Education

আজুমা: বঙ্গপ্রেমী অনন্য এক বিদেশি

বাংলাদেশের প্রতি সত্যিকার অর্থে যাঁরা গভীর মমত্ব পোষণ করেন, সে রকম বিদেশির সংখ্যা বলা যায় একেবারেই হাতেগোনা। বিদেশিদের মধ্যে অনেকেই অবশ্য বাংলাদেশকে ভালোবাসা কিংবা দেশটিকে হূদয় দিয়ে অনুধাবন করতে পারার কথা বলে থাকেন। তবে সে রকম বক্তব্য কতটা আন্তরিক এবং কতটা তা কেবল বলতে হয় বলে বলা, সেই প্রশ্ন এখানে থেকেই যায়। কেননা, বছরের পর বছর ধরে কোনো রকম প্রাপ্তির ভাবনা-চিন্তা মাথায় না এনে আমাদের দেশকে যাঁরা ভালোবেসেছেন, তেমন বিদেশির খোঁজ যে খুব সহজে মেলে, তা তো নয়। সে রকম এক বিরল চরিত্রই ছিলেন জাপানের সদ্যপ্রয়াত রবীন্দ্র গবেষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কাজুও আজুমা। অধ্যাপক আজুমার প্রথম ভালোবাসা ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গুরুদেব সম্বোধন ছাড়া অন্য কোনোভাবে কবিকে উল্লেখ করা তাঁর মুখ থেকে কখনো শোনা যায়নি। রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসার সেই সূত্র ধরেই বাংলাদেশকে তাঁর জানা এবং সময়ের বিবর্তনে দেশটির প্রতি অনেকটা একই রকম ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়া।

Abu.Sayeed.Khan's picture

উৎপাদন ও কর্মমুখী কারিকুলামেই অগ্রগতি

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে সম্প্রতি। কৃতকার্য ছেলেমেয়েদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ_ প্রত্যাশিত বিষয় ও পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আশ্বাস দিয়েছেন, সারাদেশে কলেজগুলোর যে ধারণ ক্ষমতা আছে তাতে আসন সংকট হবে না; তবে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা হবে। আমরাও ধরে নিচ্ছি, কৃতকার্য শিক্ষার্থীরা কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে। তবে দেখা যাবে_ যে ডাক্তারি পড়তে চাইছে তাকে ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা যে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাইছে তাকে হয়তো পদার্থ বা রসায়ন বিজ্ঞানে ভর্তি হতে হবে। এমনকি ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছা আছে, এমন শিক্ষার্থীকে হয়তো ইতিহাস বা সাহিত্যে পড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নিজস্ব পছন্দ বা প্রত্যাশার মূল্য সামান্যই। এটি শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক অদ্ভুত নিয়ম চালু করেছে। সেটি হলো অনুষদ বা ফ্যাকাল্টিই নম্বর অনুসারে শিক্ষার্থীর জন্য বিষয় ঠিক করে দিচ্ছে। হয়তো একজন শিক্ষার্থী ইংরেজি সাহিত্যে পড়তে চাইল, কিন্তু বাস্তবে তাকে পালি কিংবা ইতিহাসে পড়তে হয়। নম্বরই এখানে মুখ্য। এই নম্বরের কারণে বিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির কোনো ছাত্রকে কলা কিংবা সোশ্যাল সায়েন্সে আসতে হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে শিক্ষার সঙ্গে মনের যোগ থাকে না সে শিক্ষা কতটুকু স্বাস্থ্যকর এবং এমন শিক্ষায় একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে কতটুকু সাফল্য দেখানো সম্ভব?

