সম্প্র্রতি পরিকল্পিতভাবে হজরত মুহাম্মদকে (স.) ব্যঙ্গ, কটূক্তি ও উপহাস করে বক্তব্য প্রদান, নাটক প্রচার ও ইসলামী শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পর্দার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। ইসলাম ও মহানবী (সা.) ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসা, ইসলামী ঐতিহ্য-সভ্যতা ও নিদর্শন নিয়ে যেভাবে ঠাট্টা-বিদ্রূপ শুরু হয়েছে, তাতে দেশের সাধারণ মুসলমান শঙ্কিত। এতে হৃদয় রক্তাক্ত হয়েছে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কোটি কোটি মুমিনের হৃদয়। এসব মন্তব্য অতি পুরনো ও বস্তাপচা, ইবলিশের শেখানো বুলি মাত্র। অসুর তাড়িত অসূয়ার চিন্তার ফসল। যুগে যুগে মনীষীরা এর দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন। এসব কথা যারা বলে ও বিশ্বাস করে তারা চরম সাম্প্রদায়িক, আজন্ম অন্ধ ও সাংঘাতিক ভণ্ড। সাম্প্রদায়িকতাদুষ্ট এ অসুস্থ প্রবণতাকে রোধ করা না গেলে আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে আইন প্রণয়ন করে ধর্ম অবমাননা বন্ধ করা আশু প্রয়োজন। ১৬ কোটি নবীপ্রেমিক মুসলমানের প্রিয় মাতৃভূমিতে হজরত মুহাম্মদের (স.) শানে যারা বারবার বেয়াদবি করে যাচ্ছে, তাদের যদি আমরা বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করতে ব্যর্থ হই তাহলে পুরো জাতির ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ব্যাপক গজব ও ভয়াবহ শাস্তি নেমে আসবে। কোনো দুর্ভাগা ব্যক্তি যখন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসুলের সঙ্গে ঠাট্টা, মস্করা ও উপহাস করে তখন সে কৃতঘ্ন ও বেআদবকে শাস্তি দিতে তিনি এক মুহূর্ত বিলম্ব করেন না। ইতিহাসে তাঁর দৃষ্টান্ত ভূরি ভূরি। যে দেশে কোনো রাজনৈতিক নেতা নিয়ে অশালীন মন্তব্য করলে জেলে যেতে হয়, দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়, সে দেশে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদকে (স.) নিয়ে কটূক্তি করে পার পেয়ে যাবে—সেটা হয় না এবং হতে পারে না।
Religion
মহানবী (সা.)-এর প্রতি কটূক্তি কোটি মুমিনের হৃদয় ক্ষুব্ধ রক্তাক্ত
Fri, 27/04/2012 - 10:14am | by ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
কার্ল মার্ক্স: জীবন ও দর্শন নিয়ে কিছু কথা
Fri, 20/04/2012 - 4:04pm | by Pramanik Jalal Uddin‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ শ্লোগানে যিনি শোষিত-বঞ্চিত মেহনতি মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকারের বিষয়ে সচেতন করতে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন, তিনি হলেন উনবিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত জার্মান চিন্তাবিদ, দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা কার্ল মার্ক্স। তার পুরো নাম কার্ল হাইনরিশ মার্ক্স (Karl Heinrich Marx)। তিনি ১৮১৮ সালের ৫ ই মে তৎকালীন প্রাশিয়ার ত্রিভস শহরে সচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৮৮৩ সালে চরম অর্থকষ্টের মধ্যে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বাবা হার্শেল মার্ক্স পেষায় আইনজীবী ছিলেন। তার পূর্বপুরুষ যদিও ইহুদি ধর্মাবলম্বী ছিলেন, কিন্তু মার্ক্স জন্মাবার পরে তার পরিবার খ্রিষ্টান (প্রটেস্টান্ট) ধর্মে দীক্ষিত হয়। ছোট বেলা থেকে মার্ক্স ভালো ছাত্র হিসাবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন একজন স্বভাব কবি। তিনি বন ও বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন, দর্শন এবং ইতিহাসের পাঠ গ্রহণ করেন এবং ১৮৪১ সালে তিনি ইউনিভারসিটি অফ জেনা থেকে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি রাইনল্যান্ডের যুবকদের দ্বারা পরিচালিত ‘রাইন অঞ্চলের সংবাদ পত্র’ নামক পত্রিকায় যোগ দেন এবং ১৮৪২ সালে তার সম্পাদক নিযুক্ত হন। সম্পাদক হিসাবে যোগ দেয়ার পর থেকেই ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে কাগজটির প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন সরকার পত্রিকাটি বন্ধ করে দেন। এই সময় মার্ক্স অর্থশাস্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং তার পাঠ নেওয়া শুরু করেন।

