প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও বাংলাদেশ

Muhammed.Zafar.Iqbal's picture

যাঁরা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস, গ্রামীণ ব্যাংক, বাংলাদেশ সরকার এবং দেশের আইনকানুন নিয়ে নির্মোহ, বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ আলোচনা পড়তে চান, তাঁদের এ লেখাটি পড়ার প্রয়োজন নেই। এটি সে রকম একটি লেখা নয়, এটি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অসম্ভব পছন্দ করে, সে রকম একজন মানুষের অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট একটি লেখা। আমি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অসম্ভব পছন্দ করি এবং তার চেয়ে বেশি সম্মান করি।

আমি জানি, এ দেশে আমার মতো এ রকম মানুষের কোনো অভাব নেই। মনে আছে, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবরটি পেয়ে আমি আনন্দে কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষের মতো চেঁচামেচি করেছিলাম।
ক্রিকেট বাংলাদেশ টিম যখন পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো টিমকে হারায়, তখন টেলিভিশনের সামনে লাফঝাঁপ দিয়ে আনন্দে চিৎকার করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু একটি খবর শুনে আনন্দে লাফঝাঁপ দিয়ে চিৎকার করার ঘটনা আমার জীবনে খুব বেশি ঘটেনি। আমার একজন পরিচিত মানুষ নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, সেটি আনন্দের কারণ ছিল না, আনন্দের কারণ ছিল এক ধাক্কায় বাংলাদেশের মর্যাদার জায়গাটি অনেক উঁচুতে উঠে যাওয়াটুকু। যাঁরা জীবনের একটা অংশ বিদেশের মাটিতে কাটিয়ে এসেছেন, শুধু তাঁরাই জানেন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিটিকে বিদেশের মাটিতে কী নিষ্ঠুরভাবে তাচ্ছিল্য এবং অসম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস একা সেটিকে কত বড় একটি মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছেন।

কিছুদিন আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বাংলাদেশের ওপর খুব চমৎকার একটা রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল, সেখানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মানুষের মানসিকতার স্বরূপ বোঝানোর জন্য লেখা হয়েছিল, পাকিস্তানের জনগণের কাছে জাতীয় বীর হচ্ছেন দুর্বৃত্ত (ৎogue) নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খান, যিনি বেআইনিভাবে দেশে-বিদেশে নিউক্লিয়ার অস্ত্র চোরাচালানি করেন আর বাংলাদেশের জাতীয় বীর হচ্ছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে দরিদ্র নারীদের সাহায্য করেন।

সেই প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে এ দেশের সরকার খুব ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে হেনস্থা করতে শুরু করেছে। এটি নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এজেন্ডা ছিল এবং আগে হোক পরে হোক, এটি নিশ্চয়ই শুরু হতো। গত ডিসেম্বর মাসে নরওয়ের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান এই হেনস্থাকরণ-প্রক্রিয়া শুরু করার চমৎকার একটা সুযোগ করেছিল। নব্বইয়ের দশকে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া সেই বিষয়টির সূত্র ধরে প্রথমেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে এমন কঠোর ভাষায় কিছু বক্তব্য দিলেন, যেটি শুনে এই দেশের কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন প্রত্যেকটি মানুষ হতবাক হয়ে গেল। আমাদের সংস্কৃতিতে আমরা সম্মানী মানুষের, বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ সম্মানী মানুষের সম্মান রক্ষা করে কথা বলি, তাই প্রধানমন্ত্রীর সেই কথাগুলো এ দেশের অনেক মানুষকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছিল। আমাদের অর্থমন্ত্রী প্রথমে যৌক্তিকভাবে কিছু কথা বললেন, কিন্তু নিশ্চয়ই তখন তাঁকে রূঢ় ভাষায় কথা বলার জন্য চাপ দেওয়া হলো এবং তখন তিনিও একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করলেন। সাধারণভাবে বাঁশের চাইতে কঞ্চি বড় হয়ে থাকে, তাই সবচেয়ে কদর্যভাবে কথা বলতে শুরু করল ছাত্রলীগ। তাদের কথাগুলো লেখার মতো নয়, যত দূর মনে পড়ে, তারা নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার হুমকিও দিতে থাকে। মৌখিক খিস্তির পর আমরা রাষ্ট্রীয় হেনস্থার স্বরূপটি দেখতে পেলাম। বাংলাদেশের আনাচকানাচে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নামে মামলা হতে লাগল এবং আমরা দেখতে পেলাম, প্রফেসর ইউনূস সারা দেশে ছোটাছুটি করে সেই মামলার জামিন নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যে মানুষটি সারা পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানী মানুষদের একজন, তাঁকে তাঁর দেশের সরকার এ রকমভাবে অসম্মান করতে পারে, সেটি নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হতে চায় না। আজকের (বৃহস্পতিবার) খবরের কাগজে দেখেছি, সরকার তাঁকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অপসারণ করেছে। আমি নিশ্চিত, সরকারের পক্ষ থেকে নানা রকম আইনকানুন দেখানো হবে, কিন্তু পুরো বিষয়টি এমনভাবে ঘটে এসেছে যে, আমি বাজি ধরে বলতে পারি, এ দেশের সাধারণ মানুষ আর সেগুলো বিশ্বাস করবে না। তারা ধরেই নেবে, এটি হচ্ছে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্থা করার আরও একটি ধাপ, শত হাইকোর্ট দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে তাদের বিশ্বাস থেকে টলানো যাবে না।

