“ভূত” এর বাড়ী “হিন্দুস্তান”! / আবু জুবায়ের
ভূত নাকি অনেক রকম হয়।আগে জেনে নেই আসলে ভূত জিনিসটা কি?ভূত হলো অশরীরি পুরুষ আত্মা, আর পেত্নী অশরীরি মেয়ে আত্মা। অপঘাত, আত্মহত্যা প্রভৃতি কারণে মৃত্যুর পর মানুষের অতৃপ্ত আত্মা ভূত-পেত্নী হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করতে পারে।
অনেক প্রকার ভূত দেখা যায়।শাকচুন্ন্,চোরাচুন্নি, মেছোভূত,পেঁচাপেঁচি,মামদো ভূত, স্কন্ধকাটা বা কন্ধকাটা, কাঁদরা-মা, নিশ, কানাখোলা, আলেয়া, ইত্যাদি।
তবে একধরনের ভুত আছে নাম ব্রহ্মদৈত্য। তাদের ব্রাহ্মণের আত্মা, সাদা ধুতি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এরা সাধারণত পবিত্র ভূত হিসেবে বিবেচিত। বলা হয়ে থাকে, কোনো ব্রাহ্মণ অপঘাতে মারা গেলে সে ব্রহ্মদৈত্য হয়। এছাড়া পৈতাবিহীন অবস্থায় কোনো ব্রাহ্মণ মারা গেলেও ব্রহ্মদৈত্য হতে পারে। এরা কারো প্রতি খুশি হয়ে আশীর্বাদ করলে তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হয়, কিন্তু কারো প্রতি নাখোশ হলে তার সমূহ বিপদ। দেবদারু গাছ কিংবা বাড়ির খোলা চত্বরে বাস করে।
আরেক প্রকারের ভূত জলাভূমির গ্যাসীয় ভুত। এরা জেলেদেরকে বিভ্রান্ত করে, জাল চুরি করে তাদের ডুবিয়ে মারে। কখনো কখনো অবশ্য এরা জেলেদেরকে সমূহ বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করে থাকে।
শেওড়া, তাল, দেবদারু, বেল, অশ্বত্থ প্রভৃতি গাছে একটি দুটি ভূতের দেখা পেতে পারেন। কিন্তু বেশি সংখ্যায় ভূত দর্শনের অভিলাষ থাকলে, আপনাকে যেতে হবে বিজন বনে, তেপান্তরে, কিংবা ভূতের দেশে।
বিপদ হলো আজকালকার ভূতগুলো আবার রাম নাম জপ করা শুরু করেছে।অনেকে আবার বলা শুরু করে দিয়েছে ভুতের মুখে রাম নাম।বাংলাদেশেও নানা প্রকারের ভুতের অস্তিত্ব অনুভব করা যায়।সেই ভূত আবার ঘাড়ে চেপে থাকে।শীতের অতিথি পাখিদের মত এসে আবার চলে যায় কিন্তু তারা বার্ড ফ্লু রেখে যায় ।সে যাইহোক ভূত বলে কথা।এই ভূত এখন সওয়ার হয়েছে বিশিষ্ঠ সব মানূষের ঘাড়ে।সবাই এখন জানতে চায় ভুতের বাড়ী কোথায়।বাংলাদেশের মানূষ আবার কামরুপ কামাক্ষার নাম শুনে ভয় পেয়ে যায়।একজন আমাকে বল্লো দিল্লীর পাশে মাথুরা বা বৃন্দাবন থেকে এসেছে কিনা সেটা আবার দেখতে হবে।