Literature

Badruddin.Umar's picture

হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের ওপর সরকারি হামলা

কারও মাথা যখন বিগড়ে যায় তখন তার শেষ অবস্থা। মনে হয় আওয়ামী লীগ এখন সেই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। আজ ১৬ মে সংবাদপত্রে ‘দেয়াল’ নামে হুমায়ূন আহমেদের একটি উপন্যাস প্রকাশের ওপর হাইকোর্টের এক নিষেধাজ্ঞার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে রাসেলের হত্যা বিষয়ক যে কথা উপন্যাসটিতে লেখা হয়েছে সেটা ভুল। এই ভুল সংশোধন না করা পর্যন্ত উপন্যাসটি হুমায়ূন প্রকাশ করবেন না, হাইকোর্ট এটা আশা করেন। তাদের এই ‘আশা’ করার অর্থ হুকুম জারি। কারণ তাদের আশা অনুযায়ী কাজ না করলে আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত বা অন্যভাবে বেইজ্জত হতে হবে।

সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের দ্বারা গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর তারা এই আশা ব্যক্ত করেন (Daily Star-১৬.৫.২০১২)। একটি suo moto রুল জারি করে আদালত এ সম্পর্কিত সব প্রাথমিক দলিলপত্র অর্থাত্ ভাষ্য সংবলিত কাগজপত্র হুমায়ূন আহমেদকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে হুমায়ূন সেগুলোর মাধ্যমে নতুন তথ্য এবং সরকারি ভাষ্য সম্পর্কে অবগত হয়ে অর্থাত্ সত্যের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাঁর বইটিতে বলা কথা পরিবর্তন করতে পারেন। মহামান্য আদালত কর্তৃক মিথ্যার পরিবর্তে সত্য প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টা প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু এখানে কথা আছে। কথাটি হলো এই যে, ঐতিহাসিক ঘটনাসহ যে কোনো ঘটনার সত্যাসত্য নির্ধারণের মালিকানা কারও নেই। কোনো সরকারের তো নেই-ই। আদালতেরও নেই। ঘটনা বিশ্লেষণের কিছু নিয়মকানুন আছে এবং তার চর্চার মাধ্যমে যে কোনো ব্যক্তির অধিকার আছে নিজের ভাষ্য প্রকাশ করার। এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের অধিকার কারও নেই। যাই হোক, এ ব্যাপারে পরে আসা যাবে। এখন দেখা যাক হুমায়ূনের এবং সরকারের ভাষ্যে কী বলা হয়েছে।

mikhan007's picture

আত্মসমর্পণ / মফিজুল ইসলাম খান

তোমার চুলের বনে হারিয়ে যাবো
আজীবন রবো একা লুকিয়ে
শাড়ির আঁচলে রেখো চঞ্চল বায়ু
দেহের পরতে রেখো যমুনার জল
ঢেউয়ের তালে তালে ভেসে যাবো
নিয়তির শেলাঘাতে আমি এক জিন্দালাশ ।

কাঁকনের রিনিঝিনি সুর তুলে
ডাগর নয়নে পরো মায়া কাজল
সবুজ শ্যামলিমায় বাগান করো
মাঝখানে সরোবর কম্পমান
আকাশে বাতাসে তুলে বেতাল ঝড়
কবিতার স্বরলিপি খাও ভিজিয়ে
বিধাতার মরা গাং আমার দেহ
নারিকেলের ছোবড়া চিতল কন্যা
আমাকে ঝুলিয়ে দাও কৃষ্ণের বাঁশিতে ।

mikhan007's picture

মনের খবর / মফিজুল ইসলাম খান

ছোট্ট বাড়ি ছোট্ট ঘর এক চিলতে সবুজ আঙিনা
পার হয়ে সবুজ মাঠ । মাঠের বুক চিরে
আঁকাবাঁকা মেঠো পথ । পথের দুধারে
ধান কাউনের বাচ্চাকাচ্চার ক্যাচক্যাচানি উদয়াস্ত
দিন মজুরের বেসুরা পুঁথি পাঠ কান ঝালাফালা করা
হুক্কার গড়গড়ানি বেতাল সুরে ভাটিয়ালী গানের আর্তনাদ
পাখার নিচে এক পা লুকিয়ে আরেক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা
ঘুম ঘুম চোখের গুটি কয়েক বেকার শাদা বক ।

মন কাড়া এই মেঠো পথে এক্কা দোক্কা
খেলতে খেলতে পাঠশালা । পাঠশালায়
কানামাছি ভোঁ ভোঁ চোর পুলিশ খেলা
মনের প্রথম আকাশ দেখা ।

