২০১২ সালে দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত ও পাকিস্তান উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার অভাব প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। নেপাল এবং শ্রীলঙ্কায় এখনো যথাক্রমে মাওবাদী গণশক্তির নির্বাচনী বিজয়, আর তামিল টাইগার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সামরিক পরাজয়ের জেরে শাসকগোষ্ঠী ও শাসিত জনসমাজের মধ্যে সুসম্পর্কের জানালাগুলো খোলা রয়েছে। ভুটান ধর্মরাজশাসিত, শান্তিপূর্ণ বর্ধিষ্ণু রাজ্য। সেখানে অভিবাসী নেপালি জাতিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শাসকগোষ্ঠীর বিরোধ ও সংঘর্ষ অবস্থানগতভাবেই প্রান্তিক। এমন অনেক প্রান্তিক সংঘর্ষ ভারত জুড়ে বিদ্যমান। তাতে মূলধারার স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়নি। সেটা বিনষ্ট হতে চলেছিল উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতির ব্যাপকতায় এবং সর্বস্তরে আমলাতান্ত্রিক সেলামি আদায়ের জাঁতাকলের নিষ্পেষণে। টিম আন্না হাজারে এমন দুর্নীতিরাজের বিরুদ্ধে গণজাগরণের এক গান্ধীবাদী আন্দোলন গড়ে তুলে প্রস্তাবিত লোকপালের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংশোধনের একটা উপায় উদ্ভাবন করেছিলেন। কিন্তু কায়েমি স্বার্থের জগদ্দল পাথর আর দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির কূটকৌশলী ঘোরপ্যাঁচ এড়িয়ে সেই আন্দোলনের সাফল্যের লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। তবে সামাজিক-রাজনৈতিক বিরুদ্ধতার চাপে মেয়াদ পূর্তির আগেই সাধারণ নির্বাচন ঘোষণার কথা বিবেচনা করছে ক্ষমতাসীন ভারত সরকার।
পাকিস্তানে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি-মাফের কারসাজির বিরুদ্ধে আইনের অস্ত্র ধরেছে সেখানকার সুপ্রিমকোর্ট। আর রাজনৈতিকভাবেও দুর্নীতি এবং মার্কিন মুখাপেক্ষিতার বিরুদ্ধে ক্রিকেটার ইমরান খানের নেতৃত্বে নতুন দলের উত্থান ঘটেছে। তা ছাড়া সামাজিকভাবে অনৈতিকতাসহ বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে একাধিক ইসলামপন্থি দল ও সংগঠন। সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে অস্থিরতার সম্মুখীন ক্ষমতাসীন সরকার।
বাংলাদেশে মূলধারার রাজনীতিতে দুর্বৃত্তের প্রভাব বেড়েই চলেছে। ক্ষমতাসীন সরকার 'রাজনৈতিক কারণে সাজানো মামলা' বলে খুন-সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির নিজদলীয় সর্দারদের অব্যাহতি দিয়ে চলেছে, আর মামলা-হামলায় বিব্রত করে রাখছে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দীর্ঘদিন অভিযোগপত্র না দিয়েই আটক করে রাখছে জামায়াতের বাইরেও শীর্ষস্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাকে। উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতির পুকুরচুরি সমানে চলেছে। তার কিছু আলামত সংগ্রহ করে বিশ্বব্যাংকসহ দাতাগোষ্ঠী বৈদেশিক সাহায্যের ছাড় বন্ধ করে রেখেছে। সরকার অবশ্য দুর্নীতির অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করে চলেছে, দেশের ব্যাংকগুলো থেকে বেপরোয়া টাকা ধার করে সরকার চালাচ্ছে, আর বিকল্প সূত্র থেকে অতি মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিনিয়োগের অর্থ-সংগ্রহের পাঁয়তারা করছে। আর্থ-রাজনৈতিক সংকট একটা বিস্ফোরক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
শ্রীলঙ্কা-নেপাল-ভুটানের মতো ভারত মহাসাগর বক্ষের সুদূর মালদ্বীপ এবং উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমের পার্বত্য দুয়ার আফগানিস্তানকে আমরা এ আলোচনার বাইরে রাখব। মালদ্বীপে একটা অস্থিরতার চাপ সৃষ্টি হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের কারও কারও ধারণা, তার পেছনে প্রধানত বহিঃশক্তির মদদ রয়েছে। ভারতের সামরিক নীতিকৌশল নির্ধারকরা সেখানে একটা ভারতীয় নৌশক্তির ঘাঁটি স্থাপন করতে আগ্রহী। সামাজিক অসন্তোষ সেখানে প্রবল নয়। অন্যদিকে আফগানিস্তানে একক পরাশক্তির নেতৃত্বে ন্যাটো বা উত্তর আটলান্টিক জোট একটা পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে বটে। কিন্তু পশতুনদের বাগে আনতে পারেনি। গোপন তালেবান নেতৃত্বেই সেখানে পুরোদস্তুর চলেছে দখলদার ও সহযোগী সেনা অবস্থানগুলোর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ।
বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানে সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতার ওই লক্ষণগুলোর পাশাপাশি আরেকটি লক্ষণ সাধারণভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই তিন দেশেই সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে কতগুলো দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানে 'মেমোগেট' তথা সামরিক অভ্যুত্থান ঠেকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রার্থনা করে দেওয়া স্বাক্ষরবিহীন একটি চিঠিকে উপলক্ষ করে দ্বন্দ্ব বেধেছে। সেখানে প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী উভয়েই ওই চিঠির সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন। সেনাপ্রধান ও গোয়েন্দাপ্রধান সুপ্রিমকোর্টের মাধ্যমে তদন্ত দাবি করেছেন। সুপ্রিমকোর্ট তদন্ত হাতে নিয়েছেন।
ভারতে সেনাপ্রধান উচ্চ আদালতে গিয়েছেন তার বয়সের ব্যাপারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে। সামরিক নথিতে তার যে বয়স লিপিবদ্ধ তার সঙ্গে প্রতিরক্ষা দফতরে লিপিবদ্ধ বয়সের সামঞ্জস্য সাধনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের রেকর্ডই চূড়ান্ত বলে সেটা মেনে নেওয়ার জন্য চরমপত্র জারি করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে মামলা করেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান। অন্যদিকে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইনের দোহাই দিয়ে সেনাবাহিনী কাশ্মীরে 'ফেক এনকাউন্টার' বা সাজানো সংঘর্ষে নিরীহ ব্যক্তিদের অকারণ হত্যার কয়েকটি ঘটনার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করছিল। ওই রকম সাজানো সংঘর্ষে 'সন্ত্রাসী নিধনের বাহাদুরি' দেখিয়ে প্রমোশন ও পুরস্কার আদায় কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাদের একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। ভারতের সুশীল সমাজের আবেদনে সুপ্রিমকোর্ট সামরিক কর্তৃপক্ষের আপত্তি উপেক্ষা করে ওইসব 'ফেক এনকাউন্টার' তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তা সেনা বিদ্রোহের অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন বলে কথা উঠেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সংবাদমাধ্যমে কিছুদিন ওই অভ্যুত্থান বানচালের দাবি সম্পর্কে বহুল প্রচার হলেও কিভাবে কখন এ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ঘটেছিল, কেন সেটা প্রকাশে বিলম্ব হলো, কিংবা কেনই বা ষড়যন্ত্রকারীদের ইসলামপন্থি বলে সাব্যস্ত করা হলো_ এসব প্রশ্নে অস্বচ্ছতার কথা তুলেছে পাশ্চাত্যের অনেক সংবাদপত্র। সর্বশেষ লন্ডনের দি ইকোনমিস্ট পত্রিকায় এসেছে, ১৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র যেভাবে অভ্যুত্থানটির বিবরণ দিয়েছেন, তা বিরল। তিনি অভ্যুত্থানকারীদের নাম প্রকাশ করেন এবং অন্যদের বিদ্রোহে উস্কানি (ই-মেইল ও ফেসবুকে পোস্টিংয়ের মাধ্যমে) দেওয়ার জন্য তাদের অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা কট্টর ইসলামপন্থি। অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযুক্ত অন্যতম অভিযুক্ত (হংকং প্রবাসী) ইশরাক চৌধুরীর সঙ্গে আলাপ করে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। বর্তমানে বিদেশে আত্দগোপনকারী ইশরাক স্বীকার করেন যে, গ্রেফতার করা ব্যক্তিরা তার বন্ধু। তবে তারা ধর্মান্ধ নয় বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ তার বাড়ি থেকে দামি মদ, ব্র্যান্ডি, হুইস্কি উদ্ধার করেছে, কিন্তু কোনো অস্ত্র নয়। সরকার অভ্যুত্থান চেষ্টার কথা বললেও ওই দাবির সমর্থনে কোনো সৈন্য চলাচল, অস্ত্রশস্ত্র বা অন্য কিছুই দেখাতে পারেনি।
ইশরাক আহমদ উদার পরিবারের সদস্য এবং তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে 'অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে' যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ভারতশাসিত 'বান্টুস্তান'-এ পরিণত করার জন্য যে চোরা অভ্যুত্থান (ক্যু-বাই-স্টেলথ) চালিয়ে যাচ্ছেন, তিনি ও অন্য জাতীয়তাবাদীরা তার বিরোধী।
