General

M.Sarwar.Hosain's picture

সিঙ্গাপুর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার কথা

২০০১ইং সালের প্রথম দিকে সিঙ্গাপুরে অবস্থিত অামেরিকান একটি কোম্পানি, এয়ারব্রন এক্সপ্রেসের সাথে ব্যবসা চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে নামি। খুব ভোরবেলা, অনেক ক্লান্ত লাগছিল, ফ্লাইট থেকে নামার পর হাটতে পারছিলাম না, উপায় নেই তবু হাটতে হচ্ছে, হাটতে হাটতে ইমিগ্রেশনে ভিসাএন্ট্রির জন্য সিরিয়ালে দাড়াই, অনেক লম্বা সিরিয়াল, দেখেই অামি অারো ক্লান্তিবোধ করছিলাম।
singapore airport
ইমিগ্রেশনে মোট পাচঁটি ভিসাএন্ট্রি লাইন, সবগুলো দ্রুত এন্ট্রি হচ্ছে, কিন্তু অামাদের ভিসাএন্ট্রি খুব ধীরেধীরে হচ্ছে, অামার মেজাজটা খুব খারাপ হচ্ছে, প্রায় এক ঘন্টা দাড়িয়ে থাকার পর সিরিয়াল পেলাম। একজন সিঙ্গাপুরী মেয়ে বয়স বিশ বা বাইশ হবে, প্যান্ট শার্ট পরা, ইমিগ্রেশন টেবিলে বসা, দেখতে অনেক সুন্দর, হাসি দিয়ে পাসপোর্টটি গ্রহণ করলেন, বললেন দুঃখিত লেইট হওয়ার জন্য, অামি বললাম নো থ্যাংকস। একটি ইন্ডিয়ান মেয়ে এসে ইমিগ্রেশন টেবিলের পাশে দাড়ালেন, দেখতে কাল, অসুন্দর, অানস্মার্ট, সালোয়ারকামিজ পরা, দেখতে অনেকটা বাংঙ্গালী মেয়ের মত, বয়স মনে হল তেইশ বা চব্বিশ।

অপেক্ষা

'মানবাধিকার' সৃষ্টির সেরা মানুষের শ্রেষ্ঠত্বেরই নিদর্শন। প্রত্যেক মানুষের রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু অধিকার রয়েছে। আমাদের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে এসব মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। মানুষ হিসেবে আপনার চিন্তার স্বাধীনতা আছে, কথা বলার স্বাধীনতা আছে, আছে পেশাবৃত্তির স্বাধীনতাও। স্বাধীনভাবে চলাফেরাও আপনি করতে পারবেন। আপনি নিজে কোথাও গিয়ে হারিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু যখনই আপনাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ নিয়ে যাবে তখনই সেটা হবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সে অবস্থাকেই বলা হয় গুম বা অপহরণ। এটা মানবাধিকারের কতটা লঙ্ঘন অপহরণের শিকারদের নিয়ে জাতিসংঘের 'ইন্টারন্যাশনাল ডে অব দ্য ভিকটিমস অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস' তার প্রমাণ। দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের বাণীতেও তা ফুটে উঠেছে, 'এই মর্যাদাপূর্ণ দিনে আমি দৃঢ়ভাবে আবার বলছি, কাউকে গোপনে আটকে রাখা আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ বিরোধী।... একুশ শতকে এসেও গুম-অপহরণের এই রীতি কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না।'
kidnap
এ বছর এমন সময়ে দিবসটি আমাদের সামনে হাজির, যখন বছরের আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাতজন অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‌্যাবের লিখিত প্রতিবেদনে র‌্যাবেরই জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে; যখন বিএনপি নেতা মুজিবুর মে মাসে অপহরণের পর সম্প্রতি উদ্ধার হন; যখন ২৫ আগস্ট নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে ২০ জেলে ও ২৩ আগস্ট সুন্দরবনে ৯৬ জেলে অপহরণের শিকার হন।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

