দাজ্জাল (Dajjal) :: একটি মহাশক্তিধর আত্মাহীন দানবরূপী বস্তুবাদী ও সম্রাজ্যবাদী ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা

চৌদ্দশ’ বছর থেকে মোসলিম উম্মাহর ঘরে ঘরে দাজ্জাল (Dajjal) সম্বন্ধে আলোচনা চলে আসছে। আল্লাহর শেষ রসুল মানবজাতির ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে যেসব কথা বলে গেছেন, পৃথিবীতে কি কি ঘটনা ঘটবে সেগুলি সম্বন্ধে আভাষ ও সরাসরি যা জানিয়ে দিয়েছেন সেগুলির মধ্যে দাজ্জাল (Dajjal) সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণীগুলি যেমন চিত্তাকর্ষক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বিগ্নকর। উদ্বিগ্নকর ও ভীতিপ্রদ এই জন্য যে দাজ্জালের শক্তি, প্রভাব ও প্রতিপত্তিসমগ্র মানবজাতির উপর প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার করে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেবে, সমস্ত মানবজাতিকে বিপথে চালাবার চেষ্টা করবে। শুধু চেষ্টা নয়, বেশ কিছু সময়ের জন্য দাজ্জাল (Dajjal) তার শক্তি ও প্রভাব বিস্তার করে গোটা মানবজাতিকেই বিপথে পরিচালিত করবে। কাজেই দাজ্জাল (Dajjal) কে কোনভাবেই ছোট করে দেখার বা অবজ্ঞা করার উপায় নেই। আল্লাহর রসুল বলেছেন- আদমের সৃষ্টি থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এমন কোন বিষয় বা ঘটনা হবে না, যা দাজ্জালের চেয়ে গুরুতর ও সংকটজনক (হাদীস- এমরান বিন হোসায়েন (রাঃ) থেকে মোসলেম)। তিনি এ কথাও বলেছেন যে- নুহ (আঃ) থেকে নিয়ে কোন নবীই বাদ যান নি যিনি তাঁর উম্মাহকে দাজ্জাল (Dajjal) সম্বন্ধে সতর্ক করেন নি (হাদীস- আবু ওবায়দা বিন যার্রাহ (রাঃ) ও আব্দুলাহ বিন ওমর (রাঃ) থেকে আবু দাউদ, বোখারী, মোসলেম ও তিরমিযি)। শুধু তাই নয়, আল্লাহর নবী নিজে দাজ্জালের সংকট (ফেত্না) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন (হাদীস- আয়শা (রাঃ) থেকে বোখারী)।

বাস্তব অবস্থা এই যে আমরা মোটেই সজাগ নই এবং নই বলেই আমরা বুঝছিনা যে ৪৭৪ বছর আগেই দাজ্জালের জন্ম হয়েছে এবং সে তার শৈশব, কৈশোর পার হয়ে বর্ত্তমানে যৌবনে আছে এবং এও বুঝছিনা যে সমস্ত পৃথিবীসহ আমরা মোসলিমরাও দাজ্জাল (Dajjal) কে রব, প্রভু বলে স্বীকার করে নিয়েছি ও তার পায়ে সাজদায় পড়ে আছি। প্রকৃত দীন থেকে বিচ্যুত হবার শাস্তি হিসাবে আল্লাহ এই জাতিকে (যারা নিজেদের মোসলিম বোলে পরিচয় দেয় ও নিজেদের মোসলিম বলে বিশ্বাস করে) কয়েক শতাব্দীর জন্য ইউরোপের খৃষ্টান জাতিগুলির দাসে পরিণত করে দিয়েছিলেন এবং ঐ দাসত্বের সময়ে প্রভুদের প্রবর্তিত শিক্ষার ফলে প্রকৃত দীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। কাজেই দাজ্জাল (Dajjal) সম্বন্ধে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই।