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার চালচিত্র ও একজন রুনু

দু'হাজার এগারো সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল জুলাইয়ের ২৮ তারিখে প্রকাশের পর প্রতিবছরের মতো এবারেও দৈনিকের পৃষ্ঠায় বিস্তারিত ফলাফল ও উৎফুল্ল ছাত্রছাত্রীর ছবি মুদ্রিত হয়েছে। এই গতানুগতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার বিভিন্ন দিক সাধারণ পাঠকের পক্ষে জানা সম্ভব হয়।

সাধারণ বাস্তবচিত্র হিসেবে সফল শিক্ষার্থীদের হাস্যোজ্জ্বল মুখ এবং অপেক্ষাকৃত তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করতে না পারা ছাত্রছাত্রীদের বিবর্ণ মুখ ভেসে উঠেছে। তার চেয়েও দুঃখজনক ঘটনা হলো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগের দিন এক ছাত্রী নিজের খারাপ ফলাফলের কথা চিন্তা করে বাবার আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

Fazlul.Haque's picture

কোচিংনির্ভর শিক্ষা আর কত দিন?

যে কয়টি কারণে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা অবনতির মুখে পড়েছে, কোচিং-বাণিজ্য এর মধ্যে অন্যতম। এই বাণিজ্যে যাঁরা জড়িত, তাঁদের অনেকেই পেশায় শিক্ষক; আবার কেউ অন্য কোনোখানে চাকরি না পেয়ে এতে নেমেছেন। একেবারেই শিক্ষাসংশ্লিষ্ট না হয়েও কেউ কেউ চালাচ্ছেন অপ্রতিরোধ্য শিক্ষা-বাণিজ্য। বাণিজ্য চলছে তিনভাবে—ভর্তি কোচিং, একাডেমিক কোচিং ও বিসিএস কোচিং নামে। ভর্তি কোচিং চালু রয়েছে শিশুশ্রেণী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত, একাডেমিক কোচিং চলে শ্রেণীকক্ষের পাঠ ও পরীক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা—সব পর্যায়েই আর পাবলিক সার্ভিস কমিশনে পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরি লাভের প্রস্তুতির জন্য চলছে বিসিএস কোচিং।

ভর্তি কোচিং শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবার জন্য বাড়তি ব্যয়, টেনশন, আর প্রচুর ঝামেলা বহন করে চলেছে। অঞ্চলভেদে জনসংখ্যা অনুযায়ী স্কুল প্রতিষ্ঠা আর সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অভিন্ন পাঠব্যবস্থা ও অবকাঠামোয় দাঁড় করাতে পারলে অবুঝ শিশু এবং তাদের অসহায় অভিভাবককে ভীষণ পীড়া থেকে মুক্তি দেওয়া যায়। প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষালাভের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমুন্নত রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের; তাকে কেন জীবনের শুরুতেই নামতে হবে প্রতিযোগিতা নামক মহাসমুদ্রে!

Mostafa.Hussain's picture

শিক্ষার্থীর সাফল্যে উৎফুল্ল সবাই

এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় এক-চতুর্থাংশ পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার তালিকা সামনে নিয়েও হাসছে বাংলাদেশ। যুক্তি আছে এই উল্লাসের। কারণ, উত্তীর্ণ হওয়ার সংখ্যা ও হার রেকর্ড তৈরি করেছে বাংলাদেশে। রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও।

একসময় যেখানে এক-তৃতীয়াংশ পরীক্ষার্থীও পাস করত না, সেখানে এখন এক-চতুর্থাংশ মাত্র অকৃতকার্য হচ্ছে। এটি একটি ভালো সূচক। আবার, সামগ্রিক বিষয় চিন্তা করলে এতটা উৎফুল্ল হওয়ার সময় এখনো আসেনি। কারণ, বাংলাদেশের মতো গরিব একটি দেশে বাবা-মাকে তাদের সন্তানের পেছনে যে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, সেই ব্যয়ের অনুপাতে সুফল তাদের হাতে যাচ্ছে কি না, তা তলিয়ে দেখা দরকার।

