General

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে

দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০১২ সালে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট বিভাগে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে তিন লক্ষাধিক মামলা বিচারাধীন থাকলেও বর্তমানে শুধু হাইকোর্ট বিভাগেই বিচারাধীন মামলার সংখ্যা তিন লক্ষাধিক। সব জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মোট বিচারাধীন দেওয়ানি মামলা আট লাখ ৬৯ হাজার ৬১৪টি এবং চার লাখ ৩২ হাজার ৯১টি ফৌজদারিসহ মোট মামলার সংখ্যা ১৩ লাখ এক হাজার ৭০৫। সিএমএম এবং সিজেএম আদালতে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা আট লাখ ৩৮ হাজার ২৭৭। মামলা দায়েরের এ হার অব্যাহত থাকলে আইনবিদদের ধারণা, এ বছরের শেষ দিকে দায়েরকৃত মামলার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
adalat
মামলা-মোকদ্দমার এ হার বৃদ্ধির প্রধান কারণ দায়েরকৃত মামলাগুলো দীর্ঘ দিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়া। এর মধ্যে উচ্চতম ন্যায়ালয়ে ঝুলে রয়েছে হাজার হাজার আর দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে আছে লাখ লাখ মামলা। বিচারে বিলম্ব মানেই বিচার না পাওয়া। বছরের পর বছর গড়িয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মামলার নিষ্পত্তি হয় না। সুবিচারের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে অনেকে ইহধাম ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে গেছেন এমন দৃষ্টান্তেরও অভাব নেই।

বন্যা আসে, বন্যা যায় যেন কোনো ব্যাপার নয়!

জল জঙ্গলে নাব্য এ দেশে আর্যরা থাকতে পারেনি। আমরা কিন্তু দিব্যি আছি। এ দেশের অনার্যরা একটুও পছন্দ করেনি আর্যদের। ওরা তাই ঐতরেয় ব্রাহ্মণ-এ লিখে গেছে যে, এ দেশের মানুষ বয়াংসি, ব্রাত্য, দস্যু ইত্যাদি ইত্যাদি। যাই হোক, নিজ ভূমি বলে কথা! তা এখানে বন্যাই হোক, আর খরাই হোক; আকাল আসুক বা যুদ্ধ বাধুক, সুনামি হোক বা দুর্নীতি হোক, আমরা কিন্তু মাটি কামড়ে থাকি। এখন জঙ্গল পাতলা হয়েছে, নদী-নালায় পানি কমেছে, মানুষ বেড়েছে, মাছ কমেছে, শস্য উৎপাদন বেড়েছে, হাঁস-মুরগির খামার বেড়েছে, রোগ-শোক বেড়েছে, আধুনিক শিক্ষার হার বেড়েছে এবং বেড়েছে জীবনের নানাবিধ যন্ত্রণা। আমরা ভূমিজ বাসিন্দারা যাইনি কোথাও।
flood
ঝড়-বন্যা আমাদের কাবু করে। তারাও অবশেষে ফিরে যায় কাবু হয়ে। আমরা মাথা তুলে দাঁড়াই আবার। কষ্ট করি। ক্ষতি হয় প্রচুর। তবু নিজের দেশ ফেলে যাই না। কোথায়ই বা যাব দেশ ফেলে? সোনার বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্পদ তো একান্তই আমাদের। তবু সমৃদ্ধ করতে পারছি না দেশটাকে, সে আমাদের সার্বিক অর্বাচীনতা। সে কারণেই বন্যা রাক্ষুসী আমাদের প্রতি বছরের অবাঞ্ছিত অতিথি।

