Politics

Ibne.Golam.Samad's picture

উন্নয়ন ও উদার গণতন্ত্র পরস্পরবিরোধী নয়

সারা বিশ্বে বাম আন্দোলনে ধস নেমেছে; কিন্তু বাংলাদেশে বাম চিন্তার এখনো বেশ কিছুটা সতেজ প্রবাহ বিদ্যমান থাকতে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে কিছু কথিত বাম বুদ্ধিজীবী বোঝাতে চাচ্ছেন উদার গণতন্ত্র একটা বুর্জুয়া ব্যাপার। এর মাধ্যমে দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এক দলের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর এই এক নেতৃত্বে হতে হবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এই দলটিকে হতে হবে শ্রেণিসংগ্রামের দর্শনে আস্থাশীল।
ghjhgjgh
সারা বিশ্বে এখন শ্রেণিসংগ্রামবাদী বাম চিন্তার আবেদন আগের মতো হয়ে নেই। ১৯৯১ সালে ভেঙে পড়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর চীন এখন অনুসরণ করছে বাজার অর্থনীতি। খোদ রাশিয়ায় মানুষ এখন চাচ্ছে বহুদলীয় উদার গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা। অন্য দিকে চীনে কম্যুনিস্টরা মতায় থাকলেও দেশটাতে এখন চেষ্টা চলেছে বেশ কিছুটা ধনতান্ত্রিক উপায়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার। চীনের এই নীতি অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশ কিছুুটা সহায়ক হতে পেরেছে বলেই মনে হয়। তবে চীনেও ভেতরে ভেতরে চলেছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আন্দোলন।

জামায়াতের বিচার : কালের প্রেক্ষাপটে

জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধীদের দল- এ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির মধ্যে কোনও দ্বিমত নেই। তবে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলটির নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করানোর পক্ষে অনেকেই। কারও কারও অবস্থান এর বিপক্ষেও। শেষোক্তদের যুক্তি- দলটির সব নেতাই মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নয়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের অনেককে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোও হয়েছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের মধ্যে আবুল কালাম আযাদ পলাতক। বাকিরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন। আপিল শুনানি শেষে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল- এতজন জামায়াতনেতার মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও দল বা সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করার পথে কোনও প্রতিবন্ধকতা আছে কি না।
কততকদ
প্রশ্নের মীমাংসার আগে জামায়াতে ইসলামীর অতীতের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকাতে হয়। বিতর্কিত নেতা আবুল আলা মওদুদির নেতৃত্বে ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট প্রতিষ্ঠা করা হয় জামায়াতে ইসলামী হিন্দ। ’৪৭ সালে দেশভাগের পর মুসলিম পারিবারিক আইনের বিরোধিতা করে জামায়াত। এ কারণে ১৯৬৪ সালে দলটিকে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান সরকার। অবশ্য পরবর্তী সময়ে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বাংলাদেশের মু্িক্তযুদ্ধ ও ১১ দফাসহ বিভিন্ন দাবিরও বিরোধিতা করে এই জামায়াত। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করার লক্ষ্যে জামায়াত একাধিক দলও গঠন করে। এসব দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও ইসলামী ছাত্র সংঘ।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

রাজা রিচার্ডের ক্রুসেডের ডাক ওবামার কণ্ঠে?

আবার পশ্চিমা জগতে ক্রুসেডের যুদ্ধবাজনা বেজে উঠেছে। এবার মুসলিম খেলাফতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দেননি মধ্যযুগের ইংল্যান্ডের রাজা রিচার্ড। বহু শতাব্দী পর এই ডাক দিয়েছেন আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং মুসলিম পিতার সন্তান বারাক ওবামা; যিনি এখন নিজেকে খ্রিস্টান বলে দাবি করেন। কেবল গায়ের রঙটা তিনি পাল্টাতে পারেননি, কিন্তু মনের রঙ, বিশ্বাসের রঙটা সুবিধামতো পাল্টে ফেলেছেন।
াবা্বাবা
মানুষ মুখে যাই বলুক, মনের কথা সব সময় গোপন রাখতে পারে না। গোটা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে অতীতের ক্রুসেডের মতো যুদ্ধ পরিচালনার ইচ্ছা যে পশ্চিমা খ্রিস্টান জগতের আছে এ কথা একবার মুখ ফসকে বেরিয়ে গিয়েছিল ওবামার আগের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জুনিয়রের ঠোঁট থেকে। আফগানিস্তানে তালেবান-শাসন উৎখাত করার জন্য যুদ্ধ শুরু করার প্রাক্কালে তিনি বলে ফেলেছিলেন, আমরা আবার ক্রুসেডে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছি।

আমরা কি মানুষ নই?