Ajay.DasGupta's picture

শিক্ষাক্ষেত্রে অবক্ষয় রোধ করতে হবে

শিক্ষার সাথে আনন্দের যোগ নিবিড়। আনন্দহীন শিক্ষা ব্যবস্থায় মানুষ সার্টিফিকেটধারী হতে পারে, শিক্ষিত হয়ে ওঠে না। অথচ আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা স্কুলগামী, বিদ্যালয়মুখী ছাত্র-ছাত্রীদের কাঁধে বা পিঠে চাপিয়ে দেয়া বই-পুস্তকের মত ভারি ও দুঃসহ। এ বোঝা যে তাদের ওপর কেন চাপিয়ে দেয়া হয় এবং কবে এ থেকে মুক্তি কেউ জানে না। যে কোন দেশের প্রকৃত মানদণ্ড বা রুচির পরিচয় মেলে তার শিক্ষিত সমাজের আচরণে। সেদিক থেকেও আমাদের ছবিটা সুখকর কিছু নয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, কথিত শিক্ষিতদের হাতেই দেশ ও জনগণের নাকাল অবস্থা। যেদিকে তাকাবেন সর্বত্রগামী নৈরাজ্য আর হতাশার হোতা কিন্তু শিক্ষিতরাই। কোন চাষী, মজুর, শ্রমিক বা হকার ফেরিওয়ালা দেশের ক্ষতি করেছেন এমন শুনেছেন কখনো? ক্ষতি করার মত শক্তি বা স্পর্ধা কোনটাই তাদের নেই। দেশের সবচেয়ে জরুরি খাত বা বিষয়ে নিরন্তর অবদান রাখতেই ব্যস্ত তারা। ফসল ফলিয়ে, পোশাক বানিয়ে, ইট-সুরকিতে বিল্ডিং ব্যবসার রমরমা ঘটিয়ে, ঘরে ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যুগিয়ে দেশ ও জাতিকে সচল রাখা এই শ্রেণীকে আমরা বলি অশিক্ষিত আর মূর্খ।

সিয়ামের সাধনা ও হাট-বাজার সমাচার

বছর ঘুরে রমজানের রোজা এবং ঈদ আবার সমাগত। আর তাই এরই মধ্যে গরম হওয়া শুরু করেছে দেশের সব হাট, বাজার। তার সাথে তাল মিলিয়ে গরম হচ্ছে মানুষের মেজাজ, মর্জি, চাহিদাও। সুদূর প্রবাসে বসেও অনুভব করছি সেই উত্তাপ। কারণ স্বদেশের জন্যেই তো এই আমরা, আর স্বদেশই যে আমাদের সবচেয়ে প্রিয়জন, তা আমরা যেখানে যত দূরেই থাকি না কেন। লক্ষ-কোটি মাইল দূরের নক্ষত্রমালাকে ‘দূরবীনে’ যেমন দেখা যায় অতি চমৎকার তেমনি সহস্র মাইল দূরের দেশে বসেও স্বদেশকে দেখা যায় পরিষ্কার ‘মনের দূরবীনে’। এই দেখাতে বরং অধিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে আপাতঃ অদেখা অনেক কিছু, অনেক বিষয়। আবিষ্কার করা যায় এমন অনেক বিস্ময় যা দেশে থেকে সব সময় বুঝে ওঠা সম্

সবার জন্য শিক্ষা এবং বাস্তবতা

বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে বর্তমানে দেশে দরিদ্রের হার ৩১.৫ শতাংশ। ১৯৭০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮০ শতাংশের বেশি। দারিদ্র্য নিরসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ অগ্রসরমান একটি দেশ। বিভিন্ন মত এবং সূত্র অনুযায়ী এ তথ্য সঠিক নয় বলে অনেকের দাবি। সূত্র মতে, দারিদ্র্যের সংখ্যা এখনো বাংলাদেশে ৪১ শতাংশের মতো হবে। এর পরও বলা যায়, বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষকদের অভয়াশ্রম!

