আমার স্বপ্নের বিএনপি

এক. আগের কলামে আমার স্বপ্নের আওয়ামী লীগ লিখেছিলাম। সেখানেই উল্লেখ করেছিলাম পরবর্তীতে আমার স্বপ্নের বিএনপি নিয়ে লিখব। আওয়ামী লীগের কট্টর বন্ধুদের দু-একজন বললেন, বিএনপি নিয়ে আর যাই লিখি শিরোনাম যেন আমার স্বপ্নের বিএনপি না হয়। যুক্তিহীন অনুরোধ রাখতে পারিনি। গণতন্ত্রের নবযাত্রায় যে দল দুই-দুইবার গণরায় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, এখনো শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে জনগণের শক্তিতে রাজনীতির ময়দানে দাঁড়িয়ে আছে_ সেই দল নিয়ে হাজারটা প্রশ্ন থাকতে পারে। সেই দলের অনেক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার বিষাক্ত তীর ছুড়ে দিতে পারি; কিন্তু একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমার স্বপ্নের সেই দল কেমন হবে তা কেন লিখতে পারব না?
এটা সত্য যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবার-পরিজনসহ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীতে ক্যু-পাল্টা ক্যু'র রক্তাক্ত পথে সেনাশাসক হিসেবে আবিভর্ূত জিয়াউর রহমান বিএনপি নামের দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেনাশাসক জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর চরম দমন-নির্যাতন চালিয়েছিলেন।
জাতির মহান নেতা শেখ মুজিব ও তার ইতিহাসকে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া থেকে নির্বাসিত করেছিলেন। এ ধারাটি তার উত্তরসূরির শাসকরাও বহাল রেখেছিলেন। বিএনপি নামের দলটি প্রতিষ্ঠা করে সেনাশাসক জিয়াউর রহমান কার্যত মুসলিম লীগের শূন্য আসনটিই পূরণ করেননি, আওয়ামী লীগবিরোধী ক্ষমতার রাজনীতির প্লাটফর্ম তৈরি করেছিলেন। তিনি এক পাশে চীনা বাম মশিউর রহমান যাদু মিয়া, এসএ বারি এটিদের অন্য পাশে দক্ষিণপন্থি মুসলিম লীগের শাহ আজিজুর রহমানদের টেনে এনে রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। পাশাপাশি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মতো মডারেটদের রাজনীতিতে এনে রাষ্ট্র পরিচালনায় কাজে লাগিয়েছিলেন। এমনকি সেনাবাহিনী থেকে বিদায় নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা তরুণ অফিসারদেরও টেনেছিলেন। সেই সঙ্গে সুবিধাবাদীরাও এই দলে ঠাঁই নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের শাসনকাল নিয়ে প্রশ্ন অনেক। দলভাঙা-গড়া, কেনাবেচার রাজনীতিতে তার চতুর হাত ঘুরেছে এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসানো এবং পুনর্বাসন নিয়ে ইতিহাসে তাকে ঘিরে বিতর্ক নিরন্তর।
'৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতের ঘটনায় একজন ঊধর্্বতন সেনাকর্মকর্তা হিসেবে তার ভূমিকা ও কর্নেল তাহের বীর-উত্তমের প্রহসনের বিচারের ফাঁসি নিয়েও তাকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। এত মতপথের মানুষকে দলে ভিড়িয়ে তার শাসনকালে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দমাতে পারেননি। রাত জেগে জেগে দল শক্তিশালী করতে তিনি সময় দিয়েছেন। '৮১ সালের আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের দিন তিনি জানতেন এ শক্তিশালী দলটির ভাঙনের খবর পাবেন। সারা রাত বঙ্গভবনে জেগেছিলেন। ভোর বেলায় যখন খবর এলো ভারতে নির্বাসিত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দলের সভানেত্রী, তখন তার সামরিক সচিব মরহুম জেনারেল সাদেক আহমেদ চৌধুরীকে এই বলে বঙ্গভবন ত্যাগ করেন যে, 'দেশটা বুঝি ইন্ডিয়া হয়ে গেল'।