দাজ্জাল (Dajjal) শব্দের অর্থ চাকচিক্যময় প্রতারক, যেটা বাইরে থেকে দেখতে খুব সুন্দর কিন্তু ভেতরে কুৎসিত। যেমন মাকাল ফল, দেখতে অতি সুন্দর, মনে হবে খেতেও অতি সুস্বাদু, কিন্তু আসলে খেতে বিস্বাদ, তিক্ত। পাশ্চাত্য যান্ত্রিক সভ্যতা বাইরে থেকে দেখতে চাকচিক্যময়, এর প্রযুক্তিগত সাফল্য মানুষকে মুগ্ধ করে ফেলে, চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, কিন্তু এর প্রভাবাধীন পৃথিবী সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অবিচারে, দুঃখে, ক্রন্দনে, অশ্রুতে ভরপুর। বিগত শতাব্দীতে এই ‘সভ্যতা’ দুইটি বিশ্বযুদ্ধ করে চৌদ্দ কোটি আদম সন্তান হতাহত করেছে এবং তারপর থেকে বিভিন্ন ছোট খাটো যুদ্ধে আরও দুই কোটি মানুষ হত্যা করেছে। আহত বিকলাঙ্গের সংখ্যা ঐ মোট সংখ্যার বহুগুণ। বিধবা, সন্তানহারা, গৃহহারা, দেশত্যাগীদের কোন হিসাব নেই। আর এই নতুন শতাব্দীতে শুধু এক ইরাকেই হত্যা কোরেছে দশ লক্ষ মানব। ইরাক ছাড়াও আফগানিস্তানসহ আরও অনেকগুলো দেশে তার এই হত্যাযজ্ঞ আজও চোলছে। এই ‘সভ্যতা’র অধীনস্ত সমস্ত পৃথিবীতে খুন, চুরি, ডাকাতি, হাইজ্যাক, ধর্ষণ, অত্যাচার সীমাহীন এবং প্রতিদিন প্রতি দেশে ধাঁ ধাঁ করে বেড়ে চলেছে। তাই এর নাম দাজ্জাল (Dajjal), চাকচিক্যময়, চোখ ধাঁধানো প্রতারক।`
এক ॥ দাজ্জাল (Dajjal) ইহুদী জাতির মধ্যে থেকে উত্থিত হবে এবং ইহুদী ও মোনাফেকরা তার অনুসারী হবে। [ইবনে হানবাল (রাঃ) থেকে মোসলেম]
দুই ॥ দাজ্জাল (Dajjal) নিজেকে মানুষের রব, প্রভু বলে ঘোষণা করবে এবং মানবজাতিকে বলবে তাকে রব বলে স্বীকার করে নিতে। [বোখারী]
তিন ॥
দাজ্জালের বাহনের দুই কানের মধ্যে দূরত্ব হবে সত্তর হাত। [আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বায়হাকী, মেশকাত] বর্ত্তমানে পৃথিবীতে ইহুদী-খৃষ্টান যান্ত্রিক সভ্যতার চেয়ে বড়, এর চেয়ে শক্তিধর কিছুই নেই, এ কথায় কেউ দ্বিমত করতে পারবেন না, এটা সন্দেহাতীত সত্য। আরোহী দাজ্জাল (Dajjal) হচ্ছে ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা আর তার ঘোড়া বা বাহন হোচ্ছে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিগত যন্ত্র (Scientific Technology)।
চার ॥
দাজ্জালের গতি হবে অতি দ্রুত। সে বায়ুতাড়িত মেঘের মত আকাশ দিয়ে উড়ে চলবে। [নাওয়াস বিন সা’মান (রাঃ) থেকে মোসলেম, তিরমিযি] দাজ্জাল (Dajjal) অর্থাৎ পাশ্চাত্য যান্ত্রিক সভ্যতার তৈরী এরোপ্লেন যখন আকাশ দিয়ে উড়ে যায় তখন যে সেটাকে বায়ুতাড়িত অর্থাৎ জোর বাতাসে চালিত মেঘের টুকরোর মত দেখায় তা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না।
পাঁচ ॥
দাজ্জালের আদেশে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ হবে। [নাওয়াস বিন সা’মান (রাঃ) থেকে মোসলেম, তিরমিযি] বর্ত্তমান ইহুদী খৃষ্টান সভ্যতার বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি (Scientific Technology) আকাশে হালকা মেঘের ওপর এরোপ্লেন দিয়ে রাসায়নিক পদার্থ (Chemicals) ছিটিয়ে বৃষ্টি নামাতে পারে এ কথা তথ্যাভিজ্ঞ প্রত্যেক লোকই জানেন।সন্দেহ হলে যে কোন আবহাওয়া বিজ্ঞানীর (Meterologist) বা কৃষিবিদের (Agriculturist) কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।
