WatchDog's blog

WatchDog's picture

ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী...

1.jpg
শরীর নয় যেন ধারালো ছুরি। অন্তত ভদ্রমহিলা নিজকে তাই মনে করছেন সন্দেহ নেই। এসব জানতে মনোবিজ্ঞানী অথবা মাইন্ড রিডার হওয়ার দরকার হয়না। শরীরী ভাষাই সব বলে দেয়। দম্ভে, অহমিকায় পা নীচে নামছেনা। ভাল করে লক্ষ্য করলে মনে হবে তিনি উড়ছেন। দু’ঘণ্টা হয়ে গেল দেখছি। অথচ একবারের জন্যও হাসতে দেখলাম না। এমন একটা চাকরির মুল শর্ত হাসি। হাজার যন্ত্রণার মাঝেও হাসতে হয়। এমনকি নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও হাসি দিয়ে তা লুকাতে হয়। বলছিলাম বাংলাদেশ বিমানের মরহুম নিউ ইয়র্ক-ঢাকা রুটের কোন এক ফ্লাইটের কথা।

WatchDog's picture

মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধ ও শান্তি...WD

17.jpg জানুয়ারি ৩, ২০০১ সাল। হোয়াইট হাউস হতে ঘোষণা এলো মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা সমাধান পাওয়া গেছে। ঘোষণার সমর্থনে ইসরায়েলই কর্তৃপক্ষও ঘোষণা দিল সতর্ক আশাবাদের। অন্য ক্যাম্প হতেও স্বীকার করা হল ত্রি-পক্ষীয় বুঝাপড়ার। এর আগে ২৩ সে ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন চারদিনের সময় দিয়ে দরকষাকষি করা যাবেনা এমন একটা প্রস্তাব উত্থাপন করেন শান্তি আলোচনায়। প্রস্তাবের সারমর্ম ছিলঃ প্যালেষ্টাইনিরা পশ্চিম তীরের শতকার ৯৬ ভাগের দখল পাবে, বাকি চার ভাগ যাবে ইসরায়েলদের দখলে। পূর্ব জেরুজালেমে বসতি-স্থাপ

WatchDog's picture

মালয়েশিয়ান ফ্লাইট ১৭ এবং কতিপয় স্বৈরশাসকের ইতিবৃত্ত - WD

26.jpg সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ। ইউরোপের এ দিকটায় গ্রীষ্মের শেষ এবং শরতের শুরু। আমাদেরও শিক্ষা বর্ষেরও শুরু কেবল। এদিন ক্লাসে হাজির থাকা অনেকটা বাধ্যতামূলক। অন্যথা হলে মাসিক স্কলারশিপ সহ অনেক কিছুতে কর্তৃপক্ষের কুনজর পরার সম্ভাবনা থাকে। তাই টর্কি ও পেয়িংটনের দুমাসের শৃংখলবিহীন জীবনকে বিদায় জানিয়ে ফিরে আসতে হল। ইংল্যান্ডের সাউদ ভেভনের এ অংশের সাথে প্রেম সেই ৭০ দশক হতে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির একটা বড় অংশ ইংলিশ রিভিয়েরায় কাটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এ যাত্রায়ও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বলাটা সহজ হলেও পূর্ব ইউরোপ হতে ট্রেনে চড়ে পশ্চিম ইউরোপের এ দিকটায় পা রাখা তত সহজ ছিলনা। এ পথে মুল বাধা ছিল বার্লিন দেয়াল। পূর্ব জার্মানির বার্লিন শহরকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র বাহিনী কেন দুভাগ করেছিল এ নিয়ে অনেক তর্ক আছে। কিন্তু ঠাণ্ডা যুদ্ধের ফ্রন্টের শুরুটা যে বার্লিন দেয়াল দিয়ে তা নিয়ে কোন তর্ক ছিলনা। পায়ে হেঁটে যারা বার্লিন দেয়াল অতিক্রম করেনি তাদের বুঝানো মুস্কিল হবে ঠাণ্ডা যুদ্ধের কঠিন শীতল চেহারা। সেমিস্টারের প্রথম দিনটা যেভাবে কাটার কথা সেভাবেই কাটল। কোর্স পরিচিতি, ক্লাস রুটিন এবং ক্লাসমেটদের সাথে ভেকেশন অভিজ্ঞতা শেয়ার করা। শরতের শুরু হলেও শীত ঝাঁকিয়ে বসতে সময় নেয়নি। বিশেষ করে রাতের বেলা। পৃথবীর এ দিকটায় তাই হয়, গরমকালটা চোখের পলকে বিদায় নেয়। লম্বা, বিরক্তিকর এবং ভয়াবহ শীতের প্রস্তুতি নিতে হয় পেপ্টেম্বরের শুরু হতে। অক্টোবরের শুরুতে তাপমাত্রা হিমাংকের নীচে নামতে শুরু করে এবং মধ্য শীতে তা -৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়। আমাদের জীবনও থেমে যায়। মানিয়ে নিতে হয় প্রকৃতির এই নির্মমতার সাথে। ক্লাস শেষে রুমে ফিরে শুনলাম খবরটা।

WatchDog's picture

একজন অক্ষমের ক্ষমতা ও কিছু ভৌতিক প্রতিশোধ...

