একজন হুমায়ূন আহমেদ এবং কিছু অপন্যাস ও মুরতাদ!

বাংলা সাহিত্য জগতে প্রবাদ পুরুষ, তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা। বিগত বছরগুলোতে অন্যপ্রকাশের ফ্ল্যাপে শুধু নয়, দেশব্যাপী অধিকাংশ মানুষ এটা জানতেন-মানতেন। তিনি তার সরল লেখনীর যাদুর ছোঁয়াতে প্রজন্মান্তরে বেঁধে রেখেছিলেন লাখো বাংলাদেশীর হৃদয়। আমি সচেতন ভাবেই ‘বাংলাদেশী’ লিখেছি ; ‘বাঙালি’ লিখিনি। কেন লিখিনি সে ব্যাখ্যায় পরে আসব।

বাংলাদেশে মৌলবাদের প্রকোপ ভয়াবহ রকম বেশী। রীতিমত আতঙ্কজনক। এখানে শুধু ধর্মীয় গোঁড়া নন, বরং নিজেদেরকে মুক্তমনের প্রগতিশীল দাবী করা মৌলবাদীও একেবারে কম নেই! এই দু’দল ই আমার চোখে অকাট মূর্খ। এরা নিজেদের ছাড়া আর কাউকেই গুরুত্ব দিতে চান না। মানুষকে তাঁরা জঘন্য আক্রমণ করে থাকে। তাই মুহূর্তেই হুমায়ূন তাদের কোনো দলের চোখে মুরতাদ, আবার কারো চোখে হয়ে ওঠেন অপন্যাসিক!

তিনি এমন একজন মানুষ যাকে বহুবার কিছু নামধারী মুক্তচিন্তার মানুষগুলো অপন্যাসিক, বাজারি লেখক, সস্তা জনপ্রিয় লেখক আখ্যা দিয়েছেন। তাদের ভাব দেখে মনে হয় এই মানুষটা বই লিখবে এবং তা বেচবে না। বরং পয়সা না নিয়ে লিখে যাবে এবং হাওয়া খেয়ে বাঁচবে! তাদের চোখে জনপ্রিয় হওয়াটাও জঘন্য রকম অপরাধ!

আচ্ছা, বলুন তো সাকিব আল হাসান কি জঘন্য? কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? অথবা বঙ্গবন্ধু? এঁরাও তো জনপ্রিয়।

আমি যাদের কথা বললাম, তাঁরা সবাই অসম্ভব জনপ্রিয়। কারণ প্রত্যেকেই নিজের কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে, ভালবাসার সাথে সম্পাদন করেছেন। প্রতিটি মানুষের মন ছুঁয়ে যেতে পারে মহাপুরুষেরা। সেটা কারো কারো জন্য তীব্র জ্বালাময় হলেও সেটা সত্যি।

তবে জনপ্রিয় হয়ে সমালোচনার দায় শুধু হুমায়ূনের কেন বলতে পারেন? কেন হুমায়ূনের বেলায় সমস্যা তা জানেন? এই লোকটার বই এই সময়ে বিকোয়, অতীতে নয়! মানুষ ভালবেসে যখন ক্রিকেটের টিকিট কিনে, রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনে কিংবা বঙ্গবন্ধুর জন্য কাঁদে......... সেগুলো সব ঠিক আছে। কারণ সেগুলোতে লালসা করে শেষে ‘আঙুর ফল টক’ অবস্থা হবে। সে স্থান ছুঁতে পারা বড় সহজ নয়! কিন্তু হুমায়ূনের উপন্যাস যদি অপন্যাস হয়, সেক্ষেত্রে কিন্তু চমৎকার হয়। আমিও লিখি, ওটা অপন্যাস হলে আমারটা যে উপন্যাস হয়ে ওঠে! ভালো লেখা বড় কঠিন, তারচে’ সহজ যে ভালো লিখে তাঁকে টেনে নামানো। বড্ড সহজ সমীকরণ!