যে পরিমান মানুষ মরে যাচ্ছে বিহার,ঝাড়খান্ড আর সাত বোনে তাতে করে ভুতের প্রডাকশন বলে বেড়ে গেছে।সেদিন একটা হিন্দি ছবি দেখলাম নাম ভুতনাথ।অমিতাভ বচ্চন সেই ছবিতে ভুতের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।কি অসাধারন তার অভিনয়।ভূতের ভূমিকায় তার অনবদ্য অভিনয়ের প্রকাশ সবাইকে মুগ্ধ করেছে।ও হে মনে পড়েছে অমিতাভের আব্দুল গাফফার চৌধুরির সিনেমায় শেখ মুজিবের নাম ভূমিকায় অভিনয় করার কথা ছিলো।ভুতনাথ ছবিটা শিশুদের জন্য নির্মিত।তবে বাংলাদেশের যে নিজস্ব ভূত নাই সেটা কিন্তু বলা যাবে না।ভুত নাকি আছড় করলে অনেক কসরত করে ছাড়াতে হয়।অনেক কিছু করা লাগে।ভূতে ধরলে কি কি হয় সেটা নিয়ে অনেকে গবেষনা করেছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ভুত বিষয়ক অনেক লেখা লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর কর্তার ভূত লেখা থেকে কিছু অংশ এখানে তুলে দিলাম।
বুড়ো কর্তার মরণকালে দেশসুদ্ধ সবাই বলে উঠল, ‘তুমি গেলে আমাদের কী দশা হবে।’
শুনে তারও মনে দুঃখ হল। ভাবলে, ‘আমি গেলে এদের ঠাণ্ডা রাখবে কে।’
তা ব’লে মরণ তো এড়াবার জো নেই। তবু দেবতা দয়া করে বললেন, ‘ভাবনা কী। লোকটা ভূত হয়েই এদের ঘাড়ে চেপে থাক্-না। মানুষের মৃত্যু আছে, ভূতের তো মৃত্যু নেই।’
দেশের লোক ভারি নিশ্চিন্ত হল।
কেননা ভবিষ্যৎকে মানলেই তার জন্যে যত ভাবনা, ভূতকে মানলে কোনো ভাবনাই নেই; সকল ভাবনা ভূতের মাথায় চাপে। অথচ তার মাথা নেই, সুতরাং কারো জন্যে মাথাব্যথাও নেই।......।
......কিন্তু, তৎসত্ত্বেও এ প্রশ্নকে ঠেকানো যায় না, ‘খাজনা দেব কিসে’।
শ্মশান থেকে মশান থেকে ঝোড়ো হাওয়ায় হাহা ক’রে তার উত্তর আসে, ‘আব্রু দিয়ে, ইজ্জত দিয়ে, ইমান দিয়ে, বুকের রক্ত দিয়ে।’
প্রশ্নমাত্রেরই দোষ এই যে, যখন আসে একা আসে না। তাই আরও একটা প্রশ্ন উঠে পড়েছে, ‘ভূতের শাসনটাই কি অনন্তকাল চলবে।’
শুনে ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি আর মাসতুতো-পিসতুতোর দল কানে হাত দিয়ে বলে, ‘কী সর্বনাশ। এমন প্রশ্ন তো বাপের জন্মে শুনি নি। তা হলে সনাতন ঘুমের কী হবে— সেই আদিমতম, সকল জাগরণের চেয়ে প্রাচীনতম ঘুমের?’
