Pijush.Bandyapadhya's blog

Pijush.Bandyapadhya's picture

গাড়ি চলে না, চলে না ...

শিরোনামে যদিও গাড়ি চলে না লিখেছি, কিন্তু লেখা দরকার গাড়িকে চলতে দেয়া হচ্ছে না। গাড়িটা গণতন্ত্রের। উদ্দেশ্যমূলক যানজট সৃষ্টি করে গাড়ির স্বাভাবিক চলায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। যারা বাধা সৃষ্টি করছে তারা পারলে বোমা মেরে গাড়িটা উড়িয়েও দিতে চায়। গণতন্ত্রের ব্যানারে ঢাকা গাড়িটা তাদের দুই চোখের বিষ।

গাড়িটার প্রতিটি কম্পার্টমেন্ট অনেক অর্জনের সুফল। শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য, তথ্য, সংস্কৃতি, যোগাযোগ, পররাষ্ট্র, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, খেলাধুলাসহ গত সোয়া তিন বছরের অনেক সাফল্যের দলিল রয়েছে এই গাড়ির কম্পার্টমেন্টগুলোতে। তাছাড়া রয়েছে জাতির কাক্সিক্ষত বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচার প্রক্রিয়া, বিগত আমলে সৃষ্ট জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী রাজনীতির বিষদাঁত ভেঙ্গে দেয়ার মতো বিরাট সাফল্য। অনেকেরই ধারণা ছিল যে, এই কঠিন কাজগুলো করার সাহস বোধ হয় কারও নেই। অসাম্প্রদায়িকতা, সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা ও প্রাপ্য সম্মান, অন্যান্য জাতিসত্তার স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা বিধান ইত্যাদি নিশ্চিত করার একটা সুদৃশ্য চিত্রও রয়েছে গণতন্ত্রের ব্যানার লেখা গাড়ির কম্পার্টমেন্টে। আধুনিক ও উপযোগী নারীনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও রয়েছে একটি কম্পার্টমেন্টে। সব মিলিয়ে বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে, গণতন্ত্রের সুদৃশ্য গাড়িটার সর্বাঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের ছায়া। গাড়ির প্রধান চালক যিনি। তিনি এবং তাঁর দল যে কোন মূল্যে গাড়িটিকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। বিগত অনেক বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র শরীর থেকে খাবলাখাবলিভাবে মাংস তুলে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে। গাড়ির প্রধান চালকের লক্ষ্য ক্ষত সারিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সুস্থ, সবল, সুন্দর অবয়ব পুনর্নির্মাণ করা। সে কারণেই তিনি গত সোয়া তিন বছরের সোনালি ফসল একটু একটু করে ভারছেন প্রতিটি কম্পার্টমেন্টে। তবে পদে পদে তাঁকে বাধা দেয়া হচ্ছে। বাধা দিচ্ছে তারা, যারা সারাদেশ ও মানুষের কল্যাণ চায় না।

Pijush.Bandyapadhya's picture

শেখ হাসিনা ভাল, আর সব খারাপ!

মুক্তিযুদ্ধের পর এক শ্রেণীর সামাজিক ভদ্রলোক বলা শুরু করলেন, বঙ্গবন্ধু ভাল কিন্তু আওয়ামী লীগ খারাপ। প্রথম দিকে ফিসফাস করে এবং দিন যত গড়ানো বোলচালন যেন তত বেড়ে গেল তাদের। পাঁচ এবং ছয়ের দশকে এরা বিত্তবান হয়েছেন। বাঙালী জাতীয়তাবাদের আন্দোলনের তাপ এদের গায়ে লাগেনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের কঠিন দিনগুলোতে তারা ভাল মানুষ হয়ে থেকেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যে একটি সুতাও তারা উৎসর্গ করেননি। বরং অহেতুক ‘গ-গোল’-এর জন্য তারা বিরক্তই ছিলেন। এইসব ভদ্রলোক এবং তাদের বংশধরদের কাছে একাত্তরের দিনগুলো এখনও ‘গ-গোলের সময়’। এই ভদ্রলোকদের ভেতর চাকরিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, মিডিয়াব্যক্তিত্ব, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের স্বনামখ্যাতি মানুষেরাও ছিলেন। অফিস-পাড়া, প্রেসক্লাব, টিচার্স লাউঞ্জ থেকে শুরু করে তাবত সামাজিক আড্ডায় তারা আওয়ামী লীগের গীবত গেয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্বৃত্ত হিসেবে বিবেচনা করে ঘৃণা ছড়িয়েছেন। কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে তাদের বিশাল ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন সচেতনভাবে। এক কথায় তারা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া বাঙালীর স্বাধীনতা যুদ্ধজয়ী মুক্তিযোদ্ধা, ৩০ লাখ বাঙালীর আত্মোৎসর্গ এবং জাতির মহানায়ককেই অবজ্ঞা করতেন। এই কাজে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাবও খাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যখন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধবিধ্বস্ত সোনার বাংলাকে গড়ে তুলতে প্রায় সফল হয়ে এসেছেন, তখনও তারা পরোক্ষ-প্রত্যক্ষভাবে এমন সব কুৎসা রটিয়েছেন যা আমাদের মতো ভুক্তভোগীদের পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।

