Rahat.Khan's blog

Rahat.Khan's picture

সাফল্য ছিল তার আজীবনের পাওয়া

খবরের কাগজে মাঝে মধ্যে এমন সব খবর ছাপা হয় যা মুহূর্তের জন্য মানুষকে স্তম্ভিত কিংবা হতবাক করে দেয়। নূরুল কাদের খানের মৃত্যুসংবাদ ছিল আমার জন্য তেমন এক খবর। তিনি আমার কোনো আত্মীয় নন। সহপাঠী কিংবা বন্ধু নন। বলা যায় নানা জায়গায় দেখা হতে হতে সময়ের ধারায় খুবই পরিচিত হয়ে যাওয়া এক মানুষ। তবে শুধু খুবই পরিচিত হয়ে যাওয়া মানুষ বললে ঝিলু ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বোঝানো যাবে না। আমি তার অনুজতুল্য ছিলাম। বয়সে পাঁচ বছরের ছোট। তার সানি্নধ্যে যেতে যেতে অনেকটা তার ছোট ভাই এবং কিছুটা তার বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। তার মৃত্যুসংবাদে আত্মীয়-বিয়োগের বেদনা পেয়েছি। মাত্র ৬৩ বছর বয়সে আমাদের দেশের এমন একজন কৃতবিদ্য, প্রতিভাবান মানুষ চলে গেলেন, ভাবতে কষ্ট হয়।

Rahat.Khan's picture

হেফাজত, মাহমুদুর রহমান ও ১৮ দলীয় জোটের ইউটার্ন

লিখতে বসেছি ২৫ মে, শনিবার। রবিবার ২৬ মে বিরোধী দল আবার হরতালের ঘোষণা দেয়ায় আমার স্কুলপড়ুয়া ছেলে ঋদ্ধি (১৪) প্রায় আর্তনাদ করে উঠেছিল। ওদের বার্ষিক পরীক্ষা আসছে জুন মাসে। সিলেবাসের বহু পড়া হরতালের কারণে বন্ধ থাকায় স্কুলে আলোচিত হতে পারেনি। বহু সাপ্তাহিক পরীক্ষা একই কারণে বাতিল করতে হয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি বলতে যা বুঝায় তা একদমই হয়নি। কারণ ঐ হরতাল।

Rahat.Khan's picture

দেশ-রক্ষার স্বার্থে চাই সংলাপ

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মাঝে সংলাপ প্রশ্নে কিঞ্চিৎ আশাবাদের সঞ্চার হয়েছিল। কোনো রকম শর্ত দেওয়া ছাড়াই বিএনপিসহ ১৮-দলীয় জোট আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছিল। তাদের তরফ থেকে দাবি নয়, অনুরোধ করা হয়েছিল যেন আলোচনায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টিও থাকে। এটা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের জনৈক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার ঢাকা সফরের অব্যবহিত কাল পরের কথা। জনমনে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল এই ভেবে যে- হরতাল, ককটেল আর গ্রেফতার আতঙ্কের পর রাজনীতির সংকট বোধকরি রাজনৈতিকভাবেই মীমাংসিত হতে যাচ্ছে। আমাদের যোগাযোগমন্ত্রী তো বিদ্যাসাগরী যুগের ভাষায় উদাত্ত কণ্ঠে বলেই ফেলেছিলেন : 'সংলাপের সুবাতাস বহিতেছে'।

Rahat.Khan's picture

কি মধু আছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায়?

একটা কথা ভেবে অবাক হই। আমাদের দেশে বিজ্ঞজন বলে যাঁরা পরিচিত, তাঁদের অনেকে নির্বাচন কমিশন কিভাবে এবং কতটা শক্তিশালী করা যায়, সেই কথা কখনও বলেন না, বলেন নির্দলীয় অর্থাৎ অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা। নির্বাচন কমিশনকে এমনভাবে শক্তিশালী তো করা যায় যাতে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনে কোনরূপ হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। দুনিয়ার সব দেশেই তো শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন পরিচালনা করে।

Rahat.Khan's picture

রাজনীতি এখন পলাতক! গণতন্ত্রেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না ...

