Food

Al.Mahmud's picture

ঢাকার কাবাব

এই পরিচিত শহরে যৌবনে কত ঘুরে বেড়িয়েছি! হাঁটতে হাঁটতে চলে গেছি ইসলামপুর পাড়ি দিয়ে চকবাজার। সেখানে সস্তায় মোরগ-পোলাও পাওয়া যেত। কী অপূর্ব স্বাদ ছিল সেইসব খাদ্যের। আজও মনে পড়ে, ঢাকাইয়া সেই রান্নার স্বাদ, গন্ধ ও মজা। হয়তো সবই ঠিক আছে। কিন্তু আমার পক্ষে আর ঢাকাইয়া খাদ্যের সুগন্ধ আস্বাদন করার ক্ষমতা নেই। বার্ধক্য মানুষের উদ্যম কমিয়ে দেয়। এখন ইচ্ছা হলেও আর ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় নানারকম স্বাদের খাদ্যাদি আস্বাদন করতে পারি না। তবে ঢাকাইয়া রান্নার একটি ঐতিহ্য অতি প্রাচীনকাল থেকেই আছে। আমরা যৌবনে ছোটাছুটি করে এখানে সেখানে সেই স্বাদ গ্রহণ করেছি। আজ না পারলেও ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মোরগ-পোলাও, নানা ধরনের কাবাব, ফুসকা জিহ্বাকে সিক্ত করে তোলে। পৃথিবীর সব প্রাচীন শহরেই খাদ্যের একটি বৈশিষ্ট্য থাকে। যে জানে সে আস্বাদন করে। কিন্তু আমার মতো লোকেরা শুধু স্মৃতি সম্বল করে বেঁচে থাকে। আগে বিরিয়ানি শব্দটি ঢাকার মানুষের মুখে মুখে ফিরত। এখনও হয়তো আছে। কিন্তু আমরা আর সেখানে পৌঁছাতে পারি না। ঘরে বসে গল্প করি। এতেই আনন্দ ও তৃপ্তি। ঢাকার বৈশিষ্ট্য চিরকালই এর ঐতিহ্যবাহী খাদ্যের। ঢাকাইয়া রান্না, ঢাকাইয়া বাবুর্চি এরাও ঢাকার বাইরে মফস্বলে গিয়ে নানা ভোজসভার আয়োজন করত। আজকাল সেসব আর বড় একটা হয় না। কিন্তু ঢাকা শহরের ভেতরে এর একটা স্বাদযুক্ত রন্ধনপ্রক্রিয়া এখনও আছে।

Shykh.Seraj's picture

৪০ বছরে এগিয়েছে কৃষি, পিছিয়ে কৃষক সামনে চ্যালেঞ্জ

বাংলা। কী ছিল এই বাংলায়। কী ছিল আজ থেকে ৬০-৭০ বছর আগে? একদিকে যার রোপিত হয়েছে সুখের বীজ, আরেক দিকে সংগ্রাম। পুরো বাংলাই গ্রাম, আর গ্রামই জনজীবনের চালক ক্ষেত্র। ক্ষেতে চলছে হাল, নদীতে জেলে ফেলছে জাল, গৃহস্থের ভিটায় মাড়াই চলছে ধানের, কলুপাড়ায় ঘানি ঘুরছে, কামারশালায় চলছে কৃষি উপকরণ তৈরির কাজ, জীবনের সব উপকরণে ভরপুর গ্রাম। এর ভেতরেও ছিল শোষণ। ব্রিটিশদের শোষণ, সামন্ত প্রভুদের শোষণ, তারপর পাকিস্তানি শোষণ। একটি সংগ্রাম শেষ করে মানুষ যখনই এগিয়ে যেত শান্তির পথে, তখনই ঘটেছে ছন্দপতন। এসেছে বিদ্রোহ। বিদ্রোহ থেকে বিদ্রোহ। শত বিদ্রোহ হয়েছে এই বাংলায়। ৫৫ বছর আগের তেভাগা আন্দোলনের স্মৃতি এখনো সজীব দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে। বিদ্রোহ, বিপ্লবের পথ বেয়ে এসেছে ৯ মাসের মুক্তি সংগ্রাম। কী ছিল মূলমন্ত্র? বাংলাভরা কৃষক, মজুর আর মেহনতি মানুষের কী ছিল স্বপ্নসাধ? বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে সমাজের সব শ্রেণীর মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার পেছনে লক্ষ্য ছিল একটাই_স্বাধীন ভূখণ্ডে খেয়ে-পরে সুখে-শান্তিতে থাকা। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। এইটুকু আশা নিয়েই সেদিন যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়েছিল মুক্তি সংগ্রামে।