সর্বনাশা প্লাবন : সর্বস্ব হারাচ্ছে শত শত মানুষ

টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অস্বাভাবিক জোয়ারে দেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের চরাঞ্চল ও নিম্ন এলাকা ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। যমুনা ও তিস্তাসহ বেশ কিছু নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপদাপন্ন হয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ। সর্বনাশা প্লাবনের পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে নদী ভাঙন। শত শত মানুষ নিমিষেই সর্বস্ব হারাচ্ছে নদীর আগ্রাসনে। দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তরিতরকারির ফসলও নষ্ট হচ্ছে ব্যাপকভাবে। কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজি পণ্য দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে এর ফলে।
river
দেশের অন্যতম প্রধান নদী যমুনায় পানি বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারিয়াকান্দিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। পানির প্রবল তোড়ে চন্দনবাইশা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। যমুনা তীরবর্তী ধলিরকান্দি থেকে রৌহাদহ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে। কামালপুরের রৌহাদহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে স্লাব ধসে পড়ছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ক্রেস্ট জালিয়াতিতে দেশের ইমেজ ভূলুণ্ঠিত

ভারতবর্ষ ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় জাতিসত্তার ভিত্তিতে বিভাজিত হলে ইন্ডিয়া (ভারত) ও পাকিস্তান নামে দু’টি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বিভাজন-পরবর্তী ভারত শুধু তার অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখেনি বরং ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সিকিম নামের একটি স্বাধীন রাজ্যকে নিজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। ধর্মীয় জাতিসত্তার ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান স্বাধীনতা-পরবর্তী দুই যুগের কিছুকাল পর আঞ্চলিক জাতিসত্তার ভিত্তিতে বিভাজিত হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের দু’টি অংশ পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান ভারত ভূখণ্ড দিয়ে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং স্থলপথে উভয় পাকিস্তানের দূরত্ব ছিল এক হাজার মাইলেরও বেশি।

ঊনবিংশ শতাব্দীর ৭০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে বেশি ছিল। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলেও আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর ব্যর্থ হলে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের স্বাধীকার আন্দোলন মুক্তিসংগ্রামে রূপ নেয়। এ মুক্তি সংগ্রাম ছিল সশস্ত্র। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে এ দেশের ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক-জনতা এবং সামরিক-বেসামরিক বাহিনীর সদস্যরা একযোগে অংশ নিয়েছিল। মুক্তি সংগ্রামটি গেরিলা যুদ্ধের আকারে পরিচালিত হওয়ায় সংগ্রামটিকে সফল করার পেছনে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ শেষে যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন তাদের চেয়ে যারা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে সশস্ত্র মুক্তি যোদ্ধাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে খাদ্যসহ সব ধরনের আনুষঙ্গিক সরবরাহ করে গেরিলা যুদ্ধকে সফলতার দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাদের অবদানও কোনো অংশে কম ছিল না।

Mukit.Majumdar.Babu's picture

ভাঙছে নদী ভাঙছে মানুষের স্বপ্নসাধ

ভাদ্র মাসের ভরা নদী। চলার পথে ভাঙছে গ্রামের পর গ্রাম, স্কুল-কলেজ, আবাদি জমি, খেলার মাঠ, ফলদ বাগান, গ্রামরক্ষা বাঁধ, হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নদীর করাল গ্রাস থেকে বাদ যাচ্ছে না কিছুই। ক্ষুরধার উত্তাল নদীর স্রোতের তোড়ে ভেঙে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে মানুষের স্বপ্নসাধ। হাজার হাজার আশ্রয়হীন অসহায় মানুষ উঁচু বাঁধে, স্কুলে কিংবা শহরের ফুটপাতে খুঁজে নিচ্ছে আশ্রয়। তাদের পেটে ভাত নেই, সুপেয় জল নেই, মাথার ওপর ছাদ নেই। ক্ষুধায় কাতর অসহায় চোখ খুঁজে ফিরছে আগামী দিনের ঠিকানা। নদীর কাছে মানুষ আজ কত অসহায়!
River
দেশের অধিকাংশ নদীর পানি ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে এবং বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে একাধিক নদীর পানি। ভরা যৌবনে নদী যে সর্বগ্রাসী হবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু উন্নয়নের নামে নদীকে শাসন করতে গিয়ে নদীকে আমরা আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছি। অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের নামে বাঁধ, সেতু, বেড়িবাঁধ, খাল খনন ইত্যাদি করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করছি, বহমান স্রোতধারা থামিয়ে দিচ্ছি, স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছি, সাগরপানে ছুটে চলাকে থামিয়ে রাখছি, দেশের সীমানায় বন্দি করে রাখতে চাইছি শুধু নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে।