বিদ্রোহের অগ্নিবীণায় বিপ্লবের বজ্রকণ্ঠ

২০১৪ সালের ২৯ আগস্ট। ৩৮ বছর আগে ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বহু বছর আগে থেকে কবি স্মৃতিভ্রষ্ট ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐকান্তিক ইচ্ছায় বিদ্রোহী কবিকে ঢাকায় সপরিবারে আনা হয়। অবশ্য তার আগেই কবিপত্নী প্রমীলা নজরুলের মৃত্যু হয়। কবি তখন কলকাতায়। প্রমীলা নজরুলকে পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় (কবির জন্মস্থানে) সমাহিত করা হয়।
nazrul islam
কবি যদি স্মৃতিভ্রষ্ট না হতেন তাহলে মৃত্যুর আগে হয়তো বলে যেতে পারতেন তিনি কোথায় সমাহিত হতে চান। ঢাকায়, না পশ্চিমবঙ্গে পত্নী প্রমীলার সমাধির পাশে? তার জ্যেষ্ঠপুত্র কাজী সব্যসাচীসহ পরিবারের কারও কারও ইচ্ছা ছিল কবির মরদেহ পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে চুরুলিয়ায় সমাহিত করার। তাদের এই ইচ্ছাপূরণে বাধা দেয়ার জন্য বাংলাদেশের তখনকার সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান একটি হীন পন্থার আশ্রয় নেন। ঢাকায় আসার জন্য কাজী সব্যসাচী ও নজরুল পরিবারের কতিপয় সদস্যকে ভিসা দিতে কলকাতার বাংলাদেশ হাইকমিশন গড়িমসি করে তাদের ভিসা প্রদান বিলম্বিত করে। ফলে কবির মৃত্যুর সময় তারা ঢাকায় এসে পৌঁছতে পারেননি। এমনকি তারা ঢাকায় এসে পৌঁছার আগেই কবির মরদেহ তড়িঘড়ি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। ফলে কাজী সব্যসাচীসহ কবি পরিবারের অনেকেই কবিকে শেষ দেখা দেখতে পারেননি।

Rita Roy Mithu's picture

শোক নয় আর, জেগে উঠুক তারুণ্য, অমিত শক্তির আধার!

আমাদের ছোট্ট বাড়ির দোতলায় দুটো মাত্র শোবার ঘর আছে, দুই শোবার ঘরের মধ্যবর্তী অংশটুকু স্টাডিরুম না হলেও আমি ওটাকে স্টাডি রুম হিসেবে ব্যবহার করি। ছাদ একদিকে ঢালু হয়ে যাওয়া ডিজাইনের স্টাডিরুমে বই রাখার জন্য বিল্ট ইন শেলফ আছে। সেই বুক শেলফে শোভা পায় কয়েকবার করে পড়ে ফেলা বাংলা উপন্যাস সমগ্র।
বুকসেলফের পাশের লাগোয়া ফাঁকা জায়গাটুকুতে বসানো হয়েছে কমপিউটার ডেস্ক, ডেস্কে শোভা পাচ্ছে ২০ ইঞ্চি ফ্ল্যাট স্ক্রিনের DELL কম্পিউটার। কমপিউটারটির বয়স আট বছর, কেনা হয়েছিল আমাদের সকলের ব্যবহারের জন্য, গত তিন বছর ধরে এটি শুধু আমিই ব্যবহার করি, তিন বছর আগে ব্লগে লিখতে শুরু করি, একটানা দুই বছর লিখেছি, গত বছর থেকে ব্লগে তেমন লিখিনা।

Salam.Salehuddin's picture

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা কতটা সক্ষম

প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ দেশে আমাদের বসবাস। দুর্যোগ মোকাবেলা করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়। খরা, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো নদী ভাঙন এসব সামাল দিয়েই আমাদের নিত্য পথচলা। সারা বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগের কবলে পড়ি আমরা। এক দুর্যোগ সামাল দিই তো, আরেক দুর্যোগ হামলে পড়ে। বিপন্ন করে দেয় জীবন সংসার। বাঙালি দুর্যোগকে ভয় পায় না, জীবনসংগ্রামেও তারা পরাজিত হয় না। একের পর এক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির নিষ্ঠুর ছোবল থেকে হয় তারা পরিত্রাণ পায়, না হয় বিপদগ্রস্ত হয়। এভাবেই তাদের জীবন চলে অথবা থেমে যায়।
flood
নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় নদীর প্রতি আমরা যেমন আকৃষ্ট হই, মুগ্ধতা নিয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে প্রাণ জুড়াই, আবার এ নদীই
আমাদের গ্রাস করে। নদীকে তখন আমরা সর্বনাশা বলি। নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে এ দেশের লাখ লাখ মানুষ। একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এই তো নদীর খেলা_ এই নিষ্ঠুর সত্যের মুখোমুখি যারা হয়েছেন, তারাই বোঝেন এর মর্মজ্বালা। শত বছরের প্রাচীন বসতভিটা, গাছপালা, ফসলি জমি সবকিছুই মুহূর্তে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, মানুষকে করে নিঃস্ব। নদীর নিষ্ঠুরতা যারা প্রত্যক্ষ করেননি তারা উপলব্ধিতে আনতে পারবেন না, নদী ভাঙন কতটা ভয়ঙ্কর। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, কর্ণফুলী, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু, গড়াই, মধুমতি_ এসব নদনদী বাংলাদেশের প্রাণ হলেও জীবন-সম্পদ ধ্বংসেরও কারণ।

