Travel

ইঁদুর মন্দির

বলা হয়ে থাকে ভারত দেখা মানে বিশ্ব দেখা। মানুষের এই বৈচিত্র্যময় জীবনধারায়

একস্থানে যা ঘৃণা করা হয় অন্যত্র সেটাই হয়তো শ্রদ্ধার বস্তু।
হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালাকে ইঁদুর মারার জন্য রাজা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ভারতের জয়পুরের সন্নিকটে আছে সেই ইঁদুর মন্দির।
bgTransparent.png

shorof's picture

“চির সবুজ চা বাগানে কী সুন্দর প্রজাপতি…!”

চা ভালোবাসে না এমন লোক খুব কমই পাওয়া যাবে। চা আমাদের সকলেরই পছন্দের একটি পানীয়। সেই চা বাংলাদেশের যে ক’টি অঞ্চলে ফলে তার মধ্যে সিলেট অন্যতম। সিলেট জেলায় বর্তমানে ২০ টি চা বাগান রয়েছে। সিলেট শহরের খুব কাছাকাছি মালনীছড়া ও লাক্কতুড়া চা বাগান অবস্থিত। ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত মালনীছড়া চা বাগান উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান, যেটি সিলেট শহরের অতি নিকটেই অবস্থিত। সিলেট শহর থেকে গাড়িতে প্রায় পনের মিনিটের রাস্তা। প্রায় ১৫০০ একর আয়তনের এই চির সবুজ চা বাগানটি ১৮৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এ বাগানে চা’য়ের পাশাপাশি কমলা ও রাবারের চাষ হয়। এছাড়া নানা ধরনের বৃক্ষ তো আছেই। মালনীছড়া চা বাগানটির পাশেই লাক্কাতুড়া চা বাগান অবস্থিত। এই লাক্কাতুড়া চা বাগানের প্রায় মধ্যিখানেই সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে। আমরা আশা করছি এখানে খুব শীঘ্রই আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরু হবে। যাক, অপূর্ব সুন্দর চা বাগান এবং নানা ধরনের ছায়া বৃক্ষের কাছাকাছি বিশাল আয়তনের এই স্টেডিয়ামটি হওয়ায় ভালোই হয়েছে। স্টেডিয়ামে যারা খেলা দেখতে যাবে তাঁরা একই সাথে দু’টি জিনিস উপভোগ করতে পারবে। অনেকটা ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো’। এখানে যেমন ছায়াবৃক্ষে ভরা চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে আবার একই সাথে কেউ চাইলে স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে বসে অথবা কোন একটি টিলার চূড়ায় বসেও খেলা দেখতে পারবে। চির সবুজ সেই চা বাগানের দৃশ্য দেখতে সবারই ভালো লাগে। তাই শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন পড়ন্ত বিকেলে রানা, ফরিদ আর আমি অপরূপ মায়াময় সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে বেরিয়ে পড়লাম।

Swadesh.Roy's picture

আসাম ইউনিভারসিটি, শিলচরে একখণ্ড বাংলাদেশ

কখনও রুক্ষ পাহাড়, কখনও শুষ্ক ফসলের পাশ দিয়ে ধীরগতির একটি ট্রেনে আমরা শিলচরের দিকে এগুতে থাকি। ট্রেনের গতি আর মাঝে মাঝে থেমে থাকা বলে দেয়, আমরা যে কখন পৌঁছাব তার কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। বোঝা গেল এখন শুধু আমাদের গন্তব্যটি নির্দিষ্ট, সময় নির্দিষ্ট নয়। আগরতলা থেকে প্লেনে না এসে আমরাই ট্রেনকে পছন্দ করেছি। তাই দোষ দেবার কিছু নেই। তাছাড়া এও তো জীবনের এক ধন। একটি ধীরগতির ট্রেন, পাশে পাথুরে পাহাড়ের গা ফুঁড়ে বেরিয়ে আছে কিছু লতাগুল্ম। কখনও মাটির পাহাড়। সেখানে বাঁশের ঝোপ। ত্রিপুরী রমণী। দুরন্ত বালক। ঢাকার বন্দী জীবন। বিদেশে একের পর এক সেমিনারে যোগ দেয়া জীবনের বাইরে একটি ত্রিপুরী রমণী, এক দুরন্ত বালক। কম কি? কিছুদূর এগুতে বোঝা গেল, বারো ঘণ্টায়ও এ জার্নি শেষ হবে না। তাই খাবার নিয়ে চিন্তা। তবে সত্যি বলতে কী, মুনতাসীর মামুন ভাইয়ের (অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন) সঙ্গে কয়েকবার ট্রাভেল করে এ আস্থা জন্মেছে, পথের কোন সমস্যার বিষয় নিয়ে না ভাবাই ভাল। ওটা তাঁর দায়িত্ব। যে কোনভাবে তিনি সমাধান করবেন। তাই কখনও ল্যাপটপটি নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা, আর কখনও নেট ওয়ার্ক পেলে কিছু কথা বলা। বিশেষ করে দেশের খবর নেয়ার চেষ্টা, অফিসের খবর নেয়ার চেষ্টার মধ্য দিয়ে সময় কাটতে থাকে।

