বিকল্প গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল গত ৩ জুলাই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একটি ঘোষণা ও কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। এ ঐক্যের লক্ষ্য কি, কেন এই ঐক্য, কেনইবা শুধু দুটি দলের ঐক্য, অন্যান্য বাম দল কেন এ ঐক্যে নেই, অন্যান্য গণতান্ত্রিক, উদারনৈতিক শক্তির সঙ্গে কোনো ঐক্য বা সমঝোতা হবে কিনা_ এসব নানা প্রশ্নই ওঠা স্বাভাবিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ৪১ বছর পেরিয়ে গেছে। প্রায় পুরো সময় দেশের ধনিক বিশেষত লুটেরা শ্রেণীর বিভিন্ন দল ক্ষমতার হাতবদল করে দেশ চালিয়েছে। কিন্তু তারা দেশের মৌলিক সমস্যাগুলোর বিশেষ কোনো সমাধান করতে পারেনি। বরং সংকট আরও জটিল ও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, ধন- বৈষম্য, আর্থ-সামাজিক সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন সংকট, খাদ্য নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊধর্্বগতি, গণতান্ত্রিক-মৌলিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার হরণ, ক্রসফায়ার, গুম-খুন, জাতীয় ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন, কৃষক ও কৃষকের সংকট, শিল্পায়নের সমস্যা, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস-সংকট, যানজট, সাম্রাজ্যবাদ এবং বহুজাতিক কোম্পানি কর্তৃক আমাদের তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ-কয়লা ও প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন, বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফের খবরদাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক আধিপত্য ও আগ্রাসন, ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, ভূমিদখল, কালো টাকার দৌরাত্ম্য, বুর্জোয়া দলগুলোর মধ্যে দলাদলি, সংঘাত-সংঘর্ষ, দলবাজি ও ক্ষমতা দখলের নীতিহীন, আদর্শহীন রাজনীতি, পরিবেশ বিধ্বংসী নীতি দেশকে ক্রমান্বয়ে সর্বগ্রাসী বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আমরা কয়েক যুগ ধরে এ দুই জোটকে দেখছি। দেখেছি সামরিক শাসন অথবা সেনাসমর্থিত 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার'।
অনেক প্রতিশ্রুতি অনেক আশা জাগানিয়া কথা বলেও এরা জনগণের আশা পূরণ করতে পারেনি। দ্বিদলীয় রাজনীতির পাপচক্রে দেশ আটকা পড়েছে। দেশের মানুষও এই দ্বিদলীয় বৃত্ত থেকে মুক্তি চায়। দুই দলের কাজকর্ম ও অপরাজনীতিতে জনগণ অতিষ্ঠ। জনগণ দুই জোটের বাইরে আরেকটি শক্তি দেখতে চায়।
বাম গণতান্ত্রিক দল শক্তি বা জোট দেশবাসীর এ আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে। কিন্তু বামপন্থিরা আজ বহুধাবিভক্ত। ১৯২০-এর দশকে গঠিত কমিউনিস্ট পার্টি '৬০-এর দশকে মস্কো-পিকিং বিভেদকে কেন্দ্র করে ভেঙে গেল। পিকিংপন্থি পার্টি ভাঙনের পর ভাঙনের মধ্য দিয়ে শতধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৯৯১ সালের দিকে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর মস্কোপন্থি দল বলে পরিচিত সিপিবি থেকে নেতৃত্বের এক বিরাট অংশ অর্ধেক সম্পত্তিসহ চলে গিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি নামে পাল্টা পার্টি গঠন না করলেও আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও গণফোরামে যোগ দেয়। রণনীতি নিয়ে, রণকৌশল, বিপ্লবের স্তর, বিপ্লবের নামকরণ, শত্রু-মিত্র, আশু রাজনৈতিক পদক্ষেপ বা নেতৃত্ব নিয়ে বাম দলগুলোর মধ্যে ভাঙনের পর ভাঙনের ট্র্যাজেডি লাখ লাখ নেতাকর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রম সুমহান আত্মত্যাগের অর্জন ও স্বপ্নগুলোকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে থাকে। কবি মোহন রায়হান আক্ষেপ করে বলেছেন_ 'জমিজমা সম্পদ প্রাচুর্য এমনকি নারী নিয়েও/কি কোনো বিরোধ ছিল কমরেড?/তবু কেন মেঘনার ভাঙনের মতো আমরা অস্তিত্বহীন প্রায়/শুচিতার অহংকার ঠেলে দিয়েছে কোথায় আজ/মানুষের মুক্তি সংগ্রাম?'
