সা মি রা মা খ মা ল বা ফ : সমকালীন বিশ্বের সেরা নারী চিত্রনির্মাতা


ইরানের তরুণ নারী চিত্রনির্মাতা সামিরা মাখমালবাফ মাত্র তিরিশ বছর বয়সেই জায়গা করে নিয়েছেন সমকালীন বিশ্বের সেরা চল্লিশ চিত্রপরিচালকের তালিকায়। বাবা বিখ্যাত চিত্রপরিচালক মোহসেন মাখমালবাফ। মাত্র পাঁচটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেই নিজের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছেন বেশ জেরেসোরেই। কান ও ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবসহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে তার ছবি। পেয়েছেন একাধিক আর্ন্তজাতিক পুরস্কার। সর্বশেষ ছবি ‘টু-লেগড হর্স’ প্রসঙ্গে এবং চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি ‘মাখমালবাফ ফিল্ম হাউস’ এর সঙ্গে কথা বলেন সামিরা। ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসকে সামনে রেখে এ সাক্ষাৎকারটি ‘প্রিয় ব্লগ’ পাঠকদের জন্য অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ নাদিম ।
প্রশ্ন : ‘টু-লেগড হর্স’ ছবির ভাবনাটা কিভাবে মাথায় এলো ?
উত্তর : আমার বাবার ( মোহসেন মাখমালবাফ ) কাছ থেকে। একদিন সকালে বাবা আমার হাতে একটা স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দিয়ে বললেন, সারা রাত জেগে লিখেছি,তোমার পছন্দ হলে ছবি বানাতে পারো।আমি স্ক্রিপ্টটি আগ্রহ নিয়ে পড়লাম এবং রীতিমতো একটা ধাক্কা খেলাম। উত্তেজিত হয়ে বাবার কাছে ছুটে গেলাম, এ গল্পে এত নির্মমতা, তিক্ততা ও সহিংসতা কেন ? বাবা উল্টো আমাকে প্রশ্ন করলেন, ইরানের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তুমি আমার কাছে কি আশা করো ? আপাত দৃষ্টিতে আধুনিক মনে হলেও প্রকৃতপে আদিম এ সমাজব্যবস্থায় মানুষের গোপন আচরণ আমি আর কিভাবে বর্ণনা করবো ? এই সমগ্রতাবাদী সমাজে বিদ্যমান সামাজিক সম্পর্কগুলো আর কিভাবেই বা ব্যাখ্যা করা যাবে ? আমি সারারাত ভাবলাম, না এমন গল্প নিয়ে আমি কাজ করতে চাইনা। স্ক্রিপ্টটি পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো আমি যেন দুঃস্বপ্ন দেখছি, আমি যেন বাক্সবন্দি কোন মানুষ ! বাবা আমার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে স্ক্রিপ্টটি ফেরত নিয়ে গেলেন। এর কথা ভুলে যেতে এবং আমাকে শান্ত হতে বললেন। কিন্তু আমি শান্ত হতে পারলাম না । দু’পেয়ে ঘোড়া যেন আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। এ গল্পের কাহিনি ছিল খুবই তিক্ততাপূর্ণ ও নৈরাশ্যজনক কিন্তু বাস্তবের চেয়েও সত্যি। নিজেকে প্রশ্ন করলাম, চোখ দুটো খুলে চারপাশে ভালো করে তাকাও ;তুমি কি এমন ঘোড়া আর তাদের আরোহীদের দেখতে পাচ্ছো না ? আগে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ তত্ত্ব’ আমাকে বিমোহিত করতো-যেখানে তিনি দেখিয়েছেন পশু থেকে কিভাবে মানুষের সৃষ্টি হয়েছে। স্ক্রিপ্টটি পড়ার পর আমার মনে হলো আমি যেন ‘দু’পেয়ে ঘোড়া তত্ত্ব’ আবিস্কার করলাম; যেখানে মানুষ ধীরে ধীরে পশুতে পরিণত হচ্ছে। আর এটা হচ্ছে মতার হাতে নিগৃহীত এমন একট অবস্থা যা মানুষ নিজেই সৃষ্টি করেছে। এ পশু হয়ে ওঠার ব্যাপারটি শুধুমাত্র একদলীয় শাসনব্যাবস্থার সঙ্গে সমাজের সম্পর্ককেই চিহ্নিত করে না; ব্যক্তিক সম্পর্কের েেত্রও এটি প্রযোজ্য। এমনকি বিবাহিত জীবনে কিংবা দুই বন্ধু বা সহকর্মীর মধ্যেও বিষয়টি ক্রিয়াশীল। যে কারণে মানুষে-মানুষে সুস্থ মানবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আবার একই মানুষ অন্যের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করে। আমি মনে করি দুই জন মানুষ তখনই একে অন্যকে শোষণ করে যখন তাদের আচরণের পরিবর্তন ঘটে। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম কাজটা করবো।
প্রশ্ন : ছবিটি চিত্রায়নের জন্য আফগানিস্তানকে বেছে নিলেন কেন ?