Farida.Akhtar's picture

খাদ্যের নিশ্চয়তা দেবে পরিবেশসম্মত কৃষি

জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ-১৭ ডারবানে শুরু হয়েছে ২৮ নভেম্বর, শেষ হবে ডিসেম্বর ৯ তারিখে। বাংলাদেশে এই উপলক্ষে আর কিছু না হোক পরিবেশমন্ত্রী ডা. হাছান মাহমুদের পদোন্নতি ঘটেছে। আগে তিনি গেছেন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে, এবার যাচ্ছেন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে। যদিও এর ফলে ডারবানে বাংলাদেশের কদর কতখানি বাড়বে বা হিসাবনিকাশে কী বদল ঘটবে তা বলা মুশকিল। আমাদের চিন্তা এই মুহূর্তে সার্বিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিতে রয়েছে এমন দেশগুলোর ভবিষ্য ৎ কী হবে? ধনী দেশগুলো আসলেই তাদের দায়িত্ব পালন করবে কি?

কিয়োটো প্রটোকল ১৯৯৭ সালে শুরু হয়েছে, মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১২ সালে। এই চুক্তির প্রধান দিক ছিল জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে হলে কার্বন নির্গমনের হার কমাতে হবে; বিশেষ করে ধনী দেশগুলো, যারা কার্বন নির্গমনের জন্য প্রধানত দায়ী, তাঁরা শতকরা ৪০ ভাগ কমাবে। এটাই ছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি। কিন্তু ধনী দেশ তাদের দিক থেকে সাড়া দিতে চাইছে না। এর আগে কানকুন এবং কোপেনহেগেন সম্মেলন ভেস্তে গেছে, তাদের কিছুই এসে যায় না। ডারবানে এসেও কোনো আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না, উল্টো কানাডা বলে দিয়েছে তারা এসব বাধ্যবাধকতায় থাকতে চায় না। রাশিয়া ও জাপান আগেই এই কাজ করে ফেলেছে, আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন শর্ত দিয়েছে যে যদি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত কার্বন নির্গমন না কমায় তাহলে তারাও করবে না। এ যেন ছোট বাচ্চাদের খেলা। যেখানে সারা বিশ্বের মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে, সেখানে তারা একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজ দায়িত্ব পালন করছে না। তাই ডারবানের সম্মেলনের শুরুতেই হতাশার সুর শোনা যাচ্ছে। ভেস্তে যাওয়ার সব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

Farhad.Mahmud's picture

হারিয়ে যাচ্ছে ধানের জাত হারাচ্ছে ঐতিহ্য

ভারতে নর্মদা ড্যাম নির্মাণের প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলেন সে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। কিন্তু নানা আইনগত জটিলতা ও কৌশলগত কারণে সেটি করা সম্ভব হয়নি। সত্তরের দশকের শেষ দিকে তাঁর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে পুনরায় সেই উদ্যোগ নেন। ১৯৮৪ সালে অর্থাৎ তিনি নিহত হওয়ার বছর এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছিলেন তিনি। এতে নর্মদা নদীর ওপর ছোটবড় প্রায় তিন হাজার বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। নতুনভাবে কয়েক লাখ হেক্টর আবাদি জমি তৈরি করাসহ এর বিশাল উপযোগিতা থাকা সত্ত্বেও ভারতের সচেতন মহল এর বিরোধিতা শুরু করে। 'নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন' নামে ভারতজুড়ে শুরু হয় তীব্র আন্দোলন। স্থগিত থাকে বাঁধ নির্মাণের কাজ। এক দশকেরও বেশি সময় আন্দোলনের পর ১৯৯৩ সালে বিশ্বব্যাংক নর্মদা ড্যাম নির্মাণে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে। আন্দোলনকারীদের আপাতত বিজয় হয়। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী এই লেখককে গর্ব করে বলেছিলেন, 'নর্মদার তীরবর্তী অঞ্চল থেকে আমরা বিশেষ ধরনের গুণাগুণসম্পন্ন এক ডজনেরও বেশি ধানের নতুন জাত সংগ্রহ করেছি, যার মূল্য নর্মদা ড্যাম যে উপকার করত, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি।' বিজ্ঞানীর সেই কথাগুলো আজ খুব বেশি করে মনে পড়ছে, যখন দেখি বাংলাদেশে স্থানীয় জাতের ধানগুলো প্রায় হারিয়েই গেছে।

আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে

জীবনধারণের জন্য সবচেয়ে দরকারি জিনিস কোনটি? উত্তরটি সবার জানা। প্রকৃতির দান আলো, বাতাস এবং পানি বাদ দিলে যে জিনিসটির কথা সবার আগে মনে আসে, তা হলো খাবার। খাবার ছাড়া জীবজগতের কোনো প্রাণী বাঁচে না।

পৃথিবীর সব দেশে খাদ্যের অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত। এ দেশে আমরা ‘অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই’—এই স্লোগান শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। আমাদের সংবিধানের ১৫(ক) ধারায় ‘অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা’ করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উদ্ধৃত করা আছে। আমাদের রাষ্ট্র কি এ দায়িত্ব পালন করছে?

Badruddin.Umar's picture

খাদ্যশস্যের জমি তেল ক্ষেত্রে পরিণত করে মানব জাতি ধ্বংসের পথই প্রশস্ত করা হচ্ছে

বিশ্বে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি হচ্ছে এবং এই বৃদ্ধির কারণে খাদ্য চাহিদাও একইভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্যের উত্পাদনও যে বৃদ্ধি পাচ্ছে না এমন নয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উত্পাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এ কারণে বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে পশ্চাত্পদ এবং অনুন্নত দেশে ক্ষুধা এখন এক ভয়াবহ জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। খাদ্যে ঘাটতি দেশগুলোতে বাইরে থেকে খাদ্য আমদানি করেই ঘাটতি যতটা সম্ভব পূরণ করতে হয়। কিন্তু এভাবে সামগ্রিক ঘাটতি পূরণ করা অধিকাংশ দেশের পক্ষেই সম্ভব হয় না এবং এসব দেশে ক্ষুধা এক বড় আকারের সমস্যা হিসেবেই দেখা যায়। বাংলাদেশ এই ধরনেরই একটা দেশ। সরকারের নির্লজ্জ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্যমন্ত্রী দেশে কোনো খাদ্য সঙ্কট নেই এবং সরকারি গুদামগুলোতে যথেষ্ট খাদ্য মজুত আছে, একথা বললেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের ঘরে এখন প্রয়োজনীয় খাদ্যের সংস্থান নেই। তারা প্রায় অভুক্ত এবং অর্ধভুক্ত থেকেই জীবন কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছেন।

গতকাল ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রকাশিত Global Hunger Index (GHI) ২০১১-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বে biofuel বা খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানি তেল উত্পাদন খুব দ্রুত বৃদ্ধি এবং খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশগুলো কর্তৃক খাদ্য রফতানি কমিয়ে দেয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে এবং এর দ্বারা বাংলাদেশের মতো দেশ ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

WatchDog's picture

এ জন্যেও শান্তির মেডেল পাওয়া উচিৎ......

image_1042.jpgহোক সে চোর, হোক সে ডাকাত, হোক সে হাজার খুনের আসামী, একটা গণতান্ত্রিক দেশের পুলিশ কোন অবস্থাতেই আধিকার রাখে না তার নাগরিককে এভাবে শাস্তি দিতে। শান্তির মেডেল আনতে যারা দলবল সহ এখন নিউ ইয়র্কে তাদের ইশারাতেই এসব হচ্ছে। মিথ্যাচার আর ধাপ্পা দিয়ে কোটি কোটি স্বদেশিকে গরু ছাগল পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সক্ষম হলেও বাকি বিশ্বকে বেশিদিন গরু ছাগল বানানো যাবে বলে মনে হয়না।

রাজনীতির নামে দেশে যা চলছে তা স্রেফ পারিবারিক দাসত্ব। এ হতে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত দেশের আনাচে কানাচে অহরহই ঘটতে থাকবে এ কলংকিত অধ্যায়।