এ খবরটি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এবং অবিশ্বাস্য গুরুত্বের সঙ্গে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। বেশ কয়েক বছর আগে জেএমবি যখন সারা দেশে একসঙ্গে বোমা ফাটিয়েছিল, তখন দেশের খুব বড় একটা ক্ষতি হয়েছিল, পৃথিবীর অনেকেই ধরে নিয়েছিল, আমাদের দেশটি বুঝি জঙ্গিদের। অনেক দিন পর আবার দেশের খুব বড় একটা ক্ষতি হলো, সারা পৃথিবী ধরে নিল, এ দেশের সরকার হচ্ছে অকৃতজ্ঞ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ। যে মানুষটি এ দেশের মর্যাদা সারা পৃথিবীর সামনে উঁচু করেছেন, এ দেশের সরকার তার পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করছে তাঁকে অসম্মান করার জন্য!

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মানুষ। আমাদের সবারই ইচ্ছে, এ বিষয় নিয়ে গবেষণা হোক, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা হোক এবং ভেতরের সত্যটুকু বের হোক। কতটুকু আশার ব্যাপার, কতটুকু স্বপ্ন, কতটুকু বাস্তব এবং কতটুকু অবাস্তব, সেই তথ্যগুলো আমাদের সামনে প্রকাশিত হোক, কিন্তু তার মানে কি এই বিষয়ের স্বপ্নদ্রষ্টাকে অসম্মান করা হবে? এবং এত স্থূলভাবে?

সত্তর ও আশির দশকে বাংলাদেশ পৃথিবীর সামনে পরিচিত হতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। এই সরকার বিশ্বাস করুক আর না-ই করুক, এই দশকে পৃথিবীতে বাংলাদেশ পরিচিত হয় প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে দিয়ে। কাজেই যখন এ দেশে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অসম্মান করা হয়, তখন যে বাংলাদেশকেই পৃথিবীর সামনে অসম্মান করা হয়, সেই সহজ কথাটি কি এই সরকারের ভেতর কেউ জানে না?

প্রকাশ্যে থুথু ফেলা অশোভন কাজ। যদি ফেলতেই হয়, তাহলে নিচের দিকে ফেলতে হয়। কখনোই ওপরের দিকে কাউকে লক্ষ্য করে থুথু ফেলতে হয় না। তাহলে অবধারিতভাবে সেই থুথু নিজের মুখের ওপর এসে পড়ে।
এই সরকার কি জানে, তারা মুখ ওপরের দিকে করে থুথু ফেলছে?

