sadek.khan's blog

sadek.khan's picture

যুগপৎ আলোচনা ও আন্দোলনের নেপথ্যে ভূরাজনৈতিক চাঞ্চল্য

আবারো আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলে বিশ্বসংবাদের সংক্ষিপ্ত বার্তাপ্রবাহে তথা ব্রেকিং নিউজের মোটা দাগে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে। বিশ্বসমাজে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো বিশেষ অবদান, কোনো ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা বা চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্য নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের বিস্ফোরণোন্মুখ পরিণতির ‘প্রাথমিক’ ভূকম্পনের আলামত প্রকট হয়ে উঠার ফলে আন্তর্জাতিক সংবাদদাতাদের এই বিশেষ মনোযোগ। প্রথমে আল জাজিরায় এসেছে প্রকাশ্য বা ঘরোয়া সব রকম সভা-সমাবেশের ওপর ‘কঠোর নিষেধাজ্ঞা’র মধ্যে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রেলিং-ঘেরা বেষ্টনীর মধ্যে অনুমোদিত ১৮ দলীয় জোটের জনসভায় আগমনের জন্য মহানগরজুড়ে ‘নির্দলীয়’ নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে মিছিলের সমারোহ এবং ওই জনসভায় সরকারকে ওই দাবিতে দু’দিনের আলটিমেটাম বা চরমপত্রের আওয়াজ দিয়ে বেগম জিয়ার মুখে ২৭ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ৬০ ঘণ্টা হরতালের ঘোষণার কথা।

sadek.khan's picture

কঠোর কর্মসূচি, সংলাপ ও অন্য প্রসঙ্গ

অনেক ধৈর্য ও প্রতীক্ষার পর ১৮-দলীয় জোটের নেতা-কর্মী, সমর্থকরা এবং দুঃশাসনে অতিষ্ঠ দেশবাসী তাদের দীর্ঘ-প্রত্যাশিত 'কঠোর কর্মসূচি'র সূত্রপাত দেখতে পেল। তার 'প্রাথমিক' ঘোষণা এসেছে ২৫ অক্টোবর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকার অনুমোদনে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপচেপড়া লোকারণ্যে সংসদীয় বিরোধী দলনেতা বেগম খালেদা জিয়ার মুখে। অবশ্য সোজা আঙ্গুলে সরকারি অনুমোদনের ঘি ওঠেনি। ১৮ অক্টোবর সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে এক টেলি-ভাষণে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক সংকটের মীমাংসার জন্য সংলাপের দ্বার উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে সংবিধানে হাল আমলে সংযোজিত পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্যেই সরকারের নির্বাচন-পূর্ব তত্ত্বাবধায়ক মেয়াদের জন্য একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রকাশ করেন।

sadek.khan's picture

অক্টোবরের ক্রান্তিসংকট ও এরশাদ ফর্মুলা

সাবেক জাঁদরেল সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতি, বর্তমানে অস্থিরমতি মহাজোট নেতা ও সরকারি (ট্রেজারি) বেঞ্চের সংসদ সদস্য, জাতীয় পার্টিপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ২৫ অক্টোবরের পর দেশে কী হবে তা কেউ জানে না। রংপুরে তার বাসভবন 'পল্লী নিবাস'-এর বৈঠকখানায় এরশাদ সাংবাদিকদের আরও বলেন, দলীয় প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে আসন বণ্টন করে সরকার গঠনের জন্য আমি নির্বাচন নিয়ে দুই দলকে যে ফর্মুলা দিয়েছি তা মেনে নিয়ে নির্বাচন করলে সংঘাত এড়ানো সম্ভব। তা না হলে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে গেলে সংঘাত অনিবার্য।

sadek.khan's picture

নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক তৃতীয় শক্তি

সংবাদমাধ্যমে এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সব তরফেই লেখালেখি-বলাবলি হচ্ছে : অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে দেশ। আগামী নির্বাচন নিয়ে বড় দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা দূরে থাক; আলোচনার কোনো উদ্যোগই কার্যকর হয়নি। বিদ্যমান সংবিধানের আলোকে একদিকে সরকারি দলের নির্বাচনী প্রচারণা চলছে, অন্যদিকে বিরোধী দল নির্বাচন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কড়া নোটিশ জারি করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের ক্যাবিনেট থাকবে। তারা সরকার পরিচালনা করবেন। আর নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন।

sadek.khan's picture

হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে

আমার ধারণা এই রায়টা একটা রাজনৈতিক রায় হয়েছে। আইনগতভাবে চুলচেরা বিচারে কতটা সঙ্গত বা অসঙ্গত তা নিয়ে মন্তব্য করা আমার পক্ষে সাজে না। তবে এ সময় যেভাবে রায়টা দেয়া হয়েছে তার একটা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আছে। আগামী নির্বাচনের আগে দেশের ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী যে দুই পক্ষ তাদের মীমাংসার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল দুই ঈদের মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। কারণ বাকযুদ্ধ যতই তীব্র হোক না কেন, দুই পক্ষই একটা সংলাপের সম্ভাবনার পরিবেশ বজায় রাখতে কিছুটা আগ্রহ দেখাচ্ছিল।