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ দমনে তিনি যেমন ছিলেন অনড় তেমনি চাননি মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা সেই দলটির হাল ধরে দেশে আসুক। শত বিতর্কের পরও জিয়াউর রহমান মানুষের মাঝে দেশপ্রেমিক শাসক হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি দাঁড় করিয়েছিলেন। প্রচারে প্রতিপক্ষদের হারিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিতে পেরেছিলেন। মানুষের কর্মস্পৃহাকে জাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে হাঁস-মুরগির খামার, মৎস্য চাষ, কৃষি উৎপাদন- সব মিলিয়ে উৎপাদনের রাজনীতির স্লোগান মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু দলীয় কোন্দল থামাতে গিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকতায় অসন্তুষ্ট একদল মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে একজন সৎ সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত শাসকের ছায়া ঠাঁই পেয়েছে। ভাঙা সুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জির দৃশ্য মানুষকে কাঁদিয়েছে।
কিন্তু তার মৃত্যুর পর তার সরকার ও দল নৈরাজ্যকর অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করলে বিএনপি সরকারের একটি বড় অংশের সমর্থন নিয়ে সেনাশাসক এইচএম এরশাদ ক্ষমতায় আসেন। ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির জাঁদরেল মন্ত্রী-এমপি-নেতারা সে নিয়ে অকাল বৈধব্যের শাড়ি পরা বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে উত্তরাধিকার হিসেবে টেনে আনেন। বেগম খালেদা জিয়া ভঙ্গুর-বিধ্বস্ত দুর্বল বিএনপিকে নিয়ে রাজপথে নামলে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদের মধ্যে তার নেতৃত্বের প্রতি মুগ্ধ হয়ে তারুণ্যের স্লোগানে শক্তিশালী এক ছাত্র সংগঠনের নাম হয়ে ওঠে ছাত্রদল। ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা এরশাদের সঙ্গে চলে গেলেও সানাউল হক নীরু ও মাহবুবুল হক বাবলুদের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারুণ্যের ঢল নামে ছাত্রদলের ব্যানারে। নীরু-বাবলুর রাজনীতির পরিণতি করুণ হলেও বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রদলের ওপর ভর করেই এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে পড়ে থেকে তার সমর্থকদের কাছে হয়ে ওঠেন আপসহীন নেত্রী। বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবীরা জিয়াউর রহমানকে এক মহৎ রাজনীতিবিদের আসনে বসালেও আমার কাছে তার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আসন আলাদা। জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সেনাশাসক আর খালেদা জিয়া তার স্বামীর উত্তরাধিকারিত্ব নিয়ে এলেও রাজপথের সংগ্রামে উঠে আসা এক গণতন্ত্রের নেত্রী। দল দুর্বল হলেও '৯১ সালের অবাধ নির্বাচনে গণরায় নিয়ে ক্ষমতায় আসা বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীই নন, হয়ে ওঠেন একজন জাতীয় নেত্রী।
দুই. '৯১ সালে খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় আরোহণ জামায়াতের সমর্থনে ঘটলেও তার শাসনামলটি ছিল অনেকটা মোটা দাগের উদার গণতন্ত্রী ও দুর্নীতিমুক্ত। যদিও কারাবন্দী সেনাশাসক এইচএম এরশাদ ও তার জাতীয় পার্টির প্রতি আচরণ ছিল প্রতিহিংসাপরায়ণতায় মোড়ানো। একই সঙ্গে দলের ছায়ায় থাকা একটি অংশ ও দলকানা সুবিধাবাদী সিভিল সোসাইটির গ্রুপটির স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে আসার অপচেষ্টা কার্যত রাজনীতির ইতিহাসে খালেদা জিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। শুধু তাই নয়, জাতির ইতিহাসের বেদনাবিধুর শোকাবহ ১৫ আগস্ট কেক কেটে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের উৎসবমুখর রজনীর যারা সূচনা করেছেন তারা গণমানুষের মাঝে একজন গণতন্ত্রের নেত্রীকে ছোট করেছেন। তারা রাজনৈতিক সংস্কৃতির উচ্চতা ও ঐতিহ্যের ওপরই আঘাত করেননি, বেগম খালেদা জিয়াকে ইতিহাসের কাঠগড়ায়ও দাঁড় করিয়েছেন। বিএনপির লাখো লাখো নেতা-কর্মী-সমর্থক বেগম খালেদা জিয়াকে ও তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে যেমন হৃদয় দিয়ে শ্রদ্ধা করেন তেমনি বিবেক দিয়ে বিশ্বাস করেন বাঙালির মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের জাতির জনক। ইতিহাসে এটা মীমাংসিত হয়ে গেছে। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু বলতে দ্বিধা করে না। বিএনপির নেতা-কর্মীরাও মঞ্চের বাইরে মানুষের মাঝে বিচরণকালে শেখ মুজিব বলেন না, বঙ্গবন্ধু বলে সম্বোধন করেন।
