হ্যা, আপনাকেই বলছি; দয়া করে এবার দলকানার অভিশাপ মুক্ত হন।

Md. Galib Mehdi Khan's picture

নেতা যা বলেন অনুসারীরা তাই আওড়ান। নেতা যে মহামানব নন তা তো স্বীকৃত। তিনি যে নিষ্কলুষ-নির্ভেজাল নন এটা কে না জানে? আর আমাদের সকল নেতার মানসিক কাঠামোও যে এক তাতেও কারো দ্বিমত আছে বলে মনে হয় না। তবু কেন এই অন্ধভক্তি? ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী-এমনকি সিভিল সোসাইটি প্রত্যেকেরই আছে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিচয়। যাদের কাছে নেতারা মহামানব বা তারও উপরের শ্রেণীগত কিছু। এরা নিজেরা যেমন সত্যি কথা বলেন না তেমনি সত্যকে স্বীকারও করতে চান না। আমাদের দেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আকাল পক্ষপাতদুষ্ট হীন সত্য বলার মানুষের। এদের সংখ্যা এতটাই নগণ্য যে দলীয় নৈবদ্যের গগনবিদারী চিৎকারে তাদের কথা শোনাই দায়।

এই একনিষ্ঠ অনুসারীরা আবার দুইভাগে বিভক্ত। একদল তাদের লাঠিয়াল বাহিনী হয়ে কাজ করে। যাদেরকে অনেকে উচ্ছিষ্ট ভোগী বলেও সম্বোধন করে। অন্য দল তাদের একনিষ্ঠ ভক্ত। এরা এমনি ভক্ত যে, নেতার যে বয়স বেড়েছে, চুল পেকেছে, এখন মাঝে মাঝে তিনি ভুল বকেন। তা তারা জানেনই না। জানবেন কি করে। অসম্মান করা হবে ভেবে নেতার দিকে যে চোখ তুলে চাওয়াই হয়নি। আর ভুল? সে তো তিনি কস্মিনকালেও করতে পারেন না! এই দুই দল গর্দভের ঘারে চড়ে নেতা ভীষণ বিক্রমে চালান তার রাজ্যপাট।

এহেন মহানুভব নেতারা তাবৎ জনতাকে তাদের ছায়াতলে আশ্রয় দিতে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। যদিও তাদের হয়ে কাজ করতে পারবে না বলে এখনো কোলের শিশুটিকে দলভুক্ত করেননি। তাতে কি, তাদের মা-বাবার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বুকিং দিয়ে রাখতে ভুল করেননি। তাই বলা যায়, এই অবোধদের বাইরে আমরা প্রায় সবাই দলকানা।
অঙ্গ সংগঠনের নামে তারা আমাদের বশীভূত করে রেখেছেন অত্যন্ত সফলতার সাথে। এখন তারা চাইলেই পারেন দিক পরিবর্তন করতে। পূর্বকে-পশ্চিম, রাতকে-দিন, মিথ্যেকে-সত্য, দুর্নীতিকে-সুনীতি বলে দিব্যি চালিয়ে দিতে। তারা এমনি বশীকরণ করে রেখেছেন যে, এই দলকানার সন্তান যে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না সে খবর তার নেই। তাঁর ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানটি যে বন্ধ, নেই সে হুসটুকুও । ঘরে খাবার নেই। বৃদ্ধা মা রোগে যন্ত্রনাকাতর অথচ চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত। আমরা দলকানারা তাও সয়ে যাই অবলীলায়।

নেতা বলেছেন, তাই দলকানার দল ককটেল-বোমা নিয়ে রাস্তায় নেমে পরে। হিতাহিত জ্ঞান শূন্য অসভ্য ইতরের দল অসহায় সাধারণ মানুষকে বিনা দোষে করছে রক্তাক্ত, বানাচ্ছে স্থায়ী পঙ্গু, পিটিয়ে মেরে ফেলছে পথচারীদের, পেট্রোল বোমায় ঝলসে দিচ্ছে মানুষ। হায় এ কোন জাদুমন্ত্রে আজ আমরা এমন মোহগ্রস্ত!!
আপনার নেতারা আপনার সুবোধ সন্তানটিকে, আপনার সরল ভাইটিকে ক্রমে তৈরি করছে পেশাদার খুনিরুপে। আপনি দেখতে পাচ্ছেন না। আপনি তাকে শাসন করছেন না। আপনি বাধ সাধছেন না। কেন?
কারণ একটাই, আপনিও দলকানা।
আপনার বিবেক মরে গেছে। আজ আপনার ভাই যে গাড়ীতে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মেরেছে সে গাড়ীতেই থাকতে পারত আপনার বাবা। যদি নাও থাকে অন্য কেউ একদিন আপনার বাবা, আপনার সন্তানকেও এভাবেই ঝলসে দেবে। আর সেটাই হবে তার প্রাপ্য। কে দায়ী? আপনি নন?

