মায়ের কাছেই শুধুমাত্র ঋণী থাকতে চাই

Rita Roy Mithu's picture

অনলাইনে সংবাদ পাঠের বিড়ম্বনা!

ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদ কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছেন, এটা দেশের প্রতিটি মানুষই জানে। টিভিতে, পত্রপত্রিকাতে ফলাও করে এর প্রচার চলছে। একজন হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে প্রচার চলবে, এমনটাই প্রত্যাশিত। হুমায়ুন আহমেদতো আর পাড়ার দোকানদার কেউ নন যে কোথা দিয়ে আসলো, কোথা দিয়েইবা বের হয়ে গেলো, কেউ দেখতেই পারলোনা। হুমায়ুন আহমেদ নিজের যোগ্যতাবলেই আজ এখানে এসে পৌঁছেছেন। আমি এখানে হুমায়ুননামা লিখতে চাইছিনা। কারন হুমায়ুন আহমেদ সম্পর্কে আর দশজন যা জানে, আমি তার চেয়ে হয়তোবা একটু আধটু বেশী জানি। আমি বলছি অন্যকথা। হুমায়ুন আহমেদ এক সময় আমার স্বামীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী তথা বন্ধু ছিলেন। উনি যখন অসুস্থ হলেন, উনার সাথে দুই চারটি স্মৃতিকে জড়িয়ে একটি লেখা ব্লগে পোস্ট করেছিলাম, ‘হুমায়ুন ভাইয়ের জন্য যত প্রার্থণা’ নামে। সেই হুমায়ুন ভাই দেশে গেছেন তা টিভিতে আমার স্বামী দেখছেন। আমি ব্লগে এলোমেলো বিষয় নিয়ে লিখি তা আমার স্বামী জানেন। আজকেই বিকেলে আমি কাজ থেকে ফিরতেই উনি আমাকে বললেন, হুমায়ুন আহমেদের নতুন উপন্যাস শুরুর সাথে সাথেই এমন বিতর্ক শুরু হয়েছে যে পত্রিকাতে প্রতিদিন তা নিয়ে লেখা হচ্ছে। হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে লেখা হচ্ছে সেটা নিয়ে আমার স্বামী চিন্তিত নন, পাঠকেরা মন্তব্য করতে গিয়ে হুমায়ুন আহমেদের মেয়েদের নামে, তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাওনের নামে এমন সব কুরুচীপূর্ণ কথা লিখেছে যে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়তে হয়। পত্রিকার সম্পাদক দায়ী থাকার কথা এমন নোংরা মন্তব্য বিনা সেন্সরে প্রকাশিত হওয়ার জন্য। অনেকের বাড়ীতেই বাবা, মা, ছেলে মেয়ে অনলাইনে একই পত্রিকা পড়ছে, তারাতো লজ্জা পায়। এই বিষয়টির উপর আলোকপাত করে আমি যেনো কিছু লিখি, সেরকম একটি সাজেশানই উনি আমাকে দিয়েছেন।

Rita Roy Mithu's picture

পৃথিবীর সকল 'মা' কে মাদার'স ডে'র শুভেচ্ছা!!

১৩ই মে, রবিবার বিশ্বের অধিকাংশ দেশে মহা ধুমধাম করে ‘মা’ দিবস বা ‘মাদার’স ডে উদযাপিত হচ্ছ্বে। সাধারণতঃ মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারটিতে ‘মাদার’স ডে পালিত হয়ে থাকে। যদিও কিছু কিছু দেশে তাদের রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন দিনেও মাদার’স ডে পালিত হয়ে ্থাকে। তবে মহাপরাক্রমশালী আমেরিকাতে যেহেতু মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মাদার’স ডে পালিত হয়, তাই এর সাথে তাল রেখে অধিকাংশ দেখেই একই দিনে মাদার’স ডে উদযাপিত হয়।

মাদার’স ডে কখন শুরু হয়েছিল, কোথা থেকেই বা শুরু হয়েছিল তা নিয়ে নানা ধরনের গল্প প্রচলিত আছে। যেমন প্রাচীনকাল থেকেই কোন কোন দেশে ধর্মীয়ভাবেই একটি নির্দিষ্ট দিনে মা’কে শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জানানোর রীতি ছিল। মাতৃত্ব, সন্তানের সাথে নাড়ীর বন্ধন, মমতা- স্নেহ-ভালোবাসার ক্ষমতা মা’কে দেবীর আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। প্রাচীনকালে মা’কে নিয়ে গ্রীক উৎসব ‘সাইবেল’ (Cybele,) , রোমান উৎসব ‘হিলারিয়া’, ব্রিটিশ উৎসব ‘মাদারিং সানডে’ ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের সাথে উদযাপিত হতো। ধারনা করা হয়, বর্তমান সময়ে ‘মাদার’স ডে দিবসটি প্রাচীনকালের ‘মা’ উৎসবের আধুনিক সংস্করন।

Rita Roy Mithu's picture

মাদার’স ডে শুধুই মায়েদের জন্য, কিন্তু ওরা মা নয়!!