বিএনপির যারা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে শেখ মুজিবের সমান উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান তারা বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার দলের প্রতিষ্ঠাতাকে ছোট করেন। এ দেশের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শেখ মুজিব বাঙালির অবিসংবাদিত নেতাই হননি, গোটা জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে এক সুতায় বেঁধেছিলেন। '৭০-এর নির্বাচনে গণরায় নেওয়া শেখ মুজিবের নামেই, তার ডাকেই '৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর আক্রমণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটেছিল। জিয়াউর রহমানসহ জনগণ শেখ মুজিবের ডাকে সেই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে বাঙালির মহান নেতা শেখ মুজিব নিহত হলেও যুদ্ধ চলত এবং পরিণতি বিজয়ের মধ্য দিয়ে ঘটত এবং সেই যুদ্ধ শেখ মুজিবের নামেই হতো। চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে সেদিনের মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণাটি বীর বাঙালিকে উজ্জীবিত করার অংশ ছিল। এটিকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ যেমন নেই তেমনি এ নিয়ে অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি বা ইতিহাস বিকৃতি ক্ষমাহীন। আজ যারা করছেন শত বছর পরে হলেও অনাগত প্রজন্ম তাদের ক্ষমা করবে না। আওয়ামী লীগের কেউ কেউ যেমন জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বপূর্ণ গৌরবকে অস্বীকার করে পাকিস্তানের এজেন্ট বলে খাটো করার চেষ্টা করেন তারাও ইতিহাসের সত্যকে অস্বীকার করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ভূমিকার কারণে জিয়াউর রহমানকে বীর-উত্তম খেতাবটি দেওয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তাকে উপ-সেনাপ্রধান করেছিলেন।
তিন. বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন আজকের বিএনপি সেই সেনাশাসনবিরোধী গণতন্ত্রের মিছিলে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল। এ দলের লাখো লাখো নেতা-কর্মীর হৃদয়ে গভীর দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক চেতনা ও মূল্যবোধ রয়েছে। এরা মনের দিক থেকে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের কট্টর সমালোচক। মুক্তিযুদ্ধের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে লালন করে গণমানুষের জন্য রাজনীতি করে। গণমানুষের ভোটেই তারা ক্ষমতায় আরোহণের স্বপ্ন দেখেন। এরশাদ জমানায় বেগম খালেদা জিয়ার এদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকলেও আজ তা নেই। ২০০১ সালের নির্বাচন সামনে রেখে খালেদা জিয়ার কার্যালয় হাওয়া ভবনে বসে মেধাবী জাঁদরেল সাবেক আমলারা দলীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির অভিযোগে এই হাওয়া ভবন কলঙ্কিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের অফিস কক্ষকে রেড ব্লকে পরিণত করে মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-নির্যাতন চালানো হয়েছিল। জঙ্গিবাদের উত্থান, বিরোধী দলের নেত্রীর ওপর নৃশংস গ্রেনেড হামলা, দেশজুড়ে হত্যা, নৈরাজ্য সামাল দেওয়ার বদলে খালেদা জিয়া সরকারের অনেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালীরা ক্ষমতার দম্ভে উন্নাসিক আস্ফালন দেখিয়েছেন। এককথায় শেষ পর্যন্ত সবকিছুর পরিণতি শুভ হয়নি। ওয়ান-ইলেভেনে খালেদা জিয়ার পরিবার ও বিএনপিকে কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে। এখনো বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির লাখো লাখো নেতা-কর্মী কঠিন সময় অতিক্রম করছেন। হারিছ চৌধুরী আর হাওয়া ভবনের মুখপাত্র আশিকরা উধাও। ইতিহাস বিকৃতকারী সেদিনের চাটুকার বিএনপির দলকানা আজ্ঞাবহ সুবিধাবাদী সিভিল সোসাইটির বেনিফিসিয়ারি অংশটির দায় নিতে হচ্ছে না।
