History of Bangladesh

ali.imam's picture

ইতিহাসের আলোকে স্বদেশের মুখ

ইতিহাস থেকে জানা যায় দু’হাজার বছর আগে বাংলাদেশে উন্নতমানের জাহাজ তৈরি হতো। বাঙালিরা তখন বাণিজ্য করতে যেত সুদূর ক্রিট, আলেকজান্দ্রিয়া ও কৃষ্ণ সাগরে। পূর্বদিকে যেত চীন সাগরে।
রামায়ণে উল্লেখ রয়েছে ক্ষীর সাগর, যবদ্বীপ, ইক্ষুরস সাগর, সালমালা দ্বীপ, সোরা সাগর ও ক্ষিরদা সাগরের।

ঋগবেদে বলা হয়েছে চারটি সমুদ্রে যাতায়াতের কথা।

মহাভারতের দ্রোণপর্বে বলা হয়েছে, সমুদ্রের অগভীর পানিতে বিপদে পতিত লোকরা যদি দ্বীপ পেয়ে যায় তাহলে বেঁচে যায় তারা। আদিপর্বে রয়েছে কারু ও তার বোন বিনীতার কাহিনী। সেখানে সমুদ্রের বর্ণনা রয়েছে। দু’বোন এসে পৌঁছাল কুমিরে ভরা সমুদ্রতীরে। সমুদ্রে ছিল বিশাল তিমিঙ্গল। সামুদ্রিক দানব।

অর্জুন গিয়েছিল উত্তর সমুদ্রে। পাখি ছাড়া সেখানে আর কেউ যায় না। লবণ সমুদ্র সম্পর্কে বলা হয়েছে, সেখানে প্রচুর খনিজ দ্রব্য, পাহাড়-পর্বত রয়েছে।

Pramanik Jalal Uddin's picture

স্বাধীনতাকে অর্থহীন বলা বা প্রমাণ করা, স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার নামান্তর

বিশ্বের মানচিত্রে বাঙালী জাতি আজ স্বাধীন, সার্বভৌম একটি জাতি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে, ৩০ লক্ষ শহীদ ও অগণিত মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে তা অর্জন করে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা। তাদের লক্ষ্য ছিলো, শোষণ ও অপ-শাসনের অবসান ঘটিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলার প্রতিষ্ঠা। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে দেশকে স্বাধীন করবার প্রচেষ্টায় এত মানুষের আত্মদানের ইতিহাস বাঙালী জাতির এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য আত্মাহুতি পর্ব থেকে শুরু করে, ১৯৬৯ সালের গণ-জাগরণ, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও মুক্তিযুদ্ধে স্বতঃফুর্ত অংশগ্রহণে, বাঙালী জাতির বেশীর ভাগ মানুষ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক হয়ে ঝামিয়ে পড়েছিল মুক্তির যুদ্ধে। লক্ষ্যে তারা অটল ও সঠিক ছিলেন বলেই মাত্র কয়েক মসের যুদ্ধে দখলদারদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে তারা বাঙালী জাতির বহুল প্রত্যাশিত স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছিলেন, যে স্বাধীনতার জন্য জাতি অপেক্ষা করছিল প্রায় দুই শত বছর যাবত। জাতির দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা বা নিজেদের নিজ দ্বারা শাসন করবার প্রচেষ্টায় সফলতা অর্জনে, তাদের আত্মত্যাগ বা কর্মপন্থা নির্ধারণে তাদের কোন ত্রুটি ছিল না। তাহলে ইদানীং কিছু সুশীল লেখক (!) ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব (যখন যারা ক্ষমতার বাহরে থাকেন) হরহামেশা কেন অভিযোগ তুলে বলছেন যে, স্বাধীনতা অর্থহীন, রক্তদান অর্থহীন, ভাষার জন্য আত্মাহুতি-এসব অর্থহীন বা বেহুদা বক্ওয়াস ?

Pramanik Jalal Uddin's picture

সম-সাময়িক জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ধর্ম ও ভাষার প্রভাব-(শেষ পর্ব)

