এ কোন অশনিসঙ্কেত? পুরনো বছরের বিদায় বেলা থেকে যে ‘আসন্ন ঝড়ের সঙ্কেত’ পাচ্ছিলাম, এ কি তারই নমুনা? তবে কি এই সব অপঘাতের জোরেই মাদাম খালেদা আর মির্জা ফখরুল সরকারের বিরুদ্ধে গলাবাজি করে যাচ্ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে এই অঘটনটি ঘটে গেলেও নতুন বছরে মহাজোট সরকারকে ‘নববর্ষের উপহার’ হিসেবে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু নতুন বছর আসার আগেই সে চক্রান্তের পরিকল্পনাটি ফাঁস হয়ে গেল। ফাঁস করে দিলেন একজন ইন সার্ভিস মেজর। অবসরে যাওয়া একজন কর্নেল এই ষড়যন্ত্রটি পাকিয়েছিলেন এবং প্রথম সুসংবাদটি তাকেই দিয়েছিলেন। কিন্তু ভদ্রলোক ‘ঘুঘু দেখেছ, তার ফাঁদ দেখনি’ ভেবেই হয়ত সেনাবাহিনীতে তার উপরওয়ালাদের কানে দিয়েছিলেন বলে এগুতে পারল না, ভণ্ডুল হয়ে গেল অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সাহেবের চক্রান্ত। তবে সহযোগী ছিলেন আরও একজন ইন সার্ভিস আর্মি মেজর। বিদেশে প্রশিক্ষণ শেষে ছুটিতে থাকা ঐ মেজর অবশ্য এখন পলাতক। এছাড়া, কতিপয় প্রবাসী বাঙালী এই পরিকল্পনার সাথে নাকি সম্পৃক্ত, এ কথা সেনাবাহিনীর প্রথম ব্রিফিং-এ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক জানিয়েছেন।
বেশ কিছুদিন যাবতই বিএনপি তাদের রোডমার্চ, হরতাল, বিক্ষোভ, সমাবেশ, সাংবাদিক সম্মেলন কিংবা জনসভা যে কোন স্থানে জনসম্মুখে চলতি আওয়ামী প্রধান মহাজোট সরকারকে নানান ধরনের চ্যালেঞ্জ, ধমক, হুমকি, আগাম নির্বাচন কত যে বাগাড়ম্বর করে যাচ্ছিল তাতে অবশ্য একটা কাজে বিএনপি-জামায়াত দোস্তি কামিয়াব হয়েছিল। সে হলো মানুষের মনে একটা আতঙ্কের বীজ পুঁতে দিয়েছিল। তাই সর্বত্রই কিন্তু না জানি কবে ক্যু হয়ে যায়, সেনাবাহিনী এসে শাসন ব্যবস্থা নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়, ইত্যাদি আতঙ্ক ছিল। এই আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ার পেছনে বিএনপি-জামায়াত জোটের মিথ্যাচার, অপপ্রচার যত না দায়ী, তার চেয়ে বেশি চলমান সরকারের বড় গলা করে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি পূরণে ব্যর্থতা, অর্থনীতির দুরবস্থা, শেয়ারবাজারে ‘সর্ষেয় ভ‚ত’ উৎপাটন না করায় অনবরত যে ধস নামছে দুর্নীতি, ঘুষ, টেন্ডারবাজি, নানা খাতে লুটপাট প্রকাশ্যে চলে আসায় মানুষও দুশ্চিন্তায় চলছিলেন। তার ওপর বিএনপি-জামায়াতের ‘সরকার যা করবে তাই খারাপ’ কিংবা যেভাবেই হোক সমালোচনা করতে হবে। এমন মানসিকতা ও রাজনীতির ভোটবাজির খেলার সাথে সহিংস হিংস্রতা, হত্যা, গুম ইত্যাকার অপরাধের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থায় অনাসৃষ্টির মাধ্যমে অরাজকতা তৈরি করে সেনাবাহিনীকে রাষ্ট্রভার গ্রহণে বাধ্য করার লক্ষ্যটাও বুঝি স্থির করেছিল। তাই বুঝি মাদাম জিয়া এবং তাঁর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এ চ্যালেঞ্জ, আগাম নির্বাচন দাবি, অমুক সময়ের মধ্যেই এ সরকারকে যেতে হবে, ইত্যাদি বাতচিত হেঁকে যাচ্ছেন। সর্বশেষ চট্টগ্রামে যে মাদামের বোলচাল তা কি এই ধরনের ঘটনারই ইঙ্গিত ছিল?