sadek.khan's picture

বিলবোর্ড: রাজনীতির নয়া তামাশা

রমজান মাসের মাগফিরাত পর্বে সরকার বাহাদুরের মনে একটা সুবুদ্ধির উদয় ঘটেছিল। কদর্য দোষারোপের রাজনীতির যে রেওয়াজ এদেশে ক্ষমতার বাগযুদ্ধে অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা ক’দিনের জন্য শিকেয় তুলে রেখে ইতিবাচক ‘বিলবোর্ড’ রাজনীতির একটা নজির চালু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন সরকারপ্রধান। সেই নির্দেশ মোতাবেক হাল আমলে সরকার বাহাদুর কী কী সৎকর্ম সাধন করেছে বা কতগুলো দর্শনীয় উন্নয়ন কাণ্ড ঘটিয়েছে এবং ক্ষমতাসীন দলের অতীত কীর্তি কী ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহন করে, তার নানা ধাঁচের বাণী সংবলিত সচিত্র নকশা রাজধানীর মোড়ে মোড়ে বিরাটাকার হোর্ডিং তৈরি করে টাঙানোর দ্রুত ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

sadek.khan's picture

গ্রামীণ ব্যাংককে জব্দ করার অপখেলা

দেশের সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে অনিয়ম, দুর্নীতি আর সরকারি ঋণের দায়ে ডুবিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ দরিদ্র সঞ্চয়ীদের ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংকের জমানো পুঁজির দিকে কুনজর দিয়েছিল। অবশেষে সেই মতলব হাসিলের রাস্তায় হোঁচট খেয়ে রণে ভঙ্গ দিয়েছে সরকারের ওই বিভাগ। তবে অর্থমন্ত্রীর মাথায় এখনো সেই মতলব হাসিলের ফন্দি-ফিকির ঘুরপাক খাচ্ছে কিনা সেটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।

sadek.khan's picture

সাধারণ নির্বাচনানুষ্ঠান নিয়ে সংশয়

১৫ জুন চার নগর কর্পোরেশনের নির্বাচনে বলতে গেলে সরাসরি ক্ষমতাসীন মহাজোট সমর্থিত একক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৮ দলীয় বিরোধী জোট সমর্থিত একক প্রার্থী চার জনেরই বিপুল বিজয় এদেশে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় একটা ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বা মোড় ঘোরাবার সিগনাল বলে মিডিয়ায় মন্তব্য এসেছে। আশাবাদীরা বলছেন, এর ফলে নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সংক্রান্ত রাজনৈতিক বিভাজন ও অচলাবস্থা উত্তরণের পথ প্রশস্ত হয়েছে; উভয় পক্ষে কিছু ছাড় দিয়ে সমঝোতা সম্ভব এবং ভূরাজনৈতিক তাগিদে তেমন সমঝোতার দিকেই এগুবে মূলধারার রাজনীতি। সংশয়বাদীরা বলছেন, ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটেনি, ভূরাজনৈতিক খেলোয়াড়দেরও স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক লক্ষ্যে পরিবর্তনের উপাদান তেমন দানা বাঁধেনি; তাই নিয়মতান্ত্রিকতার ফাঁকফোকর দিয়ে গণতন্ত্রের নামে কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রনীতি, দমন-পীড়ন আর ক্ষমতার অপব্যবহারের রাজনীতি, আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা, আর রাজপথের সংগ্রাম সংঘাতের যোগফলই নির্মাণ করবে রাজনৈতিক-সাংবিধানিক অচলাবস্থা উত্তরণের সুড়ঙ্গপথ।

sadek.khan's picture

পদ্মা সেতুর বাজেট ও রানা প্লাজার প্রতিকার

বাজেটের মাস, নির্বাচনের অর্থবছর। তবে জননিরাপত্তাহীনতা, আর্থিক দুর্গতি আর সামাজিক-রাজনৈতিক বিভাজন-সংঘাতক্লিষ্ট আমজনতার মধ্যে বাজেট নিয়ে কোনো ঔৎসুক্য বা উৎসাহ নেই। চায়ের দোকানে, ট্রেনে-বাসে-লঞ্চে বা ফেরিঘাটে, পার্কে কিংবা মার্কেটে বাজেট নিয়ে আলোচনা দূরের কথা, টিকা টিপ্পনিও শোনা যায় না। কারণ শুল্ক বা করের মাত্রায় হেরফের হ্রাস-বৃদ্ধি যেটাই বাজেট করা হোক না কেন, কাস্টমস ইনকাম ট্যাক্স রেভিনিউ অফিসাররা সেলামি আদায় আর শুল্ক বা কর ফাঁকির যে রেওয়াজ থেকে শুদ্ধিমূলক বাজেটবিধি সত্ত্বেও এখন চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত হয়েছেন, রাজস্বদাতা বা আমদানি ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সেই রেওয়াজ অনুসরণ করেই রেহাই পেতে হয়।

sadek.khan's picture

সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে

দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি করেছেন সরকার বাহাদুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। যেহেতু জরুরি অবস্থা জারির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতির, সেহেতু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনানুষ্ঠানিক ঘোষণাটিও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই জারিকৃত বলে ধরে নেওয়া যায়। ১৯ মে দ্বিপ্রহরে চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফরমান দিলেন : 'কোনো রাজনৈতিক দলকে আগামী এক মাস সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না।' তিনি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Syndicate content