Zahid.Newaz.Khan's picture

দুস্থ সাংবাদিক না দুস্থ গণমাধ্যম

কখনো কি শুনেছেন দুস্থ চিকিৎসকদের অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে? অথবা দুস্থ প্রকৌশলীদের? মাঝেমধ্যে যে পেশাজীবী-পেশাজীবী অনাকাঙ্খিত আর অযৌক্তিক দ্বন্দ্ব প্রকাশ হয়ে পড়ে, তার কিছুটা মনস্তত্ব্ব কি এখানে লুকিয়ে আছে? হয় তো না। কিন্তু এটাও তো সত্য যে, পেশা হিসেবে যে সাংবাদিকের এতো কথিত ক্ষমতা, সেই মানুষটা কখনো কখনো অর্থনৈতিকভাবে কতোটা অসহায়!
এরকম কিছু অসহায় সাংবাদিককে প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সহায়তা দেবেন। অনুষ্ঠানটি সম্ভবতঃ আগামীকাল। যেহেতু এটা প্রকাশ্য অনুষ্ঠান হবে বলে ধারণা করছি, তাই তালিকা প্রকাশ হয়ে যাওয়াতে কোনো সমস্যা নেই।

Yvonne.Ridley's picture

আইএসআইএসের পেছনে কারা?

ইসলামিক স্টেট, আইএসআইএস, আইএসআইএল বা অন্য যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, এই সংগঠনটি কোথা থেকে এলো, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। আমি বরং সংগঠনটির সহিংস মতাদর্শে ধাঁধায় পড়ে গেছি। বর্তমানে ব্রিটেনে বসবাসকারী বৈচিত্র্যময় মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কিছু বলার ইচ্ছা আমার ছিল না। তবে আমার অনুমান, এই গ্রুপটির নজিরবিহীন উত্থানে উদ্বিগ্ন বেশির ভাগ লোকই আমার বক্তব্য সমর্থন করবেন।
yvonne ridley
অবশ্য ব্রিটিশ মিডিয়ার একটি অংশের উসকানিতে ইসলামাতঙ্কিত, বর্ণবাদী এবং তথাকথিত সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞরা বিদ্বেষমূলক যেসব বিষোদগার করছেন, সেটাও নজিরবিহীন। এতে কোনো ধরনের লাভই হচ্ছে না।

Golam.Maula.Rony's picture

প্লিজ! জন্ম, মৃত্যু ও কবর নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না!

আরো অনেকের মতো আমিও ওসব ব্যাপারে ছিলাম বেশ উদাসিন। অর্থাৎ পক্ষেও ছিলাম না আর বিপক্ষেও ছিলাম না। কারো প্রিয়জনের জন্মদিবস কিংবা মৃত্যুদিবস ঘটা করে পালিত হলে আমি ওসবের মধ্যে মন্দ কিছু দেখতাম না। কিংবা পরিবারের কেউ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির কবরের ওপর বিশাল এক সৌধ নির্মাণ করে তাতে শ্বেতপাথরের জীবনবৃত্তান্ত স্থাপন করার মধ্যেও দোষত্রুটি খুঁজতে যেতাম না; কিন্তু একটি হিন্দি সিনেমা দেখার পর আমার চিন্তাজগতের অনেক কিছুই ওলটপালট হয়ে গেল। এরপর আমি এসব বিষয় নিয়ে যথাসম্ভব পড়াশোনা করলাম। অভিজ্ঞ লোকদের সাথে পরামর্শ করলাম এবং সবশেষে অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছালাম যে, জন্মদিবস, মৃত্যুদিবস এবং কবর নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ঠিক নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে হিন্দি সিনেমার কাহিনীটুকু বলে নেই।
golam maula rony
ছবির নাম অগ্নিসাক্ষী। নানা পাটেকার ও মনীষা কৈরালা স্বামী স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন। নানা পাটেকার সেই চরিত্রে অদ্ভুত এক মানুষের ভূমিকা এত সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, যার তুলনা অন্য কারো সাথে করা সম্ভব নয়। এক রাতে তিনি স্ত্রীরূপী মনীষার সাথে শুয়ে ছিলেন আনন আলয়ে; কিন্তু কিছুতেই ঘুমাতে পারছিলেন না। পাশের বাড়ির ছাদে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান হচ্ছিল। হইহুল্লোড়, নাচগান, খানাপিনার শব্দে নানা পাটেকার ধৈর্য হারিয়ে ফেললেন।

