Syed.Abul.Maksud's blog

Syed.Abul.Maksud's picture

নির্বাচন ও গণতন্ত্রের বাপ

আজকাল উপলক্ষের অভাব হয় না। নানা উপলক্ষে নানা রকম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী তো আছেই। অনেকে জীবদ্দশাতেই প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজনটাও দেখে যেতে চান। সেদিন রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা কাব্যের এক ক্ষণজন্মা কবির ২৭ বা ২৮তম জন্মবার্ষিকীর মস্ত বড় প্রেস রিলিজ প্রকাশিত হলো একটি বা একাধিক জাতীয় দৈনিকে। আরেক কবি ও নাট্যকার যিনি জীবদ্দশায় জন্মদিন উদ্যাপন করেননি, তাঁর মৃত্যুর ১১ দিন পর, কুলখানির এক সপ্তাহ পর, জন্মদিন উদ্যাপনের প্রকাণ্ড খবর।

Syed.Abul.Maksud's picture

তবু ২০১৪ শুভ হোক

রাত পোহালেই নতুন বছরের শুরু। মহাকালের অতল গহ্বরে বিলীন হয়ে গেল একটি বছর। আদি-অন্তহীন সময়ের মধ্যে একটি বছর একটি বিন্দুর মতো। কোনো জাতির জীবনেও একটি বছর অতি অল্প সময়ই বটে। তবে কখনো একটি বছর ঘটনা-বৈচিত্র্যে স্মরণীয় হয়ে থাকে। ২০১৩ খ্রিষ্টীয় অব্দটি বাংলাদেশিদের জন্য পূর্ববর্তী অন্য বছরের মতো নয়—একটি বিশেষ বছর।

Syed.Abul.Maksud's picture

বঙ্গীয় হলফনামা

গণতন্ত্রের সঙ্গে হলফনামার কোনো সম্পর্ক আগে ছিল না। এই শব্দটিই আগে ভোটাররা শোনেননি। কেউ, যদি তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হন, তাঁর সম্পদ ও অর্থকড়ি মাসে কত গুণ বাড়বে তা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। তা জানার অধিকার কারও নেই। বিশেষ করে গরিব ভোটারদের, যাঁদের দুবেলা ভাত বা রুটি জোটে না, তাঁদের জানার প্রয়োজন কী?

Syed.Abul.Maksud's picture

হাতির দাঁত ও বাংলাদেশ

হাতি যে দাঁতগুলো দিয়ে খায়, সেগুলো আমরা দেখতে পাই না। যে দাঁত দুটি আমরা দেখি, ও-দুটি তার শোভাবর্ধনকারী দাঁত। শুঁড়ে ঢাকা ভেতরের দাঁতগুলো অতি ধারালো ও তীক্ষ। তা ছাড়া হাতিরও মাহুত থাকে। সেই হস্তীচালক যেভাবে নির্দেশ দেয়, হাতি সেভাবেই চলে। কারণ, তারও পুরোপুরি স্বাধীনতা নেই যা খুশি করার।
প্রকাশ্যে কথা বলার সময় আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের মুখে যে হাসিটি দেখা যায়, সেটি তাঁর শোভা মাত্র।

Syed.Abul.Maksud's picture

একটি সাক্ষাৎকারের ময়নাতদন্ত

বাংলা সাহিত্যে একসময় কবি-সাহিত্যিকদের একেকটি বন্ধুবৃত্ত ছিল। কলকাতায়ও ছিল, ঢাকায় ছিল। সমমনা ও অভিন্ন রুচিসম্পন্নদের নিয়ে গড়ে উঠত সেই বৃত্ত। ঢাকায় একসময় একটি চমৎকার বন্ধুবৃত্ত ছিল। এবং তা অটুট ছিল তাঁদের কারও কারও মৃত্যু পর্যন্ত। সেই বন্ধুবৃত্তে ছিলেন কবি আবুল হোসেন, কথাশিল্পী রশীদ করীম, কবি ও অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী এবং কবি শামসুর রাহমান। তাঁরাই ছিলেন প্রধান, তবে কখনো তাঁদের বৈঠকে আরও কেউ যোগ দিতেন।

Syed.Abul.Maksud's picture

ডিসেম্বর ’৯০—ডিসেম্বর ২০১৩

আজ ৩ ডিসেম্বর। তিন দিন পর ৬ ডিসেম্বর। বাংলাদেশে সরকারে এবং বিরোধী দলে যাঁরা রাজনীতির কুশীলব, তাঁদের কোনো পক্ষেরই ডিসেম্বরের প্রথম ছয়টি দিনের কথা ভুলে যাওয়ার কথা নয়। আজ ৩ ডিসেম্বর দেশের যেসব কিশোরী ও কিশোর ১৩ বছর পূর্ণ করল, এখনো সাবালক হয়নি, যদিও তাদের অনেকের নৈতিকতাবোধ ও দেশাত্মবোধ প্রতিদিন মিডিয়ায় যাঁদের দেখা যায় তাঁদের অনেকের চেয়ে বেশি, তারা টিভি দেখে ও কাগজ পড়ে, তাদের মনে হতে পারে বাংলাদেশে এই নভেম্বর-ডিসেম্বরেই শুধু হরতাল-হাঙ্গামা হচ্ছে এবং মানুষ মরছে। অতীতে কোনো দিন বাংলার মাটিতে হরতাল-হাঙ্গামা-প্রাণহানি হয়নি।

