Saeed Mohammed Bhai's blog

দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাঁদের আবার দুঃখ কিসের!!-৫

গল্প নয়, সত্যিঃ

এক
অফিসের কাজে রাহীন জয়পুরহাটে এসেছে। এখানকার বিভিন্ন এলাকায়, গ্রামগুলোর নলকূপের পানিতে উচ্চ মাত্রার আর্সেনিক আছে। স্থানভেদে এখানকার নলকূপে প্রতি লিটার পানিতে ২০ থেকে ১০০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিক পাওয়া গেছে। কিন্তু প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের স্বাভাবিক মাত্রা দশমিক ০৫ গ্রাম। সরজমিনে পরীক্ষা করার জন্য আজ সকালে রাহীন এসেছে কালাই উপজেলার নান্দাইল দীঘি গ্রামে। এখানকার বিভিন্ন নলকূপ থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে। মোসাদ্দেক আলীর বাড়ির উঠানে এসে দেখা হল কলমির সাথে, ৮ থেকে ১০ বছরের মেয়ে, হাতে ও পিঠে বেশ কিছু আর্সেনিক আক্রান্তের লক্ষণ দেখতে পেল। ওর সাথে কথা বলতে বলতে আরও কয়েকজন এসে হাজির হল। এখানে অনেকেই আর্সেনিকে আক্রান্ত। রহমত মিয়া প্রায় চল্লিশ বছরের একজন মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত হওয়ার ফলে তাঁর পায়ে ও সারা শরীরের বিভিন্ন যায়গায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। একটা চেয়ারে বসে এ গ্রামের অনেকের সাথে আলাপ করে জানতে পারে, গত এক যুগেও এর প্রতিকারে কেউ এগিয়ে আসেনি। কিন্তু সরকার আর্সেনিক মুক্ত প্রকল্পের অধীনে বৈদেশিক সাহায্য পেয়ে থাকে। তাহলে এই টাকা যায় কোথায়? সুফিয়ান ১০ বছরের প্রাণবন্ত একটি শিশু রাহীনের জন্য এক গ্লাস পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু রাহীন এই এক গ্লাস পানি খেতে সাহস করেনা। সে নিজের বেগে বোতল পানি নিয়ে এসেছে ঢাকা থেকে। যে কয়দিন সে এখানে থাকবে এই বোতল পানির উপরই নির্ভর করতে হবে। হাজার হাজার শিশুর মত সুফিয়ানকেও আর্সেনিকে আক্রমণ করেছে কিনা জানা নেই। কারণ তাঁর মত এলাকার কাউকেই কোন পরীক্ষা করা হয়নি। তাঁরা জানে, জেনে শুনেই সবাইকে বিষ পান করতে হচ্ছে। তাছাড়া এলাকার হাজার হাজার মানুষের আর কীইবা করার আছে।

দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাঁদের আবার দুঃখ কিসের!!-৪

গল্প নয় সত্যিঃ

এক
চার দেয়ালের বাইরে আজ যেন আর যেতেই পারেনা সুখী। স্তব্ধ জীবন, বদ্ধ ঘরে আটকে আছে চার চারটি বছর। সেই যে মামি গ্রামে এসে সুখীকে ঢাকার নিয়ে এসেছে এখন কদাচিৎ বাড়ি ফেরা হয়। গুলশান, বনানীর আবাসিক হোটেলে উচ্চ বৃত্তের লালসার স্বীকার হচ্ছে প্রতিদিন। নিজের ইচ্ছাকে গলা টিপে, সম্মানকে ধুলোয় লুটিয়ে নবরূপে বধূ সেজে চলেছে প্রতিরাতে। যখন সে ঢাকায় আসে তখন সে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। কুষ্টিয়ার এক স্কুলে দারুণ মেধাবী এই সুখী পড়ালেখায় বেশী দুর এগুতে পারেনি। বাস্তবতার কঠিন জীবনে দেহদানকে গ্রহণ করেছে পরম অনিচ্ছায়। নিজের সমস্ত ভালোলাগাকে বিসর্জন দিয়ে অন্যের ভোগের যোগ্যা করেছে মামির ইচ্ছায়। আর নয়ই বা কেন? গার্মেন্টসে কাজ করলে যা টাকা পাওয়া যায় তা দিয়ে জীবন চেলে না। তাছাড়া গার্মেন্টসে কাজ নিতে গেলেও এই শরীর ভোগ্য হবে। তাই তো বুঝে শুনে এ পথেই পা বাড়িয়েছে সে। মামি বলেছিল দুই বছর, যা কামাই করবে তা দিয়ে ছোট খাট একটা দোকান দিবে। বিয়ে করে সংসারী হয়ে স্বামী সোহাগে কাটিয়ে দিবে তাঁর বাকি জীবন। কিন্তু তারপর আরও দুই বছর গত হল এ জীবন থেকে ফিরে আসার কোন আশার আলো দেখতে পায় না সুখী। মনে হয় অন্ধকার এ জীবনটাই এখন তাঁর নিত্য সঙ্গী। একটা ভয় আর শঙ্কা যেন আটকে রেখেছে তাঁকে। তাই তো এ জীবন থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে না। যদি কোনদিন স্বামী তাঁর অতীত জীবন জানতে পারে তাহলে কলঙ্কের অপবাদ হয়ত সইতে পারবে না। এভাবেই বিত্তদের ভোগের লোলুপ লোভে কাটিয়ে দেয় দিনগুলো।

