Literature

নুরুন্নাহার শিরীন's picture

অর্বাচীনের দিবসরজনী

অর্বাচীন অনেক দিন লিখিনি প্রিয়ব্লগে। চিকিতসার কারণে অনেক দিন দেশের বাইরে ছিলাম। ফিরে এসেছি এবার ডাক্তার-এর প্রেসক্রাইব করা প্রত্যেক সপ্তাহে একটা করে ইনজেকশনের বাক্স সমেত। ব্যাংককে একটা পুশ করেই দেয়া হয়েছে। তো, এইসব ঝক্কির মাঝে কাটছে দিবসরজনী। তাই বলে কি কাব্য বাতিক কমে? কমেনি। উপরন্তু বেড়েছে। প্রায় বুড়োর দিকে ধাবিত বলে কখন কি হয় জীবন ভাইয়ের সেই ভাবনাজাত চিন্তাজাল কথাজালেই বেঁধে রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। অবকাশের প্রিয় বলতে এই একটা মাত্র কাজেই সময় কাটাই। অনেকটা নন্দলালের দশা আর কি।

Quazi Hassan's picture

নীলে নীলে নীলাম্বরী

Cancun 1.png

নীল রঙে মন আনন্দে মেতে উঠে না ,এমন মানুষ কি আছে?
যদি বিশাল একটা জায়গা জুড়ে যদি থাকে হালকা নীল, তার পরে গাঢ় মানে ভীষণ গাঢ় নীল,আর শেষে আকাশী নীল---- মনুষ্য চোখে যদি একবারে একসাথে এই তিন নীল যদি একবারে এক সাথে এসে ধরা দেয়, তা হলে তার আবেশ মনের মধ্যে যেয়ে পড়বেই। মনের সব বিষাদ মুহূর্তেই বিলীন হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়।

Waset Shahin's picture

রঙধনূ-৮

সেমিস্টারের শুরুতে রেন্টাল লাইব্রেরী থেকে বই দিবে। ফর্ম খু্ঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। সব সময়েই লাইব্রেরীর সামনে এক গাদা রাখা থাকে। এবার নেই। বিষয় কি? তখনো লাইব্রেরী খোলেনি। কাউন্টারের ফাঁকে মাথা নিয়ে রাহিম জানতে চাইল ফর্ম কোথায়। ‘ফর্মতো বাইরে টেবিলের উপর রাখা আছে, নিয়ে নেন।‘ ‘কিন্তু টেবিলেতো ফর্ম নেই।‘ রুম থেকে একজন কর্মচারী বেরিয়ে এসে দেখল, আসলেই নেই। সে আশ্চর্য হল। কয়েক রিম কাগজের ফর্ম সাইক্লোস্টাইল করা হয়েছে। গেল কই সেসব? লাইব্রেরীয়ানকে জানানো হল। ভেতরে বাইরে আরো ভাল করে খোঁজা হল। কোথাও পাওয়া গেল না। অগত্যা লাইব্রেরীয়ান ঘোষনা করে দিলেন সেদিন বই দেয়ে হবেনা, পরের দিন দেয়া হবে।

Waset Shahin's picture

রংধনূ-৭

সাহেদাই দরোজা খুলে দিলেন। তমাকে দেখেই হাত দিয়ে কাছে টেনে নিলেন। ‘কেমন আছ তুমি মা?’ মার গলা জড়িয়ে ধরে তমা জিজ্ঞেস করল।
‘আছি মা ভাল, তুই কেমন আছিস?’
মেয়েকে তাঁর ঘরে রেখে তিনি রান্না ঘরে ঢুকলেন। দ্রুত এক গ্লাস লেবুর শরবৎ বানিয়ে নিয়ে এলেন। রাত দশটা বাজে প্রায়। তাঁর রাতের খাবার শেষ হয়েছে বেশ আগে। তমা বলল,’ শরবৎ খাবনা। ভাত খাব। খিদে লেগেছে। ভাত কি মা আছে?’ সাহেদা হাসলেন।

Quazi Hassan's picture

নী ভালবাসা

g1.jpg

ছবি তোলা হচ্ছে।
বলাই বাহুল্য কিছুক্ষণের মধ্যে এর থেকে কয়েকটা ছবি ফেস বুকে চলে যাবে। এক জনের ছবি গুলোর জন্যে সেই সাত সমুদ্রের ওই পারে অপেক্ষা করার কথা। ইলেক্ট্রনিক ক্যামেরা, ফোন ক্যামেরা আর ফেসবুক, ছবি তোলা আর প্রচারের ব্যাপারটা সারা পৃথিবীতে খুবই সহজ করে দিয়েছে। এখন এর জন্যে বাড়তি খরচ আর সময় দিতে হয় না বললেই চলে।
তিন দিনের সফরে দু জোড়া মানুষ এসেছে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে।

