গুম

Shuvo.Kibria's picture

শামীম ওসমানের ইমেজ ও আওয়ামী লীগের দিনবদল

রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে। পিছিয়েপড়া নারীরা সামনে এগোবে। সৎ, যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে থাকবে। সন্ত্রাস আর দুর্নীতিবাজরা অনুৎসাহিত হবে। দিনবদলের এসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, দিনবদলের সেই ইমেজ মানুষকে দিয়েছিল ভরসা। দিয়েছিল নির্ভরতা। ভোটের বাক্সে তার সমর্থনও মিলেছিল। ক্ষমতায় আসে মহাজোট সরকার।

ক্ষমতার আড়াই বছর যেতে না যেতেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহাজোট সরকারকে পড়তে হয়েছে সেই ‘দিনবদলের ইমেজ’ রক্ষার লড়াইয়ে। সন্ত্রাস, দখল, দুর্নীতি, মাস্তাননির্ভর রাজনীতির গডফাদাররা এখন আলোচনায়। আওয়ামী লীগের সেই দিনবদলের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কি এসব গডফাদারদের ইমেজ যায়? নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব প্রশ্ন আর ভাবনার বিশ্লেষণ করছেন শুভ কিবরিয়া

Shuvo.Kibria's picture

লাভ নয় ভর্তুকির ট্রানজিট!

বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতকে ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট দিলে, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ লাভবান হবে। খুলে যাবে, বাণিজ্য ও সংযোগের স্বর্ণদুয়ার। একসময়ে এই গল্প খুব জোরোশোরে শোনা যেত। ভারতীয় লবি দ্বারা পুষ্ট এসকাপ-এ (জাতিসংঘের এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংস্থায়) কর্মরত বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশি একজন তখন সভা-সেমিনারে ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশের লাভের কথা জিকির করতে করতে হয়রান হয়ে যেতেন। পরিবহন বিশেষজ্ঞের তকমা নেয়া সেই ভদ্রলোক এখন লাপাত্তা। তবে তার ভূমিকা নিয়েছেন আরেক বেসামরিক আমলা অর্থনীতিবিদ ড. মশিউর রহমান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হয়ে, ভারতের স্বার্থের সপক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন, বলেছেন বাংলাদেশ কি এমনই অসভ্য দেশ যে, তারা ট্রানজিট ফি নেবে?

তার পরও শোনা গেল, প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিস্তার চুক্তি না হলে ট্রানজিট দেবে না ভারতকে। ট্রানজিট মানে কি? ভারত বহু বছর থেকে প্রাণপণে চাইছে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মালামাল পরিবহন করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে নিয়ে যাবে। নৌপথে এ কাজ ভারত জোরোশোরে শুরু করেছে। কোনো ট্রানজিট মাশুল তো দূরের কথা, উল্টো এখন বাংলাদেশকেই ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

Shuvo.Kibria's picture

বিশ্ব রাজনীতিতে আমরা কোথায়

বিশ্ব রাজনীতিতে খুব দ্রুত একটা পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনটা যে এত দ্রুত ঘটবে তা অনেকেরই ধারণার মধ্যে ছিল না। মডারেট মুসলমানদের প্রিয়পাত্র হবার আকাক্সক্ষা নিয়ে বছর দেড়েক আগে মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মুসলমানরা ছাড়া যে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা দুনিয়ায় এখন আর শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় সেখানে তা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই কথা যে তার মনের কথা নয় বরং ভড়ং তা প্রকাশ হয়ে গেল সম্প্রতি। ফিলিস্তিন প্রশ্নে প্রমাণ হয়ে গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শুধু ‘কালো প্রেসিডেন্ট’ নন ‘কালো মনের’ মানুষও। মুখে যতই মানবাধিকার আর ধর্ম-জাত-বর্ণের সাম্যের কথাই বলুন না কেন, কাজে তিনি ইহুদিদের প্রতিনিধি। নইলে প্রকাশ্যে তিনি কেমন করে ঘোষণা দেন, ফিলিস্তিন জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ চাইলে তাতে তিনি ভেটো দেবেন!

Shuvo.Kibria's picture

হায় রাজনীতি : নিজের নাক নিজেই কাটি!

