সকাল হতে বৃষ্টি হচ্ছে। প্রথমে গুড়ি গুড়ি, তারপর মুষলধারে। বেলা গড়ানোর সাথে মনে হল গোটা আকাশ যেন মাটিতে নেমে আসছে। এমন অঝোর বর্ষণ অনেকদিন দেখেনি এ অঞ্চলের মানুষ। কনকনে শীত আর কাঠফাটা গরমের পাল্টাপাল্টিতে বর্ষা নামের একটা ঋতু আছে তা চাপা পরে যায় ব্যারোমিটারের ওঠানামায়। অথচ আদিবাসীদের ক্যালেন্ডারে এমন একটা ঋতুর কথা ঠিকই লিপিবদ্ধ আছে। এ নিয়ে বেশ কটা পুয়েবলোতে উৎসবেরও আয়োজন করা হয়। শুনেছি সান আলদেফোনসো পুয়েবলোতে কবিতা পাঠের আয়োজন পর্যন্ত চলে। এসব শোনা কথা। নিজ চোখে দেখা হয়নি সময় আর আলসেমির কারণে। হেরাল্ড বিগে নামে আমার একজন আদিবাসী বন্ধু আছে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও সর্বাঙ্গে তার পোখোয়াকোয়ে গোত্রের ছাপ।
Personal

ম্যাথিউ, হেরাল্ড ও আমি, এবং আমাদের ঘরে ফেরা...WD
Sun, 13/05/2012 - 4:40am | by WatchDog
(আমেরিকান) স্কুল গ্র্যাজুয়েশান ও আত্ম জিজ্ঞাসা!!
Mon, 07/05/2012 - 5:47am | by Rita Roy Mithuসেদিন আমার ছুটি ছিল। খুব বেশীদিন আগের কথা বলছিনা। দিন সাতেক আগের কথা। একটা ফোন কল এসেছে, ফোনটা ধরতেই ঋষিজার মা'কে চাইলো। ঋষিজা হচ্ছে আমার ছোট মেয়ে মিথীলার পোষাকী নাম। 'ইয়েস বলছি' বলতেই জানালো যে ঋষিজার স্কুল থেকে ওর টিচার কথা বলতে চায়। স্কুল থেকে ফোন আসলেই আমার কেনো যে সবার আগেই খারাপ কথাটিই মনে আসে বুঝিনা। কেবলই মনে হয়, এইরে! আমার মেয়েটার বোধ হয় কোন বিরাট সর্বনাশ হয়ে গেছে। এমনটি ভাবতে থাকি বলেই ফোনের অপর প্রান্তের কথা আমি প্রায়ই ভালো করে বুঝতে পারিনা। হ্যাঁ হুঁ করতে থাকি। পরে ধাতস্থ হয়ে কথা বলি। সেদিন ঋষিজার টিচার বললো, " নেক্সট ফ্রাইডেতে আমাদের স্কুলের এন্যুয়াল এওয়ার্ড সেরিমনিতে ঋষিজা টপ সিক্রেট এওয়ার্ড পাবে। আমরা চাই ঋষিজার বাবা মা যেনো এওয়ার্ড সেরিমনিতে উপস্থিত থেকে বাচ্চার এই এচিভমেন্টকে উপভোগ করতে পারে। কাজেই তোমরা আমন্ত্রিত এবং একটি অনুরোধ, ঋষিজাকে জানাবেনা এই সিক্রেট এওয়ার্ডের কথা"।
ফোনটি পাওয়ার পরে আমার কি করা উচিত ছিল! আনন্দে ঘরময় লাফানো না-কি একে তাকে সাথে সাথে ফোন করে করে জানানো! আমেরিকান বাবা মায়েদের মত হতে পারলে আমি দুটোই করতাম। হ্যাঁ, এখানে ছেলেমেয়েদের বাবা মায়েরা বাচ্চাদের যে কোন সাফল্যে খুবই উচ্ছসিত হয়। বাচ্চাদেরকে তাঁরা নানাভাবে পুরস্কৃত করার চেষ্টা করে। এখানের স্কুলগুলোতে একেবারে প্লে স্কুল থেকে শুরু হয় 'গ্র্যাজুয়েশান' সেরিমনি। বিশেষ করে প্রাইভেট স্কুলগুলোতে সেই ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়েদের জন্য 'গাউন', 'গ্র্যাজুয়েশান ক্যাপ', ' স্টোল'( গলায় ঝুলানোর জন্য), 'ডিপ্লোমা'( হাতে ধরা থাকে) সহ আনুষঙ্গিক প্রতিটি জিনিস কিনতে হয়। এবং এখানের বাবা মায়েরা এতটুকু কার্পণ্য করেনা ছেলেমেয়েদের জন্য টাকা খরচ করতে। ছেলেমেয়েদের গ্র্যাজুয়েশানের দিন আগে থাকতেই বাবা মায়েরা কাজের জায়গা থেকে ছুটি নিয়ে রাখে। যদি কারো কাজের জায়গাতে ডিউটি পড়ে যায়, 'সিক কল' করতে তারা এতটুকু দ্বিধাবোধ করেনা। যেদিন স্কুলে এওয়ার্ড সেরিমনি হয়, বাবা মায়েরা তাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে স্কুলে উপস্থিত হয়। সাথে থাকে ডিজিট্যাল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা। স্কুলের বিরাট হলরুম আগত অতিথি দিয়ে কানায় কানায় ভর্তি থাকে।