Syed.Abul.Maksud's picture

আজাওজা সরকার ও মহা জুয়া খেলা

জগতে কখনোই একই জাতীয় দুটি বা তারও বেশি ঘটনা এক রকম হয় না। স্থানবিশেষে, সময়ের কারণে এবং কাদের দ্বারা তা নিয়ন্ত্রিত, তার ওপর ঘটনার চরিত্র ভিন্ন হয়। স্থান, কাল, পাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেমন মহাযুদ্ধ দুটোই, কিন্তু প্রথম মহাযুদ্ধের সঙ্গে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পার্থক্য বিরাট। যদি তৃতীয় মহাযুদ্ধ হয়, তারও চরিত্র হবে আগের দুটি থেকে অন্য রকম।
কোনো দেশের রাজনৈতিক সংকটের ক্ষেত্রেও তাই।

Syed.Abul.Maksud's picture

সৌজন্যবোধ ও বাঙালির কথাবার্তার কথা

বনে-জঙ্গলে বাস করলে আলাদা কথা, কিন্তু সংসারে বাস করলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করতেই হয়, এমনকি কখনো শত্রুর সঙ্গেও। সমঝোতা হোক বা না হোক, শত্রুর সঙ্গেও সৌজন্যমূলক আচরণ মনুষ্যত্বের পরিচয়। শত্রুকে ছলে-বলে-কৌশলে পরাজিত করা এক কথা, আর তাকে অপমান করা আরেক কথা। শত্রুকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করার মধ্যে বাহাদুরি তো নেই-ই, নিজের নিচুতারই প্রকাশ ঘটে। পুরো পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই বাসের মধ্যে লেখা দেখেছি ‘ব্যবহারে বংশের পরিচয়’, যদিও বাংলাদেশেই বাসের মধ্যে যাত্রীদের সঙ্গে বাস কন্ডাক্টরের বচসা শুধু নয়, মারামারি পর্যন্ত হয়। ভাড়া নিয়ে মারামারি হওয়া খুব স্বাভাবিক। পা মাড়ানো নিয়ে তর্ক করতে করতেও হাত চলে। কার আগে কে বসবে, তা নিয়ে ধস্তাধস্তি ও ঘুষাঘুষি। ঘুমের আবেশে পাশের যাত্রীর ঘাড়ের ওপর ঢলে পড়া নিয়ে ধাক্কাধাক্কি ও অশ্লীল বাক্যবিনিময়।

Syed.Abul.Maksud's picture

মুহূর্তটির দাবি মিলের—গোঁজামিলের নয়

গত দুই দিনে রাজনৈতিক সহিংসতায় জনা দশেকের বেশি নিহত হয়েছেন। কেউ বলবেন, দেশে দেশে রাজনৈতিক কারণে যে হারে মানুষ মরছে, তাতে এটি আর তেমন বড় সংখ্যা কী? অনেক বছর আগে ইতালিতে এক শিশু কুয়ার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। তাকে উদ্ধারের জন্য রাষ্ট্র সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল। সেই আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন করায় এক নেতা বলেছিলেন, হোয়েন কোশ্চেন অব লাইফ, ওয়ান ইজ টু বিগ এ নাম্বার। যেখানে জীবনের প্রশ্ন জড়িত, সেখানে একজন মানুষই অনেক বড় সংখ্যা।

Syed.Abul.Maksud's picture

প্রক্রিয়া এগিয়ে যাক

দুই নেত্রীর মাঝে ফোনে কথা বলাকে সংলাপের সূচনা বলা চলে। যে কেউই বোঝে এই সংলাপ দুই নেত্রীর নিজেদের ইচ্ছেয় হয়নি। এটা হয়েছে বাইরের চাপে। এখানে রয়েছে নাগরিক সমাজ, দেশের মানুষ এবং বিদেশিরা। তারপরও এই ফোনে কথা বলাকে একটি ভালো সূচনাই বলা চলে। তবে এই ফোনের পরেই থেমে যাওয়া নয়; বরং এই প্রক্রিয়াকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কর্মসূচি প্রয়োজন। দুই পক্ষ থেকেই যদি ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তাহলে এই ফোনে কথা বলা অর্থবহ হবে। তা না হলে শুধু একটি ফোনে অচলাবস্থার পরিবর্তন ঘটবে না। আমাদের নেতাদের মনে রাখতে হবে জনগণের নিজস্ব রায় রয়েছে।

Syndicate content