি, শেইলা, টেরী, মাইশা। টেরী এবং শেইলা আমার বয়সী, চ্যাসিটি সবার ছোট ২২ বছর বয়স ওর। মাইশা ও রেজিনার বয়স ২৭ অথবা ২৮। ওদের একটু আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দিলে লেখাটি পড়তে সহজ হবে।

রেজিনাঃ কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী, বিবাহিত। রেজিনা ফোন সার্ভিসে চাকুরী করার পাশাপাশি অনলাইনে ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট’ এর উপর পড়াশুনা করছে। ওর স্বামী গাড়ী সারাইয়ের দোকানে মেকানিকের কাজ করে। ওরা সুখী দম্পতি। রেজিনা কাজে আসার পর থেকে ওর বর প্রতি ঘন্টায় ফোন করে, বউয়ের খোঁজ নেয়। আমি মাঝে মাঝেই মজা করে বলি, আমার বরটাকে তোমার বরের কাছে পাঠিয়ে দেবো, বউ খুশী করার কিছু টিপস শিখে আসবে। রেজিনার স্বামী রেজিনার মায়ের বাড়ীতেই থাকে। অনেকটা ঘর-জামাইয়ের মত।

চ্যাসিটিঃ বাচ্চা একটি মেয়ে। কৃষ্ণাঙ্গ হলেও গায়ের রঙ আমাদের মতই বাদামী। সিঙ্গল মায়ের একমাত্র মেয়ে, বিলাসী, স্টাইলিশ। গত এক বছরে তিনবার ‘আইফোন’ বদলেছে। ইমেলদা মার্কোসের পরেই মনে হয় চ্যাসিটির নাম আসবে, এত জোড়া জুতা ওর। চ্যাসিটি চাকুরী করে, কলেজে পড়াশুনাও করে। ওর একটি তিন বছর বয়সী মেয়ে আছে। ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে এখন ওর কাট-আপ হয়ে গেছে। মেয়েকে নিয়ে চ্যাসিটি ওর মায়ের কাছেই থাকে। তবে অপেক্ষায় আছে বয়ফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক জোড়া লাগার জন্য। বিয়ে নিয়ে চিন্তা করছেনা। কি ধরনের ছেলে ওর পছন্দ জিজ্ঞেস করতেই বলেছিল, পয়সাওয়ালা ছেলে। যে ওকে রাজসুখে রাখবে।

Rita Roy Mithu's picture

যে শখের মৃত্যু নেই!!

মানুষের নাকি শখ আহ্লাদের শেষ থাকেনা। তবে শখ আহ্লাদের ধরণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে বদলায়। একেক বয়সের একেক শখ! যেমন শিশু বয়সে শখগুলো হয় সম্ভব অসম্ভব, সব ধরনের। শিশুরাই মাঝে মাঝে আকাশের চাঁদ হাতে পেতে চায়। আবার শিশুদেরকেই একটাকা দামের ললিপপের লোভ দেখিয়ে অনেক কাজ খুশীমনে করিয়ে নেওয়া যায়। লাল জুতা, লাল জামা, একটা রঙিন বেলুন অথবা একটা ‘চাপলাশ ঘুড্ডি ও সূতা ভর্তি লাটাই’, এগুলোই শিশু বয়সের শখ। একটু বড় হতে হতে শখগুলো পালটে যায়, লাল জামা জুতোর বদলে ইচ্ছে করে নিজের একটি আয়না, ছোট ছোট কানের দুল পেতে আর ছেলেদের ইচ্ছে করে একটা হাত ঘড়ি, অথবা একটা ফুটবল, অথবা হাতে একটা ক্রিকেটের ব্যাট পেতে!

আমারও একটা ছোটবেলা ছিল, একটা কিশোরীবেলা ছিলো, তরুণীবেলা ছিলো, এখন এই মধ্যবেলা চলছে। অন্যসব মেয়েদের মতো আমারও শখগুলো বদলেছে বয়সের সাথে সাথে, শুধু একটিমাত্র শখ এখনও রয়ে গেছে। এবং তা বহাল তবিয়তেই বর্তমান আছে। দিনে দিনে বদ্ধমূল ধারণা হচ্ছে যে এই শখটা আমার মৃত্যু পর্যন্ত থেকে যাবে। আমার এই শখটির নাম হচ্ছে, ‘ক্যামেরার সামনে পোজ দেয়া’। হ্যাঁ, সেই ছোটবেলা থেকেই আমার ক্যামেরা দেখলেই সাথে সাথে ক্যামেরার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে ইচ্ছে করে। এই মধ্য বয়সে এসেও আমার এই শখটির প্রাবল্যে কোন রকম হেরফের হয়নি।

Salma.Khan's picture

নারী-পুরুষ সমতা: আজও সোনার হরিণ!

বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার দশকে যখন আমরা আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির খতিয়ান করছি, তখন দেখতে হবে আমাদের সংগ্রামের মূল লক্ষ্য, একটি সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক ও শ্রেণী-লিঙ্গ সামুদয়িক (inclusive) সামাজিক ব্যবস্থা স্থাপনে আমরা কতটা সফল হয়েছি। এই মূল্যায়নের একটি প্রধান সূচক লিঙ্গসমতা স্থাপনে আমাদের অবস্থান ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দায়বদ্ধতা পূরণ। কারণ, এ দেশে নারী জনসংখ্যার অর্ধেক এবং দরিদ্র শ্রেণীর তিন-চতুর্থাংশ। বাংলাদেশে লিঙ্গসমতা অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমর্থন ব্যক্ত হয়েছে আমাদের সংবিধানে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনে সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবে’ এবং ‘নারী-পুরুষভেদে... রাষ্ট্রবৈষম্য প্রদর্শন করিবে না।’ লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। বিগত ৪০ বছরে নারীর জীবনে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিতকরণে এবং তা মোকাবিলার জন্য সরকার ও সুশীল সমাজের কী প্রচেষ্টা ছিল, তা কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে, আজ তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

Salma.Khan's picture

চার দেয়ালের বাইরে অপার বিস্ময়

মাত্র কয়েকদিন আগেই আমরা আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করেছি। এ উপলক্ষে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এগিয়ে যাওয়ার পথের বাধা এবং তা কাটিয়ে ওঠার পথও অনেকে চিহ্নিত করেছেন।

কয়েকটি বিষয়ের উল্লেখ আমার খুব ভালো লেগেছে। যেমন স্কুল পর্যায়ে নারী শিক্ষার প্রসার। গত দুই বছরে ১৩-১৪ লাখ ছাত্রী অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ছাত্রীসংখ্যা বেড়ে চলেছে।

শ্রমবাজারে ঘটে যাওয়া একটি পরিবর্তনকেও আমরা গুরুত্ব না দিয়ে পারি না। প্রাতিষ্ঠানিক শিল্প খাতে এখন নারীই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ। সন্দেহ নেই যে, তৈরি পোশাক শিল্প এ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছে। কিন্তু আরও কিছু খাতেও নারী শ্রমিকদের বিপুল চাহিদা রয়েছে। ওষুধ ও ইলেকট্রনিক্স খাতের কথা আমরা বলতে পারি। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নারীর জন্য রয়েছে এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত আসন। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বাড়িয়ে ৫০ জন করা হলেও সরাসরি নির্বাচন এখনও চালু হয়নি। কিন্তু স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তর যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত নারী আসনে নারী ও পুরুষ সবাই ভোট দিচ্ছে।