Religion

Nawjat.Shamdin's picture

নিকাব-দস্তানার ফরমানে গৃহবন্দি মসুলের নারীরা

নারীদের জন্য মসুল নগরী বরাবরই ছিল রক্ষণশীল। সুন্নি চরমন্থীরা এসে শহরটিকে নারীদের জন্য আরো কঠিন করে দিল। এখন নিকাবে মুখ ও দস্তানায় হাত ঢাকা, ঘরের বার হতে হলে সঙ্গে 'মুহরেম' পুরুষ রাখা মেয়েদের জন্য বাধ্যতামূলক। জিহাদিদের নির্দেশ লঙ্ঘন করা যে কত ভয়ংকর তা প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন অন্তত একজন নারী চিকিৎসক।
niqab
১০ আগস্ট দুপুর। একজন বয়স্কা নারী এসেছেন মসুলের এক বিপণিবিতানে। ভারী আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত এক সুন্নি জিহাদি এসে জানতে চাইলেন, তাঁর মুখ কেন নেকাবে আবৃত নয়। 'চেষ্টা তো করেছিলাম, কিন্তু বড্ড দমবন্ধ লাগছিল।' জবাব দিলেন তিনি। শ্মশ্রুমণ্ডিত জিহাদি এবার গলা চড়িয়ে বলেন, 'তবে কি শীতে পরবেন?' এবার বৃদ্ধা রসিকতা করেন, 'আগামী শীতেও কি দাআশ (ইসলামিক স্টেট সংগঠনটিকে ইরাকি আরবরা এ নামে চেনে) মসুলে থাকবে?' যেন তাঁর বিশ্বাস, জঙ্গি এ সংগঠনটির এমন সুদিন ইরাকে বেশি দিন থাকবে না। হিজাবের ক্ষেত্রে মুখ খোলা রেখে চুল-মাথা ঢাকলেই চলে; তবে নেকাবে শুধু দুই চোখ অনাবৃত থাকে। পিঠে ব্যথা। গরমও প্রচণ্ড। তাই এই প্রবীণার পক্ষে নেকাব পরা হয়তো সম্ভবও ছিল না।

Yvonne.Ridley's picture

আইএসআইএসের পেছনে কারা?

ইসলামিক স্টেট, আইএসআইএস, আইএসআইএল বা অন্য যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, এই সংগঠনটি কোথা থেকে এলো, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। আমি বরং সংগঠনটির সহিংস মতাদর্শে ধাঁধায় পড়ে গেছি। বর্তমানে ব্রিটেনে বসবাসকারী বৈচিত্র্যময় মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কিছু বলার ইচ্ছা আমার ছিল না। তবে আমার অনুমান, এই গ্রুপটির নজিরবিহীন উত্থানে উদ্বিগ্ন বেশির ভাগ লোকই আমার বক্তব্য সমর্থন করবেন।
yvonne ridley
অবশ্য ব্রিটিশ মিডিয়ার একটি অংশের উসকানিতে ইসলামাতঙ্কিত, বর্ণবাদী এবং তথাকথিত সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞরা বিদ্বেষমূলক যেসব বিষোদগার করছেন, সেটাও নজিরবিহীন। এতে কোনো ধরনের লাভই হচ্ছে না।

Ershad.Mazumder's picture

মানবজমিন রইল পতিত

মানুষ কী ও কেন? কিভাবে তার সৃষ্টি, কেনই বা তার প্রয়োজন এসব নিয়ে মানুষ ভাবে কি না, এ ব্যাপারে প্রশ্ন আছে। মানুষ কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে তা জানার জন্য বিজ্ঞানমনস্করা অবিরাম গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্য দিকে আল্লাহ, খোদা, গড, ঈশ্বর, ভগবান, ইলোহা বা ইয়াহু আছে কি না, তা নিয়েও বৈজ্ঞানিকেরা ব্যস্ত। জগতে যত ধর্ম আছে সব ধর্মই মানুষের জীবননীতি নিয়েই তৈরি হয়েছে। কেউ বলেন, এই নীতি জগতে এসেছে ঐশী বাণীর মাধ্যমে। আবার অনেকেই বলেন, ধর্মীয় নিয়মনীতি বা সামাজিক নিয়মনীতি মানুষ নিজেই তৈরি করেছে সময়ের প্রয়োজনে। যেভাবেই হোক না কেন, মানুষের জন্যই জগতে নিয়মকানুন তৈরি হয়েছে। কিছু আইন মানুষের তৈরি আর কিছু আইন মানুষের জন্য আল্লাহ পাক তৈরি করেছেন। মতাবানেরা, রাষ্ট্র বা সরকার, নিজেদের মতাকে পাকাপোক্ত করার জন্যও মেজরিটির জোরে আইন তৈরি করে থাকে। যেমন, আমেরিকা কথায় কথায় ভিনদেশ আক্রমণ করার জন্য আইন পাস করে। আর আমেরিকাকে সমর্থন করে কিছু তাঁবেদার দেশ।