Abu.Ahmed's picture

সমাজ কি দুর্নীতি মেনে নিয়েছে!

দুর্নীতি থেকেও বেশি হতাশাজনক বিষয় হলো সমাজের দুর্নীতি মেনে নেওয়া। এর অর্থ হবে এই ধারণা সমাজের লোকদের পেয়ে বসা যে সমাজে দুর্নীতি আছে, থাকবে এবং এটাই স্বাভাবিক। এর অন্য অর্থ হলো, একটা অস্বাভাবিক বিষয়কে স্বাভাবিক মনে করা। এই ধারণা যতই বদ্ধমূল হবে, এরা যতই ছড়াতে থাকবে, ততই দুর্নীতিকে হয় দেখেও না দেখা এবং বিভিন্নভাবে দুর্নীতিকে গৌরবান্বিত করা হবে। একসময় দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদের সমাজের অন্য লোকেরা ঘৃণা করত। এখন সেই ঘৃণাটা সাধারণ্যে দেখা যায় না। অনেক সাধারণ লোককে এও বলতে শুনি যে ওই সঙ্গে অন্য অনেক সুবিধা আছে। এবং দুর্নীতি করা যায় এমন পদগুলোতে চাকরি নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। সমাজে ঘুষখোর লোকদের ঘরে মেয়ে বিয়ে দিতে বা দুর্নীতিবাজ লোকদের মেয়েকে বউ করে ঘরে আনতে এখন কারো তেমন বাধে না। অর্থ হয়ে পড়েছে সম্মান ও প্রভাবের বড় নিয়ামক।
abu ahmed
কিন্তু সেই অর্থটা অমুক লোকের কাছে কিভাবে এলো, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার লোক অনেক কমে গেছে। একজনকে দেখা গেল কোনো পদে পদায়ন হওয়ার আগ পর্যন্ত অনেকটা দীনহীন। কিন্তু পদ পাওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যে তার ঠাটবাট আকাশচুম্বী হয়ে গেল। পদের ফলে প্রভাব তার অধীনে চলে এলো।

পাসপোর্টপ্রাপ্তি

পাসপোর্টপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তির সংবাদ মাঝে মধ্যেই সংবাদপত্রগুলোতে দেখা যায়। পাশাপাশি ভুয়া পরিচয়পত্র, ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়ার ঘটনাও ঘটে থাকে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় ভোগান্তি হয় বলে কেউ কেউ অভিযোগ করে থাকেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েও বলা যায়, পাসপোর্টপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এখন অনলাইনে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি পাসপোর্টের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার কাজও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে করা যাচ্ছে। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালু করার পর জালিয়াতি কিছুটা হলেও কমেছে।
pasport
সম্প্রতি বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, সব জেলায় পাসপোর্ট অফিস স্থাপন। বর্তমানে দেশের ৩২টি জেলায় ৩৪টি কার্যালয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট ইস্যু করা হচ্ছে। এতে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। জানা গেছে, চলতি বছরের মধ্যেই দেশের ৬৪টি জেলায় পাসপোর্ট অফিস চালু হবে। এর ফলে নিজের জেলা থেকেই আবেদন করা যাবে এবং পাসপোর্টপ্রাপ্তিতে ভোগান্তি কমবে।

Syndicate content