Education

বাংলাদেশ থেকে বছরে ৩২ হাজার ছাত্রছাত্রী আমেরিকায় লেখাপড়ার সুযোগ পাবে!

অসুস্থ্য শরীর নিয়ে এই প্রথম কোনও মিটিং-এ গেলাম। যাওয়ার কথা ছিল না। শরীর এখন এতই দূর্বল যে বসে বসে যে লিখবো, সেটাও পারছি না। চেষ্টা করছিলাম কিছু কিছু লেখার। কিন্তু বেশি দূর এগুনো যায় না। একটি সামান্য ব্যাক্টেরিয়ার কাছে এভাবে পরাজিত হয়ে যাবো, মানতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কী আর করা!

ড্যান মজিনা। বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাস্ট্রদূত। বেচারা আমরা যতটা না বাংলাদেশকে ভালোবাসি, বোধ করি সে তার থেকে অনেক বেশি ভালোবাসে এই দেশকে। ইতোমধ্যেই ৬৪টি জেলার ৬১টি ভ্রমন করে ফেলেছেন। বাংলাদেশে তার চাকরীর মেয়াদ শেষ। যে কোনও দিন চলে যাবেন। যাওয়ার আগে ইচ্ছে হলো বাকি ৩টি জেলাও দেখে যাওয়া। আমি জানিনা, কতজন বাংলাদেশী ৬৪টি জেলায় গিয়েছেন!

Dr. Mahbub.Ullah's picture

দুর্জনের ছলের অভাব নেই

বাংলাদেশে শিক্ষার মানে ভয়াবহ ধস নেমেছে। এটি একটি সর্বজনস্বীকৃত ধারণা। অথচ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন-এ-এর মহা বিস্ফোরণ ঘটেছে। গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষার ফলে এমন আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটছে। আসলেই কি এ দেশের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিশাল সংখ্যায় প্রতিভাধরদের বিকাশ ঘটছে? পরিসংখ্যান বিদ্যার বিচারে এমনটি ঘটা একেবারেই অসম্ভব। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের কর্ণধাররা দাবি করেছেন, কেবল ছিদ্রান্বেষণকারীরাই চমৎকার এ পরীক্ষার ফলাফলে খুঁত অন্বেষণ করে বেড়ায়।
gpa5
পরিসংখ্যান বিদ্যার সূত্র অনুযায়ী পরীক্ষার ফলাফলের রেখাটি হবে চার্চের ঘণ্টার মতো। একেই বলা হয় পরিমিত বিন্যাস বা ঘড়ৎসধষ উরংঃৎরনঁঃরড়হ. পরিমিত বিন্যাস অনুযায়ী খুব ভালো ফলাফল করবে শতকরা দুই-তিন শতাংশ ছাত্রছাত্রী। আবার খুব খারাপ ফলাফল করবে অর্থাৎ অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা হবে আবারও দুই-তিন শতাংশ।

Mahmudur.Rahman.Manna's picture

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতিহীনতার চাষ

ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার আরেকটি প্রয়াস ছিল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। না, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে লিখতে বসিনি আমি। '৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংসদে গৃহীত হওয়ার পর যখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন রাজনৈতিক দলগুলো এবং বিশেষত ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এভাবে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ করা হচ্ছে। শিক্ষাকে একটি পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। অথচ শিক্ষা সুযোগ নয়, অধিকার। কোনো আন্দোলন গড়ে ওঠেনি এভাবে। অতএব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মতো।
manna
এখন দেশে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৯টি, যা দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক বেশি। হয়তো এটাই স্বাভাবিক ছিল। অন্তত ঘটনাটা তো সেটাই ঘটেছে। শিক্ষা সুযোগ বললেই হলো না, সে সুযোগ কারো করে দিতে হবে। আমরা সর্বজনীন শিক্ষার দাবি করি; কিন্তু সবার জন্য শিক্ষা কি আছে? আমাদের শিক্ষা খাতে যে বাজেট বরাদ্দ আছে, সেটা দিয়ে তা হয় না। আরো অনেক কাজই হয়নি। আসলে সরকারের ততখানি সক্ষমতা নেই। অতএব, বেসরকারি উদ্যোগকে বাধা দিয়ে কোনো লাভ নেই। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো সে রকম করে না। ইউরোপ-আমেরিকা বা কানাডার বিখ্যাত সব বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা একভাবে পণ্য বলে বিবেচিত হয়।

