shorof's blog

shorof's picture

এক চান্নি পসর রাতে

এক চান্নি পসর রাতে, গিয়েছিলাম চান্নি দেখতে, এক শাখা নদীতে। নাম তার চেঙ্গের খাল, হয়তোবা কোন বড় নদীর ডাল, তবুও কী অপরূপ তার তাল।
এর আগে অবশ্য ওদিকটায় রাতে কখনো যাওয়া হয়নি। আমাদের বাসা থেকেও জায়গাটি খানিক দূরে বটে।

shorof's picture

রসিক বৃষ্টি

ক'দিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে বৃষ্টি নেই। আসবে আসবে করেও বৃষ্টি আসল না। উল্টো ঝলমলে রৌদ্র উঠে গেল। তবে চারদিকে শীতল একটা পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই ঘর হতে বের হবার সময় ছাতা নিলাম না। কিছুদূর যেতে না যেতেই আরোও কড়কড়ে রোদ উঠে গেল। তখন গরমে শরীর থেকে ঘাম ছুটিয়ে দিল।

কী আশ্চর্য! কিছুক্ষণ পরই ঝরঝর করে বৃষ্টি নেমে পড়ল। ভিজে সারাটা শরীর তখন একাকার। আশে পাশে কোন ছাউনিতে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ারও সুযোগ মিলল না। এমনিতে বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে। এইতো সেদিনও বৃষ্টিতে ভিজার জন্যে ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু হলো না। ঘর থেকে বের হতেই বৃষ্টি থেমে গেল। ভিজা হলো না।

shorof's picture

এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন।

এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন।

এবার যারা এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলো তাঁরা তাঁদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অতিক্রম করল। আশা করি সকলেই এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। আর যাঁরা এবার কৃতকার্য হতে পারেনি তাঁদেরকে হতাশ হলে চলবে না। তাঁরা আরো বেশী বেশী পড়ালেখা করে আগামী বছর কৃতকার্য হতে পারবে বলে আমি আশা করছি।

এবার উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় সারাদেশে গড়ে ৭৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং সর্বমোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬১ হাজার ১৬২ জন। ফলাফলের দিক থেকে সিলেট বোর্ড এবার এসএসসি'র মত এইচএসসিতে সারাদেশের মধ্যে সেরা। সিলেট বোর্ডে ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

shorof's picture

ভূমিকম্পে কাঁপলো সিলেটসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল

কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। রাতেও বৃষ্টি হচ্ছে। রাতের বৃষ্টি মধুর ঘুমের আবেশ এনে দেয়। আর আমি এই বৃষ্টি ভেজা রাতে মধুর ঘুমের মধ্যেই ছিলাম। ঘুমের মধ্যেই জোরে একটা ঝাকুনি লাগল। ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঘুম থেকে উঠেই লাইট জ্বালিয়ে দেখি আমার খাট-বিছানাসহ সবকিছু থরথর করে কাঁপছে। মনে হলো ভূমিকম্প হচ্ছে। বাসার অন্য সবাই তখন ঘুমিয়ে আছে। আমি একা একা বসে আছি। কী ব্যাপার! আমি কি শুধু একা ভূমিকম্প টের পেলাম? আর কেউ পেল না? একটু ভয়ভয়ও লাগছে। আমার বুক যেন ধড়ফড় করছে। আমি কি কোন স্বপ্ন দেখছি? নাকি এসব কোন ভূতের কান্ডকারখানা? আল্লাহই জানেন। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সময় তখন রাত দুইটা। টেলিভিশন অন করলাম। দেখি, কোন ব্রেকিং নিউজ আছে কি-না? না, টেলিভিশনের প্রায় সবগুলো চ্যানেল বিশ মিনিট পর্যন্ত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখলাম, কোন চ্যানেলেই ভূমিকম্পের ব্রেকিং নিউজ নেই। আমি বেশ অবাক হলাম! আমি তো ষ্পষ্ট টের পেয়েছিলাম ভূমিকম্প হয়েছে। অথচ কোন টেলিভিশন চ্যানেলেই এরকম কোন নিউজ নেই। ভূমিকম্প হলে তো সবসময় দেখি, চ্যানেলগুলো সাথে সাথেই প্রচার করে। আজ এরকমটি হচ্ছে কেন? তাহলে আমি আসলেই কি কোন স্বপ্ন দেখেছি? না, নিজেকে অবিশ্বাস করতে পারলাম না। মোবাইল হাতে নিয়ে ব্লগে ঢুকলাম। http://www.somewhereinblog.net/ ঢুকেই দেখি একজন লিখেছেন, এইমাত্র সিলেটে ভূমিকম্প হয়েছে, কেউ কি টের পেয়েছেন? আমার আর বুঝতে বাকী রইল না, ভূমিকম্প হয়েছে, সেটা আমি ঠিকই টের পেয়েছি। হ্যাঁ রাত দুইটার সময় সিলেটে ভূমিকম্প হয়েছে।

