Politics

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা এবং সৌদি রাজতন্ত্রের ভূমিকা

আমরা যখন গাজায় নির্মম প্যালেস্টাইনি আরব-হত্যায় এককথায় একুশ শতকের বর্বর গণহত্যায় ইসরাইলের নিন্দায় মুখর, তখন এই বর্বরতার পেছনে যে আরব দেশটি রাজতন্ত্রের নেপথ্য সমর্থন ও সহযোগিতা কাজ করছে সেই সৌদি রাজতন্ত্রের সম্পর্কে সবাই নীরব।মধ্যপ্রাচ্যে আরব মুসলমানদের ভূখণ্ড দখল এবং তাদের ওপর বিভিন্ন ছুতোনাতায় ইসরাইলকে নৃশংস হামলা চালাতে আমেরিকা এবং ব্রিটেন অস্ত্র ও অর্থের সমর্থন তো জোগাচ্ছেই, কিন্তু মুখে প্যালেস্টইনিদের প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি জানিয়েও ইসলামের পবিত্র ভূমির হেফাজতকারী হওয়ার দাবিদার সৌদি আরবের রাজারা যে কাজটি করেছেন, তা হল নিজেদের মধ্যযুগীয় রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশগুলোর ধ্বংস সাধনে ওয়াশিংটন, এমনকি তেল আবিবকে সহযোগিতা প্রদান।
গাজা
ইরানে বোমা হামলা চালানোর জন্য ইসরাইলের সঙ্গে এক হয়ে আমেরিকার ওপর চাপ দিয়েছিল সৌদি আরব। ইরান একটি শিয়া রাষ্ট্র। শিয়ারা মুসলমান। তা সত্ত্বেও সৌদি রাজাদের কাছে শিয়া মুসলমানের চেয়েও ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল পরম মিত্র। সৌদি রাজারা নিজেরা সুন্নি এবং শুধু সুন্নি নন, কট্টর ওয়াহাবি।

ইনামুল হাফিজ লতিফী's picture

বিজেপি, বাংলাদেশ, ইসলাম এবং ভারতীয় মুসলিম

ভারতের বিজেপি এর কিছু সাংসদ সদস্য এর ফেইসবুক ফলোয়ার আমি অনেকদিন ধরেই, স্বাভাবিকভাবেই জানার আগ্রহ ছিল নতুন সরকারের আচরণ কেমন হয়। তো প্রতিদিন নিউজ ফিডে আসছে একেকজনের একেক কথা, প্রতিদিনই এদের টিম নিয়ম করে বাংলাদেশ, ইসলাম, ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, ভারতীয় মুসলিম নিয়ে পোস্ট দেয় এবং বলার অপেক্ষা রাখে না সবগুলোতেই তারা উপরে বলা স্বত্তাগুলোর উপর খুব গরম-গরম মিথ্যাচার করে।bjp.jpg

আরও সত্য এরশাদের জানা থাকতে পারে!

বাংলাদেশ প্রতিদিনে যেদিন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের লেখা 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে আমার কিছু কথা' শিরোনামের নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে, সেদিন রাজধানী ঢাকার অনেক পত্রিকা স্টলে সকাল ১০টার পর আর পত্রিকাটি পাওয়া যায়নি। লেখাটি নিয়ে একটি মহলের গাত্রদাহ হয়েছে। সে মহলটি হচ্ছে-বিএনপি। তবে তাদের মধ্যে সত্য মেনে নেওয়ার মানসিকতা যাদের আছে, তারা অবশ্য নিশ্চুপ থেকেছেন।
এরশাদ
আমার আলোচনা কিন্তু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নিবন্ধ নিয়ে নয়। তিনি এমন কী লিখেছেন, যা নিয়ে বিএনপি নেতাদের সমাবেশ করতে হলো-এমনকি প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনও করতে হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, "বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা 'শহীদ' প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সম্পর্কে মিথ্যা, অসত্য তথ্য দিয়ে ইতিহাস বিকৃতি করেছেন এরশাদ।

