বাটি চালান তত্ত্ব বনাম গণতন্ত্র
শূন্য কলস বাজে বেশি। কাজে জোর থাকলে কথার জোরের প্রয়োজন হয় না। সাম্প্রতিককালে মন্ত্রীদের উল্টাপাল্টা বিবৃতি ও বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, তাঁদের কাজের জোর একেবারেই কমে গেছে।
ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা মহা-উৎসাহে দিনবদলের কথা বলতেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের খোয়াব দেখাতেন। কিন্তু তিন বছর চার মাস পর এখন আর তাঁদের মুখে সেসব আশার বাণী শোনা যাচ্ছে না। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, নেতা-পাতিনেতারা হররোজ বিরোধী দল ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়ছেন। যেকোনো ঘটনার পেছনে কষ্টকল্পিত ষড়যন্ত্র খুঁজছেন। তাঁদের ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব শুনে শৈশবে পড়া রাখাল বালক ও বাঘের গল্পটি মনে পড়ল। সেই রাখাল বালক ‘বাঘ আসছে বাঘ আসছে’ বলে প্রতিদিন গ্রামবাসীকে চিৎকার দিয়ে জাগাত। গ্রামবাসী ঘুম থেকে উঠে দেখত, বাঘের নাম-গন্ধ নেই। বালকটি আসলে গ্রামবাসীর ঘুম ভাঙিয়ে মজা পেত। কিন্তু এরপর সত্যি সত্যি যেদিন বাঘ এল, সেদিন তার শত চিৎকারেও কেউ ঘর থেকে বেরিয়ে এল না। অগত্যা বালক বাঘের পেটে চালান হয়ে গেল।
Sohrab.Hassan's blog

শিকড়ের, না ব্যবসায়ীদের আওয়ামী লীগ?
Thu, 17/05/2012 - 1:10pm | by Sohrab.Hassan
শুভ ও অশুভর সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ
Sun, 13/05/2012 - 1:35pm | by Sohrab.Hassanবাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এর থেকে উত্তরণের কোনো পথ নেই বলে যাঁরা হতাশা ছড়ান, আমরা তাঁদের সঙ্গে একমত পোষণ করতে পারছি না। যেমন আমরা একমত হতে পারছি না সরকারি দলের নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে, যাঁরা জোরগলায় বলে বেড়ান, তাঁরা এমন গণতন্ত্র জাতিকে উপহার দিয়েছে, যা কখনোই ছিল না। বাংলাদেশের অবস্থা আগে এর চেয়ে খুব ভালো ছিল, সে কথা যেমন ঠিক নয়, তেমনি খুব খারাপ ছিল তাও মানতে রাজি নই।
বাংলাদেশের গত ৪০ বছরে অনেক অর্জন আছে, অনেক সাফল্য আছে। এই অর্জনের পেছনে প্রধান তিন চালিকাশক্তি—কৃষক, প্রবাসী শ্রমিক ও তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক। তাঁদের শ্রমে, ঘামে ও রক্তে নেতা-মন্ত্রী, আমলা, ব্যবসায়ী এবং আমাদের মতো সাদা পোশাকের পেশাজীবীদের আরাম-আয়েশ ও আহ্লাদ নিশ্চিত হয়। অতএব, যাঁরাই দেশ নিয়ে, সমাজ নিয়ে, প্রগতি নিয়ে বড় বড় কথা বলেন, তাঁদের একবার আয়নায় নিজের চেহারা দেখা উচিত।
এ কথা ঠিক, দেশের এই অর্জনকে আমরা আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারতাম। রাজনৈতিক নেতৃত্বের খেয়োখেয়ি, ঝগড়াঝাঁটি, সুবিধাভোগী শ্রেণীর অতি স্বার্থবাদিতা এবং সমাজমানসের পশ্চাৎপদতার জন্য তা সম্ভব হয়নি। এই সরল সত্যটি স্বীকার করে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