প্রশ্নকারী বলে, ‘সে তো বুঝলুম, কিন্তু আধুনিকতম বুলবুলির ঝাঁক আর উপস্থিততম বর্গির দল, এদের কী করা যায়।’
মাসিপিসি বলে, ‘বুলবুলির ঝাঁককে কৃষ্ঞনাম শোনাব, আর বর্গির দলকেও।’
অর্বাচীনেরা উদ্ধত হয়ে বলে ওঠে, ‘যেমন করে পারি ভূত ছাড়াব।’
ভূতের নায়েব চোখ পাকিয়ে বলে, ‘চুপ। এখনো ঘানি অচল হয় নি।’
শুনে দেশের খোকা নিস্তব্ধ হয়, তার পরে পাশ ফিরে শোয়।
মোদ্দা কথাটা হচ্ছে, বুড়ো কর্তা বেঁচেও নেই, মরেও নেই, ভূত হয়ে আছে। দেশটাকে সে নাড়েও না, অথচ ছাড়েও না।
দেশের মধ্যে দুটো-একটা মানুষ, যারা দিনের বেলা নায়েবের ভয়ে কথা কয় না, তারা গভীর রাত্রে হাত জোড় করে বলে, ‘কর্তা, এখনো কি ছাড়বার সময় হয় নি।’
কর্তা বলেন, ‘ওরে অবোধ, আমার ধরাও নেই, ছাড়াও নেই, তোরা ছাড়লেই আমার ছাড়া।’
তারা বলে, ‘ভয় করে যে, কর্তা।’
কর্তা বলেন, ‘সেইখানেই তো ভূত।’
১৫ আগষ্ট এর পট পরিবর্তনে কিছু কর্তামুলক ভুতের সৃষ্টি হয়।কর্তার ইচ্ছা পূরনে এখনও ভুত সমাবেশ হয়ে থাকে।তার মধ্যে ভূত সম্মেলন,ভুতের দেশে সফর,ভুত বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশ,ভুত বাহিনীর দমন পীড়ন ইত্যাদি।বাংলাদেশের ভুতের নাকি দম কম।তাই আমদানিকৃত ভুত দিয়ে ভুতপূর্ব সময়ের ভুত ইচ্ছা পূরনে মরিয়া এক শ্রেনীর ভুত প্রেমিকা ও প্রেমিকগন।অন্যদিকে ভুত বিদ্বেষী একটি সমাজ খামোখা ভুতের দেশের বিপক্ষে কথা বলে।ভুত বলে কথা।ভুতের পানি বেশি চাই টিপাইমুখ দাও,ভুতের পানি বেশি চাই ফারাক্কা দাও,ভূতের তৃষ্ণা বেশী তিস্তা দাও।ভুতের নাকি ছায়া পড়ে না।একবার শরীরে আসর করলে বুঝা যায় না যে কারো মধ্যে ভুত আসে নাকি।এটা বুঝার একটা সহজ উপায় আছে।
ক.ধরুন কেও যদি নির্বোধের মত আচরন করে তাহলে ধরে নিতে হবে তার ঘাড়ে ভুত আছে।তাকে দিয়ে ভূত অনেক কিছু করিয়ে নেবে।যেমন ধরুন আপনাকে বলা হলো আপনি একটা টাউট ও দালাল।আপনি শুনে মহা খুশি হলেন।তার মানে আপনাকে ভূতে ধরেছে।
খ.ভুতের নিজস্ব চলাচলের একটা রাস্তা দরকার হয় যেটা তার নিজস্ব রাস্তা।সব সময় করিডোর খোঁজে।দেশের মধ্যে দিয়ে যদি ভুতের চলাচলের রাস্তা হয় তাহলে বুঝতে হবে বাংলাদেশের কারো কারো ভূতে ধরেছে।
গ.কিছু কিছু ভূতে ধরা লোকের কথা বার্তা যদি ভুতের মত হয় তাহলে তো আপনার বুঝতে অসুবিধা হবার কথা না যে তাকে ভূতে ধরেছে কিনা।টিপাইমুখ দিলে কোন ক্ষতি হবে না।ভূত বলেছে হবে না তো হবে না।আইনুন নিশাত,আসিফ নজরুল ভুতের ফিলোসফি বুঝে না।বুঝলে তারা পানিকে জল বানিয়ে ছাড়তো।