আমরা এই শ্যামল দেশের মানুষ, খুব নরম মনের। কোন ঘটনা দাগ কাটে গভীরে। ক্ষণজন্মা কারো স্পর্শ পেলে তাঁকে ভালবাসা উজাড় করে দিতেই আমাদের আনন্দ। আমাদের প্রতিদিনের আনন্দ বেদনার কাব্য লেখার মাঝে তুলে ধরার মত খুব বেশী মানুষ আমরা পাইনি। তাই যখন হুমায়ূন সাহিত্যে নিজের ছায়া দেখি, দেখি নিউ মার্কেটের কাদায় দাঁড়িয়ে কেউ বই কিনছে; তখন তাঁকে আপন মনে হয়। ক্লাবে বসে ‘চরমিনার’ ফুঁকছে, এরকম কোন চরিত্রের চেয়ে মাজারে বসে গাঞ্জা টানা কোন চরিত্রও বেশী আপন হয়ে ধরা দেয়।

সব ছেলের মধ্যেই একটা সময় তারুণ্যের ছোঁয়া লাগে, তখন সেই বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে সব কিছু কেমন এলোমেলো লাগে। তখন নিজের মাঝে হিমুর জন্ম হয়। সেটা প্রকৃতির নিয়মেই হত, হুমায়ূন না লিখলেও হত! এই বাস্তবগুলো লিখেছেন বলেই তিনি এত আপন।

প্রতিটি মেয়ের মাঝে মৃন্ময়ী, আনুশকা বাস করে। সরল সহজ মেয়ে। এদেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হয় নি, কিন্তু তারপরেও এখানকার মেয়েরা মাঝেমাঝেই বড্ড সাহসী কাজ করে ফেলে! সবার ভেতরেই তাই সহজ সরল জরি যেমন ছাপ ফেলে, তেমনি মৃন্ময়ীকে আপন মনে হয়!

অনেকে বলে বসেন শুধু নিম্নমধ্যবিত্ত তার লেখায় উঠে এসেছে। সেটার সত্যতা বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। উচ্চবিত্ত বাবার মেধাবী পুত্র শুভ্রের গল্প তিনি বলেন, আবার কবি আতাহারও কিন্তু আমাদের আশেপাশেরই একজন।

তিনি তাঁর উপন্যাসকে প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের মত কঠিন বাণীতে লিখেননি, তাই সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে যায়নি তাঁর লেখা।

তিনি যখন নলিনী বাবু লিখেন, তখন সবাই বাবুকে কল্পনার চোখে দেখতে পায়। তাঁর গল্পে যদি উঠে আসে নীল হাতি কিংবা পুতুল, তখন শিশুরাও আনন্দ পায়। তোমাদের জন্য ভালবাসা, ফিহা সমকরণ লিখেও তিনি পাঠককে বিনোদিত শুধু নয় নানা রঙে রাঙ্গায়। তাঁর লেখা নাকি সস্তা বিনোদন! একটা মিসির আলি লিখে ওরকম সস্তা বিনোদন এই বই মেলায় কেউ আমাকে দেবেন দয়া করে!!
তাঁর লেখায় রূপকথার মত প্রতিকূল পরিবেশে বিপ্লবী হয়ে কোন মেয়ে বাঁচে না, বরং মাতাল হাওয়ার নাদিয়ার মত মেয়েটাকে মেরে ফেলা হয়। বিশিষ্ট আঁতেল লেখক শ্রেণীর হাতে ‘মাতাল হাওয়া’ উপন্যাসের কি অবস্থা হত বলব? তারা দেখাত, নাদিয়া গণঅভ্যুত্থানে যোগ দিল। তারপর তার সংগ্রামের জীবন শুরু হল এবং মেয়েটা দুই যুগ পর শেষমেশ সফল হয়ে গেল! কি অবাস্তব এদের জগত! কি ধরণের ‘বায়াসিং’ এদের মস্তিষ্কে! এমন অবাস্তব কাহিনী সাইন্স ফিকশন বা রূপকথাতেও হয় না আজকাল!