আমরা তো জানি, বিএনপি-জামায়াত জোট খুবই নাখোশ বর্তমান সরকারের ওপর সেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ে হেনস্তা হওয়ার পর থেকে। নির্বাচন করল বিএনপি-জামায়াত কিন্তু গো-হারা হেরে গেল তাই নতুন চক্রান্তের জাল বিছিয়ে দেশকে অরাজক পরিবেশে নিয়ে ফেলতে উঠেপড়ে লেগে গেল। ভোট চেয়ে যেটুকু পেয়েছিল, তার মর্যাদা না রেখে উল্টো সেই ভোটদাতাদের অপমান করতে শুরু করল। এখনও করে যাচ্ছে নির্দ্বিধায়। নির্বাচনের পরপরই বেড়াল প্রথম রাতেই মারতে বিএনপি-জামায়াত জোট যে কৌশল এঁটেছিল ‘পীলখানায় জওয়ান বিদ্রোহ’ আয়োজনের মাধ্যমে তাও ব্যর্থ হয়ে গেল প্রধানমন্ত্রী হাসিনার দৃঢ় মনোবলের কারণে। বিএনপি-জামায়াত অপরাজনীতি সেনাবাহিনীর একটি অংশকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল সদ্য দায়িত্ব গ্রহণকারী মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে। ফলে তরুণ বিক্ষুব্ধ সেনা অফিসার ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা হত্যায় যেভাবে তাদের উত্তেজনাময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন তাতে খালেদা নিজে থাকলে কী বিব্রতকর বিপদের মুখে পড়তেন তা তিনি আজও হয়ত ভেবে উঠতে পারছেন না। যেভাবে ক্ষেপিয়ে তুলেছিলেন তার যথার্থ কারণও ছিল কিন্তু বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে এই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর যে দায়িত্ব ছিল তা তিনি বুঝতে চাননি। ভেবেছিলেন এইতো সুযোগ, এর মাধ্যমে দাওটা মারা যায় কিভাবে? কিন্তু হাসিনার বিচক্ষণতায় এবং সাহসী মোকাবিলার কারণে বেগম জিয়া সফল হতে পারেননি। কারণ তরুণ বিক্ষুব্ধ অফিসাররা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রæতি ও জবাবে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রও বিহিত করেছে তাদের চিন্তা ভাবনা হিসেবে। জওয়ানদের হাতে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার-পরিজনকে যে প্রতিদান দেয়া হয়েছে তা কোনক্রমেই হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের সমান তো আজ হতে পারে না, তবু জীবনের প্রয়োজনে রাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তই তো মেনে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তিল তিল করে প্রতিশ্রæতি পালন করেছেন, এখনও করছেন। তাই ক্ষুব্ধ ক্রুদ্ধ খালেদা জিয়া ও তাঁর দল, দাওটা হাতছাড়া হয়ে গেল বলে দুঃখিত।
সেই যে বৈরিতার শুরু হয়েছে তারপর থেকে কোন গঠনমূলক রাজনীতি নয়, কেবলই ধ্বংসাত্মক চিন্তা। কি করে এই সরকারকে সরিয়ে নিজেদের ক্ষমতায় যাবার পথটা খোলাসা করবেন। ফলে রাজনীতির অজুহাতে বেমালুম মানুষকে ভুলে গিয়ে তাঁদের ভোটের মর্যাদা পর্যন্ত দিতে কুণ্ঠাবোধ করছেন তাঁরা। কেবলই অকর্মণ্য মনে হচ্ছে সরকারকে তাই নানা ফন্দি এঁটে সরকার পতনের অপচেষ্টায় মত্ত হয়েছে, সত্যিকার কল্যাণমুখী রাজনীতি ত্যাগ করে। তাই গণবিরোধী কার্যক্রমে মানুষকে ‘বোকা’ বানাবার কৌশল নিয়ে রাজপথে গাড়ি নিয়ে নেমেছে সরকার উৎখাতের চক্রান্তে। আর সাথে তো জামায়াত এবং জামায়াতী মদদে সৃষ্ট ধর্মান্ধ দল বা গোষ্ঠী আছেই। দেশে কত যে সন্ত্রাসী জঙ্গী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে তার কোন হিসেবই বোধ হয় নেই। এরা সবাই সলতে পাকাচ্ছে। তাই বুঝি ডিসেম্বরে পরিকল্পিত ক্যু বেফাঁস হয়ে গেল। নানান জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ, সংঘর্ষ-সংঘাত, অন্য দলে ঢুকিয়ে দিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম সৃষ্টি এবং অন্তর্বিরোধ তৈরি করে বর্তমান সরকারকে কমজোর করার পরিকল্পনা তো রয়েছেই। এবারের ‘ক্যু’ যদি বলি, তাহলে বলতেই হবে এটা ভণ্ডুল হয়ে গেছে। তবে মনে রাখতে হবে এই ভণ্ডুলের আড়ালে নতুন কোন চক্রান্তজাল পাকাতে পারে ওরা। কারণ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি কিছুতেই তাদের নেতা-শিক্ষক, কমান্ডারদের গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়াকে সহ্য করতে পারছে না। তাই তারা নানা প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীতে লুকিয়ে থাকা ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সমর্থকদের যোগসাজশে নানা ফন্দি আঁটছে।
এবারের অপপ্রয়াস তারই একটি বলেই মনে হচ্ছে। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া যদিও অনেক দেরিতে শুরু করলেও শুরু তো হয়েছে কিন্তু জনগণের মধ্য থেকে দাবি উঠেছে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করার। জনগণের এ দাবিতে বিরোধীদলীয় জোট ভীষণভাবে শঙ্কিত। তাই তারা নানা অছিলায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে এই সব চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। যেমন করে ১৯৭৩ সালের দালাল আইনে পাকিস্তানী সেনাদের সহযোগী ও সকল অপকর্মের দোসর ৩৭ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিরপরাধী লোকজন ছিল বলে বঙ্গবন্ধু আইনটি সংশোধন করে অপরাধ নির্দিষ্ট করে দিলে ২২ হাজারেরও বেশি ছাড়া পেয়ে যায়। কিন্তু যে সাড়ে ১১ হাজার জেলে থেকে যায় তাদের বিচার চলছিল। এর মধ্যে ৭৫০ ব্যক্তির বিচার শেষ করে রায়ও হয়ে গিয়েছিল বিভিন্ন মেয়াদে এবং কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কয়েকটি ক্যু, পাল্টাক্যুর পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় বসে এবং ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার জন্য ত্রাতা কর্নেল তাহেরকে হত্যা করে ক্ষমতাকে এ্যাবসলিউট করে নেন। আর সেই সুযোগে ক্ষমতা পাওয়ার মাত্র মাসাধিক কালেই দালাল আইনই বাতিল বলে ঘোষণা করেন। ফলে মৃত্যুদণ্ড থেকে নানা মেয়াদে শাস্তি পাওয়া যুদ্ধাপরাধীদের বেপরোয়া খালাস দিয়ে দিয়েছিলেন।...
তাহলে এবার যখন যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও শাস্তি বিধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সমাপ্ত করে বিধিবদ্ধভাবে সকল প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক ধারাক্রম অনুযায়ী মান বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে, তাকে নানা ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ করে দেশবাসী ও বিদেশীদের বিভ্রান্ত করার সাথে সাথে বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত ও বিঘিœত করার কৌশল অবলম্বন করেছে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক চক্রের সাথে উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী। তাই আজ তারা মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যেন বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা যায়। তাহলে এই যুদ্ধাপরাধী বিচারের কাজ সম্পন্ন হবে না এবং বিচারের রায়ও কার্যকর করার সুযোগ মহাজোট সরকার পাবে না, তাদের আশা, যতদিন এভাবে