Literature

Qazi Manzur's picture

ছোট গল্প: ফাঁটল

১.
সকাল দশটার মতো বাজে। শামীমদের অফিসে হঠাৎ বেশ সোরগোল শুরু হলো। সাভারে নাকি একটা গার্মেন্টস ভবন ধ্বসে পড়েছে। শামীমের অফিসের কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। খবর শুনেই সে সাথে সাথে মোবাইল ফোন দিয়ে অনলাইন সংবাদপত্র ঘাঁটতে শুরু করলো। অবাক বিস্ময়ে দেখলো, সকাল সাড়ে আটটার দিকে নয়তলা একটি ভবন ধ্বসে নেমে এসেছে তিন-চার তলার উচ্চতায়।শামীম সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তার মাথায় প্রথমেই এলো ফ্লোর-টু-ফ্লোর হাইট তাহলে এখন কত? দুই-তিন ফিট? তার মানে মানুষ পুরোপুরি চ্যাপ্টা হয়ে যায় নি। নাকি অনেক মানুষ চাপা পড়েছে হঠাৎ নেমে আসা বিম-এর নিচে?

NurunnaharShireen's picture

আজি এ ঝরোঝরো ইচ্ছেনির্ঝর (পঁচিশে বৈশাখ)

আজ পঁচিশে বৈশাখ, বিশ্বকবির জন্মদিন। যাঁর গানের বাণী, যাঁর সুরের সন্মোহনী যুগেযুগেই অবিস্মরণীয়। যে কোনও সুখে-দঃখে-সঙ্কটে বাঙালির তাঁর অজস্র বাণী মনে আসেই। খানিক আগেই এক পশলা রূপালি বৃষ্টির ধারা ভিজিয়ে দিলো চিলতে বারান্দা, জানলাতল। সে কি কবিগুরুর জন্মদিনের স্মরণে !! সে কি পঁচিশ বৈশাখ বলে আকাশ ভেঙে অঝোর বৃষ্টি নাবলো ঝুমঝুমিয়ে !! মন বলছে, হয়তো "আজি এ ঝরো ঝরো বাদল মুখর দিনে" কবিগুরুর জন্মদিনের কথাটি আকাশও জেনেছে অলৌকিক কোনও আলোকবার্তায় !! আমি মাঝেমাঝেই ভাবি কবিগুরুর বিপুল গানের

Rita Roy Mithu's picture

তিনি এবং ডাঃ ফ্রিলুক্স (ছোট গল্প)

শেষ পর্যন্ত তিনি ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাঃ ফ্রিলুক্স উনাদের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান। ফ্রিলুক্সকে উনি পছন্দ করেন, মুখের দিকে তাকালেই এক ধরণের নির্ভরতা খুঁজে পাওয়া যায়। ফ্রিলুক্সের কাছে অকপটে মনের কথা খুলে বলা যায়। তিনিও আজ মনের কথা খুলে বলবেন বলেই ডাক্তারের চেম্বারে গেলেন। নার্স এগিয়ে এসে জানতে চাইলো,
" কী সমস্যা আপনার?"
"সমস্যা তো অনেক। কোনটা রেখে কোনটা বলবো?"
"একটি একটি করে সবই বলুন, ডক্টরের কাছে আগে থেকেই সমস্যা জানাতে হয়, ডক্টর ওভাবেই তৈরী হয়ে আসেন"।
" আমাকে তোমার ডক্টর ভালভাবেই জানেন, কারণ উনি আমাদের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান।

Mahabubul.Hasan.Niru's picture

অনল, নদী এবং সকালের গল্প

1

-নদী। এই নদী।
-বলো। আবেশাচ্ছন্ন কন্ঠ নদীর।
-আজকের সকালটা কী সুন্দর তাই না? জানো, আমার বড্ড ইচ্ছে করছে এই ঝলমলে সুন্দর সকালের কাঁচা রোদ গায়ে মেখে তুমি আর আমি অনেক দূর পথ হাত ধরাধরি করে হাঁটি।
-উহুঃ, তুমি হাঁটো। আমার এখন বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করছে না।

NurunnaharShireen's picture

ক্ষণজন্মা খনার বচন আজও জনপ্রিয়

বঙ্গদেশ আদতে সুপ্রাচীন কালের বাংলা প্রবাদ সমৃদ্ধ একটি দেশ। শুনেছি, ছেলেবেলায় দাদী-নানীর মুখে কত না অজানিত প্রবাদ। তাঁরা প্রায়ই কথায়-কথায় শ্লোক অর্থাৎ প্রবাদ বলতেন বলেই আমারও প্রবাদ-প্রবচনের উপর ভালোবাসা জন্মায়। এদেশের নারী-পুরুষ সকলেই প্রাচীন প্রবাদ আজও মেনে চলতে ভালোবাসে। শুনেছি, বঙ্গদেশের রাজা-বাদশাহরাও প্রাচীন প্রবাদ বিশ্বাস করতেন। খনার বচন কিংবদন্তীসম জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো। এবঙ আজও এদেশে খনা নামের ক্ষণজন্মা নারীর সেইসব অমৃত বচনের বিস্তর আদর-কদর। যে কোনও ঋতুতে খনার বচন মনে আসেই বাঙালির। কেননা, অত্যন্ত ফলদায়ক খনা নামের বিদূষী নারীর সেইসব আশ্চর্য প্রবাদ-প্রবচনের ঋতু ভিত্তিক শ্লোক

