উত্তরবঙ্গের ডিমান্ড

আমি দক্ষিণবঙ্গের মেয়ে। বৈবাহিক সূত্রে পদ্মা পাড়ি দিয়ে উত্তর বঙ্গে যাত্রা আমার। যাত্রা পথ পুরোটাই মসৃণ শুধু কাছে এসে ছোট একটু ধাক্কা। ধাক্কাটার নাম ‘’ডিমান্ড’’।
যা উত্তরবঙ্গে অতি পরিচিত শব্দ। আমরা যারা উত্তরবঙ্গের বাইরের মানুষ তারা শব্দটার অর্থ বুঝলেও গভীরতা বুঝব না।বুঝবে তারাই যারা ভুক্তভোগী। যৌতুক শব্দটা উত্তরবঙ্গে ডিমান্ড নামে পরিচিত। আর এর ভয়াবহতা যে কী ভয়ংকর সেটা চোখে না দেখলে বোঝা যাবেনা। আমিও বুঝতাম না যদি আমার উত্তরবঙ্গে বিয়ে না হতো। বিয়ের পর আমাদের দেশের মেয়েদের মধ্যে প্রথম যে চিন্তাটা কাজ করে সেটি হচ্ছে খাপ খাইয়ে চলা। উত্তরবঙ্গের সহজ সরল মানুষের সাথে আমাকে খাপ খাওয়াতে এতটুকু কষ্ট করতে হইনি।খুব সহজেই তারা আমার মন জয় করেছে অবশ্য আমিও তাদের মন একটু হলেও জয় করেছি।
উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক সুন্দরী, মানুষের সরলতা সব আমাকে মুগ্ধ করেছে কিন্তু একটাই মানসিক কষ্ট সেটা হচ্ছে ডিমান্ড। আমি জানি সারাদেশেই এর প্রচলন আছে। কিন্তু এর ভয়াবহতা গভীরভাবে বুঝতে হলে আসতে হবে উত্তরবঙ্গে।
ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই- আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য এম,এ র ছাত্রী। চেহারাও খারাপ না। কখনও ভাবিনি যৌতুক দিয়ে আমাকে বিয়ে দিতে হবে।আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক দাবিও করেনি।কিন্তু বিয়ের পরের দিন সকালেই শ্বশুর পক্ষের একাধিক আত্মীয়া আমার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল, বিয়েতে ডিমান্ড কত? আর এক আত্মীয়াতো আমাকে সরাসরি প্রশ্ন করল, ও বৌমা তোমার বাবা কত টাকা ডিমান্ড দিয়েছে? আমি তার দিকে জিজ্ঞাসু নেত্রে তাকাতেই তার ঝটপট উত্তর-আমাদের মাহতাব পিয়নের চাকরি করে ও পাইছে এক লাখ বিশ হাজার টাকা ডিমান্ড আর আমাদের পিটু বাবু পাঁচ লাখ পাবেই পাবে।(উল্লেখ্য যে আমার স্বামী একজন অ্যাডভোকেট ।) এটা ছিল শুরুর ধাক্কা -তারপর চলছেই...।
বাংলাদেশের মেয়ে আমি।অবশ্যই যৌতূকের সাথে পরিচিত। তবে আমার ধারনা ছিল এটা শুধু নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু নওগাঁ এসে দেখছি এটা উচ্চবিত্ত আর নিম্নবিত্ত নয়, সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ডিমান্ড শব্দটা শিকড় গেঁড়ে বসে আছে। বিয়ের দাওয়াত খেতে গেলে এখন নিজের আগ্রহ থেকেই জানার চেষ্টা করি বিয়েতে ডিমান্ড আছে কিনা? সত্যি বলতে কি অবাক হতে হয় খুব কম বিয়ে আছে ডিমান্ড ছাড়া!
তবে নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে এর ভয়ংকর রূপটা বেশি। একটা জরিপ করে দেখেছি বাসাই কাজ করা দশটা কাজের মেয়ের মধ্যে সাতজনই ডিমান্ডের নির্মম শিকার। ব্যাপারটা এমন- আমার সংসার জীবনে আমি চারজন কাজের মেয়ে পেয়েছি যার মধ্যে তিনজনই যৌতূকের কারণে ঘর ছাড়া। আমার স্বামী আইনজীবী হওয়ার সুবাদে তাকে অনু্রোধ করে কোর্টে মামলা করিয়ে হালিমা, জাইদা ও সাহিনুর কে স্বামীর কাছে ফেরত পাঠিয়েছি, কিন্তু দেখা যাচ্ছে তারা সংসার জীবনে যেয়ে আবার ঐ একই স্বামী দ্বারা পুনরায় নির্যাতিত হচ্ছে। আর আমার অবস্থা এমন হয়েছে আমার স্বামী আমাকে কোন কাজের মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখলেই আতঙ্কিত হচ্ছে আবার আমি তার ঘাড়ে মামলা চাপাই কিনা! হেলাল হাফিজের মতো আমিও বলি-
আমি আর কতোটুকু পারি?
এর বেশি পারেনি মানুষ।
আমি একজন কন্যা সন্তানের জননী। আমার কন্যাকে নিয়ে আমি শঙ্কিত, ভিত।তাকে আমি উপহার দিতে চাই ‘’ডিমান্ড’’ বিহীন সংসার জীবন। দোয়া করবেন আমার জন্য, আমার মেয়ের জন্য, আর উত্তরবঙ্গের সকল নির্যাতিত রমণীর জন্য.........।
- Gulshan.Moni's blog
- Login to post comments
- 900 reads
একই রকম আরো কিছু ব্লগ
- দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সোমবার ঢাকা পৌঁছবে হুমায়ুন আহমেদ এর মরদেহ - Shibbir.Ahmed
- শুভ হউক জন্মদিন ডঃ মোহাম্মদ ইউনূস - syed shah salim...
