Environment

Salam.Salehuddin's picture

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা কতটা সক্ষম

প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ দেশে আমাদের বসবাস। দুর্যোগ মোকাবেলা করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়। খরা, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো নদী ভাঙন এসব সামাল দিয়েই আমাদের নিত্য পথচলা। সারা বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগের কবলে পড়ি আমরা। এক দুর্যোগ সামাল দিই তো, আরেক দুর্যোগ হামলে পড়ে। বিপন্ন করে দেয় জীবন সংসার। বাঙালি দুর্যোগকে ভয় পায় না, জীবনসংগ্রামেও তারা পরাজিত হয় না। একের পর এক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির নিষ্ঠুর ছোবল থেকে হয় তারা পরিত্রাণ পায়, না হয় বিপদগ্রস্ত হয়। এভাবেই তাদের জীবন চলে অথবা থেমে যায়।
flood
নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় নদীর প্রতি আমরা যেমন আকৃষ্ট হই, মুগ্ধতা নিয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে প্রাণ জুড়াই, আবার এ নদীই
আমাদের গ্রাস করে। নদীকে তখন আমরা সর্বনাশা বলি। নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে এ দেশের লাখ লাখ মানুষ। একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এই তো নদীর খেলা_ এই নিষ্ঠুর সত্যের মুখোমুখি যারা হয়েছেন, তারাই বোঝেন এর মর্মজ্বালা। শত বছরের প্রাচীন বসতভিটা, গাছপালা, ফসলি জমি সবকিছুই মুহূর্তে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, মানুষকে করে নিঃস্ব। নদীর নিষ্ঠুরতা যারা প্রত্যক্ষ করেননি তারা উপলব্ধিতে আনতে পারবেন না, নদী ভাঙন কতটা ভয়ঙ্কর। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, কর্ণফুলী, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু, গড়াই, মধুমতি_ এসব নদনদী বাংলাদেশের প্রাণ হলেও জীবন-সম্পদ ধ্বংসেরও কারণ।

বন্যা আসে, বন্যা যায় যেন কোনো ব্যাপার নয়!

জল জঙ্গলে নাব্য এ দেশে আর্যরা থাকতে পারেনি। আমরা কিন্তু দিব্যি আছি। এ দেশের অনার্যরা একটুও পছন্দ করেনি আর্যদের। ওরা তাই ঐতরেয় ব্রাহ্মণ-এ লিখে গেছে যে, এ দেশের মানুষ বয়াংসি, ব্রাত্য, দস্যু ইত্যাদি ইত্যাদি। যাই হোক, নিজ ভূমি বলে কথা! তা এখানে বন্যাই হোক, আর খরাই হোক; আকাল আসুক বা যুদ্ধ বাধুক, সুনামি হোক বা দুর্নীতি হোক, আমরা কিন্তু মাটি কামড়ে থাকি। এখন জঙ্গল পাতলা হয়েছে, নদী-নালায় পানি কমেছে, মানুষ বেড়েছে, মাছ কমেছে, শস্য উৎপাদন বেড়েছে, হাঁস-মুরগির খামার বেড়েছে, রোগ-শোক বেড়েছে, আধুনিক শিক্ষার হার বেড়েছে এবং বেড়েছে জীবনের নানাবিধ যন্ত্রণা। আমরা ভূমিজ বাসিন্দারা যাইনি কোথাও।
flood
ঝড়-বন্যা আমাদের কাবু করে। তারাও অবশেষে ফিরে যায় কাবু হয়ে। আমরা মাথা তুলে দাঁড়াই আবার। কষ্ট করি। ক্ষতি হয় প্রচুর। তবু নিজের দেশ ফেলে যাই না। কোথায়ই বা যাব দেশ ফেলে? সোনার বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্পদ তো একান্তই আমাদের। তবু সমৃদ্ধ করতে পারছি না দেশটাকে, সে আমাদের সার্বিক অর্বাচীনতা। সে কারণেই বন্যা রাক্ষুসী আমাদের প্রতি বছরের অবাঞ্ছিত অতিথি।