জাতীয়তাবাদের উপাদানগুলির মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা প্রতিযোগিতা অনেক সময় স্বাভাবিক ও স্বতঃফুর্ত নিয়মে জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে। আবার কখনো কখনো শাসক গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দল কোন এক বা একাধিক উপাদানের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করে উপাদানগুলোকে বাইরে থেকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে পরে। বিভিন্ন সময়ে শাসকগোষ্ঠীরা কোন একটি জাতীর নিজস্ব পরিচয় বদলে ভিন্ন পরিচয় দেয়ার চেষ্টা করেছে। সেখানে কিছু শাসকগোষ্ঠীর কোন কোন প্রচেষ্টা হয়তো সফল হয়েছে, কিন্তু তা বেশী দিন স্থায়ী ও কার্যকর হয় নি। প্রাচীন কাল হতে অদ্যবধি জাতীয়তা বোধ বা জাতিসত্তার প্রশ্নে শাসকগোষ্ঠীরা চাপ বা শক্তি প্রয়োগ করে এসেছে বা আসছে। বিশেষ করে জাতীয়তার ক্ষেত্রে এমন চাপের সমস্যাটি আরো বেশী প্রবল আকার ধারণ করে যেখানে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা অনুপস্থিত বা উপস্থিত থাকলেও তা দুর্বল ও অকার্যকর ।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ’৭২ সালের জনপ্রতিনিধি প্রণীত সংবিধানে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা বা ঐক্যের বদলে যে ভাষাভিত্তিক বাঙালী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হয়, তা অল্প কিছুদিনের মধ্যে পূর্বের ধর্মীয় পরিচয়ের জায়গায় ফিরে আসে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে। বিষয়টি যে শুধু নেহায়েত সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া ছিল তা কিন্তু নয়। এটা ছিল ভাষা-কেন্দ্রিক বাঙালী জাতীর পরিচয় নতুন করে বদলে নেওয়ার প্রক্রিয়া। তৎকালীন শাসকগণ কতৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জাতিসত্তার মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। সংবিধানের মূলনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়।

Rita Roy Mithu's picture

মিসিসিপির তীরেই বসবে পদ্মাপারের হাট!!!!

মিসিসিপি নদীর নাম সেই ছোটবেলা থেকেই জানি। ছাত্রছাত্রী মাত্রেই জানে পৃথিবীর দীর্ঘতম নদীগুলোর মধ্যে মিসিসিপি অন্যতম (চতুর্থ)। উত্তর আমেরিকার দীর্ঘতম নদী মিসিসিপির তীরে মিসিসিপি নামেই একটি রাজ্য আছে। আমেরিকা নামের ধনী দেশটির সবচেয়ে গরীব রাজ্য হচ্ছে এই মিসিসিপি। কালো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত মিসিসিপিতে আমরা কিছু বাঙ্গালী বাস করি। গরীব রাজ্যে আমাদের বাঙ্গালীর সংখ্যাটিও খুবই নগন্য। মিসিসিপির রাজধানী জ্যাকসন-এ বাংলাদেশ- পশ্চিমবঙ্গের মিলিত বাঙ্গালী সংখ্যা একশ’র বেশী হবেনা। আর মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস স্টার্কভিলের বাঙ্গালীর সংখ্যা, আমাদেরকে নিয়েও ত্রিশ-পঁয়ত্রিশের বেশী হবেনা। এর মধ্যে প্রায় বিশ জনই অস্থায়ী, কারন এরা পিএইচডি করতে আসা সব মেধাবী ছাত্র ছাত্রী, পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত। যে চার পাঁচটি পরিবার আছি, তারাও কর্মজগতেই ব্যস্ত। এমন এক সদা ব্যস্ত পরিবেশে আমার মত বাঙ্গালের বেঁচে থাকা খুব কঠিন। মন খারাপ থাকে প্রায়ই, বিশেষ করে দেশে যখন ঈদ, দূর্গা পূজা, পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীসহ নানা রকমের বাংলার ঐতিহ্যবাহী উৎসব মহাসমারোহে উদযাপিত হয়, ঠিক ঐ সময়টাতে সব ছেড়েছুঁড়ে একছুটে দেশে চলে যেতে ইচ্ছে করে।

Rita Roy Mithu's picture

তালপাতার বাঁশী

আমি ইদানিং দুই একটা দৈনিক পত্রিকায় মাঝে মাঝে ফিচার লিখে থাকি। একটি দৈনিক পত্রিকা থেকে প্রবাসে নববর্ষ উপলক্ষ্যে একটি লেখা চেয়ে পাঠিয়েছিলো। লেখা একটি তৈরী করে পাঠিয়েছি, জানিনা ছাপার যোগ্য হয়েছে কিনা! কেননা, প্রবাসে কি আর নববর্ষ উদযাপনের কোন সুযোগ আছে! আমরা এখানে যা করি, তা নিছক সান্ত্বণা ছাড়া আর কিছুই না। এখানে শনি রবি ছাড়া কিছুই করা যায়না। সব উৎসব শনি রবি ধরে আসেওনা। ফলে দেশে যখন সব আনন্দ উল্লাস শেষ হয়ে যায়, আমরা তখন কোন একটা শনিবারে বাসি উৎসব পালন করে থাকি। এ যে কি কষ্টের, কি কষ্টের তা বলে বা লিখে বুঝানো যাবেনা। তারপরেও নিউইয়র্ক, হিউস্টন, ডালাস, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্ণিয়া হলেও একটা কথা ছিল, আমি থাকি একেবারে বাংলার ছোঁয়ার বাইরে। মিসিসিপিতে বাঙ্গালী নেই বললেই চলে, হাতে গোনা চল্লিশ পঞ্চাশ জন নিয়ে কি কিছু করা যায়? তবুও চেষ্টা করছি কিছু একটা করতে। পহেলা বৈশাখের আয়োজন করতে গিয়ে দেখি চোখের সামনে হুড়মুড় করে এসে ভীড় করছে নানা বয়সের স্মৃতি। কি মধুময় সেসব দিন, অর্থের প্রাচুর্য্য ছিলোনা, কিনতু প্রাণের প্রাচুর্য্যে ভরা ছিল সমস্ত শৈশব, কৈশোর, যৌবন।