Golam.Mortoza's picture

সত্য-গুজব-বিভ্রান্তি এবং শিক্ষামন্ত্রী

গতকাল ২০ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ কিছু কথা বলেছেন। বলেছেন ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ সংশোধন করা হবে। তার বক্তব্যে উপরের এই শব্দগুলো স্থান পেয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, রটনা ও গুজব ছড়ালে শাস্তি পেতে হবে।’ এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কয়েকটি কথা-
nurul islam nahid
১. প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে দোষী ব্যক্তি শাস্তি পাবে, এটাই স্বাভাবিক। কোনো দ্বিমত নেই। কারও কোনো আপত্তি থাকার কারণ নেই। কারও আপত্তি থাকলেও শাস্তি দিতে হবে। দোষীদের শাস্তি দেয়া যাচ্ছে না, দেয়া হচ্ছে না, সনাক্ত করা হচ্ছে না বলে আমরা সমালোচনা করছি।

Masum.Billah's picture

এইচএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে কিছু প্রশ্ন

এবার উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় গতবারের তুলনায় ৪.০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী বেশি পাস করেছে। এটি আশার কথা। পাসের হার প্রতিবছর বাড়বে এবং আমরা সেদিনের অপেক্ষায় আছি, যেদিন আমাদের পাবলিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য বলে কিছু থাকবে না। তবে তা যেন লোকদেখানো বা শুধু কাগজে-কলমে না হয় সেটিই কাম্য। শিক্ষা ও পরীক্ষার মান নিয়ে প্রতিবছরই কথা ওঠে। ওঠার কারণও রয়েছে। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০ শতাংশ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছিল। ২০১২ ও ২০১১ সালের ভর্তি পরীক্ষায় যথাক্রমে ৫৫ ও ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অবস্থা অনেকটাই ফুটে ওঠে। এ বিষয়টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলকে পুরোপুরি প্রশ্নের সম্মুখীন করে দিয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
HSC
ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর বৃত্তি প্রদান করে থাকে। আর মেধাবী মানেই তো জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী। এ কর্মসূচিতে যুক্ত থাকায় আমরা কিছুটা বাজিয়ে দেখতে চাইলাম, এই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা আসলেই কতটা মেধাবী। ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠল।

Zamaluddin Bari's picture

শিক্ষাকে বাণিজ্য ও বৈষম্যমুক্ত করার কোন বিকল্প নেই

গত জুন মাসে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর উচ্চহারের রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার পর গত সপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়ও পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্রমবর্ধিত হারের রেকর্ড অব্যাহত রয়েছে। মূলত ২০০৯ সাল থেকেই পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যতই দিন যাচ্ছে এ হার বেড়েই চলেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ সময়ে কি এমন ঘটেছে যে, হঠাৎ করেই পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার বৃদ্ধি রকেট গতি পেয়ে প্রায় শতভাগের কাছাকাছি লক্ষ্যে পৌঁছে গেল? নতুন শিক্ষানীতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন- তা সত্য। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের যে তীব্র সংকট রয়েছে তা পূরণে লক্ষণীয় কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। উপরন্তু শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের ধারায় পাবলিক পরীক্ষায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি শুরু হওয়ার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পড়েছেন বাড়তি দুর্ভাবনায়।
admission
এরপরও পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির এ রকেট গতি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কিছুটা দুশ্চিন্তামুক্ত হতে সহায়ক হয়েছে বটে। অধিকাংশ (কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন শিক্ষানীতির আওতায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করলেও তারা প্রয়োজনীয় দক্ষ শিক্ষক ও আনুসঙ্গিক ব্যবস্থাদি গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ইউজিসির বিবৃতি :প্রাসঙ্গিক ভাবনা

গত ১১ আগস্টের (২০১৪) জাতীয় পত্র-পত্রিকাগুলোতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রেরিত একটি প্রতিবেদন বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। শিরোনাম— "বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সম্প্রতি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর সংক্ষিপ্ত বিবৃতি।" বিবৃতি প্রদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি টিআইবি প্রকাশিত একটি অসম্পূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সততা নিয়ে দেশবাসীর মনে নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিভ্রান্তি দূর করবার লক্ষ্যেই ইউজিসির পক্ষ থেকে বিবৃতিটি প্রদান করা হয়েছে।
ugc
সমগ্র বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত কতগুলো বৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ১১ আগস্টের বক্তব্যে তা স্পষ্ট করা হয়েছে। বৈধ-অবৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মনে নানা প্রশ্ন বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের সেসব প্রশ্নের সমাধান রয়েছে। অতিসম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। কৃতকার্য সকল ছাত্র-ছাত্রীকে সরকারি বিশ্ববিদ্যলয়ে স্থান দেয়া সম্ভব হবে না। বিকল্প স্থান হিসেবে তারা বেছে নেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। কিন্তু তার আগে দেশের বৈধ এবং অবৈধ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণাকে স্পষ্ট করে দিতে হবে। কাজেই বলা যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতিটি অত্যন্ত সময় উপযোগী হয়েছে। মঞ্জুরি কমিশনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