WatchDog's picture

আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...WD

পূর্বাভাসটা রাতের লোকাল খবরেই জানতে পেরেছিলাম। কিছুটা চিন্তিত হলেও এ নিয়ে আতংকিত হওয়ার তেমন কোন কারণ দেখিনি। আমেরিকার ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্টের আনপ্রেডিকটেবল আবহাওয়ার সাথে চার বছরে কিছুটা হলেও পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপ দাহে চামড়া পুড়ে যেমন B-B-Q হয়, আবার একই চামড়া শীতের প্রচণ্ডতায় ফিরে পায় তার আসল রং, বোনাস হিসাবে যোগ হয় এক ধরণের সোনালী আভা। মধ্য জুনে ৪০-৪২ ডিগ্রী তাপমাত্রার রাজত্ব অনুধাবন করতে চাইলে পাচ মিনিট রাস্তায় হাঁটাহাটি যথেষ্ট। মুখ হতে জিহ্বা বেরিয়ে আসতে চাইবে, বুক হতে হূৎপিণ্ডটা লাফ দিতে চাইবে। ভাগ্যের চাকা সচল রাখতে এসব মেনেই পৃথিবীর এ অংশে জীবন গড়তে হয়। এখানে প্রতিবাদের সুযোগ নেই, প্রতিরোধের উপায় নেই। ফোরকাস্ট ছিল সকালের দিকে প্রচন্ড বাতাস বইবে, সাথে থাকবে অবিরাম তুষারপাত। তবে তা শহরে নয়, পাহাড়ের দিকে। এঞ্জেল ফায়ার তাওসের দিকেই অনুভূত হবে এর তীব্রতা। ওদিকে তুষারপাত মানেই স্থানীয় ব্যবসা বাণিজ্যের জন্যে শুভ সংবাদ। স্কী সিজন এখন। অঙ্গরাজ্যের অনেক শহরের অর্থনৈতিক ভিত্তি স্কী-প্রেমী পর্যটকদের পকেট। গ্রীষ্মে প্রায় জনশূন্য হয়ে পরলেও শীতের আগমনের সাথে জেগে উঠে পাহাড়ের মানুষ। প্রকৃতির বিস্ময়কর প্যানোরমা, সাথে তুলনামূলক সস্তা জীবন স্কী প্রেমিকদের চুম্বকের মত টানে পৃথিবীর এ অঞ্চলে। প্রকৃতির এ নয়ানাভিরাম পরিবর্তন চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