17Comments

1
bchgdj
Thu, 28/06/2012 - 11:43am

দারিদ্র্য ও দারিদ্র্য-বিমোচনকে এই বৃহত্তর মানব উন্নয়নের প্রেক্ষিতেই বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে দারিদ্র্য-বিমোচনে বহুমুখী প্রক্রিয়া গ্রহণ জরুরি। তখন অন্যান্য পদেক্ষেপের পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য হ্রাস প্রক্রিয়ায় একটি উপাদান হতে পারবে। সেক্ষেত্রে ঋণের শর্তগুলো আরো সহজ হতে হবে, কিস্তি পরিশোধ ও সুদের কার্যকরহার সহজ হতে হবে। মনে রাখা দরকার ধনীরা তুলনামূলকভাবে অনেক অনুকূল শর্তে ঋণ পেয়ে থাকে।

IAS Coaching in Chandigarh

2
wengwo
Sun, 13/05/2012 - 9:53pm

Woman handbag or handbag tin differ from simple to a substantial size, created in tasteful access The Louis Vuitton purses and handbags namely also an authentic accessory apt girls alternatively shimmering gems outfit. Devoid of sending along wallet your halloween costume would undoubtedly program incomplete To get a certain affairs for realizing an discipline a short meanwhile in the day precisely what it takes in the Chanel shoes varies.Louis Vuitton Outlet Based in Paris, the French brand Louis Vuitton for sale regarded as for the ideal manufacturer of grace goods for its finest handbags,baggage plus other fashion accessories. Its productions are nicely received get out with the way the globe along lots of individuals,as we tin generally blot some notable stars and celebrities on Tv wearing Louis Vuitton Store.Not ReproductionsDesigner encouraged purses aren??t the identical as reproduction designer totes which are pretty much characteristic copies of artist bags at present aboard the mall Developer inventive totes alternatively have the similarly resources and excellence of artistry associated with sincere designer baggage,louis vuitton for cheap,but their patterns are initial.Even nevertheless they stick to the trends in purse chart and means prepared via the prime fashion brands,Chanel Outlet,artist influenced totes are distinctive designs, created by distant lower expenditures than their artist attribute similarities,but eminent quality plus longevity.Louis Vuitton bags purses have chance from over a necessary to a lot more of a fashion accessory. For ages speedily females have already been altering their style trends in clothes. This stands correct for the style trends in their Gucci bags for well. The altering designs in Louis Vuitton wallets that constituted the clutch style purses, oversized Gucci Handbags, the hobo bag the satchel, the tote, the duffel to appoint a few are a peek of how each and every form is matchless in their own way & are hugely new among ladies get out on the way the planet. Females are becoming much more style conscious day-by-day deserving to the strew of medium & the accent aboard somebody fashion enhanced with abundance of hype aboard the Louis Vuitton Shoes they sport. Everyone dies apt personal a designer sack merely what folk tend to forget namely ought to not exceed their limits in affordability of certain luxuries in life that they tin do devoid of. Louis Vuitton Cheap namely also agreeable merely it namely hard to find. But I am sure you want find it. If you are late to buy the sack I think it namely impossible for you to buy the bag duplicate Louis Vuitton purses Beyond designer names a party of always of those other steps should be deemed as forward actually varieties of a Leather Miu Miu Gucci store. Check the architectural honesty on the quite sack Your Leather Miu Mi gucci shoes ought be fit to correctly assistance a singular weight, without leaning or collapsing. Also discern assist and stitch conduct of the very seams. You would like apt have it sure a the seams failed to solve from the measure up from the quite leatherChanel handbags.louis vuitton purses handbags is one kind of louis vuitton bags purses, and the designing of the Gucci wallets namely special. It is totally variant from additional normal bag Because from the designing is so special, and so lots of famous super stars prefer the special bag louis vuitton online duplicate Louis Vuitton namely again prescript for success is apt seek for the d purchasers to create a ??family?? feeling. Can you imagine louis vuitton sale can cater clients with a permanent maintenance services? louis vuitton shoes sneakers branded products can be passed from her grandmother, her mother and after to the daughter, you can keep up with the times regardless of what period you brought the production fix and maintenance, specialty stores are duty-bound to their ideal to aid Let one of three generations can continue to have a brand product which for a continuation in the brand vitality of peerless significance.2012 New Herve Leger Dress, the best accustomed actualization trend this daily accepted for one of the world??s acclaimed brands amid the accoutrement field, which namely a attribute of propagating and fashion, this Herve Leger sale has won millions of ladies favor behind it arose it??s admirable actualization and aerial affection ambition achieve you never balloon then the original sight, authoritative you joined beauteous Herve Leger Bandage. Wedges heels are quite much aboard trends now!You ought own one or much more Christian Louboutin shoes for swiftly.Look at these hottest christian louboutin outlet among this summer,Christian Louboutin Cardena Tresse 140 Suede and Leather Espadrille Wedges,have you ever own them?These Christian Louboutin Pumps, stacked wooden heel that measure approximately five.five inches and one.five inches partially concealed platform, gold leather trims, criss-cross straps,open peep toe and signature red leather sole.All the blueprint are so absolute!