ছয় ॥
দাজ্জালের গরু-গাভী, মহিষ, বকরি, ভেড়া, মেষ, ইত্যাদি বড় বড় আকারের হবে এবং সেগুলোর স্তনের বোটা বড় বড় হবে (যা থেকে প্রচুর পরিমাণে দুধ হবে)। [নাওয়াস বিন সা’মান (রাঃ) থেকে মোসলেম, তিরমিযি]। দাজ্জাল সৃস্টির বিকৃতি করে স-ঘোষিত মির্থ্যা প্রভূ সাজবে।
সাত ॥
দাজ্জাল (Dajjal) মাটির নিচের সম্পদকে আদেশ করবে ওপরে উঠে আসার জন্য এবং সম্পদগুলি ওপরে উঠে আসবে এবং দাজ্জালের অনুসরণ করবে। [নাওয়াস বিন সা’মান (রাঃ) থেকে মোসলেম, তিরমিযি] দাজ্জালের আদেশে মাটির নিচের সম্পদ ওপরে উঠে আসবে। তারপর ঐ সম্পদ দাজ্জাল (Dajjal) কে অনুসরণ করবে তার অর্থ হল এই যে, মাটির নিচ থেকে ওপরে উঠে আসার পর দাজ্জাল (Dajjal) তা পৃথিবীর যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যাবে, যেখানে ইচ্ছা পাঠাবে, ঐ সম্পদ দাজ্জালের যন্ত্রপাতি, কল-কারখানা, জাহাজ, গাড়ী, যুদ্ধের যানবাহন ইত্যাদি সমস্ত কিছুতে ব্যবহার করবে।
আট ॥
দাজ্জালের কাছে রেযেকের বিশাল ভাণ্ডার থাকবে। সেখান থেকে সে যাকে ইচ্ছা তাকে দেবে। যারা তার বিরোধিতা করবে তাদের সে ঐ ভাণ্ডার থেকে রিযেক দেবে না। এইভাবে সে মোসলিমদের অত্যন্ত কষ্ট দেবে। যারা দাজ্জাল (Dajjal)কে অনুসরণ করবে তারা আরামে থাকবে আর যারা তা করবে না তারা কষ্টে থাকবে। [বোখারী ও মোসলেম] দাজ্জালের কাছে অর্থাৎ পাশ্চাত্যের ইহুদী-খৃষ্টান যান্ত্রিক সভ্যতার কাছে পৃথিবীর সম্পদের সিংহভাগই দখলে।
নয় ॥
দাজ্জালের ডান চোখ অন্ধ হবে। [আব্দুলাহ বিন ওমর (রাঃ) থেকে বোখারী ও মোসলেম] ইহুদী-খৃষ্টান বস্তুতান্ত্রিক সভ্যতার (Judeo-Christian Materialistic Civilization) ডান চোখ অন্ধ অর্থাৎ জীবনের ভারসাম্যের একটা দিক, আত্মার দিক, পরকালের দিক, অদৃশ্যের (গায়েব) দিক, সত্যের দিক সে দেখতে পায় না, তার সমস্ত কর্মকাণ্ড জীবনের শুধু একটা দিক নিয়ে, দেহের দিক, জড় ও বস্তুর দিক, যন্ত্র ও যন্ত্রের প্রযুক্তির দিক, ইহকালের দিক, কারণ শুধু বাম চোখ দিয়ে সে জীবনের ঐ একটা দিকই দেখতে পায়। তাই বিশ্বনবী বলেছেন, দাজ্জালের ডান চোখ অন্ধ হবে।
দশ ॥
দাজ্জালের সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নামের মত দুইটি জিনিস থাকবে। সে যেটাকে জান্নাত বলবে সেটা আসলে হবে জাহান্নাম, আর সে যেটাকে জাহান্নাম বলবে সেটা আসলে হবে জান্নাত। তোমরা যদি তার (দাজ্জালের) সময় পাও তবে দাজ্জাল (Dajjal) যেটাকে জাহান্নাম বলবে তাতে পতিত হবে, সেটাই তোমাদের জন্য জান্নাত হবে। [আবু হোরায়রা (রাঃ) এবং আবু হোযায়ফা (রাঃ) থেকে বোখারী ও মোসলেম] খৃষ্টধর্ম মোতাবেক সমষ্টিগত জীবন পরিচালনা ব্যর্থ হওয়ার পর সার্বভৌমত্ব আল্লাহর হাত থেকে মানুষের হাতে তুলে নেবার পর সংবিধান, আইন-কানুন, দণ্ডবিধি, অর্থনীতি ইত্যাদি তৈরী কোরে মানব জীবন পরিচালনা আরম্ভ হলো, যার নাম দেয়া হলো ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র (Secular Democracy)। অর্থাৎ গণতন্ত্র থেকে একনায়কতন্ত্র, ধনতন্ত্র থেকে সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ এগুলো সবই অন্ধকারে হাতড়ানো, এক ব্যবস্থার ব্যর্থতায় অন্য নতুন আরেকটি ব্যবস্থা তৈরী করা।রাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ, একনায়কতন্ত্র, এসবগুলিই মানুষের সার্বভৌমত্বের বিভিন্ন ধাপ, বিভিন্ন পর্যায় (Phase, step) মাত্র। এই সবগুলি তন্ত্র বা বাদের সমষ্টিই হচ্ছে এই ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা, দাজ্জাল (Dajjal)। গণতন্ত্র থেকে ধাপে ধাপে ও পর্যায়ক্রমে সাম্যবাদ (Communism) পর্যন্ত পৌঁছলেও প্রকৃতপক্ষে সমগ্রটা মিলিয়ে একটাই বিষয় ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা, দাজ্জাল (Dajjal) এবং দাজ্জালের মৃদু থেকে উগ্রতম রূপ। স-ঘোষিত ‘স্বর্গ’ (Paradise), প্রকৃতপক্ষে সেটা অধিবাসীদের জন্য নরক।
এগারো ॥
দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে (অর্থাৎ কপালে) কাফের লেখা থাকবে। শুধু মো’মেন, বিশ্বাসীরাই তা দেখতে এবং পড়তে পারবে; যারা মো’মেন নয়, তারা পড়তে পারবে না। কয়েকটি দেশ আছে যাদের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কপালে সাজদার কালো দাগ আছে কিন্তু তারা দাজ্জালকে চিনতে পারছেনা এবং দাজ্জালের আশ্রয়ে থেকে, দাজ্জালের কাছ থেকে অস্ত্রসহ সবরকম সাহায্য নিয়ে তাদের দেশের মধ্যে যারা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, তওহীদ প্রতিষ্ঠা করতে চান তাদের বন্দী করছেন, নির্যাতন করছেন, গুলী করে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করছেন। এর কারণ এসব নেতাসহ মোসলিম বিশ্ব দাজ্জালের শেখানো এই কথা বিশ্বাস করে নিয়েছেন যে ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়, সমষ্টিগত নয়, তাই তারা দাজ্জালের কপালে কাফের লেখা দেখতে ও পড়তে পারেন না।
বারো ॥
আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক দাজ্জালের অনুসরণ করবে। [আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে শারহে সুন্নাহ] একটি হাদীসে মহানবী বলেছেন- ভবিষ্যতে এমন সময় আসবে যখন আমার উম্মত ইহুদীদের অনুসরণ ও অনুকরণ করতে করতে এমন পর্যায়েও যাবে যে তাদের কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে তবে আমার উম্মতের মধ্য থেকে তাও করা হবে (হাদীস- আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বোখারী ও মোসলেম)।
তেরো ॥
দাজ্জালের শক্তি, প্রভাব ও প্রতিপত্তি পৃথিবীর সমস্ত মাটি ও পানি (ভূ-ভাগ ও সমুদ্র) আচ্ছন্ন করবে। সমস্ত পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ চামড়া দিয়ে জড়ানো একটি বস্তুর মত তার করায়ত্ত হবে। [মুসনাদে আহমদ, হাকীম, দারউন নশুর] পৃথিবীর ইতিহাস যতটুকু জানা যায়, তা থেকে বলা যায় যে, অতীতে কখনও পৃথিবীতে এমন একটি মহাশক্তির আবির্ভাব হয় নি যে শক্তি সমস্ত পৃথিবীকে পদানত ও নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল। এটা সম্ভবও ছিলো না। কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, যানবাহন ইত্যাদি এমন ছিলো না কখনো।