shorof's picture

আজকে আমার ছুটি, আমার শনিবারের ছুটি

শিরোনামটি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছুটির দিনে কবিতা থেকে ধার নেয়া।
আজ শনিবার। আজ আমার অফিস ছুটি। অফিস ছুটি তো ছুটি এর মধ্যে আবার ঝুমতালে চলছে বৃষ্টি। বাইরে কি বের হওয়া যায়? এ বৃষ্টিতে কি ভিজা যায়? জানালা দিয়ে দিলাম নিজের দৃষ্টি। না, বেরুনোর উপায় নেই। ভারী বৃষ্টির সাথে প্রচন্ড গতিতে বইছে ঝড়। মা বললেন, বসে বসে কি ভাবছিস, নে পত্রিকা পড়। পত্রিকা হাতে নিলাম- দৈনিক প্রথম আলো। দেখলাম- জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের উল্লাস, সবার হাসিমাখা চোখ-মুখ যেন ছড়াচ্ছে আলো। দেখে বেশ ভালো লাগল। হ্যাঁ, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে। তাতে এ শিক্ষার্থীদের যেমন ভালো লেগেছে, আমাদেরও ভালো লেগেছে। তাঁরা আরো এগিয়ে যাবে, এটা নিশ্চয়ই সবাই চাইবে।

shorof's picture

'আনলাকি থার্টিন'

আজ ১৩ জুলাই ২০১২।
রোজ শুক্রবার। ছুটির দিন। বাসায় শুয়ে-বসে কাঁটাচ্ছি। তবে একেবারেই যে অলস সময় কাঁটছে, তা নয়। খবরের কাগজ এবং বই পড়ছি। টেলিভিশনের অনুষ্ঠানও টুকটাক দেখছি। তবু কেন যেন খুব একটা ভালো লাগছে না। কেননা আজ দূরে কোথাও ঘুরতে যাবার কথা ছিল। একেবারে যমুনা পেড়িয়ে বগুড়ায়। যেটি প্রায় দু'মাস পূর্বে আমরা বন্ধুরা মিলে পরিকল্পনা করেছিলাম, বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যমুনা পেরিয়ে ওপারের দর্শনীয় স্থানসমূহ দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হলো না। সিলেটসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা হয়েছে। যমুনা পাড়েও বন্যা হয়েছে। বন্যার্ত মানুষ কষ্টে দিনাতিপাত করছে আর এ সময়ে আমরা আনন্দ-ফুর্তি করতে ঘুরতে যাবো, সেটা হয় না। তার চেয়ে বরং বন্যার্ত মানুষের পাশে গিয়ে তাঁদের দু:খ কিছুটা ভাগাভাগি করে নেয়া হবে উত্তম কাজ। তাই বন্ধুরা সবাই মিলে ১৩ জুলাই'২০১২ তারিখ শুক্রবারের ভ্রমণসূচী আপাতত স্থগিত রাখলাম।

shorof's picture

ভিলেজ পলিটিক্স (গ্রাম্য রাজনীতি)

আমাদের গ্রামীন জনপদে ভিলেজ পলিটিক্স নামে একটা কথা প্রচলিত আছে। যাঁরা গ্রামে বসবাস করেন, অথবা যাঁদের জন্ম গ্রামে, এখন শহরে বসবাস করছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এই শব্দগুচ্ছের সাথে পরিচিত। ভিলেজ পলিটিক্সের ফাঁদে পড়ে অনেক লোক নি:স্ব হয়েছেন এমনকি কাউকে কাউকে গ্রাম পর্যন্ত ছাড়তে হয়েছে। এই ভিলেজ পলিটিক্সের ফাঁদে পড়ে বহু নারী প্রতিয়িনত নির্যাতিত হচ্ছেন।

ভিলেজ পলিটিক্সের নেপথ্যে সাধারণত গ্রামের দুষ্টু লোকেরাই থাকেন। তাঁরা এতই চতুর যে, মারাত্মক অপরাধ করেও সবসময় তারা ধরাছোয়ার বাইরে রয়ে যান। তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেই উল্টো ফাঁদে পড়তে হয়, বিপদে পড়তে হয়।

যাঁরা এই ভিলেজ পলিটিক্সের নায়ক তাঁরা সবসময় সমাজের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে চান। অনেক সময় সেই চেষ্টায় তাঁরা সফল হন। গ্রামের সবাই তাঁদেরকে সামনে-সামনে সম্মানের চোখে দেখে, কিন্তু প্রকৃতভাবে ভিলেজ পলিটিক্সের নায়কদেরকে কেউই সম্মানের চোখে দেখে না।

shorof's picture

এক বৃষ্টি ভেজা রাতে তাঁহার দেখা, অত:পর.............. !