ali.imam's picture

যেতে হবে উেসর সন্ধানে

হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণে গিয়ে আমি আমাদের দেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্যের ইতিহাসের বহু উত্স খুঁজে পেয়েছি। বিখ্যাত বোরোবুদুরের বৌদ্ধ মন্দিরের চত্বরে পরিভ্রমণ করতে গিয়ে আমার উপলব্ধি হয়েছে আমাদের দেশের ইতিহাসের বহু উেসর সন্ধান এখানে রয়েছে। আমাদের পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের স্থাপতিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বোরোবুদুরের মিল একটি অপূর্ব নিদর্শন। প্রাচীন চম্পা নগরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের। বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বঙ্গদেশ থেকে প্রাচীনকালের বণিকরা এ সব অঞ্চলে এসেছিল। এই ভ্রমণ আমার অভিজ্ঞতার দিগন্তকে অনেকটাই বিস্তৃত এবং সমৃদ্ধ করেছে। মনে হয়েছে ইতিহাসের বর্ণাঢ্য অধ্যায়গুলো ক্রমশ যেন ধূসর হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন নিষ্ঠার সঙ্গে গবেষণার। প্রয়োজন নতুনভাবে এই ইতিহাস চর্চাকে প্রযুক্তিতে ধারণ করে সংরক্ষণ করা। আগামী প্রজন্মের কাছে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আমরা যেন উন্মূল না হই। আমরা যেন শেকড় বিচ্ছিন্ন না হই। পৃথিবীর বহু দেশে এখন নিজেদের ঐতিহ্য আর কৃষ্টির উত্সমূলের অনুসন্ধানে ব্যাপৃত রয়েছেন গবেষকরা। এই কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত আবিষ্কৃত হচ্ছে বহুবিধ আকর্ষণীয় তথ্য। এ যেন শেকড় খোঁজার পালা। দর্পণে প্রতিবিম্বিত নিজের মুখকে অবলোকন করা।

WatchDog's picture

পত্নীতলার ডায়েরী...WD

Photobucket দুপুর গড়াতেই শীতের আগমনী বার্তা প্রকৃতির সাথে মানুষের কাছেও পৌছে যায় বিনা নোটিশে। সূর্যটা হেলে পরে পশ্চিম আকাশে, খন্ড খন্ড মেঘ চাদরের মত আকড়ে থাকে দিগন্ত রেখায়। যে দিনের শুরুই হয়নি তাকে বিদায় জানাতে ব্যস্ত হয়ে পরে সীমান্ত পারের মানুষগুলো। পত্নীতলা; উপজেলা শহরের এমন একটা ভূতূরে নাম থাকতে পারে প্রথমটায় শুনে বিশ্বাষ হয়নি। পত্নীতলা, বদলগাছি, ধামইরহাট, এ গুলো নিয়ে বরেন্দ্র এলাকা। উন্নতির ছোয়া বলতে অটোমেটিক কটা রাইস মিল, এ ছাড়া চোখে পরার মত কিছু নেই বল্‌লেই চলে। চারদিকে মাইলের পর মাইল ধান ক্ষেত। সবুজের চোখ ধাঁধানো তরঙ্গ মেলার সাথে খেটে খাওয়া মানুষের বেচে থাকার লড়াই, এ নিয়েই অনুন্নত বরেন্দ্র মানুষের জীবন। রাজশাহী হতে বাসে প্রায় ৮০ কিলোমিটারের জার্নি। অবহেলিত উত্তর বাংলার জীবনকে স্লো মোশনে দেখতে হলে এ জার্নির কোন বিকল্প আছে বলে জানা নেই। প্রকৃতির সাথে মানুষের লড়াই কত বহুমুখী এবং চিরন্তন হতে পারে উত্তর বাংলার জনপদ গুলিকে কাছ হতে না দেখলে বিশ্বাষ করা কষ্টকর। বাসের ভেতরটা খালি রেখে মানুষগুলো কেন যে ছাদের উপর চড়তে ভালবাসে, এর উত্তর খুজে পেতে আজও কষ্ট হয়।

Anik Bin Rashid's picture

চট্টগ্রাম বিভাগের সাতকানিয়া উপজেলার......................

স্যারকে প্রশ্ন করেছিলাম ব্যবসায়ী হিসেবে সাতকানিয়ানরা সফল কেন?স্যার বলেছিলেন ধর,তোমরা পাঁচ বন্ধু মিলে একটি সাতকানিয়ান দোকানদারের নিকট গেছ।দোকানদার তোমাদের পরিচিত।দোকানদার তার কর্মচারীকে হাঁতের ৩টি আঙ্গুল উঁচু করে ধরে বলল পাঁচ কাপ চা নিয়ে আস।কর্মচরী বুঝে নিবে দোকানদার বলছে ৩টি চা কে ৫টি করে নিয়ে আসতে।

