Education

Golam.Mortoza's picture

সত্য-গুজব-বিভ্রান্তি এবং শিক্ষামন্ত্রী

গতকাল ২০ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ কিছু কথা বলেছেন। বলেছেন ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ সংশোধন করা হবে। তার বক্তব্যে উপরের এই শব্দগুলো স্থান পেয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, রটনা ও গুজব ছড়ালে শাস্তি পেতে হবে।’ এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কয়েকটি কথা-
nurul islam nahid
১. প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে দোষী ব্যক্তি শাস্তি পাবে, এটাই স্বাভাবিক। কোনো দ্বিমত নেই। কারও কোনো আপত্তি থাকার কারণ নেই। কারও আপত্তি থাকলেও শাস্তি দিতে হবে। দোষীদের শাস্তি দেয়া যাচ্ছে না, দেয়া হচ্ছে না, সনাক্ত করা হচ্ছে না বলে আমরা সমালোচনা করছি।

Masum.Billah's picture

এইচএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে কিছু প্রশ্ন

এবার উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় গতবারের তুলনায় ৪.০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী বেশি পাস করেছে। এটি আশার কথা। পাসের হার প্রতিবছর বাড়বে এবং আমরা সেদিনের অপেক্ষায় আছি, যেদিন আমাদের পাবলিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য বলে কিছু থাকবে না। তবে তা যেন লোকদেখানো বা শুধু কাগজে-কলমে না হয় সেটিই কাম্য। শিক্ষা ও পরীক্ষার মান নিয়ে প্রতিবছরই কথা ওঠে। ওঠার কারণও রয়েছে। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০ শতাংশ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছিল। ২০১২ ও ২০১১ সালের ভর্তি পরীক্ষায় যথাক্রমে ৫৫ ও ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অবস্থা অনেকটাই ফুটে ওঠে। এ বিষয়টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলকে পুরোপুরি প্রশ্নের সম্মুখীন করে দিয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
HSC
ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর বৃত্তি প্রদান করে থাকে। আর মেধাবী মানেই তো জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী। এ কর্মসূচিতে যুক্ত থাকায় আমরা কিছুটা বাজিয়ে দেখতে চাইলাম, এই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা আসলেই কতটা মেধাবী। ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠল।

শিক্ষাকে বাণিজ্য ও বৈষম্যমুক্ত করার কোন বিকল্প নেই

গত জুন মাসে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর উচ্চহারের রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার পর গত সপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়ও পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্রমবর্ধিত হারের রেকর্ড অব্যাহত রয়েছে। মূলত ২০০৯ সাল থেকেই পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যতই দিন যাচ্ছে এ হার বেড়েই চলেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ সময়ে কি এমন ঘটেছে যে, হঠাৎ করেই পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার বৃদ্ধি রকেট গতি পেয়ে প্রায় শতভাগের কাছাকাছি লক্ষ্যে পৌঁছে গেল? নতুন শিক্ষানীতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন- তা সত্য। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের যে তীব্র সংকট রয়েছে তা পূরণে লক্ষণীয় কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। উপরন্তু শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের ধারায় পাবলিক পরীক্ষায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি শুরু হওয়ার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পড়েছেন বাড়তি দুর্ভাবনায়।
admission
এরপরও পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির এ রকেট গতি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কিছুটা দুশ্চিন্তামুক্ত হতে সহায়ক হয়েছে বটে। অধিকাংশ (কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন শিক্ষানীতির আওতায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করলেও তারা প্রয়োজনীয় দক্ষ শিক্ষক ও আনুসঙ্গিক ব্যবস্থাদি গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ইউজিসির বিবৃতি :প্রাসঙ্গিক ভাবনা

গত ১১ আগস্টের (২০১৪) জাতীয় পত্র-পত্রিকাগুলোতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রেরিত একটি প্রতিবেদন বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। শিরোনাম— "বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সম্প্রতি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর সংক্ষিপ্ত বিবৃতি।" বিবৃতি প্রদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি টিআইবি প্রকাশিত একটি অসম্পূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সততা নিয়ে দেশবাসীর মনে নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিভ্রান্তি দূর করবার লক্ষ্যেই ইউজিসির পক্ষ থেকে বিবৃতিটি প্রদান করা হয়েছে।
ugc
সমগ্র বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত কতগুলো বৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ১১ আগস্টের বক্তব্যে তা স্পষ্ট করা হয়েছে। বৈধ-অবৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মনে নানা প্রশ্ন বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের সেসব প্রশ্নের সমাধান রয়েছে। অতিসম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। কৃতকার্য সকল ছাত্র-ছাত্রীকে সরকারি বিশ্ববিদ্যলয়ে স্থান দেয়া সম্ভব হবে না। বিকল্প স্থান হিসেবে তারা বেছে নেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। কিন্তু তার আগে দেশের বৈধ এবং অবৈধ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণাকে স্পষ্ট করে দিতে হবে। কাজেই বলা যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতিটি অত্যন্ত সময় উপযোগী হয়েছে। মঞ্জুরি কমিশনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

