Media

Dr. Sultan.Mahmud.Rana's picture

নীতিমালা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠতা

গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা আবশ্যক। তবে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থার অন্যতম পূর্বশর্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার সাধারণত জনগণের ইচ্ছা, চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা মোতাবেক কাজ করে। তাদের এই আশা-আকাঙ্ক্ষা আইনপ্রণেতাদের মাধ্যমে আইনে পরিণত হয় এবং এই আইনকে সুষ্ঠুভাবে পালন করার দায়িত্ব প্রশাসকদের। তাঁদের জবাবদিহি করতে হয়। আর জবাবদিহি হলো আইনানুগ, নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি, বিস্তৃত নিয়মকানুন, যার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়। সার্বিকভাবে বলা যায়, 'বস্তুনিষ্ঠতা ও রাষ্ট্রীয় ও সাংগঠনিক পর্যায়ের নিয়মনীতির মাধ্যমই হলো জবাবদিহিতা।'
media
গণতন্ত্র, গণমাধ্যম ও জবাবদিহিতা একই সূত্রে গাঁথা। সামরিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসকদের জনগণের ভোটের অপেক্ষায় থাকতে হয় না, তাই গণবিরোধী কর্মকাণ্ড বা অপকর্মের জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হয় না। কিন্তু একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। তাই সরকার জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়।

সাংবাদিকতা ও নাজিমউদ্দিন মোস্তান

মরহুম সাংবাদিক নাজিমউদ্দিন মোস্তান বলতেন, ’৭৫-এ আমি ‘সংবাদ’ থেকে ‘ইত্তেফাকে’ যোগদান করেছি। কিছু দিন পর আমাকে সাব-এডিটিং সেকশন থেকে রিপোর্টিয়ে দেয়া হলো। ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান কভার করার জন্য আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিবেদনটি চিফ রিপোর্টার হয়ে তৎকালীন বার্তা সম্পাদক আসাফ উদদৌল্লাহ্ রেজার কাছে পৌঁছে। দূর থেকে দেখলাম কাচঘরের ভেতরে চেয়ারে বসা রেজা সাহেব আমার রিপোর্টের ওপর চোখ বুলালেন এবং পরক্ষণেই তার পাশে রাখা বাস্কেটের ভেতর ফেলে দিলেন! এ দৃশ্যটি দেখে আমি অস্বস্তিতে ভুগছিলাম। আমি ভাবতে লাগলাম, সোহরাওয়ার্দী সাহেবের মৃত্যুবার্ষিকীর সংবাদটি আগামীকাল তা হলে কিভাবে প্রকাশিত হবে?
najimuddin
শীতের রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করে তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সোহরাওয়ার্দী সাহেবের অনুষ্ঠানটি কভার করতে কে গিয়েছিল? উত্তরে বললাম আমি। তিনি আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন; সোহরাওয়ার্দী সাহেব যখন ওখানে এসেছিল তখন তুমি কোথায় ছিলে? আমি তার এই প্রশ্ন শুনে হতভম্ব হয়ে গেলাম। দ্বিতীয়বার একই প্রশ্ন করে উনি আমার নোট দেখতে চাইলেন। দৌড়ে আমার ডেস্ক থেকে নোট নিয়ে হাজির হতেই তিনি আমাকে বললেন, তোমার নোটে দেখো, কোনো এক বক্তৃতার মধ্যে শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেব জীবন্ত হয়ে উঠেছিলেন এবং সেটাকেই ইন্ট্রো করো।

Ibne.Golam.Samad's picture

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা চাই

একসময় ‘সংবাদমাধ্যম’ বলতে কেবল সংবাদপত্রকেই বুঝিয়েছে। পরে এর সাথে যুক্ত হয়েছে রেডিও। সবশেষে এর সাথে যুক্ত হয়েছে টেলিভিশন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আর গণতন্ত্র, এ দু’টি বিষয় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আবার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র হয়ে পড়তে চায় অচল। কেননা, ভোটাররা যদি যথাযথ সংবাদ না পেতে পারে, তবে তারা ভেবেচিন্তে ভোট দিতে পারে না। তাই গণতন্ত্রের অন্যতম সূত্র হলো- জনগণের জানার অধিকার অবিচ্ছেদ্য।
সংবাদমাধ্যম
বিশেষ করে সেই সব ব্যাপারে, যার সাথে জনস্বার্থ প্রত্যভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভোটাররা হলো রাষ্ট্রের অন্যতম অংশ। তাদের বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চলতে পারে না। আর তারা যদি প্রাসঙ্গিক তথ্য না জানে, তবে তারা কখনোই উপযুক্তভাবে ভোট প্রদান করতে সম হয় না। উদার গণতন্ত্রে তাই বলা হয়- মানুষকে তথ্য সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার অধিকার প্রদান করতে হবে।