NurunnaharShireen's picture

জখমিত জোছনালিপি

অনেক কাল আমার জগতবাড়ির জোছনাকে তেমন করে দেখার ইচ্ছে জাগেনা। অথচ একদা জোছনাময়ী আকাশটা বিষম প্রিয় শুধু না, জোছনার চিলতে আলোরেখা কখন জানলাতল ছাড়িয়ে ঢুকে পড়বে ঘরে তারই তরে হৃদয় উচাটন থাকতো। হয়তো তখন বয়সটা তেমন এক বয়স ছিলো যখন চাঁদতারাফুলপাখিনদীনীলিমা সবই প্রিয়। তখন জীবনানন্দের "বনলতা সেন" পাঠের মুগ্ধতাঘোর এমন যেন আমিই সেই পাখির নীড়ের মতোন চোখের অধিকারিনী "বনলতা সেন"! হ্যাঁ, সেই বয়সটা হয়তো অমনই, যা কিছু অনিন্দ্য আনন্দনের তাই ভালোলাগার। ক্রমে কালের অমোঘ নিয়মে বয়সের বাড়ন্ত ঢলে পড়ার অস্তাচলগামী যাত্রায় মাত্রাছাড়া-আত্মহারা ভালোলাগার বাড়াবাড়ি খানিক থিতিয়ে পড়েই। তাই আগের মতো যখন-তখন

Qazi Manzur's picture

৫৪ ধারা নিয়ে ধারাবাহিক উপন্যাস: "ফাঁদে পা" (পর্ব-৩)

আগের পর্ব: http://blog.priyo.com/qazi-manzur/36547.html

পর্ব-৩: অচেনা গন্তব্য

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমি আমার উকিলের পাঠানো ওকালতনামা হাতে পেলাম; ১ নম্বর আসামী হিসেবে আমার নাম; মৌমিতা ২য় আসামী! সেটাতে স্বাক্ষর করে আবারো অপেক্ষার পালা। আমি দরজা থেকে বেশ দূরে বসে ছিলাম; নোংরা মেঝে; স্যান্ডেলটা পিঠোপিঠি রেখে তার উপর বসেছি। এত চাপাচাপির ভেতর পা ভাঁজ করে বসাও দুরুহ; আমি এই কষ্ট সহ্য করতে পারব; কিন্তু মৌমিতা আর শুদ্ধ কী করছে? শুদ্ধ ঠিকমতো কথা বলতে পারেনা; ওর কষ্ট ও কীভাবে প্রকাশ করবে? সকাল থেকে ওরা প্রায় না খেযে আছে; কী হবে আমার মিষ্টি বাবাটার, মৌমিতা নিশ্চয়ই কেঁদে চলেছে…!

muhammad amanullah's picture

তোমার জন্যে লাল গোলাপ

তোমার জন্যে লাল গোলাপ / মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ

এক.
মাসুদ তাঁর বাবার ছবিটির ফ্রেম পাল্টান―প্রতি বছর; মার্চ এলেই। এটি তাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকে সারা বছর।
আজ আব্বু সকালেই টিভি দেখছেন; সকালের নাশতা সেরেই প্রতিদিন তাড়াহুড়ো করে তিনি বেরিয়ে পড়েন―অফিসে যান।
বাসার টিভি সেটটি ডাইনিং রুমেই। আব্বু ওখানে বসেই খবর শোনেন; রাত জেগে টক শো দেখেন। মাঝে মাঝে আম্মুও বসেন―খবর শোনেন।
―আব্বু , তুমি কী দেখছো? তোমার কী আজ অফিস নেই? এতো কোন খবর নয়―লাইভ অনুষ্ঠান। দীপা বাবার গা ঘেঁষে এসে দাঁড়ায়।

ইমতিয়াজ ইমন's picture

একটি রাত্রি নষ্ট হয়ে যাবে, নষ্ট করে যাবে

একটি রাত। অন্যান্য রাতের মত এ রাতেও আধার ছিল। রাতের গভীরতায় কাল্পনিক সম্ভোগে ক্লান্ত তরুণেরা ঘুমিয়ে পড়েছে। নারী পুরুষ সবাই ক্লান্তির কাছে হার মেনে ঘুমের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। সবাই ক্লান্ত হতে চায়। ক্লান্তির কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায়।
রাত্রির অন্ধকারকে আরও অন্ধকার করে দিতে রাস্তায় নেমে আসে রাত মেয়েরা। চলে দরদাম। এই রাত বলেছিল আজ জোছনা হবে। কিন্তু চাঁদ তার কক্ষপথে থেমে গেছে, তাই এখানে আসেনি।

sadhana1377's picture

প্রজন্ম’১৩

দৃশ্য -১

( মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তাঁর বাসায় কিছু খুঁজছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না , খুঁজতে খুঁজতে তিনি হয়রান হয়ে ওঠেন । রাগে দুঃখে হতাশায় নিজের মাথার চুল ছিঁড়তে থাকেন । এমন সময় কানে বাজে তাঁর মৃত পিতার কণ্ঠস্বর । তাকিয়ে দেখেন , পিতা ঘরময় হেঁটে বেড়াচ্ছেন আর কথা বলছেন ।)

পিতা - হ্যামলেট ব্যর্থ তুই
তোর তরবারি আজ ধারহিন
অশুভের প্রভাবে আচ্ছন্ন তুই
পিতৃঋণ শোধে যে করে আবহেলা
তার আকাশ হয় চিরঅন্ধকার
তার বীরপ্রসবিনী ভূমি হয় বন্ধ্যা
নদী পরিণত হয় জরায়ুর জমাট বাঁধা রক্তে

Syndicate content