shafik.rehman's picture

শাহবাগে গণউন্মত্ততায় নিহত মোমবাতি ও আহত সভ্যতা

ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক কারণে গণদাবিতে মৃত্যুদণ্ডের প্রচলন অতীতে অনেক বেশি ছিল। এই ধরনের গণদাবি ওঠানোর জন্য ক্ষমতাসীনরা অথবা ক্ষমতালোভীরা ম্যাস হিস্টেরিয়া (Mass hysteria) বা গণউন্মত্ততা সৃষ্টি করত।
shafik rehman
গত শতাব্দিতে ম্যাস হিস্টেরিয়া বা গণউন্মত্ততার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত ছিল ত্রিশের দশকে জার্মানিতে নাৎসি পার্টির উত্থান ও এডলফ হিটলারের ক্ষমতা লাভ। হিটলার ইহুদিদের বিরুদ্ধে গণউন্মত্ততা সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন। নাৎসি পার্টি ও তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে জার্মানিতে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। পরিণতিতে জার্মান জাতিকে একটি কলংকিত যুগে তারা ঠেলে দিতে পেরেছিলেন। জার্মানিতে হয়েছিল গণহত্যা এবং বিশ্বে হয়েছিল ছয় বছর ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।

Ahmed.Rafiq's picture

শতবর্ষী কুখ্যাত ট্র্যাডিশন এখনো অব্যাহত

যৌতুক প্রথা বাঙালি সমাজে দীর্ঘকাল থেকে এক নির্মম সামাজিক কুপ্রথা। একে হন্তারক বললেও অত্যুক্তি হয় না। এত সমাজ-সংস্কার এলো-গেল সেই উনিশ শতক থেকে, কিন্তু ২০০ বছর পরও এ অমানবিক ব্যবস্থার অবসান ঘটেনি; বরং একুশ শতকে পৌঁছে বাংলাদেশি সমাজে এর নির্মমতা জোরদার হয়েছে। সংবাদপত্রের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যাবে নানা শিরোনামে যৌতুকের ভয়ংকরতা প্রকাশ পাচ্ছে- আজ হয়তো শিরোনাম 'যৌতুকের বলি গৃহবধূ', কাল বা পরশু 'যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী হত্যা' ইত্যাদি।
ahmed rafiq
আধুনিক বাংলা ছোটগল্পের মুক্তিদাতা রবীন্দ্রনাথ তাঁর সমাজ-চেতনার পরিচয় রেখেছিলেন ১৯০১ সালে একটি ছোটগল্প লিখে, নাম 'দেনা পাওনা'; বিষয় যৌতুক প্রথার অভিশাপ ও পরিণাম। গ্রামবাংলায় বসবাসকালে রবীন্দ্রনাথ এ গল্প লিখেছিলেন কোন্ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তা আমাদের জানা নেই। তবে গল্পটির সমাজবাস্তবতা অসাধারণ। গরিব ঘরের সুন্দরী মেয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পুত্রের জন্য নির্বাচন করে এনে যৌতুকমূল্য পুরোপুরি না পেয়ে রায়বাহাদুর পত্নীর লাগাতার নির্যাতন-নিপীড়নে পুত্রবধূ হত্যার পর পুত্রের কাছে মায়ের চিঠি অবিশ্বাস্য নির্মমতায় ধৃত : 'বাবা, তোমার জন্য আরেকটি মেয়ের সম্বন্ধ করিয়াছি, অতএব অবিলম্বে ছুটি লইয়া এখানে আসিবে।/এবারে বিশ হাজার টাকা পণ এবং হাতে হাতে আদায়।' গল্প শেষ। গল্পটির শিল্পবিচারে মপসাঁধর্মী চমক লাগানো উপসংহার।