সম-সাময়িক জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ধর্ম ও ভাষার প্রভাব-(শেষ পর্ব)
Sat, 14/04/2012 - 3:49pm | by Pramanik Jalal Uddinজাতীয়তাবাদের উপাদানগুলির মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা প্রতিযোগিতা অনেক সময় স্বাভাবিক ও স্বতঃফুর্ত নিয়মে জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে। আবার কখনো কখনো শাসক গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দল কোন এক বা একাধিক উপাদানের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করে উপাদানগুলোকে বাইরে থেকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে পরে। বিভিন্ন সময়ে শাসকগোষ্ঠীরা কোন একটি জাতীর নিজস্ব পরিচয় বদলে ভিন্ন পরিচয় দেয়ার চেষ্টা করেছে। সেখানে কিছু শাসকগোষ্ঠীর কোন কোন প্রচেষ্টা হয়তো সফল হয়েছে, কিন্তু তা বেশী দিন স্থায়ী ও কার্যকর হয় নি। প্রাচীন কাল হতে অদ্যবধি জাতীয়তা বোধ বা জাতিসত্তার প্রশ্নে শাসকগোষ্ঠীরা চাপ বা শক্তি প্রয়োগ করে এসেছে বা আসছে। বিশেষ করে জাতীয়তার ক্ষেত্রে এমন চাপের সমস্যাটি আরো বেশী প্রবল আকার ধারণ করে যেখানে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা অনুপস্থিত বা উপস্থিত থাকলেও তা দুর্বল ও অকার্যকর ।
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ’৭২ সালের জনপ্রতিনিধি প্রণীত সংবিধানে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা বা ঐক্যের বদলে যে ভাষাভিত্তিক বাঙালী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হয়, তা অল্প কিছুদিনের মধ্যে পূর্বের ধর্মীয় পরিচয়ের জায়গায় ফিরে আসে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে। বিষয়টি যে শুধু নেহায়েত সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া ছিল তা কিন্তু নয়। এটা ছিল ভাষা-কেন্দ্রিক বাঙালী জাতীর পরিচয় নতুন করে বদলে নেওয়ার প্রক্রিয়া। তৎকালীন শাসকগণ কতৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জাতিসত্তার মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। সংবিধানের মূলনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়।

অভিপ্রায়: নৈতিক বিচারের মানদণ্ড
Sat, 14/04/2012 - 3:43pm | by Pramanik Jalal Uddinনীতিশাস্ত্র হল এমন এক বিদ্যা বা শাস্ত্র যা মানুষের আচরণের মঙ্গল-অমঙ্গল, ভাল-মন্দ, উচিত-অনুচিত ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। অর্থাৎ নীতিবিদ্যার কাজ হল মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ, উচিত-অনুচিতের বিচার করা। সমাজবদ্ধ জীব হিসাবে মানুষের আচরণের নৈতিকতার দিকটির যথাযথ মূল্যায়ন করা শাস্ত্রটির প্রধান লক্ষ্য। একটি নৈতিক আদর্শ বা মানদণ্ডের আলোকে মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য নির্ধারণ করা এর প্রধান কাজ।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মানুষের ঐচ্ছিক আচরণেরই কেবলমাত্র নৈতিক বিচার করা সম্ভব, কোন বাধ্যতামূলক আচরণের নৈতিক বিচার করা যায় না। কেননা, যে কাজ মানুষ তার নিজ ইচ্ছা বা মর্জিতে করে তার জন্য সে অবশ্যই দায়ী থাকে। কিন্তু যে কাজ তার নিজ ইচ্ছার বিরুদ্ধে করে বা করতে বাধ্য হয় তার জন্য তাকে দায়ী করা যায় না। যেমন: যখন কোন সৈনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রু-সেনাকে হত্যা করে তার জন্য তাকে নৈতিক দিক দিয়ে তাকে দায়ী করা যায় না। কাজটি তার নিজের ইচ্ছায় সংগঠিত হয় নি বরং তা তার নিজ সেনাধ্যক্ষের নির্দেশে করতে সৈনিকটি বাধ্য হয়। এমন কাজের নৈতিকতা বিচার অবান্তর।
পবিত্র কুরআনের তাফসির এখন ইন্টারনেটে সম্পূর্ন বাংলায় !