http://www.louisvuittonhandbags-hot.com/
http://www.christianlouboutinoutlet-malls.com/
http://www.hervelegerdress-malls.com/
http://www.chaneloutlethot.com/
http://www.guccistore-online.com/

3
vivienbing
Mon, 16/04/2012 - 11:46am

Buying thousands of cheap new era hats home decor items, from fanciful papier mache animals to metal bowls, and selling them in selected stores and online. snapback hats, the global logistics company that was one of the event’s sponsors, consolidated and transported all the women’s products to Miami Beach free of New Era Fitted Hats.

4
topsgranite
Sat, 31/03/2012 - 7:55am

Today’s kitchens are adopting color and an increased choice of available Granite Countertop, while stainless steel remains a true competitor. Color is coming back to the Granite Slab, and one way to carry color into the kitchen is with a Cast Iron sink. Companies have made beautiful cast iron products since its early beginnings in the late 1800s.

5
actiform
Thu, 13/10/2011 - 7:15pm
6
N.C. Das
Sun, 06/03/2011 - 4:08pm

সারাদেশের পল্লী অঞ্চলে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের মধ্য থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে ২,৫০১জনের (যার ৯৯%-এর বেশ নারী) একটি প্রতিনিধিত্বমূলক নমুনা তৈরি করে তাদের সরাসরি সাক্ষাতকার নিয়ে এই গবেষণা কর্মটি পরিচালিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের কাজ ২০০৬ সালের জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাসে সম্পন্ন করা হয়।

গবেষণা থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা সাধারণভাবে এমনসব অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত যেগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রে আসলে সম্প্রসারণের তেমন কোনো সুযোগ নেই। এর কারণ, হয় ঐসব পণ্য ও সেবার বাজার সীমিত (স্থানীয় বাজার নির্ভর বলে) অথবা উতপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ সীমিত অথবা দু'টোই। গবেষণার ফল এটাও দেখায় যে বছর পর বছরের ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণই গ্রহীতাদের ঐসব কাজে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে যা থেকে তারা সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না।

এই গবেষণার ফল থেকে আরো দেখা যায় যে, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের একটি ক্ষুদ্র অংশ আয় বৃদ্ধির দিক দিয়ে যুক্তিসঙ্গতভাবে উপকৃত হয়েছে। কিন্ত বড় অংশেরই আয়-উপার্জন একেবারেই বাড়েনি বা তেমন বাড়েনি। এক-চতুর্থাংশ ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতার ঋণসম্পৃক্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত মিলিত আয় দেশের গরীব মানুষের গড় আয়েরও নিচে।

এটাও দেখা যায় যে, এক-পঞ্চমাংশ উত্তরদাতা পরিমাণগতভাবে খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। আর এক-তৃতীয়াংশ ভোগে গুণগত নিরাপত্তাহীনতায়। প্রায় ৩৯% ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের পর তাদের খাদ্য প্রাপ্তিতে কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কি না তা নিশ্চিত নয়। মাত্র ৭% গুণগত ও পরিমাণগত উভয় দিক থেকে পর্যাপ্ত খাদ্য পেয়ে থাকে। জমির মালিকানার বিষয়েও ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের পর তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ফলাফল আরো দেখায় যে ৭১% ঋণগ্রহীতা-পরিবার এখনো সঠিক চিকিৎসা পায় না। তারা সাধারণত হাতুড়ে চিকিতসকের কাছে যান এটি বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার চরম পশ্চাদপদতার প্রতিফলন এবং ক্ষুদ্রঋণ এক্ষেত্রে তেমন সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেনি। যারা স্বাস্থ্যসেবা মোটামুটি গ্রহণ করতে পারছে তাদের একটা বড় অংশ আবার এটাও জানিয়েছেন যে ুদ্রঋণ গ্রহণের পর তাদের স্বাস্থ্যসেবায় যে উন্নতি ঘটেছে তার প্রধান কারণ হলো সরকারি-বেসরকারি জনচেতনতামূলক কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুবিধা, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের কারণ নয়।

ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের পর মাত্র ২৮% পাকা শৌচাগার ব্যবহার করছেন। এখানেও বৃহত্তর অংশ জানিয়েছেন যে সরকারি-বেসরকারি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সেই সূত্রে সস্তায় পাকা শৌচাগার নির্মাণ কৌশল সম্পর্কে জানতে পারা এর প্রধান কারণ। বাকীদের মধ্যে আগে যারা পাকা শৌচাগার ব্যবহার করেছেন তারা যেমন রয়েছেন তেমনি যারা আগেও সেরকম শৌচাগার করতে না এখনো করছেন না এমনও রয়েছেন।

উত্তরদাতারা জানিয়েছেন যে, শিশু সন্তানদের বিশেষত মেয়ে সন্তানদের শিক্ষার ক্ষেত্রে যতটুকুই উন্নতি হয়েছে, তা হয়েছে প্রধানত সরকারি-বেসরকারি প্রচারণা এবং তাদের দেয়া আর্থিক সহযোগিতা ও সুবিধার কারণে।

জীবনযাত্রার সার্বিক মানের দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায় মোট উত্তরদাতার মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ কিছু উন্নতির কথা বলেছেন। বাকীদের হয় কোনো পরিবর্তন হয়নি, অথবা অবস্থার অবনতি ঘটেছে। স্পষ্টতই বড় আকারের জনগোষ্ঠীই তাদের জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের পরও আগের মতো প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছেন।

সার্বিকভাবে সন্তোষের মাত্রা বিচারে মাত্র এক-চতুর্থাংশ উত্তরদাতা সস্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। ৫০% অসন্তুষ্ট ও বাকী এক-চতুর্থাংশ সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট কোনোটাই না বলে জানিয়েছে। ুদ্র ঋণের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা গড়ার ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যৎ ভাল হবে। আবার এক-তৃতীয়াংশ সামনের দিনগুলো খারাপ হবে এমন আশংকাই করছেন। সামাজিক অবস্থার ক্ষেত্রে অর্ধেকের বেশি উত্তরদাতা ঋণ গ্রহণের পর অবস্থার উন্নতি হয়নি জানিয়েছেন, আরো ১৩% অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। মাত্র ২৮% অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন।

সামগ্রিকভাবে এই গবেষণা থেকে দেখা যায় যে, ক্ষুদ্রঋণর আর্থ-সামাজিক ইতিবাচক প্রভাব খুব সীমিত। স্বল্পসংখ্যক ঋণগ্রহীতা অবশ্য লাভবান হয়েছেন। তবে বেশিরভাগই কোনো সুফল পাননি। বরং অনেক ঋণগ্রহীতা আছেন বিভিন্নভাবে যাদের অবস্থার অবনতি হয়েছে।

ঋণের বোঝার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ প্রক্রিয়াটি বেশিরভাগ ঋণগ্রহীতার জন্য একটি অবিরত প্রক্রিয়া বলে প্রতীয়মান হয়। এই গবেষণায় দেখা গেছে, ঋণগ্রহীতারা ১০% থেকে ১৮% পর্যন্ত ভিত্তিহারে সুদ দেয়। তবে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষেত্রে কার্যকর সুদের হার ও ঋণগ্রহণের ব্যয় যথাক্রমে ২৭% ও ৩১% পর্যন্ত চড়া। ব্র্যাক, আশা ও প্রশিকার ক্ষেত্রে এই হারগুলো আরো বেশী, যথাক্রমে ৩৯-৪১% ও ৪২-৪৫%।

কিস্তি পরিশোধের বিষয়ে প্রায় ৪৮% উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা নানা ধরনের কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন এবং এটা থেকে উত্তরণের জন্য চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণগ্রহণ, অন্য সংস্থা থেকে ঋণগ্রহণ এবং গৃহস্থালী সামগ্রী বিক্রির মতো কঠিন কাজ করতে হয়। কেউ কেউ কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতায় শাস্তি ভোগ করেছেন অর্থাত তাদের মালপত্র ঋণদাতাদের দ্বারা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বস্তুত ৯৬% উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে প্রতি কিস্তি পরিশোধের পরই আবার এক সপ্তাহের মাথায় আরেকটি কিস্তি শোধের চাপে থাকেন তারা এবং অর্থ যোগাড় না হলে অবর্ণনীয় ভোগান্তির আশংকায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন। অনেকেই নিজেদের বিভিন্ন ধরনের সম্পদ-সম্পত্তির বিনিময়ে কিস্তির অর্থ নিশ্চিত করেন যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো নাজুক করে তোলে। ঋণ পরিশোধের এই কঠোর চাপ এবং কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে যে খড়গ তাদের উপর নেমে আসতে পারে তা ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের ক্ষেত্রে এক শক্ত কোল্যাটারেল বটে।