উত্তর : একাধিক কারণে। প্রথমত: ইরানী কর্তৃপ দেশে শ্যুটিং করার অনুমতি দেয়নি।দ্বিতীয়ত: গল্পের প্রোপটের সঙ্গে আফগানিস্তানের পরিবেশের বেশ মিল রয়েছে। এছাড়া দেশটির প্রায় অর্ধেক নাগরিকই আমার মাতৃভাষায় কথা বলে। আর আমি নিজের ভাষায় ডিরেকশান দিতে পছন্দ করি; সে কারণে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে আমার কাজ করতে সুবিধা হবে। তাছাড়া ছবিটির গল্প মানুষকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে; অনেক স্থানেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে- সেটা আফগনিস্তানও হতে পারে।
প্রশ্ন : ‘টু-লেগড হর্স’ ছবিটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছে দুই আফগান বালক; যারা পেশাদার অভিনেতা নয়- এদের কিভাবে পেলেন, অভিনয়-ই বা করালেন কিভাবে ?
উত্তর : কাজটি ছিল খুবই কঠিন। আমি এমন দুইজনকে খুঁজছিলাম যাদের চেহারা ও ব্যক্তিত্ব হবে সম্পূর্ণ আলাদা।এ জন্য আমাকে আফগানিস্তানের কমপে দশটি শহর চষে বেড়াতে হয়েছে । অবশেষে পা নেই অথচ প্রচন্ড আতœবিশ্বাসী এমন একজন বালককে খুঁজে পেলাম উত্তর আফগানিস্তানের এক শহরে। পেশায় ভিখারী বালকটিকে দেখে আমার মনে হল সে পারবে। অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি ভিখারীদের মধ্যে একটা সহজাত অভিনয় মতা থাকে; কারণ তাদের অন্যের সহানুভূতি আদায় করে বাঁচতে হয়। আর দ্বিতীয় অভিনেতার েেত্র আমি চেয়েছিলাম এমন একজনকে যাকে মানুষ হয়েও ঘোড়ার চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। তাকেও খুঁেজ পেলাম সেই রাস্তাতেই; গাড়ি ধোয়া-মোছার কাজ করে। ছবিটির শ্যুটিং চলাকালে দীর্ঘ দুই মাস তাকে ২৫ কেজি ওজনের বালকটিকে কাধে করে হাঁটতে ও দৌড়াতে হয়েছে। ব্যাপারটি অত সহজ ছিল না। শ্যুটিং শুরুর আগে চল্লিশ দিন ধরে ওকে লবণভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্র্যাকটিস করাতে হয়েছে। প্রতিদিন এক কেজি করে লবণের পরিমাণ বাড়াতে হয়েছে। তাছাড়া ওকে দীর্ঘসময় ঘোড়ার সঙ্গে কাটাতে হয়েছে, তাদের আচরণ আয়ত্ব করতে। ঘোড়া কিভাবে খায়, ঘুমায় শিখতে হয়েছে।
প্রশ্ন : অপেশাদার অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করা কি একটু কঠিন বলে মনে করেন ?
