Woman

নারী নির্যাতনের নতুন হাতিয়ার

ইদানীং লক্ষ্য করা যায়, একটি ছেলে ও একটি মেয়ের অনৈতিক সম্পর্ক একটি ক্যামেরায় ধারণ করে দেশ-বিদেশ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাপারটি যদিও অত্যন্ত বেদনাদায়ক, স্নায়ু আবেদন থাকায় এর দর্শকেরও যেন অভাব নেই। ফলে মোবাইল ও ইন্টারনেটের যুগে তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে যায় দেশ-দেশান্তর। কিন্তু এই মেয়ে, তার পরিবার এবং আত্মীয়দের অবস্থা কি আমরা ভেবে দেখেছি? তথাপি এ বিষয়ে কথা বলার যেন কেউ নেই। কিন্তু গত পাঁচ বছরে 'গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে যৌন হয়রানি'র বিষয়টি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, কিছু একটা না করে নীরবে বসে থাকা যায় না। তাছাড়া কাউকে না কাউকে তো মুখ খুলতেই হবে।
women
১. বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ভাবছিলাম কী করা যায়। প্রথমেই দরকার ছিল বিষয়টি সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানা। একমাত্র উপায় ইন্টারনেট। এটাও আমার জন্য একটি স্পর্শকাতর মাধ্যম। কারণ ইন্টারনেটে অনেকে স্পাই হিসেবে কাজ করেন। তারা দেখবে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে আমি যৌন বিষয়ে গুগলে সার্চ করছি। তবুও উদ্দেশ্য যেহেতু মহৎ, একটু সাহসী হলেই-বা মন্দ কি? তাই শুরু হলো তথ্য আহরণ।

Taslima.Nasreen's picture

সানেরার মতো মেয়ে চাই- আছে?

বীরভূমের আলুন্দা গ্রামের মেয়ে সানেরা যা ঘটিয়েছিল তা ক'জন মেয়ে ঘটাতে পারে? ক'জন মেয়ে বিয়ের মালা খুলে ফেলতে পারে বিয়ের আসরেই? আঠারো বছর বয়সের একটি মেয়ে দেখিয়ে দিল বুকের পাটা। কারও অনুরোধে সে ঢেঁকি গেলেনি। যা তার ইচ্ছে করেছে, করেছে। সে এই বিয়ে ভেঙে দেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভেঙে দিয়েছে। যে লোক বিয়ের আসরেই মেয়ের বাবাকে অপমান করতে দ্বিধা করেনি, সে যে মেয়েকে উঠতে বসতে জীবনভর অপমান করবে, তা সানেরা বুঝে গিয়েছে। সানেরা ওই দুর্বিষহ জীবন চায়নি, চায়নি বলেই বিবাহিত জীবন শুরু করার আগেই ওটি সে শেষ করেছে।
taslima nasrin
বয়স মাত্র আঠারো সানেরার। এই বয়সে সাধারণত পরিবারের চাপের কাছে নত হতে মেয়েরা বাধ্য হয়। প্রতিবাদের ভাষা তৈরি হতে মেয়েদের সময় নেয় অনেক। অবশ্য যার তৈরি হয় না, তার সারা জীবনেও হয় না। কেউ কেউ কিশোরী বয়সে বেশ প্রতিবাদী, যেমন ইচ্ছে তেমন চলছে, নিজের অধিকারের ব্যাপারে ভীষণ সজাগ, কিন্তু যেই না বিয়ে নামক জিনিসটি ঘটার সময় হয়ে আসে, তখন একেবারে বাবা মার পছন্দ করা পাত্রের গলায় চোখ কান বুজে ঝুলে পড়ে। শ্বশুরবাড়ি গিয়ে দিব্যি বাধ্য বধূ। শান্ত, সমাহিত। কোনও এক কালে কিশোরী বয়সে দুরন্ত ছিল সে, দস্যি ছিল, বিকেলের চায়ের সঙ্গে মুচমুচে স্মৃতি হয়ে থাকে ওসব।

Ajay.DasGupta's picture

বেগম রোকেয়া যদি জান্নাত ও সুমাইয়াকে এভাবে দেখতেন!