সর্বনাশা প্লাবন : সর্বস্ব হারাচ্ছে শত শত মানুষ

টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অস্বাভাবিক জোয়ারে দেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের চরাঞ্চল ও নিম্ন এলাকা ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। যমুনা ও তিস্তাসহ বেশ কিছু নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপদাপন্ন হয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ। সর্বনাশা প্লাবনের পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে নদী ভাঙন। শত শত মানুষ নিমিষেই সর্বস্ব হারাচ্ছে নদীর আগ্রাসনে। দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তরিতরকারির ফসলও নষ্ট হচ্ছে ব্যাপকভাবে। কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজি পণ্য দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে এর ফলে।
river
দেশের অন্যতম প্রধান নদী যমুনায় পানি বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারিয়াকান্দিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। পানির প্রবল তোড়ে চন্দনবাইশা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। যমুনা তীরবর্তী ধলিরকান্দি থেকে রৌহাদহ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে। কামালপুরের রৌহাদহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে স্লাব ধসে পড়ছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Mukit.Majumdar.Babu's picture

ভাঙছে নদী ভাঙছে মানুষের স্বপ্নসাধ

ভাদ্র মাসের ভরা নদী। চলার পথে ভাঙছে গ্রামের পর গ্রাম, স্কুল-কলেজ, আবাদি জমি, খেলার মাঠ, ফলদ বাগান, গ্রামরক্ষা বাঁধ, হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নদীর করাল গ্রাস থেকে বাদ যাচ্ছে না কিছুই। ক্ষুরধার উত্তাল নদীর স্রোতের তোড়ে ভেঙে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে মানুষের স্বপ্নসাধ। হাজার হাজার আশ্রয়হীন অসহায় মানুষ উঁচু বাঁধে, স্কুলে কিংবা শহরের ফুটপাতে খুঁজে নিচ্ছে আশ্রয়। তাদের পেটে ভাত নেই, সুপেয় জল নেই, মাথার ওপর ছাদ নেই। ক্ষুধায় কাতর অসহায় চোখ খুঁজে ফিরছে আগামী দিনের ঠিকানা। নদীর কাছে মানুষ আজ কত অসহায়!
River
দেশের অধিকাংশ নদীর পানি ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে এবং বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে একাধিক নদীর পানি। ভরা যৌবনে নদী যে সর্বগ্রাসী হবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু উন্নয়নের নামে নদীকে শাসন করতে গিয়ে নদীকে আমরা আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছি। অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের নামে বাঁধ, সেতু, বেড়িবাঁধ, খাল খনন ইত্যাদি করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করছি, বহমান স্রোতধারা থামিয়ে দিচ্ছি, স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছি, সাগরপানে ছুটে চলাকে থামিয়ে রাখছি, দেশের সীমানায় বন্দি করে রাখতে চাইছি শুধু নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে।

Mukit.Majumdar.Babu's picture

সবুজে বাঁচতে 'সবুজ কর'

সভ্যতার অগ্রগতিতে শিল্পায়নের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমাদের চলন-বলন, জীবনযাপনের সঙ্গে শিল্পায়ন এমনভাবে যুক্ত হয়েছে যে, তাকে পাশ কাটিয়ে কোনোভাবেই বর্তমান এবং আগামীর পৃথিবী কল্পনা করা যায় না। শিল্পায়ন আমাদের চলার পথকে যেমন মসৃণ করে গতি দিয়েছে, তেমনি প্রাকৃতিক বিপর্যয়কেও করেছে ত্বরান্বিত। তবে তার জন্য শিল্পায়নের চেয়ে আমাদের অসচেতনতা আর অর্থলিপ্সু মনোভাবই বেশি দায়ী। কোটি কোটি টাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে ঘরে লাভ তুলছি; কিন্তু পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকাতে একটি শোধনাগার বা ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপন বা কার্যকর করছি না।
Green tax
বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের দুই শতাধিক ট্যানারি ও ডাইং কারখানায় ইটিপি নেই। আর তাই রাজধানীসহ চারপাশের জেলা, বিভাগীয় শহর এমনকি জেলা শহরগুলোতেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দূষিত পানির আগ্রাসন। এই দূষিত পানির কারণে জলজ জীববৈচিত্র্য যেমন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি আমরাও নানা ধরনের জটিল ও কঠিন অসুখে আক্রান্ত হচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে চলছে পরিবেশ দূষণের এ প্রক্রিয়া।