- মানবতা তুই আজ কোথায়। - Anik Bin Rashid
- শিরোনামহীন ব্রিটেনের কাহিনী--দ্বিতীয় পর্ব - syed shah salim...
- উদ্দীন থেকে আর আলী-আমাদের আশা আর ভালোবাসার আলো - syed shah salim...
- কিছু স্মৃতি - Anik Bin Rashid
- সংসদে প্রশ্নোত্তর (কাল্পনিক) - Maruf.Rahman
- সাম্প্রতিক ধনী-দরিদ্রের চেহারা - juliansiddiqi
- শিরোনামহীন ব্রিটেনের গল্প-একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে - syed shah salim...
- বাড়ীওয়ালাদের দুর্নীতি দমন করবে কোন কমিশন? - Qazi Manzur

3Comments
qwecfgdgf1020 3 All of the main manufacturers associated Authentic Falcons Jerseys nevertheless digital cameras, phone and so on shutting period whenever companies or even Matt Ryan Jersey fashionable as well as invest in the web-store. Consequently, Tony Gonzalez Jersey growing manufacturing capability through getting rid of Roddy White Jersey wait around period associated with purchasing manufacturing Julio Jones Jersey home appliances within Indian Michael Turner Jersey associated with high end Falcons Jerseys Online seven days per week.
আপু আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। এই পোষ্টটি পড়ে আমি ভাবছি নিজের কথাই ভাবছিলাম। আমিও উত্তরবঙ্গের কন্যা, যদিও চ্লিশ বছর ধরে আমরা ঢা্কায় থাকি। ওদিকে তেমন আপন কেউ না থাকায় সুতোটা প্রায় ছিড়ে গিয়েছে বললেই চলে। আমার এখনও বিয়ে করার সাহস হয়নি, এই ডিমান্ডের কথাই ভেবে। আপনি উত্তরবঙ্গের কথা বলেছেন? আমি দেখেছি আমি ঢাকায় থাকি, আমার বাবার ফ্ল্যাট আছে কি না? আমাদের গাড়ি আছে কি না এটাও অনেক গুরুত্ববহন করে। একবার একটি ছেলে আমাকে দেখে প্রায় বিয়ের জন্য পাগল প্রায় অবস্থা। আমার সাথে কথা না বলেই আমার মা'কে মা ডাকতে শুরু করলো। হঠাৎ শুনি সে আমার মাকে জিজ্ঞাসা করেছে আমার বাবার কতটুকু জমি-জমা আছে? কারন আমি একমাত্র মেয়ে এবং ভাইয়া দেশের বাইরে চাকরী করে। অবসার নেবার পরে বাবা যা টাকা পেয়েছে তা নিশ্চয়ই আমিই পাবো। আমি তার প্রশ্ন শুনেই আমার মাকে কঠোরভাবে সেই ছেলের সাথে কোন কথা বলতে বারন করে দিলাম। আর এখন তো বিয়ের কথা ভাবিই না। কারন চারপাশের মানুষগুলোকে বড় লোভি বলে মনে হয়। আমার বাবা-মা ও আমাকে এখন পুরো সম্মতি দিয়েছেন। কারন তারা এসব নিয়ে হতাশ। আমার ভাইয়ার বিয়ে হয়েছে, এক রাতের সিদ্ধান্তে। ামরা আমাদের ভাবি কে কোন গহনা দিতেও পারিনি, ভাবির বাড়ি থেকেও কিছু দিতে পারেনি। আমার মায়ের কথা ছিলো আমার ছেলের বউ ইঞ্জিনিয়ার এর চাইতে বড় আর কি হতে পারে? ওরা খুব সুখেই আছে। আমি বুঝি না কেন আমাদের দেশের পরিবারগুলো শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয় না? আমার ভাল লাগে না। কষ্ট হয়।
ধন্যবাদ আপু আপনাকে গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়ে পোষ্ট দেয়ার জন্য। গত কয়েক দিন ধরেই আমি এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতেছি। এটা শুধু বর্তমানে উত্তর বঙ্গে নয়, সারা বাংলাদেশেই এখন যৌতুকের বদলে এখন যে বিষয়টি বলা হচ্ছে তা হলো সামাজিক স্ট্যাটাস মানে ছেলে যে পর্যায়ে তার যেন মূল্যায়ন করা হয়। তার থেকে আরো ভয়ঙ্কর দিক হলো ছেলের অবস্থা যা থাকুক মেয়ে হতে হবে সুশ্রী, লম্বা, ডিগ্রীধারী, ধার্মিক ইত্যাদি ইত্যাদি আরো অবাক ব্যাপার হলো বর্তমানে বিবাহের পূর্বে মেয়ে দেখাতে ছেলের থেকে ছেলের মা বোনরা মেয়ের খুত বেশি ধরে।...........চালিয়ে যান সমাজের অসঙ্গতি ফুটিয়ে তোলেন, আমাদের নারীবাদীরা তো মেয়েদের প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামায়না। তারা আইওয়াশ মার্কা আন্দোলন করে। মন্তব্যটি অনেক বড় হয়ে গেল মনে হয়..............