উত্তর : কঠিন তো বটেই তবে আমার ভালো লাগে। তারা চলচ্চিত্র কি বোঝে না কিন্তু তাদের রযেছে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা । তাই অনেক ধৈর্য্য নিয়ে কাজ করতে হয়। আমার ছোট বোন হানা ‘ সামিরা এন্ড আনপ্রফেশনাল অ্যাক্টরস’ নামে একটি তথ্যচিত্র বানিয়েছে, যেখানে অপেশাদার অভিনেতাদের সঙ্গে আমার কাজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যা কোন স্কুলে শেখানো হয় না, জীবন নামের এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিখতে হয়।
প্রশ্ন : ছবিটি নিয়ে আপনার নিজস্ব কোন ব্যাখ্যা রয়েছে ?
উত্তর : দেখুন আমি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা, এর ব্যাখ্যাকার নই। ছবির দর্শক আর সমালোচকদের উপরই আমি বিষয়টি ছেড়ে দেই। তাছাড়া আমি ‘লেখকের মৃত্যু’ তত্ত্বে বিশ্বাসী। একজন শিল্পী বা লেখক যখন কোন কিছু সৃষ্টি করেন সেটা একজন মায়ের সন্তান প্রসবের মতোই। মায়ের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে শিশুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কোন ব্যতয় ঘটে না।তাই শিশুর মতোই শিল্পকর্মও স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠে; প্রত্যেকে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তার বিচার করেন।তাছাড়া সৃষ্টি মাত্রই একাধিক অর্থ বহন করে থাকে । একে সামাজিক, রাজনৈতিক, মানসিক অবস্থান থেকে কিংবা সাহিত্যিক বা দার্শনিক এমনকি ধর্মীয় বা পৌরাণিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও ব্যাখ্যা করা যায়। তবে এটুকু বলতে পারি ছবিটি করার েেত্র রুশ মনোবিজ্ঞানী ইভান পাভলোভের আচরণগত পরিবর্তন বিষয়ক তত্ত্বটি আমার মাথায় কাজ করেছে। এটাকে এক ধরনের ‘নিউ পাভলোভিজম ’ বলা যেতে পারে। মূলত ছবিটিতে মানুষ নামের পরিপূর্ণ পশু ও তার অবস্থাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রশ্ন : টু-লেগড হর্স কি সহিংসতার ছবি ?
উত্তর : ছবিতে সহিংসতা এসেছে কিন্তু সেটা হলিউডের মারদাঙ্গা ছবির উপভোগ্য সহিংসতা নয়। বরং ওই ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে এ ছবি; যা দর্শকদের নতুন করে চিন্তা করতে সহায়তা করে। মূলত সমকালীন মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সহিংসতা বা হিংস্রতাকে আমি ছবিতে তুলে আনতে চেয়েছি। ফ্রয়েড বলেছিলেন, মানুষের সভ্যতার ইতিহাস হচ্ছে অজ্ঞতা আর অসভ্যতার সাগরের উপরে জমা বরফের হালকা প্রলেপের মতো ঠুনকো। আমার ছবিতে যুদ্ধ, সমাজ বিপ্লব ও ব্যক্তিক নৃশংসতা থাকলেও তা ওই পাতলা বরফের স্তরের মতোই, এক পর্যায়ে যা ভেঙ্গে চৌচির হয়ে অজ্ঞতা আর অসভ্যতার সাগরে মিশে গেছে।
প্রশ্ন : আপনার এ ছবিতে শিশুদের হিংস্রতা দেখিয়েছেন। আমরা তো শিশু-কিশোরদের ওপর তৈরি কাব্যিক চলচ্চিত্র দেখতেই অভ্যস্ত !