Mon, 09/04/2012 - 12:51am | by emahmudবিশ্ব সভ্যতায় আল কুরআনের অবদান কতটুকো বিচক্ষন পাঠক মাত্রই বিষয়টি উপলদ্ধি করে থাকবেন, ধরনীর এমন একটি জনপদ নেই যেখানে এই মহান গ্রন্থের কোন না কোন কল্যানকর প্রভাব নেই, হাদিস শরিফে বর্নিত হয়েছে আল কুরআনের একটি অক্ষর কেহ যদি তেলাওয়াত করে তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর নির্দেশে সেই মুসলিম এর আমলনামায় ফেরেস্তাগন দশটি নেকি লিখে দেন ! অন্য একটি হাদিসে আছে কেহ যদি পবিত্র কুরআনের মর্মবানী উপলদ্ধি করার জন্য রাতে কিছুক্ষন আল কুরআন গবেষনা করে তাহলে তার আমলনামায় সারারাত এবাদত করার সমপরিমান নেকি ফেরেস্তাগন লিখে দেন। এই হাদিস দ্ধারা প্রতিয়মান হয় কেহ যদি শুধু তেলাওয়াত করে তার চেয়ে সেই মুসলিম এর মর্যাদা মহান রবের নিকট অনেক বেশি যে মুসলিম কুরআনের মর্মবানী উপলদ্ধি করার জন্য সচেষ্ট হয়। সম্মানিত ব্লগারগন এবার চিন্তা করুন কেহ যদি একটি আয়াত তেলাওয়াত করে অতপর তার মর্মবানী উপলদ্ধি করার জন্য এর ব্যক্ষা অর্থাৎ তাফসির পড়ে তারপর সেই মোতাবেক আমল করে তাহলে তার মর্যাদা আল্লাহর নিকট কত উপরে বিষয়টি উপলদ্ধি করার জন্য আর ব্যক্ষা বিশ্লেসনের প্রয়োজন আছে কি ? অনেকেরই ধারনা কুরআনের মর্মবানী অনুধাবন করা সাধারন মানুষের জন্য তেমন একটা জরুরী নয় এবাদত বন্দেগী করার জন্য কিছু জরুরী মাসআলা মাসায়েল এবং নামাজ আদায় করার জন্য কয়েকটি সুরা মুখস্ত করে নিলেই চলবে। একথা বলার অবকাশ কোথায় ?

সম-সাময়িক জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ধর্ম ও ভাষার প্রভাব-২
Sun, 01/04/2012 - 3:51pm | by Pramanik Jalal Uddinজাতীয়তাবাদের উপাদানগুলি এক-একটি ভিন্ন হলেও যখন তারা একে অন্যের উপর প্রাধান্য লাভের উদ্দেশ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হয় তখন জাতীয়তার কোন একটি উপাদান অতি শক্তিশালী হয়ে অন্য এক বা একাধিক উপাদানকে প্রভাবিত করতে শুরু করে এবং শেষে তা বিজয়ী হয়ে অন্য উপাদানগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।
উনিশশো সাতচল্লিশে দেশভাগের ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদের যে উপাদানটি পরিশেষে বিজয়ী হয় তা হল ধর্ম। যদি কোন একটি অঞ্চলের বেশীরভাগ মনুষের ধর্মগত ঐক্য থাকে তাহলে তারা পরস্পরকে এক ও অভিন্ন ভাবতে শুরু করে এবং এ ভাবণাটিকে যদি তারা ঐকান্তিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে তারা একদিন স্বাধীন জাতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। তৎকালীন ভারত-পাকিস্তান বিভাজণে রক্ত-বংশ, ভাষা, পারস্পরিক নৈকট্য ইত্যাদি যত না জণসাধারণকে প্রভাবিত করেছিল তার চেয়ে বেশী প্রভাবিত করেছিল জাতীয়তার অন্যতম সক্রিয় উপাদান বেশীরভাগ মানুষের ধর্ম।

সম-সাময়িক জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ধর্ম ও ভাষার প্রভাব-১
Sun, 25/03/2012 - 2:36pm | by Pramanik Jalal Uddinসাধারণভাবে জাতীয়তাবাদ বলতে এমন এক ধারণা বা পরিচয়কে বোঝায় যা একটা জনগোষ্ঠী ভিন্ন কোন জনগোষ্ঠী থেকে তারা তাদের পৃথক করে বা ভাবে। জাতীয়তাবাদের উপাদান অনেক। তার মধ্যে রক্ত বা বংশ, ধর্ম, ভাষা ইত্যাদি এক একটি অঞ্চলের মানুষকে একই সুতায় বেঁধেছে। জাতীয়তাবোধের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষ তাদের পরস্পরকে এক ও অভিন্ন ভাবতে শেখে।