রাজনীতি বড়, না মানবতা?
Sun, 06/05/2012 - 1:35pm | by Sohrab.Hassanগত ২ মে সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিখোঁজ বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীরের সাক্ষাতের দৃশ্যটি যাঁরা টিভির পর্দায় দেখেছেন, তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়েছেন। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের একজন নেতার স্ত্রী হিসেবে রুশদীরকে তিনি সাক্ষাৎ দিয়েছেন, তা মনে হয়নি। দুই কিশোর পুত্র ও এক শিশুকন্যাকে নিয়ে রুশদীর গিয়েছিলেন দেশের প্রধান নির্বাহীর কাছে নিখোঁজ স্বামীর সন্ধান পেতে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সালাম করলেন। প্রধানমন্ত্রীও তাঁকে পরম আদরে বুকে টেনে নিলেন, যে ছবি পরদিন প্রায় সব পত্রিকায়ই ছাপা হয়েছে। আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর শিশুকন্যাকে কাছে ডেকে নিয়ে বসান ও আদর করেন। এ সময় রুশদীর বলেন, ‘পরিবারের কোনো সদস্যকে হারানো কিংবা আপনজনকে খুঁজে না পাওয়ার বেদনা তো আপনি ভালো করে বোঝেন। তাই, আশা নিয়ে আপনার কাছে ছুটে এসেছি।’ (ইত্তেফাক, ৩ মে ২০১২)
রুশদীরকে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘তাঁর কাছে রাজনীতির চেয়ে মানবতার স্থান অনেক ওপরে। আগে মানবতা, পরে রাজনীতি।’

গুম নিয়ে ঘুম নেই
Wed, 02/05/2012 - 12:12pm | by Sohrab.Hassanএকটি গুমের ঘটনা গোটা জাতির ঘুম হরণ করে নিয়েছে। সবাই ব্যস্ত সেই গুমের রহস্য বের করতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কিনারা পাওয়া যাচ্ছে না।
বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীর গুম হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশবাসী উদ্বিগ্ন। হরতাল সমর্থন না করেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনও।
সরকার শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিন-রাত কাজ করছে। পুবাইলে প্রথম অভিযানে তারা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীরকেও নিয়ে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে এক হাজার ২০০ অভিযান চালানো হয়েছে। ধরে নেওয়া যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘুমকে হারাম করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। একজন মানুষকে উদ্ধারে এক হাজার ২০০ অভিযান! তার পরও দেশবাসী অন্ধকারে।

‘মিডিয়া এত হইচই করছে কেন’?
Sun, 29/04/2012 - 2:33pm | by Sohrab.Hassanবিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের মতো বর্তমান মহাজোট সরকারও মনে করে, দেশে কোনো সমস্যা নেই, সংকট নেই। যেসব সংকটের কথা বলা হচ্ছে, তার সবই গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সৃষ্টি। এ প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর একটি উক্তি মনে পড়ছে। সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাই নামের এক জঙ্গি যখন গোটা রাজশাহী অঞ্চলে মানুষ হত্যা ও গুম করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলা ভাইয়ের অস্তিত্ব নেই, এসব মিডিয়ার সৃষ্টি।’ পরবর্তীকালে বিএনপি-জামায়াত সরকারই বাংলা ভাইকে গ্রেপ্তার করে প্রমাণ করে যে, তিনি মিডিয়ার সৃষ্টি নন।
কয়েক দিন আগে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন বড় দলের কয়েকজন ছোট নেতার সঙ্গে দেখা হতেই জবাবদিহি চাওয়ার সুরে বললেন, ‘আপনারা পেয়েছেনটা কী? ইলিয়াস আলীর মতো একজন বিতর্কিত ও কালিমালিপ্ত নেতাকে নিয়ে মিডিয়া এত হইচই করছে কেন?’
ইলিয়াস আলী কতটা বিতর্কিত ও কালিমালিপ্ত, সেই বিতর্ক করার সময় এখন নয়। তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব তাঁকে খুঁজে বের করা। সাংবাদিকেরা যদি ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পত্রিকায় লিখে থাকেন কিংবা টিভির টক শোতে তাঁকে নিয়ে কিছু বলে থাকেন, তাতে দোষের কী আছে? সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার মামলায় জয়ী না হলে যেমন শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়া যেত না, তেমনি ইলিয়াস আলী অপহূত না হলে সাংবাদিকেরা তাঁকে নিয়ে খবর লেখারও সুযোগ পেতেন না। সাংবাদিকেরা খবর তৈরি করেন না, তাঁরা কিছু ঘটলে মানুষকে জানান। কোন ঘটনার খবর কীভাবে লেখা হবে, সেই দায়িত্ব রাজনীতিকেরা নিলে দেশে সংবাদপত্র বলে কিছু থাকবে না, যা থাকবে তা হলো সরকারি প্রচারপত্র এবং তাতে কেবল সরকারের প্রশংসা থাকবে, সমালোচনা থাকবে না। সরকার ভুল করলেও বলতে হবে ‘আহ্ বেশ বেশ’।