আমরা জানি বামপন্থি দলগুলোর মধ্যে যেসব মতভেদ আছে তা দূর করা দুষ্কর। আশির দশক থেকে বিভিন্ন বাম দল এবং গ্রুপগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা দেয়। অনেকেই শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক পার্টি করছে। এ ধরনের ঐক্য প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করা দরকার। আমরা নানাভাবে বামপন্থিদের ঐক্য প্রক্রিয়া অগ্রসর করে নিতে চাই। আমরা সর্বোচ্চ ঐক্য কমিউনিস্ট ঐক্য গড়ে তুলতেও আগ্রহী। এ ধরনের ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এক দলে পরিণত করার জন্য আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সে আলোচনা বেশিদূর অগ্রসর হয়নি। তবে এ ধরনের প্রচেষ্টা আজও অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে সিপিবির সঙ্গে কমরেড হায়দার আকবর খান রনোর নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টি (পুনর্গঠিত) মিলে এক পার্টিতে পরিণত হয়েছে।
আমরা কমিউনিস্ট ঐক্য ছাড়াও বামপন্থিদের নিয়ে একটি বাম ঐক্য বা বামফ্রন্ট গড়ে তুলতেও আগ্রহী। আমরা একসময় বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠন করেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ সময় একসঙ্গে চলার পর তা ভেঙে যায়। ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল আওয়ামী জোটে যোগ দেয়। বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও অন্যান্য উদারনৈতিক দলের সঙ্গে ১১ দল গড়ে তুলেছিল, সেটিও ভেঙে যায় একই কারণে।
এরপরও আমরা বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গড়ার প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করিনি। সে ধরনের ফ্রন্ট গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নানাভাবে বামপন্থিদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে অগ্রসর করার চেষ্টা নিই। আমার ৩২, চামেলীবাগের বাসায় সব বামপন্থিকে ডাল-ভাতের আমন্ত্রণ করেছিলাম । সেখানে কমরেড বদরুদ্দীন উমরের উদ্যোগে এক আলোচনার মধ্য দিয়ে বামপন্থিদের ঐক্যবদ্ধ কিছু কর্মসূচির সূত্রপাত হয়। সেটাও একপর্যায়ে থেমে যায়। এরপর প্রয়াত সাংবাদিক-সাহিত্যিক ফয়েজ আহমেদের বাসায় আরেকবার সব বামপন্থি একত্রিত হই। সেখান থেকেও কিছু ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এটাও বেশিদূর এগোয়নি। এমনি অনেক প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল। কোনোটা কিছুদূর এগিয়েছে কোনোটা একেবারেই এগুতে পারেনি। একবার বদরুদ্দীন উমর ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কিছু কর্মসূচি নিই। বামপন্থি ও দেশবাসীর মধ্যে সেটা কিছু আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু সেটিও একসময় উবে গেল। আশার কথা, কয়েকটি বামপন্থি দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে 'গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা' গঠন করেছে। এর বাইরে আছে সিপিবিসহ আরও কয়েকটি বাম দল ও জোট। বাস্তব সমস্যা বিবেচনা করে সিপিবি ফ্রন্ট না হোক অন্তত কিছু কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। একপর্যায়ে সিপিবি ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ১২ দফার ভিত্তিতে কিছু কর্মসূচি নেয়। কিন্তু দু'চারটি কর্মসূচির পর বাম মোর্চা পিছিয়ে যায়। তবে আশার কথা তারপরও নানাভাবে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। সর্বশেষ গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা সিপিবির সঙ্গে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সম্মত হয়। একসঙ্গে একটি সমাবেশও হয়। সমাবেশ থেকে আরও দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তার আগেই গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা একতরফাভাবে পরের দুটি কর্মসূচি বাতিল করে এবং ঐক্য ভেঙে দেয়। এরপরও সিপিবি মোর্চার সঙ্গে এবং মোর্চাভুক্ত দলগুলোর সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনায় বসি। বাম দলগুলো স্বীকার করে বামপন্থিদের ঐক্য খুব জরুরি এবং এ নিয়ে কালবিলম্ব করা ঠিক হবে না। বাম মোর্চাও মনে করে একটি অর্থবহ বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার জন্য সিপিবির সঙ্গে ঐক্য প্রয়োজন। কিন্তু এতকিছুর পরও বাস্তব ঘটনা হচ্ছে আমরা বাম মোর্চা এবং মোর্চাবহিভূর্ত দল থেকে ন্যূনতম ইস্যুভিত্তিক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ব্যাপারে কোনো সাড়া পাইনি। বামপন্থিদের ঐক্য গঠনে এ বিলম্ব বুর্জোয়া দলগুলোর কাছে রাজনীতির মাঠ ছেড়ে দেওয়ার শামিল। বছরের পর বছর চলে গেল। জনগণ চায় একটি বিকল্প শক্তির আবির্ভাব। সব বাম দলই এর প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে। এটা যে খুবই জরুরি এবং বিলম্ব হচ্ছে আত্মঘাতী তাও সবাই মানে। কিন্তু তারপরও আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে পারছি না। দেশবাসী ও বামপন্থিদের আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?