গণতন্ত্রের পরিচয় সংকট

সঙ্গতকারণে বর্তমান বিশ্বের কিছু কিছু রাষ্ট্রের গণতন্ত্র এখন হতাশার সাথে বলতেই পারে- 'আমাতে নেই আমি'। এ যুগে অনেক কিছুরই সংজ্ঞা বা ডেফিনিশন (definition) বদলে যাচ্ছে। গণতন্ত্র এখন কোন কোন দেশে পরিচয় সংকটে আক্রান্ত এবং দিশাহীন রাজনীতি তরুণ প্রজন্মের অপেক্ষায় দিন গুণছে। কয়েকশ' বছর আগের ভূ-মানচিত্রের দিকে তাকালে যেমন বর্তমানের সাথে মেলানো কষ্টকর তেমনি মানবজীবন,পরিবার,সমাজ ও রাজনীতির দিকে তাকালে ক্ষেত্রবিশেষে অতীতের সাথে বর্তমানের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। খাদ্যের জগতেও চলছে ফরমালিন, কার্বাইড এবং জি.এম (Genetically modified) ফুডের যুগ। এমনিভাবে আগামীদিনে হয়তো আরো অনেক কিছুরই সংজ্ঞা ও রূপ পরিবর্তন হয়ে যাবে।
গণ
তবে, আর যাই কিছু হোক না কেন,মানব জীবন,সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সকল মৌলিক বিধান মানুষ শত শত বছরের অভিজ্ঞতায় অর্জন করেছে সেগুলো ওলট-পালট হয়ে গেলে নির্ঘাত সামাজিক বিপর্যয় নেমে আসবে।

Masuda.Bhatti's picture

রাজনীতির অপর নাম যেন ‘আতঙ্ক’ না হয়

ছুটি শেষ হল ঈদের। কিন্তু কাজকর্ম প্রায় বন্ধ ছিল গত এক মাসেরও বেশি। তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন তুললেই শুনছে কে? বরং প্রশ্নকারীকে আঘাত করার জন্য ছুটে আসার মানুষের অভাব হবে না। অথচ এই রোজার মাসটিকে আরও কার্যকর করে তোলার সুযোগ রয়েছে। এমনিতেই আমাদের দেশে ছুটির দিন অনেক বেশি, এর ওপর একটা গোটা মাস এবং সেই সঙ্গে ঈদের এক সপ্তাহ- এতখানি সময় নষ্ট করার সুযোগ আমাদের আছে কি না, তা নিয়ে জাতীয়ভাবে ভেবে দেখার সময় কি আসেনি? আশা করি, পাঠক এ বিষয়ে একটু ভেবে দেখবেন।
politics
গোটা রোজার মাস আমাদের রাজনীতির গতি ছিল ক্ষীণ- কেবল ইফতারকেন্দ্রিক। তাও এবার সরকারি দল বা জোট ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়নি।

M.Abdul.Hafiz's picture

বৈশ্বিক সংকট ও ওবামা প্রশাসন

২০০৮ সালে যখন সিনেটর হিসেবে বার্লিনের ভক্ত-শ্রোতাদের উদ্দেশে আজকের মার্কিন প্রেসিডেন্ট মুখ খোলেন, তখন তিনি নতুন করে বিশ্বকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন তো তাঁকেই ওয়াশিংটন-বিমুখ জার্মানদের আশ্বস্ত করতে হচ্ছে যে তিনি তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতায় জড়িত নন। শুধু বারাক ওবামা কেন, কোনো ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রেসিডেন্টই তা তিনি যতই উদ্বুদ্ধকারী হোন না কেন, আমেরিকার প্রথাগত বিশ্ব নেতৃত্বকে পুনরুদ্ধার করতে পারবেন না। তবে দুশ্চিন্তার বিষয় এটা নয় যে একটি উদীয়মান শক্তি চীন তাকে স্থানচ্যুত করে সেখানে আসীন হবে এবং আজকের একক পরাশক্তি নিম্নস্থ কোনো অবস্থান গ্রহণ করবে। না, চীন এমন কিছু ঘটানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে না।
obama
দুশ্চিন্তার বিষয় অন্যত্র। এখন ওবামা বা যে কেউ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হোন, এর জন্য আমেরিকার প্রথাগত ভূমিকায় দায়িত্ব পালন দুঃসাধ্য হবে।