চার. এ সময়ের আমার স্বপ্নের বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি অতীত পাপের জন্য জনগণের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে দক্ষিণপন্থি জামায়াত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের দলছাড়া করে আগামী দিনে গণরায় পেলে কেমন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে হাঁটবে তার ছবি উপস্থাপন করবে। মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি দুনিয়াজুড়ে প্রশংসিত। এ ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করতে বিএনপি অবদান রাখবে। সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। আমার স্বপ্নের বিএনপি দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা চালু করতে কাউন্সিলরদের ভোটে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতৃত্ব নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। মনোনয়ন-বাণিজ্য নির্বাসনে দিয়ে দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদের মধ্য থেকে নির্বাচনে প্রার্থী দেবে। দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনেও একই ব্যবস্থা অবলম্বন করবে। ছাত্রদলের নেতৃত্বে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নিয়মিত ছাত্রদের মধ্য থেকে নিয়ে আসতে হবে। দলের চেয়ারপারসন সর্বসম্মত হলেও স্থায়ী কমিটি থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যন্ত কেন্দ্রে কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কোনো নেতা-এমপি বা ক্ষমতায় থাকাকালে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিডিয়ায় অভিযোগ এলে দলীয়ভাবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্নীতি ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে বিএনপি কি ব্যবস্থা নেবে, আইনের শাসন বা সুশাসন নিশ্চিতের বিশ্বাসযোগ্য অঙ্গীকার জনগণের সামনে আনতে হবে। দলে আমূল সংস্কার আনার পাশাপাশি আমার স্বপ্নের বিরোধী দল বিএনপির কাছে আবেদন, বেগম খালেদা জিয়া শেখ মুজিবের নাম নেওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শব্দটি জুড়ে দেবেন। আর আগামীতে ১৫ আগস্ট কেক কেটে জন্মদিন পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির নেতা। আওয়ামী লীগের নেতা নন। বিএনপির ভোটারদের আবেগ-অনুভূতির জায়গায়ও তিনি আছেন। নতুন প্রজন্ম এবং অনাগত সন্তানরাও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে তার নাম। তিনি চিরভাস্বর শেখ মুজিবুর রহমান। দুনিয়া যেমন করে নেয় ভারতের মহাত্দা গান্ধীর নাম। বাঙালি জাতি মাথা উঁচু করে তেমনি নিচ্ছে ও নেবে শেখ মুজিবের নাম। আমার প্রস্তাবনা বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর করলে তার জনসমর্থনই বাড়বে না, ইতিহাসেও তিনি বড় হবেন।
- Peer.Habibur.Rahman's blog
- Login to post comments
- 734 reads
একই রকম আরো কিছু ব্লগ
- রাজপথ কোনটি রক্ষা করবে, দেশ না বাড়ি? - AKM.Zakaria
- বিএনপির রাজনীতিতে কালেকটিভ ম্যাডনেস - Abdul.Gaffar.Ch...
- হরতালের কার্যকারণ ও সময়-অসময় - ABM.Musa
- ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা দেখিয়েছে বিএনপি - Ataus.Samad
- Three Cheers for BNP - zahirul
- দেশ এখনও দুর্বল - Ataus.Samad
- ক্ষমা চাওয়ায় অগৌরবের কিছু নেই ম্যাডাম জিয়া...WatchDog - WatchDog
- অকারণ হরতালের ডাকটি প্রত্যাহার করলেই বিএনপি সুবুদ্ধির পরিচয় দিত - Abdul.Gaffar.Ch...
- মধ্যবর্তী নির্বাচনের জুজু ও দিন না-বদলের রাজনীতি - Sohrab.Hassan
- দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের জোয়ার! - Saifullah.Dulal

Recent comments
23 hours 45 min ago
1 day 1 hour ago
1 day 5 hours ago
1 day 15 hours ago
2 days 14 hours ago
2 days 19 hours ago
2 days 20 hours ago
4 days 17 hours ago
4 days 19 hours ago
4 days 17 hours ago