উত্তর : প্রথমত বলে নেই এটা শিশুদেও চলচ্চিত্র নয়। সাধারণ দর্শকদের জন্যও নয়। দ্বিতীয়ত সাহিত্যে শিশুরা কোমল ও কাব্যিক হলেও বাস্তব জীবনে তারা সবসময় তা নয়। সমাজ বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, শিশুদের সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও দেখভাল করা নাহলে তারা একে অন্যের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে।তাই আমি বলবো যারা কোমল ও কাব্যিক ছবি দেখতে চান তাদের জন্য এ ছবি নয়।
প্রশ্ন : ছবিতে দুই বালকের সম্পর্কের মধ্যে যৌন কামনা উদ্রেককারী কোন ব্যাপার ছিল কি ? বিশেষ করে ঘোড়া-বালক খোঁড়া-বালককে গোছল করানোর সময় কিংবা অর্ধনগ্ন হয়ে বিছানায় শুয়ে সিলিংয়ের মাকড়সা নিয়ে আলাপের দৃশ্য সম্পর্কে আপনি কি বলবেন ?
উত্তর : না ব্যাপারটি তা নয়। এসব দৃশ্যের মাধ্যমে আসলে মতা ও মতাহীনের সম্পর্ককে রূপক অর্থে প্রকাশ করতে চেয়েছি।বলা যায় সরকার ও জনগণের প্রতীক চরিত্র ওই দুই বালক। গোছলের সময় দুই বালকই ভয় পেয়েছিল ; যেমন সরকার ভয় পায় মতাচ্যুত হবার আর জনগণ ভয় পায় নির্যাতিত হবার। আবার অন্য দৃশ্যের েেত্রও বিষয়টি প্রযোজ্য। মতার এমনই প্রভাব যা ক্রমশঃ সরকার ও জনগণ পরস্পরকে আত্বিকরণ করে ফেলে; এক পর্যায়ে তাদের আচরণও এক হয়ে যায়। যেমন সরকার কোন ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিলে জনগণও তা সহজেই মেনে নেয়। তাছাড়া কোন যন্ত্রণা অভ্যাসে পরিণত হলে এক সময় তা-ও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। যাকে বলা যায় সরকার আর জণগণের মধ্যে বিরাজমান ‘আপোসকামী যৌন কামনা’।
প্রশ্ন : ছবিতে নানা বিষয় এসেছে, এর মধ্যে প্রধান কোনটি ?
উত্তর : সম্পর্কের েেত্র সময়ের বিবর্তনে মানুষের পশুতে পরিণত হওয়া; যেখানে একজন অন্যজনকে ব্যবহার করে আর অন্যজন হয় ব্যবহৃত।
প্রশ্ন : এটা কি বিনোদনধর্মী না শিামূলক চলচ্চিত্র ?
উত্তর : দু’টোই বলা যায়। বিনোদন না থাকলে দর্শক ছবি দেখে না, আবার শুধুমাত্র বিনোদন সর্বস্ব ছবি পন্ডশ্রম ছাড়া কিছু নয়। বদলে দেয়ার ল্য ছাড়া আমি কোন ছবি তৈরী করি না। নবোকভের মতে , যে কোন শিল্পকে পরিশুদ্ধ হয়ে উঠতে একটা চমৎকারিত্বের ছোঁয়া প্রয়োজন। আমার এ ছবিতে খেলতে খেলতে একটি বালক ঘোড়ায় রূপান্তরিত হয়ে যায়। এই যে তার বদলে যাওয়া, এটা কিন্তু আরোপিত নয়। আর এখানেই এ ছবির চমৎকারিত্ব ।
প্রশ্ন : ছবিটি কাঠামোগত দিক থেকে তথ্যচিত্রের মতো মনে হয়েছে-এ ব্যাপারে কিছু বলবেন ?