Mamunur.Rashid's picture

তোতাকাহিনী এবং অতঃপর

রবীন্দ্রনাথের 'তোতাকাহিনী' দেখছিলাম মঞ্চে। তোতা পাখিটিকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। রাজার অভিলাষ পূরণ করতে গিয়ে খাঁচায় আবদ্ধ হলো পাখিটি। তারপর উন্নতির নামে খাঁচাটি শক্তিশালী হতে লাগল। রাজ অমাত্য-পণ্ডিত আর লিপিকরদের বিদ্যার নিপীড়নে একসময় পাখিটি মারা গেল। কিন্তু রাজা আর তাঁর অনুষদরা এতে আনন্দিত হলো, কারণ বিদ্যা সুসম্পন্ন হয়েছে। শেষে বিষয়টি এমনটাই দাঁড়াল যে যতই পাখি বিদ্যা অর্জন করছে, ততই তার ডাল পালটানো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কণ্ঠ রোধ হয়ে আসছে। সে উড়তে পারছে না ডানা মেলে। এসব লক্ষণের মধ্য দিয়েই একসময় তার বিদ্যা অর্জন সুসম্পন্ন হয় এবং মৃত্যু ঘনিয়ে আসে।

রবীন্দ্রনাথ পাঠ্য বই ও অপাঠ্য বই নিয়েও বিস্তর লিখেছেন, আলোচনা করেছেন। তাঁর অসংখ্য রচনার মধ্য দিয়ে তিনি এ বিষয়টি স্পষ্ট করে গেছেন যে বিরাজমান শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তোতাকাহিনীর পরিণতিই লাভ করা যাবে, যে কারণে তিনি কখনোই বিদ্যালয়ে যাননি। তাই বিংশ শতাব্দীর একেবারে প্রারম্ভেই তিনি শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গুরু-শিষ্য পরম্পরায়, প্রাকৃতিক পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণকে সে সময় তিনি আদর্শ ভেবেছিলেন। শান্তিনিকেতনের সেই শিক্ষাব্যবস্থা সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও ভারতবর্ষের শিক্ষাব্যবস্থায় তার তেমন একটা প্রতিফলন ঘটেনি। উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থাকেও তিনি উপেক্ষা করেননি। সে জন্য পরবর্তী সময়ে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

Justice.Habibur.Rahman's picture

প্রবন্ধ-সাহিত্য এবং রবীন্দ্রনাথ

আলংকারিক অর্থে জনক কথাটা এমনই যত্রতত্র ব্যবহার হচ্ছে যে আমার মন বলতে চায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা প্রবন্ধের জনক। বিদ্যাসাগরের আগে প্যারিচাঁদ মিত্র 'ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত' প্রবন্ধ রচনা করেন। একদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ভুদেব মুখোপাধ্যায়, সঞ্জীব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, শিবনাথ শাস্ত্রী, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, প্রমথ চৌধুরী, ধুর্জটি প্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন অন্যদিকে আকরাম খাঁ, কাজী মোতাহার হোসেন মাঝে রবীন্দ্রনাথ রয়েছেন এক বড় প্রবন্ধকার হিসেবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধসাহিত্য বিশাল। আয়তন অনুযায়ী তা পাঠকের তেমন মনোযোগ আকর্ষণ করেনি। রবীন্দ্রনাথ রচনাবলির প্রবন্ধের বর্ণানুক্রমিক তালিকা লক্ষ করা যায় অক্ষয় চন্দ্র চৌধুরী থেকে হিসাব পর্যন্ত কবি আট শতের অধিক প্রবন্ধ রচনা করেন। তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে যেমন 'অক্ষয় চন্দ্র চৌধুরী' জীবনস্মৃতি থেকে এবং 'গ্রহলোক' বিশ্বপরিচয় থেকে নিয়ে প্রবন্ধ তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, সাহিত্য, কাব্য, ছন্দ, কৌতুক, আত্মা, ছবি, রূপ, অরূপ সৌন্দর্য, জগৎ, ধর্ম, উপনিষদ ইতিহাস, মহৎ ব্যক্তি, দেশহিতৈষা, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, ভারতীয় সভ্যতা, বাংলা সাহিত্য, বিশ্বসাহিত্য ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর অসংখ্য প্রবন্ধ রচিত হয়। তাঁর বক্তৃতা ও অভিভাষণগুলোও প্রবন্ধ হিসেবে চিহ্নিত। একসময় রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধগুলো আমি কার্ড-ইন্ডডেঙ্ করে পড়ি। এ ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথের সুভাষিতগুলো তিনটি গ্রন্থ সংকলিত হয় : রবীন্দ্র প্রবন্ধে সংজ্ঞা ও পার্থক্যবিচার, রবীন্দ্ররচনার রবীন্দ্রব্যাখ্যা ও রবীন্দ্রবাক্যে আর্ট, সংগীত ও সাহিত্য।

mikhan007's picture

মনসার কালনাগিনী / মফিজুল ইসলাম খান


আমাকে দংশন করে বার বার
মনসার কালনাগিনী
সুতানালী সাপ ।

বেহুলার বাসর ঘর থেকে বেরিয়ে
যায়নি ফিরে সে নিজ আস্তানায়
শেষ রাতে চুপিচুপি ঢুকেছে আমার ঘরে
আমি নাকি তার দ্বিতীয় লক্ষীন্দর । সেই থেকে আজও
রসিয়ে রসিয়ে কাটে শিরা উপশিরা অবিরাম
মগজের পরতে পরতে পান করে
শক্তি সুধা অস্থি মজ্জা ইচ্ছে মতো।

