ড. ইউনূসকে অপসারণের আদেশ প্রত্যাহার করুন

প্রধানমন্ত্রীকে ৩৭ লাখ স্বাক্ষর সংবলিত আবেদন
০০ ইত্তেফাক রিপোর্ট
ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে অপসারণের আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল রবিবার ৩৭ লাখ ৭ হাজার ১৭৫ জনের স্বাক্ষরসম্বলিত আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রীর দফতরে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্য, কর্মকর্তা কর্মচারী এবং দেশের সচেতন নাগরিকবৃন্দ এই আবেদন করেছেন। আবেদনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে:আমরা আশা করছি, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থ, গ্রামীণ ব্যাংকের সুরক্ষা এবং বিশ্বে দেশ ও জাতির সম্মান রক্ষার্থে বিষয়টি আপনি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিতে বিবেচনা করবেন। আবেদনে ড. ইউনূসের অপসারণ আদেশকে হয়রানি আখ্যায়িত করে বলা হয় - এতে আমরা দুঃখিত, ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ।

গতকাল রবিবার বিকালে 'বাংলাদেশ ও নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের সম্মান রক্ষা নাগরিক কমিটি'র ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশিষ্ট সাংবাদিক এবিএম মুসা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সভাপতি আসম আব্দুর রব, ডা. জাফরউলস্নাহ চৌধুরী, ড. আসিফ নজরুলসহ গ্রামীণ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে দেশের গৌরব ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক যাতে সকল কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, বিষয়টিকে অনেকে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যেকার একটি ব্যাপার বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আসলে এটি বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপার নয়। এটি মূলত দেশের দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে ক্ষমতালোভীদের দ্বন্দ্ব।

বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে গ্রামীণ ব্যাংক নির্যাতিত কর্মী পরিষদের ব্যানারে পৃথক সভা আয়োজন করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে একটি সাকর্ুলারের কারণে ৮ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে যেতে বাধ্য হন। সেই সাকর্ুলারটি বাতিল করে ৮ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন করা হয়। অবিলম্বে গ্রামীণ ব্যাংকে একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এমডি নিয়োগ দেয়ার দাবি জানানো হয়।

Source: http://ittefaq.com.bd/content/2011/04/04/news0562.htm