আর যে ৫২% কোনো রকম বড় ধরনের সমস্যা ছাড়া কিস্তি পরিশোধ করতে পারেন, তারাও তা পারেন কখনও ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহার করে আরম্ভ করা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের আয় থেকে, কখনও বা অন্য উতসের আয় থেকে, আবার কখনও খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে। সাধারণভাবে বললে, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে একটি নাজুক অবস্থানে থাকেন এবং তারা অনেকেই এমন সব পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন যা তাদের ঋণগ্রস্ততা বাড়িয়ে তোলে এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলো ঋণ সরবরাহ ও কিস্তি আদায় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের ঋণ তহবিল গড়ে তুলতে পারে। যেমন, মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে যাত্রা শুরু করে ১০% হারে ভিত্তি সুদ এবং ৫% বাধ্যতামূলক প্রাথমিক জামানত ব্যবস্থা থেকে সাপ্তাহিক ঋণ-আদায় ও ঋণদান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক বছরে বাড়তি ১২,৬৪৯ টাকার ঋণ-তহবিল সৃষ্টি হতে পারে। উচ্চতর ভিত্তি সুদের হার ও ঋণগ্রহীতাদের জমাকৃত সাপ্তাহিক সঞ্চয় হিসাবে নিলে তা আরো অনেক বেশি হবে। মূলত এ কারণেই এই ক্ষুদ্রঋণ একটি লাভজনক ও আকর্ষণীয় ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে যা দেশজুড়ে ছোট-বড় শত শত ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ যুগিয়েছে। এতে ঋণ-তহবিল দ্রুত বাড়তে থাকায় সংস্থাগুলোও দিনকে দিন স্ফীতি হয়। কিন্তু ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা আয়-দারিদ্র্য থেকেই মুক্তি পাননি বরং তাদের ঋণগ্রস্ততা ও দারিদ্র্য আরো বেড়েছে। সেখানে জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া ও আয়ের স্তর বাড়ার আশা বাতুলতা মাত্র।

এই গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ মাধ্যমে নারীর মতায়নের যে কথা বলা হয় তা আসলে ঘটেনি। মোট নারী উত্তরদাতার মাত্র ১০% জানিয়েছেন যে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে তাদের পূর্ণ কর্তূত্ব আছে। বাকী ৯০%-এর ক্ষেত্রে হয় তাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই অথবা তারা স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে এসব কাজ করে থাকেন। অবশ্য দুই-তৃতীয়াংশ নারী উত্তরদাতা জানিয়েছে যে তারা নিয়মিত অথবা মাঝে-মধ্যে পারিবারিক কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরত্ব পান। নারী ঋণগ্রহীতাদের এক-চতুর্থাংশ এখনো পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। এক্ষেত্রে স্বামীই প্রধান নির্যাতক। নির্যাতনের শিকার যারা হন বলে জানিয়েছেন তাদের ৬০% বলেছেন যে, ঋণগ্রহণের পর নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছে। আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো যে, ৮২% ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকরী পরিবারের ক্ষেত্রে যৌতুকের প্রবণতা বেড়েছে। বোঝা যাচ্ছে, যেহেতু এসকল পরিবার ক্ষুদ্রঋণ সংগ্রহ করতে পারছেন সেহেতু এই পরিবারগুলোর মেয়েদের বিয়ের সময় পাত্রপ যৌতুকের জন্য বেশি চাপ দিচ্ছে।