» Topics:

দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাঁদের আবার দুঃখ কিসের-৩

গল্প নয় সত্যি:

খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে চোখে মুখে কোন রকমে একটু পানি দিয়েই ওরা রওনা হল কাজে। গত রাতের বাসি ভাত আর উচ্ছিষ্ট তরকারি একটি টিফিন ক্যারিয়ারে নিয়ে ঝটপট বেড়িয়ে পরে। আছিমন, শেফালী, আফরোজা ওরা সবাই এক সঙ্গে একই বস্তিতে বাস করে। পায়ে হেঁটে গুলশান-১ হয়ে যেতে হবে অনেক খানিকটা পথ। সকাল সকাল রওনা না হলে ঠিক মত কাজে পৌঁছান যাবে না। সময় মত পৌঁছাতে না পাড়লে শিফট সুপারভাইজার সারাদিনের অর্ধেক টাকা কেটে রাখবে, এই ভেবেই দমে দমে পা চালায় সবাই। সূর্য উঠার আগেই হাজার হাজার নারী পুরুষ সামরিক কায়দায় হাঁটতে থাকে রাস্তার পাশ দিয়ে, সাথে যোগ দেয় ওরাও।

এক
আছিমনের বাড়ি নেত্রকোনায়, বাবা মায়ের খুব আদরের মেয়ে ছিল সে। বাবা মা কোনদিন তাঁকে কোন কষ্ট করতে দেয়নি। বাবা ভ্যান রিক্সা চালিয়ে যা পেত তা দিয়ে তাঁদের দিন ভালই চলত। কিন্তু বছর দুয়েক আগে এক দুর্ঘটনায় বাবার পা দুটি হারিয়ে বাবা পঙ্গু। তাই বড় সন্তান হিসেবে ছয় ভাই বোনের সংসারে বিশাল দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আছিমনের ঢাকায় যাত্রা। এক আত্মীয়কে হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করে কাজ পাওয়ার জন্য। আত্মীয় ইঙ্গিত দেয় চাকুরী হবে কিন্তু এর বিনিময়ে তাঁকে সব হারাতে হয়। সুপারভাইজারের সুনজরে পরার জন্য রাত পর রাত কাটানোর পর বহুমূল্যে পেয়ে যায় মহাখালীর গার্মেন্টসের এই কাজটি।

» Topics:

দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাঁদের আবার দুঃখ কিসের-২

কল্পনা নয় সত্য!!!