আয়না ঘর কিংবা দেবী গল্পে যখন অসহায় একটা মেয়ে অলৌকিকভাবে রক্ষা পায়, তখন কিন্তু অবাস্তব লাগে না। কারণ, লেখক তাঁর যাদুময় বর্ণনায় এমন পরিস্থিতির উদ্ভব করেন, যাতে আমরা উদ্বেলিত হই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই উপন্যাস পড়ছি এটা ভুলে গিয়ে কামনা করতে থাকি, মেয়েটার যেন কোন ক্ষতি না হয়! যে মানুষটা বউয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ, যে ছেলেটা প্রেমিকার আহ্লাদে বিরক্ত, কিংবা যে মেয়েটা কাল্পনিক রূপচর্চার জগতে বাস করে তাদের সবার চিন্তা এই একটা পয়েন্টে এনে তিনি গেঁথে ফেলেন বলেই আমরা তাঁর লেখনীর মাঝ দিয়ে কখন যেন তাঁকে অজান্তেই ভালবেসে ফেলি।

ধর্মীয় বা প্রগতিশীল দু’রকম কিছু ভানধারী মৌলবাদী আছে। এদের মাঝে মোটামুটি এতটুকু পার্থক্য যে, একজন লাউ, অন্যজন কদু! হুমায়ূন দ্বিতীয় বিয়ে করেন শাওনকে। একে তো এটা নিতান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার উপরন্তু এটা তাঁর লেখক সত্তার বাইরের ব্যাপার। তর্কের খাতিরে মানলাম, সেলিব্রেটি বলে ব্যাপারটা আলোচনায় আসে।

আমার প্রশ্ন খুব সাদাসিধে। এই ব্যাপারটা প্রগতিশীলদের যতটা নাড়া দেয়, একশ্রেণী বকধার্মিকের ঈমানেও তেমন জোশ আনে, কেন? সে নিজে চার বিয়ে , তালাক এগুলোকে হালাল বলেই মানে- হুমায়ুনের বেলায় তাঁর আপত্তি। বয়সের ব্যাপারেও আপত্তি। একই আপত্তি সুশীলদেরও। তারাও মানতে পারে না অসমবয়সী দ্বিতীয় বিয়ে। কি আজব পরিস্থিতি! এই বকধার্মিক নিজে হুরের অর্থ না বুঝেই হুরের স্বপ্নে বিভোর, আর এই নামধারী সুশীল দুনিয়ার নষ্ট হুর নিয়ে তুষ্ট! অথচ সুস্থ সামাজিক ভাবে বিয়ে করে মানুষটা পাপী হয়ে গেল!

এই বিয়েটা যে মহা পুণ্যের কাজ তা আমি বলছি না। কিন্তু আপনি, আমি সাধারণ মানুষ ব্যাপারটা ধীরে ধীরে একসময় মোটামুটি সাধারণভাবে না নিলেও অনেকটাই সহ্য করে নিয়েছি। যেমন, কষ্ট পেলেও হুমায়ূন মাতা পুত্রকে পুরোপুরি ত্যাগ করেননি, নুহাশও বাবার কাছে এসেছেন। মানুষই ভুল করে, হুমায়ূন শাস্ত্রের কোন প্রেরিত পুরুষ নন। কিংবা কবিতার মত ‘নীরার’ হাত ছুঁয়েছেন বলে, পাপ করতে পারবেন না এমন কেউ নন। তাঁর ভুল নিয়ে তিনি তীব্র মনকষ্টে ছিলেন তা শেষ দিকের লেখাগুলোতে বেশ স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল।

দোষ যা কিছু তা সব সন্তানদের কাছে, তা সব মহীয়সী গুলতেকিনের কাছে। এতে আপনার আমার কি! আমরা কেন ফতোয়া দেয়া শুরু করি! মেয়েরা এবং তাদের মা কেঁদে খানিকটা ভারমুক্ত হয়েছেন যেন, আমাদেরও বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর প্রতি রাগের চেয়ে অভিমান ছিল বেশী। তাঁকে কি শান্তিতে থাকতে দেয়া যায় না!