একজন অক্ষমের ক্ষমতা ও কিছু ভৌতিক প্রতিশোধ...
13.jpg
অক্ষমতা এক ধরনের মানসিক রোগ। বিশেষ করে আমার মত অক্ষমদের জন্য। বিষণ্নতা রোগের মত এ রোগও মগজে জন্ম নেয় এবং একে একে গ্রাস করে নেয় শরীরের বাকি অংগ। অনেক বছর আগের একটা ঘটনা। প্রিয়জনের সাথে হুমায়ুন আহমদের উপন্যাসে মুক্তি পাওয়া সিনেমা দেখতে গেছি নিউ মার্কেট এলাকার বলাকা সিনেমা হলে। উপচে পড়া ভীড়। বেশির ভাগই মনে হল প্রতিবেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী। ছবি শেষ করে ফেরার পথেই ঘটল ঘটনাটা। দেখতে ছাত্র মত একজন সাথের মানুষটার গায়ে হাত দিল। পাশ হতে আরও দুয়েক জন উল্লাসে ফেটে পরল। অসহায়ের মত তাকাল সে আমার দিকে। হয়ত সাহায্যের আশায়। কিন্তু বিশাল এ জনসমুদ্রে নিজকে মনে হল ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলের অক্ষম একজন পুরুষ মানুষ। অক্ষমতা, অসহায়ত্বের সাথে যোগ হল লজ্জা। মাটির দিকে তাকিয়ে অনেকটা অন্ধের মত বেরিয়ে এলাম ভীড় হতে। ঘরে ফেরার পথটা মনে হল অনন্তকালের যাত্রা। রিক্সায় বসে দুজন চলে গেলাম দুই পৃথিবীতে। তার দুচোখে কষ্টের অশ্রু। আমি ততক্ষণে চলে গেছি অক্ষমতার পৃথিবীতে। এবং প্রতিশোধের মহাপ্রলয়ে গুড়িয়ে দিচ্ছি বলাকা সিনেমা হল সহ গোটা নিউমার্কেট এলাকা। একটা পিপঁড়া মারতে গেলে আমাকে দুবার ভাবতে হয়। অথচ সেই আমি অপমানের প্রতিশোধ নিতে হয়ে গেলাম বন্য, হিংস্র। অনেকটা হিন্দি সিনেমার নায়কের মত একাই মোকাবেলা করলাম ৪/৫ জনের গ্রুপটাকে। ধারণাটা বিষাক্ত ক্যানসারের মত চেপে বসল মগজে। শয়নে স্বপনে তাড়া করে বেড়ায় প্রতিশোধ স্পৃহা। ভুতুরে লড়াই করতে গিয়ে এক সময় ক্লান্ত হয়ে পরি। নাওয়া খাওয়ায় দেখা দেয় চৈত্র মাসের খরা। স্বভাবতই রাজ্যের অসুখ এসে চেপে ধরে শরীরকে। খবরের কাগজে পড়া অথবা সামনে দেখা অন্যায় ও অনাচারের মোকাবেলা আমি এভাবেই করতে অভ্যস্ত। গত দুদিন ধরে একই কায়দায় নারায়ণগঞ্জ সেভেন মার্ডার সহ গোটা দেশজুড়ে র‌্যাব, পুলিশ, আওয়ামী ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের তাণ্ডবের মোকাবেলা করছিলাম।

WatchDog's picture

কাকু, আব্বু, আমি এবং বাকি ত্রিশ লাখ! WD

19.jpgখবরে প্রকাশ নতুন করে আদমশুমারী করতে যাচ্ছে সরকার। শীঘ্রই এ ব্যাপারে লোকবল ও অর্থ বিনিয়োগ সংক্রান্ত ঘোষনা দেয়া হবে। যে কোন উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিক পরিসংখ্যান। হোক তা উন্নত বিশ্বে অথবা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে। আমাদের পরিসংখ্যান খাত বাকি দশটা খাতের মতই দুর্নীতির মহামারিতে আক্রান্ত। বিনিয়োগকৃত অর্থ পকেটস্থ করার উদ্দেশ্যে অনেক পরিসংখ্যানই জন্ম নেয় টেবিলে।