হাত জোড় করে বলছি উঠুন- জাগুন। জাগ্রত করুণ আপনার বিবেক। পরিচালিত হন নিজের বিবেক দারা। কারো কথা শোনার প্রয়োজন নেই, শুধু নিজের কথা শুনুন। আপনি আপনার কথা বলুন। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে বোধ-বুদ্ধিসম্পন্ন হিসেবে তৈরি করেছেন। আপনি সৃষ্টির সেরা জীব। আর এই শ্রেষ্ঠত্বের নমুনা আপনার বিবেক। আপনি যদি তাকে কাজেই না লাগান, নিজেকে মানুষ বলে ভাবেন কি করে? নেতা বলেছেন আর আপনি নির্বোধের মত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। কার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। কি তার উদ্দেশ্য। আপনি জানেনই না। এটা সরলতা নয়। এটা নির্বুদ্ধিতা। আর এই নির্বুদ্ধিতার বলিও হচ্ছেন আপনি। এত এত জ’ন মারা গেল। কই আপনার নেতা তো দুরের কথা একজন পাতি নেতাও তো মরল না। কেন তারা মরেনা, একবার ভাবুন।

আপনার নেত্রী আদালতের ঘারে বন্ধুক রেখে স্বার্থ হাসিলের খেলা খেলে। তার নেতার কালো বিড়াল সাদা হয়ে যায় কোন যাদু মন্ত্রে? পদ্মার জলের সাদা কালোর বিভক্তি রেখার মতই স্পষ্ট যে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তাও আপনার মত দলকানাদের চোখে থাকে অস্পষ্ট। শেয়ার বাজারের ফটকাবাজ কারা? হল মার্ক, সোনালী ব্যাংক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ আর চার হাজার কোটি টাকা কোন টাকাই নয়। দলকানাদের এ সব গায়েই লাগে না।

যে দেশের আইনে আপনার নেত্রীর বিচার হয়। সেই দেশের আইনকে আপনার নেত্রী প্রশ্নবিদ্ধ করছে একদল মানবতা বিরোধী অপরাধীর বিচারের প্রশ্নে। আপনার নেত্রী কি নিজের চেয়ে তাদের উচ্চতর শ্রেণীভুক্ত ভাবছেন? তা তো নয়। তাহলে কেন তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করছেন? যে দেশের আইনে দেশের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বিচার হতে পারে। সে দেশের আইনে দেশের সর্ব নিকৃষ্ট অভিযোগে অভিযুক্তের বিচার করা যাবে না কোন যুক্তিতে?
যারা তিনবার ক্ষমতায় এসে এদের বিচার না করে বরং মন্ত্রীর মর্যাদা দেন। তারাই যখন বলেন বিচার চান এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
পনের ষোল লক্ষ ব্লগারের গায়ে নাস্তিকতার তকমা লাগিয়ে দেন প্রজন্ম চত্বরকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এটা কি প্রহনযোগ্য?
কৃত কর্মকান্ডের দায়ে যাদের বিদেশে লুকিয়ে থাকতে হয়। আদালতের সম্মুখিন হওয়ার সাহস নেই।
বিদেশী আদালতের নির্দেশে যাদের বিদেশী ব্যাংকে রক্ষিত অর্থ ফেরত আসে তাদের মুখে দুর্নীতি বিরোধী বক্তব্য কতটা শোভনীয়?
ইসলামের কথা বলে যারা মিথ্যার বেসাতি করে বেড়ায় আপনি তাদের রক্ষার্থে বুক পেতে দিচ্ছেন। তারা আপনাকে শহীদ বলে আখ্যায়িত করছে। শহীদের শর্ত কি মহাশয়?

পুলিশ আসামি ধরতে যাবে, আপনি বাধা দিবেন। এমনকি পুলিশকে ঘেরাও করে তাদের হত্যা করতে উদ্যত হবেন। কেন? পুলিশ কি কোন দলীয় ক্যাডার? এই পুলিশ প্রশাসনই কি আপনাকে নিরাপত্তা প্রদান করেনা? তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কেন এ আক্রোশ? পুলিশ প্রজাতন্ত্রের প্রহরী। পুলিশের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ মানে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তথা প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। আপনার এ অবস্থানের স্বপক্ষে দলকানা তত্ত্ব ছাড়া আপনার কাছে আর কি কোন ব্যাখ্যা আছে?

নেই, তাহলে কেন এই স্বেচ্ছা অন্ধত্ব বরন। কেন এই নির্বোধের মত আচরণ। যারা মিথ্যা বলে বিভ্রান্ত করে। যারা ক্রমাগত ওয়াদা বরখেলাপ করে। যারা শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে সাধারণ মানুষকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে। জেনেশুনে কেন আপনি তাদের ক্রীড়নকে পরিণত হচ্ছেন?