উপসংহার
এই গবেষণায় যা পাওয়া গেছে তা হতাশাব্যঞ্জক। দেখা গেল, দারিদ্র্যহ্রাসের একটি হাতিয়ার হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ। তার মানে অবশ্য এই নয় যে গরীবের জন্য ঋণের প্রয়োজন নেই। বস্তুত ক্ষুদ্রঋণ ধারণায় দারিদ্র্যের সংজ্ঞায়নে শুধু আর্থিক আয়ের দিকটিই বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। যেহেতু কেবলমাত্র আয়-উপার্জনকেই বিবেচনায় আনা হয়েছে, সেহেতু ধরেই নেয়া হয়েছে যে সামান্য এই ঋণ গরীব মানুষের আয় বৃদ্ধি করবে যা তাদের গরীবি অবস্থা ঘোচাবে ও জীবনযাত্রার মান বাড়াবে। এই গবেষণায় দেখা গেল, ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতাদের অধিকাংশের আয় বাড়েনি বা তাদের অবস্থার অবনতি হয়েছে। তদুপরি, দারিদ্র্য একটি ব্যাপকতর ধারণা যা জীবন ও জীবিকার সবগুলো দিক ছুঁয়ে আছে। এখানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো মৌলিক বস্তুগত চাহিদাগুলোর পাশাপাশি মানব মর্যাদা ও মানবাধিকারের মতো মানবিক চাহিদাগুলো রয়েছে। আরো রয়েছে মানবসমতা (শিক্ষা-প্রশিক্ষণ-স্বাস্থ্যসেবা), মানবিক মূল্যবোধ, আর্থ-সামাজিক সাম্য ও সমাজ রূপান্তরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগের বিষয় সমূহ।

দারিদ্র্য ও দারিদ্র্য-বিমোচনকে এই বৃহত্তর মানব উন্নয়নের প্রেক্ষিতেই বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে দারিদ্র্য-বিমোচনে বহুমুখী প্রক্রিয়া গ্রহণ জরুরি। তখন অন্যান্য পদেক্ষেপের পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য হ্রাস প্রক্রিয়ায় একটি উপাদান হতে পারবে। সেক্ষেত্রে ঋণের শর্তগুলো আরো সহজ হতে হবে, কিস্তি পরিশোধ ও সুদের কার্যকরহার সহজ হতে হবে। মনে রাখা দরকার ধনীরা তুলনামূলকভাবে অনেক অনুকূল শর্তে ঋণ পেয়ে থাকে।

এই ব্যাপকতর প্রেক্ষিতে দারিদ্র-বিমোচনে প্রধান বাধা সমাজের বর্তমান ক্ষমতা কাঠামো যেখানে জনগোষ্ঠীর একটি ক্ষুদ্র অংশ ক্ষমতা ও সমৃদ্ধি ভোগ করছেন ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিপরীতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বিচ্ছিন্ন থেকে যাচ্ছেন এবং নিচুস্তরের কষ্টসাধ্য জীবন-যাপন করছেন। প্রচলিত নয়া-উদারবাদী মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারা ক্রমেই গেড়ে বসছে আর বর্তমান মতা কাঠামোকে অধিকতর শক্তিশালী করছে।

দেশের সকলের নাগরিকের জন্য কল্যাণকর টেকসই একটি সমাজ রূপান্তর প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হলে, বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি ও কার্যক্রম এমনভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে যা গরীব মানুষের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারে, বিদ্যমান ক্ষমতার কাঠামো ও সম্পর্কের সাম্যভিত্তিক পুনর্বিন্যাস করতে পারে এবং সকল নাগরিকের মধ্যে সাম্য ও সংহতি নিশ্চিত করতে পারে।

7
Torutpal
Torutpal's picture
Sun, 27/03/2011 - 9:39am

Are beta Dasher bachcha dash, tor pachai dilam yea lomba ek Bannnnnnnnnnsh. How dare u chamchika try to undermine a Global Laureate? In fact, tor face dekhle to mone hoi ekta awami shontrashi, chokkhe kalo choshma, lomba chul! Tore kache paile, BUET-er OAB er chipai falaia echcha moto ram dholai dia hoga dia bash dhukaitam so that, u forget the name of your dad as well as Dr. Younus.


Shun beta, tui ar tor mar heda Hasina amader ki shauuada korche? The day Dr. Younus was awarded the most prestigious award in the planet, my supervisor sent me a sepcial e-mail with congrats. I was so much honoured on that day!