চৌদ্দ ॥
আরবে এমন কোন স্থান থাকবে না যা দাজ্জালের পদতলে না আসবে বা সেখানে তার প্রভাব ও প্রতিপত্তি না থাকবে। [বোখারী ও মোসলেম] আরবে যদিও আল্লাহর দেয়া আইন-কানুন ও দণ্ডবিধি মোটামুটি চালু আছে, অর্থাৎ দাজ্জাল (Dajjal) কে স্বীকার করে নাই, কিন্তু অন্যান্য সমস্ত ব্যাপারে আরবের শাসকরা দাজ্জালের অর্থাৎ পাশ্চাত্য শক্তির কাছে নতজানু হয়ে তার আদেশ নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। নেতারা, শাসকরা জানেন যে, মহাশক্তিধর পাশ্চাত্য সভ্যতার বিরুদ্ধে গেলে তাদের সিংহাসন, আমীরত্ব থাকবে না। দাজ্জাল (Dajjal) তাদের সরিয়ে দিয়ে তার পছন্দমত শাসক নিয়োগ করবে।
পনেরো ॥
দাজ্জাল (Dajjal) পৃথিবীর সর্বত্র যেতে পারবে ও যাবে কিন্তু মক্কা ও মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না। মদীনায় প্রবেশের প্রত্যেক দরজায় দু’জন করে মালায়েক (ফেরেশতা) পাহারা দেবে যারা দাজ্জাল (Dajjal) কে সেখানে প্রবেশ কোরতে দেবে না। [আবু বাকরাহ (রাঃ) ও ফাতেমা বিনতে কায়েস (রাঃ) থেকে- বোখারী ও মোসলেম]
ষোল ॥
ঈসা (আঃ) দাজ্জাল (Dajjal) কে হত্যা করবেন। [আব্দুলাহ বিন ওমর (রাঃ) থেকে মোসলেম এবং নাওয়াস বিন সা’মান (রাঃ) থেকে মোসলেম ও তিরমিযি] দাজ্জাল (Dajjal) কে হত্যা বা ধ্বংস করার জন্য আল্লাহর প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে আসমান থেকে হাজার হাজার বছরের অতীতের একজন নির্দিষ্ট নবীকে পৃথিবীতে পাঠাবার অন্য কোন কারণ দেখি না।
লেখকঃ প্রকৌশলী, খাদ্য প্রযুক্তি। কলাম সমগ্র । MY ARTICALES WRITING
hzsumon@gmail.com (To Read Click Above Link)
- হামিদুজ্জামান সুমন's blog
- Login to post comments
- 1046 reads
একই রকম আরো কিছু ব্লগ
- “অনন্ত” আর নিতান্ত এক “আই এম হিলারি‘স হাসবেন্ড, অ্যান্ড ইউ?”পর্যালোচনা - nahreen.khan
- একজন অতন্দ্র সাহসী মানুষ - Serajul.Islam.C...
- সাংবাদিকের স্বাধীনতা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে - Mostafa.Hussain
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট - Shaurav.Shikdar
- শান্তি ও সৌহার্দ্যবাদী সাংবাদিকতা - Harun.Habib
- বাংলা কবিতা এবং পুরুষের প্রসববেদনা - আহম মাইনুল আমিন
- 'সেরাজ তালুকদার' বা 'কানকাটা রমজান' অথবা 'শ্যামল ছায়ার মুক্তিযোদ্ধা' - Rita Roy Mithu
- তবু কেন মানুষ ভোট দেয় ! ----কথা হয়নি বলা ! - আহম মাইনুল আমিন
- সংবাদমাধ্যম ও সিভিল সোসাইটি - Syed.Abul.Maksud
- আকাশ-সংস্কৃতির কবলে মাতৃভাষা - Shaurav.Shikdar

Recent comments
1 day 3 hours ago
1 day 4 hours ago
1 day 11 hours ago
1 day 12 hours ago
1 day 12 hours ago
1 day 13 hours ago
1 day 18 hours ago
1 day 11 hours ago
3 days 4 hours ago
3 days 6 hours ago