Waset Shahin's blog

Waset Shahin's picture

বিশ্বকাপ ফুটবল অভিন্ন বিশ্বসংস্কৃতির মহোৎসব

ফুটবল। খেলার নামও ফুটবল আর গোলাকার যে বস্তুটি দিয়ে খেলা হয় তার নামও ফুটবল। বিষয়টি ভালোই মজার। এর জন্ম ইংল্যান্ডে। প্রচলনও বহু আগে, ১৮০০ সালে। শুরু থেকে নানান ফরম্যাট বদলে বদলে আজকের আধুনিক ফুটবলে উপনীত হয়েছে। বিশ্বে হাজারো খেলা রয়েছে, অঞ্চল ভেদে, দেশ ভেদে বিভিন্ন খেলার প্রচুর জনপ্রিয়তাও রয়েছে। তবে ফুটবলের আবেদন সম্পূর্ণ আলাদা। এটি যেন সারা বিশ্বের সব দেশের শত শত কোটি মানুষের হৃদয়কে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে। মহাদেশ, দেশ, অঞ্চল, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ- সব ভেদাভেদ মিশে একাকার হয়ে যায়। ফুটবল যেন এক অনুপম অভিন্ন বিশ্বসংস্কৃতি। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো কিছু সব মানুষকে এভাবে বাঁধতে পারেনি। অনাবিল শিহরণ আর আনন্দের জোয়ার সব বিশ্ববাসীর হৃদয়কে তোলপাড় করে। ফুটবল এক অসাধারণ জনপ্রিয় খেলার নাম। যে পারে সেও খেলে, যে পারে না সেও পিছিয়ে থাকে না। যেমন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো- ইন্ডিয়া, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ ইত্যাদি। এমন বহু দেশ রয়েছে যারা বিশ্বমানের ফুটবলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। তার পরও এসব দেশ ফুটবল উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই। বরং বলা যায় পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। কোথায় সেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, সহস্র মাইল দূরের দেশ। তাদের সঙ্গে নেই কোনো আকার-আকৃতি, মানস-প্রকৃতি, ধর্ম-সংস্কৃতির মিল_ তবুও বাংলাদেশের অলি-গলিতে, দোকানে, বাড়িতে সেসব দেশের অসংখ্য পতাকা পত পত করে উড়ছে, পছন্দের টিমের জার্সি মানুষের গায়ে গায়ে। মেসি-নেইমারের ছবিতে সয়লাব বাড়ি, ঘর, প্রান্তর।

Waset Shahin's picture

তোমার ভাবনা

তোমার ভাবনার রশ্মি ছেয়েছে
চেতনার আংগিনা বিশাল
দেয়ালের এপাড় ওপাড়
গুহা অরন্য জল ভরা নদীর বুকের পাজর;
রাতে স্নিগ্ধ পূর্ণিমার মায়া
দুধের ফোঁটা যেন ঝরে ঝরে পড়ে
পত্র পল্লবে বৃক্ষের
বিস্তীর্ণ জমিনে ঘাসের ডগায়
শান্ত দীঘির জল নদীর কম্পমান ঢেউ;

Waset Shahin's picture

রঙধনূ-৮

সেমিস্টারের শুরুতে রেন্টাল লাইব্রেরী থেকে বই দিবে। ফর্ম খু্ঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। সব সময়েই লাইব্রেরীর সামনে এক গাদা রাখা থাকে। এবার নেই। বিষয় কি? তখনো লাইব্রেরী খোলেনি। কাউন্টারের ফাঁকে মাথা নিয়ে রাহিম জানতে চাইল ফর্ম কোথায়। ‘ফর্মতো বাইরে টেবিলের উপর রাখা আছে, নিয়ে নেন।‘ ‘কিন্তু টেবিলেতো ফর্ম নেই।‘ রুম থেকে একজন কর্মচারী বেরিয়ে এসে দেখল, আসলেই নেই। সে আশ্চর্য হল। কয়েক রিম কাগজের ফর্ম সাইক্লোস্টাইল করা হয়েছে। গেল কই সেসব? লাইব্রেরীয়ানকে জানানো হল। ভেতরে বাইরে আরো ভাল করে খোঁজা হল। কোথাও পাওয়া গেল না। অগত্যা লাইব্রেরীয়ান ঘোষনা করে দিলেন সেদিন বই দেয়ে হবেনা, পরের দিন দেয়া হবে।

Waset Shahin's picture

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ

কবি জীবনানন্দ দাশ। বাংলা ভাষায় অলংকার সাজানো এক মহাপুরুষের নাম। বাংলাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান। বাংলাকে, এর প্রকৃতিকে এমন গভীর মমতায় আর কে ভালোবেসে তার নিপুণ ছবি এঁকেছেন। তিনি কবিতায় এ দেশের প্রকৃতিকে মূর্ত করেছেন। আলোকিত চেতনার ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন অনুপম বাংলাকে। এই বাংলা তাকে ভালোবাসার বিনিসুতার বাঁধনে জড়িয়েছে আর তিনিও প্রাণ মেলে সঁপে দিয়েছেন নিজেকে। কলমের ডগায় নিঃসরিত হয়েছে তার আজন্মের সাধ,
তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও
আমি বাংলার পাড়ে রয়ে যাব।

Waset Shahin's picture

কে কোথায় আছিস তোরা বল

প্রিয় বন্ধুরা
কত যুগ আগে হৃদয়ের কচি ঘাস বনে বেঁধেছিলে বাসা
চোখের আড়ালে মনের অগোচরে হারাল সে দিন,
কত জল বয়ে গেল অকূল সমুদ্রে
নিভূ নিভূ হল কবে সলতে প্রাণের।
আজ আছো কে কোথায়
বেদনার্ত কাল মেঘে নাকি আকাশের তারায়?