Thakosh to beda Bangladesher chipa chapai. Deshesr baire ja, pore bhujbi, Dr. Younus ke. Tor koichcha passport ta jokhon urai falaibo immigration officer ra, khali koibi ami Dr. Younus er dsher manush. Tarporei dhekbi ekkhan salute paibi.


 

8
Mohsin Bhuian
Mon, 07/03/2011 - 6:16am

 আমাদের মধ্যে হয়তো অনেকে পএিকায় ছোট একটা রিপোর্ট পড়েছেন , সেটি হচ্ছ - ভারতের ক্রিকেট মহিরূহ সচিন টেন্ডুলকার বিনয়ের সাথে এক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মান সূচক ডক্টরেট প্রদান প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন । খেলোয়াড় সচীনের গতানুগতিক শিক্ষা আহামরী কিছু নয় । কিন্ত তিনি এমন উচ্চতায় পৌঁছেছেন  যে , কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি তাকে সম্মানিত করতে চায় প্রকারন্তরে সেই  উদভাসিত হবে । পৃথিবীতে এমনও লোক পাওয়া যাবে যার প্রাতিষ্ঠিনিক শিক্ষা প্রশ্নবোধক কিন্ত ছল-বলে-কৌশলে এমনকি অর্থের শক্তিতে ডক্টরেট উপাধি পেতে জীবন পণ করে আছেন । সংগত কারনে যারা সম্মান ক্রয়-বিক্রয় অভ্যস্হ তারাতো দেশের আইন প্রনয়নের পবিএ ক্ষেএ সংসদ নির্বাচনে মোটা অংকের চাঁদার বিনিময়ে অথর্ব লোকদের ক্ষমতার শিখরে বসাতে পিছপা হন না । এর সর্বশেষ উদাহরন হচ্ছে সন্প্রতি গ্রেফতার হওয়া এক মূর্খ গাড়ি চোরের শেষ অভিলাষের মধ্যে । টোকাই ও ছিচকে চোর থেকে গিড়ি চোরের সর্দার বনে যাওয়ার পর তার শেষ ইচ্ছা হলো সংসদ নির্বাচন করে মন্ত্রী হওয়া । দেশের মহাসম্মানিত রাজনীতিবিদরা একজন সম্মানিত সাংসদের যোগ্যতা ও মর্যাদা কোন স্তরে নিয়ে গেছেন সেটা আর চোখে আংগুল দিয়ে দেখানোর প্রয়োজন নাই । কথার জোড় , মোসা্হেবী ও কালোটাকার আধিক্য যেখানে ক্ষমতা ও সম্মানিত হওয়ার সিড়িঁ সেখানে সত্যিকার মেধাবী ও নিবেদিত দেশপ্রেমীরা বঞ্চিত ও অপমানিত হবেন এতে মনোঃকষ্ট হতে পারে কিন্তু বিষ্ণয়ের কিছু নাই । বানরের গলায় মুক্তোর মালা মানায় না । প্রফেসর ইউনুসকে সম্মানিত করেছে সভ্য সমাজ আমরা নই । আমাদের দক্ষতা হচ্ছে অসম্মান করাতে । যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি ইসলামিক ব্যাংকিং এর সমর্থক তারপরও বলবো পৃথিবী জুড়ে যার খ্যাতি ও সম্মান, তাকে বয়সের দোহাই দিয়ে অসম্মানিত করার উদ্দেশ্য যে মহৎ নয় সেটা সহজেই অনুমেয় । পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যারা এই কাজ অত্যন্ত বিচক্ষনতার সাথে সিদ্ধি করতে ব্রতী হয়েছেন, সেই রাজনীতিবিদেরা মৃত্যু ব্যতীত পদত্যাগ কিংবা অবসরে যাওয়ার দৃষ্টান্ত দেখাতে পারেননি । 

9
Raju
Sun, 06/03/2011 - 11:58pm

You criticized success/failure of a Nobel Laureate’s work when he is the victim of nasty politics. Aren’t you being proud that he earned the honor from a most corrupted country? Aren’t you sad the way he was removed?  Who are you?? A Bangladeshi???

10
mujibul
Sat, 05/03/2011 - 7:31pm

Dear professor Muhammad Zafar Iqbal,

How could you ask those of different opinion not to read your article?

Is it remorse?

Calm down: talk sense.