একটি ঝড়-বৃষ্টির রাত বা দিন সম্পর্কে সবারই কমবেশী জানা। বর্ষাকালে এমনও ঘটে যে রাত দিনভর কেবল বৃষ্টি হতেই থাকে। কখনও প্রচন্ডভাবে আবার কখনও ঝিরঝির বৃষ্টি হয়। দিনের বৃষ্টিপাতে জনগণের দু:খ যাতনা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে উঠে। জরুরি প্রযোজনেও বাইরে বের হওয়া যায় না। কিন্তু রাতের বৃষ্টি ততটা দু:খবহ নয়। অনেক সময় সেটা উপকারী হয়। কিন্তু দু:শ্চিন্তার বিষয় হল তখন, যখন রাতের বৃষ্টির সাথে ঝড়-তুফান আরম্ভ হয়। তখন সেই ঝড়-বৃষ্টির রাত হয়ে উঠে ভয়ঙ্কর। শুধু বৃষ্টি হলে তেমন কোন অসুবিধার সৃষ্টি হয় না। কেননা, রাত আসে বিশ্রামের জন্যই, বিশেষ কোন কাজ না থাকলে কেউ ঘর থেকে বের হয় না। শান্তভাবে রাতের বৃষ্টি মধুর ঘুমের আবেশ এনে দেয়। যার ফলে ভালো ঘুম হয়।

কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি যদি সন্ধ্যা রাতে হয়, তাহলে কি করা যায়? কেননা, সন্ধ্যা রাতে তো আর কেউ ঘুমুতে যায় না। তখন অলস বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না। আর অলস বসে না থেকে যদি বৃষ্টি উপভোগ করা যায়, তাহলে কেমন হয়। বৃষ্টি উপভোগ করা মানে বৃষ্টিতে ভিজার কথাই বলছি। বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোবাসে না এমন লোক কমই পাওয়া যাবে। এমনও কেউ আছে বৃষ্টি হলেই তার মন আনচান করতে থাকে, কীভাবে বৃষ্টিতে ভিজা যায়।

shorof's picture

অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আশিক ইকবাল মিল্টন

অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বাংলাদেশের ছেলে আশিক ইকবাল মিল্টন। বিনা অপরাধে তাকে ভারতের কারাগারে ১২টি বছর আটক থাকতে হয়েছে। গত ৪/৫ মাস পূর্বে ভারতীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে আশিক ইকবাল মিল্টনের বিনা অপরাধে ১২ বছর ধরে জেল খাটার উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। টেলিভিশনে সে অনুষ্ঠান যাঁরা দেখেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই আবেগ-আপ্লুত হয়েছিলেন। আমিও সে অনুষ্ঠান দেখে রীতিমত আবেগ-আপ্লুত হয়েছিলাম। কেননা, বিনা অপরাধে কেউ ১২টি বছর কেন ১২টি দিনও কারাগারে থাকতে চাইবেন না। আমি সে সময় ব্লগে এ বিষয়ে লিখেছিলামও।

আশিক ইকবাল মিল্টনের অপরাধ ছিল, তিনি ভারতের কুচবিহারের দিনহাটা থানার সাহেবগঞ্জ বাজারে একটি অনুষ্ঠান দেখতে তার বন্ধুদের সাথে সেখানে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান দেখে ফেরার পথে বন্ধুরা সবাই বাড়ি ফিরতে পারলেও ফিরতে পারেন নি আসিক ইকবাল মিল্টন। তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেখানকার আদালত কর্তৃক তার ৬১ দিনের সাজা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৬১ দিন কারাভোগ শেষে মুক্তি পেয়ে তিনি দেশে ফেরার কথা। কিন্তু তিনি ফিরতে পারলেন না। তাকে কারাফটক থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

shorof's picture

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন, সিলেটবাসী ব্যথিত

দু'টি ছাত্র সংগঠনের দ্বন্ধের জের ধরে সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে কে বা কারা। আগুনে ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী পুরাতন এই ছাত্রাবাসটি প্রায় পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ছাত্রলীগ এবং ছাত্র শিবির উভয় পক্ষই একে অন্যকে দোষারুপ করছে। তবে এ সংগঠনদ্বয়ের কেউ না কেউ তো আগুন ধরিয়ে দিয়ে আমাদের মহামূল্যবান সম্পদ ধ্বংস করে দিয়েছে। এরা তো আমাদের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজেরই ছাত্র। তারা কিভাবে নিজেদের সম্পদকে ধ্বংস করতে পারল?

যতটুকু জানি এরকম একটি ভিন্নধর্মী ছাত্রাবাস আমাদের দেশে আর একটি তো নেই-ই, এই উপমহাদেশেও খোঁজে পাওয়া দুস্কর। এই ছাত্রাবাসের সামনে বিশাল বড় খেলার মাঠ এবং খোলা মেলা মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ ছাত্রাবাসের সৌন্দর্যকে আরো বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। ছাত্রাবাসের পাশ দিয়ে যাবার সময় এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করত। আমি যখন এই কলেজের ছাত্র ছিলাম তখন বহুবার ঐ ছাত্রাবাসে গিয়েছি। আমার অনেক স্মৃতি সেখানে জড়িয়ে আছে। এই ছাত্রাবাসে বহু জ্ঞানী-গুনী লোকেরও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বর্তমান এবং প্রাক্তন ছাত্রদের আবেগ জড়িয়ে আছে। কবিগুরু রবিন্দ্রনআথ ঠাকুরও সিলেট সফরকালে এ ছাত্রাবাসে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন বলে শুনা যায়।

Syndicate content