প্রত্যেক মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, জীবনের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সম্পদ অর্জন ও চিন্তার স্বাধীনতা স্বীকৃত। একই সঙ্গে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও রাজনৈতিক চিন্তাধারার পার্থক্য সত্ত্বেও প্রত্যেক মানুষ এসব সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে। পৃথিবীর কোথাও সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা অনুযায়ী স্বীকৃত কোনো অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত হলে তা দেখার কথা জাতিসংঘের। কিন্তু ফিলিস্তিনের গাজায় ৮ জুলাই থেকে ইসরাইলি আগ্রাসনে যেভাবে মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে তাতে প্রশ্ন জেগেছে, গাজাবাসী কি মানুষ নয়? নাকি বাকি বিশ্ব মনুষ্যত্ব হারিয়েছে? কারণ গাজার অধিবাসীরা মানুষ হলে আমাদের নীরবতা বলে দেয় আমরা অমানুষ। অথবা গাজার অধিবাসীরা মানুষ নয়, তাই মানবাধিকারের বিষয়টি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
jjhgjhg
এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন গাজার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মাইসাম আবুমুর। আল জাজিরায় ৩ আগস্ট ‘এ কোয়েশ্চেন ফ্রম গাজা : অ্যাম আই নট হিউম্যান এনাফ?’ শিরোনামে তার লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে। মানবাধিকারবিষয়ক প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো মিল খুঁজে না পেয়ে তিনি নিজের মানবসত্তা সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়েন।

বিএনপির আন্দোলন

রাজনৈতিক আন্দোলন সব সময় ইস্যুভিত্তিক হতে হয়। ‘এসো, আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ি’ বললেই কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন জমে ওঠে না। ইস্যুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেননা ইস্যুর প্রতি আকৃষ্ট হয়েই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে জনগণ। শুধু কর্মীভিত্তিক আন্দোলন কখনও বড় ধরনের রাজনৈতিক আন্দোলন হয়ে দেখা দেয় না, তার সঙ্গে যোগ হতে হয় জনসম্পৃক্ততা। জনগণের অংশগ্রহণেই রাজনৈতিক সফলতা পেতে পারে। অন্যদিকে জনগণের অংশগ্রহণ না ঘটাতে পারলে যে-কোনও রাজনৈতিক আন্দোলনই মাঝপথে হারিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি এবং ২০ দলের জোট ঈদের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দিয়ে মাঠে নেমেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই আন্দোলনের ইস্যু এবং সময় যথাযথ কি না। বিএনপি মূলত অনেক দিন ধরেই আন্দোলনের পথ খুঁজে আসছিল; কিন্তু আন্দোলন করতে পারছিল না। তাদের আন্দোলন জমে না ওঠার পেছনে একাধিক কারণ ছিল। আন্দোলনে যাওয়ার জন্য তারা বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল জামায়াতের কর্মীর ওপর। জামায়াতের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছিল নানা কারণে। আওয়ামী লীগ সরকারের মানবতাবিরোধী বিচার আয়োজনের ফলে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ১৯৭১ সালের বাঙালিবিরোধী নানা বিতর্কিত কর্মকা- জনগণের চোখের সামনে প্রতিভাত হয়েছিল। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী বিচার ঠেকাতে আন্দোলনরত জামায়াত-শিবিরের নির্মম সহিংসতা জনমনে জামায়াত-শিবির বিষয়ে নতুন করে ভাবনায় ফেলেছিল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের যৌথ সহিংস আন্দোলনে দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছিল, জনজীবনে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল, প্রশাসনে অসহায়ত্বজনক অবস্থারও সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের সফলতা বলতে বিএনপির কিছুই লাভ হয়নি। সেই বিএনপি এবার আবার মাঠে নামতে চাচ্ছে।
khgjkhh

গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা

ফিলিস্তিনি ভূখন্দ গাজায় ইসরায়েলি হামলার ভয়াবহ চিত্র দেখে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। শিশু-কিশোর, যুবা, বৃদ্ধদের মর্মান্তিক হত্যার চিত্র প্রত্যেকটি বিবেকবান মানুষকে বেদনার্ত করছে। গাজার ৮০ শতাংশ মুসলিম জনগণ উদ্ধাস্তু জীবনযাপন করছে।
ljllj
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে দখল করে ইসরায়েলে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ইহুদিরা। মাঝেমধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও তা অনেকটা লোক দেখানো। পবিত্র ঈদের দিনেও হত্যাযজ্ঞ চলেছে। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হত্যা, মানবতা বিপর্যয় ভয়াবহ এক বধ্যভূমির আর্তনাদকে বারবার ধ্বনিত করছে। দুই সহ¯্রাধিক ফিলিস্তিনি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুবরণের খবর এর আগে কোথাও হয়নি। শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা, যুবক-যুবতীদের অসহায় আর্তনাদ, মৃত্যুবরণ করা কিংবা পঙ্গু হয়ে বেঁচে থাকা মিডিয়ার কল্যাণে আমাদের বেদনার্ত ও অশ্রুসজল করে। ঈদের পবিত্র দিনে ফিলিস্তিনে বসবাসরত মুসলমানদের ওপর ইসরায়েলি রকেটহামলা থেকে নিরাপদ থাকেনি জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্র, হাসপাতাল ও পরম মন্ত্রে আগলে রাখা বাড়িঘর পর্যন্ত। ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি মুসলমানদের মৃত্যুর খবর স্তম্ভিত করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের টাওয়ার পর্যন্ত উপড়ে গেছে। ভুতুড়ে নগরীতে নিত্যদিনের মৃত্যুভয় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের। টিভিতে প্রচারিত সংবাদচিত্র কতটা হৃদয়বিদারক তা বলে বোঝানো যাবে না। গর্ভবতী মহিলা, শিশু-কিশোর নিরাপদ নয় ইসরায়েলি আক্রমণ থেকে। আহত এক গর্ভবতী মহিলার উদর থেকে জন্ম নেওয়া শিশুটি শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেনি।

Mostofa Kamal's picture

বাপকা বেটা

লক্ষ্মীপুরের পৌর মেয়র আবু তাহেরকে কমবেশি সবাই চেনেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আবু তাহেরের দাপটে লক্ষ্মীপুরবাসী তটস্থ ছিল। এখন লক্ষ্মীপুরবাসী তটস্থ তাঁর গুণধর পুত্রের দাপটে। কথায় বলে না, বাপকা বেটা সেপাই কা ঘোড়া, না হলেও থোড়া থোড়া। বিপ্লব থোড়া থোড়া নন, বাপের চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে আছেন। মানুষকে জিম্মি রাখার সব কৌশলই শিখে ফেলেছেন তিনি।

একাধিক খুনের মামলাসহ অনেক মামলার আসামি বিপ্লব। এর আগে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় বিপ্লব একটি হত্যা মামলা থেকে রেহাই পেলেও আরো অনেক মামলায় অভিযুক্ত। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি লক্ষ্মীপুর কারাগারেই ছিলেন। সেখান থেকেই বিপ্লব মোবাইল ফোনে লক্ষ্মীপুরকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি থেকে শুরু করে এমন কোনো কাজ নেই, যা তিনি করেননি। এমনকি বিচার-সালিসও কারাগার থেকেই করে আসছেন।

আরেকটি শীতল যুদ্ধ

'আপনি কি মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্ক বর্তমানে শীতল যুদ্ধের পর্যায়ে রয়েছে?' সিএনএনের সাংবাদিক ক্যান্ডি ক্রাউলি এমন প্রশ্নই ছুড়ে দিয়েছেন ডায়ান ফেইনস্টেইনের প্রতি। সিনেট ইনটেলিজেন্স কমিটির চেয়ার ফেইনস্টেইনের কাছ থেকে উত্তর এলো_ 'হ্যাঁ'। স্টেট অব ইউনিয়ন প্রোগ্রামের একই সাক্ষাৎকারে মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কিছু সমস্যার দিকেও দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন ফেইনস্টেইন, যেখানে কয়েক সপ্তাহ আগে মিসাইল নিক্ষেপের মাধ্যমে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১৭ কে ভূপাতিত করার পেছনে রাশিয়া দায়ী বলে মনে করছে কিছু কিছু সূত্র। তিনি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই রাশিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন। পি৫+১, সিরিয়াসহ আরও অনেক ব্যাপার হয়েছে। এই তালিকা অবশ্য সব সময়ই অত লম্বা ছিল না।
l;kjl;k
শীতল যুদ্ধের সময় আবশ্যিকভাবেই মস্কোকে সহযোগী হিসেবে না দেখে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই ধারণা খুব শিগগিরই পরিবর্তন হয়েছে। এটি বিশেষ করে হয় ১৯৯১ সালের শেষ দিকে মিখাইল গর্বাচেভ কর্তৃক সোভিয়েত ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর এবং পরবর্তী সময়ে বরিস ইয়েলৎসিন কর্তৃক নিউক্লিয়ার নিক্ষেপণ বিধিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে। সোভিয়েত রাষ্ট্রের পতনকে মনে করা হয় 'ইতিহাসের সমাপ্তি হিসেবে। 'দ্য অ্যান্ড অব হিস্ট্রি' নামটা নেওয়া হয়েছে ফ্রান্সিস ফুকোয়ার বই থেকে। আশাবাদী আমেরিকান ও অন্যরা সে সময় মনে করা শুরু করল, বৃহৎ শক্তি হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক পদ্ধতির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।

