আলোর ফেরিওয়ালা

দুধওয়ালা,সব্জিওয়ালা পসরা সাজিয়ে আমাদের ঘরের দরজায় আসে।আর যারা এই পসরা সাজিয়ে আমাদের দরজায় আসে তাদের পেশায় এটা।এই পেশার মাধ্যমেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে।কিন্তু বইয়ের গাড়ি ঘরের দরজাই!নওগাঁর মত জেলা শহর কেন রাজধানীর মানুষও এটা কল্পনা করেনি।সেই কল্পনাকে বাস্তবে পরিণত করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি আর তার নেপথ্যের নায়ক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার।যখন আমি শিক্ষকতা পেশাই যুক্ত হলাম মাঝে মাঝে মনে হতো এর চেয়ে বেশি কিছু হওয়ার যোগ্যতা আমার আছে।মনের এই দোদুল্যমানতার মাঝে হাতে পেলাম আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের “নিষ্ফলা মাঠের কৃষক” ।
মাত্র একটা বই বদলে দিল আমার জীবন। নিজেকে মনে হল সার্থক মানুষ।খুজে পেলাম পেশার মধে পূর্ণতা। যে মানুষটার জন্য আমার এই বদলানো আমার সৌভাগ্য হয়েছিল সেই মানুষটাকে একবার নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ানোর।মাত্র দুই ঘণ্টা স্যার আমার বাসায় ছিলেন সেই দুই ঘণ্টা আমার জীবনে অনেক বড় পাওয়া। স্যার যখন কথা বলছিলেন আমরা মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম।কবি গুরুর সাথে বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল,তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী আমি অবাক হয়ে শুনি। মানুষকে মুগ্ধ করার অসম্ভব ক্ষমতা নিয়ে স্যার পৃথিবীতে এসেছেন। কয়েকদিন থেকেই মনে হচ্ছে স্যারকে নিয়ে আমার কিছু লেখা উচিত।কিছুদিন থেকে পেপার-পত্রিকা, টিভির খবর সবকিছু বুকের মধ্যে একটা কষ্টের সৃষ্টি করেছে।বার বার মনে হচ্ছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সব শ্রেণীর পাঠকের উজ্জ্বল মুখ কি আমাদের রাজনীতিবিদরা কখনও দেখেছেন? দেখেননি।কারন শত ব্যস্ততার ভিড়ে তাদের সময় হয়নি।
কিন্তু আমার মত সাধারন মানুষ দেখেছে।বই পরার একটা নীরব বিপ্লব স্যার সারাদেশে ঘটিয়ে চলেছেন।আমাদের পাড়াতে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিটাআসে বৃহস্পতিবার বিকালে। দিব্যর মত ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে শিরিন আপার মত পঞ্চাশ পার হওয়া মহিলাও এখানকার পাঠক।আমি হুমায়ুন আহমেদ এর উপন্যাসের নায়িকা নই,তবুও ছোট্ট বাচ্চাগুলো যখন তাদের পছন্দমতো বই নেওয়ার আশায় গাড়িতে উঠার জন্য লাফালাফি করে এই দৃশ্য দেখলেই আমার চোখ ভরে পানি আসে।আমাদের দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী,রাজনীতিবিদরা যা পারেনি, স্যার তা পেরেছেন। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজটা স্যার করেছেন- মানুষকে বই পড়তে শিখিয়েছেন,আলোর ফেরিওয়ালা হয়ে সারাদেশে আলো জ্বেলে চলেছেন।
কবি নজরুল তার ‘যৌবনের গান’প্রবন্ধে লিখেছেন-“যাঁহারা মানব জাতির কল্যাণ সাধন করেন সেবা দিয়া, কর্ম দিয়া , তাঁহারা মহৎ যদি না-ই হন, অন্তত ক্ষুদ্র নহেন। ইহারা থাকেন শক্তির পেছনে রুধির ধারার মত গোপন, ফুলের মাঝে মাটির মমতা-রসের মতো অলক্ষে। তাই স্যারের এয় বিশাল কর্মযজ্ঞের মূল্যায়ন যদি আমরা নাও করি- তাঁকে যেন ক্ষুদ্র করি না কখনই।
- Gulshan.Moni's blog
- Login to post comments
- 820 reads
একই রকম আরো কিছু ব্লগ
- একটি বিবৃতি এবং রুশদির সাথে কিছুক্ষণ - Saifullah.Dulal
- What have you done during 2 years in power? - ashraf
- এখনও গেল না আঁধার - Ajay.DasGupta
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস : একজন রক্তচোষা কুষীদজীবীর দারিদ্র বিমোচনের অলীক স্বপ্ন - ডঃ মুশফিক
- ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী, আওয়ামী পৃথিবী - WatchDog - WatchDog
- ‘উড’ সংস্কৃতির ধাক্কায় পথহারা নারী স্বাতন্ত্র্য - মঈনুল আহসান - Mainul Ahsan
- নারী, পাশ্চাত্য এবং অবিনাশী সামাজিক কাঠামো - মঈনুল আহসান - Mainul Ahsan
- নারীর প্রয়োজনেই শ্রেষ্ঠত্ব পুরুষের - মঈনুল আহসান - Mainul Ahsan
- অজ্ঞান পার্টি সজ্ঞান পার্টি - Hasan.Hafiz
- অতি দরিদ্র ভিআইপি শ্রমিক! - Hasan.Hafiz

Recent comments
6 hours 45 min ago
8 hours 33 min ago
12 hours 41 min ago
22 hours 19 min ago
1 day 21 hours ago
2 days 2 hours ago
2 days 3 hours ago
4 days 18 min ago
4 days 2 hours ago
4 days 19 min ago