Yasmeen Hossain's picture

সাড়া জাগানো একটি বই

সাড়া জাগানো একটি বই
‘জনযুদ্ধের দিনগুলি’
-ইয়াসমীন হোসেন

২০০৭ সালের কথিত এক-এগারোর সময়কালে কলাম লেখক হিসেবে দেশে-বিদেশে নজর কেড়েছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল হোসেন খোকন। তিনি ওইসময় আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আর্মি ব্যাক্ড সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেন। প্রকৃতপক্ষে ওই বৈরি সময়ে যে ক’জন হাতে গোনা লেখক কোন রক্তচক্ষুকে গ্রাহ্য করেননি, তাদের একজন ছিলেন আবুল হোসেন খোকন। তবে তিনি যে শুধু ‘এক-এগারো’ নিয়েই কলম চালিয়েছেনÑ তা নয়। আশি’র দশক থেকে শুরু করে ফখরুদ্দিন-মইন সরকার পর্যন্ত যতো অগণতান্ত্রিক শাসক তথা সামরিক শাসক, আধা-সামরিক শাসক এবং স্বৈরশাসকের আবির্ভাব ঘটেছেÑ প্রত্যেকের ব্যাপারে তিনি ক্ষুরধার কলম চালিয়েছেন।
এ বছর এই সাংবাদিক আবুল হোসেন খোকন-এর প্রকাশিত সাড়া জাগানো বইয়ের নাম ‘জনযুদ্ধের দিনগুলি’। এটি মূলত লেখকের রাজনৈতিক স্মৃতিচারণমূলক বই। লেখক একসময় সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সংগঠক ছিলেন। পরে আসেন সাংবাদিকতায়। এখনও একাধারে সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্ট। তার এই বইটিতে উঠে এসেছে ১৯৭১ এবং পরবর্তী প্রেক্ষাপটসহ ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সালের নানা ঘটনা। এতে এমনসব বিষয়ও উঠে এসেছেÑ যা এ পর্যন্ত কেও তুলে ধরার ক্ষেত্রে সৎসাহসী হননি। গ্রন্থটি পড়ে কেবলই চমকে উঠতে হয়, শিউরে উঠতে হয় ভয়ঙ্কর বাস্তবতাকে জেনে। সব মিলিয়ে এটি যেমন দু:সাহসিক একটি বই, তেমন জাতীয় ইতিহাসের জন্য এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দলিলও বটে।

Pramanik Jalal Uddin's picture

সম-সাময়িক জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ধর্ম ও ভাষার প্রভাব-২

জাতীয়তাবাদের উপাদানগুলি এক-একটি ভিন্ন হলেও যখন তারা একে অন্যের উপর প্রাধান্য লাভের উদ্দেশ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হয় তখন জাতীয়তার কোন একটি উপাদান অতি শক্তিশালী হয়ে অন্য এক বা একাধিক উপাদানকে প্রভাবিত করতে শুরু করে এবং শেষে তা বিজয়ী হয়ে অন্য উপাদানগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।

উনিশশো সাতচল্লিশে দেশভাগের ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদের যে উপাদানটি পরিশেষে বিজয়ী হয় তা হল ধর্ম। যদি কোন একটি অঞ্চলের বেশীরভাগ মনুষের ধর্মগত ঐক্য থাকে তাহলে তারা পরস্পরকে এক ও অভিন্ন ভাবতে শুরু করে এবং এ ভাবণাটিকে যদি তারা ঐকান্তিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে তারা একদিন স্বাধীন জাতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। তৎকালীন ভারত-পাকিস্তান বিভাজণে রক্ত-বংশ, ভাষা, পারস্পরিক নৈকট্য ইত্যাদি যত না জণসাধারণকে প্রভাবিত করেছিল তার চেয়ে বেশী প্রভাবিত করেছিল জাতীয়তার অন্যতম সক্রিয় উপাদান বেশীরভাগ মানুষের ধর্ম।