Mir.Abdul.Alim's picture

জলজট নিরসনে চাই পরিকল্পিত নগরায়ন

বৃষ্টি হলেই রাজধানী ঢাকা আর বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পানিতে নাকাল হয়। এটা দুই নগরের বহু বছরের পুরনো সমস্যা। এখানকার অধিবাসীদের দুর্ভোগ কেউই লাঘব করতে পারছে না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে নগরবাসীর কাছে বর্তমান নগর পিতার জলজট নিরসনে ওয়াদা ছিল। আর রাজধানী ঢাকায় তো নগর পিতাই নেই। নগর ভবন আছে দুই-দুইখানা। দলীয় বিবেচনায় আছেন দুজন প্রশাসক। সিটি করপোরেশন ভাগ হয়েছে বহু আগে। বেড়েছে জনবল আর ব্যয়। তাতে কী? এতটুকুও বাড়েনি নগরজীবনের সুখ? অভিভাবক ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে লালিত হচ্ছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তাই স্বল্প বৃষ্টিতেই এখন নাকাল ঢাকা। জলজটের সঙ্গে ঢাকায় আছে যানজটও। বৃষ্টির ময়লা পানিতে ঢাকা ডুবলেও নগরবাসীর পানীয় জলের অভাব কিন্তু লেগে থাকে বছরজুড়েই। এভাবে কি নগর জীবন চলে? ক'দিন ধরে কী দেখছি? জলাবদ্ধতায় ডুবন্ত চট্টগ্রাম। ঢাকা নগরীও পানির তলায়।
rain
ভরসা কোথায়? আদৌ কি নগরজীবনের জলাবদ্ধতা দূর হবে? পরিকল্পিত নগরায়ন হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না; ড্যাব বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না; নগরের খালগুলো দখলমুক্ত হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। বাস্তবে রাজধানী ঢাকায় খাল আছে, কোথায় আছে তাই জানে না নগরবাসী। প্রশ্ন হলো, ড্যাব বাস্তবায়ন হলে ভূমিদস্যুদের কী হবে? এক টাকার পুকুর আর জমি কিনে ১০০ টাকায় বেচার স্বপ্ন যে তাহলে তাদের ভেস্তে যাবে। নগরের খালগুলো তো রাঘববোয়ালদের দখলে আছে। এগুলো দখলমুক্ত করে এ সাধ্য কার?

Milton.Biswas's picture

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয়

বাংলাদেশের কয়েক লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা অববাহিকার ১৫টি জেলার লাখ লাখ মানুষ মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। গেল সপ্তাহের ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সময় এসেছে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। বন্যার কারণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আরো কয়েক দিন সারা দেশে ভারী বর্ষণ হলে এসব এলাকার নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে এসব এলাকায় স্থায়ী বন্যার আশঙ্কাও সঙ্গত কারণে অমূলক নয়।
bangladesh
সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করতে হবে। বন্যার দুর্যোগ মোকাবিলা করার ত্বরিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার। অন্যদিকে ১৮ আগস্টের সংবাদ থেকে জানা গেছে, ভারতের আসামের উত্তরাখন্ড বন্যায় মৃতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতির অবনতি আমাদেরও উৎকণ্ঠিত করে। কারণ একই নদীর প্রবাহ রয়েছে উভয় দেশে।

Ainun.Nishat's picture

নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ নেপাল ভারত সমন্বিত উদ্যোগ চাই

কয়েকদিন আগে সব পত্রিকাতেই একটি খবর দেখলাম। খবরটি হলো, পানিবিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে নেপাল ও বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তথা যৌথ নদী কমিশনের উপস্থিতি ছিল কি-না তা বুঝতে পারলাম না। হয়তো ছিল, হয়তো ছিল না। যেহেতু খবরে তাদের কথা উল্লেখ নেই, তাহলে ধরে নেওয়া যায়, তাদের উপস্থিতি কোনো মুখ্য ভূমিকার জন্য ছিল না। একই সঙ্গে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, ওই বৈঠকে ভারত কেন অনুপস্থিত ছিল? গঙ্গাসহ কয়েকটি প্রধান নদী নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশ_ তিন দেশের মধ্যে প্রবাহিত হয়েছে। অথবা নেপালের নদীগুলো ভারত-বাংলাদেশের নদীর উপনদী হিসেবে অবদান রাখছে। তিন দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও একত্রিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সে কথাও সবাই বলার চেষ্টা করে আসছি। এখন নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে পানিবিদ্যুৎ বিষয়ক আলোচনায় ভারতের অনুপস্থিতির বিষয়টি আমরা যারা পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবি, তাদের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ।
River
আমরা সবসময় বলে আসছি, একটি নদীর পানির ব্যবস্থাপনা হতে হবে অববাহিকাভিত্তিক। অর্থাৎ নদীটা যেখানে শুরু হলো, সেখান থেকে যেখানে শেষ হলো, অর্থাৎ সাগরে। সেই পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ পরিকল্পনায় আনতে হবে।

