মায়ের কাছেই শুধুমাত্র ঋণী থাকতে চাই

Rita Roy Mithu's picture

ইংরেজী ভুলে যাওয়া আমি!

আমাদের কোন গৃহশিক্ষক ছিল না, ইংরেজী পড়তাম বাবার কাছে, অংক করতাম মায়ের কাছে। মায়ের কাছে পড়ার একটা মজা ছিল, মা কখনওই বলতোনা, " এই সাধারণ অংক পারসনা, ঐকিক নিয়ম, সুদকষা, কিছুই জানসনা?" আমাদেরকে প্রশ্ন না করে নিজেই অংক করে দিত। আর বাবা ছিল মারাত্মক, ইংলিশ গ্রামার একেবারে গুলিয়ে খাওয়াতো। বাবাকে নিয়ে আমাদের ছিল মহাযন্ত্রণা, পড়ার সময় তো পড়াতোই, ভাত খেতে বসেছি, খাওয়ার মধ্যেই প্রশ্ন, " ক তো দেখি, বাজার করতে গিয়া দেখি মাছের বাজারে অগ্নিমূল্য--ট্র্যানশ্লেশান কি হইব?" ধরণের প্রশ্ন। তবে, বাবার দেয়া এই যন্ত্রণা আমি উপভোগ করতাম, তখন মাথা ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘিলুতে ঠাসা, যে যা শেখায়, চট করে শিখে ফেলি, একমাত্র ভূগোল ছাড়া। তাছাড়া মেজদার সাথে ছিল প্রতিযোগীতা, মেজদা উত্তর দেয়ার আগেই আমি উত্তর দিইয়ে ফেলতাম, ব্যস, বাবার মনোযোগ গিয়ে পড়তো মেজদার উপর। মেজদাকে পেরেশান হতে দেখলে আমার খুব ভালো লাগতো।

Rita Roy Mithu's picture

তেতাল্লিশ বছরের না বলা কথা!!

মুক্তিযুদ্ধের সময় নিতান্তই শিশু ছিলাম, ছয়-সাত বছরের বালিকা, প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে বাবা-মায়ের সাথে পথে-প্রান্তরে, মাঠে-ঘাটে দৌড়েছি, কখনওবা গ্রামে থেকেছি, আবার পালিয়েছি, শেষ পর্যন্ত খালি পা, ছেঁড়া জামা গায়ে কলকাতা পৌঁছেছি, আত্মীয়বাড়ী থেকেছি, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাবা-মায়ের হাত ধরে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসেছি। মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা একেকজনের কাছে একেকরকম হওয়াই স্বাভাবিক। আমার বয়সী বালিকার কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মানেই মাঝরাত, ভোর রাত, ভর দুপুরে বাবামায়ের সাথে দৌড়ে পালানোর উত্তেজনা, উচ্ছ্বাস, কৌতুহল, এবং যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার শিশুতোষ আনন্দ। পক্ষান্তরে বাবামায়ের কাছে মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা মানেই রাজ

Rita Roy Mithu's picture

বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি তাই

বলেছিলাম, ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর আমি সহজে ফেসবুকে বা পত্রপত্রিকায় রাজনৈতিক স্ট্যাটাস লিখবোনা, যদি না তা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক হয়। কারণ আমি রাজনীতির কিছুই বুঝিনা, শুধুমাত্র বিবেকের তাড়নায় এতদিন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে স্ট্যাটাস লিখে গেছি। বিনিময়ে চেনা-অচেনা বন্ধুদের কাছ থেকে স্নেহ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা পেয়েছি, কিছু কিছু মানুষের কাছ থেকে গাল-মন্দ, ঘৃণা, কটু-কাটব্যও কম পাইনি। একেকটি নোংরা কমেন্ট পড়ে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থেকেছি, পরক্ষণেই নোংরা গা থেকে ঝেড়ে ফেলেছি।

Rita Roy Mithu's picture

"আক্কেল সেলামী"