আগে প্রচলন ছিলনা, কিনতু বেশ কিছু বছর ধরেই বাংলাদেশে ‘মাদার’স ডে মহা ধুমধামের সাথে পালিত হয়ে থাকে। কোন একটি কোম্পানী থেকে ‘রত্নগর্ভা’ পদক প্রদান করা হয়ে থাকে দেশে প্রতিষ্ঠিত বা পরিচিত ব্যক্তিদের মায়েদেরকে। ভালো খুবই ভালো, এমন উদ্যোগকে নিজে একজন মা হিসেবে একটা সালাম দিতেই হয়। তবে রত্নগর্ভা শব্দটি নিয়ে মনে একটু খটকা থেকেই যায়। ‘গর্ভে’ থাকতে সব শিশুই একই রকমভাবেই বাড়ে। সব মেয়ের গর্ভের অভ্যন্তর একই কাঠামোতে সাজানো। সেখানে কারোর গর্ভেই আলাদা করে রত্ন তৈরীর মেশিন থাকেনা। বাচ্চা ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে শুরু হতে পারে রত্ন বানানোর প্রক্রিয়া, তার আগেতো নয়। তবে হ্যাঁ, যে মা যত বেশী সচেতন, যে মা য

Rita Roy Mithu's picture

(আমেরিকান) স্কুল গ্র্যাজুয়েশান ও আত্ম জিজ্ঞাসা!!

সেদিন আমার ছুটি ছিল। খুব বেশীদিন আগের কথা বলছিনা। দিন সাতেক আগের কথা। একটা ফোন কল এসেছে, ফোনটা ধরতেই ঋষিজার মা'কে চাইলো। ঋষিজা হচ্ছে আমার ছোট মেয়ে মিথীলার পোষাকী নাম। 'ইয়েস বলছি' বলতেই জানালো যে ঋষিজার স্কুল থেকে ওর টিচার কথা বলতে চায়। স্কুল থেকে ফোন আসলেই আমার কেনো যে সবার আগেই খারাপ কথাটিই মনে আসে বুঝিনা। কেবলই মনে হয়, এইরে! আমার মেয়েটার বোধ হয় কোন বিরাট সর্বনাশ হয়ে গেছে। এমনটি ভাবতে থাকি বলেই ফোনের অপর প্রান্তের কথা আমি প্রায়ই ভালো করে বুঝতে পারিনা। হ্যাঁ হুঁ করতে থাকি। পরে ধাতস্থ হয়ে কথা বলি। সেদিন ঋষিজার টিচার বললো, " নেক্সট ফ্রাইডেতে আমাদের স্কুলের এন্যুয়াল এওয়ার্ড সেরিমনিতে ঋষিজা টপ সিক্রেট এওয়ার্ড পাবে। আমরা চাই ঋষিজার বাবা মা যেনো এওয়ার্ড সেরিমনিতে উপস্থিত থেকে বাচ্চার এই এচিভমেন্টকে উপভোগ করতে পারে। কাজেই তোমরা আমন্ত্রিত এবং একটি অনুরোধ, ঋষিজাকে জানাবেনা এই সিক্রেট এওয়ার্ডের কথা"।