এক
সায়দাবাদ বাস টার্মিনালের দেয়ালে গা ঘেঁসে দাঁড়িয়ে আছে ছালেহা। কয়েক ডজন লোকের মত সেও কাজের খোঁজে সেই কাঁক ডাকা ভোরে হাজির হয়েছে এখানে। মহাজনরা বেঁছে বেঁছে দিন মজুর নিয়ে যাচ্ছে। তবে আজ ছালেহার কাজ জুটবে কিনা জানা নেই, মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে, কাজ জুটবে তো আজ? নাকি আজকেও তাঁকে না খেয়েই কাটাতে হবে গতকালের মত। চোখ চোখ পড়তেই ডাক এলো তাঁর। রাস্তার মাটি কাটতে হবে। মাথা নেড়ে ইচ্ছা প্রকাশ করেই মুখে একটি তৃপ্তির হাঁসি, নাহ আজ কাজ জুটেছে। সেই যে বছর দুয়েক আগে গ্রাম ছেড়েছে তারপর আর গ্রামে যাওয়া হয়নি। আর যাবেই বা কার কাছে। দুই মুঠো খাবারের খুঁজে পরিবারের সবাই আজ এখানে। কেউ ভিক্ষা করছে। কেউবা করছে চুরি, আবার ছালেহার মত আত্মসম্মান বোধ যাদের আছে, তাঁরা কাজ করেই রুটি রুজির ব্যবস্থা করছে। গ্রামে তাঁদের ঘর ছিল, ফসলী জমি ছিল এমনকি গোয়ালে গরু আর পুকুরে মাছও ছিল। একদিন যমুনার খরস্রোতে বিলীন হয়ে গেল তাঁদের সাজান বাগান আর আত্মসম্মানটুকুও কেড়ে নীল যমুনা। কচুরিপানার মত ভাসতে ভাসতে শেষ অবধি ঠাই পেল ঢাকার বস্তিতে।

» Topics:

দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাঁদের আবার দুঃখ কিসের-১

কল্পনা নয় সত্য!!!

এক
সত্তরের কাছাকাছি একজন বৃদ্ধা আয়েশা বেগম। ভিটে বাড়ি ছাড়া নিজের বলতে কিছুই নেই। সন্তান লাভের আগেই স্বামী গত হয়েছেন সেই যৌবনে। কিন্তু স্বামীর ভালবাসার কাছে নিজের সমস্ত ইচ্ছাগুলোকে হার মানিয়ে সারাটা জীবন পারি দিয়েছেন একা। আজ জীবনের শেষ সময়টা যেন আর কাটতেই চায় না। মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুনতে থাকেন। পাড়া প্রতিবেশী আর আত্মীয়স্বজন মিলে যা দান করেন তাই দিয়ে কোন রকমে চলে যায় তাঁর একাকীত্বের জীবনগুলো। কিন্তু সময় যেন আর কাটতেই চায় না। কখন আজরাইল (আঃ) এসে তাঁর জীবনটা কবজ করবেন শুধু সেই প্রতীক্ষায় দিন ক্ষণ রাত্রি গুনে চলেছেন তিনি। কোন দিন অনাহারে অথবা অর্ধাহারে দিন কাটে তাঁর। ভীষণ অসুস্থ হলে পাড়া প্রতিবেশীরা টের পান পাঁচ ছয়দিন পর। কখনও হুযুরের পানি পড়া অথবা গ্রামের কবিরাজের ঔষধে চলে তাঁর মুমূর্ষু অসহ্য সময়গুলো। মৃত্যু পথযাত্রিকে একটু সেবা দেয়ার মত পাশে কেও নেই। কয়েক মাস অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরানোর পর কোন রকমে সোজা হয়ে বসেন আয়েশা বেগম। কি নির্মম সত্যকে মাথা পেতে নিয়েছেন তিনি। আর মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে আসা আয়েশা বেগম একটা দীর্ঘশ্বাসে বিনয়ের সাথে বিধাতাকে আরও একবার ধন্যবাদ জানান আরোগ্য প্রাপ্তিতে।

» Topics:

খুব জানতে ইচ্ছা করে !!!

মন্দ, কতটা মন্দ হলে আমরা তাকে মন্দ বলি? প্রশ্নটা মনস্তাত্ত্বিক। আচ্ছা শুরুতে না হয় মন্দ নিয়ে কথা না বলে। একটু ভাল নিয়েই আলোচনা করি। সুন্দর নিয়ে আলোচনা করি। সুন্দর সবার চোখেই তো সুন্দর। তাই না? কিছু কম অথবা বেশি। একটু উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে। গোলাপের সৌন্দর্যের কথা উঠলে। আমরা এক কথাতেই সবাই বলি, গোলাপ খুবই সুন্দর। আবার কেউ কেউ বলি, গোলাপ? হুম সুন্দর। কিন্তু কেউ কি বলেন গোলাপ অসুন্দর? আমার তো মনে হয়, বলেন না। কখনও বলতে শুনিনি। সুন্দরকে আমরা সবাই কম বেশি সুন্দরই বলি। অথবা ভালকে আমরা সবাই ভালই বলি। কিছু কম কিছু বেশি। শুধু ভাব প্রকাশের ভাষাটা ভিন্ন, এই যা। কিন্তু প্রশ্ন হল, মন্দকে নিয়ে। মন্দ, কতটা মন্দ হলে আমরা তাকে মন্দ বলি? দ্যাট’স মাই মিলিয়ন ডলার’স কোশ্চেন।