সততা ও নিষ্ঠার বিদায়
Wed, 25/04/2012 - 12:32pm | by Sohrab.Hassanসাংসদ পদ থেকে তানজিম আহমদ সোহেল তাজের পদত্যাগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী কীভাবে নেবেন জানি না, কিন্তু সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় বছর আগেই সরকারি দলের একজন তরুণ সাংসদের এভাবে প্রস্থান গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
সোহেল তাজ প্রথমে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করলেন, এর পর সাংসদ পদ। একই সঙ্গে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকেও বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তাহলে কি সৎ, ধীমান ও স্পষ্টবাক ভদ্রলোকেরা রাজনীতি করতে পারবেন না? রাজনীতি কি কেবলই মোসাহেবদের পেশায় পরিণত হবে? বাংলাদেশের রাজনীতি কি স্থায়ীভাবে বেনিয়া, সুযোগসন্ধানী ও মাস্তানদের করতলে চলে যাবে?
এর আগে ২০০৯ সালের ৩১ মে সোহেল তাজ যখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান, তখনো তিনি পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছিলেন। কেননা তাঁর কোনো পদত্যাগই স্বেচ্ছায় ঘটেনি, ঘটানো হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। সরকারের ওয়েবসাইটেও সোহেল তাজকে এত দিন দপ্তরবিহীন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাঁর ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত মন্ত্রীর বেতন-ভাতা জমা হতো, যা বন্ধ করার জন্য কয়েক দিন আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন। এই রাষ্ট্রীয় অপচয়ের জবাব কী?

প্রধানমন্ত্রী কি ঠিক বলেছেন?
Sat, 21/04/2012 - 12:44pm | by Sohrab.Hassanআমরা কার কথা বিশ্বাস করব? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?
বিএনপির নেতা ও সাবেক সাংসদ ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক বলেছেন, ‘এ ঘটনায় সরকার বিব্রত।’ বিএনপির নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন স্মারকলিপি দিতে। তাঁরা ফিরে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে এটা ছিল তাঁর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আইজিপি খন্দকার হাসান মাহমুদকে নিয়ে ইলিয়াস আলীর বাসায় গিয়েছিলেন তাঁর স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে। তিনি বলেছেন, ‘তাঁকে উদ্ধারে সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।’ তাঁর মতো একজন রাজনীতিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন। বোমাটি হলো, ইলিয়াস আলী দলীয় নেত্রীর নির্দেশে কোথাও লুকিয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপির এক নেতা নাকি হারিয়ে গেছে। তাদের আরেক নেতা হারিছ চৌধুরী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকেই হারিয়ে আছে। সেও হারিছ চৌধুরীর মতো লুকিয়ে আছে কি না, কে জানে! আন্দোলনের ইস্যু তৈরি করতে বিরোধীদলীয় নেত্রীর নির্দেশে সে লুকিয়ে থাকতে পারে।’ (প্রথম আলো, ২০ এপ্রিল ২০১২)।