ঘ. এরপর ভুতের রাজ্যে সফর।এটা একটা ভালো লক্ষন ভূত কাওকে ধরেছে কিনা এটা বুঝবার জন্য।যদি দেখেন বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা,সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতাকে ভুত বানাতে চায় যারা তাদের সেই দেশ সফরকে একটা ক্রনিক দেশ প্রেম ডিস অর্ডার হিসাবে দেখা যেতে পারে।।
“ভুতের রাজা দিলো বর”।গোপী গায়েন বাঘা বায়েনে বা হীরক রাজার দেশে অনেকেই দেখেছেন বোধকরি।ভুতের রাজা কিছু নিতে গেলে কিছু প্রতিদান হিসাবে দিয়ে থাকে।এইবার এই দেশের একজন এবং আরোও কয়েক জনকে ভূতের রাজা তিনটি বর দিয়েছে।সেগূলো হলো-
১। বাংলাদেশের মানূষের ঘাড়ে আছর।বাংলাদেশের মানুষের কাঁধে আছড় করে ভুত তাদের পক্ষে ভোট দিয়ে ভুত প্রেমীদের ভুত উতসব নিশ্চিত করা।
২।যত দিন খুশি ততদিন বর।এই বরের মাধ্যমে ভুত প্রেমীরা এই দেশে থাকবে অনন্তকাল।শাসন চালাবে ইচ্ছা মতো আর ভূত যা বলবে তাই হবে।
৩।জিয়ন কাঠি মরন কাঠি।এই কাঠিটা ভুত তাদের হাতে দিয়েছে তাতে করে যখন তখন যে কাউকে তাদের পক্ষে ঘুম থেকে জাগাবে আর কেউ তাদের বিপক্ষে জেগে থাকলে তাকে আবার ঘুম পারিয়ে দেবে।
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এর “কুঁজো আর ভূত” গল্পটি না বলে আমি থাকতে পারছি না।তবে শুনুন।
কানাই বলে একটি লোক ছিল, তার পিঠে তার পিঠে ছিল ভয়ঙ্কর একটা কৃঁজ। বেচারা বড্ড ভালমানুষ ছিল, লোকের অসুখ-বিসুখে ওষুধপত্র দিয়ে তাদের কত উপকার করত। কিন্তু কুঁজো বলে তাকে কেউ ভালবাসত না।
কানাইয়ের ঝুড়ির দোকান লোক ছিল। আর কোনো ঝুড়িওয়ালা তার মত ঝুড়ি বুনতে পারত না। তারা তাকে ভারি হিংসা করত, আর তার নামে যা-তা বলে বেড়াত। তা শুনে লোকে ভাবত, কানাই বড় দুষ্টু লোক। তাকে দেখতে পেলে সকলে মুখ ফিরিয়ে থাকত। বেচারার দুঃখের সীমাই ছিল না।
এত বড় কুঁজ নিয়ে মাথা গুঁজে চলতে কানাইয়ের বড়ই কষ্ট হত। একদিন সে একটু দূরে এক জায়গায় ঝুড়ি বেচতে গেল, আর দিন থাকতে ঘরে ফিরতে পারল না। পথে একটা পুরনো বাড়ির কাছে এসে এমনি অন্ধকার হল, আর তার এতই কাহিল বোধ হল যে, আর চলা অসম্ভব। সে জায়গাটা ভারি বিশ্রী; লোকে প্রাণান্তেও সে পথে আসতে চায় না। বলে, ওটা ভূদের বাড়ি। কিন্তু কানাইয়ের বড্ডই পরিশ্রম হয়েছে, চলবার আর সাধ্য নেই। কাজেই সে সেখানে পথের পাশে একটু না বসে আর কি করি?
কতত্ষণ সে এভাবে বসে ছিল তার কিন্তু ঠিক নেই। বসে থাকতে থাকতে তার মনে হল, যেন সেই পুরনো বাড়িটার ভিতর থেকে আওয়াজ আসছে অনেকগুলো গলা মেলে। আহা, কি সুন্দর সুরেই গাইছে। শুনে কানাইয়ের প্রাণ জুড়িয়ে গেল। সে অবাক হয়ে খালি শুনতেই লাগল। গানের সুরটি অতি আশ্চর্য, কিন্তু কথা কালি এইটুকুঃ
‘লুন হ্যায়,তেল হ্যায়, ইম্লী হ্যায়, হিং হ্যায়!’
