রাজনৈতিক সংস্কৃতি :কিছুই বদলায়নি

Mahmudur.Rahman.Manna's picture

বাংলাদেশ এখন চল্লিশ বছরের যুবক। এই ৪০ বছরে আমাদের রাজনীতির কী উন্নতি হয়েছে। খুব সহজে এর জবাব দেয়া মুশকিল, সমাজের ভিতরে, রাজনীতির অন্তঃশরীরে এতসব বিষয় ক্রিয়া করে যা সব সময় আমাদের খালি চোখে ধরাও পড়ে না। সমাজ সতত পরিবর্তনশীল। যে কোথাও স্থির দাঁড়িয়ে থাকে না। বিভিন্ন সূচকে দেখা যাচ্ছে আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ বেশ খানিকটা এগিয়েছে। শিশুমৃত্যুর হার রোধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্যে আমরা জাতিসংঘ কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি অসাধারণ এক জনগোষ্ঠী আমাদের এই ভূখন্ডে বাস করে। বিস্ময়কর, প্রায় সাড়ে ষোল কোটি এই মানুষ মাত্র ৫৪ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে কেমন সংগ্রাম করে বেঁচে আছে।

কিন্তু তার পরেও আমরা কি বলতে পারছি গুণগত কোন পরিবর্তন হয়েছে আমাদের অর্থনীতি বা রাজনীতিতে। প্রবাসীরা বলেন, বিশ্বের যেখানেই যাবেন বাঙালিরা ভাল করছেন। জাতিসংঘের শান্তি মিশনেও বাংলাদেশিরা ভাল করছে। খুব ভাল লাগে।

কিন্তু যখন দেশে আসি তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়। অসহ্য যানজট, শহরে ধুলাবালি, ময়লা—রাজনীতিতেও তাই। সরকারি দল-বিরোধী দলের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে গেছে। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারছে না। ১/১১-এর এতবড় যে সুনামি গেল তাতেও কোন পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। দেশের মানুষ ভাল ছিল, আরও ভাল হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে প্রযুক্তির বিস্ময়কর উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে। এগুতে পারছে না রাজনীতি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ক্ষমতা, অর্থবিত্ত নিয়ে কুিসত রাজনৈতিক কামড়া-কামড়িতে ব্যস্ত আছেন তারা। এ কি বদলাবে না?

বিগত নির্বাচনের আগে দুটি দলই ঘষেমেজে নিজেদের সাফ-সুতরো করে জনগণের সামনে হাজির হওয়ার চেষ্টা করেছিল। এ কাজে আওয়ামী লীগের সাফল্য বেশি ছিল। কারণ তারা বিরোধী দলে থেকে আন্দোলন করছিল। আর বিএনপি ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করছিল এবং ক্ষমতা থেকে যাতে চলে যেতে না হয় তার জন্যে কুটকৌশল করছিল, আন্দোলনকে দমাবার চেষ্টা করছিল। আর্থ-সামাজিক কর্মসূচির দিক থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মৌলিক কোন তফাত্ নেই। তবুও নির্বাচনী প্রচারে আওয়ামী লীগ এবং তার নেতৃত্বে পরিচালিত মহাজোট জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছিল। মেনিফেস্টোতে তারা দিন বদলের অঙ্গীকার করেছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই তাদের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছিল। দু’টি দলই তাদের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিল। সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করবেন বলেছিলেন তারা এবং সংসদ বর্জনের সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিবেন না। কিন্তু দেখা গেল সংসদ বসবার অল্প দিনের মধ্যেই বসবার আসন নিয়ে যে ঝগড়া শুরু হল তা বর্জনের পথ ধরল, যে বর্জন এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। আমরা কি সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাতে ফিরতে পারব?