উচ্চতর শিক্ষা : সংকট ও সম্ভাবনা

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কতটুকু জ্ঞান সঞ্চয় ও বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারছে- এ প্রশ্ন স্বাভাবিক। এসএসসি ও এইচএসসি পরীাক্ষায় জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ গ্রহণের বঞ্চনা প্রত্য করা যায়। ঢাকা নগরে শিক্ষার্থীদের কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়ার অবারিত সুযোগের পাশে অভিভাবকদের দুর্ভাবনা কমেনি। বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত শিাপ্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ভর্তি হতে পারে না। অনেকে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে, আবার অনেকে নামসর্বস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চঅর্থের বিনিময়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এ শিক্ষার মানও সার্টিফিকেট প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ এ তথ্য সঠিক নয় মর্মে মত দিয়েছে।
Education
এবারের এইচএসি পরীার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটেছে। ফেসবুক, ইন্টারনেট ও প্রকাশ্যে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে। অধিকাংশ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র হুবহু মিলে যাওয়ার, খবর প্রকাশিত হলে, একটি মাত্র পরীা স্থগিত রেখে বাকি পরীা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাখিল করেছে। পরীার দিনে প্রশ্নপত্র তৈরি করা, পরীার মধ্যে বিরতি না দেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তবে এখন পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

Masum.Billah's picture

পাসের হারের স্ফীতি কি মানের কথা বলে?

গতবারের তুলনায় এবার ৪.০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী বেশি পাস করেছে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায়। এটি আমাদের কাম্য। পাসের হার প্রতিবছর বাড়তেই থাকবে এবং আমরা ওইদিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন অকৃতকার্য বলে আমাদের পাবলিক পরীক্ষায় কিছু থাকবে না। তবে সেটি যাতে লোক দেখানো বা শুধু কাগজ-কলমে না হয় তাই প্রত্যাশা করছি। শিক্ষা ও পরীক্ষার মান নিয়ে প্রতিবছরই কথা ওঠে। ওঠার কারণও রয়েছে যথেষ্ট।
HSC
২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ জিপিএ-৫ পাওয়া ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়েছে। ২০১২ ও ২০১১ সালের ভর্তি পরীক্ষায় যথাক্রমে ৫৫ শতাংশ ও ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিল। ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণত শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অবস্থা অনেকটাই ফুটে ওঠে। এ বিষয়টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলকে পুরোপুরি প্রশ্নের সম্মুখীন করে দিয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় :গৌরবের ৫৩ বছর

চিকিত্সা বিজ্ঞানে আমাদের অনেক অর্জন। চিকিত্সক সবাক প্রাণীর সেবা করেন, যে নিজের কথা বলতে পারে। কিন্তু কৃষিবিদদের কর্মকাণ্ড নির্বাক প্রাণীদের নিয়ে, যারা নিজেদের চাওয়া, সুখ-দুঃখের কথা বলতে পারে না। বোবার মুখে হাসি, আর নির্জীবে ফুল ফুটানো অত্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ও কষ্টসাধ্য সাধনার বিষয়। জ্ঞানে-গরিমায় বলীয়ান, কৌশলে চৌকস, কৃষিবিদরা এসব বোবা জীবের সাথে মিতালি গড়ে, আপন বলয়ে সন্তানের মতো লালন-পালন করে, মানুষের চাহিদানুযায়ী, বৈরী-প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে উঠতে সক্ষম নতুন জাত, প্রজাতি, প্রযুক্তি তৈরি করেন। তাঁরা ফসলের, সব্জির, গাছের, বন , মাছের, হাঁস-মুরগি, গবাদি সম্পদের নতুন, উন্নত জাত ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে অজেয়কে জয় করছেন। রক্ত ঝরানো যত সহজ, ঘাম ঝরানো তত কঠিন। হুল ফুটানোর চেয়ে ফুল ফুটানোর কঠিন ও কষ্টকর কাজটি কৃষিবিদরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করে যাচ্ছেন। অর্থনৈতিক মুক্তি না হলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। এ মুক্তির জন্য তাঁরা যুদ্ধ করছেন।
বাকৃবি
জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, জাতীয় বীর-কৃষিবিদদের সূতিকাগার; নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, মেধা লালন ও চর্চা কেন্দ্র- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট, ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠিত হয়। কৃষির প্রায় সকল শাখায়, শিরা, উপশিরা ও রক্তনালীতে কৃষি শিক্ষার্থীদের বিচরণ, সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টায় রত। এখানে কৃষিবিজ্ঞানের সব শাখায় উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত হয়েছে। বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময় বিষয় গবেষণার সুযোগ, একত্রে, একসাথে শুধু এখানেই রয়েছে।