Pijush.Bandyapadhya's picture

ঘেন্না, কেবলই ঘেন্না

গত ২৬ মার্চ যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারাধীন জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর এক পুত্র দুই বিদেশী লবিস্ট আইনজ্ঞকে সঙ্গে নিয়ে সুদূর অ্যামেরিকায় সংবাদ সম্মেলন করেছে। লবিস্ট আইনজ্ঞরাই বেশি কথা বলেছেন। বলেছেন, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধসংক্রান্ত আদালত আন্তর্জাতিক মানের নয়, একপেশে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। তারা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নয় এবং সরকারের বিশেষ ইচ্ছায় আদালত চলছে। বিচারের নামে প্রহসন এবং শুধু প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে আঘাত করার জন্যই নাকি এই আদালত। আইনজ্ঞরা এও বলেছেন, বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে বার বার তারা বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। আরও অনেক বিদেশী আইনজ্ঞ নাকি বাংলাদেশে আসতে চেয়ে ভিসা পাননি। এসব সত্য কি মিথ্যা। বলতে পারব না। আইনজ্ঞ দু’জন আরও অনেক কথাই বলেছেন। তবে আইন বিষয়ে অজ্ঞ বলে তাদের সব কথা বুঝতেও পারিনি। সংবাদ সম্মেলনে যে সামান্য ক’জন ব্যক্তি ছিলেন। চেহারা দেখে মনে হলো তারা বাংলাদেশের মানুষ। সংবাদ সম্মেলন মঞ্চের দুই পাশে বাংলাদেশ ও আমেরিকার দুটি বড় আকারের জাতীয় পতাকা ছিল এবং শুরুতে ২৬ মার্চকে বাংলাদেশের একটি বিশেষ দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি ওই সংবাদ সম্মেলনের একটি ভিডিওচিত্র বাংলাদেশে অনেকের হাতেই এসেছে।

Pijush.Bandyapadhya's picture

দীপ জ্বেলে যাই

ভুলটা ছোট। তবে মার্জনীয় নয়। গত ২৭ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা প্রদান করা হলো। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের বিশাল মিলনাতনে ছিল সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান মঞ্চ কেন, মিলনাতনের কোথাও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান পুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি প্রতিকৃতিও চোখে পড়েনি। যিনি ছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের উজ্জ্বলতম বাতিঘর, যার আহ্বানে একাত্তরে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নিয়ে স্বাধীনতা এনেছিল, তাঁর একখানা ছাবিও কোথাও স্থান পাবে না তা কি করে মানা যায়! এটা কি নিছকই ভুল। নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে পাশ কাটানো! সেদিন অনুষ্ঠান চলাকালেই দেখেছি রাজনৈতিক কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। উপস্থিত অতিথিদের কাছেও বিষয়টা ভাল লাগেনি। বিদেশী বন্ধুদের দু’একজনও ব্যক্তিগত আলাপ প্রসঙ্গে কথাটা বলেছেন। একজন তো বললেন, ব্যাকড্রপে জয় বাংলা সেøাগানটি লেখা থাকলে ভাল হতো। এটা ঠিক যে সামান্য দু’একটি বিষয়ের সংযোজনে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত ও নান্দনিক হতো। নিদেনপক্ষে সম্মিলিত বাদ্যযন্ত্রে যদি ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ অথবা ‘শোন একটি মুজিবুরের থেকে’ এই ধরনের স্মৃতি জাগানিয়া গানের সুর বাজত তবে তৃপ্ত হতো সবার অন্তর। যাক, যা হয়নি তা নিয়ে কথা বাড়াই না।

Pijush.Bandyapadhya's picture

হার মাস্টার্স ভয়েস, মার্চের বিরুদ্ধে চক্রান্ত!