কিন্তু তার আগে আমাদের বুঝতে হবে সংস্কৃতি বলতে আমরা কি বুঝি। রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি সাধারণ সংস্কৃতি থেকে আলাদা কিছু। প্রতিটি রাজনীতির একটি নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। সব সময় রাজনীতিই সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু ইতিহাসে এমন সময়ও আছে যখন সংস্কৃতি রাজনীতি, রাজনৈতিক আন্দোলন গঠন করে। আমরা যখন বলি সংসদ হবে সমস্ত রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু তখন আমরা একটি শৃঙ্খলার মধ্যে সবকিছুকে আনতে চাই। গণতন্ত্র নিয়মবহির্ভূত আচরণ, ক্রিয়াকলাপ ও বিশৃঙ্খলা অনুমোদন করে না। গণতন্ত্র জবাবদিহিতার কথা বলে এবং তাকেও একটি নীতিমালার মধ্যে আনে।

আমরা যখন গণতন্ত্রের কথা বলি তখন আমরা একটি মূল্যবোধ সংস্কৃতির কথা বলি। সেই সংস্কৃতি ধৈর্যশীল হতে বলে, পরমতসহিষ্ণু হতে বলে। সেই যে ঐতিহাসিক উক্তি, আমি তোমার কথার সাথে একমত নাও হতে পারি কিন্তু তুমি যাতে তোমার কথা বলতে পারো, তার জন্যে প্রয়োজনে আমি জীবন দিয়ে দেব।

আমরা কী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে আছি? কখনও ছিলাম? স্বাধীনতার পর চার দশক পার হয়েছে। এই চার দশকের বেশিরভাগ সময় গণতন্ত্র সামরিক বুটের নিচে পিষ্ট হয়েছে। যেটুকু সময় গণতন্ত্রের লেবাস ছিল, সেই সময়টুকুতেই তা ছিল বিবর্ণ ও ময়লা। ৪০ বছরে কোন সময় সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সাংস্কৃতিক সুসম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। স্বাধীনতার মাত্র তিন-সাড়ে তিন বছরে সংসদীয় গণতন্ত্র একদলের চাদরে ঢেকে গেছে। সে চাদর সরেছে। সেখানে উর্দি জায়গা করেছে। পুরো শাসন ব্যবস্থাই বদলে গেছে।

স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের উপর ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার আলখেল্লা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সামরিক শাসক গণতন্ত্রের সাফারী গায় দিয়ে এমন এক বিরোধী দল তৈরি করেছে যে, যখন স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে তখন জনগণের ভয়ে বিরোধী দলের নেতা পালিয়ে গেছে। গণতন্ত্র ও বিরোধী মতবাদের নামে এতবড় রসিকতা পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথাও হয়নি। তথাকথিত হাঁ-না মার্কা গণভোটসহ সমস্ত নির্বাচনকে এক চরম রসিকতায় পরিণত করা হয়েছে। প্রায় ৪ দশক পরে যখন আবার আমরা নির্বাচন পেলাম তখন সবাইকে তাই বলতেই হলো আমরা এ অবস্থা আর চলতে দেব না। আমরা সবকিছু বদলে দেব। বদলে দেব দিন। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যে দল সরকার গঠন করল তার প্রধানমন্ত্রী বললেন দিন বদল করতে হলে সংস্কৃতি বদল করার দরকার।

নির্বাচনের পর তিন বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। মানুষ পেছন ফিরে দেখছে। দেশের দিন বদল, সমাজ বদল, গরীব-দুঃখী মানুষের ভাগ্য বদলের আদর্শবাদী রাজনীতি আজ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্বৃত্ত কবলিত রাজনীতির কাছে পরাজিত। জনগণ আজ অপরাজনীতির অক্টোপাসে বন্দী। সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্পর্ক ভাল হওয়ার বদলে উত্তরোত্তর খারাপ হচ্ছে।