sadek.khan's picture

খাদ্য মজুদ সত্ত্বেও দাম বেড়েই চলেছে

জাতীয় দৈনিকগুলো খুললেই নজরে পড়ে মোটা দাগের শিরোনামে উইকিলিকসের ফাঁস করা অতীত ভাবনা বা ঘটনা নিয়ে দোষারোপের খবরা-খবর, ঢাকায় হাসিনা-মনমোহন শীর্ষ বৈঠকে আসল পানি চুক্তি বা অন্যান্য বিষয়ে মীমাংসা কেন হলো না, নকল কাঠামো চুক্তির দৌড় কতদূর এসব নিয়ে বিবাদ-বিসম্বাদ, আর একদিকে বাকস্বাধীনতা রাজনৈতিক বিরোধিতা নিয়ন্ত্রণে সরকারের আইনি তোড়জোড়, মামলা-হামলা। অন্যদিকে মামলা রদের আন্দোলন, হামলা প্রতিরোধের অঙ্গীকার আর সরকার পতনের ঘোষণাসহ বিরোধীদলীয় বিভিন্ন তৎপরতার পাতাভর্তি সংবাদ। আরও থাকে খেলাধুলার খবর, সংস্কৃতি সংবাদ। আর থাকে অর্থনীতির পাতা_ যেখানে শেয়ারবাজারের দুঃসংবাদ, সরকারি রাজস্বনীতি, মুদ্রানীতি ও ব্যাংকিং বিভ্রাটের খবরা-খবর।

এসবের মধ্যে অলক্ষ্যে দ্রব্যমূল্যের ফাঁস যে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনরক্ষাই কঠিন করে তুলেছে, সেটা যেন এখন বাসি খবর, কেউ আমলে নিচ্ছে না। শুধু ভুক্তভোগীরাই প্রাণান্ত অবস্থায় পেঁৗছে কাতরাচ্ছে।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

কম খাওয়ার উপদেশ :সে যুগে এবং এ যুগে

দেশে খাদ্যমূল্য, খাদ্যে ভেজাল ইত্যাদি সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান জনসাধারণকে কম খাওয়ার উপদেশ দিতে গিয়ে যে বিতর্ক ও সমালোচনার জালে জড়িয়েছেন তা থেকে এখনও মুক্ত হতে পারেননি। দলমত নির্বিশেষে অনেকেই তার সমালোচনা করছেন। কেউ কেউ তির্যক ভঙ্গিতে বলেছেন, খাদ্য সংক্রান্ত সমস্যা এড়ানোর জন্য যদি কম খেতে হয়, তাহলে রাস্তা দুর্ঘটনা, লঞ্চ দুর্ঘটনায় মৃত্যু এড়ানোর জন্য বাসে, গাড়িতে, লঞ্চে চলা বন্ধ করতে হয়। বিদ্যুৎ সমস্যা এড়ানোর জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করে ঘরে ঘরে, অফিস, আদালতে মোমবাতি জ্বালাতে হয়।

আমার যত দূর মনে পড়ে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সব মন্ত্রীকেই সংযত হয়ে কথা বলার এবং কম কথা বলার উপদেশ দিয়েছিলেন। মনে হয় না তার অনেক মন্ত্রীই সেই উপদেশে কান দিয়েছেন। দেশের মানুষকে কম খাওয়ার উপদেশ না দিয়ে মন্ত্রী যদি নিজে কম কথা বলার অভ্যাস রপ্ত করতেন, তাহলে শুধু তিনি নন, তার মতো আরও কয়েকজন মন্ত্রী সম্ভবত দায়িত্ব পালনে নিজেদের অনভিজ্ঞতা ও ব্যর্থতা অনেকটাই ঢাকা দিতে পারতেন।

AKM.Zakaria's picture

‘কম খাওয়া’ মানে কম বিষ খাওয়া

বাজারে নাকি ফরমালিন ছাড়া কোনো খেজুর নেই! রোজার একদম শুরুর দিকে ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে অভিযান চালিয়েছিলেন বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানকার ফলের দোকানগুলোতে যত ধরনের খেজুর ছিল সবগুলোতেই ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ফরমালিন পাওয়া গেছে সেই বাজারে বিক্রির জন্য রাখা আঙুরেও। শুধু মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট থেকেই দেড় হাজার কেজি খেজুর ও ৮০ কেজি আঙুর জব্দ করেছেন আদালত। পত্রপত্রিকা এই খবর ছেপেছে, দেখানো হয়েছে টিভি চ্যানেলগুলোতে। এই অভিযান চলেছে সকালের দিকে, বিকেলে কৃষি মার্কেটে গিয়েছিলেন এমন এক ক্রেতা জানিয়েছেন, বাজারের কোনো দোকানে খেজুর পাননি তিনি। এই অভিযানের সপ্তাহ খানেক পরে কৌতূহল হলো সেখানকার ‘খেজুর-পরিস্থিতি’ জানার। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সেখানে খেজুর বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই, লোকজন কিনছেও। অভিযানের পর এখন যে খেজুর বিক্রি হচ্ছে তা কি ফরমালিনমুক্ত?