শুনতে শুনতে কানাই একেবারে মেতে গেল। সে ভাবল যে তারও গানটা না গাইলেই চলছে না। কাজেই সেও খুব করে গলা ছেড়ে সঙ্গে সঙ্গে ধরলঃ
‘লুন হ্যায়, তেল হ্যায়, ইম্লী হ্যায়, হিং হ্যায়!’
এইটুকুই গেয়েই ঝাঁ করে তার বুদ্ধি খুলে গেল, সে আরো উঁচু সুরে গাইল
‘লসুন হ্যায়, মরীচ হ্যায়, চ্যাং ব্যাং শুঁটকি হ্যায়।’
কানাই এই কথাগুলো খুব গলা ছেড়েই গেয়েছিল। সে গলার আওয়াজ যে সেই বাড়ির ভিতরের গাইয়েদের কানে গিয়ে পৌঁছিয়েছিল, তাতে আর কোন ভুল নেই। সে গাইয়েগুলো ছিল অবশ্য ভূত। তারা সেই নূতন কথাগুলো শুনে এতই খুশি হল যে, তখনই ছুটে কানাইয়ের কাছে না এসে আর থাকতে পারল না। তারা এসে কানাইকে কোলে করে নাচতে নাচতে সেই বাড়ির ভিতরে বেয়ে গেল, আর যে আদরটা করল! মিঠাই যে তাকে কত খাওয়াল, তার অন্ত নেই। তারপর সকলে মেলে নেচে নেচে ঘুরে ঘুরে গাইতে লাগলঃ
‘লুন হ্যায়, তেল হ্যায়, ইম্লী হ্যায়, হিং হ্যায়!’ ‘লসুন হ্যায়, মরীচ হ্যায়, চ্যাং ব্যাং শুঁটকি হ্যায়।’
কানাইকেও তাদের সঙ্গে নেচে নেচে গানটি গাইতে হল। তখন তার মনে হল, ‘কি আশ্চর্য, আমি কুঁজ নিয়ে চলতে পারি না, আমি আবার নাচলুম কি করে?’ বলতে বলতেই তার হাতখানি পিঠের দিকে গেল-এ কি? তার সে কুঁজ যে আর নেই! একজন ভূত বলল, ‘কি, দেখছিস বাপ? ওটা আর ওখানে নেই। ঐ দেখ, তোর পাশে পড়ে আছে।’
ভুতের সাথে বন্ধুত্ব হলে নাকি কুঁজ ওয়ালা মানূশের কুজঁ ঠিক হয়ে যায়।আপনারা যারা সোঁজা হয়ে দাড়তে পারেন না তারা ভুতের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।ঠিকানা চান।হ্যা দিচ্ছি।লিখুন- “ভূত” এর বাড়ী “হিন্দুস্তান।

Comments
Voot-er chomotkar bekkha.
Excellent. I like the writings of Mr. Abu Zubaer- very decent and artistic presentation of sensitive issues. I would just like to add that the mentioned voot's also don't like few things that most of the Bangladeshi's carry with them- courage, revolt and fearless to die. Bangladeshies are not like the people of Sikkim, Bhutan, Nepal Arunachal or even Sri Lanka. People of this land are a bit different that are known to historians.
However, some people are exceptional with commitment, patriotism and feelings to people. History of those people say that most of them are not really from this land. Their forefathers came from different countries. Obviously, they carry a blood which is not soaked with the love, commitment and responsibilities for Bangladesh and the people of this land. For that reason, like the phrase in Bangla "Chor-er ma-er boro gola", these people speak much more about the morals of our freedom fight, patriotism, bla...bla...bal... just to hide their real standings and feelings to the people as well as to themselves. I am sure, they are not happy with their standings but they don’t have any other way to live a happy life on the ground of Bangladesh as they don’t feel for the country or the nation.
In my sense, this is not their fault these people that they can't love this land and the people; it is the fault of the people that they are stupid and trust them again and again even after experiencing repeated hell from them.