আমরা বামপন্থিরা নানা মতপার্থক্য সত্ত্বেও তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির লড়াই এগিয়ে নিয়েছি। সেখানে আমাদের সাফল্য কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। ৭ম নৌবহর ও মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দলগতভাবে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি নিতে ব্যর্থ হলেও ২৯ জুন বুদ্ধিজীবীদের ডাকে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছি। তবে এসব আন্দোলন ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যাভিমুখী রাজনৈতিক ঐক্যের বিকল্প হতে পারে না। বামপন্থি দলগুলো যেসব ইস্যু নিয়ে রাস্তায় নামছে তার মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাহলে কেন আমরা সেগুলো নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামতে পারব না? বামপন্থিরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে নামতে পারি তাহলে মানুষও দেখবে আরেকটি তৃতীয় শক্তি আছে। আমাদের জমায়েত যত বড় হবে, গণসংগ্রাম যত জোরদার হবে ততই মানুষ ভরসা পাবে, হ্যাঁ বামপন্থিরা পারবে। দ্বিদলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম গণতান্ত্রিক শক্তিই পারবে এ সংকটের আবর্ত থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে। বাম দলগুলোর কারও একার পক্ষে জনগণের আস্থা অর্জন করা কঠিন হবে। কিন্তু আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে দুই জোটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলার শক্তি আমাদের আছে। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে; কিন্তু মিলের জায়গা অনেক বেশি। বিভিন্ন দলের মধ্যেও তো মতপার্থক্য আছে। কিন্তু তারপরও তারা একসঙ্গে কাজ করছে। বামপন্থিদের ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেশের রাজনীতিতে এক বড় ট্র্যাজেডি।
আবারও মোহন রায়হানের কবিতার আশ্রয় নিতে হয়। 'প্রবল বন্যায় ভাঙা নদীরও তো জেগে ওঠে চর/পলি জমে জমে বন্ধ হয় প্রমত্ত খাড়ির মুখ/কমরেড সূর্যের কণাগুলো জমা করে আমরাও কি শেষবারের মতো জ্বলে উঠতে পারি না যূথবদ্ধ?' পারছি না সবাই এক হতে। সবার সঙ্গেই কথা হয়েছে। বাসদের পক্ষ থেকে সাড়া পেয়েছি। বামপন্থি দলগুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত বড় দল সিপিবি এবং বাসদ। এ ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি আছে। কিন্তু তারা আজ ১৪ দলীয় জোটে। কিন্তু আমাদের বাম ঐক্যের লক্ষ্য দ্বিদলীয় মেরুকরণের বাইরে একটি বিকল্প শক্তি গড়ে তোলা। বাম ফ্রন্টের বা ১১ দলের ঘোষণাও ছিল অনুরূপ। একটি মেরুর সঙ্গে গিয়ে তো আর সে রকম বিকল্প হয় না!
