Food

সর্বনাশা প্লাবন : সর্বস্ব হারাচ্ছে শত শত মানুষ

টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অস্বাভাবিক জোয়ারে দেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের চরাঞ্চল ও নিম্ন এলাকা ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। যমুনা ও তিস্তাসহ বেশ কিছু নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপদাপন্ন হয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ। সর্বনাশা প্লাবনের পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে নদী ভাঙন। শত শত মানুষ নিমিষেই সর্বস্ব হারাচ্ছে নদীর আগ্রাসনে। দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তরিতরকারির ফসলও নষ্ট হচ্ছে ব্যাপকভাবে। কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজি পণ্য দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে এর ফলে।
river
দেশের অন্যতম প্রধান নদী যমুনায় পানি বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারিয়াকান্দিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। পানির প্রবল তোড়ে চন্দনবাইশা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। যমুনা তীরবর্তী ধলিরকান্দি থেকে রৌহাদহ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে। কামালপুরের রৌহাদহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে স্লাব ধসে পড়ছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Harun.Ur.Rashid's picture

ফরমালিন থেকে পরিত্রাণের উপায়

খাদ্যসামগ্রীতে ফরমালিন অপব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান আছে বটে; কিন্তু এর কার্যকর হয় খুবই কম। যদিও হয়ে থাকে তা কয়েক বছর পর। বিচারব্যবস্থার এই এতিম অবস্থা আমাদের ভোগাচ্ছে অতীত থেকে। সবার মুখে একই কথা, আইন আছে কিন্তু তার প্রয়োগ নেই। ৮ জুলাই থেকে ১০ দিনের সিঙ্গাপুর সফরের সময় জানতে পেরেছি সেই দেশের আইনি ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগের কথা। সেখানে মাদক ও ভেজালের শাস্তি ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কার্যকর হয়। মাদকসামগ্রী রাখা ও পণ্যে ভেজাল দেয়ার কোনো তথ্য পেলে শনাক্তকারী ব্যক্তির শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ড। ওই দেশে ২৫ বছর বসবাসকারী এক বাঙালি বন্ধুর কাছে এ কথা শুনেছি। যৌন হয়রানি করেছে এমন নারী-পুরুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তিন বেত্রাঘাত, এতে ওই দুর্বৃত্ত ব্যক্তির পুরুষত্ব বা নারীত্ব নিঃশেষ হয়ে যায়।
formaline
এসব ক্ষেত্রে ওই সভ্য দেশটিতে রাজনৈতিক বিবেচনা বা নির্বাহী প্রধানের আত্মীয় পরিচয়েও রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের প্রিয় পুত্র বা কন্যাও যদি এ ধরনের অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে এমন প্রমাণ মিললে তার শাস্তিও একই বিধানে একই পদ্ধতিতে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর হয়ে থাকে।

ইলিশ কোথায় যায়?

বর্ষা মৌসুম গেল গেল। এখনও জেলেরা জল ও জালের সমন্বয় ঘটাতে পারেনি। দল বেঁধে গভীর সাগরে হন্যে হয়ে পড়ে থেকেও দেখা পায়নি ইলিশের। এক আশ্চর্য ঘটনা বটে। তাহলে ইলিশ গেল কোথায়? নদী আছে, সাগর আছে, জল আছে, জাল আছে আবার আছে জেলেও। কিন্তু ইলিশ কেন নেই? ইলিশ কি সীমারেখা অতিক্রম করে চলে গেছে? অবশ্য এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে ইলিশ রক্ষার নানা পদক্ষেপও। বৈষয়িক জলবায়ুর প্রভাবে স্বাভাবিকতার যে পরিবর্তিত ধারা, তার ঢেউ লেগেছে জল ও জলজ সম্পদের সর্বত্র। মানুষ থেকে পশু-পাখি, গাছপালা, কীট-পতঙ্গ এমনকি জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর ক্ষেত্রেও বৈশ্বয়িক পরিবর্তন প্রভাব বিস্তার করেছে।
elish
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরের ইলিশ দলবদ্ধভাবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে মিষ্টি জলের স্পর্শে ডিম ছাড়তে আসে। এ সময় দেশে দুই থেকে তিনটি জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় হয়ে থাকে, যা কিনা ইলিশের প্রজনন ক্রিয়ায় সহায়তা করে থাকে। দেশের প্রায় সব বড় নদ-নদীতে ইলিশের ডিম ছাড়ার জায়গা। তবে স্বাচ্ছন্দ্যগত ও অবস্থাগত কারণে মেঘনা নদীর ধলচর, কালীচর, মৌলভীচর, মনপুরা দ্বীপে মিষ্টি ও লবণ জলের মিশ্রিত জায়গায় ডিম দিয়ে থাকে।