মৌলবাদীদের আরও একটা ব্যাপার হল, তারা মৃত হুমায়ূনকে বারবার মুরতাদ, কাফের ঘোষণায় আপ্রাণ প্রচেষ্টা করছেন। তাদের প্রমাণের বিষয় হুমায়ূনকে তাঁর স্ত্রী-সন্তান তাঁকে মাফ করে নি। তিনি নাকি নাস্তিক। তাঁর পাপ-পুণ্য-হাশর বিচার সব এখুনি করে ফেলছে এরা!!!! এঁদের বলি, সবকিছু নিজে সিদ্ধান্ত নিলে হয়! কিছু তো খোদার হাতে ছাড়ুন! এঁদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছে, হুমায়ূনের জানাজায় জাফর ইকবাল-এর ভূমিকা নিয়ে! এত কুৎসিত কথা কোন মৃতের নিকট আত্মীয়কে বলা যায়! এও সম্ভব! তিনি জানাজায় আল্লাহ্‌ কে ডাকুক কিংবা শুভকামনা করুক, তাতে কার কি এসে যায়! ভাইটা তোমার মরে যায় নি, মৃত মানুষটা জাফর ইকবালের ভাই। তাঁর ইচ্ছে হয়েছে, জানাজা পড়েছেন। ইচ্ছে না হলে আল্লাহকে তিনি ডাকবেন না! তাতে আমাদের কি?? এটা কোন ধরণের কথা? কতোটা অসভ্য হলে এগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়!??

একই ব্যাপার ঘটেছে প্রতিক্রিয়াশীল প্রগতিশীল ভাব ধরা মৌলবাদীদের বেলায়! তারাও হুমায়ূন সাহিত্য নিয়ে যাচ্ছেতাই শুরু করে দিয়েছে তাঁর প্রয়াণের সাথে সাথেই। জীবিত মানুষটা যেমন ওঁদেরকে প্রত্যক্ষ ভাবে ডমিনেট করেছে, তেমনি মৃত মানুষটাও ওদেরকে খুব পুড়িয়েছে!

প্রধানমন্ত্রী তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত। সাধারণ মানুষ তাঁর বই কিনত লাইন দিয়ে। সেদিন শহীদ মিনারে ফুলে আর অশ্রুতে ভিজে আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে রোদে পুড়েছি। তাঁকে একনজর দেখা যাবে না জেনেও মানুষের ঢল নেমেছিল। এটাই ওসব আঁতেলদের সমস্যা। ওরা মারা গেলে শোকসভায় শুধুই ন্যাকামি হবে। আর হুমায়ূনের মৃত্যুতে শোকসভায় কান্নার রোল পড়েছে। তাঁর শেষ ইচ্ছের ভিডিও দেখে কেউ কালেমা পাঠ করেছে, অনেকে সুরা ইয়াসিন পড়েছে। আবার তাঁর সিনেমা, নাটক বই নিয়ে ক্রোড়পত্র, টিভি লাইভ হয়েছে! আমি নিজের চোখে জিনস-টপস পড়া তরুণীর কান্না দেখেছি তাঁর জন্য, আবার মাথায় টুপি পড়া অনেক মাদ্রাসা ছাত্রও তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিল! নিউইয়র্কে অনেক পাঁড় নাস্তিকও এসে তাঁর জানাজায় যোগ দিয়েছিল! এগুলোই ভালবাসা!