khondokar.Ibrahim.Khaled's picture

বিপন্ন বিজয়ের পুনরুত্থান

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করেছিলাম। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নয়। সমঝোতার মাধ্যমে নয়। কারো দয়া বা করুণায় নয়। যুদ্ধ করে দেশের মাটিতে শত্রুকে পরাজিত করেছিলাম। খানসেনাদের বিতাড়িত করেছিলাম। বিজয় অর্জন করেছিলাম। বড় কষ্টার্জিত ছিল সে বিজয়। অশ্রুভেজা রক্তঝরা সে বিজয়ের পাদপীঠে প্রাণ দিয়েছিল ৩০ লাখ মানুষ। দুই লক্ষাধিক নারীর সম্ভ্রমহানি ঘটেছিল বিজয়ের পথে। পৃথিবীর সব রাষ্ট্রই স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত মূল্য কাউকেই দিতে হয়নি। সাম্প্রতিককালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে অনেকগুলো রাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছে। এ জন্য তাদের যুদ্ধ করতে হয়নি। মতামতের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র বিভাজন হয়েছিল। নরওয়ে, সুইডেন এবং ডেনমার্ক একসময় একটি রাষ্ট্রের অংশ ছিল। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে দেশটি ভাগ হয়ে তিনটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ হয়নি। রক্ত ঝরেনি। এমন অনেক উদাহরণ উল্লেখ করা যায়। জনগণের বৃহত্তর অংশকে অস্ত্রের জোরে পদানত করে রাখা তো ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ। এটি আধিপত্যবাদের পরিচয়। স্বাধীনতা অর্থ মানুষের অধিকার নিশ্চিতকরণ। অধিকার হরণ করে মানুষকে নিষ্পেষিত করলে স্বাধীনতা থাকে না।

Selina.Hossain's picture

স্বাধীনতা : নিজস্ব নির্মাণের অবিনাশী আয়োজন

২৬ মার্চ একটি তারিখ মাত্র নয়। স্বাধীনতা দিবস শুধু একটি দিনও মাত্র নয়। একটি জাতির জীবনে স্বাধীনতা অর্জন গভীর অর্থবহ দিকনির্দেশনা। সেই জাতির আনন্দ ভরপুর পরমায়ু এবং মৃত্যুর শান্তি। স্বাধীনতা বেঁচে থাকাকে অর্থবহ করে। বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে একটি একক আইডেনটিটি। এর ১৬ কোটি মানুষের ভূখণ্ড, পতাকা এবং জাতীয় সংগীতের অধিকার। একটি জাতির জীবনে স্বাধীনতা নিজস্ব নির্মাণের অবিনাশী আয়োজন। তাই স্বাধীনতার স্রোত গড়িয়ে যায় রক্ত-মৃত্যু পার হয়ে বিজয়ের আনন্দের মহাসমুদ্রে। পাঞ্জাবি ভাষার শ্রীমতী অজিত কৌর লিখেছেন : 'The war of Liberation of Bangladesh was different and unique, be cause it was for preservation of the 'Vibrant spirit of Man' which throbs and thrives only in its own culture and in its own language'.

পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে স্বাধীনতা ও বিজয়ের মতো দুটি দিবস আছে কি না খুব ভালো করে যাচাই না করে বলা মুশকিল। আমাদের অর্জন এমন যে আমরা স্বাধীনতা ও বিজয়ের মতো দুটি দিন দিয়ে নিজেদের জাতিসত্তার জায়গা তৈরি করতে পেরেছি। এভাবে বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী রাষ্ট্র।

shorof's picture

আমাদের মহান স্বাধীনতা

আজ ২৬ মার্চ। আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন থেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে পরিচিতি লাভ করে। আমাদের এ মহান স্বাধীনতা একদিনে আসেনি। এর জন্য বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত যাওয়ার পর থেকে শুরু হয় ওপনিবেশিক যুগের। ব্রিটিশরা প্রায় দু্ইশত বছর এ দেশ শাসন-শোষণ করে । ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হয় এবং ভারত বিভক্ত হয়ে দু'টি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট ভারতবর্ষের যে অঞ্চলগুলোতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট লোক বসবাস করে সেরকম দু'টি অঞ্চল পূর্ব বাংলা এবং পশ্চিম পাকিস্তান মিলে গঠিত হয় পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের। যদিও এ দু'টো অঞ্চলের মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশী এবং মাঝখানে ভিন্ন একটি দেশ ভারতের অবস্থান। এমনকি দু'টি অঞ্চলের ভাষা এবং সংস্কৃতিও ছিল ভিন্ন।

পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তানের জনগন নানা বৈষম্যের স্বীকার হতে থাকে। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন শুরু করে। তারা এ অঞ্চলের জনগনের উপর জোরপূর্বক তাঁদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা দেন পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে উর্দু।