Waset Shahin's picture

রয়েছে সুখ অনন্ত-১

হাত ঘড়ির দিকে তাকাল একা। ওর সাথে মোবাইল আছে। ওয়ালে সাঁটা দেয়ালঘড়িও রয়েছে। তবুও কেন জানি সময়ের কথা মনে হলেই একার দৃষ্টি হাত ঘড়ির ডায়ালে চলে যায়। ওর হাত ঘড়িটা সুন্দর। গোলাপী ডায়াল। রঙটাও একার প্রিয়। সে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর বাবা ওকে দিয়েছিলেন। তিনি ব্যবসায়ের কাজে সিংগাপুর গিয়েছিলেন। ওখান থেকে কেনা। বাবা উপহার দিয়েছেন বলে নাকি প্রিয় রঙ গোলাপীর জন্য তা পরিষ্কার বুঝতে না পারলেও ঘড়িটা একার খুবই প্রিয়। বাবাও ওর খুব প্রিয়। ওদের চার ভাই বোনের মাঝে একা বড়, সেজন্যই হয়তোবা ওকেই বাবা বেশি আদর করেন।

Waset Shahin's picture

রংধনূ-৬

আগামী দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। পরেরদিন তিনটা ক্লাশ আছে। খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। মিস করলে তেমন সমস্যা হবেনা। তমা বিকাল তিনটায় রাজশাহীর বাসে চড়ে বসল। আষাঢ়ের বৃষ্টি ঝরছে কদিন ধরে। তবে আজ বিকেলে বৃষ্টির ধার বেশ কম। টিপ টিপ পড়ছে। পুরো আকাশ জুড়েই রয়েছে মেঘ। নিচের সাদা সাদা মেঘ গুলো ছুটে বেড়াচ্ছে। সহসাই ঝুম হয়ে নেমে আসার আভাস। ভালই হয়। বর্ষায় যতই বৃষ্টি ঝরবে ততই ভাল, ভাবল তমা। তার বাড়িতে যেতে যতটা মন কাঁদে ততটা মন টানেনা। কারন হচ্ছে ভাবী। বিচিত্র এক মেয়ে। ওর ভাইয়ের বউ এতটা খারাপ হবে সে ভাবেনি।

Waset Shahin's picture

রংধনূ-৫

আষাঢ়ের মাঝামাঝি। প্রবল বর্ষন কদিন ধরে। বেশ শীত শীত ভাব। কদিন আগের প্রচন্ড গরম পরাভূত হয়েছে। স্বস্তি ফিরে এসেছে জনজীবনে। খাল বিল জলাশয়ে টইটুম্বুর পানি।
এক সকালে ওরা ঢাকা থেকে রাহিমদের হলে চলে এল। সিমি, পলি, প্রদীপ। ওদের দেখে রাহিমের মনে হল, ইশ, তমা যদি আসত। যদিও মেয়েটি সম্পর্কে যতটুকু জেনেছে এটা প্রায় অসম্ভবই বটে। কেন যেন মনের গহীন থেকে অসম্ভব সব ইচ্ছেরাও জানান দিয়ে যায়। রুমের দরজা খোলাই ছিল। ওরা ঢুকল হঠাৎ করেই। বেশ হৈ হৈ আনন্দের সোর উঠল। ওরা এসেছে নৌকা ভ্রমনের আশায়। রাহিম সফিকের রক্তেও কাঁপন উঠল। চট জলদী রেডী হয়ে রওনা হয়ে গেল। নৌকা ঘাটে যাওয়ার আগে যেতে হবে সাইদের বাসায়। ও শহরে থাকে। ঘাট থেকে বেশি দূরে না।

Waset Shahin's picture

রঙধনূ-৪

নিউমার্কেটের আইডিয়াল লাইব্রেরিতে রাহিম একটা এক বইএর খোঁজে। বায়তুল মোকাররম আর নীলক্ষেত আতিপাতি খুঁজে এসেছে, কোথাও পায়নি। বড় আশা নিয়ে এসেছে হয়তো পেয়ে যাবে। সময় পড়ন্ত দুপুর, বলা চলে বিকেল। তিনটা বাজে। লাইব্রেরিতে খদ্দের বলতে গেলে নেই। ও দোকানীকে বইটার কথা বলল। লক্ষ্য করল লাইব্রেরির ভেতরে পশ্চিম দিকে একটা মেয়ে মাথা নিচু করে বই এর পাতা উলটাচ্ছে। কেমন চেনা মনে হচ্ছে। কে হতে পারে? বিদ্যূৎ চমকের মত মনে পড়ে গেল। এতো তমা। রক্ত চঞ্চল হতে শুরু করেছে।

Waset Shahin's picture

রংধনূ-৩

রোকেয়া হলের গেট থেকে টিএসসির দিকে যাচ্ছে ওরা। রাহিম, সফিক ও সিমি। রাস্তাটা পেরনোর সময় ওপাশ থেকে লম্বা একটা মেয়ে সিমির দিকে চেয়ে অল্প হাসির ভাব বিনিময় করে উলটা দিকে হেঁটে গেল। রাহিমের বুকের ভেতর কেমন ধ্বক করে উঠল। কে মেয়েটা? শ্যমলা বর্ণ সৌম্য স্নিগ্ধ চেহারা। চোখ দুটো বড় শান্ত, গম্ভীর, কেমন যেন ব্যাথাতুর চাহনী। কেন? পোষাকে বাহুল্য নেই। সুন্দরী মেয়েদের মত আত্মপ্রকাশের চটক নেই। খরস্রোতা নদী নয়, শান্ত দীঘির মত। অল্প কসেকেন্ডেই মেয়েটি রাহিমের মনে বেশ দাগ কাটল। সিমিকে জিজ্ঞেস করল,’ মেয়েটি কে?’
‘কেন, পছন্দ হয়েছে?’ সিমি হাসল।

Syndicate content