ফোনটি পাওয়ার পরে আমার কি করা উচিত ছিল! আনন্দে ঘরময় লাফানো না-কি একে তাকে সাথে সাথে ফোন করে করে জানানো! আমেরিকান বাবা মায়েদের মত হতে পারলে আমি দুটোই করতাম। হ্যাঁ, এখানে ছেলেমেয়েদের বাবা মায়েরা বাচ্চাদের যে কোন সাফল্যে খুবই উচ্ছসিত হয়। বাচ্চাদেরকে তাঁরা নানাভাবে পুরস্কৃত করার চেষ্টা করে। এখানের স্কুলগুলোতে একেবারে প্লে স্কুল থেকে শুরু হয় 'গ্র্যাজুয়েশান' সেরিমনি। বিশেষ করে প্রাইভেট স্কুলগুলোতে সেই ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়েদের জন্য 'গাউন', 'গ্র্যাজুয়েশান ক্যাপ', ' স্টোল'( গলায় ঝুলানোর জন্য), 'ডিপ্লোমা'( হাতে ধরা থাকে) সহ আনুষঙ্গিক প্রতিটি জিনিস কিনতে হয়। এবং এখানের বাবা মায়েরা এতটুকু কার্পণ্য করেনা ছেলেমেয়েদের জন্য টাকা খরচ করতে। ছেলেমেয়েদের গ্র্যাজুয়েশানের দিন আগে থাকতেই বাবা মায়েরা কাজের জায়গা থেকে ছুটি নিয়ে রাখে। যদি কারো কাজের জায়গাতে ডিউটি পড়ে যায়, 'সিক কল' করতে তারা এতটুকু দ্বিধাবোধ করেনা। যেদিন স্কুলে এওয়ার্ড সেরিমনি হয়, বাবা মায়েরা তাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে স্কুলে উপস্থিত হয়। সাথে থাকে ডিজিট্যাল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা। স্কুলের বিরাট হলরুম আগত অতিথি দিয়ে কানায় কানায় ভর্তি থাকে।

Rita Roy Mithu's picture

নির্বুদ্ধিতার কোন বয়স নেই!

কিশোরবেলাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি কবিতা আমাদের বাংলা পাঠ্যবইয়ে পাঠ্য ছিল। নবীন আর প্রবীণের তুলনামূলক একটি কবিতা। যেখানে কবিতার প্রতিটি স্তরে স্তরে প্রবীণদেরকে নির্বোধ, বধীর, অন্ধ হিসেবেই দেখিয়েছেন কবি। কবিতার কয়েকটি চরণ আমার মনে গেঁথে আছে।

” ওই যে প্রবীণ, ওই যে পরম পাকা, চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা।
ঝিমায় যেনো চিত্রপটে আঁকা—-
ওরে নবীণ ওরে আমার কাঁচা, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা”।

এমন করেই কবি পুরো কবিতাটি লিখেছিলেন। আমি তখন থেকেই বার্ধক্যকে ভয় পাই। কেউ আমাকে নির্বোধ বলবে ভাবতেই ভয় লাগে। আমার চারিপাশে কত ধরনের মানুষ দেখি, এদের মধ্যে শুধু বয়স্করাই কি নির্বোধ? না , কবিগুরু পুরোপুরি ঠিক বলেন নাই। নির্বোধদের কোন বয়স থাকেনা। আমি আজকে কাজে গেছিলাম বেলা বারোটাতে। বারোটা থেকে রাত নয়টা শিফট। আমার বড় মেয়ে চার পাঁচ দিনের জন্য এসেছিল, আজকেই বিকেলে চলে গেলো ওর শহরে। আমার আজকে কাজে যেতে মন চাইছিলোনা, তবু বলে গেছিলাম লাঞ্চ ব্রেকে এসে ওকে রওনা করিয়ে দিয়ে ফিরে যাবো কাজে। কাজের জায়গায় আমি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, পেছন থেকে এক মহিলা জিজ্ঞেস করলো আমি এখানে চাকুরী করি কিনা। আমি বললাম যে হ্যাঁ এখানেই চাকুরী করি, তোমার কি প্রয়োজন বলতে পারো। দেখি যদি তোমাকে হেল্প করতে পারি।

Rita Roy Mithu's picture

হেনরীর হাতুড়ির বীণ!!

স্কুলজীবনে নানা উপলক্ষে মাঝে মাঝেই স্কুল ছুটি থাকতো। তার মধ্যে একটি উপলক্ষ ছিল ‘মে দিবস’। ‘মে দিবসের’ ছুটি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তেমন কোন উৎসাহ ছিলনা সঙ্গত কারণে। কারণ ‘মে দিবসে’ ছাত্রছাত্রীদের কোন কিছুই করার ছিলনা বাড়ী বসে ছুটি কাটানো ছাড়া। সকলেই জানতাম ‘মে দিবস’ মানে শ্রমিক দিবস যেদিন আসলে কলকারখানা, গাড়ী ঘোড়া বন্ধ থাকে বেলা বারোটা পর্যন্ত। আমরা বড় হয়েছি নারায়নগঞ্জ শহরে। নারায়নগঞ্জ হচ্ছে শ্রমিকদের জন্য খ্যাত। নারায়নগঞ্জ আদমজী জুট মিল, বাওয়ানী মিল, লক্ষী নারায়ন মিল, গেঞ্জীর হোসিয়ারী মিলে নারায়নগঞ্জ ছিল সত্যিকারের শ্রমিক সমৃদ্ধ শহর। ফলে মে দিবস সম্পর্কে অল্প বিস্তর আমাদের জানা ছিল।

