Personal

WatchDog's picture

আমেরিকান ড্রিম ও একজন হাফ কালো, হাফ মুসলিম প্রেসিডেন্ট - WD

39.jpg
২০০৪ সাল। মার্কিনীরা তৈরি হচ্ছে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য। জর্জ ওয়াকার বুশ তার দ্বিতীয় টার্মের জন্য লড়াই করছেন প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেট জন কেরির বিরুদ্ধে। প্রথা অনুযায়ী দুই দলেরই ন্যাশনাল কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের আগে, যেখানে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিশ্চিত করা হয় দলীয় মনোনয়ন। উপর নীচ লেভেলের অনেক বক্তা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরে দেশবাসীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। কনভেনশনের শেষ পর্যায়ে কী নোট নিয়ে হাজির হন এমন একজন যার প্রভাব থাকে সমাজের সর্ব পর্যায়ে।

আমার সন্তান, আমার উত্তরাধিকার

জন বায়রন নামে এক বিদেশি মৃত্যুশয্যায় কয়েক মাস অবস্থান করার পর দৈবক্রমে ফিরে আসেন। কেউ ভাবেননি, তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। তিনি খুব ধনী ছিলেন। অনেক অট্টালিকা, গাড়ি, বড় ব্যবসা, নগদ টাকা অর্জন করেছিলেন তিনি। মৃত্যুর দুয়ারে যখন তিনি প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলেন বা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন, তখন তার ভাবনা বা অনুভূতি কেমন ছিল জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তাকে। তখন কি তিনি তার ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, নাকি সম্পদ কী করবেন, সেই চিন্তায় ছিলেন, নাকি সুন্দরীরা, যারা তার আন্তরিক সেবায় নিয়োজিত থাকত তাদের চিন্তায় ছিলেন? তার উত্তর ছিল, যখন তিনি ওপারে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন, তখন তার প্রথম কয়েকটি মুখ চোখের সামনে বারবার হাজির হচ্ছিল।
father
এই মুখগুলো তার প্রাণপ্রিয় সন্তানদের মুখ, তার স্ত্রীর মুখ (যাকে তিনি খুব ভালোবেসেছেন বলে মনে হয়নি), তার মৃত বাবা-মার মুখ। তার চোখের সামনে বা মনের পর্দায় কোনো লাস্যময়ী সুন্দরীর মুখ, ব্যাংকের নগদ টাকা, বড় অট্টালিকা_ এগুলো একবারের জন্যও ভেসে ওঠেনি। কথা বলার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর তিনি প্রথম তার স্ত্রীকে খোঁজ করেছিলেন। অবশ্য স্ত্রী-সন্তানরা তার শিয়রের পাশেই অশ্রুসিক্ত নয়নে তার ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছিলেন।

Taslima.Nasreen's picture

মৌলবাদ থাকলে নারী স্বাধীনতা থাকে না

নারী-স্বাধীনতা, মানবাধিকার, মানবতা, মুক্ত চিন্তা, মতপ্রকাশের অধিকার, গণতন্ত্র এবং ধর্মমুক্ত জীবনাচরণের সঙ্গে ধর্ম, ধর্মান্ধতা, ধর্মীয় কুসংস্কার, ধর্মীয় আইন, ধর্মীয় শাসন ইত্যাদির বিরোধ সবচেয়ে বেশি। এই বিরোধ আজকের নয়, যেদিন থেকে ধর্মের আবির্ভাব সেদিন থেকেই। নারীর অধিকারের কথা বলবো, কিন্তু মৌলবাদীরা আমার ওপর অসন্তুষ্ট হবে না, সুযোগ পেলে আক্রমণ করবে না, তা তো হতে পারে না। কেউ কেউ বলে, ওদের খোঁচাও কেন, বা উসকে দাও কেন, বা বাড়াবাড়ি করো কেন, তাই তো ওরা ফতোয়া দেয়, বা হত্যা করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর অর্থ মৌলবাদের কারণে নারীরা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হোক, মৌলবাদ সমাজে ত্রাসের সৃষ্টি করছে করুক, মৌলবাদ নারীকে শেকল পরাচ্ছে পরাক, নারীকে অন্ধকারে বন্দি করছে করুক, কিন্তু নারী যেন মুখ বুজে থাকে। মুখ বুজে না থাকলে মৌলবাদীরা আবার নাখোশ হবে, রাগ হবে, গালি দেবে। এর ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে, তা তো কিছুতেই হতে দেওয়া যায় না।
taslima nasrin
একটা সময় ছিল, সেই সময়কে বলা হয় 'দ্য ডার্ক এজেস' বা 'অন্ধকার যুগ'। খ্রিস্টানেরা ডাইনি আখ্যা দিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারতো মেয়েদের। হিন্দুরা মেয়েদের জ্যান্ত পোড়াতো, স্বামীর সঙ্গে সহমরণে যেতে বাধ্য করতো তাদের, পুরুষের বহুবিবাহ তো ছিলই, উত্তরাধিকার এবং মানবাধিকার থেকে মেয়েদের বঞ্চিত করা হতো, যৌনদাসী আর পুত্র উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবেই শুধু ব্যবহৃত হতো মেয়েরা।