দয়া করে এবার দলকানার অভিশাপ মুক্ত হন। দেশপ্রেমের আলোয় আলোকিত করুণ নিজেকে। সত্যকে সত্য বলুন। মিথ্যাকে পরিহার করুণ। যারা অন্যের অনিষ্টে সিদ্ধহস্ত। যারা শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য লালায়িত তাদের বর্জন করুণ। এ দেশটা আপনার-আমার, আমরা এ দেশের নাগরিক। কারো গোলাম নই। নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমান নিজেকেই দিতে হয়। আর তা কারো গোলামী করে সম্ভব নয়। আত্ননির্ভরশীলতার সাথে আত্নসম্মানবোধে বলিয়ান হয়েই দিতে হয়।

[email protected]

4Comments

1
muzib
muzib's picture
Mon, 01/04/2013 - 12:36am

উফ্ গালিব ভাই -
যে কথাগুলো বলতে মন সর্বদাই আকুলি-বিকুলি করে; গুছিয়ে লিখতে না পেরে হাত কামড়াই - আমার মনের সেই কথাগুলোই না কী সুন্দর পরিপাটী করে তুলে ধরলেন! আমার বিশ্বাস; শুধু আপনি-আমি কেন? এই কথাগুলো বহু দেশপ্রেমিক নিরপেক্ষ ভাবনার মানুষেরই মনের কথা!
যারা বলেন; পাগল আর শিশু ছাড়া কেউই নিরপেক্ষ নন - আমার মন সাক্ষ্য দেয়; ওরা জ্ঞানপাপী! জেনেশুনেই কোন না কোন দুষ্ট পক্ষকে সমর্থন করছেন। এটা নেশাখোরের মতই; নেশার কুফল জানা সত্বেও গাঁটের টাকা খরচ করে নেশা করবে! তাই নির্বাচন এলে মানুষ এত মাতাল হয়ে উঠে। নিজে আমি ৯৬-র পর (যদি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ পাই)নিজের ব্যালটটি অপব্যবহারের হাত থেকে রক্ষা করি - স্ট্যাম্পে যতক্ষন কালি থাকে প্রতীকের পর প্রতীক সিল মারতেই থাকি!আগে কিন্তু এটা করতাম না। ৯৬ থেকে মনে হয়েছে; সব শয়তানেরই এক রা' ! কাজেই আর কোন বাটপার শয়তানকেই আমার ভোটটা দেব না। ইচ্ছা করেই নষ্ট করি, তাতে আমার অনেক জ্ঞানী বন্ধু আমাকে পাগল অথবা নির্বোধ ভাবেন, আমার দুঃখ নেই। তখনই দুঃখ হয় যখন দেখি আমার ভোটটা অপাত্রে দিয়েছিলাম। সেই গ্লানীবোধ থেকেই আমি এ কাজটা করি।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে আমাদের দুষ্ট নেতাদের চে' আমার কুকুরটাকে বেশী পছন্দ করি। কারণ কুকুরটার ও কিছু ধর্ম আছে যা - দুষ্ট নেতাদের নেই। আমি সন্দিহান; মাইক হাতে দলীয় ঢোল পেটানো ছাড়া ওদের মনে আদৌ কোন দেশ প্রেম আছে কি না! দেশের মানুষ যেদিন ওদেরকে সামাজিক ভাবে বয়কট করবে সেদিন যদি হুশ হয়। নইলে এভাবেই চলতে থাকবে। কাজেই আসুন - দুষ্ট রাজনীতি আর দুষ্ট বাটপার নেতাদের ঘৃণা করি, ওদের সম্পৃক্ততাকে লজ্জার কারণ ভাবি। তাহলে দেরীতে হলেও রাজনীতির কিছুটা গুনগত পরিবর্তন আসতে পারে।
ধন্যবাদ আপনাকে। ভাল থাকুন।

2
Md. Galib Mehdi Khan
Md. Galib Mehdi Khan's picture
Mon, 01/04/2013 - 12:46am

মুজিব ভাই, আমারও বিশ্বাস শুধু আপনি-আমি কেন? এই কথাগুলো বহু দেশপ্রেমিক নিরপেক্ষ ভাবনার মানুষেরই মনের কথা!
সেদিন আমিও জ.ই. মামুনের ব্লগে লিখেছিলাম-নিরপেক্ষ হওয়া যায় না। নিরপেক্ষতার ভান করা যায় মাত্র। যা স্রেফ প্রতারনা বৈ আর কিছু নয়। বলা উচিত পক্ষপাতদুষ্ট না হতে। নিরপেক্ষ নয়। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

3
MasumKabir
MasumKabir's picture
Sat, 30/03/2013 - 11:39pm

বরেন্য নেতাদের নিবেদিত কর্মীদের তান্ডব তৎপরতায় দেশ ও দেশের সাধারণ মানুষ এখন ভীতসন্ত্রস্ত জিম্মী।বস্তুনিষ্ঠ লেখার জন্য ধন্যবাদ গলিব ভাই।

4
Md. Galib Mehdi Khan
Md. Galib Mehdi Khan's picture
Sun, 31/03/2013 - 10:28am

মাসুম ভাই একদম ঠিক বলেছেন। এই উচ্ছিষ্টভোগীদের জোড়েই নেতারা যা ইচ্ছা তা করে চলেছেন। বরেন্য নেতাদের নিবেদিত কর্মীদের তান্ডব তৎপরতায় দেশ ও দেশের সাধারণ মানুষ এখন ভীতসন্ত্রস্ত জিম্মী।