সবাই আশা করেছিল শুরুটা ভাল হবে। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ভালো হবে। কিন্তু সবাই বেশ কৌতূহলের সংগে দেখলো সংসদে পাশাপাশি বসবার বদলে তারা দুই জন দুই কোণায় গিয়ে বসলেন, যেন কারও চোখ কারও চোখের উপরে না পড়ে। এই তিন বছরে সম্পর্ক এতই তিক্ত হয়েছে যে, বিরোধী দল সংসদে যাচ্ছে না এই অভিযোগে যে, সংসদ নেত্রীসহ সরকারি দলের সবাই বিরোধী দলের নেত্রী ও অন্য সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় অপমান করে বক্তব্য রাখেন। তাদের অভিযোগ তারা অন্যায়ভাবে বিরোধী দলীয় নেত্রীকে ৪ দশক ধরে ব্যবহার করা তার বাড়ি থেকে অপমান করে বের করে দিয়েছে। আর সরকারি দলের অভিযোগ বিরোধী দলের নেত্রী অন্যায়ভাবে ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে ১৬৮ কাঠা জমির উপর নির্মিত প্রাসাদে বাস করতেন। তিনি লোভী। বিলাস ছাড়া জীবন-যাপন করতে পারে না। দুই পুত্রসন্তানকে নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈভব গড়ে তুলেছেন। তিনি ষড়যন্ত্রকারী, কেবল ব্যক্তিস্বার্থে হরতাল ডেকে জনগণকে কষ্ট দিচ্ছেন। তিন বছর পর এক নেত্রী আরেক নেত্রীর দিকে ফিরে তাকিয়েছে একেবারে রক্তচক্ষু মেলে।

বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আজ জানে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রধান দুই খুঁটি, দেশের সর্বোচ্চ দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া একে অপরের জানি দুশমন। এটা কোন সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে? এভাবে সংসদীয় গণতন্ত্র চলবে? এ অবস্থায় আমাদের দেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ কী? দেশে একটা নেতিবাচক রাজনীতি গড়ে উঠেছে, যা ভাবনার। এখানে একপক্ষ আরেক পক্ষকে শত্রু বিবেচনা করে। পারলে একেবারে ধ্বংস করে ফেলতে চায়। যতকিছু ভাল তা আমার আমলে হয়েছে; আর তিনি ও তাঁর সরকার গত কয়েক বছরে দেশটাকে রসাতলে নিয়ে গিয়েছিলেন, প্রায় অকার্যকর করে ফেলেছিলেন রাষ্ট্রটাকে-এ ধরনের কথা শুনতে শুনতে মানুষের কানে পচন ধরেছে।

এই নেতিবাচক রাজনীতি বিবেককে বাক্সবন্দী করে। বড় রাজনীতিবিদেরা কেউ সোনিয়া গান্ধী, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, চিদাম্বরম হতে পারেন না। তারা ছাপোষা কেরানি আর বাক-বাকুম পায়রা হয়ে যান। যাদের ডাকে এক সময় হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাত্ বাংলাদেশ জেগে উঠত, তাদের কণ্ঠ ম্রিয়মাণ হয়ে যায়। চাকরিজীবী আমলার মতো রাজনীতিবিদেরাও চামচা হয়ে যায়।

অন্ধ আনুগত্য গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অলংকার নয়। কিন্তু আমাদের রাজনীতিতে এটি একটি গুণ বলে প্রশংসিত হচ্ছে। ফলে সবাই আনুগত্যের প্রমাণ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আগে নিয়ম ছিল কেউ দলে যোগ দিলে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হতো। এখন যিনি যোগ দিলেন তিনি ফুল দিচ্ছেন নেতাকে। আগে জাতীয় অনুষ্ঠানে শহীদ মিনারে কিংবা স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি সবার আগে ফুল দিতেন। এখন দেখছি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসাথে ফুল দিচ্ছেন।

গণতান্ত্রিক রাজনীতির কথা যখনই আমরা বলি তখন তার মধ্যে কতিপয় মূল্যবোধ সুপ্ত থাকে। ‘আমি তোমার কথার সাথে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু তুমি যেন কথা বলতে পার সে অধিকার রক্ষার জন্যে আমি এমনকি আমার জীবন দিয়ে দিতে পারি’ এই হচ্ছে গণতন্ত্রের মূল মর্মবাণী। এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বোঝা যায় গণতন্ত্র কতখানি অপরের মতের প্রতি সহিষ্ণু। এ থেকে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও বিনয়ী হওয়ার কথাও বলা হয়।

কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমানে রাজনীতিতে পরমত সহিষ্ণুতার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এক নেতা আরেক নেতাকে, এক দল আরেক দলকে ঘায়েল করার কাজে ব্যস্ত। সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের নেতা হচ্ছেন সংসদের মূল দুটি স্তম্ভ। কিন্তু এরা সংসদের প্রথম সারিতে পাশাপাশি না বসে দুই কোণায় গিয়ে বসেন, যেন কারো উপর কারো চোখ না পড়ে। কোন অনুষ্ঠানে দুইজন যান না। যদিওবা যান সে কেবল সেনাবাহিনীর কোন অনুষ্ঠানে। সেটাও আবার এই বছর থেকে বোধহয় বন্ধ হয়ে গেল। গত দুই যুগে দুই নেত্রীর কেউ বড় কোন অসুখে পড়েছিলেন বলে আমরা জানি না। যদি পড়তেন তবে নিশ্চিত করেই বলা যায় কেউ কাউকে দেখতেও যেতেন না। এটা কি কোন গণতন্ত্রের সংস্কৃতি? না কি জেদের? অহংকারের?

নবম জাতীয় সংসদ যখন প্রথম বসল তখন শুরু হয়েছিল খিস্তি-খেউড়। সংসদ সদস্যরা ভিন্ন পক্ষের নেত্রীর সম্পর্কে এমন সব কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করেছিলেন যে, তাতে অনেকে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। এই পর্বে এমনকি প্রয়াত দুই নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং জিয়াউর রহমানও রেহাই পাননি। একথা এখন নির্দ্বিধায় বলা যায় সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর হবার জন্যে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে ন্যূনতম সমঝোতা দরকার তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এক অসভ্য সামন্তবাদী সংস্কৃতির মধ্যে নিক্ষেপ করেছি আমাদের গণতন্ত্রকে। যদি এই সংস্কৃতির পরিবর্তন না হয় তবে কেবল সরকার পরিবর্তনে দেশের কিছু হবে না।

» Topics:

Comments

Future BD's picture

যা বলার তাই বলছি : Pryo-তে posting হোল না।

"যা বলার তাই বলছি" শিরনাম দিয়ে লেখটা প্রিয় ব্লগে পোস্ট করতে চেয়েছিলাম। মোডারেটরদের পছন্দ হয়নি তাই পোস্ট করেননি। তাই, মান্না ভাইয়ের কলামে এটা কমেন্ট হিসাবে দিলাম। প্রিয়র কি কি নিয়ম পাল্টে গেছে সেটা একটা লেখা বা নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দিলে বাধিত হবো।

যা বলার তাই বলছি:

"কি দেখার কথা কি দেখছি
কি শোনার কথা কি শুনছি
কি ভাবার কথা কি ভাবছি
কি বলার কথা কি বলছি।"
http://www.youtube.com/watch?v=ZY0-otxXQN4&feature=related

স্বাধীনতার চেতনা, মর্ম, মর্যাদা না বুঝার আগেই বোধ হয় আমাদের দেশটা স্বাধীন হয়ে গিয়েছিল। এই স্বাধীনতা আমাদেরকে একটা জাতীয় পতাকা ও একটা জাতীয় সঙ্গীত উপহার দিতে পেরেছে। মানচিত্রে একটা স্বাধীন ভূখণ্ডও আঁকা হয়েছে। কিন্তু, প্রকৃত কোন স্বাধীনতা কি আসলেই পেয়েছি আমরা?

লক্ষ প্রাণ তো ঠিকি দিতে হয়েছে। মা-বোনদের সম্মান বিসর্জন দিতে হয়েছিল। স্বাধীনতার কৃতিত্ব দিতে হলে সবার আগে সেটা দিতে হবে এদেশের আপামর জনগণকে। জনগণকে বঞ্চিত করে আর দলীয় শাসনের তাণ্ডব দেখানোর মাঝে স্বাধীনতার কোন চেতনা খুঁজে পাবার কথা না। স্বাধীনতা মানে তো জনগণের মাথার উপর কাঁঠাল ভেঙ্গে খাওয়া নয়।