স্বপ্নের কালো বিড়াল ও একজন প্রবাসীর দেশে ফেরা...WD
Sun, 29/04/2012 - 11:28am | by WatchDogসাড়া জীবনের স্বপ্ন ছিল বয়সের কাছে যেদিন পরাজিত হব ফিরে যাব নিজ দেশে। একখণ্ড জমি আর এক জোড়া গরু পুজি করে জীবনের শেষ যুদ্ধটা শুরু করব মা আর মাটিকে ঘিরে। অনেকদিন হয়ে গেল ঘর ছেড়েছি। ইউরোপে ১২ বছর, অষ্ট্রেলিয়ায় ৫ আর আর যুক্তরাষ্ট্রে ১২, বলতে গেলে ২৯ বছর ধরেই স্বপ্নটা লালন করে চলছি। কিন্তু হঠাৎ করেই সব কিছু কেমন যেন এলোমেলো মনে হচ্ছে। হিসাব কশতে গিয়ে বুঝতে পারছি ছন্দপতন হয়ে গেছে জীবনের। প্রতিদিন ঘুম ভাঙ্গে অজানা আশংকায়। ফোনটাকেই আজকাল বেশি ভয়। অসময়ে বেজে উঠলে মনে হয় এই বুঝি খবরটা এলো। সাথে শুরু হয় হূৎপিণ্ডের দাপাদাপি। মা বাবা বেচে নেই অনেকদিন। আপন বলতে একগাদা ভাইবোন আর তাদের সন্তানাদি। জীবন নিয়ে আমাদের কারও কোন অভিযোগ ছিলনা। যে যার মত চেষ্টা করে নির্দিষ্ট কোন বন্দরে গেছি, যেখানে সততা, পরিশ্রম আর পারস্পরিক সম্মানবোধ পাথেয় হিসাবে কাজ করে গেছে। চাহিদা আর প্রাপ্তি নিয়েও আমাদের তেমন আক্ষেপ ছিলনা। কিন্তু একই ভাই-বোনদের কাউকে যখন নিজের অক্ষমতা আর ব্যর্থতার কাহিনী বলতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে শুনি বুকটা ভেঙ্গে যায়, নিজের অক্ষমতাকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছা করে। কেন জানি মনে হয় আমি থাকলে হয়ত এমনটা হতো না। ব্যাপারটা আসলেই কি তাই!

মেজদার জীবনের হাফ সেঞ্চুরী!!!!
Sun, 22/04/2012 - 11:52am | by Rita Roy Mithuসাধারন মধ্যবিত্তের সংসারে আমার বাবা মায়ের সন্তান সন্ততির সংখ্যা ছিল চারজন। তিন ছেলে ও এক মেয়ে। চারজনের মধ্যে আমার অবস্থান তিন নাম্বারে। আমার বাবা মা দুজনেই ছিলেন চাকুরীজীবি। বাবা চাকুরী করতেন অফিসে, মা ছিলেন মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষিকা। শৈশবে আমাদের দেখভাল করতেন আমাদের ঠাকুরমা (বাবার মা)।দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত আমাদের ঠাকুমা আমাদের সাথে ছিলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ভারত থেকে আমার বাবা মা যখন দেশে ফিরে আসেন আমাদেরকে নিয়ে, আমার ঠাকুরমা আমাদের সাথে আর আসেননি, ওখানেই থেকে গেছিলেন আমার কাকাদের কাছে। এই হচ্ছে আমাদের সংসারের একটি ্মোটামুটি চিত্র।
আমার তিন ভাইয়ের মাঝে আমার বড় ভাই বরাবরই একটু সমীহ পেত ছোট বড় সকলের কাছ থেকে। পরিবারের প্রথম সন্তান হিসেবেতো বটেই, অত্যন্ত সুবোধ ও মেধাবী ছেলে হিসেবে পরিবারের গন্ডী ছাড়িয়ে পাড়া মহল্লাতেও তার আলাদা একটি অবস্থান ছিল। আমি বরাবরই একটু ‘অহংকারী’ ছিলাম একটি মাত্র মেয়ে বলে। অহংকারী হওয়ার প্রশ্রয় পেতাম বাবার কাছ থেকে। আমার অসম্ভব রাগী বাবার আমার প্রতি দূর্বলতা ছিল সকল তর্ক বিতর্কের ঊর্ধ্বে। আমার ছোটভাই খুব বেশী সুন্দর ছিল দেখতে, বরাবর শান্ত স্বভাবের ভাইটিকে সকলেই আদর করতো। বাকী থাকলো আমার মেজভাই, আমার ‘মেজদা’।