এরপরে বড় হতে হতে গনসঙ্গীতশিল্পী শ্রদ্ধেয় ফকির আলমগীরের গান, ‘ হেনরীর হাতুরীর বীণ’ শুনেতো আমি মুগ্ধ হয়েছি। সেই গানের মধ্যে দিয়েই শ্রমিকদের প্রতি আলাদা এক অনুভূতি জন্ম নেয়। ওদের ন্যায্য দাবীর প্রতি একটু একটু করে দূর্বল হতে শুরু করি। বেশ ছোটকালে দেখতাম, আমাদের ঘরে মাঝে মাঝে অতিরিক্ত যে মানুষটি থাকতেন ‘অমুকের মা’ বা তমুকের মা’ নামে, তাদের প্রতি আমার মায়ের স্নেহ ঝরে পরতো। আমার বয়সী ছোট কাজের মেয়েকে আমার মত করেই রাখা হতো। একদামের জামা কাপড় আমাদের দুজনকেই দেয়া হতো। এমনটা যেমন দেখেছি আবার আমার নিজের চোখেই দেখেছি আশে পাশের বাড়ীর কাজের মানুষগুলো খুবই ছোটখাটো ভুল করেও পার পায়নি। খুব পরিচিত একজনকে দেখতাম কাজের মেয়ে ভুল করলে আর রক্ষা নেই! হাতের লাঠি দিয়ে ধড়াম ধড়াম করে পিটানো হতো। অনেক বছর পার হয়ে গেছে, মনে হয়না গৃহকর্মীদের প্রতি মানুষের আচরণে তেমন কোন পরিবর্তন এসেছে।

» Topics:
Rita Roy Mithu's picture

আমেরিকান কনের বাংলাদেশী ‘বর’ পছন্দ!!!

আমার সহকর্মী ওরা। রেজিনা, চ্যাসিটি, শেইলা, টেরী, মাইশা। টেরী এবং শেইলা আমার বয়সী, চ্যাসিটি সবার ছোট ২২ বছর বয়স ওর। মাইশা ও রেজিনার বয়স ২৭ অথবা ২৮। ওদের একটু আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দিলে লেখাটি পড়তে সহজ হবে।

রেজিনাঃ কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী, বিবাহিত। রেজিনা ফোন সার্ভিসে চাকুরী করার পাশাপাশি অনলাইনে ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট’ এর উপর পড়াশুনা করছে। ওর স্বামী গাড়ী সারাইয়ের দোকানে মেকানিকের কাজ করে। ওরা সুখী দম্পতি। রেজিনা কাজে আসার পর থেকে ওর বর প্রতি ঘন্টায় ফোন করে, বউয়ের খোঁজ নেয়। আমি মাঝে মাঝেই মজা করে বলি, আমার বরটাকে তোমার বরের কাছে পাঠিয়ে দেবো, বউ খুশী করার কিছু টিপস শিখে আসবে। রেজিনার স্বামী রেজিনার মায়ের বাড়ীতেই থাকে। অনেকটা ঘর-জামাইয়ের মত।

চ্যাসিটিঃ বাচ্চা একটি মেয়ে। কৃষ্ণাঙ্গ হলেও গায়ের রঙ আমাদের মতই বাদামী। সিঙ্গল মায়ের একমাত্র মেয়ে, বিলাসী, স্টাইলিশ। গত এক বছরে তিনবার ‘আইফোন’ বদলেছে। ইমেলদা মার্কোসের পরেই মনে হয় চ্যাসিটির নাম আসবে, এত জোড়া জুতা ওর। চ্যাসিটি চাকুরী করে, কলেজে পড়াশুনাও করে। ওর একটি তিন বছর বয়সী মেয়ে আছে। ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে এখন ওর কাট-আপ হয়ে গেছে। মেয়েকে নিয়ে চ্যাসিটি ওর মায়ের কাছেই থাকে। তবে অপেক্ষায় আছে বয়ফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক জোড়া লাগার জন্য। বিয়ে নিয়ে চিন্তা করছেনা। কি ধরনের ছেলে ওর পছন্দ জিজ্ঞেস করতেই বলেছিল, পয়সাওয়ালা ছেলে। যে ওকে রাজসুখে রাখবে।

Rita Roy Mithu's picture

অপহরণ নাটকের দায় বইছে বোকা জনগন!