উত্তর : পরাবাস্তব বিষয়কে বাস্তব করে দেখানোর ওটা একটা কৌশল মাত্র । যাতে দর্শক বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। ডকুমেন্টারির মতো মনে হলেও পুরো ছবিটিই আগে শ্যুটিং করতে হয়েছে।
প্রশ্ন : সব কিছু ছাপিয়ে ছবিটিতে ুধার্ত ও দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতির বিষয়টিই উচ্চকিত হয়ে উঠেছে, তাই নয় কি ?
উত্তর : অবশ্যই। তবে এটা তো কল্পনা নয়; বরং কঠিন বাস্তব। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রতি একশত জন মানুষের মধ্যে পনেরো জনই রাতে ুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যায়! সমাজতন্ত্রের পতনের পর বিশ্বের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। বিশ্ব এখন বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণে। যেন মানুষের জন্য নয়, বাণিজ্যর জন্যই মানুষের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বত্রই মানুষ অর্থেও ক্রীড়ানকে পরিণত হচ্ছে।
প্রশ্ন : ছবিটির শ্যুটিং চলাকালে গ্রেনেড হামলায় আপনার টিমের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিল। কেন এই হামলা, হামলাকারীরাই বা কারা ?
উত্তর : যারা চায় না আমাদের পরিবার ছবি তৈরী করুক; তারাই ওই ঘৃন্য হামলা চালিয়েছিল। তাছাড়া তারা আফগানিস্তানের পরিবেশ যে নিরাপদ নয়-সেটাও প্রমাণ করতে চাইছিল। ওই হামলায় আমাদের টিমের ছয়জন গুরুতর আহত হন, দুই মাস পর তাদের একজন হাসপাতালে মারা যান। আমি অন্য একটা কাজে মূল শ্যুটিংস্থল থেকে কিছুটা দূরে ছিলাম, নইলে আজ এখানে বসে হয়তো সাাৎকার দিতে পারতাম না। হামলার পর জাতিসংঘ শান্তিরীরা জানায়, আমাদের হত্যা করতে একটি দল সক্রিয় রয়েছে। আমাদের জন্য ওই শহর নিরাপদ নয়। বাধ্য হয়ে আমরা শহর ত্যাগ করি। পরে আফগানিস্তানেরই অন্য একটি শহরে বাকি শ্যুটিংয়ের কাজ শেষ করি।
প্রশ্ন : ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলবেন ?
উত্তর : আমার মনে হয়, আমার ছবিতে আমি সে কথা বলেছি।
প্রশ্ন : আপনি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন কেন ?
উত্তর : আমি মানুষের ভাবনার জায়গাটা বদলে দিতে চাই। আমি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানুষের দুঃখ-বেদনা কমাতে চাই। আমি আমার মতো করে পৃথিবীটা বদলে দিতে চাই।
- Mohammad Nadim (মোহাম্মদ নাদিম)
- Login to post comments
- 248 reads
একই রকম আরো কিছু ব্লগ
- শুধু নিজে না বলে অপরকেও বলার সুযোগ দিন - Rita Roy Mithu
- স্বপ্নে দেখলাম তিমিমাছ, অতঃপর!!!!! - Rita Roy Mithu
- বিজ্ঞাপনের চক্করে - Rita Roy Mithu
- "ক্ষ" ব্যান্ডকে ধন্যবাদ - sainik
- এলভিস প্রিসলীঃ মিসিসিপির গৌরব - Rita Roy Mithu
- বিব্রতকর! বিব্রতকর! বিব্রতকর! (রম্য রচনা) - Rita Roy Mithu
- ভয়ানক বিপদ - bisshoy
- এমি ওয়াইন হাউজ কি ড্রাগ সেবনে মারা গেলেন? - niharica11
- আবারও একসঙ্গে শাহরুখ-প্রিয়াঙ্কা - Shada Mon
- আমার ব্রেক লাইট আউট - Shawnchoy.Rahman

Recent comments
14 hours 7 min ago
14 hours 48 min ago
21 hours 41 min ago
22 hours 57 min ago
22 hours 59 min ago
1 day 26 min ago
1 day 5 hours ago
22 hours 12 min ago
2 days 14 hours ago
2 days 16 hours ago