বসুধার খেলার পুতুল আমি
আমাকে নিয়ে আপন মনে খেলা করে সে
যখোন তখোন যখোন তখোন ।

আমার নসিব কান্নার ফোয়ারা
কেঁদে কেঁদে বুক ভাসানো
এক অচল ভেলা ।
আমার নসিব তকমা পরা
এক জিন্দালাশ বেহুদা গন্ধ ছড়ানো
কাঁড়ি কাঁড়ি আবর্জনা।

mikhan007's picture

সুখ পাখি / মফিজুল ইসলাম খান

শ্রাবণ ফিরে গেলে প্লাবন হবে না পাখি
দিন বয়ে যায়
বনানীর আড়ালে স্নিগ্ধ ছায়া ফেলে
আয় পাখি আয়।

সাতান্ন কেটে গেলো খোলসে লুকিয়ে মুখ
ঝরলো আঁখি নীর
পাখায় ঝড় তুলে ধরা দে এবার
পেছনে পড়ে থাক
তিতাসের তীর।

অনেক হয়েছে খেলা গোমতীর কূলে
শিকারী ফেলেছে জাল
নূপুর পায়ে ধরা দে পাখি
এভাবেতো আর
কাটে না যে কাল।

Quazi Hassan's picture

মেঘের কি রঙ?

হবু বর তার এক বন্ধুকে নিয়ে মেয়ে দেখতে এসেছে।

বরের নাম তৌফিক। তিন সপ্তাহের জন্যে দেশে এসেছে। বিয়ে করে, নেপালে হানিমুন করে; পারলে মেয়ের ভিসার ব্যাবস্থা করে যাবে। পরে টিকেট পাঠালে মেয়ে যাবে এমেরিকায়। সব মিলিয়ে মেলা কাজ। এর মধ্যে আবার পাঁচ দিন পার হয়ে গেছে। তা ছাড়া বউ নিয়ে গ্রামের বাড়ি যেয়ে নানীর সাথে দেখা করতে হবে। তৌফিকের জন্মের সময় নানী বলেছিল, নাত বউ না দেখা আমি মরব না। এখন নাতির বিয়ের সময় চলে এসেছে, কিন্তু তিনি মহা অসুস্থ। মাস খানেক আগে তার স্ট্রোক হয়েছিল। স্মৃতিশক্তি এলোমেলো হয়ে গেছে; চোখের দৃষ্টিও বেশ খারাপ। কারোর দিকে আর চোখে চোখ রেখে তাকায় না। যতক্ষণ জেগে থাকে, উদাস দৃষ্টি তার জানালা দিয়ে বাইরের পুকুর পাড়ের দিকে থাকে।

তৌফিকের মা জরুরী চিঠি পাঠাল। বাবা আমি তোর নানীর নাত বউ দেখার ইচ্ছাটা পূরণ করতে চাই। তার ইচ্ছা এখন আমার ইচ্ছাও হয়ে গেছে। আমি মেয়ে ঠিক করেই রেখেছি। অনেক ভাল ফ্যামিলি। খুব সুন্দর দেখতে। লম্বা; গায়ের রঙটা শ্যামলা হলেও দেখতে ভারী মিষ্টি। লন্ডনে ছিল অনেক দিন। কিছু দিন আগে ফিরে এসেছে। ভাল ইংলিশ বলে। এমেরিকায় তোর কাছে গেলে কোন সমস্যাই হবে না। আমাকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেছে। তা ছাড়া তোর বিয়ের বয়স তো হয়েছেই।

mikhan007's picture

বল্ না মাগো / মফিজুল ইসলাম খান

সত্যি করে বল্ না মাগো
বাবা গেছে কই
আসবে নাকি বাড়ি ফিরে
আনবে নাকি দই?

কতো বছর গত হলো
আকাশ পানে চেয়ে
আজও কেনো এলো না সে
বৃষ্টি জলে নেয়ে?

সত্যি করে বল্ না মাগো
কাঁদিস কেনো তুই
আঁখি নীরে ভাসে কেনো
দাদা দাদী দুই?

mikhan007's picture

সাহেব আলী সমাচার / মফিজুল ইসলাম খান

তালেব আলী নায়েব আলী কোথায় গেলিরে
বেলা যে পড়ে যায়
কুঠার আন কোদাল আন
শাবল ঠেশ আড়ি দেয়ার গুঁড়িগুলো
তাড়াতাড়ি নিয়ে আয় ।

রক্ত খেয়েছে মাংস খেয়েছে বিলম্বে
সাহেব আলীর হাড়গুলো বিলীন হবে
আয়
গন্ডারমুখো বাস কেটে বের করি
বুড়োর ছিন্নভিন্ন হাড়গোড় ।

ভূমিহীন সাহেব আলী একপাল ছেলেমেয়ে
উদয়াস্ত দিন মজুর
শ্রেণীদ্বন্দ্ব ভুলে খড়ের এক রং মহলে
বসবাস
আজ ছিলো তার মেয়ের বিয়ে ।