WatchDog's picture

অনন্তকালের একাকিত্বে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস...WD

11.jpg কখন দুটো বেজে গেল বুঝতে পারিনি। দেরি হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। সকাল সাতটায় অফিস ধরতে হলে এখুনি ঘুমাতে হবে। লেখাটা শেষ করার ইচ্ছা থাকলেও উপায় ছিলনা। অফিস মিস করা চলবে না। গুড ফ্রাইডে উপলক্ষে শুক্রবার ছুটি। তাছাড়া শনি রোববারের উইকএন্ড তো আছেই। সামনে তিনদিনের অফুরন্ত অবসর এবং এ ধরণের একটা লেখা শেষ করার জন্য যথেষ্ট সময়, ভাবনাটা মাথায় ঢুকতে ঘুমাতে গেলাম। সকালে অবশ্য নির্দ্দিষ্ট সময়েই ঘুম ভাঙল। প্রচ¨ গরম পানিতে দশ মিনিটের একটা ঝটপট গোসল দিয়ে মুছে ফেললাম রাত জাগার ক্লান্তি।

WatchDog's picture

আল কায়েদা হুমকি ও ক্ষমতা সমীকরণের মধুচন্দ্রিমা...WD

16.jpg পাঠকদের মনে থাকতে পারে বিএনপির শেষ টার্মের শেষ দিকের কিছু ঘটনা। হঠাৎ করে ভারতীয় মিডিয়া ইনিয়ে বিনিয়ে প্রচার করতে শুরু করে আল কায়েদার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মিশরীয় ডাক্তার আইমেন আল জাওহিরি নাকি বাংলাদেশে। এবং বাংলাদেশি সরকার তাকে সব ধরণের সহযোগীতা দিয়ে লুকিয়ে রাখছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র সফরের আসেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী জনাবা শেখ হাসিনা। তিনি পরিষ্কার ভাষায় মার্কিনিদের জানিয়ে দেন এখনই ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে পরবর্তী আফগানিস্থান।

WatchDog's picture

নতুন বাংলাদেশের সন্ধানে... আমিও থাকবো এ কাফেলায়! WD

30.jpg ঠিক আছে মেনে নিলাম ৭১'এর যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারের দলই আমাদের আসল সমস্যা। চারিদকে রব উঠছে এদের নির্মূল করলেই নাকি দেশের সব সমস্যায় ম্যাজিকেল চেঞ্জ আসবে। আসুন এবার এ সমস্যরা স্থায়ী সমাধানের দিকে চোখ ফেরাই। যুদ্ধাপরাধীদের নির্মুল এখন সময়ের ব্যপার মাত্র। এ নিয়ে নতুন কোন তেনা প্যাচানোর সুযোগ নেই। বাকি রইল রাজাকারের দল। এখানে আমাদের মূখ্যমন্ত্রীর বয়ান আমলে না নিলে দেশদ্রোহির খাতায় নাম লেখাতে হবে। এই যেমন তিনি বলেছিলেন 'সব রাজাকারই যুদ্ধাপরাধী নয়'...বক্ত্যবের সাথে দ্বিমত করার কারণ দেখিনা।

WatchDog's picture

ওয়াস্তাগফেরুল্লাহ বিন মহম্মদ জাফরুল্লাহ ও কতিপয় চেতনা ব্যবসায়ী...WD

গই গেরামে একখান মূল্যবান কতা মুখে মুখে ঘুইরা বেড়ায়। হেরা কয়, যেই গেরামে যত বেশী মসজিদ হেই গেরামে তত বেশি পাপ। আমি কই, ওয়াসতাগফেরুল্লাহ বিন মোহম্মদ জাফরুল্লাহ, এইডা তুমি কি কইলা? হেয় কয়, পাপের উপর রড সিমেন্ট লাগাইতে মসজিদ ভেরি এপেকটিব। মামা, চুরি কইরা দুনিয়া গাং করেন, মাগর হেই চুরির মাল দিয়া আপনে যদি মোক্কা-মদিনায় নবীজির মাজার জেয়ারত করেন এবং নিজ মায়ের নামে গেরামে একখান আলীশান মজিদ বানান (বাইচ্চা থাকতে মায়েরে কিলাইছেন, গুতাইছেন, হক মারছেন তা হিসাবে আইবোনা) খেলা এক্কেরে ফাইনাল। কোয়াটার আর সেমি খেলার পিলার পাইবেন না।

WatchDog's picture

টিক্কা খানের আসনে আওয়ামী লীগ...WD

47.jpg
কাদের মোল্লার ফাঁসির তাবিজ গলায় ঝুলিয়ে ডেডিকেটেড আওয়ামী একটিভিষ্টরা অনলাইনে যেসব গান গাইছে তা এখন লাশ নিয়ে গোরস্তানে যাওয়ার গানের মত শোনাচ্ছে। মিহি সুরের এসব গানে আগের মত প্রাণ নেই। গলায়ও নেই তেমন জোর। অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারকে ডিফেন্ড করার বাংলা শব্দের ভান্ডার খুব ধনী নয়।

Syndicate content