শান্তপদ মহাথেরো : মানবতা ও পাণ্ডিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ

গতকাল ছিল শান্তপদ মহাথেরোর ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। বিশ শতকের প্রোপটে বাংলা-ভারত উপমহাদেশের বৌদ্ধধর্মের থেরোবাদী আদর্শের অন্যতম পথিকৃৎ, মানবতাবাদী ও শান্তির অগ্রদূত ছিলেন শান্তপদ মহাথেরো। বৌদ্ধ পুনর্জাগরণে সদা নিবেদিত এ কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব জাতির কৃষ্টি, সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে। সমকালীন বৌদ্ধসমাজের মহামেরুতে তার অবস্থান ছিল অতি শীর্ষে। এ মহাপ্রাণ আজ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তার অমর সৃষ্টি, বিমল আদর্শ ও কর্ম-অবদান চিরভাস্বর হয়ে আছে অবিভক্ত বঙ্গের জনমানসে। সমাজের ঐক্য, শান্তি ও সংহতি স্থাপনে তার ভূমিকা ছিল অসাধারণ। আজ মহাপ্রয়াণ দিবসে তার জীবন দর্শন, মহানুভবতা এবং অবদানকে স্মরণ করছি। তার বিশাল কর্মময় জীবনের সবকিছু তুলে ধরা সম্ভবপর না হলেও উল্লেযোগ্য কিছু ঘটনাকে তুলে ধরে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।
Buddha
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার (বর্তমানে লোহাগড়া) অন্তর্গত চেঁদিরপুনি গ্রামের এক বর্ধিষ্ণু ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারে শান্তপদ মহাথেরোর জন্ম। জন্মতিথি ২৭ ফাল্গুন, ১৯১৪ সন। তার বাবা পীতাম্বর বড়–য়া, আর মা ভারতেশ্বরী বড়–য়া ছিলেন ধার্মিক ও শিানুরাগী। তার শিশুনাম ছিল সুশান্ত। বাবা-মার ধর্মীয় আদর্শ ও প্রভাবেই তিনি বেড়ে উঠেছিলেন শৈশব থেকেই। সেই কিশোর শান্তপদ ১৪ বছর বয়সে শ্রামণ্যধর্মে এবং ১৯৩৫ সালে ভিু-উপসম্পদা লাভের পর নিজেকে নিয়োজিত রাখেন ধর্ম ও সমাজ সংস্কারের কাজে।

Mobaidur Rahman's picture

মুসলিম জাহানের দেশে দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবাঞ্ছিত সামরিক হস্তক্ষেপ

আমেরিকার কোনো কথায় আর বিশ্বাস করা উচিত হবে না। বিশেষ করে মুসলমানদের ক্ষেত্রে তাদের কথার কোনোই দাম নেই। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কথা দিয়েছিলেন, ২০১১ সালে ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে। হয়েছিলও তাই। খুব বড় গলায় আমেরিকা বলেছিল, তারা ইরাকি জনগণকে দিয়ে ইরাকে সামরিক বাহিনী গঠন করে দিয়েছে। তাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এখন তারাই বিদ্রোহীদের সামাল দেবে। যদিও মার্কিনিদের বিশ্বাস করা যায় না, তবুও মানুষ ফেসভ্যালু হিসেবে ওবামার কথা বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু মুসলমানদের ক্ষেত্রে তার কোনো কথা বা ওয়াদা তিনি রক্ষা করেননি।
obama
প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি মিসরে আসেন এবং মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার সমাধান হিসেবে ‘টু স্টেট থিওরি’ বা দুই রাষ্ট্র তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। দুই রাষ্ট্র তত্ত্বের অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে দুটি রাষ্ট্র থাকবে। একটি হলো ইসরাইল, আরেকটি হলো ফিলিস্তিন। ইসরাইল রাষ্ট্র তো বহাল তবিয়তেই আছে।

ইনামুল হাফিজ লতিফী's picture

বিজেপি, বাংলাদেশ, ইসলাম এবং ভারতীয় মুসলিম

ভারতের বিজেপি এর কিছু সাংসদ সদস্য এর ফেইসবুক ফলোয়ার আমি অনেকদিন ধরেই, স্বাভাবিকভাবেই জানার আগ্রহ ছিল নতুন সরকারের আচরণ কেমন হয়। তো প্রতিদিন নিউজ ফিডে আসছে একেকজনের একেক কথা, প্রতিদিনই এদের টিম নিয়ম করে বাংলাদেশ, ইসলাম, ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, ভারতীয় মুসলিম নিয়ে পোস্ট দেয় এবং বলার অপেক্ষা রাখে না সবগুলোতেই তারা উপরে বলা স্বত্তাগুলোর উপর খুব গরম-গরম মিথ্যাচার করে।bjp.jpg

