গল্প নয়, সত্যিঃ
এক
অফিসের কাজে রাহীন জয়পুরহাটে এসেছে। এখানকার বিভিন্ন এলাকায়, গ্রামগুলোর নলকূপের পানিতে উচ্চ মাত্রার আর্সেনিক আছে। স্থানভেদে এখানকার নলকূপে প্রতি লিটার পানিতে ২০ থেকে ১০০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিক পাওয়া গেছে। কিন্তু প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের স্বাভাবিক মাত্রা দশমিক ০৫ গ্রাম। সরজমিনে পরীক্ষা করার জন্য আজ সকালে রাহীন এসেছে কালাই উপজেলার নান্দাইল দীঘি গ্রামে। এখানকার বিভিন্ন নলকূপ থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে। মোসাদ্দেক আলীর বাড়ির উঠানে এসে দেখা হল কলমির সাথে, ৮ থেকে ১০ বছরের মেয়ে, হাতে ও পিঠে বেশ কিছু আর্সেনিক আক্রান্তের লক্ষণ দেখতে পেল। ওর সাথে কথা বলতে বলতে আরও কয়েকজন এসে হাজির হল। এখানে অনেকেই আর্সেনিকে আক্রান্ত। রহমত মিয়া প্রায় চল্লিশ বছরের একজন মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত হওয়ার ফলে তাঁর পায়ে ও সারা শরীরের বিভিন্ন যায়গায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। একটা চেয়ারে বসে এ গ্রামের অনেকের সাথে আলাপ করে জানতে পারে, গত এক যুগেও এর প্রতিকারে কেউ এগিয়ে আসেনি। কিন্তু সরকার আর্সেনিক মুক্ত প্রকল্পের অধীনে বৈদেশিক সাহায্য পেয়ে থাকে। তাহলে এই টাকা যায় কোথায়? সুফিয়ান ১০ বছরের প্রাণবন্ত একটি শিশু রাহীনের জন্য এক গ্লাস পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু রাহীন এই এক গ্লাস পানি খেতে সাহস করেনা। সে নিজের বেগে বোতল পানি নিয়ে এসেছে ঢাকা থেকে। যে কয়দিন সে এখানে থাকবে এই বোতল পানির উপরই নির্ভর করতে হবে। হাজার হাজার শিশুর মত সুফিয়ানকেও আর্সেনিকে আক্রমণ করেছে কিনা জানা নেই। কারণ তাঁর মত এলাকার কাউকেই কোন পরীক্ষা করা হয়নি। তাঁরা জানে, জেনে শুনেই সবাইকে বিষ পান করতে হচ্ছে। তাছাড়া এলাকার হাজার হাজার মানুষের আর কীইবা করার আছে।




Recent comments
2 min 19 sec ago
2 min 48 sec ago
3 min 29 sec ago
3 min 45 sec ago
5 min 1 sec ago
7 min 43 sec ago
8 min 38 sec ago
8 min 59 sec ago
9 min 24 sec ago
10 min 11 sec ago