ভালো ফল, ভালো মান

এবার এইচএসসি পরীক্ষায় 'উজ্জ্বল' ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েও শ্রেণীকক্ষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছি_ বিবিএ প্রথম সেমিস্টারে একজন শিক্ষার্থীর কাছে বৃত্ত ও চতুর্ভুজ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো। শিক্ষার্থীর অতি সাবলীল ভঙ্গিমায় উত্তর, স্যার অনেক আগে পড়েছি তো, তাই ভুলে গেছি। জানা গেল, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী দুটোতেই এ প্লাস পেয়েছে। ভুলে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংযুক্তি এলো, স্যার সেই সেভেন-এইটে পড়েছি তো, তাই ঠিক মনে নেই। তাহলে আমাদের এসব হাজার হাজার এ প্লাসের মূল্য কোথায়? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কি এতই সস্তা হয়েছে যে, আমরা যার তার হাতে এ প্লাস তুলে দিচ্ছি? কী শিখছে আমাদের সন্তানরা? শেখার উদ্দেশ্য কি কেবল কোনো রকমে মুঠো ভরে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া অতঃপর ভুলে যাওয়া? ভেতরটা কেবলই ফাঁফা, শূন্য! সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে তা বাতিল করে চলে গেল আবার তার গ্রামের স্কুলে।
pinak-6
যুক্তি হিসেবে, জেলার আশাশুনি উপজেলার পরীক্ষা কেন্দ্রে নাকি শিক্ষার্থীদের অনৈতিক সুবিধার্থে নানা পদক্ষেপ গৃহীত হয়। বিনা কষ্টে এমন সুযোগ কে ছাড়তে চায়? কিছু শিখুক আর না শিখুক এই প্রতিযোগিতার বাজারে এ প্লাস তো নিশ্চিত। একজন প্রধান শিক্ষকের কাছে আরও লোমহর্ষক কথা শুনলাম। প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকের পরীক্ষায় একটি কেন্দ্র অন্য কেন্দ্রের সঙ্গে নাকি চুক্তিবদ্ধ হয়। চূড়ান্ত পাবলিক পরীক্ষার সময় একটি প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাহায্য করে।

Mozammel.Haque.Neogi's picture

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রত্যাশা ও অর্জন

উন্নয়ন যাত্রায় বাংলাদেশের অগ্রগতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল অনেক দেশের কাছে ঈর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে, যা বিভিন্ন প্রতিবেদন বা সংবাদমাধ্যমে জানা যায়। এই ঈর্ষণীয় অগ্রগতির মধ্যে মা ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, নারীশিক্ষার অগ্রগতি এবং প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য-২-এর অধীনে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি একটি অভাবনীয় সাফল্য।
primary education
প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন, বেসরকারি স্কুলকে সরকারিকরণ, প্রায় শতভাগ শিশুর ভর্তি ইত্যাদি প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের সূচক। দশ বছর আগেও যেসব স্কুলে নিরাপদ পানীয় এবং সাধারণ শৌচাগার ছিল না, সেসব স্কুলে শৌচাগার, কমন রুম, ফার্নিচার, চেয়ারের পেছনে তোয়ালে, সাজসজ্জার জন্য আয়না পর্যন্ত এখন চোখে পড়ে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সহযোগিতার জন্য চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অগ্রগতির আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলা যায়। বিশ বছর আগে এমন একজন অতিরিক্ত কর্মচারী কল্পনাও করা যেত না।

Ajoy.Dasgupta's picture

লিখিব পড়িব মরিব দুঃখে...

উচ্চশিক্ষিতদের প্রায় অর্ধেকই বেকার_ এমন শিরোনামের একটি খবর প্রকাশ করেছিল দৈনিক প্রথম আলো (২ মার্চ, ২০১৪)। বিখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একটি বিশেষ প্রতিবেদনের সূত্র এ লেখার ভিত্তি।
তবতকতবক
একই পত্রিকায় ৬ মার্চ (২০১৪) একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল :'স্বল্পশিক্ষিতদের হাতেই সচল অর্থনীতি'। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন এর ভিত্তি। তারা বলেছে_ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষিত শ্রমশক্তির অবদান সামান্যই। বরং দেশের অর্থনীতি টিকে আছে অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত বিশাল এক শ্রমশক্তির শ্রমের ওপর। ধান-পাট বা সবজি চাষ বলেন, মাছ চাষ বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প বলেন কিংবা প্রবাসে নানা পেশায় হাড়ভাঙা শ্রমে নিয়োজিত ৮০-৯০ লাখ কর্মীর কথা বলেন_ তাদের বেশিরভাগ লেখাপড়া কম জানে কিংবা একেবারেই জানে না।

Syndicate content