সবার কাছে গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি চাই

Hasan.Ahmed.Chowdhury.Kiron's picture

বর্ষীয়ান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রয়াণের মধ্য দিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতির পদ এখন শূন্য। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন পাঠিয়েছেন নির্বাচন কমিশন বরাবর। সেই মোতাবেক নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করবে। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আছেন মাননীয় স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনিই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

২০ মার্চ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেশের উনিশতম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। পরের দিন তার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়। ২২ মার্চ রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় বনানীতে। তার সর্বশেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ঈদগাহে। সব ভেদাভেদ ভুলে দল-মত-নির্বিশেষে জিল্লুর রহমানের জানাজায় শরিক হন সর্বস্তরের মানুষ। তার মৃত্যুতে দল-মত-নির্বিশেষে সবাই শোকার্ত হয়ে ওঠে।

দেশে যখন সরকার এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ তুঙ্গে তখনই রাষ্ট্রপতির মৃত্যু রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সূচনা করেছে। সেই মেরুকরণে আমরা দেখি শুধু ক্ষমতাসীন দল নয়, প্রধান বিরোধী দলকেও রাষ্ট্রপতির প্রতি শেষ সম্মান জানানো এবং শ্রদ্ধায় অবনত হতে। বিরোধী দল সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে সব দলীয় কার্যক্রম স্থগিত করে। বিরোধীদলীয় নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানাতে ছুটে যান বঙ্গভবনে। বর্ষীয়ান রাষ্ট্রপতির প্রতি শেষ শ্রদ্ধায় তিনি অবনত হন। রাষ্ট্রপতির ছেলেমেয়েদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। বেগম জিয়ার যারা কট্টর সমালোচক তাদেরও দেখেছি এ ঘটনায় বিরোধীদলীয় নেতার প্রশংসায় মুগ্ধ হতে। সেই বিচারে রাজনীতির রেসে খানিকটা পিছিয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন দল। বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা বঙ্গভবনে যাওয়ার পরও সরকারি দলের পক্ষ থেকে কেউ তাকে অভ্যর্থনা জানাতে না আসায় ক্ষমতাসীন দল সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেকেই বিষয়টিকে অশোভন এবং অবিবেচনাপ্রসূত বলেও মন্তব্য করেন। সংবিধানে যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তাতে আগামী ১৭ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। দেশের বিশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আসীন হবেন তিনি। কিন্তু কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি? নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে চারদিকে নানা গুঞ্জন, নানা মতের কথা শোনা যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার আবদুল হামিদ থেকে শুরু করে নাম শোনা যাচ্ছে এয়ারভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার, ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আজাদ চৌধুরীসহ আরও অনেক নাম। কেউ কেউ বলছেন, এর বাইরে অন্য কাউকে নির্বাচিত করে চমক দেখাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে উলি্লখিত এসব নামের বাইরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদের মন্তব্যে দেখা গেছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার আবদুল হামিদের পরেই বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের প্রতি জনমত সবচেয়ে বেশি। এদিকে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেতিবাচক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এখনো সেটা রহস্যাবৃত মনে হলেও সবাই যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দিকে ঝুঁকে আছেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিরোধী দলও অবশ্য স্পিকারের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে বলে পত্রিকায় দেখা গেছে। তবে সবকিছুই বোঝা যাবে প্রধানমন্ত্রী কি সিদ্ধান্ত নেন তার ওপর।

রাষ্ট্রপতি যে কোনো দেশেরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ। আমাদের দেশেও তাই। তবে যে মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান চলে গেলেন সে মুহূর্তে পারিপাশ্বর্িক রাজনৈতিক বিবেচনায় এ পদটি আরও বেশি গুরুতপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত, আর কয়েক মাস পরই বর্তমান সরকারের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। স্বভাবতই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সামনেই আরেকটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সমাগত নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার দাবিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং তার অনুসারীরা আন্দোলন করছে। সেই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতির বিষয়ে ইতোমধ্যেই প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে মতামত দেওয়া হয়েছে। বিএনপি বলেছে, রাষ্ট্রপতি পদে তারা কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে দেখতে চায়_ যিনি হবেন সব দলের প্রতি সহনশীল এবং সবার কাছে যার গ্রহণযোগ্যতা থাকবে। এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ আলোচনাও করতে পারে বলে বিএনপির কতিপয় শীর্ষনেতা মত প্রকাশ করেন। তবে পদটি এ মুহূর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, এবার যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন তার মেয়াদকাল হবে আগামী পাঁচ বছর। সুতরাং আগামীতে যদি ক্ষমতার রদবদল হয় তাহলে সেই রাষ্ট্রপতিকে ভিন্নমতাবলম্বীদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান রাজনীতির যে অবস্থা তাতে আগামীতে রাষ্ট্রপতিকেই অনেক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে। যে সিদ্ধান্ত হতে হবে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ। শুধু দলীয় আনুগত্য প্রকাশ করলে সেটা রাষ্ট্রের জন্য নিদারুণ ক্ষতি বয়ে আনবে।