ভারতে বসবাসকারী একজন প্রতিক্রিয়াশীল বাংলাদেশী লেখিকা অনেক বাজে ভাষায় লিখেছেন হুমায়ূন আহমেদের এপিটাফ! বড় চমৎকার উপহার! ধান ভানতে শিবের গীত গাইতেও তিনি ছাড়েননি। হুমায়ূন প্রসঙ্গে অসংখ্য বাজে কথার তুবড়ি ছুটিয়ে মস্তিষ্ক বিকৃতের মত সে নিজের জনপ্রিয়তা বিষয়ে ডামাডোল বাজালেন। জানালেন, তিনি নাকি অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন! নারী বলেই তাঁর জনপ্রিয়তা নাকি কেড়ে নেয়া হয়েছে!

গ্রাম-গঞ্জে একটা কথা আছে, ‘কিসের মধ্য কি। পান্তা ভাতে ঘি!’ এই লেখিকা ঠিক তাই করলেন। তিনি এই মহান লেখকের কথা বলতে গিয়ে নারীবাদ, পুরুষ তন্ত্র জাতীয় কিছু অদ্ভুত প্রসঙ্গ অপ্রাসঙ্গিক ভাবে টানলেন। হুমায়ূনকে অপমান করতে গিয়ে ভুলে গেলেন তিনি একজন বাংলাদেশী মানুষ। তিনি নিজেকে অতিমাত্রায় ‘বাঙালি’ ভেবেছিলেন হয়তো, তাই তিনি ছোট্ট এই দেশকে মূর্খ বানিয়ে ছাড়লেন!
তিনি প্রশ্ন তোলেন, গুলতেকিন বিয়ে করেন নি কিংবা দু’ফোঁটা জল ফেলেছে বলে তাঁকে আমরা ‘সতী’ আখ্যা দিচ্ছি কেন? তার উত্তরে বলি, “গুলতেকিন বিয়ে করেননি কিংবা সতি থেকেছেন কিনা ; কিংবা তার চোখের জল......... কোন কিছুই এখানে গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তার লেখক স্বামীর প্রতি অকৃত্তিম প্রেম।”

এখানেও কেন নারীবাদী ব্যাপার খোঁজা হচ্ছে বুঝি না! নারীবাদ কি তবে প্রেম, ভালবাসা বা ঔদার্য থেকে নারীকে দূরে থাকতে বলেছে নাকি!!! অদ্ভুত চিন্তা এই লেখিকার! মানুষের মাঝে ভালোবাসা বলে একটা ব্যাপার আছে, তা সব কিছুর ঊর্ধ্বে। এই তথ্য কি তিনি জানেন না? সেখানে নারীবাদ-পুরুষবাদ এসবের কোন স্থান নেই।

একটা ছোট্ট প্রশ্ন। দুজন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া হল। এদের মাঝে একজন যদি ভালো করে তখন ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়? সে ভালো লিখছে বলেই ভালো করেছে, তাইনা? কিন্তু যদি এমন হয় তাদের একজন মেয়ে, একজন ছেলে। তখন যদি ছেলেটা ভালো ফল করে এবং নারীবাদীরা বলে বসে, ‘এটা নারীর অধিকার হরণ!’ সেটা কি হাস্যকর না? তেমনি যদি মেয়েটা ভালো ফল করে, তখন অনেক নারী বিদ্বেষী দুর্মুখ যদি বলে, ‘নারী বলে বিশেষ(!) উপায়ে সে ভালো করেছে’- এটাও কিন্তু হাস্যকর, নোংরা কথা হয়ে যায়।