Mir.Abdul.Alim's picture

নতুন ভবন হেলে পড়ছে :ভূমিকম্প হলে কী হবে?

দেশে ভবন ধসের ঘটনা বেড়েই চলছে। একটি ভবন আরেকটির গায়ে হেলে পড়ছে। ধসে পড়ছে ভবন। ভবনের দেয়ালে। মেঝেতে ফাটল দেখা দিচ্ছে। ইতোপূর্বে ভবন ধসে বহু হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে সাভারের রানা প্লাজা, রাজধানীর বেগুনবাড়ী ও পূর্ব নাখালপাড়ার ভবন ধস। সর্বশেষ ১২ আগস্ট ভোরে পুরান ঢাকার বংশালের ৯৯/১ সিদ্দিকবাজারে চারতলা একটি ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং হেলে পড়ে। এ খবর পেয়ে পুলিশ এসে দ্রুত ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দেন। ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঐ ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়ার পর পাশের আরো দুটি টিনশেড ঘরেও ফাটল দেখা দেয়। ঐ ৩টি ভবন সিলগালা করে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
Building
এর আগে ২৭ মে, ২০১৪তে রাজধানীর কল্যাণপুরে হেলে পড়ে মিজান টাওয়ার। এভাবে কোন প্রকার ভূমিকম্প ছাড়াই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবন হেলে পড়ছে; ধসে পড়ছে। সমপ্রতি কালে এ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ ব্যাপক নির্মাণ ত্রুটি নিয়ে দেশে অসংখ্য বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। আছে জরাজীর্ণ ভবন। ভূমিকম্পজনিত কোন কারণ ছাড়াই যখন এসব ভবন হেলে পড়ে তখন প্রশ্ন, ভূমিকম্প হলে কী হবে?

Hasnat.abdul.Hai's picture

নদীতে মৃত্যু

নদীমাতৃক বাংলাদেশ। অসংখ্য নদ-নদীর এই দেশে অনেকের জীবন ও জীবিকা গড়ে উঠেছে নদীকে কেন্দ্র করে। যারা জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষভাবে নদীর ওপর নির্ভর করে না, তারাও নানাভাবে নদীর উপকার গ্রহণ করে। মানুষের যাতায়াতের জন্য নদী ভূমিকা রেখেছে আবহমানকাল থেকে। নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার নৌপথের বাহন হিসেবে বহুল ব্যবহৃত। কোনও কোনও গন্তব্যে এসব যানবাহন ছাড়া অন্য বিকল্প নেই। বাস, ট্রেনের সংখ্যা বাড়লেও নদীপথে যাতায়াতের ওপর এর প্রভাব পড়েনি। চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নদীপথে যাতায়াতের মাধ্যমগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নৌকা, লঞ্চ, স্টিমারের উপস্থিতির জন্য খোলামেলা নদীর দৃশ্য এখন বিরল।
lonch
নদীপথে যাতায়াত যেমন বেড়েছে, তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে নদীতে দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু। প্রতি বছরই নৌকা আর লঞ্চডুবিতে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। নৌকাডুবিতে মারা যায় কয়েকজন, লঞ্চডুবি হলে মৃত্যুর শিকার হয় শত শত। মৃতের এ সংখ্যার জন্যই প্রতিটি লঞ্চডুবি হয়ে দাঁড়িয়েছে এক নিদারুণ ট্র্যাজেডি। এমনি এক ট্র্যাজেডি সংঘটিত হলো পদ্মায়, মাওয়া নদীবন্দরের অদূরে। প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে পিনাক-৬ নামের লঞ্চ নিখোঁজ। নিখোঁজ যাত্রীদের জীবিত দেখার আশা ছেড়ে দিয়েছে তাদের আত্মীয়স্বজন।

Syndicate content