১/১১ এর ঝড়োদিনে আমাদের নেত্রীরা যে পশ্চিমা জগতের বড় কর্তাদের কাছে বারবার নতজানু হয়েছেন তার খবর এখন বেরুচ্ছে। উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্যে খুবই পরিষ্কার হচ্ছে, আমাদের গণতন্ত্রের মানসকন্যা আর দেশ বাঁচানোর আপসহীন নেত্রী বিভিন্ন সময় দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে পশ্চিমের দেয়া শর্ত মেনে ক্ষমতায় আসতে দ্বিধা করেননি। ১/১১ এর পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই হাসিনাকে সীমিত সময়ের জন্য আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেবার সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশের তৎকালীন আমেরিকান রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টি। সেই আমেরিকান স্বার্থ যে কি, তাও বেরুচ্ছে উইকিলিকসের ফাঁস করা আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের তারবার্তা থেকে। ২০০৯ সালের ২৭ এপ্রিল মরিয়ার্টি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গেলে চুক্তির দুই বছর আগেই তাকে জানিয়ে দেন বঙ্গোপসাগরে গ্যাস ব্লক পাবে আমেরিকান কোম্পানি কনকো ফিলিপস। উল্লেখ্য, দুই বছর পর বঙ্গোপসাগরের সেই দুই ব্লকের ইজারা জোটে কনকো ফিলিপসের ভাগ্যেই।

Shuvo.Kibria's picture

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক

২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করে এসে বিজয়ীর হাসি হেসেছিলেন। সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজ মুখে ‘আমি জয়ী’ এই মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। ভারত সফর শেষে গণভবনের সেই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির উজ্জ্বলতম, হাস্যময় চেহারা আজও চোখে ভাসে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেসময় সাফল্যের বর্ণনায় বিরোধী দলসহ প্রতিপক্ষ সবাইকে নি®প্রভ করে দিয়ে যে জয়মাল্য গলায় তুলেছিলেন, প্রায় দু’বছর পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে ফিরতি সফর শেষে সেই সপ্রতিভ উজ্জ্বল হাস্যময় প্রেস কনফারেন্স আর দেখা যায়নি। ৬-৭ সেপ্টেম্বর ২০১১, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর শেষ করে যাবার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেউই এ সফর নিয়ে কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি। প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা যারা এ সফরকে সাফল্যম-িত করতে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন, সেই দুজন অনির্বাচিত আমলা উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও ড. মশিউর রহমানও কোনো প্রেস কনফারেন্স করে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেননি। বরং এই চাহিদা মেটাতে হয়েছে পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েসকে।

Shuvo.Kibria's picture

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক নয়া গাঁথুনি! নয়া শঙ্কা!!

২০১০ সালের ১ এপ্রিল (বর্ষ ২ সংখ্যা ৪৬) সাপ্তাহিক-এর প্রচ্ছদ কাহিনী ছিল, ‘চীন ভারত, হাসিনা কোন দিকে...।’ তাতে ১৭-২১ মার্চ চীনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আমরা লিখেছিলাম, ‘এক শাখের করাতে দাঁড়িয়ে আছে শেখ হাসিনার সরকার।

চীন না ভারত, শেষাবধি, কোন সীমানায় ভিড়বে শেখ হাসিনার সরকার দেখার বিষয় এখন সেটাই।’
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন তার ক্যাবিনেটের শক্তিধর বেশ ক’জন মন্ত্রী, পাঁচটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীসহ ৩০ ঘণ্টার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন, তখন বলা যায়, শেখ হাসিনা ঠিক করে নিয়েছে, কোন নৌকায় তারা উঠবেন।

Shuvo.Kibria's picture

লুৎফর রহমান সরকার : সফল মানুষ স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যাংকার

লুৎফর রহমান সরকার, বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতে এক আলোকজ্যোতির নাম। সততায়, দক্ষতায়, উদ্ভাবনী সৃজনশীলতায় সকলের কাছে তিনি শুধু শ্রদ্ধাভাজন এক ব্যক্তি নন, আদর্শস্থানীয় সফল এক প্রতিষ্ঠানের নাম।

রাজনৈতিক চাপে, ঋণখেলাপিদের দাপটে, অনৈতিকতার শক্তিতে বাংলাদেশের শিল্প সাম্রাজ্যের রথী-মহারথীরা অনেক ওলটপালট করতে সমর্থ হয়েছেন কিন্তু থেমে গেছেন লুৎফর রহমান সরকারের নৈতিকতার সামনে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকাকালীন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের কেউ কেউ তাকে ধমকে কাজ আদায় করতে গেছেন, কিন্তু অনমনীয় লুৎফর রহমান সরকার সততা আর নৈতিকতার জোরে তাদের বিফল করেছেন। উল্টো ঋণখেলাপিদের তালিকা সংবাদপত্রে ছেপে গোটা জাতির সামনে তাদের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন করেছেন।