যারা আমার কাছাকাছি বয়সী এবং যারা একাত্তর সালে ঢাকায় থাকতেন তাঁদের মনে করিয়ে দেবার দরকার নেই যে, মার্চের পহেলা দিন থেকেই ঢাকা কী উত্তাল এবং উত্তপ্ত হয়েছিল। কেন উত্তাল ও উত্তপ্ত হয়েছিল সেটাও মনে করবার দরকার নেই। সে ইতিহাস সবার জানা। পাকিস্তানের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হবার ব্যাপারে মানুষ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল মার্চের পহেলাতেই। ২৩ বছরের পরাধীনতা থেকে নিজেদের স্বাধীন করতে সংগ্রামের কঠিন পথকেই সানন্দে বেছে নিয়েছিল একাত্তরের মার্চে সেদিনের বেশিরভাগ মানুষ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন সেই মুক্তি সংগ্রামের একমাত্র নেতা। ছাত্র-জনতার বাঁধভাঙ্গা জোয়ার তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন অঙ্গুলি ইশারায়। বাংলার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তখন তিনি। মার্চের পহেলা থেকে প্রতিটি দিন তাঁর নির্দেশনাই ছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর ভাগ্যলিখন। এক দুই তিন করে এলো মার্চের সাত। রমনা রেসকোর্সে লাখো বাঙালীর বিশাল সমাবেশে তিনি বজ্রকণ্ঠে বললেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই থেকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঘোষণাই বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধের প্রথম এবং একমাত্র স্পষ্ট নির্দেশনা। ৭ মার্চের ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু আরও স্পষ্টতরভাবে বলেছিলেন ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।’ এর পরেও মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি উদ্দেশ্যমূলক এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের চাল। রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে তাই ৭ মার্চের বিকল্প হিসেবে মার্চের ভিন্ন তারিখ নিয়ে জোরজবরদস্তি মাতামাতি।

Pijush.Bandyapadhya's picture

‘দুঃশাসনের সেই সময়’ এবং...

ক’দিন আগে হাতে এসেছে ‘দুঃশাসনের সেই সময়’ নামের একটা গ্রন্থ, যার প্রতিপৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে বর্বরতা ও নৃশংসতার অসংখ্য রঙিন ছবি। আমি লেখার শুরুতেই বলব, দেশের কেউ যেন রাতে ঘুমাবার আগে গ্রন্থটির পৃষ্ঠা উল্টে ঐ বীভৎস ও পিলে চমকানো ছবিগুলো না দেখেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যে নির্মমতার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছিল দেশজুড়ে তার সাক্ষী হয়ে গ্রন্থটির প্রতিপাতায় রয়েছে হৃদয়ভাঙা, চক্ষু বিস্ফারিত হবার মতো অজস্র ফটোগ্রাফ। পৃষ্ঠাগুলো রঙিন হওয়ায় কিছু ফটোগ্রাফে নির্যাতিতের সর্বাঙ্গে মাখা রক্তের রঙ এতই লাল যে চোখ ঝলসে যায়, বুক কেঁপে ওঠে। তাই বলছিলাম, এই গ্রন্থের পাতা ওল্টালে হয়ত রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে আতঙ্কে। কয়েকটি ছবির কথা বলি। যেমন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে মুহুর্মুহু গ্রেনেড হামলার পর রাজপথে পড়ে থাকা নিহত এবং আহত মানুষদের সর্বাঙ্গে যে রক্ত সেই রক্তের রঙ অস্বাভাবিক রকমের লাল। রাজপথে রক্তাক্ত পড়ে আছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতির স্ত্রী নেত্রী আইভী রহমান। অসহায় দুই চোখ তাঁর বিস্ফারিত, ডান হাতে কালো ফ্রেমের চশমা, সারা শরীর গ্রেনেডের আঘাতে রক্তাক্ত। অথবা ড্রেনের উপরই পড়ে রয়েছে সদ্যমৃত সুফিয়া বেগমের নিথর দেহ, যার শাড়িতে তাজা রক্তের ছোপ। অথবা গ্রেনেডের স্পিøন্টারে ক্ষতবিক্ষত রফিকুল ইসলাম ওরফে ‘আদা চাচা’। সামনের রিকশার চাকায় অমন লাল রক্তের রঙ কেউ কি কখনও দেখেছে! ২০০১ থেকে পাঁচ বছরের অন্ধকার সময়ে যে অত্যাচার, নির্যাতন চলেছে দেশজুড়ে তা মনে করিয়ে দেবার জন্য উল্লিখিত ‘দুঃশাসনের সেই সময়’ ফটো এ্যালবাম সময়োপযোগী কাজটি করেছে। ২০০১-এর নির্বাচনের আগেই শুরু হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের মতো অমানবিক ও অনৈতিক কর্মকা-। নির্বাচন পরবর্তীকালে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। নির্বিচারে মানুষ হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি ব্যাপার যেন সেই দুঃশাসনের সময় নিয়মিত হয়ে উঠেছিল।