বাংলাদেশে ইদানীং যা চলছে, তা কি চৌদ্দ দল বনাম বিএনপি-জামায়াত জোট এবং হেফাজতে ইসলামের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বলা যায়? ইদানীং লাগাতার হরতাল, নাশকতা এবং দুই পক্ষের যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও আচরণ দেখে এই কথা আর বলা চলে না। পক্ষ-প্রতিপক্ষের মধ্যে ইদানীং যা চলছে, তাকে আর যাই হোক রাজনীতি বলা যায় না। ক্ষমতার লড়াই তো বটেই। তবে অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের বিবেচনায় সেটা ক্ষমতার লড়াইয়েরও বেশি কিছু।

Rahat.Khan's picture

ধ্বংস ও ষড়যন্ত্রের অপরাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শ্লেষের ভাষায় বলেছেন, 'পেয়ারে পাকিস্তান' নাকি বেগম খালেদা জিয়ার দেশ। আরও কিছু কিছু কথা খালেদা জিয়া সম্পর্কে বলেছেন শেখ হাসিনা। নিষ্প্রয়োজন বোধে সেসব কথা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম।

Rahat.Khan's picture

বিচারহীনতার কলঙ্ক থেকে মুক্ত হোক বাংলাদেশ

এই ক'দিন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার ছিল মিডিয়া এবং সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে। প্রসঙ্গটি টেনে অযথা আর লম্বা করতে চাই না। আর আদালতে তার ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে এত আলোচনা হয়ে গেছে যে, এ বিষয়ে নতুন কিছু যোগ করার নেইও। আমি শুধু এ প্রসঙ্গে একটা কথা বলে ক্ষান্ত হব। বাঙালিকে কিছুটা খাটো করার জন্যই যেন বলা হয় তারা বিস্মৃতিপরায়ণ জাতি। কথাটা সত্য বলে আমি মানি না। বিশ্বে কোনো জাতিই বিস্তৃতিপরায়ণ নয়। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনীর দোসর ছিল রাজাকার, আল্-বদর এবং আল্-শামস বাহিনী।

Rahat.Khan's picture

তৃতীয় শক্তি?

হরতাল সম্পর্কে নিজস্ব একটি মত ব্যক্ত করেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবি্লউ মোজেনা। তিনি বলেছিলেন, হরতাল আমি ঘৃণা করি। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিরোধ-বিবাদ মীমাংসা করতে হবে সংলাপের মাধ্যমে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত সম্ভবত বাংলাদেশে হরতালে সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড অবলোকন করেই কথাটা বলেছিলেন। এ ধরনের হরতালে বাংলাদেশের দ্রুত ধাবমান অর্থনীতির গতিপ্রবাহ রুদ্ধ হবে, সেটাও হয়তো বিবেচনা করে কথাটা বলেছিলেন তিনি। সহিংস হরতাল এবং হিংস্র ঝটিকা মিছিল এবং পিকেটিং তো গণতান্ত্রিক অধিকারের যে হরতাল সেই হরতালের বিরোধিতাই প্রকাশ করে। অগণতান্ত্রিক কায়দায় করা হরতালকে তো বৈধ বলে স্বীকার করে নেওয়া যায় না।

Rahat.Khan's picture

ঝাণ্ডা উঁচা রহেগা

ভারতবিরোধিতা ত্যাগ করা বিএনপির পক্ষে সম্ভব নয়। আর হুজুর-মওদুদী জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে তো নয়ই। কথাটা আচমকা বলায় কেউ কেউ বিস্মিত হতে পারেন। তবে কথাটা প্রমাণসিদ্ধ। সূর্যালোকের মতো পরিষ্কার।
গত ১৯ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা মুক্তিযোদ্ধা সম্মেলনের বিষয়টিই উল্লেখ করা যাক। এবারের ভারত সফর থেকে ফিরে আসার পর কয়েকটি পর্যবেক্ষক মহল মন্তব্য করেছিল_ বাংলাদেশে আসন্ন ২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি বোধহয় তাদের চিরাচরিত ভারতবিরোধী কার্ড খেলা থেকে বিরত থাকবে। বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা নাকি বিএনপি বুঝতে পেরেছে।

Rahat.Khan's picture

বিশ্বজিৎ হত্যা ও বাংলাদেশের রাজনীতি

নিরীহ যুবক বিশ্বজিতের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচিত হচ্ছে। স্বাভাবিক ছাড়া যে কোন অপমৃত্যু বা হত্যাকা-ই জনমানুষের ঘৃণা ও ধিক্কার কুড়ায়। বিশ্বজিতের হত্যাকা- তেমনি ঘৃণা ও ধিক্কার কুড়িয়েছে দেশজুড়ে।
সে ছিল বাইশ তেইশ বছরের পাতলা ছিপছিপে। সবে যৌবনে পা দেয়া এক যুবক। বাবা-মা, ভাইবোনদের চোখের মণি। পুরান ঢাকায় তার ছিল খুব ছোট এক চিলতে দর্জি দোকান। দোকানের সামান্য আয় থেকে বাঁচিয়ে নিয়মিত টাকা পাঠাত গ্রামে, বাবা-মায়ের কাছে। বিশ্বজিতের পাঠানো টাকায় কোন রকমে চলত একটি দরিদ্র সংসার। সেই সংসার এবং মা-বাবার ছেলেকে ঘিরে সব স্বপ্ন-ভরসা ছারখার হয়ে গেল বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ডে।

Syndicate content