‘স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে উজাড় হোল বস্তি গ্রাম’- এই যদি হয়ে থাকে তাহলে স্বাধীনতা আসার পর বস্তি গ্রামের মানুষগুলোর স্বস্তি পাবার কথা ছিল। কিন্তু, স্বস্তি পেলো জাতীয় নেতা নামধারী কিছু জাতীয় টাউট। স্বাধীনতার পর অনেক জাতীয় টাউট আর কয়েকটা স্বাধীনতা বিরোধীর গাড়ীতে পতাকা উড়লো। এরা প্রাসাদসম বাড়ী বানালো, ছেলে-মেয়েদের বিদেশে পড়ালো। আর, নিরীহ জনগণ ভাগ্যের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে সাগরে ডুবে মরে, প্লেনের কার্গোতে মরে, জাহাজের মালবাহী কন্টেইনারে মরে।

স্বাধীনতা আর গণতন্ত্রের জন্য কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিলো, সেই মৃত্যুর মিছিল আজও থামেনি জাতীয় টাউটদের ক্ষমতা পাকাপাকি আর স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমতার কাছাকাছি যাবার প্রত্যাশার কারণে। জনগণের প্রত্যাশার নাম তো স্বাধীনতা নয় (লুটেরাদের অভিধানে) !! তাই তিরিশ বছর পেড়িয়ে আজ চল্লিশ ছাড়ালো, তারপরও আমরা স্বাধীনতাটাকেই খুঁজে ফিরছি। আমাদেরকে বোধ হয় আরও অনেক বছর তা খুঁজতে হবে।

‘আজি হতে শত বর্ষ পর কে তুমি’ আবারও গাইবে-"কি দেখার কথা কি দেখছি
কি শোনার কথা কি শুনছি” এমনটা ভেবে অগ্রিম সান্ত্বনা জানাবার কোন ইচ্ছা আমার হচ্ছে না। বরং চাইছি কেউ এখন থেকেই বলা শুরু করুক,

“ যা বলার তাই বলছি
যা লেখার তাই লিখছি
হয় আমি বাঁচব নয় তো মরবো
তবুও যেভাবেই পারি আমি লড়বো।“

কি দেখার কথা কি দেখছি

I almost everyday listen these songs while driving to work . Wonderful songs!

JS

Future BD's picture

Really wonderful and meaningful song.

@ Sarwar: thanks for your comment.

Discount air jordan 4 running shoes free shipping

Discount nike air max shoes Cheap Nike Shox is the hot sale shoes nowadays which is supplying on our online store,because these Nike Shox Clearance is in superior quality and cheap price.The goods are perfect for everybody who want to have a pairs of cheap Nike Shox R4 shoes.Cheap Jordan Shoes can be to one of the most elements a well-known institution producing shoes in collision with Nike.The Air Jordans are supplied getting a carbon fiber plate concerning the bottom belonging for that solo in purchase give comfort and at identical time to possess along utilization belonging for those shoes.Ugg Classic Cardy is concerning the marketplace using the quantity of extraordinary variations and colors and there are no design suggestions in ailments of placing on these boots.You can dye the sheepskin to what really coloring you need furthermore in the direction of the Ugg Tall Boots variation can go from casual to flamboyant depending within your person or females taste.Burberry Outlet bags as well as bags only to reflect each of our personality,which gives a method to show our incredibly tiny earth.This particular Burberry Bags Sale carrier can have the luxurious community available for you,specially when anyone carry it coupled with attire done to you!


50% OFF Price ! Free Shipping accept paypal wholesale and retail . Our company supply high quality Cheap Nike Air Max Shoes , UGG Boots , Air Jordan Shoes , Nike Shox Shoes Nike Basketball Shoes , Asics Onitsuka Tiger , NFL Jerseys and with factory price . We offer high quality, low price, best service and free shiping! We guarantee that seven days of door-to-door!

Web site: http://www.pickmaxshoes.com

50% OFF Price ! Free Shipping accept paypal wholesale and retail. Our company supply high quality Cheap Nike Air Max Shoes, UGG Boots , Air Jordan Shoes, Nike Shox Shoes , Nike Basketball Shoes, Asics Onitsuka Tiger, factory price. www.pickmaxshoes.com