মিশুক মুনীরের শিক্ষাই আমাদের পরম অস্ত্র

আরো একটি বছর চলে গেলো। শূন্যতা পূরণ হচ্ছে না, হবেও না। এখন কি শুধুই স্মরণ। না আমি তা মনে করি না। কারণ প্রতিনিয়তই যেসব সংকটের মুখোমুখি হই, তা থেকে উত্তরণের যখন পথ খুঁজি, তখনই মিশুক মুনীরের শূন্যতা বড় হয়ে সামনে আসে। যখন অনুজ বোরহানুল হক সম্রাট কঠোরভাবে প্রশ্ন তোলে তথ্যমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কত সময় ধরে সরাসরি সম্প্রচার হবে, আমি বিব্রত হই। জুতসই জবাব না দিতে পেরে, ধমক দিয়ে তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি। কারণ সম্প্রচার সাংবাদিকতায় আমার একমাত্র শিক্ষাগুরু মিশুক মুনীরের কাছে এত কম সময় শিক্ষা নিয়েছি যে সব সময় সব সমস্যার সুরাহা করতে পারি না। যদিও আমার দাবি মাত্র নয় মাসে যা শিখিয়েছিলেন মিশুক মুনীর, যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা রপ্ত করতে লাগতো কয়েক বছর। আর হাতে-কলমে প্রাকটিক্যালতো করতেই হতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ পাওয়ার পরও।
mishuk
হ্যাঁ আমাদের মিশুক মুনীর। যার শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ ব্যাচের আমি একজন। এটিএন নিউজের শুরুটা বন্ধুরা দলেবলে। আমি, মুন্নী সাহা, প্রভাষ আমিন, কাজী তাপস সবাই একসঙ্গে কাজ করেছিলাম ভোরের কাগজে। তখনও কিছুদিনের জন্য আমাদের চীফ রিপোর্টার ছিলেন মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি আবার এটিএন নিউজের প্রথম সিইও। তার চলে যাওয়ার পর পেয়েছিলাম মিশুক মুনীরকে। কানাডার প্রবাস জীবনের রিয়াল নিউজের দায়িত্ব ছেড়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন দেশের রিয়াল নিউজ চ্যানেল করার জন্য। কারণ বাংলাদেশে বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিকতার শুরুটাও হয়েছিল তার হাত ধরেই একুশে টেলিভিশনে। তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে টেলিভিশনে যোগ দিয়েছিলেন মিশুক মুনীর।

তারেক মাসুদের ফেরা

মানুষের শিকড় অনেক জায়গায় প্রোথিত হয়... পথটাই আসল শিকড়... আমরা কোথাও না কোথাও যাচ্ছি, কোথাও না কোথাও ফিরছি। চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের মুখে উচ্চারিত এই কথাগুলোকে অমোঘ বাণী বলে মনে হয়। তারেক মাসুদের মৃত্যুর প্রায় দুই বছর আগে ধারণকৃত সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র 'ফেরা'। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন তারেক মাসুদেরই সহকারী পরিচালক প্রসূন রহমান। চলচ্চিত্রটিতে আমরা দেখতে পাই তারেক মাসুদ মাইক্রোবাসে করে তার নিজের বাড়ি ফরিদপুরে যাচ্ছেন, বাড়িতে মা-বাবা, ভাতিঝিদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এবং আবার ঢাকায় ফিরে আসছেন। এই আসা-যাওয়ার সময় তিনি কথা বলছেন নিজের মাদ্রাসাজীবন, গ্র্রামীণ সংস্কৃতি নিয়ে এবং অবশ্যই চলচ্চিত্র নিয়ে।
tarek masud
৩৮ মিনিটের চলচ্চিত্রটিতে আমরা তারেক মাসুদের মুখে যা শুনতে পাই তাতে তার আত্মজীবনীর পুরোটা বর্ণিত হয়নি, তেমনি তার সমগ্র চলচ্চিত্রভাবনাও উঠে আসেনি। কিন্তু যা পাওয়া গেছে তাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের অকালমৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট।

Aly.Zaker's picture

পূর্ব বার্লিনে প্রথম সকাল

বার্লিনে প্রথম রাতে হোটেলের কক্ষে শুয়ে নানা কথা মনে আসতে লাগল। ভারত উপমহাদেশের বাইরে আমার এই প্রথম আসা। একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া মনের মধ্যে কাজ করছিল। নিজের দেশে ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, দূর থেকে তাদের জেনেছি কিন্তু তাদের দেশে এসে নতুন কী আবিষ্কার করব, তা নিয়ে একটু ভাবিত ছিলাম। তখনও আমি ব্যাচেলর। দিনের কাজকর্ম সেরে নাটকের মহড়া, অতঃপর বন্ধুদের সঙ্গে মাঝরাত অবধি আড্ডা ইত্যাদি মিলেমিশে ঢাকায় আমার জীবন ছিল সরব। আজ থেকে বেশ কয়েক রাত আমাকে একা একা থাকতে হবে। এই বিষয়টিও ভালো লাগছিল না। মানসচক্ষে ভেসে উঠছিল বেশ কিছু মুখ।
khkhkh
এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে কখন যে নিদ্রামগ্ন হয়েছিলাম, তা বুঝিনি। বিছানার পাশের টেলিফোনের কর্কশ শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। তখন বার্লিনের সময় সকাল ৭টা। মুস্তাফা নূরউল ইসলাম স্যারের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। স্যার বললেন, 'এত বেলা হলো, এখনও পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছ? নাশতা খেতে হবে না? তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিচে এসো। আমি লবিতে থাকব।' সকাল ৭টায় নাশতা খাওয়ার কথা জীবনেও কোনোদিন ভাবিনি। আর যাত্রার ধকল এবং গত রাতে মধ্যরাতে ঘুমানোর পর এত তাড়াতাড়ি উঠতে হবে, সে কথাও মনে আসেনি। স্যারের ওপর একটু রাগও হলো। পরে জেনেছি, স্যার অত্যন্ত ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন প্রতিদিন। এরপর তার তখনকার বাড়ির কাছে শেরেবাংলা নগরে হাঁটতে যান। অর্থাৎ সকাল ৭টা তার জন্য বিস্তর বেলা।