বিএনপি এবং তার অনুসারীরা এখন রাজপথে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা জোর আন্দোলন করছে। ধারণা করি এই আন্দোলন আরও তীব্র হবে। বিএনপি বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাইরে তারা কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি এবং ১৮-দলীয় জোট এখন সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করেছে। আবার বিভিন্ন ইসলামী দলও তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছে। বিএনপি আজ যে আন্দোলন করছে তার প্রেক্ষাপট কিন্তু তৈরি করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকারই। ব্রুট মেজরিটি নিয়ে এ দলটি ক্ষমতায় আসার পর সবার ধারণা ছিল দেশের উন্নয়নে জোট সরকার কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম হবে। কিন্তু একের পর এক ব্যর্থতা জনগণের মধ্যে জোট সরকারের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছে। শুরুতেই জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে বলা নেই, কওয়া নেই সংবিধান থেকে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি উপড়ে ফেলে। আর দেশ পরিচালনায় তাদের ব্যর্থতা সম্পর্কেও অভিযোগ কম নয়। কি-না হয়েছে এই সরকারের আমলে? দেদার সরকারি কোষাগারের অর্থ লুটপাট, সর্বত্র রাজনীতিকরণ, দলীয়করণ, গুম, খুন, নির্যাতন, অপহরণ সবই হয়েছে। সারাবছর ধরেই ছাত্রলীগের পাণ্ডারা ক্যাম্পাস দখল আর খুনাখুনি করেছে। নিজ দলের মেধাবী ছাত্রদের হত্যা করতেও তারা কুণ্ঠিত হয়নি। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কলেজের হোস্টেল পর্যন্ত পুড়িয়ে তারা ছারখার করেছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য বয়োবৃদ্ধ শিক্ষক তাদের হাতে নাস্তানাবুদ হয়েছেন। আবার রাজপথে প্রকাশ্যে সিনেমা-স্টাইলে বিশ্বজিতের মতো নিরীহ এক তরুণকে খুনের উল্লাসে মেতে ওঠে_ যা জনগণের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে। অথচ সরকারকে আমরা দেখেছি, নির্লজ্জের মতো খুনিদের বাঁচানোর কত অপপ্রয়াসে মেতে উঠতে।

এদিকে বর্তমান সরকার আমলে তো আর্থিক কেলেঙ্কারি সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করছে বললে ভুল হবে না। শেয়ারবাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাটের ঘটনার কোনো বিচারই হয়নি। হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সর্বস্ব খুইয়ে পথে বসেছেন। ব্যাংক থেকে কীভাবে নগদ অর্থ লুটপাট হয় তা এ সরকারই হাতেকলমে শিখিয়েছে। আবার হলমার্ক কেলেঙ্কারি ঘটনায় সরকারি দলের যারা জড়িত ছিলেন তাদের কিছুই হয়নি। রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারির ঘটনা তো পুরো বিশ্বই জানে। এ ঘটনায় সরকারের জনপ্রিয়তায় রাতারাতি ধস নামে। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ এনে শুধু যে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে তা নয়, রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছেড়েছে। সর্বশেষ নিজেদের বাঁচাতে যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন পদত্যাগ করলেও বিশ্বব্যাংক আর ফেরেনি। পদ্মা সেতুর ঘটনা জাতির জন্য কত বড় লজ্জার, তা ভাবতেই অবাক লাগে। বর্তমান সরকার কথায় কথায় ন্যায়বিচারের কথা বলে। দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে তো তা আপামর জনগণ সবাই খুশি হতো। কিন্তু এই সরকারের আমলে বিচারব্যবস্থা শুধু বিধ্বস্ত নয়, ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। দলীয় খুনিদের নির্বিচারে মামলা থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে। বিচার ব্যবস্থায় ঘুষবাণিজ্য আগের যে কোনো সময় থেকে প্রবল। আর তাই তো বিকাশ, প্রকাশের মতো খুনিরাও জেলখানার মুক্ত দরজা দিয়ে বের হয়ে গেছেন অনায়াসেই। বিপরীতে আবার লিমনের মতো নিরীহ তরুণকে পা হারিয়ে রাষ্ট্রের শত্রুতে পরিণত হতে হয়েছে। ইলিয়াস আলীর মতো জনপ্রিয় নেতার খোঁজ এখনো মেলেনি? এখনো চোখের জলে বুক ভাসান ইলিয়াস আলীর বৃদ্ধ মা। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী-সন্তানরা কতটা কষ্টে আছেন, তা শুধু তারাই জানেন। এদিকে গত ক'মাসে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হলো তার কৈফিয়তটা কী? সরকার বিরোধী দলকে নানাভাবে দোষারোপ করছে। কিন্তু এও তো সত্য, সরকার সতর্ক হলে এত প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো যেত।

