সংঘর্ষ ও অচলাবস্থার দুষ্টগ্রহ

sadek.khan's picture

দুর্ভাগা এ দেশের এমনই বিড়ম্বনা, ৪৩তম স্বাধীনতা দিবসে সাধারণ নাগরিকের মনে স্ফূর্তির লক্ষণ দেখা যায়নি। আনুষ্ঠানিকতার আড়ম্বরে অবশ্য কমতি ছিল না। শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাতে শুধু যে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমাগম ঘটেছে তাই নয়, যথারীতি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের বর্ণাঢ্য মিছিলও এসেছে দলে দলে। স্টেডিয়ামে ছিল বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান।

কিন্তু সাধারণ-গৃহী যারা বউ-ছেলেমেয়ে নিয়ে স্মৃতিসৌধে বা অন্যত্র স্বাধীনতা দিবসের মজার ছুটি কাটতে চান তারা অধিকাংশ ঘরে বসে থাকাই নিরাপদ মনে করেছেন। এমনকি ঘরে ঘরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনাও দেখা যায়নি। পতাকা বিক্রেতারা রাস্তায় ছিল না। কারণ স্বাধীনতার প্রায় পুরো মাসটাই ছিল একদিকে হরতালের মাস আর অন্যদিকে হরতালের পিকেট দেখামাত্র লাঠিপেটা, গুলি বা তাড়া করে কাউকে কাউকে ধরতে পেরে কিংবা অজ্ঞাত হাজারো লোকের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে বাধাদান ও দাঙ্গার অভিযোগে গ্যাংকেসের মামলা করে তরুণদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পুলিশের গ্রেফতারবাণিজ্যের মাস। এ বছরের জানুয়ারিতে মন্ত্রিত্ব লাভ করে জামায়াত-শিবিরকে রাস্তায় পেলেই পেটানো এমনকি গুলি করার যে লাইসেন্স পুলিশকে দিয়েছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সেই লাইসেন্সের যথেচ্ছ ব্যবহারও ঘটেছে স্বাধীনতা দিবসে। শিবির কর্মীরা স্বাধীনতার শোভাযাত্রা হিসেবে রাজধানীতে যে মিছিল বের করেছিল, মগবাজারে তার ওপর গুলি চালিয়ে ২১ জনকে আহত করেছে পুলিশ। তার প্রতিবাদে রাজধানীর এখানে-ওখানে শুরু হয়েছে বাস পোড়ানোর হিড়িক। সেটাকে লোকে ধরে নিয়েছে স্বাধীনতা দিবসের পর থেকে একটানা দুই দিন ৩৬ ঘণ্টার হরতালের যে ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট, তারই হুঁশিয়ারির নমুনা কাণ্ড। অবশ্য হরতালের ডাক দিয়ে পাড়ায় পাড়ায় জামায়াত-শিবিরসহ ১৮ দলের যেসব আগাম পিকেটের মিছিল বেরিয়েছিল স্বাধীনতা দিবসে, সেগুলোকে পুলিশ আর তেমন বাধা দেয়নি। যাত্রাশেষে ওইসব পিকেট মিছিল থেকে কোথাও কোথাও ককটেলের বিস্ফোরণ কিংবা রাস্তায় টায়ার জ্বালানোর ঘটনা ঘটেছে। তবে দৃশ্যত তাতে পথরোধ বা নাশকতার কোনো লক্ষ্যবস্তু ছিল না। এরপর দুই দিন দেশের কোথাও না কোথাও সংঘর্ষ, ধর-পাকড়, ট্রেন-বাসে আগুন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সহিংস বাধা ও হতাহতের ঘটনার মধ্য দিয়ে হলেও মোটামুটি কোনো বড় ধরনের বিপত্তি কিংবা পিকেটিংয়ের জবরদস্তি ছাড়াই হরতাল পালিত হয়েছে দেশব্যাপী। হরতালে মানুষের জানমালের ক্ষতির দায় সংসদীয় বিরোধী দলনেতার ওপর চাপিয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলীয় আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন খালেদা জিয়া। ১৮-দলীয় জোটের নেত্রীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন : 'যারা স্বাধীনতা দিবসে বিশ্বাস করে না এবং স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চায়, এ দেশের মাটিতে তাদের ঠাঁই নেই। দেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন। আপনার পেয়ারের পাকিস্তানে আপনি চলে যান।'

অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা খালেদা জিয়া বিরোধী দলের সংবিধানসম্মত আন্দোলন দমনে পুলিশের দ্বারা গণহত্যা ঘটিয়ে একাত্তরের ২৫ মার্চের মতোই 'রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস'-নীতি অবলম্বনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন। ৩৬ ঘণ্টার হরতালের আগে বগুড়ায় পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবার পরিদর্শন ও জনসভা করে বলেছেন_ 'এই সরকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারে না, শান্তি দিতে পারে না। দেশে কোনো বিনিয়োগ নেই। এই খুনি, রক্তপিপাসু, বোবা, অপদার্থ সরকার যত তাড়াতাড়ি বিদায় নেবে দেশের জন্য ততই মঙ্গল। সরকারের সব অপকর্মের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জড়িত। ক্ষমতায় আসার পর থেকে যেসব গুম-খুন-দুর্নীতি করেছেন তার প্রত্যেকটির রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। আপনি কোথায় যাবেন? পৃথিবীর যে প্রান্তেই যান না কেন, আপনাকে খুঁজে বের করা হবে। এসব অপকর্মের জন্য আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে, কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।' 'পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হয়নি। নিহত বিডিআর মহাপরিচালক শাকিলের লন্ডনপ্রবাসী ছেলে জানিয়েছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী ও এমপি তাপস আগেই জানতেন। তাই তিনি আগেই তার কর্মসূচি বাতিল করেন। যারা সেনাবাহিনী কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে বসে প্রধানমন্ত্রী খানাপিনা করেছেন। তাদের সাধারণ ক্ষমা করে দিয়েছেন।'

'পুলিশ বাহিনীকে বলব, এভাবে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। গুলি করবেন না। এসব গণহত্যার জন্য একদিন বর্তমান সরকারকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। বগুড়ায় ৩ মার্চ পুলিশ-জনতার সংঘর্ষকালে সেনাবাহিনী মাঠে নামলেও গুলি চালায়নি। সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সময়মতো তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে।' 'নির্বিচারে নিরীহ মানুষ খুন হলে তারা চেয়ে চেয়ে দেখবে না। কারণ সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বিভিন্ন দেশের শান্তি বজায় রাখতে কাজ করছে। নিজ দেশে শান্তি বজায় না থাকলে তাদেরও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।'

এদিকে শেয়ারবাজার, পদ্মা সেতু, হলমার্ক, রেন্টাল বিদ্যুৎ ইত্যাদি মহা দুর্নীতির পুকুরচুরি আর চাঁদাবাজি, দখলবাণিজ্যের দুঃশাসনের ইতিবৃত্ত চাপা দিতে সরকার বাহাদুর 'শাহবাগ মঞ্চ' নাম দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের 'চেতনা'র পুনর্জাগরণের নামে ভাষার মাস আর স্বাধীনতার মাসজুড়ে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের যে ছদ্ম কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, তাতেও ভাটার টান পড়েছে। স্বাধীনতা দিবসে শাহবাগ প্রজন্মের তৎপরতা সম্পর্কে কিছু বিপক্ষীয় পত্রপত্রিকার রিপোর্ট : 'শাহবাগীদের সমাবেশ বিস্ময়করভাবে ফ্লপ হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী, ক্যাডারদের চাপ থাকা সত্ত্বেও এবং ক্ষমতাসীন বিভিন্ন দলের ছাত্র, যুব সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণসহ বিভিন্ন ইউনিট মিলেও তেমন একটা লোকসমাগম ঘটাতে পারেনি। শাহবাগী ব্লগারদের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে পড়ার পর থেকে মানুষ এখন যে তাদের বর্জন করছেন, এর প্রমাণ জনতা আবারও দিলেন। শাহবাগীদের সব দাবি না মেনে সরকার নজিরবিহীন স্পর্ধা দেখিয়েছে বলে শাহবাগী নেতা ডা. ইমরান এইচ সরকার সমাবেশে দাবি করেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতায় আয়োজিত সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে ইমরানের এই সমালোচনা 'পাতানো খেলা' বলে সমাবেশে হট্টগোল হয়।' সামনে ও পেছনে বিপুলসংখ্যক র্যাব-পুলিশ নিয়ে আয়োজিত সমাবেশে ক্ষমতাসীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সাধারণ মানুষের উপস্থিতি না থাকায় নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে সমাবেশ শুরু হয়। বিকাল ৩টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দর্শক, শ্রোতার উপস্থিতি না থাকায় সন্ধ্যায় শুরু হয়। সমাবেশ শুরু হয় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে। শিল্পীরা গায় 'আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে, এ জীবন পুণ্য কর...।'