ঈদ ২০১৪: বিচ্ছিন্ন কিছু ভাবনা - জাকারিয়া স্বপন

আজ বাংলাদেশে ঈদ শেষ হয়ে গেল। এখন যদিও ঘড়ির কাঁটায় ৩০ জুলাই শুরু হয়ে গেছে, তবুই "আজ" বললাম ঈদের রেশটুকু যেন সেন্ট মার্টিনের ফ্রেশ বাতাসের মতো প্রাণের ভেতর আটকে থাকে। ঢাকার জীবনে ফ্রেশ বলে কিছু নেই। বাতাস থেকে শুরু করে খাবার পর্যন্ত কোথাও ফ্রেশ নেই। হয়তো মানুষের বেলাতেও সেটা সত্যি। ফ্রেশ মানুষ থাকলে, ফ্রেশ বিষয়াদিও হয়তো থাকতো।

আমার শরীরটা ভালো না। টনসিল ব্যাথা। কাল রাতে আবার জ্বরও এলো। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মুখ তিতা হয়ে আছে। শরীর চালানো মুশকিল। দুপুর নাগাদ খাওয়ার জন্য একটু বের হওয়া হলো। তারপর বিছানায় শুয়ে একটু বিশ্রাম নেয়ার চেষ্টা। আমেরিকা থেকে খুব বন্ধুরা এসেছে। তাদেরকে দেখতে গেলাম। তারপর রাতে ডিনার করে বাসায় এসে এই লিখতে বসা। ব্যাস, সাদামাটা ঈদ শেষ। কিন্তু এই অল্প সময়ে কিছু জিনিস মাথায় ঢুকেছে। ভাবলাম একটু লিখে রাখি। পরের বার হয়তো আর লেখার সুযোগ নাও পেতে পারি।

Golam.Mortoza's picture

আজান এবং মধ্যরাতের ডাকাডাকি

Mosque

ভোরে ঘুম ভাঙ্গতো বকুল ফুলের গন্ধে, আর দূর থেকে ভেসে আসা মাইকবিহীন আজানের ধ্বনি -সত্যিই বিশ্ময়কর ছিল ' আজানের সুমধুর ধ্বনি '! কান পাতলে এখনো অনুভব করি গ্রামের মসজিদের সেই আজানের ধ্বনি, বকুল ফুলের সেই গন্ধ এখনও অম্লান!!

Masud.Majumder's picture

মুক্তি নয় তো মৃত্যু

Gazaজানবাজ হওয়া ছাড়া ফিলিস্তিনিদের আর কী করার ছিল বা আছে! নিজ ভূমে তারা অবরুদ্ধ, পরাধীন। টানা অবরোধ তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। অবরুদ্ধ অবস্থায় ঘরে বসে মৃত্যুর চেয়ে শেষ লড়াইটুকু করে শহীদ হওয়া অনেক বেশি শ্রেয়। সব বিবেচনায় ফিলিস্তিনিদের সামনে একটা পথই খোলা আছে; স্বাধীনতা, নয়তো মৃত্যু। সম্ভবত এ কারণেই তারা জেনে বুঝে মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছে। এ মিছিল শুরু হয়েছে ১৯৪৮ সাল থেকে। টানা ৬৬ বছর ধরে তারা অঘোষিত বন্দী জীবনযাপন করছে।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন's picture

জীবনের শুদ্ধতায় রমজান

Ramadan.jpg
পবিত্র মাহে রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনা মানব জীবনে শুদ্ধতা লাভের সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। মহত্তর চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন ও সত্যবোধকে জাগ্রত করার জন্য সংযম ও কৃচ্ছেন্সর ভূমিকা ব্যাপক। সাওম মানে বিরত থাকা। কুকর্ম, কুচিন্তা ও ইন্দ্রিয় পরিচর্যা পরিহার করে সংযমী হওয়াই রোজার শিক্ষা। রমজানের শাব্দিক অর্থ দগ্ধ করা। সিয়াম সাধনার উত্তাপে; ধৈর্যের অগ্নিদহনে মুসলমানমাত্রই এ মাসে কুপ্রবৃত্তিকে দগ্ধ করে শুদ্ধ পরিশোধিত মানুষে পরিণত হয়। তাই রমজানুল মুবারক দৈহিক, আত্মিক, নৈতিক ও সামাজিক পরিশুদ্ধির প্রশিক্ষণের মাস। দিনে রোজা ও রাতে ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ দেহ-মনকে পরিশুদ্ধ করতে পারে এ রমজান মাসে। পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধতার জন্য সিয়াম পালিত হয়ে থাকে। সিয়াম পালিত হয় চিত্তশুদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা, সত্যবোধ জাগ্রত রাখা, পার্থিব আকাঙ্ক্ষাকে নিবৃত্ত রাখা, বিনয় ও নম্রতা প্রতিষ্ঠা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যরে চেতনা উজ্জীবন সর্বোপরি মহান প্রভু আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য।

Syndicate content