দেশের এখন যে পরিস্থিতি, তাতে সামনে রাজনীতির ময়দান আরও অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। এ অবস্থায় যদি রাষ্ট্রপতি পদে একজন সর্বগ্রহণযোগ্য দেশপ্রেমিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া না হয়, তাহলে সেটা পুরো পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করবে। আগেই বলেছি, যিনি রাষ্ট্রপতি হবেন নিরপেক্ষতার বিচারে সামনের দিনগুলোতে তাকে অনেক সাহসী, সঠিক-নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি যদি কোনো দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটা দেশ ও জনগণের জন্য মোটেও মঙ্গলজনক হবে না। ক্ষমতায় যারা থাকেন তারা বরাবরই ভুল করেন, এক ধরনের অহমিকা, আত্দ-অহংকার তাদের পেয়ে বসে। আওয়ামী লীগের মধ্যেও সেই অহমিকা আমরা দেখতে পাচ্ছি। মনে হচ্ছে, যেন তাদের মতের বাইরে আর কেউ নেই। কিন্তু জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে মহাজোট সরকার কোথায়, কোন অবস্থানে আছে, তা তাদের অজানা থাকার কথা নয়। এ কথা সত্য যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়টি সংবিধান থেকে রহিত হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে এখন মানুষের মনে হাজারটা প্রশ্ন। যদি কোনো জাতীয় ঐক্য না হয়, তাহলে নির্বাচন কীভাবে হবে, কেমন করে হবে, সেটা রহস্যাবৃত। যদি সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হয়, তাহলে গণতন্ত্র আরও বেশি বিপদাপন্ন হবে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রয়াণের মধ্য দিয়ে দল-মত-নির্বিশেষে মানুষের হৃদয়ে এক ধরনের ঐক্যের সূচনা হয়েছে। সেই ঐক্য এবং বন্ধনকে সুদৃঢ় করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, সরকার সে পথে খুব একটা হাঁটছে না। বরং সরকার লাগামহীনভাবে বিরোধী দলের সমালোচনায় মুখর। খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তাতে করে মনে হয় না সামনের দিনগুলোতে ঐক্যের কোনো সানাই বাজবে। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথায় কথায় বিরোধীদলীয় নেতাকে আইনের ভয় দেখান, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। প্রতিটি সরকারের আমলেই আমরা দেখেছি, সরকারের কেউ না কেউ সরকার এবং গণতন্ত্রকে বড় বেশি বিপদগ্রস্ত করে তোলেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও দেখছি সেই একই ভূমিকায় নামতে। অথচ কদিন আগে সাগর-রুনির ঘটনায় এক আওয়ামীপন্থি সাংবাদিককে সামাল দিতে তিনি কতটা অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েন, তা সবাই জানেন। তিনি কারণে-অকারণে ফোঁসফাঁস করে উঠেন। তার ভুলে গেলে চলবে না, খালেদা জিয়া জনতার রায়ে এ দেশে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং বর্তমানে একক জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে তার তুল্য কোনো নেতাই নেই।

যাই হোক, দেশের আপামর জনগণ এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকেই গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। অনেকের মতো আমিও মনে করি, আওয়ামী লীগের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এক বড় পরীক্ষা। আওয়ামী লীগ কতটা দল ও নিজস্ব মতের ওপর উঠতে পারে তার প্রমাণ করতে হবে রাষ্ট্রপতির এই নির্বাচনে। বিষয়টি এখন সত্যিই স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন কি চমক দেন সেটাই দেখার বিষয়। তার চমকের ওপর নির্ভর করছে রাষ্ট্রের আগামী দিনগুলো কেমন হবে। তবে জনমত উপেক্ষা করে অগ্রহণযোগ্য কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হলে সেটা দেশের জন্য অপূরণীয় এক ক্ষতি হবে। বর্তমানে রাষ্ট্রের জন্য একজন শুদ্ধ-নির্লোভ সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে জনগণ দেখতে চায়। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ হলে কোনো দল নয়, কার্যত লাভবান হবে লাখো শহীদের রক্তে পাওয়া বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জনগণ।