যতটুকু মনে পড়ে, বাগধারা 'আক্কেল সেলামী'র সরল অর্থ হচ্ছে 'বোকামীর দন্ড', অর্থাৎ বোকামীর সাজা। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল সফর শেষে আমেরিকার মাটিতে পা দেয়ামাত্র আমাকেও সেই আক্কেল সেলামীই দিতে হলো। এমনটা ঘটবার কথা ছিলনা, তবুও ঘটেছে যখন, তখন এটাকে ভদ্র ভাষায় বোকামীর দন্ড ছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে ইচ্ছে করছেনা।

Rita Roy Mithu's picture

সুখ এবং সুখী!!

আজ আমার বড়ই সুখের দিন, কারণ আগামী দুইদিন আমার ছুটি। এমন সুখের দিন প্রতিমাসের চতুর্থ সপ্তাহে আসে। আগে এমন ছিলনা, গত দু’মাস হলো, স্বার্থ কিছু ছাড় দিয়ে এই সুখ কিনেছি।
ওয়ালমার্টে ডিপার্টমেন্ট ম্যানেজার বাদে আর কারোরই উইকএন্ড ছুটি থাকেনা। সপ্তাহে দুই দিন ছুটি থাকে, তবে সেই দুই দিন সপ্তাহের যে কোন দুই দিন হতে পারে। আমি এইসব নিয়মের গভীরে যাইনা, যা নিয়ম আছে, সেভাবেই মেনে চলি।

Rita Roy Mithu's picture

“সেই তো নথ খসালে, তবে কেন লোক হাসালে”!

বেগম জিয়া এবছর উনার নকল জন্মদিন পালন করবেন না তথ্যটি জানতে পারি গতকাল রাতে। কাজ থেকে ফিরেছিলাম রাত সাড়ে নয়টায়, দোতলার সিঁড়িতে পা দেয়ার আগে রান্নাঘরে একটু উঁকী মেরে দেখি রান্নাঘর যেমন রেখে গিয়েছিলাম, ঠিক তেমনই পড়ে আছে। কথা ছিল, মিথীলা তার ‘মিআ’র(মিশা)জন্য কেক বেক করবে আর পোলাও রান্না করবে। কারণ গতকাল ছিল মিশার জন্মদিন। মেয়েটার জন্য কিছুই করা হয়নি দেখে মনটা একটু খারাপ হয়েছে, ভাগ্যিস ভাল আসার সময় ওর জন্য বার্থডে কার্ড আর গিফট কার্ড এনেছিলাম।

Rita Roy Mithu's picture

পলাশী থেকে ধানমন্ডি—মীরজাফর থেকে মোশতাক, জগৎশেঠ থেকে জিয়া

একটি পারিবারিক ছবির কথা বলি, ছবিটি ফেসবুকের হোমপেজে পোস্টেড হয়েছে। ছবিটিতে বঙ্গবন্ধু তাঁর ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়ীর ডাইনিং টেবিলে, সকলকে নিয়ে খেতে বসেছেন, বামপাশে শেখ জামাল, ডান পাশে শেখ রাসেল, উনার চেয়ারের পেছনেই দাঁড়ানো শেখ রেহানা, বেগম মুজিব শেখ জামালের পাশের চেয়ারটিতে বসে সবাইকে খাবার পরিবেশন করছেন, টেবিলটিতে একসাথে কতজন বসতে পারে আমার আন্দাজ নেই, কিন্তু ছবিতে টেবিলের চারপাশ ঘিরে আরও অনেকের পার্শ্ব অবয়ব দেখা যায়। হয়তো সেখানে শেখ কামাল ছিলেন, শেখ হাসিনাও ছিলেন, শেখ মনি ছিলেন, এবং আরও কয়েকজন ছিলেন। চল্লিশ-বেয়াল্লিশ বছর আগে তোলা ছবি, রাসেলের ছবি দেখে মনে হয় যেন বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বরণের কিছুদিন আগে তোলা ছবি এটি।

Rita Roy Mithu's picture

বাক-বিতন্ডা নয়, যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রশ্নে সকলেই একমত হওয়া বাঞ্ছণীয়!