মাঝে মাঝে মনে হয়, ভাল ও মন্দের এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারটা আমার কাছেই দিন দিন জটিলতর হচ্ছে। আপনাদের মাঝে এমনতর অবান্তর প্রশ্ন জাগে কিনা, সে জন্যই আপনাদেরকে এই বিরক্তি করণ।

সদা সত্য কথা বলতে মানা !!!

images (50).jpg

ছেলেবেলায় ঘুমানোর সময় গল্প না শুনলে যেন ঘুমই আসত না। তাই কাল্পনিক রাক্ষস খোক্কসের গল্প শুনে ঘুমের ঘোরে, ভয়ে কতবার যে মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গেছে তার ইয়ত্তা নেই। মাঝে মাঝে ভাবি কত রকমারি ও ভয়ানক বাহারি গল্পের সমাহার ছিল মা বোন ভাইদের ঝুলিতে। আমি অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে বড় হয়েছি। আমার জীবনে গোলা ভরা ধান চোখে না দেখলেও, পুকুর ভরা মাছ দেখেছি। মাঠের পর মাঠ সবুজ ক্ষেত দেখেছি। সে ক্ষেতে রকমারি শাঁক সবজি দেখেছি। নাগরিক জীবন অথবা শহুরে, কোন জীবনেই অন্তত মাছ আর শাঁক সবজির অভাব দেখেনি। আমরা যারা গ্রামে বড় হয়েছি। তাঁরা নিশ্চয়ই দেখেছি যে, গ্রামের হাঁটে কেও কোন সবজি বিক্রি করতে না পারলে, তা আর বাড়িতে ফিরিয়ে নিত না। রাস্তার পাশে ফেলে দিত। অথবা বিনে পয়সায় কাওকে দিয়ে দিত। অনেকে হয়ত সেই পুরনো দিনের গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছের কথা স্বীকার করেন না। কিন্তু আজ সে বিতর্কে না গিয়ে অন্য একটি বিষয়ে দৃষ্টি দেয়ার জন্য লেখতে বসেছি।

মাঝে মাঝে ভাবি শুধু শুধু লিখে কি হবে। এই যে এতসব লেখা লেখি কি উপকার হচ্ছে সমাজের। তাই মনটা ভেঙ্গে যায়, বিষণ্ণতায় চেপে ধরে। আর লিখতে ইচ্ছে জাগে না। কিন্তু জানিনা কিসের টানে, কোন দায় বদ্ধতায়। আবার লিখতে বসে যাই। না লিখলে ভাল লাগে না। অনেক দূরে আছি দেশের প্রতি কিছু করছি, ডলার পাঠাচ্ছি। আর কি চাই? এই ভাবনা নিজেকে সন্তুষ্ট করতে পারে না।

কাল বৈশাখী ঝড়ের রাতে চাঁদের হাঁসি!!!

download (2).jpg
ক্লাসিফিক্যাশনঃ সামাজিক বিচ্যুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখাটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। শুধুমাত্র সচেতন ও প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্যে।

“ময়না তর টিনের চালে ঢিল মারি” বরেণ্য কমেডিয়ান প্রয়াত টেলি সামাদের একটি ফিল্মের নাম। তবে বাস্তবে নয়, ছোট পর্দার নাটকে। ছেলেবেলায় কোন এক ঈদে একটি বিশেষ নাটকের ডায়ালগ ছিল এটি। এমনতর নামটা শুনে তখন অনেক হাঁসি তামাশা করেছিলাম। ভীষণ মজা পেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল “ময়না তর টিনের চালে ঢিল মারি” কখনও কি কোন ফিল্মের নাম হতে পারে? কিন্তু এখনকার “ঐ তরে খাইয়া ফালামু”, “আমারে ছাইড়া দে” “বাবা কেন চাকর? “মা কেন আসামী”, “বেশি বাড়াবাড়ি করবি না”, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি ফিল্মের নামের ভিড়ে টেলি সামাদের তখনকার “ময়না তর টিনের চালে ঢিল মারি”, নামটা অনেক মার্জিত মনে হয়।