পিছিয়ে নেয়া যায় ততই ওদের জন্য মঙ্গল। সময় কাটিয়ে যদি মহাজোট আমল পার করে দিতে পারে আর যদি পরবর্তী নির্বাচনে জোট সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তবে তো জিয়াউর রহমান সাহেবের মতন বেগম জিয়াউর রহমানও ক্ষমতায় বসেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদী, সাকা, মুজাহিদসহ গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে তো দেবেন এবং এ সংক্রান্ত আইনও বাতিল ঘোষণা করে দিতে পারবেন। ৪০ বছরে যে বিচার বিলম্বিত হয়েছে, সেই বিচারকে আবার বিলম্বিত করার সুযোগ তারা গ্রহণ করতে পারবে।
একটা কথা মনে রাখতে হবে, এই পাকিস্তানী নাগরিক গোলাম আযমকে বাংলাদেশে আসবার অনুমতি তো জিয়াউর রহমানই দিয়েছিলেন। আশ্চর্য হয়ে যাই, তিনি নাকি ¯^াধীনতার ‘ঘোষক’Ñ সেটা দাবি করেন তার স্ত্রীর সাঙ্গোপাঙ্গরা। তাই যদি হবে, তবে কি ভেবে তিনি গোলাম আযমকে দেশে ঢুকতে দিলেন? “তার স্ত্রী গোলাম সাহেবকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেবেন, সে তো ¯^াভাবিক। চোরে চোরে মাসতুতো ভাই বলে একটা কথা বাংলায় প্রচলিত আছে। তাই পাকিস্তানী সেনানিবাসে বসত করা গৃহবধূ খালেদা আর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে নিজ দেশ ত্যাগ করা গোলাম আযমের তো কোন পার্থক্য নেই। সেটাই বুঝিয়ে দিলেন নাগরিকত্ব দিয়ে ... এবারে তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে বেগম জিয়ার তো গায়ে লাগবেই, এতদিন সৌদিআরব বা পাকিস্তানীদের দেখিয়ে নানাভাবে ঠেকিয়ে রাখার কতনা চেষ্টা করেছিল তারা, তাদের প্রিয় রাজনৈতিক দোসরদের বহাল তবিয়তে জিইয়ে রাখতে। এখন যখন সেই মামদো ভ‚তের ভয়টা গেছে, তখন তারা কাছা খুলে মাঠে নেমেছেন জানি দোস্তদের বাঁচাবার জন্যে। তারই নানা প্রক্রিয়া যখন শুরুই হয়ে গেল সেই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে । এবং তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরুতে শুরু করেছে, তখন হন্যে হয়ে গেছে প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং তথাকথিত জাতীয়তাবাদী শক্তি। বেগম জিয়া যত কথা বলছেন, তার সার কথা দেশকে রক্ষা করার জন্য সরকারকে ধাক্কা দিচ্ছেন। ... আহা বেশ বেশ। কী আপনার দেশপ্রেম, সে তো এতকাল ধরেই দেখে চলেছি, স্থিরচিত্তে একবার ভেবে দেখতে বলি।তিন যা করছেন তার কতটুকু ব্যক্তিপ্রেমে জারিত আর কতটুকু দেশপ্রেম?
যদি তাই হবে মাদাম তবে জনসভা-সমাবেশে সমর্থক- ভাড়াটেদের সামনে যে সব কথা বলে চলেছেন রোডমার্চের পর রোডমার্চ, তার কতটুকু দেশপ্রেমে উচ্চারিত এবং সত্যিই দেশকে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে তা নিজে একা একাই উপলব্ধি করতে পারবেন। কারো প্রভাবে যে কাজ করেন, জানি তার আগে আপনি নিজে কোন চিন্তা-ভাবনা করতে পারেন কিনা? দেশ বাঁচানোর প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো ‘জাতীয় সংসদ’। আপনি তো সেই সংসদেই যেতে চান না। অদ্ভুত সব অপযুক্তি প্রদর্শন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চান। যদি সত্যিই দেশের ভাল চাইতেন তবে মৌলবাদী সন্ত্রাসী জঙ্গীদের সাথে হাত মিলিয়ে বিচ্ছিন্ন খণ্ডিত অংশের দুচারজনকে নিয়ে উন্মত্ত নাচ কারবার আয়োজন করতেন না। জানি, অনেক জায়গায়ই আপনার ও জামায়াতের লোকজন আছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধোত্তর সেনাবাহিনী যে ঔপনিবেশিক চরিত্রের হয় না সকলে, সেটা