Shuvo.Kibria's picture

শিক্ষার্থী নয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধর্ষিত

ভিকারুননিসা নূন স্কুলটির ছাত্রীদের আমরা দেখি সাফল্যে। বছরে ন্যূনতম দু’বার এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার পর উচ্চতর সাফল্যের স্মারক হিসেবে উৎফুল্ল, হুল্লোড়রত, গর্বিত শিক্ষার্থীদের মুখগুলো আমরা দেখি মিডিয়ায়। বছরের পর বছর ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে এবং পাঠ্যক্রম বহির্ভূত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে কিংবা খেলাধুলায় অভাবনীয় সাফল্য ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামে, গুণে, যোগ্যতায় ঈর্ষণীয় জায়গা নিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে যেসব শিক্ষার্থী পড়ে তাদের অনেকেরই অভিভাবক দেশের ক্ষমতা-কাঠামোর উল্লেখযোগ্য স্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ তাই কোনো সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়।

Shuvo.Kibria's picture

দলবাজির পরিণতি

বিএনপির ডাকা সর্বশেষ হরতালে পুলিশের হাতে বেধড়ক মারপিট এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। যে দুজন অত্যুৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের কর্মকাণ্ড, উদ্ধত আচরণ এবং বেপরোয়া মনোভঙ্গি টিভির ফুটেজে দেখার সুযোগ মিলেছে জনগণের। এই পুলিশ কর্মকর্তারা রাজনৈতিকভাবে আশীর্বাদপুষ্ট। অতীতে সরকারদলীয় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্র জীবনের দলীয় ছাত্ররাজনীতির নানারকম অসাধু কাজের সঙ্গে তাদের যোগসাজশের খবর এখন বেরুচ্ছে।

Shuvo.Kibria's picture

পৃথিবী বদলাচ্ছে, বাংলাদেশও...!

মুখে গ্যাস মাস্ক। পুরো মুখাবয়ব মুখোশে ঢাকা। পিঠে ব্যাগ। হাতে গ্লোবস। ঢিল ছুড়ছে তরুণটি। হাতের ঢিলের জায়গায় এক সময় এলো পেট্রোলবোমা। পেট্রোলবোমার লক্ষ্যবস্তু সামনে সুসজ্জিত সশস্ত্র পুলিশ।

লড়াই চলছে দু’পক্ষেই। তীব্রতর লড়াই। টিয়ারগ্যাস, জলকামান নিয়ে তখন পুলিশের হাঁসফাঁস। কিন্তু তরুণটি লড়ছেই। গুলি, টিয়ারগ্যাস, জলকামান সব অস্ত্রই যেন ভেদ করার প্রস্তুতি আছে তার। টেলিভিশনের পর্দায় বিশ বছরের তরুণটির দিকে তাকিয়ে মায়া হলো খুব। আহারে তরুণ, যার হাতে থাকার কথা কলম, বই, বান্ধবীর উষ্ণ ছোঁয়া, সেই তরুণকে ছুড়তে হচ্ছে বোমা। এই তরুণ ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইরত প্যালেস্টাইনি ভূখ-ে জন্মেনি। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক, সোমালিয়া কিংবা ইয়েমেন যেখানে মুসলমান আর আল কায়দার যমজ বেড়ে ওঠা বলে পশ্চিমা দেশগুলোর নৈমিত্তিক হাঁকডাক, সেসব ভূখ-ের কোনোটাতেই তার জন্ম হয়নি। সে জন্মেছে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ দেশগুলোর একটিতে। জ্ঞান, সভ্যতা, ঐতিহ্য, পুরাকীর্তি আর নগররাষ্ট্রের পীঠস্থান গ্রিস তার জন্মভূমি। গোটা দেশজুড়ে গ্রিস এখন দেউলিয়া হবার পথে। দেশ দেউলিয়া হতে পারে। এমন চিন্তা অতীতে কখনও না এলেও এখন এমনটি ঘটছে। পৃথিবী এখন এই নতুন সঙ্কটের মুখে পড়েছে। অর্থনীতির এমনই হতচ্ছাড়া দশা যে বাইরে থেকে টাকা ধার করে না আনলে দেশ টিকবে না।

Syndicate content