এই শাড়িটা নেন, বিক্রি করে দিয়েন না

ঢাকা শহরে সুযোগ পেলেই আমি হাঁটি। অনেকেই হয়তো ভাবছেন, শখ করে সকাল বিকেল হাঁটাহাটির কথা বলছি। না, শখের হাঁটার কথার বলছি না; কষ্টের হাঁটার কথা বলছি। যেমন আজকের হাঁটার কথাটাই বলি।

বারিধারা থেকে বাসায় ফিরবো। অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকলাম একটি স্কুটারের জন্য। তারপর যা পাওয়া গেল, সে ভাড়া চাইলো আড়াই শ' টাকা। অনেক চাইছে স্কুটারওয়ালা। এর কমে সে যাবে না। ঈদের বাজার বলে কথা। আমি আস্তে আস্তে হাটতে শুরু করলাম। দেখি সামনে কোনও খালি স্কুটার পাওয়া যায় কি না!

ma.muhit's picture

হুমায়ূন আহমেদ এভারেস্ট থেকে নামেন না

হুমায়ুন আহমেদ২০১১ সালে তিব্বতের দিক দিয়ে প্রথমবার এভারেস্ট আরোহণের পর দেশে ফিরে এলে ২৫ আগস্টের এক সন্ধ্যায় সঙ্গীতশিল্পী প্রিয় এসআই টুটুল ভাই আমাকে নিয়ে যান কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ধানমণ্ডির দখিনা হাওয়ার ফ্ল্যাটে। রোজার মাস। ইফতারির পরপরই হাজির হই হুমায়ূন স্যারের বাসায়।

MRINAAL's picture

বাংলাদেশ কি আসলেই সুস্থ একটি মিডিয়া সমাজের দাবিদার???

আজ অনেকদিন পর ফিরে এলাম। ইচ্ছে করছে সমাজের অসামঞ্জস্যতাগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চলিয়ে যেতে। আমার তো আর কাড়ি কাড়ি টাকা-পয়সা নেই..., তাই নিজস্ব চিন্তাশক্তিই সম্বল।

আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের 'যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিভাগের একজন ছাত্র। ভর্তি হয়েছিলাম ২০১১-১২ সেশনে। এই কয় বছরে যা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, যা উপলব্ধি করেছি তার আলোকেই আমার নিজস্ব অভিব্যক্তি ও আমার পাঠকদের উদ্দশ্যে কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছি।

আজ আমি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর 'যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিভাগ ও দেশের মিডিয়া হাউসগুলোর আন্তঃসম্পর্কের খাদ নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি...............

Aly.Zaker's picture

আন্তঃমহাদেশের পথে...

১৯৭৪-এর অক্টোবর। ততদিনে বাংলাদেশে দর্শনীর বিনিময়ে নিয়মিত নাটক মঞ্চায়নের দেড় বছর পার হয়ে গেছে। '৭৩-এর ৩ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করেছিলাম ব্রিটিশ কাউন্সিল মঞ্চে। নাটক ছিল বাদল সরকারের 'বাকী ইতিহাস'। ইতিমধ্যে আরও তিন-চারটি নাটক মঞ্চে এনেছি আমরা। প্রতিষ্ঠিত হয়েছি নিবেদিতপ্রাণ নাট্যকর্মী হিসেবে। এখন ভাবতে যদিও হাসি পায় যে, সূচনার সময়ে কত অল্প পরিশ্রমে কত বড় স্বীকৃতি আমরা পেয়েছিলাম। তখন কিন্তু এর মূল্য যথেষ্ট ছিল। এই ধরনের স্বীকৃতি এবং সাধুবাদ আমাদের উজ্জীবিত করত। সবচেয়ে বড় কথা, এর থেকে আমাদের মাঝে এক ধরনের দায়িত্ববোধও জন্ম নিয়েছিল। দিন শেষে সব কাজের পর ভাবতাম, হাল ছাড়া যাবে না কোনোমতেই। দ্বিগুণ উৎসা

Syndicate content