উচ্চতর শিক্ষা : সংকট ও সম্ভাবনা

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কতটুকু জ্ঞান সঞ্চয় ও বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারছে- এ প্রশ্ন স্বাভাবিক। এসএসসি ও এইচএসসি পরীাক্ষায় জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ গ্রহণের বঞ্চনা প্রত্য করা যায়। ঢাকা নগরে শিক্ষার্থীদের কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়ার অবারিত সুযোগের পাশে অভিভাবকদের দুর্ভাবনা কমেনি। বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত শিাপ্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ভর্তি হতে পারে না। অনেকে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে, আবার অনেকে নামসর্বস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চঅর্থের বিনিময়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এ শিক্ষার মানও সার্টিফিকেট প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ এ তথ্য সঠিক নয় মর্মে মত দিয়েছে।
Education
এবারের এইচএসি পরীার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটেছে। ফেসবুক, ইন্টারনেট ও প্রকাশ্যে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে। অধিকাংশ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র হুবহু মিলে যাওয়ার, খবর প্রকাশিত হলে, একটি মাত্র পরীা স্থগিত রেখে বাকি পরীা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাখিল করেছে। পরীার দিনে প্রশ্নপত্র তৈরি করা, পরীার মধ্যে বিরতি না দেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তবে এখন পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

Masum.Billah's picture

পাসের হারের স্ফীতি কি মানের কথা বলে?

গতবারের তুলনায় এবার ৪.০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী বেশি পাস করেছে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায়। এটি আমাদের কাম্য। পাসের হার প্রতিবছর বাড়তেই থাকবে এবং আমরা ওইদিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন অকৃতকার্য বলে আমাদের পাবলিক পরীক্ষায় কিছু থাকবে না। তবে সেটি যাতে লোক দেখানো বা শুধু কাগজ-কলমে না হয় তাই প্রত্যাশা করছি। শিক্ষা ও পরীক্ষার মান নিয়ে প্রতিবছরই কথা ওঠে। ওঠার কারণও রয়েছে যথেষ্ট।
HSC
২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ জিপিএ-৫ পাওয়া ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়েছে। ২০১২ ও ২০১১ সালের ভর্তি পরীক্ষায় যথাক্রমে ৫৫ শতাংশ ও ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিল। ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণত শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অবস্থা অনেকটাই ফুটে ওঠে। এ বিষয়টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলকে পুরোপুরি প্রশ্নের সম্মুখীন করে দিয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় :গৌরবের ৫৩ বছর

চিকিত্সা বিজ্ঞানে আমাদের অনেক অর্জন। চিকিত্সক সবাক প্রাণীর সেবা করেন, যে নিজের কথা বলতে পারে। কিন্তু কৃষিবিদদের কর্মকাণ্ড নির্বাক প্রাণীদের নিয়ে, যারা নিজেদের চাওয়া, সুখ-দুঃখের কথা বলতে পারে না। বোবার মুখে হাসি, আর নির্জীবে ফুল ফুটানো অত্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ও কষ্টসাধ্য সাধনার বিষয়। জ্ঞানে-গরিমায় বলীয়ান, কৌশলে চৌকস, কৃষিবিদরা এসব বোবা জীবের সাথে মিতালি গড়ে, আপন বলয়ে সন্তানের মতো লালন-পালন করে, মানুষের চাহিদানুযায়ী, বৈরী-প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে উঠতে সক্ষম নতুন জাত, প্রজাতি, প্রযুক্তি তৈরি করেন। তাঁরা ফসলের, সব্জির, গাছের, বন , মাছের, হাঁস-মুরগি, গবাদি সম্পদের নতুন, উন্নত জাত ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে অজেয়কে জয় করছেন। রক্ত ঝরানো যত সহজ, ঘাম ঝরানো তত কঠিন। হুল ফুটানোর চেয়ে ফুল ফুটানোর কঠিন ও কষ্টকর কাজটি কৃষিবিদরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করে যাচ্ছেন। অর্থনৈতিক মুক্তি না হলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। এ মুক্তির জন্য তাঁরা যুদ্ধ করছেন।
বাকৃবি
জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, জাতীয় বীর-কৃষিবিদদের সূতিকাগার; নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, মেধা লালন ও চর্চা কেন্দ্র- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট, ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠিত হয়। কৃষির প্রায় সকল শাখায়, শিরা, উপশিরা ও রক্তনালীতে কৃষি শিক্ষার্থীদের বিচরণ, সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টায় রত। এখানে কৃষিবিজ্ঞানের সব শাখায় উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত হয়েছে। বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময় বিষয় গবেষণার সুযোগ, একত্রে, একসাথে শুধু এখানেই রয়েছে।

Syndicate content