যখন বিশ্বের কোন অঞ্চলের বেশীরভাগ মানুষ নিজেদের জাতীসত্ত্বার পরিচয়ে বলিয়ান হয়ে মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে তখন তারা এক স্বাধীন সত্ত্বায় পরিনত হয়েছে। যেমনটি হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। তৎকালীন বৃটিশ ভারতে স্বাধিকারের যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তা ছিল বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ধর্ম প্রভাবিত। যদিও আন্দোলনের প্রথম ভাগে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের একটা ভূমিকা ছিলো কিন্তু তার অসহযোগ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত পরিনতি লাভ করে ’দ্বি-জাতী তত্তে’¡ এবং তারই ভিত্তিতে ভারত, পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এ দুটি রাষ্ট্রের মানুষের ভাষাগত সাদৃশ্য তেমন ছিল না, ছিল বেশীরভাগ মানুষের ধর্মগত মিল। বিশেষ করে সাতচল্লিশের দেশ বিভাগে জাতীয়তাবাদের ধর্মীয় উপাদানটি অনেক বেশী সক্রিয় ছিল এবং তা প্রধান ভূমিকা পালন করে।

ভাষার মাসে ‘ভাষা-সংস্কার’: প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
Tue, 28/02/2012 - 5:08pm | by Pramanik Jalal Uddinভাষা যে বিষয়টির সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত তা হল চিন্তা। ভাষার মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের চিন্তাকে প্রকাশ করি। এ ক্ষেত্রে চিন্তা ভাষার পূর্বগামী। আমরা আমাদের চিন্তাকে প্রকাশ করার জন্য যে যে ভাষার সাহায্য গ্রহণ করি তা যদি ভালভাবে প্রয়োগ করতে পারি তবেই আমাদের পক্ষে সঠিক চিন্তার প্রকাশ ঘটানোর সম্ভব। আমরা যখন চিন্তা, কল্পণা বা অন্য কিছু করি বা ভাবি তখন তা ভাষার দিয়েই করি বা ভাবি। অর্থাৎ চিন্তা প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম।
আমরা সাধারণতঃ মা-বাবার ভাষাতেই আমাদের চিন্তাকে সহজ, সঠিক ও সুচারুরূপে প্রয়োগ করতে পারি, অন্য যে কোন বি-জাতীয় ভাষায় তা পারি না। কারণ বহুবিধ। মা-বাবার ভাষা-সান্নিধ্যে থেকে-থেকে আমরা অনেকটা অজ্ঞাতসারে তাদের ভাষা শিখে ফেলি সহজেই। বি-জাতীয় ভাষা শিখতে হয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোন শিক্ষা বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানে। শেখাটা যে সহজসাধ্য কাজ নয় তা ভূক্তভোগীরা জানেন। আমরা যদি আমাদের চিন্তাগুলোর প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে ভাষাকে বিবেচনা করি তাহলে তা আমাদের মা-বাবার ভাষাতেই হওয়া জরুরী। কারণ তা জানতে ও শিখতে বহু শ্রম খরচ করতে হয় না। তাহলে আমরা এক্ষেত্রে জোর দিয়ে বলতে পারি, মা-বাবার ভাষার মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের চিন্তাকে সহজে প্রকাশ করতে পারি এবং তা সহজলভ্য।

রাজনীতি ও ধর্ম