কলাগাছের ভেলায় বাঁশের লগি হাতে মেয়েটির নাম জান্নাত-ই-খাতুন। ভেলায় বসা মেয়েটির নাম সুমাইয়া খাতুন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রামগাঁতী গ্রামের মলি্লকা সানাউল্লাহ আনসারী উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ওরা। ২৬ আগস্ট মঙ্গলবার স্কুল থেকে ফেরার সময় সমকালের সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম খান রানার ক্যামেরায় তোলা হয় এ চিত্র। বন্যায় যমুনার চর এলাকায় অবস্থিত স্কুলটির যাতায়াত পথ তলিয়ে গেছে। এ কারণে হাঁটার বিকল্প ভেলা বেছে নিতে হয়েছে জান্নাত ও সুমাইয়ার মতো আরও অনেককে। যত বাধাই আসুক, স্কুল তো কামাই করা যাবে না! সবার ওপর তো পড়াশোনা, কী বলেন? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিল জান্নাত। ওরা চার ভাই-বোন। সবাই স্কুলে যায়।
rokeya
২৬ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে কথা হয় জান্নাতের সঙ্গে। প্রথমে ফোনটি ধরেন তার মা। বাবা তখন পেশাগত কাজে বাড়ির বাইরে। পেশায় রিকশাচালক। মেয়ের স্কুলে যাতায়াতে যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য তিনি ভেলাটি বানিয়ে দিয়েছেন। ২০-২২ দিন এভাবেই স্কুলে যাতায়াত করে ওরা। মা প্রথমে মেয়েকে ফোন দিতে চাইছিলেন না। সমকালের সাংবাদিক_ এমন তথ্য তার কাছে কোনো বিশেষ অর্থ বহন করে না। জান্নাতের পাশের বাড়ির মরিয়ম এবং হাসিও একইভাবে স্কুলে যায়। তাদের কারও কাছেই ঢাকার দৈনিক পত্রিকা পেঁৗছানোর কথা নয়।

saif barkatullah's picture

ও পাখি তোর যন্ত্রণা

ও পাখি তোর যন্ত্রণা
সাইফ বরকতুল্লাহ

10543668_255636757976939_43730046_n-600x450.jpg
এক.
থ্রি পিস দোকানের অলিগলিতে হায়!
পাখি রাখছে টাঙ্গিয়ে
প্লাস্টিকের ডলগুলো রঙ বেরঙের
পাখিতে দিলো রাঙ্গিয়ে,
ডানা কাটা পাখি, মশার ভয়ে মশারি পাখি
আপা নিয়া যান, ঈদের কয়দিন আর বাকি
সিরিয়ালের নাম ভাঙ্গিয়ে হায়! ফ্যাশনে সয়লাব মার্কেট
হুজুগে মেতে বাঙালি, ঐতিহ্য বিকিয়ে ভরে ধাঙ্গর পেট৷
ও সুন্দরী আপারা সানি লিউন দিছেন নাকি বাদ?
এবার বুঝি পাখি ফ্যাশনে ভরবেন মনের সাধ?'
সামহয়্যার ইন ব্লগে কাজী ফাতেমা ফ্যাশনের রাজ্যে পাখি- শিরোণামে এই কবিতা লিখেছেন৷

asksumon007's picture

♦♦♦ ইসলাম কি দিয়েছে নারীকে (পর্ব- ১) ♦♦♦

►কন্যা সন্তানের জন্মকে বলা হল ‘সুসংবাদ’

وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ l يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ
তাদের কাউকে যখন কন্যা সন্তানের ‘সুসংবাদ’ দেয়া হয় তখন তার চেহারা মলিন হয়ে যায় এবং সে অসহনীয়
মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। সে এ সুসংবাদকে খারাপ মনে করে নিজ সম্প্রদায় থেকে লুকিয়ে বেড়ায় (এবং চিন্তা করে ) হীনতা স্বীকার করে তাকে নিজের কাছে রেখে দেবে,নাকি মাটিতে পুঁতে ফেলবে। কত নিকৃষ্ট ছিল তাদের সিদ্ধান্ত। (সূরা নাহ্ল,আয়াত : ৫৮-৫৯)

Taslima.Nasreen's picture

পুরুষ নিয়ে মেয়েদের কাড়াকাড়ি বাড়াবাড়ি

মনে আছে বেশ কয়েক বছর আগে এক চলচ্চিত্র প্রযোজক আমাকে চলচ্চিত্রের জন্য গল্প লিখতে অনুরোধ করেছিলেন এবং বেশ করে বলে দিয়েছিলেন, গল্পটা যেন খুব জুসি হয়, যেন পুরোটা গল্পজুড়ে থাকে হিরোকে পাওয়ার জন্য দুটো মেয়ের মধ্যে কাড়াকাড়ি মারামারি কামড়াকামড়ি। প্রযোজকের আমন্ত্রণ আমি প্রত্যাখ্যান করেছিলাম, মুখের ওপর বলে দিয়েছিলাম, 'এ ধরনের বিচ্ছিরি গল্প আমার দ্বারা সম্ভব নয় লেখা। আপনি অন্য লেখক দেখুন'।