শুধু কাগুজি ডিগ্রি অর্জন করলেই তাকে শিক্ষিত বলা যায় না। বহু শিক্ষিত, না আসলে ডিগ্রিধারী মানুষের আচার-ব্যবহার দেখলে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। মানুষ মূলত রিপুবশ প্রাণী। শিক্ষার আলোই শুধু পারে রিপুগুলোকে পিটিয়ে-পুড়িয়ে বশে আনতে। তখন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে মানুষের সুকুমার বৃত্তিগুলো। মানুষের মধ্যে জেগে ওঠে দায়দায়িত্ব, সততা, ন্যায়পরতা, মানবতা, জবাবদিহিতা, কর্তব্যপরায়ণতা, সুস্থ চিন্তা, দেশপ্রেম ইত্যাদি। এসব কথা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। এখন কেউ বলেও না। শোনেও না। ছোটবেলায় শুনেছি গুরু পরম ভক্তির মানুষ। সাত্তি্বক গুরু পিতার মর্যাদায় সমাসীন। এখনো শিক্ষককুলের প্রতি অগাধ ভক্তি-শ্রদ্ধা আমাদের প্রজন্মের। এমনকি কেউ শিক্ষার সর্বোচ্চ আলয়ে এমএ বা অনার্স পড়ছে শুনলেও ভালো লাগে। মনে হয়, একজন সাচ্চা মানুষ তৈরি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি এখনো দুরন্ত সম্মান পোষণ করি। সম্মানবোধে নত থাকি শিক্ষকদের প্রতি। তাই শিক্ষকদের আচরণে সুস্থ বুদ্ধির ঘাটতি দেখলে খুবই কষ্ট পাই। আত্ম-অপমানে মিশে যাই মাটিতে। কারণ আমিও একজন শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে জীবন কাটিয়েছি। এখনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের কাজই করছি। বিশ্বাস করি, এই পেশা মহৎ এবং পবিত্র।

Dr.Shoumitra.Shekhar's picture

ভাষার প্রাণে মিডিয়ার শক্তি

মিডিয়া যে একটি শক্তি, বাঙালি তা অনেক পরে বুঝেছে; যখন বুঝেছে তখনও এটাকে জাতীয় উন্নতিতে কাজে লাগায়নি, এখনও ঠিক সেভাবে কাজে লাগাচ্ছে না। বরং উল্টো হচ্ছে। মিডিয়ার শক্তি ব্যয় হচ্ছে জাতীয় উন্নতির বিরুদ্ধপনায়। হিটলারের প্রচারমন্ত্রী গোয়েবলস অবশ্য অনেক আগেই পরামর্শ দিয়েছিলেন হিটলারকে-প্রচারমাধ্যম বেশি করে কাজে লাগানোর জন্য। গোয়েবলসের বক্তব্য ছিল, মিথ্যাও বহুবার প্রচারের কারণে ‘সত্য’ হয়ে যায়। আসলে মিথ্যা কখনও সত্য হয়ে যায় না। গোয়েবলস এটা জানতেন, আমরাও জানি। গোয়েবলসের কথার সার হল-‘প্রচার’ এতটাই শক্তিশালী, যেকোনো কিছুকে পাল্টে দিতে প্রচারটা বেশ কার্যকর। সত্যি, প্রচারের শক্তি দিয়ে মানুষের মনোরাজ্য অধিকার করা যায়; অন্তত কিছুক্ষণের জন্য।

আমাদের দেশ গোয়েবলসের কথার বাহ্যিক দিকটাই যেন নিয়েছে, অন্তরের সারটুকু নয়। গোয়েবলসের কথার সারটুকু গ্রহণ করা পাপ নয়। দুষ্টের কাছেও শিখবার আছে, দুষ্টুমি ছাড়া অন্যকিছু। মৌমাছি ফুল থেকে মধুটুকুই নেবে, কটু-বিষ নয়। আমি ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মাচারী পাণ্ডবদের নয়, পাপাচারী কৌরবদের ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী’ (‘সুইয়ের অগ্রভাগ ফেলবার মতো ভূমিও যুদ্ধ ছাড়া তোমাদের দেব না।’)-এই নীতিকে মান্য করি।

Syndicate content