Sun, 12/02/2012 - 11:57am | by Ataur.Rahmanরাজনীতি ও ধর্ম এক নয়, পরস্পর সম্পূরক নয়। রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে না মেলানোই ভালো। ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসকেরা এই দেশের বাঙালিদের ওপর ইতিহাসের নির্মমতম হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার চালিয়েছিল, লাখো নারীর সম্ভ্রম লুটে নিয়েছিল। পাকিস্তানি প্রশাসন ভ্রান্তভাবে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করেছিল। তারা মনে করত যে বাঙালিরা মুসলমান নয় অথবা খারাপ মুসলমান এবং হিন্দু-ঘেঁষা একটি জাতি। এই বিষয়টি পাকিস্তানি প্রশাসন তাদের সশস্ত্রবাহিনীর জওয়ানদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল এবং তারা মনে করত বাঙালি মারলে সওয়াবের কাজ হবে। অথচ, পূর্ববঙ্গে আবহমানকাল ধরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা বসবাস করে আসছে। বাঙালিদের একটিই দোষ ছিল পাকিস্তানিদের চোখে, তা হল বাঙালিরা অসাম্প্রদায়িক একটি জাতি। বাংলাদেশে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও এই ভূখণ্ডে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বড় ও ছোট সব জাতিসত্তার মানুষেরা বহু যুগ ধরে শান্তিতে সহ-অবস্থান করে আসছে। কিছুদিন আগে আমি ইন্দোনেশিয়ার ওপর একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র দেখছিলাম। দেশটির সামগ্রিক পরিচয় তুলে ধরা হয়েছিল সেই চলচ্চিত্রে। একটি অনুষ্ঠানে এই প্রদর্শনী হচ্ছিল।

আইন, ধর্ম ও নৈতিকতা: প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
Sat, 11/02/2012 - 6:12pm | by Pramanik Jalal Uddinআইন, ধর্ম ও নৈতিকতা সম্পর্কে কিছু বলার আগে আমাদের একটু অনুসন্ধান করে দেখা উচিত, এদের কোনটি কার পূর্বে এসেছে। এখানে আমরা বিনা দ্বন্দে স্বীকার করতে পারি, আইন নিঃসন্দেহে ধর্ম ও নৈতিকতার পরে প্রচলিত হয়েছে। তাহলে এখন দ্বন্দ থাকলো, ধর্ম ও নৈতিকতা- কার পূর্বে কার আবির্ভাবগত অবস্থান?
সমস্যাটা বেশ জটিল। তর্কটা বেশ জোরালো। এ তর্ক কিছুটা ‘ডিম আগে না মুরগী আগে’ তার মত। তর্ক যেন কিছুতেই ফুরাতে চায় না। ধর্ম নৈতিকতার আগে এসেছে এর পক্ষে যেমন ভুরি-ভুরি যুক্তি আছে তেমনি নৈতিকতার আবির্ভার হয়েছে ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হবার বহু আগে এ মতেরও সমর্থণ জোরালো।
ধর্মের পক্ষে যারা তাদের মতে, সৃষ্টিকর্তা প্রথমে শুন্য থেকে জগৎ সৃষ্টি করেছেন, জগতে তার উপাসনার জন্য বান্দাদের (মানুষ) সৃষ্টি করেছেন এবং বান্দাদের মধ্যে তার প্রেরিত পূরুষ কতৃক সৃষ্টিকর্তার বানী অর্থাৎ অহীর মাধ্যমে পাপ-পূন্যের ধারণা দিয়েছেন। পরবর্তিতে ধর্মের পাপ-পূন্যের ধারণা থেকেই ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ধারণা উদ্ভব। অর্থাৎ এ মতের মূল কথা হলো সৃষ্টিকর্তা জগৎ সৃষ্টি করে কিছু নিয়ম পালন করার কথা বলেছেন এবং কিছু কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। এ যে বিরত থাকতে বলেছেন এবং কিছু নিয়ম পালন করতে বলেছেন-এ থেকেই পরবর্তিতে ভাল-মন্দ, উচিত-অনুচিতের উদ্ভব ঘটেছে। অর্থাৎ নৈতিকতার জন্ম হয়েছে ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা থেকে। তোমার এ কাজটা ধর্মসম্মত অর্থাৎ তা ভাল এবং করা উচিত এবং তোমার এ কাজটা করা ধর্মের নিয়ম বিরুদ্ধ তাই এটি মন্দ এবং তা পরিহার করা উচিত। সোজা কথা হলো এ মতে ধর্মীয় বিধি-বিধান থেকে যাবতীয় কিছুর উদ্ভব হয়েছে। নৈতিকতার আলাদা কোর স্থান নাই বরং তা ধর্মের পূর্বগামী নয় অনুগামী।
Recent comments
19 min 49 sec ago
20 min 18 sec ago
20 min 59 sec ago
21 min 15 sec ago
22 min 31 sec ago
25 min 13 sec ago
26 min 8 sec ago
26 min 29 sec ago
26 min 54 sec ago
27 min 41 sec ago