ডা. ইমরান বলেন, ২৬ মার্চের মধ্যে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু করার দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। তাতেও সরকারের টনক নড়েনি। জামায়াত-শিবিরের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই তাদের নিষিদ্ধ করা সম্ভব। এ ছাড়া ১৯৯৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং তাদের মিডিয়াগুলো বন্ধ করা যেতে পারে। কিন্তু সরকার এটা না করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছে। আমরা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা একটি যুদ্ধাপরাধীর পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেফতার করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সে দাবিও মানা হয়নি। আমাদের আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদি। এখন নতুন কর্মসূচি : শাহবাগীদের ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৩১ মার্চ সংসদ অভিমুখে মিছিল, ৪ এপ্রিল বিক্ষোভ-মিছিল, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ৫ এপ্রিল শাহবাগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৬ এপ্রিল শাহবাগে বিকাল ৪টায় প্রতিবাদ সভা।

একই মঞ্চে ভিন্নধর্মী বক্তব্য দিয়ে ২০০৬ সালের লগি-বৈঠা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত বাপ্পাদিত্য বসু বলেন : 'সরকার যদি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ না করে, তবে আমরা এ সমাবেশ থেকে জামায়াত-শিবিরের সব প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ ঘোষণা করলাম। এখন থেকে দেশের যে কোনো প্রান্তে জামায়াত-শিবির দেখা মাত্রই গজারি, বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিন। জাগরণের পর্ব শেষ, এখন থেকে প্রতিরোধের পর্ব শুরু হয়েছে। এ সময় মঞ্চে ছিলেন এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার (বীরউত্তম), সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) এ কে এম শফিউল্লাহ, কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান, সৈয়দ কুতুব, এমদাদ হোসেন মতি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাহবুব, মেজর (অব.) জিয়াসহ ৪২ জন মুক্তিযোদ্ধা। এ ছাড়া পূর্ব-নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাত ৮টায় শাহবাগ মোড়ের মঞ্চ থেকে ৪২টি ফানুস ওড়ায় শাহবাগীরা। পাশাপাশি রাজধানীর হাতিরঝিল ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাত ৮টার সময় ফানুস ওড়ানো হয়।'

শাহবাগীদের ঘোষিত ৬ এপ্রিল প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি এসেছে কোন কোন শাহবাগীর ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে জাগ্রত ইসলামী গণচেতনার অরাজনৈতিক একটা অভিভাবক গোষ্ঠী 'হেফাজতে ইসলাম'-এর পূর্ব ঘোষিত 'ঢাকা চলো' কর্মসূচির পাল্টাপাল্টি। সেই ঢাকামুখী লং মার্চে অর্ধকোটি মানুষ অংশগ্রহণ করবে বলে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। লং মার্চে বাধা দিলে ৭ এপ্রিল থেকে লাগাতার হরতালের ঘোষণা দিয়েছেন যুগপৎ চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতারা। ঢাকায় তিনটি জায়গায় মহাসমাবেশের পুলিশ কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়েছে তারা ৬ এপ্রিল। আরও দাবি ঘোষণা করেছেন : আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং কুৎসা রটনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও আদালতে সোপর্দ করা, কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস ও ইসলামবিদ্বেষী ব্লগ বন্ধকরণসহ ১৩ দফা দাবি ৬ এপ্রিলের আগেই বাস্তবায়ন চান হেফাজতে ইসলামের আল্লামা-মাশায়েখ গোষ্ঠী।

ওদিকে ১৮-দলীয় বিরোধী জোটের পক্ষে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ঘোষণা দিয়েছেন, অবিলম্বে গ্রেফতার হওয়া বিএনপি নেতা-কর্মীদের মুক্তি, 'গণহত্যার' অবসান, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও সরকারের পদত্যাগের দাবি পূরণে সরকার ব্যর্থ কিংবা গড়িমসি করলে হরতালের পর একই দাবি সামনে নিয়ে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। এর সব দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।' এমন সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি ও আর্থ-রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান কে ঘটাবে?