এই ব্যাপারগুলি এড়ানো গেলে অনেককিছুই সহজ হয়ে যেত। সারাক্ষণ কোন নারীর 'আমি নারী' এরকম চিন্তা করাটা স্বাস্থ্যকর নয়। নিজেকে মানুষ ভাবতে শিখলেই ভাল হয়। সারাক্ষণ 'আমি মেয়ে' ভাবাটা আজব একটা ব্যাপার। তেমনি ছেলেদেরকেও এগিয়ে আসা দরকার। নারীর সম্মান দাও, কিন্তু নারী বলে তাকে হেয় করো না। নারী বলেই নারীকে সম্মান করা হোক। তাহলে এরকম খারাপ ব্যাপারগুলি থেকে অনেকটা দূরে থাকা যায়। এরকম কিছু পাগলাটে নারীবাদীদের মত আমরা সাধারণ নারীরা অদ্ভুত উপায়ে অধিকার আদায় করতে গিয়ে গোটা নারী জাতিকে অপমান করতে চাইনা!

সবশেষে একটা কথা, যারা শুধু হুমায়ূনের দোষ নিয়ে পড়ে থাকেন, আপনারা কেন চেষ্টা করেন না? পারলে হুমায়ূন কে ছুঁয়ে দেখান! তিনি হিমালয়ের উচ্চতায়। তাঁকে নিচে না নামিয়ে, আপনি সাহিত্য চর্চা করে আরও উপরে কেন ওঠেন না? আমরা ভালো কিছু পড়তে চাই। সাহিত্যের নামে চটি পড়তে চাই না, আবার 'মীনক্ষোভাকুল কবুলয়' জাতীয় জটিল বাক্যের জালেও আটকাতে চাই না!!!!

পারলে হুমায়ূনের মত মানুষের মনে প্রবেশ করুন। পারলে কিছু ‘অপন্যাস’(!) লিখে ‘মূর্খ’(!) এই পাঠক সমাজকে কাছে টানুন না! আমাদের শুধু ফ্যাসিবাদ আর পুঁজিবাদ ভালো লাগে না! আমাদের তো জ্ঞান কম! তাই জটিল তত্ত্ব শোনালে শেষে না আমরা বিগড়ে যাই!

আমরা বরং হিমুই হতে চাই। যখন বেকার যুবক আধপেটা খেয়ে পথে হাঁটে, তাঁর জটিল তত্ত্বগুলি লবণ মেখে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে, খুব পড়ার চাপ থাকলে তরুণীর কাছে দর্শন কপচালে ভালো ফল আসবে না।

দয়া করে, যদি পারেন বাকের ভাই, শুভ্র , হিমু আর মিসির আলীকে জীবিত করুন! পারলে এরচে’ আরও ভালো কিছু করে দেখান! কিন্তু শুধু শুধু আমাদের ভালবাসার লেখক এবং সাদাসিদে এক শহীদের পুত্র কাজলের সমালোচনা করে তাঁর আত্মায় কষ্ট দেবেন না। যদি পারেন তো আমাদের জোসনা ও জননীর গল্প শোনান। আমরা অভুক্ত একদল বুভুক্ষু পাঠক বসে আছি, আমাদেরকে শান্ত করুন! যত বড় বড় বাক্য সেমিনারে বলে বাহবা পেয়ে থাকেন না কেন, আমরা যারা একদল মিসগাইডেড(!) ছেলেমেয়ে বিদেহী আত্মা নিয়ে জোম্বি হয়ে বেঁচে আছি, তাদেরকে জীবিত করার দায়িত্ব কি আপনাদের উপরেই বর্তায় না বিজ্ঞ লেখক সমাজ?

6Comments

1
uralponkhi
Wed, 22/08/2012 - 5:49pm

rr

2
dark.horse
Mon, 20/08/2012 - 8:18pm

Humayun Ahmed er jonoprito niye lekhika kono prosno tule ni, as an entertainer Humayun Ahmed 10/10 no doubt. You can not deny her logics too. Think as a neutral person.

Few people sais "choti lekhikar sahosh hoi kivabe Humayun Ahmed er somalochona korar", amar logic hochche choti pathok ra jodi Humayun ke niye alochona-somalocjona korte pare tahole se parbe na keno? Bangladeshi ba apnar vasai Bangali hisabe tar o right ache.Apni nije ki janen Bangali r Bangladeshir modhdhe parthokko?