Khandaker.Kamrul.Haq.Shamim's picture

শেখ জামাল ও আমরা বন্ধুরা

১৯৬৪ সালে প্রথম যখন ঢাকায় পা রাখি তখন আমি স্কুলের ছাত্র। সেই স্কুলজীবনেই ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। ঢাকায় আসার দিনই বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামালের সঙ্গে পরিচয়। বঙ্গবন্ধু ও আমার মামার বাড়ি ছিল পাশাপাশি। মামাদের বাড়ির নম্বর ছিল ৬৬৮ যা বর্তমান বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের একটা অংশ। মামা নুরউদ্দিন আহমেদ ছিলেন চিফ কনজারভেটর অব ফরেস্ট; পরে হন কৃষি, বন, মৎস্য ও পশু মন্ত্রণালয়ের সচিব। মামী বদরুন্নেছা আহমেদ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর কেবিনেটের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মামীর হাত ধরেই মহিলা আওয়ামী লীগের যাত্রা। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের এ অঙ্গসংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
shamim
আমার ভাই আমিনুল হক বাদশাহ তখন ছাত্রনেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে সিরাজুল আলম খান আর বাদশাহ ভাই একই রুমে থাকতেন। কুষ্টিয়া থেকে ১৯৬৯ সালে ঢাকা মেইল ট্রেনে ভোরবেলায় আব্বা-আম্মার সঙ্গে ঢাকায় এসে নামি। আম্মা বাদশাহ ভাইকে স্বপ্নে দেখে ঢাকায় আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। ঢাকায় পা রেখেই দেখি মামা দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি আমাদের স্টেশন থেকে ধানমন্ডির বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিকালে সবাই মিলে গেলাম বাদশাহ ভাইয়ের কাছে। সেখান থেকে ফেরার পরই জামালের সঙ্গে পরিচয়।

Mohammad.Abul.Basher's picture

নিজের পাঁচালি: আমার চিন্তা, আমার স্বপ্ন

১.

Sleep

আমার ঘুম খুব গভীর। অনেকেরই ঘুম নিয়ে নানা বাহানা থাকে, কেউ প্রায় প্রতি রাতে লেফট রাইট-লেফট রাইট করে শোয়ার স্থান পরিবর্তন করে, কেউ বা আবার ঘুমের আগে ঠান্ডা এক গ্লাস পানি খায়। আমার নানাজানকে দেখেছি রাতের খাওয়ার পর চল্লিশ কদম হাঁটাহাঁটি করতেন। কারন জিজ্ঞাসা করলে বলেছিলেন যে খাওয়ার পর চল্লিশ কদম হাটা সুন্নত, এছারাও রাতের খাওয়ার পর চল্লিশ কদম হাটলে খাবার হজমের সুবিধা হয় ও রাতে ভাল ঘুম হয়। আবার আমার এক সাবেক বেলজিয়ান গার্ল ফ্রেন্ড কে দেখতাম ঘুমোনোর আগে টয়লেটে যেতো। না ছোট কর্মের জন্য না, বড়ো খাজনা দিতে। তার অভিমত ছিলো, পাকস্থলী নির্ভার থাকলে ঘুম নির্বিঘ্ন হয়।

Rita Roy Mithu's picture

ইংরেজী ভুলে যাওয়া আমি!