Akhtaruzzaman's picture

ঈদ-পরবর্তী আন্দোলনের খবর নেই

আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস মতে জন্ম-মৃত্যু একমাত্র পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার হাতে। কখন কার জন্ম হবে তা যেমন আগেভাগে নিশ্চিত করে বলা যায় না, তেমনি মৃত্যুর দিনক্ষণও কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারে না। তবে আমরা যেমন যে কোনো শিশুর জন্মের খবর শুনে আনন্দিত হই তেমনি পরম শত্রুর মৃত্যুর খবর ছাড়া কোনো মানুষের মৃত্যুর খবর শুনে সব মানুষই কম-বেশি ব্যথিত ও দুঃখিত হয়। আপনজনের মৃত্যুর খবরে কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেখানে কারও আনন্দ উৎসবের তো প্রশ্নই ওঠে না। তারপরেও যদি কেউ আপনজনের মৃত্যুর দিনে আনন্দ উৎসব করে তাহলে তাদের কেউ স্বাভাবিক মানুষ বলবে বলে মনে হয় না। জন্মদিন পালন আমাদের সংস্কৃতিতে আগে ছিল না। গ্রাম-বাংলায় এর প্রচলন না থাকলেও বর্তমানে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে উঠতি বড়লোক ও একশ্রেণীর অাঁতেলের মধ্যে জন্মদিন পালনের প্রবণতা দেখা যায়। বিশেষ করে একানব্বই-উত্তর বাংলাদেশে জন্মদিন নিয়ে নতুন এক রাজনীতির প্রচলন শুরু হয়েছে।
কতবকতবত
বাংলাদেশের একটি লিখিত সংবিধান রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই সংবিধানের অনেক ধারা-উপধারার সঙ্গে একমত নই কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি আমার মতো করে সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারব ততদিন এই সংবিধান অমান্য করার কোনো অধিকার বা ক্ষমতা আমার নেই।

শোকের মাস ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

আগস্ট আমাদের জাতীয় শোকের মাস। শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ তিনজন এই মাসে মৃত্যুবরণ করেছেন : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে মৃত্যুবরণ করেন এই মাসে, রবীন্দ্র-নজরুলও একই মাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমাদের সংগ্রামী কবি সিকান্দার আবু জাফর, আমাদের প্রধান কবি শামসুর রাহমান, দ্রোহী লেখক, কবি, গবেষক, ভাষাতাত্তি্বক, কথা শিল্পী হুমায়ুন আজাদ এই মাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমাদের একজন সৃজনশীল, শক্তিমান লেখক হুমায়ুন কবীর এই মাসে লোকান্তরিত হয়েছেন।
khjkh
অবশ্যই এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে মৃত্যু সবচেয়ে অস্বাভাবিক, অচিন্তনীয় এবং পাশবিক। বঙ্গবন্ধু হত্যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ট্র্যাজেডিও বটে। অধ্যাপক, নাট্যকার, অভিনেতা, কলাম লেখক মমতাজ উদ্দীন আহমদ বলেন, 'কোনো ছোট মাপের চরিত্র নিয়ে ট্র্যাজেডি হয় না। যিনি ঐতিহাসিক বা পৌরাণিক চরিত্র, যিনি গোটা জাতিকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন, যার উত্থানে জাতির উত্থান ঘটে এবং যার পতনে জাতির পতন ঘটে, তেমন চরিত্র নিয়েই ট্র্যাজেডি সৃষ্টি হয়।

Syndicate content