শুধু ছায়াছবি নয়। আমাদের বাস্তব জীবনটাও যেন ছায়াছবির মতই পরিবর্তন হয়ে গেছে। যেমন কোন মেয়ের বাবা পাত্র হিসেবে এখন কোন সৎ, মার্জিত, শিক্ষিত, ভদ্র ছেলে খোঁজেন না। এখন সবার আগে দেখেন ছেলে কত টাকা কামাই করে। ঢাকাতে কয়টা বাড়ি বা ফ্ল্যাট আছে। নতুন মডেলের কোন গাড়ি আছে কিনা। চাকুরীতে বাড়তি ইনকাম আছে কিনা এইসব। টাকা যেভাবেই আসুক, ইনকাম ভাল হওয়া চাই। এমন একটা ভাব যেন ভাল ইনকাম হলেই হল। তাহলেই পাত্র হাজারে একটা।

» Topics:

আর নয় হিংসা। আর নয় বিদ্বেষ।

images (31).jpg

এক দেশ, এক জাতি, একই স্পন্দনে স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা। ব্রিটিশ হটাও, ১৯৪৭ সাল, দেশ বিভক্তি। পৃথিবীর মানচিত্রে দুই দেশ ইন্ডিয়া, পাকিস্তান। তারপর শুধুই যন্ত্রণা ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৭, ১৯৭০ অবশেষে ১৯৭১, মুক্ত বাংলাদেশ। তারপরের মুক্ত ইতিহাস আমাদের সবারই জানা। কিন্তু আজ যদি আমরা অখণ্ড ভারতের অংশ হতাম। তাহলে কি ফারাক্কা তিস্তা বাঁধের প্রয়োজন হত? সীমানায় কাঁটা তারের বাঁধ দেয়ার দরকার হত? অথবা বিএসএফের গুলিতে কি পাখির মত ঝড়ে পরত সীমান্তের অসহায় মানুষের জীবনগুলো? অথবা টিপাই মুখ বাঁধের আজ যে নানা অপ তৎপরতা, অপ কর্মকাণ্ড। এগুলো কি কক্ষনো প্রয়োজন পরত? ছিটমহলের বাসিন্দাদের মুক্তির প্রহর গুনে কি বিধাতার দরবারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হত? সময়ের দাবিতে যে মুক্তি, সে মুক্তির জয় আজ কেন হিংসা আর জিঘাংসা শৃঙ্খলে বেঁধে রেখেছি?

রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা আর দুর্বল পররাষ্ট্র নীতির ফলাফল মাথায় নিয়েই বছরের পর বছর পথ চলছি। সময়ের আবর্তনে প্রাণের যে চাওয়া আর লক্ষ প্রাণের দামে যে পাওয়া। চাওয়া পাওয়ার এ ক্ষণকে যখন আর পিছনে ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। তখন আমাদের সামনে চলার পথ যেভাবে সুন্দর হয়, সুখের হয়। হিংসা আর জিঘাংসার পথ পরিহার করে সোনার সকাল নিশ্চিত হয়। সেই পথের সূচনা করতে হবে। আমাদের আগামী চলার পথ কিভাবে কণ্টক মুক্ত হবে। সেটাই এখন আমাদের বারবার চিন্তা করতে হবে।

এ শিকল ছিঁড়ব আমি কেমন করে – ২য় খণ্ড

images (3).jpg

পরিবারের প্রায় সকলের অনিচ্ছা থাকা সত্যেও প্রতিবার প্রানের দেশে ছুটে আসি। তবে ওদের অনিচ্ছাটাকে একেবারে হেলা ফেলা করা যায় না। জোড় করে চাপিয়ে দেয়া আমার ইচ্ছাকে কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না বলে। সেই অনিয়ন্ত্রিত ইচ্ছাই প্রতিবার ওদের কষ্টের কারণ হয়ে উঠছে।