ইসরায়েলের নাম নিতে মানা

গাজায় বর্বর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ। তিনি গাজার যুদ্ধকে অবহিত করেছেন 'সমষ্টিগত গণহত্যা' ও 'মানবতাবিরোধী অপরাধ' হিসেবে। হামাস প্রসঙ্গে সৌদি বাদশাহ মুসলিম নেতা ও স্কলারদের ইসলাম হাইজ্যাককারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
syria
অন্যদিকে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গে বৈশ্বিক নীরবতার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। কিন্তু যে বিবৃতিটি তিনি দিয়েছেন তাতে গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলার সরাসরি প্রতিবাদ নেই। এমনকি বিবৃতিতে ইসরায়েলের নামও উল্লেখ করা হয়নি। এই অবস্থা দেখে একটি বাংলা প্রবাদ বাক্যের কথা মনে পড়ে_ 'ভাশুরের নাম নিতে মানা'। তাহলে কি সৌদি বাদশাহর জন্য ব্যাপারটা এমন ছিল যে, 'বিবৃতি দেওয়া যাবে, কিন্তু ইসরায়েলের নাম নিতে মানা।'

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সক্রিয় সহযোগিতায় গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক হামলা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইসরাইল বিগত ৮ জুলাই গাজায় শুরু করা তাদের সামরিক হামলা এখন পর্যন্ত পুরোদমে অব্যাহত রেখেছে। এর দ্বারা শুধু ইসরাইলিদেরই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র সাম্রাজ্যবাদীদের ক্রিমিনাল চরিত্রই নতুন করে বিশ্বের জনগণের কাছে এখন স্পষ্ট হয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঔদ্ধত্যপূর্ণ ঘোষণার মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন, গাজার সব অবকাঠামো পরিপূর্ণভাবে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তাদের এই সামরিক হামলা চালিয়ে যাবেন!
gaza

Robaet.Ferdous's picture

পথে স্বস্তি ছিল, রাজনীতিতে থাকবে তো?

ঈদুল ফিতর কিংবা কোরবানির ঈদে কত লোক ঢাকার বাইরে গ্রাম, বন্দর এবং ছোট ও বড় বিভিন্ন শহরে যায়, তার সঠিক হিসাব করা কঠিন। কেউ বলবেন ৮০ লাখের কম তো নয়ই। কেউবা সংখ্যাটা আরও একটু বাড়াতে চাইবেন। কেউবা কিছু কম বলবেন। আমি মনে করি অনুমাননির্ভর নয়, বরং প্রকৃত সংখ্যার আশপাশে যাতে পেঁৗছাতে পারি, সে চেষ্টা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে জরিপ-অনুসন্ধানও হতে পারে। নারী-পুরুষ-শিশুদের যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক করার জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে।

করিডোর ও সংখ্যালঘুর রাজনীতি

কথা রাখেনি ভারত, যা প্রয়োজন সব নিয়ে গেছে, দেয়নি কিছুই। পাকিস্তান-পরবর্তী ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির মাধ্যমে আরো বেশি দাসত্বের শৃঙ্খল বাংলাদেশের পায়ে। ‘তিনবিঘা করিডোর’ নিয়ে যত মিথ্যাচার, কতটুকু জানে পাবলিক? ১৯৭৪-এর ১৬ মের চুক্তি অনুযায়ী তিনবিঘা করিডোর এবং দণি বেরুবাড়ি একে অপরকে বিনিময়ের কথা। বাংলাদেশ সরকার তখনই দণি বেরুবাড়িসহ হাজার হাজার একর হস্তান্তর করলেও এখন পর্যন্ত তিনবিঘা করিডোর ফেরত পায়নি, বরং তুমুল চাপের মুখে দিনে কয়েক ঘণ্টার জন্য করিডোরটি বাংলাদেশকে লিজ দিয়েছে ২০১১ সালে, যেকোনো মুহূর্তে প্রত্যাহারের মতা রাখে দিল্লি। বলার উদ্দেশ্য, এই অবস্থা এক দিনে হয়নি, বরং দিল্লি-ঢাকা উভয়ই সংখ্যালঘু নির্যাতনের শরিক। ফিলিস্তিনিদের মতোই ছিটমহলের কাঁটাতারের ভেতরের হাজার হাজার বাসিন্দারা ৬৭ বছরেও জানল না, কোনটা তাদের দেশ। এটা কোন বেঁচে থাকা? আর এই দেশহীনতায় ভুগছে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির সংখ্যালঘুরা, বাংলাদেশ এর নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত। দেশটিতে বহু প্রজাতির সংখ্যালঘুদের এত বেশি মানবেতর দৃষ্টান্ত, ইতিহাসের বিরল ঘটনা।
koridor

Syndicate content