Waset Shahin's picture

অনুপম দর্শনীয় গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক

মানুষ স্বভাবতই বৈচিত্র পিয়াসী এবং নতুনত্বের স্বাদ আস্বাদনে উদগ্রীব। পৃথিবীর নানাপ্রান্তে যত প্রাণী, জড় ও বিচিত্র পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে সেসব জানার জন্য মানুষের রয়েছে অদম্য আগ্রহ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের লোকালয় ও বনাঞ্চলে বিচরণকারী জন্তু জানোয়ার সচক্ষে দেখার স্বাদ আস্বাদন এক মজার পরিতৃপ্তি ও অভিজ্ঞতা। পৃথিবীর সর্ব প্রথম চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত হয় লন্ডনে ১৮২৮ সালে। এখনতো পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই রয়েছে চিড়িয়াখানা। গভীর বনের হিংস্র এবং অন্যান্ন নানান প্রাণী এসব চিড়িয়াখানায় খাঁচার ভেতরে রেখে প্রদর্শন করে জনগনের চিত্তবিনোদন এর উদ্দেশ্য।

Waset Shahin's picture

রংধনূ-৭

সাহেদাই দরোজা খুলে দিলেন। তমাকে দেখেই হাত দিয়ে কাছে টেনে নিলেন। ‘কেমন আছ তুমি মা?’ মার গলা জড়িয়ে ধরে তমা জিজ্ঞেস করল।
‘আছি মা ভাল, তুই কেমন আছিস?’
মেয়েকে তাঁর ঘরে রেখে তিনি রান্না ঘরে ঢুকলেন। দ্রুত এক গ্লাস লেবুর শরবৎ বানিয়ে নিয়ে এলেন। রাত দশটা বাজে প্রায়। তাঁর রাতের খাবার শেষ হয়েছে বেশ আগে। তমা বলল,’ শরবৎ খাবনা। ভাত খাব। খিদে লেগেছে। ভাত কি মা আছে?’ সাহেদা হাসলেন।

Waset Shahin's picture

রয়েছে সুখ অনন্ত-১

হাত ঘড়ির দিকে তাকাল একা। ওর সাথে মোবাইল আছে। ওয়ালে সাঁটা দেয়ালঘড়িও রয়েছে। তবুও কেন জানি সময়ের কথা মনে হলেই একার দৃষ্টি হাত ঘড়ির ডায়ালে চলে যায়। ওর হাত ঘড়িটা সুন্দর। গোলাপী ডায়াল। রঙটাও একার প্রিয়। সে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর বাবা ওকে দিয়েছিলেন। তিনি ব্যবসায়ের কাজে সিংগাপুর গিয়েছিলেন। ওখান থেকে কেনা। বাবা উপহার দিয়েছেন বলে নাকি প্রিয় রঙ গোলাপীর জন্য তা পরিষ্কার বুঝতে না পারলেও ঘড়িটা একার খুবই প্রিয়। বাবাও ওর খুব প্রিয়। ওদের চার ভাই বোনের মাঝে একা বড়, সেজন্যই হয়তোবা ওকেই বাবা বেশি আদর করেন।

Waset Shahin's picture

রংধনূ-৬

আগামী দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। পরেরদিন তিনটা ক্লাশ আছে। খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। মিস করলে তেমন সমস্যা হবেনা। তমা বিকাল তিনটায় রাজশাহীর বাসে চড়ে বসল। আষাঢ়ের বৃষ্টি ঝরছে কদিন ধরে। তবে আজ বিকেলে বৃষ্টির ধার বেশ কম। টিপ টিপ পড়ছে। পুরো আকাশ জুড়েই রয়েছে মেঘ। নিচের সাদা সাদা মেঘ গুলো ছুটে বেড়াচ্ছে। সহসাই ঝুম হয়ে নেমে আসার আভাস। ভালই হয়। বর্ষায় যতই বৃষ্টি ঝরবে ততই ভাল, ভাবল তমা। তার বাড়িতে যেতে যতটা মন কাঁদে ততটা মন টানেনা। কারন হচ্ছে ভাবী। বিচিত্র এক মেয়ে। ওর ভাইয়ের বউ এতটা খারাপ হবে সে ভাবেনি।

Waset Shahin's picture

রংধনূ-৫

আষাঢ়ের মাঝামাঝি। প্রবল বর্ষন কদিন ধরে। বেশ শীত শীত ভাব। কদিন আগের প্রচন্ড গরম পরাভূত হয়েছে। স্বস্তি ফিরে এসেছে জনজীবনে। খাল বিল জলাশয়ে টইটুম্বুর পানি।
এক সকালে ওরা ঢাকা থেকে রাহিমদের হলে চলে এল। সিমি, পলি, প্রদীপ। ওদের দেখে রাহিমের মনে হল, ইশ, তমা যদি আসত। যদিও মেয়েটি সম্পর্কে যতটুকু জেনেছে এটা প্রায় অসম্ভবই বটে। কেন যেন মনের গহীন থেকে অসম্ভব সব ইচ্ছেরাও জানান দিয়ে যায়। রুমের দরজা খোলাই ছিল। ওরা ঢুকল হঠাৎ করেই। বেশ হৈ হৈ আনন্দের সোর উঠল। ওরা এসেছে নৌকা ভ্রমনের আশায়। রাহিম সফিকের রক্তেও কাঁপন উঠল। চট জলদী রেডী হয়ে রওনা হয়ে গেল। নৌকা ঘাটে যাওয়ার আগে যেতে হবে সাইদের বাসায়। ও শহরে থাকে। ঘাট থেকে বেশি দূরে না।

Syndicate content