কথা বলছিলাম সাতকানিয়ার এক লজিং মাস্টারের সাথে যার বাড়ি চকরিয়ায়।সে বলল মানুষ হিসেবে সাতকানিয়ানরা খুবই খারাপ।আমি যদি লজিং বাড়িতে আমার কোন বন্ধুকে নিয়ে আসি তাহলে তাহলে সাতকানিয়ানরা আমার বন্ধুটির জন্য বাড়তি কোন খাবার সরবরাহ করবে না।এমনকি চাকেও দু’জন মিলে ভাগ করে খেতে হবে।তবে হাঁ আমার বন্ধুটির জন্য একটি খাঁলি চা কাপ সরবরবহ করবে।
সাতকানিয়ান মেহমানদারি বলে একটি কথা বহুল প্রচলিত আছে।ধরুন আপনি সাতকানিয়ার কোন কোন বাড়িতে গেছেন ।আর আপনি টিভি দেখে দেখে বসে আছেন ।চলে আসার কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না,তখন তারা আপনাকে বলবে আজকে থেকে যান,তখন আপনি বলবেন না না।আর তখন ওরা বলবে আজকে মা/বাবা ঘরে নেই।থাকলে আপনাকে যেতে দিতাম না।

Abul.Hayat's picture

সুড়ঙ্গের শেষে কী?

‘সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আলো দেখা যাচ্ছে।’ এই কথাটি আমাদের দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রায়ই শোনা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আলোটি আর আলো থাকে না, হয়ে যায় মরীচিকা।

আমার লেখার বিষয় কিন্তু এটা নয়। কদিন আগে বেগম সাহেবাকে নিয়ে মরু শহর দুবাই গিয়েছিলাম বেড়াতে। প্রথম দিনই ‘সিটি ট্যুর’-এ ঘুরে দেখলাম দুবাই শহরের নানা স্থান। গাইডের কথাগুলো ঘুরেফিরে কানে বাজছে: ‘এখানে একটা খাল ছিল, আমরা সেটা বড় করে ক্রিক (ছোট নদী) তৈরি করেছি।.. আর ওটাও ছিল ছোট নদীর মতো, ওটাকে চওড়া করা হয়েছে।’ ইত্যাদি।

তখনই বারবার মনে পড়ছিল ঢাকা শহরের মরণদশার কথা, অসংখ্য খালের শহর ঢাকাকে কীভাবে আমরা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবর্জনাময় নগরে পরিণত করেছি। ওরা খালকে নদী বানায় আর আমরা নদীকে নর্দমায় করি পরিণত। আর ক্রমে সেটাও বেদখল হয়ে যায়।

এগুলোও কিন্তু আমার আজকের বলার বিষয় নয়। বলতে চাইছিলাম দুবাই শহরের শিনদাঘা সুড়ঙ্গের কথা। দুবাই ক্রিকের তলদেশ দিয়ে চার লেনের একটি সড়কসুড়ঙ্গ এই শিনদাঘা টানেল। দায়রা এবং আল শিনদাঘা এই দুই এলাকাকে যুক্ত করেছে ১৯৭৫-এ নির্মিত এই সুড়ঙ্গ। সেটার যেভাবে বর্ণনা দিচ্ছিলেন গাইড, তাতে যেকোনো পর্যটকেরই মনে হবে বিশাল কিছু একটা এই সুড়ঙ্গ। এটাই বোধ করি পর্যটনব্যবসার ক্যারিশমা।

মরুভূমির জলদস্যু's picture

বস্তা বোঝাই একটি নৌকোর কয়েকটি ছবি

এই বর্ষায় বেস কয়েকবারই গিয়েছি জলভ্রমণে। জলভ্রমণের সময় অনেক ছবি তুলেছি।

নৌকো, নদী পারের গ্রামীণ জীবনই ছিলো মূল উপাদ্য। সেখান থেকে আজকে দেখুন একটি বস্তা বোঝাই নৌকোর কয়েকটি ছবি।

এখানে বলে রাখা ভালো প্রতিটি ছবিই আমি তুলেছি আরেকটি চলন্ত ইঞ্জিন চালিত নৌকো থেকে।

মরুভূমির জলদস্যু's picture

মোমের যাদুঘর (সিদ্ধাগিরি গ্রামজীবন ওআ্যাক্স মিউজিয়াম)

আজ আমরা দেখবো “সিদ্ধাগিরি গ্রামজীবন ওআ্যাক্স মিউজিয়াম” (Siddhagiri Gramjivan Wax Museum)। সারা ভারতবর্ষের মধ্যে এই বিশেষ যাদুঘরটির আলাদা রকম একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এমনই এক বৈশিষ্ট যার দরুন এই যাদুঘরটিকে অন্য সব যাদুঘর থেকে আলাদা করে রেখেছে।