Abdul.Matin.Khan's picture

যুদ্ধ তাদের বাধাতেই হবে

মানুষের স্বভাব হলো তার প্রিয় জিনিসকে রক্ষা করা। এ কথা বললে সবটা বলা হয় না। প্রশ্ন ওঠে প্রিয় জিনিস বলতে কী বুঝতে হবে। প্রিয় জিনিস বলতে সাধারণভাবে বোঝায় অনেক জিনিসের মধ্যে যেটি বা যে কটি তুলনামূলকভাবে বেশি প্রয়োজনীয় অথবা দামি। প্রয়োজনের মধ্যে পড়ে হাতিয়ার যার তৈরিতে কম দামের বস্তু যেমন মাটি, কাঠ ও লোহা এবং তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়। তবে প্রয়োজনের মধ্যে সব থেকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হলো স্টেপল ফুড বা মূল খাবার; বাঙালির চাল, আটা আর ইউরোপীয়দের গম, আলু। এগুলো, পারলে, মানুষ মাছ, গোশত, ডাল, তরিতরকারিসহ খায়। মানুষকে র‌্যাশনাল অ্যানিমল বা যুক্তিবাদী প্রাণী বলেছেন অ্যারিস্টটল। বার্ট্রান্ড রাসেল এ কথা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, মানুষ র‌্যাশনাল হলে লোহার চেয়ে সোনাকে বেশি দাম দিত না। মানুষ যৌক্তিক অথবা অযৌক্তিকভাবে যেসব জিনিসকে বেশি দাম এবং গুরুত্ব দেয় সেগুলোকেই তার প্রিয় বস্তু বলে ধরতে হয়।
Nature
পৃথিবীতে ধরতে গেলে সব জিনিসই আক্রা। অঢেল বলতে কিছু নেই। বাংলাদেশে অধিক বৃষ্টিপাত এবং নদীনালা খালবিলের জন্য পানি অঢেল মনে হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে সুপেয় পানির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। লোকসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় বাংলাদেশের কয়েক কোটি দুর্ভাগা মানুষ বাস করে। ওইসব জায়গায় খাদ্যোৎপাদন তো বটেই_ রান্না, খাওয়া, গোসল প্রভৃতি স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর। বাংলাদেশের ওইসব জায়গায় কারো বসবাস করা ঠিক নয়।

ফরমালিন : নীরব ঘাতক

এবার অনেকেই পরিচিত ব্যক্তিদের সহায়তায় বাগান থেকে আম আনিয়েছেন; কিন্তু কেন তাদের এই আম আনানোর প্রয়োজন পড়ল। বাজারে তো আমের কোনো ঘাটতি নেই। কারণ একটাই। তা হলো ফরমালিন। ফরমালিন এখন এক আতঙ্কের নাম। কিছু দিন আগেও মানুষ এর নাম খুব্ একটা জানত না; কিন্তু আজ ছেলে-বুড়ো-নারী-পুরুষ সবাই জানে ফরমালিন কী এবং কী তার ব্যবহার।
formalin
ফরমালিন পানিতে দ্রবণীয়। ৩০-৪০ শতাংশ ফরমালিহাইডের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলা হয়। যার মধ্যে ১০-১২ শতাংশ মিথানল থাকে। ফরমালিনের ব্যবহার সাধারণ মানুষের জানার কথা নয়। কারণ এটি ব্যবহার হয় ল্যাবরেটরিতে। স্কুল-কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান গবেষণাগারে কাচের জারে বিভিন্ন নমুনা অবিকৃতভাবে রাখার জন্য ফরমালিন ব্যবহার হয়। এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ব্যবহার করে। লাশ যেন সহজে পচে না যায়। ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্ট প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ফরমালিনের ব্যবহার দেখা যায়। এসব কাজ ফরমালিন ছাড়া করা সম্ভব নয়; কিন্তু বর্তমানে ফরমালিনকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে ব্যবহার করছে। এতে করে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে দেশ। তাদের কাছে মুনাফাই বড়।

A.M.M shawkat ali's picture

খাদ্যসামগ্রীতে রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার ও প্রতিকারের চেষ্টা