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে

দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০১২ সালে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট বিভাগে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে তিন লক্ষাধিক মামলা বিচারাধীন থাকলেও বর্তমানে শুধু হাইকোর্ট বিভাগেই বিচারাধীন মামলার সংখ্যা তিন লক্ষাধিক। সব জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মোট বিচারাধীন দেওয়ানি মামলা আট লাখ ৬৯ হাজার ৬১৪টি এবং চার লাখ ৩২ হাজার ৯১টি ফৌজদারিসহ মোট মামলার সংখ্যা ১৩ লাখ এক হাজার ৭০৫। সিএমএম এবং সিজেএম আদালতে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা আট লাখ ৩৮ হাজার ২৭৭। মামলা দায়েরের এ হার অব্যাহত থাকলে আইনবিদদের ধারণা, এ বছরের শেষ দিকে দায়েরকৃত মামলার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
adalat
মামলা-মোকদ্দমার এ হার বৃদ্ধির প্রধান কারণ দায়েরকৃত মামলাগুলো দীর্ঘ দিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়া। এর মধ্যে উচ্চতম ন্যায়ালয়ে ঝুলে রয়েছে হাজার হাজার আর দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে আছে লাখ লাখ মামলা। বিচারে বিলম্ব মানেই বিচার না পাওয়া। বছরের পর বছর গড়িয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মামলার নিষ্পত্তি হয় না। সুবিচারের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে অনেকে ইহধাম ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে গেছেন এমন দৃষ্টান্তেরও অভাব নেই।

বন্যা আসে, বন্যা যায় যেন কোনো ব্যাপার নয়!

জল জঙ্গলে নাব্য এ দেশে আর্যরা থাকতে পারেনি। আমরা কিন্তু দিব্যি আছি। এ দেশের অনার্যরা একটুও পছন্দ করেনি আর্যদের। ওরা তাই ঐতরেয় ব্রাহ্মণ-এ লিখে গেছে যে, এ দেশের মানুষ বয়াংসি, ব্রাত্য, দস্যু ইত্যাদি ইত্যাদি। যাই হোক, নিজ ভূমি বলে কথা! তা এখানে বন্যাই হোক, আর খরাই হোক; আকাল আসুক বা যুদ্ধ বাধুক, সুনামি হোক বা দুর্নীতি হোক, আমরা কিন্তু মাটি কামড়ে থাকি। এখন জঙ্গল পাতলা হয়েছে, নদী-নালায় পানি কমেছে, মানুষ বেড়েছে, মাছ কমেছে, শস্য উৎপাদন বেড়েছে, হাঁস-মুরগির খামার বেড়েছে, রোগ-শোক বেড়েছে, আধুনিক শিক্ষার হার বেড়েছে এবং বেড়েছে জীবনের নানাবিধ যন্ত্রণা। আমরা ভূমিজ বাসিন্দারা যাইনি কোথাও।
flood
ঝড়-বন্যা আমাদের কাবু করে। তারাও অবশেষে ফিরে যায় কাবু হয়ে। আমরা মাথা তুলে দাঁড়াই আবার। কষ্ট করি। ক্ষতি হয় প্রচুর। তবু নিজের দেশ ফেলে যাই না। কোথায়ই বা যাব দেশ ফেলে? সোনার বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্পদ তো একান্তই আমাদের। তবু সমৃদ্ধ করতে পারছি না দেশটাকে, সে আমাদের সার্বিক অর্বাচীনতা। সে কারণেই বন্যা রাক্ষুসী আমাদের প্রতি বছরের অবাঞ্ছিত অতিথি।

সর্বনাশা প্লাবন : সর্বস্ব হারাচ্ছে শত শত মানুষ

টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অস্বাভাবিক জোয়ারে দেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের চরাঞ্চল ও নিম্ন এলাকা ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। যমুনা ও তিস্তাসহ বেশ কিছু নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপদাপন্ন হয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ। সর্বনাশা প্লাবনের পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে নদী ভাঙন। শত শত মানুষ নিমিষেই সর্বস্ব হারাচ্ছে নদীর আগ্রাসনে। দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তরিতরকারির ফসলও নষ্ট হচ্ছে ব্যাপকভাবে। কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজি পণ্য দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে এর ফলে।
river
দেশের অন্যতম প্রধান নদী যমুনায় পানি বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারিয়াকান্দিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। পানির প্রবল তোড়ে চন্দনবাইশা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। যমুনা তীরবর্তী ধলিরকান্দি থেকে রৌহাদহ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে। কামালপুরের রৌহাদহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে স্লাব ধসে পড়ছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Syndicate content