বোধ হয় আপনার জানা নেই। দেশ বিদেশের মুক্তি সংগ্রাম কিংবা ¯^াধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস পড়ার সময় পেয়েছেন কিনা জানি না। পড়লে বুঝতে পারতেন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে। কি করা হয় এবং ইতোপূর্বে সব দেশেই করা হয়েছে। অবশ্য সেক্ষেত্রে আপনার স্থান কোনদিকে সে তো স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। সুতরাং আপনি তো তা জেনেও জানতে চাইবেন না। তাই চক্রান্ত আর বিরোধী অপশক্তি সেই ‘¯^াধীনতার শক্তি’ ভেবে কাছে টেনেছেন। তাই তো করবেন। এর চেয়ে বেশি আর কিইবা দেবেন আপনি? না হলে মনে পুষে রাখা পরাজয়ের গ্লানি আপনি দূর করবেন কিভাবে? একবার ভেবে দেখুন তো, যে কথা আপনি উচ্চারণ করছিলেন এই সরকারকে হুমকি দিয়ে, তার পরিণতি কত ভয়াবহ হতে যাচ্ছিল! আপনাদের কথার ভেতর যে উস্কানি ছিল, তা নিয়ে সবাই সতর্ক ছিলেন রাজনৈতিকভাবে, সেনাবাহিনীও এর আভাস পেয়েছিল নিশ্চয়ই। তাই সূচনাতেই ব্যর্থ করে দিতে পেরেছে, না হলে কত যে প্রাণ বলিদান হতো, রাষ্ট্রব্যবস্থা নিগৃহীত হতো, তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। যদি দেশকে বাঁচাতেই চান তবে কেন অপশক্তিকে উস্কানি দিচ্ছেন। টেনে নামাচ্ছেন সংঘাতে, তাও জনগণের সাথে। ভাবছেন, আপনারা লাভবান হবেন? না কিছুতেই নয়, কারণ এই বাংলার আপামর জনসাধারণ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে, তাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে, পাকিস্তানে কি বাংলাদেশে। তাই বলছি মাদাম এ পথ ছাড়ুন, গণতন্ত্রের কথা মুখে বলেন বটে কিন্তু মানেন না। মানার চেষ্টা করুন। কতটা পারবেন জানি না কারণ আপনাদের কার্যক্রমে, কথাবার্তায় এমনকি রাজনৈতিক কর্মসূচীতে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্রের প্রতি সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধ দেখাতে পারেননি। আমরাও দেখতে পাইনি।
আপনাদের সংসদে বসার আসন ঠিক জায়গায় দেয়া হলো না, বক্তব্য রাখতে সময় দেয়া হয় না, এমনতর ওজর আপত্তি তুলে সংসদের অধিবেশনগুলোতে যান না। এই কি জনগণের প্রতি আপনাদের কমিটমেন্ট? জনগণের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন তাদের জন্য কাজ করবেন, কথা বলবেন কিন্তু এই সংসদে কতদিন গেছেন এবং যাননি কতদিন তার হিসেব দিন। এমনভাবে ভোটদাতা নাগরিকদের অপমান করার অধিকার তো আপনাদের নেই, কেউ দেয়ওনি। তাহলে কোন সাহসে বা কাদের মদদে ও স্বার্থে এইসব অকাজ করেই চলেছেন? আর সেই সাথে দেশবাসী জনগণকে কেন ভোগান্তির দিকে ঠেলে দিতে চক্রান্ত করছেন?
সরকারের ব্যর্থতা থাকবেই। সম্পূর্ণভাবে সফল কোন সরকারই হতে পারে না। সেই ব্যর্থতা সংসদে গিয়ে ধরিয়ে দিতে হবে। তা না করে রাস্তায় রাস্তায় চিৎকার করে বেড়াচ্ছেন যেন দেশবাসী বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আপনাদের ভোট দেয়, সেই আশায়। বেশ তো পাবেন ভোট কিন্তু গণতন্ত্রমাফিক কাজকর্ম করুন, লোকজনকে অবৈধ পথে চলার উস্কানি দেবেন না। এই মানুষরাই তো আপনাদের ভোট দিয়ে একবার দেখেছে, ক্ষমতায় থাকতে এবং ফিরে আসতে আপনারা কত ধরনের নোংরামি করতে পারেন। ক্ষান্ত দিন, পথে আসুন।

Recent comments
19 min 49 sec ago
20 min 18 sec ago
20 min 59 sec ago
21 min 15 sec ago
22 min 31 sec ago
25 min 13 sec ago
26 min 8 sec ago
26 min 29 sec ago
26 min 54 sec ago
27 min 41 sec ago