Quazi Hassan's picture

মন পাখী

eyes.jpg

সমস্যা একটা হচ্ছে জয়নাল হোসেনের। শুক্রবার সকাল। ইচ্ছা ছিল মিলি উঠার আগেই পত্রিকার প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত সব পড়ে ফেলবে। সারা সপ্তাহের না জানা ঘটনাগুলো জানা হয়ে যাবে। ইদানীং অফিসে কাজের খুব চাপ। পত্রিকা খোলার সময় হয় না। তাই সেই ছোট বেলার অভ্যাসটা শুক্রবারে পুষিয়ে নেয়া আর কি।

মিলি উঠে গেলেই আরেক সমস্যা। পত্রিকা নিয়ে সময় কাটান তার একেবারেই পছন্দ না। সে সোজা কথার মানুষ। যা হয়ে গেছে , তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কি আছে? যা হওয়ার তাই হয়েছে। কি হয়ে গেছে তা নিয়ে মাথা গরম না করে, যা হতে যাচ্ছে সেটা নিয়ে কাজ করা দরকার। জয়নালের পত্রিকা পড়া দেখলে, মহা বিরক্ত হয়ে বলবে; যাও এখুনি বাজারে যাও। সকাল সকাল গেলে ফ্রেশ মাছ পাবে।

মানুষ ও মানবতা

নারীবাদ থেকে মানবতা-বোধ কতোটা দূর? কিংবা পুরুষ-তন্ত্র থেকে মানবতা-বোধ? মানবতা-বোধ কী নারী পুরুষের লিঙ্গ দ্বারা বিভাজন? যদি তাঁর উত্তর হয়, না। তবে ধরে নিতে পারি, মানুষ মাত্রে'ই মানবিক মূল্যবোধ সম্পূর্ণ মানুষ। এবং সেই সৎ বিবেকবান মানুষের জন্য শ্রেয় এবং শ্রেষ্ঠতম পৃথিবীর সন্তান। তাঁর কোনো লিঙ্গ পরিচয় নাই, ধর্ম পরিচয় নাই, দেশ, গোত্র পরিচয় নাই, জন্ম পরিচয় নাই, একদিন হয়তো লিঙ্গ, ধর্ম, দেশ, গোত্র, জন্ম পরিচয় ছেড়ে মানুষের পরিচয় হবে, শুধুই মানুষ। এবং মানবতা-বোধেই হবে, তাঁর জীবনের ব্রত এবং শ্রেষ্ঠ ধর্ম। মানুষের বংশ বৃদ্ধির জন্য সে ব্যক্তিগত সম্পদ রক্ষা এবং ধর্ম, দেশ, গোত্র, জন্ম পরিচয়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে না।

leya sharker's picture

আমি মা হলাম

ব্লগে আমার লম্বা বিরতি পরে গেল। অনেক দিন হয় লিখি লিখি করেও লিখা হয়ে উঠেনি। তবে মাঝে মাঝে আপনাদের লিখা পডেছি। আজ সবাইকে একটি খুশির সংবাদ দিয়ে পূনরায় লিখার সূচনা করতে চাই।

গত দীর্ঘ ৯ মাস ৫ দিন ধরে আমার ভেতরে বেড়ে উঠছিল একটি অস্তিত্ব। যা আমার ভাবনাগুলো দিন দিন পালটে দিচ্ছিল। আমাকে একটা নতুন জগতের সাথে পরিচিত করছিল। আমার শরীরের ভার ক্রমে ক্রমেই আমাকে জানান দিচ্ছিল আমি এখন আগের আমি নেই। আমি পুরোপুরি পালটে যাচ্ছি।

abdullah.shafi's picture

স্বাগতম ঘূর্ণিঝড় "মহাসেন"!

www.newsnetbd.com

"টাকা দেবে গৌরী সেন".. অনেকেই এই প্রবাদের সাথে যেমন পরিচিত, তেমনি অনেকেই হয়তো জানেন কে এই গৌরী সেন ?

বিভিন্ন সূত্রমতে, ঐ উদার ব্যক্তি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বা অষ্টাদশ শতাব্দীর গৌরীকান্ত সেন। তাঁর আদিনিবাস নিয়ে ভিন্নমত আছে। কোন কোন সূত্র দাবী করে উনি হুগলী জেলার বালী শহরের মানুষ। আবার কেউ বলে তিনি ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর শহরের মানুষ। পিতার নাম ছিল নন্দরাম সেন, পিতা ছিলেন সুবর্ণবণিক সম্প্রদায়ের এক ধণী ব্যবসায়ী।

Syndicate content