আমাদের কোন গৃহশিক্ষক ছিল না, ইংরেজী পড়তাম বাবার কাছে, অংক করতাম মায়ের কাছে। মায়ের কাছে পড়ার একটা মজা ছিল, মা কখনওই বলতোনা, " এই সাধারণ অংক পারসনা, ঐকিক নিয়ম, সুদকষা, কিছুই জানসনা?" আমাদেরকে প্রশ্ন না করে নিজেই অংক করে দিত। আর বাবা ছিল মারাত্মক, ইংলিশ গ্রামার একেবারে গুলিয়ে খাওয়াতো। বাবাকে নিয়ে আমাদের ছিল মহাযন্ত্রণা, পড়ার সময় তো পড়াতোই, ভাত খেতে বসেছি, খাওয়ার মধ্যেই প্রশ্ন, " ক তো দেখি, বাজার করতে গিয়া দেখি মাছের বাজারে অগ্নিমূল্য--ট্র্যানশ্লেশান কি হইব?" ধরণের প্রশ্ন। তবে, বাবার দেয়া এই যন্ত্রণা আমি উপভোগ করতাম, তখন মাথা ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘিলুতে ঠাসা, যে যা শেখায়, চট করে শিখে ফেলি, একমাত্র ভূগোল ছাড়া। তাছাড়া মেজদার সাথে ছিল প্রতিযোগীতা, মেজদা উত্তর দেয়ার আগেই আমি উত্তর দিইয়ে ফেলতাম, ব্যস, বাবার মনোযোগ গিয়ে পড়তো মেজদার উপর। মেজদাকে পেরেশান হতে দেখলে আমার খুব ভালো লাগতো।

এই শাড়িটা নেন, বিক্রি করে দিয়েন না

ঢাকা শহরে সুযোগ পেলেই আমি হাঁটি। অনেকেই হয়তো ভাবছেন, শখ করে সকাল বিকেল হাঁটাহাটির কথা বলছি। না, শখের হাঁটার কথার বলছি না; কষ্টের হাঁটার কথা বলছি। যেমন আজকের হাঁটার কথাটাই বলি।

বারিধারা থেকে বাসায় ফিরবো। অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকলাম একটি স্কুটারের জন্য। তারপর যা পাওয়া গেল, সে ভাড়া চাইলো আড়াই শ' টাকা। অনেক চাইছে স্কুটারওয়ালা। এর কমে সে যাবে না। ঈদের বাজার বলে কথা। আমি আস্তে আস্তে হাটতে শুরু করলাম। দেখি সামনে কোনও খালি স্কুটার পাওয়া যায় কি না!

Shafiul Azam Shipon's picture

‘মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আহমেদ’

প্রত্যহ চলের পথে দেখা হতো,হতো কুশল বিনিময়,সর্বদা মৃদু হাসি,অত্যান্ত বিনয়ী একজন মানুষ ছিলেন যিনি, তাঁকে আর কোনোদিন দেখতে পাবোনা,কথা হবে না কখনোই,মৃত্যু মানেই এমন নির্মম সত্যের মুখোমুখি দাড়াতে হয় আমাদের।
মৃত্যু মানুষের দেহটাকে বিলুপ্ত করে দেয় ঠিকই তবে তার কাজগুলো তাঁকে স্মরনীয় করে রাখে,জীবিতদের মাঝে।জীবতদের সমাজে,রাষ্ট্রে,সমগ্র বিশ্বে।আজকের কৃতকর্মগুলো কাল হয়ে যায় স্মৃতি এবং কাল পেরলে হয় তা ইতিহাস।

WatchDog's picture

আল কায়েদা হুমকি ও ক্ষমতা সমীকরণের মধুচন্দ্রিমা...WD

16.jpg পাঠকদের মনে থাকতে পারে বিএনপির শেষ টার্মের শেষ দিকের কিছু ঘটনা। হঠাৎ করে ভারতীয় মিডিয়া ইনিয়ে বিনিয়ে প্রচার করতে শুরু করে আল কায়েদার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মিশরীয় ডাক্তার আইমেন আল জাওহিরি নাকি বাংলাদেশে। এবং বাংলাদেশি সরকার তাকে সব ধরণের সহযোগীতা দিয়ে লুকিয়ে রাখছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র সফরের আসেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী জনাবা শেখ হাসিনা। তিনি পরিষ্কার ভাষায় মার্কিনিদের জানিয়ে দেন এখনই ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে পরবর্তী আফগানিস্থান।

ফেসবুকীয় দিনলিপি-০১১

ডিসেম্বর ৩০, ২০১৩। ১১.৫০।
একটু পেছন ফিরে দেখা...
https://fbcdn-sphotos-a-a.akamaihd.net/hphotos-ak-prn2/p480x480/1535471_794784347205725_80741034_n.jpg

ডিসেম্বর ৩০, ২০১৩। ১১.০৪।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সহিংসতা প্রতিরোধ ইত্যাদির জন্য সরকারের প্রশিক্ষিত বাহিনী রয়েছে। যতো বেশি সহিংসতার চেষ্টা, ততো কড়া প্রতিরোধ সরকার গ্রহন করতেই পারে। এটা সরকারের দায়িত্বও বটে। কিন্তু আমরা দেখছি একজন মহিলাকে মাটিতে ফেলে পেটানো হচ্ছে।

Syndicate content