আমি আগে মাঝে মধ্যে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট দুই একটি লেখা ব্লগে লিখতাম। লেখা পোস্ট হওয়ার পরবর্তী সমালোচনার ঝড়ে ক্ষত বিক্ষতও হয়েছি, মাঝে মাঝে সমালোচনার ভাষা এতই আক্রমণাত্মক ছিল, যা কিনা নোংরা সাম্প্রদায়িকতায় মোড়ানো থাকতো। আমি খুব আহত হতাম, পরে আমার কিছু শুভানুধ্যায়ী আমাকে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কোন লেখা লিখতে মানা করায় আমি আর লিখিনা। শুভাকাঙ্খী যারা তারা সব সময়ই অন্যের শুভ কামনা করে থাকে। আমাকে আমার বন্ধুরা বলেছিল বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে মাথা না ঘামাতে। একেকজন একেক দৃষ্টিতে রাজনীতিকে দেখলেও মূল কথা ছিল, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে মাথা না ঘামানো। কিনতু না লিখলেই কি আর মনের আকুতিগুলো থেমে থাকবে!

Rita Roy Mithu's picture

মেজদার জীবনের হাফ সেঞ্চুরী!!!!

সাধারন মধ্যবিত্তের সংসারে আমার বাবা মায়ের সন্তান সন্ততির সংখ্যা ছিল চারজন। তিন ছেলে ও এক মেয়ে। চারজনের মধ্যে আমার অবস্থান তিন নাম্বারে। আমার বাবা মা দুজনেই ছিলেন চাকুরীজীবি। বাবা চাকুরী করতেন অফিসে, মা ছিলেন মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষিকা। শৈশবে আমাদের দেখভাল করতেন আমাদের ঠাকুরমা (বাবার মা)।দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত আমাদের ঠাকুমা আমাদের সাথে ছিলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ভারত থেকে আমার বাবা মা যখন দেশে ফিরে আসেন আমাদেরকে নিয়ে, আমার ঠাকুরমা আমাদের সাথে আর আসেননি, ওখানেই থেকে গেছিলেন আমার কাকাদের কাছে। এই হচ্ছে আমাদের সংসারের একটি ্মোটামুটি চিত্র।

আমার তিন ভাইয়ের মাঝে আমার বড় ভাই বরাবরই একটু সমীহ পেত ছোট বড় সকলের কাছ থেকে। পরিবারের প্রথম সন্তান হিসেবেতো বটেই, অত্যন্ত সুবোধ ও মেধাবী ছেলে হিসেবে পরিবারের গন্ডী ছাড়িয়ে পাড়া মহল্লাতেও তার আলাদা একটি অবস্থান ছিল। আমি বরাবরই একটু ‘অহংকারী’ ছিলাম একটি মাত্র মেয়ে বলে। অহংকারী হওয়ার প্রশ্রয় পেতাম বাবার কাছ থেকে। আমার অসম্ভব রাগী বাবার আমার প্রতি দূর্বলতা ছিল সকল তর্ক বিতর্কের ঊর্ধ্বে। আমার ছোটভাই খুব বেশী সুন্দর ছিল দেখতে, বরাবর শান্ত স্বভাবের ভাইটিকে সকলেই আদর করতো। বাকী থাকলো আমার মেজভাই, আমার ‘মেজদা’।

Rita Roy Mithu's picture

বাংলাদেশের ‘রাজনীতি’???

যখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তাম, আমাদের বাংলা পাঠ্য বইয়ে একটি কবিতা ছিল, যার প্রথম চারটি লাইন ছিল,
“মাথায় কত প্রশ্ন আসে
দিচ্ছেনা কেউ জবাব তার’
সবাই বলে, মূর্খ ছেলে
বকিসনে আর খবরদার”।

কবিতাটির মূল চরণটুকুই আমার মনে আছে, কবিতার নাম বা কবির নাম মনে পড়ছেনা। কবিতাটির সাথে যে কার্টুন মার্কা ছবি সংজোযিত ছিল, সেখানে একটি ছেলে তার তর্জনী মাথার দিকে পয়েন্ট করে চোখ জোড়া গোল গোল করে মুখ হাঁ করে বোকার মত তাকিয়ে ছিল। জীবনে অনেকবার কবিতার এই চারটি চরণ মনে পড়েছে, তবে ইদানীং চরণগুলো মনে পড়ার সাথে সাথে নিজেকেই সেই ছবির ছেলেটির মত মনে হচ্ছে।