মোহন ও আরিফের জন্যে জিল্লুর প্রেসিডেন্ট আছেন। ভয় নেই 'আমাদের'।
Wed, 11/04/2012 - 9:33am | by WatchDogমহাকালের অজানা গলিতে সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ যদি বাস করে থাকেন অনুরোধ করব আমার আমলনামা খুলে বসতে। আমি পাপ করতে চলছি, এবং সে পাপ হবে ঠান্ডা মাথার পাপ। পরবর্তী কয়েক মিনিট আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে যাকে বিচার করব তিনি খোদ সৃষ্টিকর্তা। কর্তার সমালোচনা এমনিতেই পাপ, তার উপর বিচার প্রত্যাশা, নিশ্চয় মহাপাপ!! সূর্য নাকি দশ হাত উপর চলে আসবে, আলো ছড়াবে এবং সে আলোর তাপে দাহে গলে পরবে আমার শরীর। তাতেও নাকি প্রাণ পাখি পিঞ্জিরা ফেলে উড়ে যাবেনা। এমনটাই ঈশ্বরের বিধান, আর আদমের প্রাপ্য শাস্তি। আমি বলব শাস্তি নিয়ে আমাদের সাথে প্রতারণা করছেন তিনি। আমি জোর গলায় বলতে পারি দশ হাত দূরের সূর্যের আলোই আমাদের জন্যে তৈরী নিকৃষ্টতম শাস্তি নয়, বরং মহিউদ্দিন মোহন ও আরিফ বিল্লাল নামক আদম সৃষ্টিই ঈশ্বরের নিকৃষ্ট শাস্তি।
শারীরিক চাহিদার রহস্য আবিস্কারের বয়স জান্নাতুল ফেরদৌসের হয়নি। কিন্তু হয়েছিল মোহন আর আরিফ নামক 'আশরাফুল মাখলুকাতের'। ঈশ্বরের দেয়া সে চাহিদা মেটাতে কটা টাকা আর চকলেটের ফাঁদে ফেলে আটকে ফেলে শিশুটিকে। উপর্যুপরি ধর্ষনের মাধ্যমে মিটিয়ে নেয় নিজেদের জৈব লালসা।

ক্রসফায়ারই যদি একমাত্র সমাধান তাহলে আগে তাদের নেয়া হোক...WD
Fri, 06/04/2012 - 12:17pm | by WatchDogখুউব কি খারাপ লাগছে? খুউব কি ব্যথিত হচ্ছেন? দেখতে কষ্ট হচ্ছে? মান+হুস যোগফলের মানুষ হয়ে থাকলে হওয়া স্বাভাবিক, লাগাটা জরুরী। এমনটাই যদি আপনার স্টেট অব মাইন্ড, অনুরোধ করব ব্যথা উপশমের দু চারটা ট্যাবলেট গিলে নিতে। কারণ এরপর আমি যা বলব তাতে সে ব্যথা সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা থাকবে। বিশেষ করে আপনাকে যদি মাননীয়া, মহামাননীয় নেতা-নেত্রীদের চরণে নিয়মিত পুজা দিতে হয়। উন্নত দুনিয়ায় শিকার একটি স্বীকৃত হবি। এর পেছনে উচ্চবিত্ত হতে শুরু করে নিম্নবিত্তরা পর্যন্ত অর্থ ব্যয় করতে দ্বিধা করেনা। সরকারী ভাবেও সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে এ হবির লালন পালন ও প্রসার নিশ্চিত করা হয়। বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, সাগর-মহাসাগর আর নদী-নালায় আইন করে বৈধ করা হয় পশু পাখি আর মাছ নিধন। এ কাজে কেউ ব্যবহার করে আগ্নেয়াস্ত্র কেউবা বেছে নেয় সনাতনী মাধ্যম। দিনান্তে সবাই ঘরে ফেরে নির্মল আনন্দ নিয়ে। বাংলাদেশে শিকারের মাঠ থাকলেও নেই পরিবেশ। হয়ত সে কারণেই সমাজের প্রিভিলেজড অংশ সন্ধান করে নতুন মাঠের, বিকল্প পরিবেশের। সে বিকল্পের অপর নাম ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার ও বন্ধুকযুদ্ধ।

লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে...
Sat, 11/02/2012 - 8:56am | by WatchDogওরা আসে, দেখে এবং জয় করে নেয়। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান হতে শুরু করে আমলা, ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, শিল্পী, পতিতা সহ কেউ বাদ যায়না এই চক্র হতে। শুধু জয় করে ফিরে গেলে এ নিয়ে লেখার কিছু ছিলনা, বাস্তবতা হচ্ছে যাওয়ার সময় ওরা কেউ নিয়ে যায় হাড়ি ভর্তি ইলশা, সুটকেস ভর্তি জামদানি, কেউবা আবার বস্তা ভর্তি টাকা। আমরা যারা রবীন্দ্র নামের পুজারি নই, মঙ্গল প্রদীপ যাদের পৃথিবী মঙ্গল গ্রহের মত আলোকিত করেনা তাদের জন্যে এই আসা যাওয়া কোন রহস্য নয় যা উদঘাটনে কিরিটি বাবুর দরকার হবে। জাত বেনিয়ারা এভাবেই পৃথিবীর দুয়ারে দুয়ারে ভাগ্যের সন্ধান করে, খুঁজে বেড়ায় কাঙ্খিত জীবন, সন্ধান করে পণ্য বিপননের নতুন নতুন বাজার। এক কথায়, ওরা বিক্রেতা আর আমরা ক্রেতা। ওদের সবকিছুই আমাদের কিনতে হয়। সহজ ভাবে বললে, আমরা বাধ্য হই কিনতে। ক্ষমতার রাজনীতি আমাদের অর্থনৈতিক সেক্টরের সবকটা জানালা অনেকটা চরিত্রহীনা রমণীর মত উলঙ্গ করছে ওদের সামনে। স্বভাবতই তাই ওরা আসছে, আসছে পতঙ্গের মত, মধু লুটছে এবং দিন শেষে বিজয়ীর বেশে ঘরে ফিরে যাচ্ছে।

২১ শে ফেব্রুয়ারীর ভাষা প্রেম ও কিছু অন্যরকম ভাবনা...
Fri, 10/02/2012 - 9:57am | by WatchDog
মনটা আজ ভাল নেই। গাছ গাছড়ার প্রতি দুর্বলতা সাড়া জীবনের। যখন যেখানেই বাস করেছি দু’একটা গাছ কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করেছি। আমেরিকার এই রুক্ষ্ম পশ্চিমে এসেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ২০০৯'এর জানুয়ারীতে দেশে গিয়েছিলাম প্রায় ৪ বছর পর। ফেরার পথে স্যুটকেস ভরে জিনিষপত্র টানার পর্ব শেষ করেছি সেই কবে। কিন্তু একেবারেই কিছু আনা হয়না এমনটা বোধহয় সত্য নয়। এ যাত্রায় বেশ ক’প্যাকেট বীজ এনেছি চাষাবাদ করব বলে। ঘরে ফিরেই স্থানীয় হোম-ডিপো হতে আলিশান ক’টা টব কিনে টমেটোর বীজ পুতে দিলাম দেশীয় টমেটো খাব বলে। গরম পেরিয়ে শীত এল। বীঁজ হতে গাছ বেরিয়েছিল সেই কবে, ডাল-পালাও গজিয়েছিল দেখার মত। কিন্তু হায়, টমেটোর মুখ আর দেখা হল না! উপড়ে ফেলতে হল ভালবাসার গাছগুলোকে।

এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র - দায় কার?
Thu, 02/02/2012 - 8:57am | by Shawnchoy.Rahman
এসএসসি পরীক্ষা শুরু হল। আমার নিজের মামাতো ভাই এবার পরীক্ষার্থী। আমি নিজে যখন এই পরীক্ষাটি দিয়েছিলাম তখন দেখেছি, আমি নিজে যতটা না চিন্তিত ছিলাম তার চেয়ে আমার অভিভাবকগণ বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। আত্মীয়-স্বজন দেখতে এলেন, পরীক্ষার আগে আমার নানু (নানীকে আমি নানু বলি) এক পীর-সাহেবের কাছ থেকে কলম আর কালির দোয়াতে দোয়া নিয়ে এলেন। আমি তখন বলপয়েন্ট দিয়ে পরীক্ষা দিতাম না। পরীক্ষা উপলক্ষে নূতন ফাউন্টেন পেনও পেয়েছিলাম। তখন ইয়োথ আর উইলসন বেশ ব্যবহার হত। আমি পরীক্ষা উপলক্ষে পেয়েছিলাম হিরো।
দেশের এই বোর্ড পরীক্ষা ব্যবস্থাটাও আমার কাছে আজব মনে হয়। সারাজীবন নিজের স্কুলে পড়াশোনা করলাম কিন্তু ফাইনাল এসএসসি দিতে হবে অন্য স্কুলে গিয়ে। আমার মামা পরীক্ষা শুরুর আগেই সিট দেখে আসল। আমার সিট পড়েছিল ঢাকার সেগুন-বাগিচা হাই স্কুলে। এমনিতেই এটি স্কুলের কোন পরীক্ষা নয়, বোর্ড-ভিত্তিক পরীক্ষা। তারউপরে সীট পড়বে অন্য স্কুলে। সেই স্কুল কেমন? স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা কেমন - কিছুই জানা নেই। অর্থাৎ যত প্রকারের চাপ একটা কোমলমতি পরীক্ষার্থীকে দেওয়া যায়, তার সব ব্যবস্থাই আছে। জানি না, এ ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে কবে?

স্মৃতির মুকুরে সরস্বতী পূজা
Sat, 28/01/2012 - 8:48am | by Rita Roy Mithuআজ দেশে সরস্বতী পূজা। দেখতে দেখতে বছর ঘুরে আবার চলে এলো মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী। প্রবাস জীবনে সারাটাক্ষণ গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই হাঁপিয়ে উঠি। দিনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজ করেতো অভ্যস্ত ছিলামনা আমরা। দেশে থাকতে কাজের ফাঁকে ফাঁকে কতরকম আনন্দ উৎসবে মেতে থাকতাম আমরা। আমাদের বাংলা সংস্কৃতিতে কত রকমের পালা পার্বণ, কত ধরনের যে উৎসব আছে, তাতো আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। হিন্দুদের বারোমাসে তেরো পার্বণের কথা প্রবাদের মত হয়ে গেছে। তেত্রিশ কোটি দেব দেবী নিয়ে হিন্দুদের জীবন। তেত্রিশ কোটি না হোক, তেত্রিশ দেবতাকে পূজা দিতে গেলেও প্রতি মাসে গড়ে তিনটি করে পূজা পার্বণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। হিন্দুদের জীবনের প্রতিটি পর্বে একজন করে নিয়ন্ত্রক (দেব দেবী) থাকেন, যিনি স্বর্গ থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন (হিন্দুদের বিশ্বাস)। শিবঠাকুরতো ভোলানাথ হয়ে সব ভুলে বসে থাকেন, দেবী দূর্গাকেই জাগতিক সবকিছুর দিকে খেয়াল রাখতে হয়। সব খেয়াল করতে গিয়ে নিশ্চয়ই দেবী দূর্গার মাথাটাই এলোমেলো হওয়ার যোগার হয়েছিল, তাই উনি উনার অধঃস্তনদের মধ্যে দপ্তর বন্টন করে দিয়েছেন। দপ্তর বন্টন পর্বে কন্যা সরস্বতীকে দিয়েছেন 'শিক্ষা ও শিল্পকলা' দপ্তর। কন্যাটিকে উনি জানিয়ে দিয়েছেন বাংলা বছরের মাঘমাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে যেনো বাংলার মাটিতে একবার করে ঘুরে যান এবং সকল শিক্ষার্থীদের উপর উনার করুণা বর্ষন করে যান। তবে অন্যান্য অধঃস্তনদের কাজের পরিধি কতটুকু নির্ধারন করে দেন তা অজানা থাকলেও দেবী সরস্বতীর কাজের পরিধি একটু বিস্তৃত আকারেই নির্ধারণ করে দেয়া আছে। দেবী সরস্বতীকে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃষ্টান নির্বিশেষে সকলেই সম্মান করে থাকে। কারন জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনটাই বড় কথা, এখানে ধর্ম বিবেচ্য নয়। সেইজন্যই একমাত্র সরস্বতী পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘর ছাড়িয়ে বাংলাদেশ, ভারতের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে।
Recent comments
19 min 49 sec ago
20 min 18 sec ago
20 min 59 sec ago
21 min 15 sec ago
22 min 31 sec ago
25 min 13 sec ago
26 min 8 sec ago
26 min 29 sec ago
26 min 54 sec ago
27 min 41 sec ago