Pijush.Bandyapadhya's picture

ভাল কাজ যেন বানের জলে ভেসে না যায়

কুড়ি তারিখ সোমবার জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘মাঠের কর্মী দ্বিধাবিভক্ত, ফের ক্ষমতায় যাওয়া কঠিন হবে’ শিরোনামের সংবাদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থবহ মনে হয়েছে। শিরোনামের প্রথম অংশটুকুর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে পরের অংশের সঙ্গে আমি একমত হতে পারছি না। আওয়ামী লীগের মাঠকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত, নেতৃত্বের সঙ্কট ও সংঘাত, কর্মীদের প্রতি নেতাদের অবহেলা, সহযোগী সংগঠনগুলোর ঔদ্ধত্যপূর্ণ দাপট ইত্যাদি ব্যাপার নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কথা হয়। কিন্তু মানুষ এখনও অতখানি ত্যক্তবিরক্ত বোধ হয় হয়নি যে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ভোটই পাবে না। পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগও কি ঝঞ্ঝাটবিহীন ছিল? বঙ্গবন্ধুর তুলনাহীন নেতৃত্ব সকল অভ্যন্তরীণ সঙ্কটকে সামাল দিয়ে সবাইকে এক নৌকায় রেখেছিল। কত বাঘা নেতা দল ছেড়ে চলে গেছেন। তাতে কোন ক্ষতিই হয়নি। আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগই থেকেছে। সত্তরের নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়েও তো কতজনের মন কষাকষি দেখেছি। এমনকি তিয়াত্তরের নির্বাচনেও। সদ্য মুক্তিযুদ্ধফেরত নেতাকর্মীদের সে কি দাপট। কিন্তু শেষমেশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক নেতৃত্বের কাছে সবারই মাথা নত এবং মানুষ নৌকাতেই ভোট দিয়েছে। তখন মানুষের শেষ ভরসাস্থল ছিলেন বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর দল। এখন, যদিও প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত, তবুও মানুষের ভরসা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উপরেই। দলীয় কর্মীদের কাছে তিনিই নেতা। তাঁকে ঘিরে সাধারণ মানুষের যে প্রত্যাশা তা দেশের আর কারও প্রতি নাই। এই সত্যকে অনুধাবন করে কথাবার্তা বললেই ভাল।

Pijush.Bandyapadhya's picture

মাতৃভাষা বাংলাও হোক জাতিসংঘে স্বীকৃত

শুরু হয়ে গেছে মহান একুশের মাস ফেব্রুয়ারি। জাতির জীবনে এই মাসটি অহংকারের। গর্বেরও। কারণ ষাট বছর আগে ১৯৫২’র এই মাসে মাতৃভাষা বাংলাকে অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি লাভের দাবিতে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল কয়েকজন তরুণের বুকের তাজা রক্তে। দিনটি ছিল ফেব্রুয়ারির একুশ। মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে ২১ ফেব্রুয়ারির মত জীবনদানের এই ঘটনা বিশ্বইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি। বাঙালি জাতির ইতিহাসেও আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে মায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার এই অনন্য দৃষ্টান্ত একটি স্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা। ২১ ফেব্রুয়ারি তাই সকল বাংলাভাষী বাঙালির জন্য অত্যন্ত তাত্পর্যময় একটি দিন। এই সাথে গোটা ফেব্রুয়ারি মাসটাই যেন চেতনা ও মননকে পালিত করার সর্বোত্তম সময়।

বাঙালির অহংকারের একুশ এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৯৯’র ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সভায় ১৮৮ দেশের প্রতিনিধি সর্বসম্মতিক্রমে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে স্বীকৃতি দেন। এই স্বীকৃতির ফলে বাঙালির গৌরবময় ভাষা আন্দোলন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি লাভ করে। আর এই অনন্য ইতিহাস সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন দেশের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Pijush.Bandyapadhya's picture