বস্তুত রাজনৈতিক মেরুকরণ পীড়িত ক্ষমতার লড়াইকে উদ্বেগের চোখে দেখছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। একটা কথা দেশবাসী হাড়ে হাড়ে বুঝেছে যে, গণতন্ত্র মানেই সুশাসন নয়_ আইনের শাসন নয়। দমনমূলক আইন প্রণয়নের অবারিত ক্ষমতা লাভ করে গণতন্ত্র ব্যবহার করেই গণতন্ত্রকে হত্যা করা যায়, আইনের নাম করেই বেআইনি জবরদস্তির পুলিশরাজ কায়েম করা যায়। সাধারণ মানুষের আরও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটের পাল্টাপাল্টি রাজপথ দখলের কর্মসূচি। ৩০ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় বিরোধী দলনেতা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তিন কিলোমিটারব্যাপী সারি সারি ঠাসা মানুষের ক্ষুব্ধ স্লোগানে প্রকম্পিত গণমিছিলে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, 'গুলি চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে এখনই পদত্যাগ করুন। তা না হলে আজকের চেয়ে তিনগুণ মানুষ ঢাকায় এনে আপনাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। ক্যু করে নয়, গণঅভ্যুত্থানে ব্যর্থ সরকারের পতন ঘটাতে হবে।'
গণমিছিলের জোয়ারে একই সময় অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশ ম্লান হয়ে গিয়েছিল। তবে বাগাড়ম্বর আর হুমকি-ধমকি মোটেও কমেনি। বেগম জিয়াকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওই সমাবেশে ঘোষণা দেন, 'সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করলে আওয়ামী লীগ রাজপথে থেকে তার মোকাবিলা করবে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বিএনপিকে আর জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না। ক্যু সৃষ্টি করে অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করা হলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বসে থাকবে না। মধ্য মার্চ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে (তথা বিরোধী জোটের ১২ মার্চ 'ঢাকা চলো' কর্মসূচির প্রস্তুতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি চালু রাখবে)। বাতিলকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনরুদ্ধারের কোনো সুযোগ নেই। কোনো বিকল্প প্রস্তাব থাকলে সংসদে এসে পেশ করতে পারেন।'
এমন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দুই মাস ধরে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা কিভাবে বিনিয়োগকারী আর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি করেছে, শেয়ারবাজারের বেহাল অবস্থাই তার জ্বলন্ত সাক্ষ্য। কোনোমতেই পুঁজিবাজারের ধস ঠেকানো যাচ্ছে না, সূচক নেমে গেছে চার হাজারের নিচে, রেড অ্যালার্টের কোঠায়। সুশীল সমাজ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও আরও অবনতির আশংকা করছেন। সুধীজনরা বলছেন, দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি খুবই উদ্বেগজনক। এতে হিংসাত্দক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। গণতন্ত্র ব্যাহত হবে। এ সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে ভবিষ্যতে দুই দলকেই চরম মূল্য দিতে হবে।

Comments
www.pickmaxshoes.com Discount air max 90 shoes 50%~70% OFF
50% OFF Price ! Free Shipping accept paypal wholesale and retail. Our company supply high quality Cheap Nike Air Max Shoes , UGG Boots , Air Jordan Shoes , Nike Shox Shoes , Nike Basketball Shoes , Asics Onitsuka Tiger , NFL Jerseys and with factory price . We offer high quality, low price, best service and free shiping! We guarantee that seven days of door-to-door!
Web site: http://www.pickmaxshoes.com
Nike Air Max 90 shoes
Nike Air Max 95 shoes
Nike Air Max 87 shoes
Nike air max 2012 shoes
Nike air max 2011 shoes
Nike Air Max 2010 shoes
Nike Air Max 2009 shoes
Nike Air max 90 mix max 2009 shoes
Buy cheap Air Jordan 4 shoes free shipping Accept Paypal wholesale and retail
Buy cheap Air Jordan 5 shoes free shipping Accept Paypal wholesale and retail
Buy cheap Air Jordan 11 shoes free shipping Accept Paypal wholesale and retail
Buy cheap Air Jordan 13 shoes free shipping Accept Paypal wholesale and retail
UGG Bailey Button Triplet Boots 1873 UGG Boots 1873
UGG Classic Short Boot 5825 UGG Boots 5825
UGG Classic Tall 5815 UGG Boots 5815
UGG Bailey Button Boots 5803 UGG Boots 5803
UGG 5251 Kids UGG Boots 5251
UGG Bailey Button 5991 UGG Boots 5991
Nike Shox Shoes
If any questions, please feel free to contact us!
web site: http://www.pickmaxshoes.com
50% OFF Price ! Free Shipping accept paypal wholesale and retail. Our company supply high quality Cheap Nike Air Max Shoes, UGG Boots , Air Jordan Shoes, Nike Shox Shoes , Nike Basketball Shoes, Asics Onitsuka Tiger, factory price. www.pickmaxshoes.com