গল্প নয় সত্যিঃ
এক
চার দেয়ালের বাইরে আজ যেন আর যেতেই পারেনা সুখী। স্তব্ধ জীবন, বদ্ধ ঘরে আটকে আছে চার চারটি বছর। সেই যে মামি গ্রামে এসে সুখীকে ঢাকার নিয়ে এসেছে এখন কদাচিৎ বাড়ি ফেরা হয়। গুলশান, বনানীর আবাসিক হোটেলে উচ্চ বৃত্তের লালসার স্বীকার হচ্ছে প্রতিদিন। নিজের ইচ্ছাকে গলা টিপে, সম্মানকে ধুলোয় লুটিয়ে নবরূপে বধূ সেজে চলেছে প্রতিরাতে। যখন সে ঢাকায় আসে তখন সে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। কুষ্টিয়ার এক স্কুলে দারুণ মেধাবী এই সুখী পড়ালেখায় বেশী দুর এগুতে পারেনি। বাস্তবতার কঠিন জীবনে দেহদানকে গ্রহণ করেছে পরম অনিচ্ছায়। নিজের সমস্ত ভালোলাগাকে বিসর্জন দিয়ে অন্যের ভোগের যোগ্যা করেছে মামির ইচ্ছায়। আর নয়ই বা কেন? গার্মেন্টসে কাজ করলে যা টাকা পাওয়া যায় তা দিয়ে জীবন চেলে না। তাছাড়া গার্মেন্টসে কাজ নিতে গেলেও এই শরীর ভোগ্য হবে। তাই তো বুঝে শুনে এ পথেই পা বাড়িয়েছে সে। মামি বলেছিল দুই বছর, যা কামাই করবে তা দিয়ে ছোট খাট একটা দোকান দিবে। বিয়ে করে সংসারী হয়ে স্বামী সোহাগে কাটিয়ে দিবে তাঁর বাকি জীবন। কিন্তু তারপর আরও দুই বছর গত হল এ জীবন থেকে ফিরে আসার কোন আশার আলো দেখতে পায় না সুখী। মনে হয় অন্ধকার এ জীবনটাই এখন তাঁর নিত্য সঙ্গী। একটা ভয় আর শঙ্কা যেন আটকে রেখেছে তাঁকে। তাই তো এ জীবন থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে না। যদি কোনদিন স্বামী তাঁর অতীত জীবন জানতে পারে তাহলে কলঙ্কের অপবাদ হয়ত সইতে পারবে না। এভাবেই বিত্তদের ভোগের লোলুপ লোভে কাটিয়ে দেয় দিনগুলো।







Recent comments
19 min 49 sec ago
20 min 18 sec ago
20 min 59 sec ago
21 min 15 sec ago
22 min 31 sec ago
25 min 13 sec ago
26 min 8 sec ago
26 min 29 sec ago
26 min 54 sec ago
27 min 41 sec ago