দামী অস্ত্রটি হাতছাড়া না করলেই ভাল

গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা ছাত্রাবস্থায় পড়েছি। প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার প্রতিফলনও দেখেছি। আমার ছাত্রাবস্থায় টেলিভিশনের পাতে খুব একটা ভাত জুটত না। ছিলও মাত্র একটি সরকারী চ্যানেল। সেই সরকারী চ্যানেলে প্রচারিত খবরে মানুষের আকর্ষণ কম ছিল। এখনও যেমন নেই। নাটক, সঙ্গীতানুষ্ঠানগুলো সবাই দেখত। এখনকার মতো জনপ্রিয় মসলাদার টকশো ছিল না তখন। গণমাধ্যমে প্রধান দাপট ছিল সংবাদপত্রের। সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িতরাও ছিলেন গুণীজন, দায়িত্বশীল, শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। আদর্শের ব্যাপারটি তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই স্বভাবতই তাদের আদর্শ এবং ভাবনাচিন্তার প্রতিফলন পড়ত প্রকাশিত সংবাদপত্রে। আজও যে কিছু অবশিষ্ট নেই, তা নয়। তবে বাণিজ্যের বিষয়টা এখন বড় প্রকট। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে তো বাণিজ্যই প্রধান এখন। রগরগে ছবিসহ খবর প্রচারে বাণিজ্য, গলাবাজির টকশোতে বাণিজ্য। নাটক এবং অন্যান্য বিনোদন অনুষ্ঠানে চটজলদি আনন্দ বিক্রির বাণিজ্য। এই প্রবণতা মোটেই শুভ নয়। দেশ, জাতি, সমাজ, ঐতিহ্য, উন্নয়ন, গণতন্ত্র সর্বোপরি মানুষের শুভবোধ সৃষ্টিতেও সেগুলো অন্তরায়। বাণিজ্যে অধিক মুনাফা লাভের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ পণ্য হচ্ছে সরকারের বিরোধিতা। খবর এবং টকশোগুলো দেখলে মনে হবে যত দোষ নন্দ ঘোষের কথা। অথবা ‘কেষ্টা বেটাই চোর।’ দেশের সকল অমঙ্গলের জন্য বুঝি সরকার কিংবা সরকার প্রধানই দায়ী।

Pijush.Bandyapadhya's picture

পারলে তিনিই পারবেন

সুযোগ ও সময় পেলে রাজধানী ঢাকার বাইরে যাবার অভ্যাস আমার অনেক পুরনো। সেই অভ্যাসের তাড়নায় সম্প্রতি গিয়েছিলাম গাইবান্ধার দাড়িয়াপুরে। উপলক্ষ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের বেগম রোকেয়া অঞ্চলের সম্মেলন ও লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসবে যোগদান। সত্যিকারের মাঘের শীত শরীর আর মনে উপভোগ করলাম অনেকদিন পর। রাজধানী ঢাকাতে তো এই শীত পাই না। আর সন্ধ্যা নামতেই গাঢ় কুয়াশা। হাইওয়ে ছেড়ে পলাশবাড়ি থেকে গাইবান্ধার সড়কে ঢুকতেই কুয়াশার দেয়াল। গাড়ির তীব্র হেডলাইটেও কুয়াশার ওপারে কিছুই দৃশ্যমান হয় না। সে এক অদ্ভুদ সুন্দর ভাল লাগা। থমকে থাকা গাড়ির ভেতর রোমাঞ্চিত হই। সেই রোমাঞ্চের কথা লিখে প্রকাশ করা যায় না। কেবল অনুভব করা যায়। গ্রাম থিয়েটারের দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের সাতান্নটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং তাদের শ’ দুয়েক প্রতিনিধি। আর ছিল স্থানীয় মানুষ। স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়ে আর বিভিন্ন স্তর ও পেশার নবীন-প্রবীণ মানুষ মিলিয়ে স্থানীয়দের সংখ্যা হাজার ছয়-সাত তো হবেই। শহীদ মিনার সংলগ্ন দাড়িয়াপুরের একমাত্র হাইস্কুলের বিশাল মাঠটি সেদিন স্থানীয়দের মিলনমেলায় পরিণত হয়ে উঠেছিল। শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু। বছরদশেক আগে আমি আরও একবার দাড়িয়াপুরে এসেছিলাম। যে শহীদ মিনারের পাদদেশে সেবার আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছিলাম সেই শহীদ মিনারটি আর নেই। প্রগতিবিরোধী ধর্মান্ধ মৌলবাদীরা পুরনো শহীদ মিনারটিকে ভেঙ্গে-গুড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমান সরকারের আমলে এলাকার প্রগতিশীল মানুষ আবার সেখানে নতুন ও সুন্দর এক শহীদ বেদী গড়ে তুলেছেন।