গো আযমের রায় নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে, আর না! যারা সমালোচনা করছেন, আপনাদের সাথে মধ্যরাতের টকশোতে আসা মহা বিজ্ঞজনদের সাথে তো আর কোন পার্থক্য থাকছেনা।

আজ কেন এত 'হায় হায়' মাতম উঠেছে? কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় শুনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যারা এগিয়ে এসেছিল, তাদেরকে ' নষ্ট ছেলেমেয়ে, নাস্তিক ছেলেমেয়ে' বলে ধীক্কার না দিয়ে আন্দোলনের সঠিক পথ বাতলে দিতেন, অথবা তারুণ্যের অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ না করে, প্রজন্ম মঞ্চের নেতা কর্মীদেরকে 'নষ্টবাম', 'নাস্তিক', 'পাকসেনাদের মুরগী সাপ্লায়ার', 'রঙীন পাঞ্জাবী' , ' হঠাৎ গজিয়ে উঠা বঙ্গবন্ধু' বলে বিদ্রুপ করে সাধারণ মানুষের মনে ভিলেন না বানিয়ে ভদ্র ভাষায়, গঠণমূলকভাবে কলামের পর কলাম লিখে যেতেন, তাহলে এই প্রজন্ম মঞ্চের নেতাকর্মীরাই আমাদের জন্য বিরাট ভরসা হয়ে থাকতো।

Rita Roy Mithu's picture

"গোলাম আযমের কেন ফাঁসীর রায় হইলো না"--বলে কান্দো কেন?

কালকের রাত ছিল ঘু্মশূণ্য, মস্তিষ্ক ছিল বোধ শূণ্য! এরপর আট /দশ ঘন্টা পেরিয়েছে, আমি ওয়ালমার্টেও গিয়েছি, অন্য জগত, অন্য পরিবেশে থেকে বোধশূণ্য মস্তিষ্কের নিস্তেজ কোষগুলো যেন আবার সচল হতে শুরু করেছে। একা একা ভাবছিলাম, বাংলাদেশের আয়তন সেই পুরাতন হিসেব অনুযায়ী পঞ্চান্ন হাজার একশত ছাব্বিশ বর্গমাইল [ এই সরকারের আমলে ভারতের থেকে কিছু ভুখন্ড বাংলাদেশ ভুখন্ডে যোগ হয়েছে, আমরা যারা শেখ হাসিনা বিদ্বেষী, তা দেখেও দেখিনি, শুনেও শুনিনি, মনে রেখেও মনে রাখিনি, মনে রাখলেও তা স্বীকার করবোনা]। এই ছোট্ট ভুখন্ডে মানুষের সংখ্যা প্রায় ষোল কোটি, [অবশ্য আমাদের মত নিরাপদ দূরত্বে থেকে লম্ফ-ঝম্প করা প্রবাসীদের গোনায় ধরিনি]।

Rita Roy Mithu's picture

৯৪ বছর বয়স---জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়!!

মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি খুবই ছোট ছিলাম, কিন্তু তখন সময়টাই ছিল অন্যরকম, আমার স্মৃতিশক্তিও খুব ভাল, তাই নয়মাস যুদ্ধ চলাকালীন অনেক ঘটনাই সিনেমার দৃশ্যের মত মনের কোঠায় এখনও ভেসে বেড়ায়। মুক্তিযোদ্ধা দেখিনি, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে গেছিলাম, নানা পথ ঘুরে, পাকিস্তানী মিলিটারীদের সাঁজোয়া গাড়ীর বহর দূর থেকে দেখেছি, রাজাকারের হাতে পড়তে পড়তেও পড়িনি, মোট ১৫ দিন লেগেছে কলকাতার শিয়ালদহে পৌঁছাতে।

Syndicate content