Apni to mukmoner hisabe nijeke dabo korchen taina?Gultekin jodi tar meyer classmate ke biye korto tahole apni ba media kivabe mene nito?eita to sotti Bangladesher media is a piece of shit. Bangladesher media faltu khobor ke pradhanno dei abar boro khobor er coverage o kore na.

Taslima Nasrin jonopriyo dabi korchen karon tini jonopriyio, deshe-bideshe manus take chine,tar lekha choti sobai pore taina? tar lekha boi e Imdadul Hoque Milon, Samsul Hoque, Sunil ke niye jesob lekha silo tar jonno apni ba onno kew kintu tader dhikkar dei ni?dhikkar diyechen Taslima ke? keno?

Aaj 19 bochor holo Taslima desh chara, er jonno apnader moto manuser moner kone etotuku dukhkhobod nai, othocho apnader moto manus rai Golam Azam ke akhono deshe bohal tobiyote thakte disen:) esos vable apnader moto manuser logic r gyaner proti hashi ase.

apnader moto manosikothar manusra ki kokhono onnayer protibad koreche? Babri mosjid niye deshe je hinduder upor faltu karoner hotta,lutpat,dhorson holo.........apnara ki kew rastai nemechen protibad korte ba kolom dhorechen? kintu Taslima Nasrin er kolom ekai sei joghonno onnayer protibad korechilo, LOJJA likhe. Apnader vasai seta choti................kintu asole seta protibad. apnara sei boi ke banned korlen,karon sei boi porle naki Bangladeshe shamprodayik danga ro bere jabe,asole apnara dekhate chan je asole hindu der upor kono ottachar i hoi ni.kothai chilo apnader media sei somay? kono ki sotto khobor prokash koreche? Bangladeshe koto hajar mondir vanga hoise sei hisab ki apnar media ba Govt. diyeche?koekdin ageo Dinajpur e faltu karone 30 ta hindu poribar er upor abar akromon holo, paper er konai akta choto khobor chapa holo tao asol sotto gopon kore. Hinduder upor musolmander akromon er jaigai lekha holo BNP r AL eke onno ke dosarop korche hinduder sathe maramari te :P

Humayun Ahmed ke choto korar amar kono ichcha nai tobe Taslima Nasrin ke jara choti lekhika vabe tader ek haat neyar lov samlate parlam na.

mon manosikota ro sundor korun.

3
uralponkhi
Tue, 21/08/2012 - 4:28am

আসলে কালা-কুত্তা। কালা-কুত্তা আবার আইসে, ডরায়েন না। আমরা সবাই কালা কুত্তার স্বভাব জানি। কতদিন সে ঘেউ ঘেউ করব, তারপর ভাগব।

4
dark.horse
Tue, 21/08/2012 - 6:46pm

kala kutta asole ke?ami dark.horse pad dileo tor moto kutta ra sukhte chole ase.........ha ha ha

5
uralponkhi
Wed, 22/08/2012 - 5:51pm

তুই তো মালাউন কুত্তা। কর্তার বাড়ীর দরজায় ঘুরিস ও তাদের ফেলে দেয়া পরিত্যাক্ত খাবার খেয়ে বেচে থাকিস। রে পাপিষ্ঠ্য কুত্তা/ পাপিষ্ঠ্যা কুত্তি এবার ভালো হয়ে যা.....

6
dark.horse
Wed, 22/08/2012 - 7:31pm

uralponkhi namer jontu ta dekhi kukur somporkhe valoi jane :) asole kukur r ponkhir songkor holo KUKURPONGKHI :) ajke theke tor nick change kore KUKURPONGKHI rakh tahole sobar subidha hobe.

Barma te dekhsos to ki choltase?toder mohammad to parlo na bachaite r parbeo na:P