Sohrab.Hassan's blog

Sohrab.Hassan's picture

গভীর সংকটে বিএনপি

১৯৮৪ সালে খালেদা জিয়া বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার পর এর আগে তাঁর সঙ্গে দলের অন্য নেতাদের এতটা সন্দেহ ও অবিশ্বাসের সম্পর্ক কখনোই তৈরি হয়নি। ২০০৭ সালে তিনি কারাগারে থাকতে বিএনপি প্রায় দ্বিধাবিভক্ত হতে যাচ্ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার প্রতি দলের অধিকাংশ নেতা এবং কর্মীদের আস্থা অটুট ছিল। এমনকি চারদলীয় শাসনামলে ‘তারেক রহমানের বাড়াবাড়িতে’ জ্যেষ্ঠ নেতারা অস্বস্তি বোধ করলেও দলপ্রধানের প্রতি তাঁদের আনুগত্যে ঘাটতি দেখা যায়নি, যা ঘটেছে তাঁর সাম্প্রতিক কিছু বক্তৃতা-বিবৃতিতে।

Sohrab.Hassan's picture

হেফাজতে বাংলাদেশ চাই

১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান রাওয়ালপিন্ডিতে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। নিহত হওয়ার আগমুহূর্তে তিনি বলেছিলেন, ‘খোদা, পাকিস্তানকে হেফাজত করো।’

এ ঘটনার ২০ বছরের মাথায় পাকিস্তান ভেঙে যায় এবং লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

Sohrab.Hassan's picture

হাসিনা-খালেদা পত্রবিনিময়

‘আপনি আমার আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন। আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে ১৯৯১ সালে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের মেয়াদ খুব শিগগির শেষ হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই সংবিধান অনুযায়ী অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশ ও জনগণের স্বার্থে আগামী নির্বাচনের আগেই চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

Sohrab.Hassan's picture

মৃত্যুকূপবাসিনীদের জন্য একটি প্রার্থনা

মানুষ কতটা নিষ্ঠুর আর কতটা অমানুষ হলে সাভারের ভয়াবহ দুর্যোগ নিয়ে বাদানুবাদ করতে পারেন। একজন আরেকজনের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা চালাতে পারেন। ক্ষমতাধর এ মানুষগুলোর মনে সামান্য দয়ামায়া থাকলে এমন কাজ করতে পারতেন না। সবকিছু নিয়ে রাজনীতি করা গেলেও মানুষের জীবন ও মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি কাম্য হতে পারে না।

Sohrab.Hassan's picture

গণতন্ত্রের ফটিকছড়ি মডেল!

গত বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে ১৮-দলীয় জোটের সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় দেশবাসী শুকরিয়া আদায় করেছে। কেননা এই সমাবেশে কোনো অঘটন ঘটলে সেই অজুহাতে পুলিশ পাইকারিভাবে জোটের নেতা-কর্মীদের পাকড়াও করে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দিত। আর সেই পাকড়াওয়ের প্রতিবাদে আজ শনিবার না হলেও কাল রোববার সারা দেশে আরেকটি হরতালের গজব নেমে আসত।

Sohrab.Hassan's picture

মুখ ও মোবাইল বন্ধ করা গণতন্ত্র!

পৃথিবীতে নানা কিসিমের গণতন্ত্র আছে—সংসদীয় পদ্ধতি, রাষ্ট্রপতি শাসিত। আবার যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মতো অনেক দেশে রাষ্ট্রপতি-পদ্ধতি থাকা সত্ত্বেও সংসদ যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্র বরাবরই ব্যক্তিনির্ভর। পৃথিবীর সব দেশে জাতীয় সংসদের কাছে মন্ত্রিসভা দায়ী থাকলেও বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী দায়বদ্ধ। বাংলাদেশে যখন রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা ছিল, তখন রাষ্ট্রপতিই সব। সংসদ ছিল রাবার স্ট্যাম্প। আর এখন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের ভাষায় রাষ্ট্রপতির ‘কবর জেয়ারত ছাড়া কিছু করার নেই’।

Sohrab.Hassan's picture

সংকট কমবে না বাড়বে?

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। ডাক মারফত নয়, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মারফত তাঁরা একে অপরকে শুভেচ্ছা কার্ড পাঠিয়েছেন। সাম্প্রতিক সহিংস ও বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটি খবর বটে। তবে তাঁদের প্রাত্যহিক আচার-আচরণ ও কথাবার্তায় এই শুভেচ্ছার ন্যূনতম নিদর্শন থাকলে দেশের চলমান রাজনৈতিক সমস্যা অনেকটাই নিরসন হতো বলে বিশ্লেষক থেকে শুরু করে দুই দলের নেতা-কর্মীরাও মনে করেন।

Sohrab.Hassan's picture

৬ এপ্রিলের পর কী?

টি এস এলিয়ট তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এ এপ্রিলকে অভিহিত করেছিলেন নিষ্ঠুরতম মাস হিসেবে। মূলত প্রকৃতির প্রকৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে এপ্রিল বা চৈত্র-বৈশাখ মাস মোটেই নিষ্ঠুর নয়। এই মাসে বাংলা নববর্ষ থাকায় ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলেন। কৃষকেরা নতুন ফসল রোপণের প্রস্তুতি নেন। আবহমান কাল থেকেই গ্রামে নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপিত হয়ে আসছে। এখন সেই উৎসবের ঢক্কানিনাদ শহরেও শোনা যাচ্ছে। বাড়ছে বেচাকেনাও।

Sohrab.Hassan's picture

হরতাল না বর্বরতা?

গতকাল প্রথম আলোর প্রথম পাতার ছবিটি যেকোনো পাঠকের মনকে ধাক্কা দেবে। বেঞ্চে শুয়ে আছে তিন-চারটি শিশু আর আতঙ্কভরা দৃষ্টিতে তাদের দিকে চেয়ে আছে সতীর্থরা। যে শিশুরা বিদ্যালয়ে এসেছিল পাঠ নিতে, একদল দুর্বৃত্ত তাদের আহত করেছে। আহত অবস্থায় তারা শুয়ে আছে বেঞ্চে। হরতালের নামে যাঁরা এমন নিষ্ঠুর ও বর্বর কাজ করতে পারেন, তাঁরা রাজনৈতিক কর্মী নন, দুর্বৃত্ত। আমরা এই দুর্বৃত্তদের ধিক্কার জানাই।

Sohrab.Hassan's picture

অবরুদ্ধ দেশ, অবরুদ্ধ মানুষ

মঙ্গলবার ছিল বাংলাদেশের ৪২তম স্বাধীনতা দিবস। এবারের স্বাধীনতা দিবসটি ‘গৌরবের সমাচারে’ অধিকতর মহিমান্বিত হতে পারত। যেসব বিদেশি নাগরিক মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছেন, আমরা তাঁদের সম্মাননা দিয়েছি। এটি চতুর্থ পর্বের সম্মাননা। এ রকম সম্মাননা যেকোনো জাতিরই গর্বের বিষয় এবং তা হওয়া উচিত দলমত-নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটি হয়নি। সম্মাননা অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের কেউই আসেননি। তাঁরা নিশ্চয়ই বলবেন, যথাযোগ্য মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। জানালেও কি তাঁরা যেতেন?

Syndicate content