বিগত অর্ধদশকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্যের অধিক ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিরাট হুমকি হিসেবে সবাই মনে করেন। প্রথমে মাছে ফরমালিন ব্যবহারের বিষয়ে যথেষ্ট বিতর্ক হয়। মিডিয়ার মাধ্যমে বহুল প্রচারিত এ বিষয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের গণদাবির বিষয়টিও শোনা যায়। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংস্থা ও সরকারের উদ্যোগে রাজধানীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বড় বাজারগুলোকে ফরমালিনমুক্ত বাজার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ সংক্ষেপে বিসিএসআইআর নামক সংস্থাটির উদ্ভাবিত ফরমালিন শনাক্তকরণ যন্ত্র সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে সবাই জানে।
food
যত দূর জানা যায়, সংশ্লিষ্ট বাজার কমিটি এসব যন্ত্র ব্যবহার করে বাজারগুলো ফরমালিনমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী উদ্যোগটি প্রচারের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী অথবা অন্য কোনো শীর্ষস্থানীয় সরকারি নীতিনির্ধারক বাজারে ছোট আকারের জনসভা করে ফরমালিনমুক্ত বাজার ঘোষণা করেন।

S M Niaz Mowla's picture

ফুডপান্ডা আর মনুষ্যত্বের মঞ্চায়ন

রাত জাগা আমার খুব পুরানো অভ্যাস। কিন্তু পুরো রাত জেগে থাকি, এই রকম ঘটনা খুব কম ঘটে! গতকাল ঘটেছিলো। ল্যাপটপে কাজ করতে করতে কখন যে পূব আকাশে ঊষার আগমন ঘটলো টেরই পাই নি! টের পেলাম যখন, ক্লান্তিতে দু’চোখ বুজে এলো।

Waset Shahin's picture

নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই

বাংলাদেশের জনগন বর্তমান সময়ে দুটো রাসায়নিকের নাম ও কাজ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। এগুলো হল ফরমালিন ও কার্বাইড। বলা বাহুল্য রাসায়নিক দুটো এদের অপপ্রয়োগ সম্পর্কেই বেশি পরিচিত। বিভিন্ন প্রকার ফল ও মাছে এগুলো ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফল পাকানো এবং সংরক্ষন ও মাছ সংরক্ষনে এর প্রয়োগ প্রণালী জনস্বাস্থের জন্য বিশেষ ক্ষতিকর। এই বিষয়টি এখন সবাই জানে, বিক্রেতা ও ক্রেতা সবাই। যে এসব রাসায়নিক মেশায় সে জানে কাজটি বেআইনী ও অমানবিক, ভোক্তাগনও মুখে চু চু শব্দ করে বটে, কিন্তু নির্বিবাদে তা ভক্ষন করে থাকে। এর জন্য যথেষ্ট আইনী পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়, সামাজিক প্রতিরোধের কোন লক্ষনই নেই। ফলে কষ্টার্জিত অর্থে জনগন বিষ খেয়ে চলেছে। বাংলাদেশের বাজারে এই রাসায়নিক দুটোর ব্যবহার প্রায় অবাধই বলা চলে।

WatchDog's picture

মন্ত্রির সরাবন তহুরা আপ্যায়ন...WD

 photo 11_zps2b7c83d9.jpg স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব মহিউদ্দিন খান আলমগীর নিয়মিত মদ্যপানে অভ্যস্ত। উনার চেহারাও সে স্বাক্ষী দেয়। অর্থনৈতিক বিবর্তন মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনে। এই ধারায় বাংলাদেশের আনাচে কানাচে গজিয়ে উঠা নব্য কোটিপতিদের অভ্যাস তালিকায় মদ এখন নৈমত্তিক সংযোজন। এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করার মত দেশে খুব বেশি সমাজসেবক অবশিষ্ট নেই। কারণ কম বেশি অনেকেই এ নিষিদ্ধ জিনিসটার প্রতি আকৃষ্ট।

WatchDog's picture

ভ্যালা রে প্রধানমন্ত্রী, বেঁচে থাকুন চিরকাল...WD

দুই নেত্রীকে আলোচনার টেবিলে বসাতে দেশী বিদেশি অনেকেই দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন। এ দৌড়ে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন সদ্য নির্বাচিত মার্কিন পররাষ্ট্র সেক্রেটারি জনাব জন ফরবস্‌ কেরি। জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল সহ আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের অনেক উঁচু মাপের নেতারা বার্তা পাঠাচ্ছেন, প্রতিনিধি পাঠিয়ে নিশ্চিত করতে চাইছেন আলোচনার মাধ্যমেই যেন মিমাংসা হয় বাংলাদেশের সমস্যা। আমরা যারা দেশীয় ম্যাঙ্গো এবং দৌড় আগরতলা হয়ে চৌকির তলা পর্যন্ত তাদের ধারণা করতে অসুবিধা হয়না দেশ নিয়ে বিদেশিদের এসব শর্ট টার্ম দৌড় কোথায় গিয়ে হোচট খাবে।

Syndicate content