অনেক দেরি হয়ে গেছে। আর নয়, আলোচনা চলুক। কিন্তু সিপিবি বাসদ আমরা আজ একটি ঘোষণা ও কর্মসূচি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। বিকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ ঐক্য। আমরা আশা করব, মোর্চার মধ্যে এবং বাইরে যে বামপন্থি দলগুলো আছে তারা সময়ের দাবির কথা বুঝবেন, বামপন্থিদের কাছ থেকে জনগণের প্রত্যাশা উপলব্ধি করবেন। আগামীতে আরও বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তুলতে এগিয়ে আসবেন।
বামপন্থিদের ঐক্যের ভিত্তিতে অন্যান্য গণতান্ত্রিক বা উদারনৈতিক দল, শক্তি ও ব্যক্তিকে নিয়ে একটা বৃহত্তর বলয় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা দরকার। বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, বর্তমান পর্যায়ের লক্ষ্য ও কৌশল বিবেচনায় জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য এ ধরনের ঐক্য ও সমঝোতার বাস্তব প্রয়োজন আছে। তবে এ ধরনের শক্তি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। নানা দোদুল্যমানতা, দ্বিধাদ্বন্দ্ব, দ্বিদলীয় মেরুর কোনো একটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং বামপন্থার প্রতি বিরূপতা_ এসব শক্তির পরিচ্ছন্ন বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে। সব সংকীর্ণতার ঊর্ধ্ব থেকে বামপন্থিদের ধৈর্যশীল প্রচেষ্টা বৃহত্তর বাম গণতান্ত্রিক বলয় সৃষ্টির পথকে সুগম করবে। এ ধরনের ঐক্যের ফর্ম বা ধারা উদ্ভূত বাস্তবতার নিরিখেই নির্ধারিত হবে।
ইতোমধ্যে রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির দাবি নিয়ে অনেকে আর্বিভূত হচ্ছেন। দুই দলের ব্যর্থতা ও দেউলিয়াপনার কারণে অতিষ্ঠ দেশবাসী তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব চাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটেই এদের উদ্ভব। অতীতে এক-এগারো, সুশীল সমাজ বা কিংস পার্টির নামে এরা বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে।
কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন দুই জোটের ব্যর্থতার মূল কারণ হচ্ছে পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী ধারা, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নির্দেশ, ধনিক স্বার্থে গৃহীত নীতিমালা। আজ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি-সংকট সবকিছুর জন্যই দায়ী ওইসব গণবিরোধী ডানপন্থি নীতি। সরকার বদল হয়েছে কিন্তু ওইসব নীতির পরিবর্তন হয়নি। যার ফলে কোনো সরকার সংকটের সমাধান করতে পারেনি। এক-এগারো বা তৃতীয় শক্তিও নীতির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। তারা আসলে দেশি-বিদেশি ধনিক গোষ্ঠীরই তৃতীয় বিকল্প। এসব কারণে তারাও ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল গণমুখী। পুঁজিবাদী ধারা ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যাভিমুখী। দেশের সংবিধানে সেই কথাই বিবৃত আছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় পুঁজিবাদী ধনিকমুখী নীতিগুলো পাল্টে দিয়ে গণমুখী বামপন্থি সমাজতন্ত্রমুখী বিকল্প নীতি নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। দেশের গতিমুখ পাল্টে দিয়ে গণমুখী বিকল্প কর্মসূচি নিয়ে কেবল বাম প্রগতিশীলরাই এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। এসব বিকল্প পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়ে বাম প্রগতিশীল শক্তি দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির বিকাশ, বিকল্প গণসংগ্রাম ও আন্দোলন এবং সরকারই পারে দেশ ও জনগণকে আজ সর্বগ্রাসী সংকট থেকে মুক্তি দিতে। সে বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সিপিবি-বাসদ ঐক্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে_ এটাই সবার আশা ।
- Monjurul.Ahsan.Khan's blog
- Login to post comments
- 429 reads
একই রকম আরো কিছু ব্লগ
- আমরা লিখিয়েরা ও আদালত - Ataus.Samad
- বিচারপতি হাবিবুর রহমানের স্পষ্ট ভাষণ - Ataus.Samad
- চীন ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক - abdullah.shafi
- ভারতে বাংলাদেশ-ভাবনা - সাজ্জাদ শরিফ - sajjad.sharif
- সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবতা - Haidar.Akbar.Kh...
- একটি 'অকারণ' বিতর্কের 'প্রকৃত কারণ' - Mujahidul.Islam...
- সাতটি লাশের রাজনীতি - Mohshin.Habib
- প্লিজ প্রধানমন্ত্রী, খালেদা জিয়ার ভাষায় কথা বলে নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবেন না - Abdul.Gaffar.Ch...
- ভালো কাজে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার - Ataus.Samad
- কচুঘেচু, লুটপাটের সংস্কৃতি - Hasan.Hafiz

Recent comments
1 day 2 hours ago
1 day 4 hours ago
1 day 8 hours ago
1 day 18 hours ago
2 days 17 hours ago
2 days 22 hours ago
2 days 23 hours ago
4 days 20 hours ago
4 days 22 hours ago
4 days 20 hours ago