ঢাকা সিটির নির্বাচন, না মহাজোটের ‘প্রীতি ম্যাচ’?
Thu, 19/04/2012 - 12:02pm | by Sohrab.Hassanনিয়ত ঠিক না থাকলে কোনো কাজে সুফল পাওয়া যায় না—ঢাকা সিটি করপোরেশনের বিভক্তিই তার প্রমাণ। বাংলাদেশে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও ভারতে নয়াদিল্লি পৌর করপোরেশন একই দিনে ভাগ করা হয়। ঢাকা দুই ভাগ, দিল্লি চার ভাগ। দুই সিটি করপোরেশন ভাগের পক্ষেই যুক্তি দেখানো হয়েছিল নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধান ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর।
গত শনিবার নয়াদিল্লির তিনটি সিটি করপোরেশন—যথাক্রমে উত্তর দিল্লি, দক্ষিণ দিল্লি ও পশ্চিম দিল্লিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিকাংশ আসনে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন; অথচ নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায়। মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত। কংগ্রেস ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার সংস্থার এই নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছে। এতে কেন্দ্রে ইউপিএ বা দিল্লিতে কংগ্রেস সরকারের পতন ঘটেনি। বিরোধী দলও পৌর নির্বাচনে জয়ী হয়ে কংগ্রেস সরকারকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে বুলন্দ আওয়াজ তোলেনি।
এদিকে সরকার জনগণের কাছে দু-দুবার ওয়াদা করেও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে পারেনি। বিষয়টি এখন আদালতে গড়িয়েছে। সোমবার হাইকোর্ট তিন মাসের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করলে মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে আপিল হয়। আপিলে নির্বাচন স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে না বাতিল হবে, কয়েক দিনের মধ্যে জানা যাবে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমঝোতা কি সম্ভব?
Sat, 07/04/2012 - 12:13pm | by Sohrab.Hassanরাজনীতি নিয়ে আলোচনা এলেই যে প্রশ্নটি বড় হয়ে ওঠে, তা হলো: রাজনীতিতে কি সুস্থধারায় ফিরে আসবে না? সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এই অসুস্থ লড়াই কি চলতেই থাকবে? মত ও পথের পার্থক্য সত্ত্বেও দেশের দুটি প্রধান দলের মধ্যে ন্যূনতম কর্মসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে না? নেতা-নেত্রীরা কি একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়াতে থাকবেন? তাঁরা কি নতুন প্রজন্মের কাছে এর চেয়ে ভালো কোনো দৃষ্টান্ত রেখে যাবেন না?
রাজনীতিতে আরও যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন চলমান, সেগুলো হলো: আগামী নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হবে কি না? না হলে কী হবে? হলেও কীভাবে হবে? সেই নির্বাচনের সময় কোন ধরনের সরকার ক্ষমতায় থাকবে? আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার, নাকি বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার? আবার কেউ কেউ তৃতীয় বিকল্পের কথাও বলছেন। সম্প্রতি ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রথম অলোয় একটি লেখায় গণভোট করা কিংবা সরকার ও বিরোধী দলের সাংসদদের নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এর আগেও কেউ কেউ অনুরূপ প্রস্তাব দিয়েছেন। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে আসার ওপর জোর দিয়েছেন। আমাদের রাজনীতিতে বৈরিতা ও সংঘাত যত বাড়তে থাকবে, তত বিদেশি বন্ধুদের পরামর্শও জোরালো হতে থাকবে।

রাজনীতির বিষ ছাড়াবেন কে?
Thu, 05/04/2012 - 3:16pm | by Sohrab.Hassanবাংলাদেশের রাজনীতিকেরা আর কিছু না পারুন, লম্বা-চওড়া কথা বলতে তাঁদের মোটেই বাধে না। তাঁরা কখন কী বলেন, তা নিজেরাও জানেন না।
আমাদের জনদরদি রাজনীতিকেরা নির্বাচনের আগে জাতির কাছে বড় বড় ওয়াদা করেন, নম্র ও বিনয় সম্ভাষণে ভোটারদের মন জয় করতে সচেষ্ট থাকেন। কিন্তু নির্বাচনের পরই তাঁদের আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। ক্ষমতাসীনেরা মনে করেন, মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার জোরেই তাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন। বিরোধী দল মনে করে, জনগণ যেহেতু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেহেতু পাঁচ বছর তাদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। তারা কেবল সরকারের সঙ্গে অসহযোগ করে না, অসহযোগ করে জনগণের সঙ্গেও। হরতাল-অবরোধ ও সংসদ বর্জনই তার প্রমাণ।
আরেকটি মজার ব্যাপার হলো, রাজনীতিকেরা নিজেদের ব্যর্থতার দায় বরাবর প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে নিজেদের মহাপবিত্র প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লাগেন। বিরোধী দল সংসদে যায় না, সেটি তাদের ব্যর্থতা। কিন্তু তারা বলবে, সরকার সংসদে তাদের কথা বলতে দেয় না, তাই তারা সংসদে গরহাজির থাকে। তবে এবার তিন দিনের জন্য সংসদে গিয়ে বিরোধী দলের সাংসদেরা যেসব কথা বলেছেন, তা অশালীন, অশ্রাব্য ও অভদ্রজনিত। এসব কথা শুনে অনেক ভদ্রমহিলা ও ভদ্রলোক কানে আঙুল দিতে বাধ্য হয়েছেন।
Recent comments
2 min 19 sec ago
2 min 48 sec ago
3 min 29 sec ago
3 min 45 sec ago
5 min 1 sec ago
7 min 43 sec ago
8 min 38 sec ago
8 min 59 sec ago
9 min 24 sec ago
10 min 11 sec ago